ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-এর মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান মোদি। পোস্টে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলার নিন্দা জানান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে নৌপথ উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। মোদি আরও বলেন, ইরানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেহরানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি। বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ফোনালাপকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান মঙ্গলবার আবুধাবিতে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে দুই নেতা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান সংঘর্ষের আঞ্চলিক প্রভাব এবং নিরাপত্তা অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আমিরাতের সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াম জানিয়েছে, বৈঠকে নেতারা এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা অবিলম্বে বন্ধ করার গুরুত্বের উপর জোর দেন এবং কূটনীতিক পথকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বৈঠকের সময় প্রেসিডেন্ট আল-সিসি ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণকে রক্ষা করার পদক্ষেপগুলোর প্রতি মিসরের পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি যুদ্ধে দেশটি ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আমিরাত ৩৩৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।
ইরানে এক সুইডিশ নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। আজ বুধবার (১৮ মার্চ, ২০২৬) সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনারগার্ড এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়টি তেহরান আগেই ঘোষণা করেছিল। সুইডিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "অত্যন্ত দুঃখের সাথে আমাকে জানাতে হচ্ছে যে, আজ ভোরে ইরানে একজন সুইডিশ নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এই ঘটনা আমাদের জন্য অত্যন্ত মর্মপীড়াদায়ক।" প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত জুন মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধ চলাকালীন ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে সুইডেন সরকার বিভিন্ন পর্যায়ে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই নাগরিকের মুক্তি বা আইনি সহায়তার বিষয়ে বারবার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তেহরান তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে গুপ্তচরবৃত্তিতে লিপ্ত ছিলেন। তবে সুইডেন বা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে এই বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সাথে পশ্চিমা দেশগুলোর উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। সুইডিশ সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ইরান হামলা বন্ধ না করলে কূটনৈতিক আলোচনার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এই অবস্থান তুলে ধরা হয়। ব্রিফিংয়ে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, হামলা চলতে থাকলে কূটনৈতিক সমাধান খোঁজা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, তারা যদি হামলা বন্ধ করে, তাহলে আমরা কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে পেতে পারি। কিন্তু যতক্ষণ আমাদের দেশগুলো হামলার শিকার হচ্ছে, ততক্ষণ কমিটি গঠনের সময় নয়। আল-আনসারি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশগুলোর নিরাপত্তা রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি এবং অবিলম্বে হামলা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। তিনি যে কমিটির কথা উল্লেখ করেন, সেটি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি প্রস্তাব করেছিলেন। প্রস্তাবিত ওই কমিটির উদ্দেশ্য ছিল উপসাগরীয় দেশগুলোতে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলার অভিযোগ তদন্ত করা। যদিও ইরান এসব হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে কাতার সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। আল-আনসারি বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হুমকি ও হামলা বন্ধ হয়নি। তিনি জানান, সম্প্রতি একটি ক্ষেপণাস্ত্র দোহার একটি আবাসিক এলাকার দিকে ছোড়া হয়েছিল, যা প্রতিহত করা হয়েছে। ওই সময় সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে কিছু এলাকায় মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কাতারের কর্মকর্তারা জানান, সরিয়ে নেওয়া এলাকাগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ও ছিল। এর মধ্যে রয়েছে Google, American Express এবং Microsoft। আল-আনসারি বলেন, কাতার পরিস্থিতি শান্ত করতে কাজ করে যাচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক মধ্যস্থতা চলছে বলে তিনি জানেন না।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীলতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে তিনি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় ইরানের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। রোববার রাতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন। ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে। আলাপের সময় পেজেশকিয়ান ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘অবৈধ আগ্রাসী যুদ্ধের’ তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, ইরানের বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। ইরানের প্রেসিডেন্ট জানান, দেশটির আবু মুসা ও খার্গ দ্বীপ বর্তমানে তীব্র হামলার মুখে রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সতর্ক করে তিনি বলেন, অন্য একটি দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া আন্তর্জাতিক আইন এবং প্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থী। পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান কখনোই সংঘাত বা উত্তেজনা চায় না। তবে দেশের জনগণের সমর্থন ও জাতীয় শক্তির ভিত্তিতে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় ইরান কোনো দ্বিধা করবে না। তিনি আরও দাবি করেন, গাজা ও লেবাননে সহিংসতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টাই মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার প্রধান কারণ। এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘর্ষ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উত্তেজনা প্রশমন এবং যুদ্ধ বন্ধের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। আলোচনায় দুই দেশের নাগরিকদের কনসুলার বিষয়, বিশেষ করে ইরান ও ফ্রান্সে আটক নাগরিকদের বিষয়েও কথা বলেন দুই নেতা। সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাশে থাকার জন্য পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সোমবার (১৬ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উর্দু ভাষায় দেওয়া বার্তায় আরাগচি বলেন, মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার মুখে ইরান ও ইরানি জনগণের প্রতি সংহতি এবং দৃঢ় সমর্থন জানানোয় পাকিস্তানের সরকার ও জনগণের প্রতি তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। এদিকে ইরানের সঙ্গে প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের সম্পর্ক বর্তমানে টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। উপসাগরীয় অনেক দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকায় সেসব অঞ্চল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর ফলে সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্কে কিছুটা তিক্ততা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় ইরানের সঙ্গে ইসলামাবাদের অবস্থান নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে কিছুটা সংশয় ছিল। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, মার্কিন-সৌদি সমীকরণ পাকিস্তান ও ইরানের সম্পর্ককে বাধাগ্রস্ত করেনি। উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে রিয়াদ সফর করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। রিয়াদে যাওয়ার আগে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির কয়েকজন নেতার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। এছাড়া পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার গত সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে চীন, সৌদি আরব, কুয়েত ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তার লাভ করার আগেই ইরানের যুদ্ধ বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে পুরো অঞ্চল ‘আগুনে নিক্ষিপ্ত’ হতে পারে। একই সঙ্গে যেকোনো সংকট মোকাবিলায় যুদ্ধের বদলে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বুধবার তুরস্কের পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে এরদোয়ান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আগে এবং পুরো অঞ্চল আগুনে জড়িয়ে পড়ার আগেই এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। কূটনীতিকে সুযোগ দেওয়া হলে তা সম্ভব।” এরদোয়ান জানান, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় তুরস্ক খুব সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিচ্ছে। দেশের চারপাশে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনা থেকে তুরস্ককে সুরক্ষিত রাখতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। এর আগে গত সপ্তাহে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসা ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে বলে জানা গেছে। ওই অঞ্চলে ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত বিমান ও রাডার ঘাঁটি রয়েছে। হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করার পর সেখানে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। এরদোয়ান বলেন, যুদ্ধ বন্ধে তুরস্ক সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর আগেই তুরস্ক মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এরপর থেকে সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়ে আসছেন তুরস্কের এই প্রেসিডেন্ট। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, তুরস্কের জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি কোনো হুমকি তৈরি হলে তার যথাযথ জবাব দেওয়া হবে। এদিকে তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) চেয়ারম্যান ওজগুর ওজেল এক সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য এরদোয়ান সরাসরি তার সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকছেন। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড নিয়ে আঙ্কারার নীরবতা কোনো নিরপেক্ষতা নয়। বরং এতে যুক্তরাষ্ট্র আরও উৎসাহিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এরদোয়ান তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের পদক্ষেপের সমালোচনা করেন এবং মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন। তবে অনেক বিশ্বনেতার মতো তিনিও বক্তব্যে সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেননি। সূত্র: রয়টার্স
