যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এবং বিদেশি সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভরতা কমাতে এইচ-১বি (H-1B) ভিসা কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের একটি গ্রুপ এই ভিসা কার্যক্রম তিন বছরের জন্য সম্পূর্ণ স্থগিত রাখার লক্ষ্যে একটি বিল উত্থাপন করেছে। 'এন্ড এইচ-১বি ভিসা অ্যাবিউজ অ্যাক্ট ২০২৬' (End H-1B Visa Abuse Act of 2026) শীর্ষক এই বিলটি উত্থাপন করেন অ্যারিজোনার রিপাবলিকান প্রতিনিধি এলি ক্রেন। তার সাথে আরও সাতজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা এই বিলে সমর্থন জানিয়েছেন। বিলের মূল প্রস্তাবনাসমূহ: ১. ভিসা স্থগিত: আগামী তিন বছরের জন্য নতুন কোনো এইচ-১বি ভিসা ইস্যু করা হবে না। ২. কোটা হ্রাস: বার্ষিক ভিসার সংখ্যা ৬৫ হাজার থেকে কমিয়ে মাত্র ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা। ৩. ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি: এইচ-১বি ভিসা পেতে হলে কর্মীর ন্যূনতম বার্ষিক বেতন হতে হবে ২ লাখ মার্কিন ডলার। ৪. নির্ভরশীলদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা: ভিসা ধারীরা তাদের পরিবারের সদস্যদের (H-4 ভিসা) যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারবেন না। ৫. লটারি প্রথার বিলুপ্তি: বর্তমান লটারি পদ্ধতির পরিবর্তে সর্বোচ্চ বেতনভোগী কর্মীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ভিসা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। ৬. স্থায়ী বসবাসের সুযোগ বন্ধ: এইচ-১বি ভিসা থাকা অবস্থায় গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনের সুযোগ বন্ধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিলের উদ্যোক্তা এলি ক্রেন বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উচিত বড় কর্পোরেশনগুলোর মুনাফার দিকে না তাকিয়ে সাধারণ নাগরিকদের কর্মসংস্থানের দিকে নজর দেওয়া। এই বিলটি মার্কিন নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করবে।" বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিলটি পাশ হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ভারত ও বাংলাদেশের আইটি পেশাদাররা। বর্তমানে বিপুল সংখ্যক দক্ষ কর্মী এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিসহ বিভিন্ন বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। তবে বিলটি বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি আইনে পরিণত হতে কংগ্রেস ও সিনেটের দীর্ঘ প্রক্রিয়া পার করতে হবে। প্রযুক্তি খাতের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই কঠোর নিয়ম কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো মেধাবী কর্মী সংকটে পড়তে পারে।
এক গুরুতর যৌন কেলেঙ্কারি ও অসদাচরণের অভিযোগে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটিক রিপ্রেজেন্টেটিভ এরিক সোয়ালওয়েল। সোমবার তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান, যা মার্কিন রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। সাত মেয়াদে নির্বাচিত এই প্রভাবশালী আইনপ্রণেতার বিরুদ্ধে চারজন নারী যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনেছেন। সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকল ও সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সোয়ালওয়েলের বিরুদ্ধে অন্তত এক নারীকে দুবার যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে, যিনি একসময় তার অধীনে কাজ করতেন। এছাড়া অন্য নারীরা তার বিরুদ্ধে অশালীন বার্তা ও নগ্ন ছবি পাঠানোর অভিযোগ করেছেন। প্রাথমিকভাবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করলেও সোয়ালওয়েল সামাজিক মাধ্যমে এক বিবৃতিতে বলেন, "আমি আমার পরিবার, কর্মী এবং নির্বাচকদের কাছে অতীতের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের জন্য ক্ষমা চাচ্ছি। যদিও আমার বিরুদ্ধে আনা গুরুতর মিথ্যা অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে আমি লড়াই চালিয়ে যাব, তবুও আমি আমার ভুলের দায়ভার গ্রহণ করছি।" হাউস এথিক্স কমিটি ইতিমধ্যেই তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে, হাউস থেকে তাকে বহিষ্কারের জন্য দ্বিপক্ষীয় চাপ বাড়তে থাকায় তিনি এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানান, নির্বাচকরা