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ক্রেমলিন জানিয়েছে, দুই নেতার আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বসহকারে মতবিনিময় হয়েছে। ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ফলে ইরানকেন্দ্রিক যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে দুই নেতা বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, গত ৬ মার্চ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একই ধারাবাহিকতায় ৯ মার্চ তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তেহরানসহ দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার ঘোষণা দেয়। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে এক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সংলাপে মিলিত হয়েছে মালয়েশিয়া, কুয়েত ও ওমান। সম্প্রতি কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ আহমদ আব্দুল্লাহ আল-আহমাদ আল-সাবাহ এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়িদ বদর আলবুসাইদির সাথে পৃথক ফোনালাপে এই সংহতি প্রকাশ করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। আলোচনায় ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাত থেকে উদ্ভূত আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। কুয়েত ও ওমানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং অবকাঠামোগত ঝুঁকির বিষয়ে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থন ও সহানুভূতি ব্যক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা বজায় রাখতে ওমানের নিরলস কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেছে মালয়েশিয়া। উভয় দেশের সরকার সেখানে অবস্থানরত মালয়েশিয়ান নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মালয়েশিয়া। বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বিদেশি নাগরিকদের সুরক্ষায় কুয়েত ও ওমানের প্রতিশ্রুতিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আলোচনার শেষ পর্যায়ে সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয় এবং পবিত্র রমজানের বরকতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি কামনার মধ্য দিয়ে সংলাপ শেষ হয়।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানাতে ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি দূতাবাসে পৌঁছেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। আজ রোববার সকালে দূতাবাসের আনুষ্ঠানিক শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন দলের শীর্ষ নেতারা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি দূতাবাসে পৌঁছালে তাদের স্বাগত জানান ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহান আবাদি। শোক বইয়ে স্বাক্ষর শেষে তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং ইরানের শোকার্ত জনগণের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ এবং কেন্দ্রীয় শ্রম ও কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলাপকালে নেতারা এই কঠিন সময়ে ইরানের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রদূতের পক্ষ থেকে এই সহমর্মিতার জন্য ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
ইরানের ওপর যেকোনো ধরনের হামলায় অংশ না নিতে যুক্তরাজ্যকে চরম সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত সাইয়েদ আলী মৌসাভি। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ব্রিটেনের যেকোনো উস্কানিমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইরান তার আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে দ্বিধা করবে না। সম্প্রতি ‘সানডে উইথ লরা কুইন্সবার্গ’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মৌসাভি এই হুঁশিয়ারি দেন। সাক্ষাৎকারে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল— ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান যদি ইরানের ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করে, তবে সেগুলোকে ইরান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করবে কি না। এর জবাবে রাষ্ট্রদূত অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "নিজেদের রক্ষা করার ব্যাপারে আমাদের কোনো সংশয় নেই। আমরা আশা করি ব্রিটিশ সরকারসহ অন্যান্য পক্ষগুলো তাদের কর্মকাণ্ডের সংবেদনশীলতা বুঝতে পারবে এবং অত্যন্ত সতর্ক থাকবে।" সাক্ষাৎকারে মৌসাভি আরও উল্লেখ করেন যে, ব্রিটেন এখন পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো আগ্রাসনে জড়ায়নি, যা একটি ইতিবাচক দিক। তিনি মন্তব্য করেন, ব্রিটিশ সরকার সম্ভবত ইরাক যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে এবং যেকোনো অবৈধ আগ্রাসনের পরিণতি সম্পর্কে তারা অবগত।
বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা কোনোভাবেই ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকায় দেশটির প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ইরান। সৌদি আরবে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা এনায়াতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেন। রাষ্ট্রদূত আলিরেজা এনায়াতি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে জানান, "আমরা সৌদি আরবের বারবার দেওয়া প্রতিশ্রুতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করি। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, সৌদি আরবের আকাশসীমা, জলসীমা বা কোনো ভূখণ্ড ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হবে না।" মূলত যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই রিয়াদ ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা হ্রাসে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। সৌদি আরব শুরু থেকেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, ওয়াশিংটন বা তেল আবিবের কোনো সামরিক অভিযানে তাদের ভূমি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে রিয়াদের এই অবস্থানকে তেহরান একটি ইতিবাচক ও দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কৌশলগত ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকা পৌঁছেছেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। মঙ্গলবার রাতে বিমানবন্দরে পৌঁছালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর এটিই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে প্রথম কোনো উচ্চপর্যায়ের সফর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর বর্তমান সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এক বার্তায় জানিয়েছে, সফরকালে পল কাপুর বাংলাদেশ সরকারের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করবেন। এছাড়া তিনি দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন, যেখানে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনাগুলো গুরুত্ব পাবে।
সৌদি আরব রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার দাবি জানিয়েছে সৌদি। হামলার অভিযোগে রিয়াদে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা এনায়াতিকে তলব করেছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রবিবার (১ মার্চ) সৌদি কর্তৃপক্ষ তাকে তলব করে এই কঠোর প্রতিবাদ জানায়।ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও মার্কিন বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোড়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি জানিয়েছে সৌদি আরব। রিয়াদের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সৈন্যরা অবস্থান করছেন। ইরানি ওই হামলার বিষয়ে অবগত উপসাগরীয় একটি সূত্র এএফপিকে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্র বলেছে, রোববার বিকেলের দিকে রিয়াদ বিমানবন্দর এবং প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির কাছে ধেয়ে আসা ইরানি সব ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাতে জানা গেছে, দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল-খেরেজি ইরানি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এ সময় তিনি এই হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তীব্র অসন্তোষ ও নিন্দা প্রকাশ করেন। বৈঠকে আল-খেরেজি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, সৌদি আরব তার সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো ধরনের আঘাত বা লঙ্ঘনের কঠোর বিরোধী। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে। উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সৌদি আরব প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সম্প্রতি ইরান কর্তৃক সৌদি আরব এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার প্রেক্ষাপটে এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের বর্তমান নতুন নেতৃত্বের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছেন। সম্প্রতি ‘দ্য আটলান্টিক’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, তেহরানের পক্ষ থেকেই আলোচনার প্রস্তাব এসেছে এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তারা (ইরান) কথা বলতে চায় এবং আমিও তাতে রাজি হয়েছি। খুব শীঘ্রই আমি তাদের সাথে আলোচনায় বসব।” তবে এই আলোচনা ঠিক কবে বা কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি। ইরানের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও ট্রাম্পের কণ্ঠে ছিল কিছুটা সমালোচনার সুর। তিনি বলেন, “তাদের এই সিদ্ধান্ত আরও আগেই নেওয়া উচিত ছিল। যা করা খুবই সহজ এবং বাস্তবসম্মত ছিল, সেটি করতে তারা অনেক বেশি দেরি করে ফেলেছে।” বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের অস্থিরতা নিরসনে এবং ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে একটি মাইলফলক হতে পারে।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার চলমান সীমান্ত উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। জেদ্দায় ওআইসি বৈঠক শেষে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই সংকটে বাংলাদেশ প্রকাশ্যে কোনো পক্ষ নেবে না। বরং আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিচ্ছে ঢাকা। একই সঙ্গে দীর্ঘ ৪০ বছর পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর বিপুল সমর্থন পাওয়ার বিষয়টি দেশের কূটনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বর্তমান অবস্থাকে অত্যন্ত দুঃখজনক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ সবসময় শান্তির পক্ষে এবং এই অস্থিরতা নিরসনে আলাপ-আলোচনাকেই একমাত্র পথ মনে করে। সফরকালে তিনি মালদ্বীপ, পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। আসন্ন জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতায় দেশগুলো পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা।
আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে পাকিস্তানের চালানো বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে এই অবস্থান স্পষ্ট করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, পাকিস্তানের হামলায় নারী ও শিশুসহ বিপুল সংখ্যক বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন। পবিত্র রমজান মাসে এ ধরনের হামলাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই হামলা পাকিস্তানের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতাকে আড়াল করার আরেকটি চেষ্টা। ভারতের পক্ষ থেকে এ ধরনের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করা হয়। আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারত পুনরায় জানায়, তারা দেশটির সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং স্বাধীনতার প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষ করে ইসরায়েল ত্যাগের আগে দেশটির সরকার ও জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “উষ্ণ আতিথেয়তা এবং ভালোবাসার জন্য ইসরায়েলকে ধন্যবাদ।” মোদি জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার সহধর্মিণী ব্যক্তিগতভাবে বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে তাকে বিদায় জানিয়েছেন, যা তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছরগুলোতে ভারত–ইসরায়েল অংশীদারিত্ব নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। সফরকালে মোদি ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও প্রতিরক্ষা খাতে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে বলে জানা গেছে। ইসরায়েলি নেতৃত্বও এ সফরকে ঐতিহাসিক হিসেবে বর্ণনা করেছে। কূটনৈতিক মহলে এই সফর ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। বিদায়বার্তায় মোদি পুনরায় উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের আতিথেয়তা তার হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। সূত্র: ANI