যাতে তার ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেজন্যই তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন। উল্লেখ্য, এই বিতর্কের জেরে মাত্র একদিন আগেই তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর হওয়ার দৌড় থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার পদত্যাগের ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম ডিস্ট্রিক্টে একটি বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে টেক্সাসের রিপাবলিকান রিপ্রেজেন্টেটিভ টনি গঞ্জালেসও (Tony Gonzales) যৌন কেলেঙ্কারির জেরে কংগ্রেস থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। দলের ভেতরে রক্ষণশীল এবং মধ্যপন্থী সদস্যদের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের জেরে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে কংগ্রেসের স্বাভাবিক কার্যক্রম। শুক্রবার পলিটিকো’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অচলাবস্থা কাটানোর কোনো লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না, যা মার্কিন আইনসভার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাজেট বরাদ্দ, বৈদেশিক সহায়তা এবং অভিবাসন নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রিপাবলিকানরা নিজেদের মধ্যে একমত হতে পারছে না। বিশেষ করে কট্টর ডানপন্থী অংশটি স্পিকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ায় হাউজ ফ্লোরে কোনো বিল পাস করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক আইনপ্রণেতা একে ‘ফ্রিজিং পয়েন্ট’ বা হিমাঙ্ক অবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে কোনো আইনই সামনে এগোচ্ছে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, রিপাবলিকান পার্টির একটি অংশ বর্তমান নেতৃত্বের ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছে। তারা মনে করছেন, ডেমোক্র্যাটদের সাথে সমঝোতা করে দলের মূল আদর্শের বিচ্যুতি ঘটানো হচ্ছে। অন্যদিকে, মধ্যপন্থীরা বলছেন, কট্টরপন্থীদের জেদ আর একগুঁয়েমির কারণে সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কংগ্রেসের এই স্থবিরতার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে। সরকারি তহবিল পাসের প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়ায় আবারও ‘শাটডাউন’-এর আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এছাড়া ইউক্রেন বা ইসরায়েলের মতো মিত্র দেশগুলোকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও ঝুলে আছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। স্পিকারের জন্য এই পরিস্থিতি সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজ দলের বিদ্রোহ দমনে ব্যর্থ হলে তার পদটিও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক রুদ্ধদ্বার বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান আসেনি। কংগ্রেসের এই অস্থিরতা কবে নাগাদ কাটবে তা নিয়ে খোদ রিপাবলিকান নেতারাই সন্দিহান। সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার দ্রুত অবসান চান, যাতে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সিদ্ধান্ত নিতে আর কোনো দেরি না হয়।
ইরানে সীমিত স্থল অভিযান পরিচালনার পেন্টাগনের পরিকল্পনা প্রকাশ হতেই মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে হাজারো মার্কিন সেনা মোতায়েনের মধ্যে এই পরিকল্পনার তথ্য প্রকাশ্যে আসায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, সম্ভাব্য অভিযান পূর্ণমাত্রার হবে না। এতে বিশেষ বাহিনী ও পদাতিক সৈন্যদের সমন্বয় থাকবে, তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কখন অনুমোদন দেবেন তা এখনও নিশ্চিত নয়। রিপাবলিকান সিনেটর জেমস ল্যাঙ্কফোর্ড বলেছেন, “সেনাদের উদ্দেশ্য এবং কার্যক্রম আমাদের স্পষ্টভাবে জানা প্রয়োজন। যদি এটি শুধু সীমিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য হয়, তা দীর্ঘস্থায়ী দখলের চেয়ে ভিন্ন।” তিনি আরও যোগ করেছেন, অসমাপ্ত যুদ্ধের ঝুঁকি সবচেয়ে বড় সমস্যা। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, পেন্টাগনের কাজ হলো সর্বোচ্চ বিকল্পের জন্য প্রস্তুত থাকা। এর মানে এই নয় যে প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যেই কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রোববার মধ্যপ্রাচ্যে ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা পৌঁছেছে, যার মধ্যে মেরিন বাহিনীও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী ইউএসএস ত্রিপোলি নেতৃত্বে এই ইউনিটের সাথে আক্রমণ ও পরিবহন সরঞ্জামও মোতায়েন করা হয়েছে। সেনা সমাবেশের কারণে হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষার পাশাপাশি ইরানের তেল ও ইউরেনিয়াম স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের নেতা স্টিভ স্ক্যালিস বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে বিপদ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলা শুধু ইসরায়েল নয়, প্রতিবেশী আরব দেশগুলোকেও একত্রিত করেছে। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক। নিউ জার্সির সিনেটর কোরি বুকার বলেছেন, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া প্রেসিডেন্ট এমন সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন, যেখানে বের হওয়ার দৃশ্যমান পথ নেই। এটি আফগানিস্তানের পর সবচেয়ে বড় সামরিক সম্পৃক্ততা। মেরিল্যান্ডের সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন আশা প্রকাশ করেছেন, পেন্টাগনের অতিরিক্ত বরাদ্দ কংগ্রেসে অনুমোদিত হবে না। তিনি বলেন, এ যুদ্ধ মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নয়, বরং বিপদ বাড়াচ্ছে। প্রতিদিন কোটি কোটি ডলার ব্যয় হচ্ছে এবং জ্বালানি খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন হোয়াইট হাউসের কাছে প্রস্তাব করেছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অতিরিক্ত তহবিল অনুমোদন করার। প্রশাসনের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে। প্রস্তাবিত এই তহবিল বর্তমান বিমান হামলার খরচের পরিমাণও ছাড়িয়ে গেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ও গোলাবারুদের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। গত তিন সপ্তাহে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর ফলে গোলাবারুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় নতুন সংগ্রহের জন্য এই বড় অঙ্কের তহবিল চাওয়া হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস এখনও নির্ধারণ করেনি, কংগ্রেসে কতটুকু অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হবে। কিছু কর্মকর্তা পেন্টাগনের প্রস্তাব পাস হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। প্রস্তাবিত তহবিল নিয়ে কংগ্রেসে রাজনৈতিক লড়াই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যুদ্ধে জনসমর্থন সীমিত এবং ডেমোক্র্যাটরা এর কঠোর সমালোচনা করছেন। রিপাবলিকানরা অতিরিক্ত অর্থায়নের পক্ষে থাকলেও সিনেটের ৬০ ভোটের সীমাবদ্ধতার কারণে স্পষ্ট আইনগত পথ এখনও দৃশ্যমান নয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদেশি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার চালিয়েছিলেন। ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য অনুমোদিত ১৮৮ বিলিয়ন ডলারের ব্যয়ও তিনি সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু ইরান যুদ্ধের খরচ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে; কর্মকর্তাদের মতে, প্রথম সপ্তাহেই খরচ ১১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। পেন্টাগনের ডেপুটি ডিফেন্স সেক্রেটারি স্টিভেন ফেইনবার্গ নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই প্রচেষ্টার। মূল লক্ষ্য হলো গোলাবারুদ ঘাটতি মেটানো এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, শ্রমিক ও উপকরণের সীমাবদ্ধতার কারণে উৎপাদন বাড়ানো সময়সাপেক্ষ হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর ইরানে চলমান যুদ্ধ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ইরানে যুদ্ধ পরিচালনায় মার্কিন করদাতাদের প্রতিদিন প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে। ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরেকটি “অবৈধ যুদ্ধ” পরিচালনায় অর্থ ব্যয় করছেন, অথচ কংগ্রেসে থাকা রিপাবলিকান পার্টির সদস্যরা স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য সহায়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক কর্মসূচিতে ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ইলহান ওমর তার পোস্টে আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত যুদ্ধের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় না করে দেশের সাধারণ মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণে বিনিয়োগ করা। তিনি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পরিবর্তে জনগণের কল্যাণমূলক কর্মসূচিতে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম নিয়ে দেশটির রাজনীতিতে ইতোমধ্যে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক আইনপ্রণেতা মনে করছেন, বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বার্ষিক স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন (State of the Union Address) ভাষণ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা, সীমান্ত নীতি ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটির বাজেট প্রসঙ্গে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমার উচ্চস্বরে প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “আপনি আমেরিকানদের হত্যা করেছেন।” এই মন্তব্যের পর কংগ্রেস কক্ষে হৈচৈ শুরু হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ট্রাম্প ভাষণে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়ন এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটির জন্য অতিরিক্ত বাজেট প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করে বলেন, তারা সংস্কারের অজুহাতে নিরাপত্তা তহবিল আটকে দিচ্ছেন। ওমার মিনেসোটার সাম্প্রতিক ফেডারেল অভিবাসন অভিযানের প্রসঙ্গ তোলেন, যেখানে অভিযোগ রয়েছে যে রেনি গুড ও অ্যালেক্স প্রেটি নামে দুই ব্যক্তি ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে নিহত হন। তিনি বলেন, এই অভিযান সাধারণ নাগরিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিক্ষোভ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। ভাষণের সময় উভয় পক্ষের এই বাকবিতণ্ডা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে বিদ্যমান রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। রিপাবলিকানরা প্রশাসনের কঠোর অবস্থানকে সমর্থন করলেও ডেমোক্র্যাটরা জবাবদিহিতা ও মানবাধিকার সুরক্ষার ওপর জোর দিচ্ছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডির সাক্ষ্যদান চলাকালীন কংগ্রেসের শুনানিতে এক অভাবনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এপস্টাইন মামলার ফাইল এবং বিচার বিভাগের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের একের পর এক প্রশ্নে শুনানিকক্ষ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংবাদের মূল পয়েন্টগুলো: ক্ষমা চাওয়ার দাবি: ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা কক্ষে উপস্থিত এপস্টাইনের নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের কাছে বন্ডিকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। বন্ডির কঠোর প্রতিক্রিয়া: ক্ষমা চাওয়ার অনুরোধের প্রেক্ষিতে পাম বন্ডি সরাসরি বলেন, তিনি ওই ডেমোক্র্যাট নারীর সাথে "কর্দমাক্ত তর্কে (gutter with this woman)" জড়াতে চান না। তদন্ত নিয়ে বিতর্ক: এপস্টাইন ফাইলের পাশাপাশি বিচার বিভাগের আরও বেশ কিছু হাই-প্রোফাইল তদন্ত নিয়ে বন্ডিকে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। রাজনৈতিক মেরুকরণ: পুরো শুনানিটি এখন একটি দলীয় লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। রিপাবলিকানরা বন্ডিকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা তার নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করছেন। "এটি এখন আর সাধারণ শুনানি নেই, বরং একটি রাজনৈতিক যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।" — ড্যানিয়েল বুশ, ওয়াশিংটন করেসপনডেন্ট। ওয়াশিংটনের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে পুরো বিশ্ব। পরিস্থিতির আরও আপডেট জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।
যুক্তরাষ্ট্রের যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের একসময়ের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী গিলেন ম্যাক্সওয়েল সোমবার হাউস ওভারসাইট কমিটির সামনে হাজির হওয়ার পর কংগ্রেসের প্রশ্নের জবাব দেননি। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, মার্কিন সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অনুযায়ী নিজের দোষ স্বীকারে বাধ্য না হওয়ার অধিকার প্রয়োগ করেছেন ম্যাক্সওয়েল। মানব পাচারে যুক্ত থাকার অভিযোগে ম্যাক্সওয়েল বর্তমানে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। এপস্টিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ও সংশ্লিষ্ট জবানবন্দি দিতে কমিটির সামনে উপস্থিত হলেও, তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। রিপাবলিকান কমিটি চেয়ারম্যান জেমস কোমার জানান, ম্যাক্সওয়েলের আইনজীবীরা হাউস প্যানেলকে জানিয়েছিলেন, তারা তখনই জবানবন্দি দেবেন, যদি তার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁকে ক্ষমা দেন। তবে মার্কিন আইনপ্রণেতারা এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ৬৪ বছর বয়সী ম্যাক্সওয়েল ২০২১ সালে দোষী সাব্যস্ত হন। আদালত প্রমাণ করেছে, তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ধনী ব্যক্তিদের কাছে সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিচার চলাকালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে মৃত্যু হয় এপস্টিনের। এছাড়াও, কংগ্রেস হাউস কমিটি এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জবানবন্দি নেওয়ার জন্য তলব করেছে। যদিও সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকেও তলব করা হয়েছে, তাদের সরাসরি জবানবন্দি নেওয়া হয়নি।
জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে নাম জড়িয়েছে আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন ও তাঁর স্ত্রী হিলারি ক্লিন্টনের। এপস্টিন ফাইল প্রকাশ্যে আসার পর গোটা বিশ্বজুড়ে ঝড় উঠেছিল। অবশেষে চাপে পড়ে আমেরিকান কংগ্রেসের সামনে সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়েছিলেন তাঁরা। এবার ক্লিন্টন দম্পতি দাবি করেছেন তাঁদের সাক্ষ্য যেন জনসমক্ষে প্রচার করা হয়। রিপাবলিকানরা যাতে বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে না পারে সেই উদ্দশ্যে তাঁদের স্বীকারোক্তি লাইভ সম্প্রচারের দাবি করেছেন। কংগ্রেসের হাউস ওভারসাইট কমিটি এপস্টিনের সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগাযোগ এবং তাঁর অপরাধের তথ্য কীভাবে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল সেগুলি নিয়ে তদন্ত করছে। এই কমিটির সামনেই রুদ্ধদ্বার সাক্ষ্য দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ক্লিনটন দম্পতিকে। প্রথমে তাঁরা রাজি না হলেও পরে তাঁরা সাক্ষ্য দিতে রাজি হন। এই বিষয়ে বিল ক্লিনটন শুক্রবার এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, রুদ্ধদ্বার ঘরে সাক্ষ্য নিলে তা হবে প্রহসনের বিচারের মতো।” এর পরেই তিনি বলেন, “আসুন খেলা বন্ধ করি এবং সঠিক উপায়ে জনসমক্ষে শুনানির মাধ্যমে এটি শেষ করি।” স্বামীর এই কথাকে সমর্থন করেছেন, স্ত্রী হিলারিও। তিনি বলেছেন, “আপনারা যদি এই লড়াই-ই চান, তবে তা জনসমক্ষেই হোক।’ এমনকি তিনি এটাও জানিয়েছেন তাঁরা যা জানেন সবটাই মার্কিন তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, রিপাবলিকানরা এই তদন্তকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তাই তাঁদের দাবি, ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও এপস্টিনের দীর্ঘদিনের সহযোগী ছিলেন। কিন্তু ক্ষমতাবান হওয়ার কারণে তাঁকে সাক্ষ্য দিতে ডাকা হয়নি। প্রসঙ্গত, দীর্ঘ একমাসব্যাপী অচলাবস্থার পর হাউস ওভারসাইট কমিটির সামনে হাজির হতে অস্বীকার করায় মার্কিন এই দম্পতির বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইন অবমাননার অভিযোগে আটক করা হবে কিনা তা নিয়ে চর্চার মধ্যেই তাঁরা সাক্ষ্য দিতে রাজি হন গত বছরের ডিসেম্বরে মাসে এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রথম দফায় ৩৯৬৫টি ফাইল প্রকাশ করা হয়। সেই সময়ে বিল ক্লিন্টনের বেশ কিছু ছবি সামনে আসে।সেখানে দেখা যায় তাঁর দুই পাশে দুই দুই রহস্যময়ীকে নিয়ে সুইমিং পুলে সাঁতার কাটছেন তিনি। তবে দুজনের মুখ স্পষ্ট ছিল না। এর আগে এপস্টিন ফাইলে হিলারি ক্লিন্টনের নামও উঠে এসেছিল । এই ফাইল সামনে আসার পরেই হাউস রুলস কমিটি বিল এবং হিলারিকে শমন পাঠায় । তবে ক্লিন্টন দম্পতি সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করেন । তাঁদের দাবি করেছিলেন কোনও আইনেই তাঁদের এ ভাবে ডাকা যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।