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে নির্বাচন থেকে ফিলিস্তিন সরে দাঁড়ানোর পর আগামী জুনে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছেন। বাংলাদেশ প্রায় ৪০ বছর পর এই পদে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে; শেষবার ১৯৮৬ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০২৬–২৭ মেয়াদের জন্য এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কক্ষপথে বাংলাদেশ প্রার্থিতা ঘোষণা করেছিল চার বছর আগে। ফিলিস্তিন প্রথমে প্রার্থীতা ঘোষণা করলেও পরে তা প্রত্যাহার করেছে। গত বছরের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় বাংলাদেশ নির্বাচনে থাকছে কি না, তা নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক বাংলাদেশের প্রতি আবেদন জানায় যাতে তারা নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ায়। ফিলিস্তিন সরে দাঁড়ানোর পর মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাংলাদেশের সঙ্গে সাইপ্রাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদ বৈশ্বিক কূটনীতিতে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। সভাপতির দায়িত্বে সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং বৈশ্বিক ইস্যুতে নেতৃত্ব দেওয়া অন্তর্ভুক্ত। চার দশক পর এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সক্রিয়তা ও মর্যাদা পুনরায় প্রতিষ্ঠার সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফ্রান্সে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত চার্লস কুশনার–এর ওপর দেশটির মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলবের পর তিনি সরাসরি উপস্থিত না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের মৌলিক শিষ্টাচার রক্ষা এবং নিজ দেশের প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে ‘দৃশ্যমান ব্যর্থতার’ প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো নির্দেশ দিয়েছেন—রাষ্ট্রদূত কুশনার যেন ফ্রান্স সরকারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের অনুমতি না পান। তবে তিনি অন্যান্য কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে পারবেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি ফ্রান্সে ২৩ বছর বয়সী কট্টর ডানপন্থী অ্যাকটিভিস্ট কোয়েন্টিন ডেরানক নিহত হন। অভিযোগ রয়েছে, কট্টর বামপন্থী সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষে তিনি প্রাণ হারান। ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ডেরানকের মৃত্যুর ঘটনায় ওয়াশিংটনে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া মন্তব্য গত রোববার পুনরায় পোস্ট করে প্যারিসের মার্কিন দূতাবাস। এরপরই কুশনারকে তলব করেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বার্তা সংস্থা Agence France-Presse (এএফপি)-এর বরাতে জানা গেছে, তলবের জবাবে কুশনার ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কথা জানিয়ে নিজে না গিয়ে দূতাবাসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বৈঠকে পাঠান। মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতের অনুপস্থিতিকে ‘বিস্ময়কর’ বলে আখ্যা দেন এবং একে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কোনো বিদেশি রাষ্ট্র এসে আমাদের জাতীয় রাজনৈতিক বিতর্কে অনধিকার চর্চা করবে—তা আমরা মেনে নেব না। তিনি আরও জানান, ব্যাখ্যা সন্তোষজনক হলে রাষ্ট্রদূত ভবিষ্যতে আবার ফরাসি সরকারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেতে পারেন। এটি প্রথম নয়। ২০২৫ সালের আগস্টেও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ–এর বিরুদ্ধে মন্তব্যের জেরে কুশনারকে তলব করা হয়েছিল। সেবারও তিনি সরাসরি উপস্থিত না হয়ে মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে পাঠান। এদিকে, প্যারিসে মার্কিন দূতাবাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্য শুল্ক, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং রাশিয়া ইস্যুসহ বিভিন্ন প্রশ্নে প্যারিস ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়তে থাকায় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে চাপে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনও মাত্রার হামলার জবাবে ‘ভয়ঙ্কর’ প্রতিক্রিয়া জানাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান—এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত হামলার সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করছেন বলে জানানোর পর সোমবার এই অবস্থান স্পষ্ট করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, সীমিত হামলাসহ যেকোনও আঘাতই স্পষ্টভাবে আগ্রাসন হিসেবে গণ্য হবে। আত্মরক্ষার স্বাভাবিক অধিকারের অংশ হিসেবেই ইরান ভয়ঙ্করভাবে এর জবাব দেবে। এদিকে, ওমানের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে। ইরান ও ওমান বৃহস্পতিবার পরবর্তী দফার আলোচনা হবে বলে নিশ্চিত করলেও যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে পারমাণবিক আলোচনায় ইরানকে চুক্তিতে আনতে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি জোরদার করে যুক্তরাষ্ট্র। আলোচনায় সমঝোতা না হলে সীমিত হামলার কথাও জানান ট্রাম্প। ইরান জোর দিয়ে বলেছে, আলোচনায় কেবল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই কথা হবে। পশ্চিমা দেশগুলো মনে করে, এই কর্মসূচির লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি, যদিও তেহরান বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে। ইরানের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে, উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেন, অঞ্চলে নতুন করে আরেকটি যুদ্ধের প্রয়োজন নেই। এই সময়কে কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো উচিত। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে ইরানে নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় সুইডেন, সার্বিয়া, পোল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার পর ভারতও নিজ নাগরিকদের ইরান ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: এএফপি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস