এআই কি আগেই বলে দেবে কে হতে পারে পরবর্তী অপরাধী? এফবিআইয়ের নতুন উদ্যোগ
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বিপুল পরিমাণ সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ, গোপন যোগসূত্র শনাক্ত এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি চিহ্নিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করছে। এফবিআইয়ের ক্রয়সংক্রান্ত নথিতে এমন একটি ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা বিভিন্ন সরকারি তথ্যভান্ডারের রেকর্ড মিলিয়ে পূর্বাভাসমূলক মডেল তৈরি করতে পারবে। তবে উদ্যোগটি এখনো প্রাথমিক ক্রয় ও বাজার যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।
২০২৬ সালের মার্চে প্রকাশিত ওই নথিতে এফবিআইয়ের থ্রেট স্ক্রিনিং সেন্টারের জন্য উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি চাওয়া হয়। সম্ভাব্য ব্যবস্থাটিকে নতুন তথ্য গ্রহণের পর পুরোনো রেকর্ডের সঙ্গে মিল, আচরণগত ধরন ও বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে অন্য সরকারি ব্যবস্থায় প্রাসঙ্গিক তথ্য কোথায় থাকতে পারে, তা পূর্বানুমান করতে হবে। নথিতে বিপুল পরিমাণ তথ্য নিয়ে সময়সাপেক্ষ ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ স্বয়ংক্রিয় করার কথাও বলা হয়েছে।
এফবিআইয়ের থ্রেট স্ক্রিনিং সেন্টার যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সন্ত্রাসবাদ পর্যবেক্ষণ তালিকা পরিচালনা করে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর বিভিন্ন সংস্থার বিচ্ছিন্ন তালিকা একত্র করার লক্ষ্যে ২০০৩ সালে কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর তালিকায় নাম, জন্মতারিখ ও আঙুলের ছাপসহ বিভিন্ন তথ্য থাকতে পারে। ভিসা ও পাসপোর্ট যাচাই, বিমানযাত্রী ও অভিবাসন পরীক্ষা, এফবিআই তদন্ত এবং বিভিন্ন পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে সহায়তার কাজে এ তথ্য ব্যবহৃত হয়।
প্রস্তাবিত প্রযুক্তির সমর্থকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিচ্ছিন্ন সরকারি নথির মধ্যে এমন সম্পর্ক দ্রুত খুঁজে বের করতে পারে, যা মানুষের পক্ষে বিপুল তথ্যের ভিড়ে শনাক্ত করা কঠিন। এর ফলে তদন্তকারীরা সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পেতে এবং সীমিত জনবল আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারেন।
তবে নাগরিক অধিকার ও গোপনীয়তা নিয়ে কাজ করা পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, পূর্বাভাসনির্ভর ব্যবস্থা যথেষ্ট স্বচ্ছতা ও তদারকি ছাড়া ব্যবহার করা হলে কোনো ব্যক্তিকে তার বাস্তব কর্মকাণ্ডের পরিবর্তে অ্যালগরিদমের অনুমানের ভিত্তিতে সন্দেহের আওতায় আনা হতে পারে। এ ধরনের ব্যবস্থাকে সমালোচকেরা ‘প্রি-ক্রাইম’ বা অপরাধ সংঘটনের আগেই কাউকে সম্ভাব্য অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার ধারণার সঙ্গে তুলনা করছেন।
আরেকটি উদ্বেগ হলো ব্যবহৃত তথ্যের মান ও সম্ভাব্য পক্ষপাত। কোনো তথ্যভান্ডারে ভুল, অসম্পূর্ণতা বা নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর অতিরিক্ত উপস্থিতি থাকলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ফলেও সেই বৈষম্য প্রতিফলিত হতে পারে। তখন কারও বাসস্থান, পরিচিতজন, ভ্রমণ, অনলাইন কর্মকাণ্ড বা অন্য কোনো পরোক্ষ বৈশিষ্ট্যের কারণে নিরপরাধ ব্যক্তি ভুলভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারেন।
এফবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু জাতি, জাতিগত পরিচয়, ধর্ম, সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত বিশ্বাস ও কর্মকাণ্ড কিংবা অনুমানের ভিত্তিতে কাউকে সন্ত্রাসবাদ পর্যবেক্ষণ তালিকায় যুক্ত করা যায় না। সংস্থাটি বলছে, তালিকাভুক্তির জন্য নির্দিষ্ট গোয়েন্দা মানদণ্ড পূরণ করতে হয় এবং অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত সংস্থাগুলো নিয়মিত এ কার্যক্রম পর্যালোচনা করে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জবাবদিহি দপ্তরের ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পুলিশ নিয়মিত যোগাযোগের সময় কোনো নাম পর্যবেক্ষণ তালিকার সঙ্গে সম্ভাব্যভাবে মিলে গেলে সতর্কবার্তা পেতে পারে। সংস্থাটি আরও জানায়, পর্যালোচিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের অনেকে এ ধরনের সতর্কবার্তা কীভাবে যথাযথভাবে পরিচালনা করতে হবে, সে বিষয়ে সব সময় পর্যাপ্তভাবে অবহিত নয়। জবাবদিহি দপ্তর এফবিআইকে যোগাযোগ ও প্রশিক্ষণব্যবস্থা উন্নত করার সুপারিশ করেছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পূর্বাভাসের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে—এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ক্রয়সংক্রান্ত অনুরোধটিও কোনো প্রযুক্তি চূড়ান্তভাবে চালু হওয়ার প্রমাণ নয়; এটি সম্ভাব্য সরবরাহকারী ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ।
তবু উদ্যোগটি একটি মৌলিক আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন সামনে এনেছে, কোনো ব্যক্তি অপরাধ না করলেও শুধু একটি অ্যালগরিদম তাকে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি হিসেবে দেখালে সরকার কতটা নজরদারি বা তদন্ত করতে পারবে। প্রযুক্তিটি পরবর্তী পর্যায়ে গেলে এর তথ্যসূত্র, সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি, মানবীয় পর্যালোচনা, ভুল শনাক্তকরণের প্রতিকার এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষার ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশের দাবি আরও জোরালো হতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreজাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর আগমন ঘিরে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসের বিভিন্ন সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও ডাইভারসিটি প্লাজায় ব্যানার-পোস্টার ও ফেস্টুন দেখা যাচ্ছে। তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে এসব ব্যানার-পোস্টার লাগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপি এবং দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টার ও ব্যানার দিয়েছেন। জ্যাকসন হাইটসের পাশাপাশি নিউইয়র্কের অন্যান্য বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাতেও তাঁর সফর ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের তৎপরতা বেড়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর জন এফ কেনেডি বা জেএফকে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এদিকে তারেক রহমানের নিউইয়র্ক আগমন উপলক্ষে দলীয় প্রস্তুতি সভাও চলছে। ১৫ সেপ্টেম্বর জ্যাকসন হাইটসে নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপির দক্ষিণ শাখার একটি কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সফরকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। এটি সরকারপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘে তাঁর প্রথম বক্তব্য হবে। সফরটি সংক্ষিপ্ত করে ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপির পাশাপাশি ভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনগুলোরও কর্মসূচির প্রস্তুতি রয়েছে। ফলে জেএফকে বিমানবন্দর, জ্যাকসন হাইটস ও জাতিসংঘ সদর দপ্তর ঘিরে আগামী কয়েকদিন রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়তে পারে। তবে নিউইয়র্কে তারেক রহমানকে ঘিরে সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রস্তুতির চিত্র এখন জ্যাকসন হাইটসেই—বাংলাদেশি অধ্যুষিত এই এলাকায় তাঁর আগমনকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো।
স্ন্যাপ খাদ্য সহায়তা বা মেডিকেড নিলে ঝুঁকিতে গ্রিন কার্ড, নতুন নিয়ম কার্যকর
ব্রিটেনে বিচ্ছিন্ন ছিল বাংলাদেশি কমিউনিটি! বর্তমানে শিক্ষায় ও কর্মজীবনে নতুন প্রজন্মের অগ্রগতি
ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ফি বাড়লো আরও এক বছর, প্রভাব পড়বে বাংলাদেশিদের ওপর
রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিয়ে একটি নতুন আইনে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষর করা ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ আইনের আওতায় ভারত ও চীনের মতো বড় রুশ জ্বালানি ক্রেতারা নতুন শুল্কের ঝুঁকিতে পড়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আইনটি ভারতীয় পণ্যের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেনি। বরং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার জ্বালানি খাত থেকে আয় কমিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোর অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করাই নতুন আইনের অন্যতম লক্ষ্য। এতে রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত তথাকথিত ছায়া বহরের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। আইনটি আগে সিনেটে পাস হওয়ার পর ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিনিধি পরিষদে ২৬২ ভোটে ১৫৯ ভোটে অনুমোদিত হয়। এরপর শুক্রবার ট্রাম্প এতে স্বাক্ষর করেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নতুন আইন রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কসংক্রান্ত ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ইরানের ওপর বিদ্যমান কিছু নিষেধাজ্ঞাও সম্প্রসারিত করেছে। ভারত দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়া থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে আসছে। এ কারণে নতুন আইন নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারত সরকার জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক ব্যবস্থার কারণে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রভাবিত হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে ভারত। নতুন আইনের আওতায় শুল্ক আরোপের বিষয়টি এখন ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক এখনই কার্যকর হয়েছে এমন নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের হাতে এমন একটি বড় শুল্ক আরোপের ক্ষমতা চলে আসায় ভারত ও চীনের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বাণিজ্য ও জ্বালানি সম্পর্ক নতুন চাপের মুখে পড়তে পারে।
পরিশ্রমে স্বপ্নজয়, নিউইয়র্ক পুলিশের ট্রাফিক এজেন্ট বাংলাদেশি তরুণ আবদুল্লাহ
মিথ্যা প্রচারের অভিযোগে হোয়াইট হাউসে সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউ নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের কেপ কডে বিরল দুই মাথাওয়ালা কচ্ছপের সন্ধান, চলছে নিবিড় পর্যবেক্ষণ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মার্কিন নাগরিকত্বের ভুয়া দাবি করে প্রায় তিন দশক একটি মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিযোগে মেক্সিকোর এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। আলমা প্যাট্রিসিয়া কনত্রেরাস ভিয়াফানা নামে ৫৪ বছর বয়সী ওই নারী দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসিন্দা। শুক্রবার তাকে টরেন্সে হাওমেট অ্যারোস্পেসের একটি কারখানার বাইরে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে তিনি যন্ত্রকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে মোট আটটি ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি তারবার্তা-ভিত্তিক প্রতারণার মামলা, ভুয়া বা জাল নাগরিকত্ব সনদ ব্যবহারের একটি অভিযোগ, গুরুতর পরিচয় চুরির একটি অভিযোগ এবং মার্কিন নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করার একটি অভিযোগ। ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরির দাখিল করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ভিয়াফানা ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে টরেন্সের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়ার সময় ফর্ম আই-৯-এ নিজেকে মার্কিন নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মীদের পরিচয় ও কাজের বৈধ অনুমতি যাচাইয়ের জন্য এই ফর্ম ব্যবহার করা হয়। তবে মার্কিন অভিবাসন নথি অনুযায়ী, ২০০৩ সালে একজন অভিবাসন বিচারক তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপরও তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ চালিয়ে যান বলে অভিযোগ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে চাকরি ধরে রাখার জন্য আবারও ফর্ম আই-৯ জমা দেন ভিয়াফানা। এবারও তিনি নিজেকে মার্কিন নাগরিক বলে উল্লেখ করেন এবং এমন একটি ন্যাচারালাইজেশন সনদের নম্বর ব্যবহার করেন, যা অন্য একজনের ছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের হিসাবে, ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠান ও এর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কাজ করে ভিয়াফানা অন্তত ১৪ লাখ ২ হাজার ৪৫৯ ডলার পারিশ্রমিক পেয়েছেন। এর একটি অংশ সরাসরি তার ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে। শুক্রবার গ্রেপ্তারের আগে টরেন্সের কারখানায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে পরিস্থিতি জটিল ছিল বলে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতির খবর পেয়ে ভিয়াফানা নিজের কর্মস্থল ছেড়ে একটি সম্মেলনকক্ষে অবস্থান নেন বলে তদন্তকারীদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়েছে। পরে তিনি সেখান থেকে বের হলে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, যে প্রতিষ্ঠানটিতে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন সেটি বিমান ও প্রতিরক্ষা খাতের জন্য বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি করে এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ব্যবসা করে। হাওমেট অ্যারোস্পেস জেট ইঞ্জিনের উপাদান, মহাকাশযানের জন্য টাইটানিয়াম কাঠামোসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ও শিল্পপণ্য তৈরি করে। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি কিছু উপাদান লকহিড মার্টিনের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানেও ব্যবহৃত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের শীর্ষ ফেডারেল প্রসিকিউটর বিল এসাইলি বলেন, সামরিক খাতের সঙ্গে কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠানে ভিয়াফানা এত দীর্ঘ সময় ধরে কীভাবে কাজ করতে পেরেছেন, তা উদ্বেগের বিষয়। তিনি দাবি করেন, এমন ঘটনা জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে এগুলো প্রসিকিউটরের বক্তব্য, আদালতে প্রমাণিত কোনো তথ্য নয়। ভিয়াফানার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত করছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস। প্রতিষ্ঠানটির নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনো আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। হাওমেটের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি তারবার্তা-ভিত্তিক প্রতারণার প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ২০ বছর করে কারাদণ্ড হতে পারে। ভুয়া নাগরিকত্ব সনদ ব্যবহারের অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর, মিথ্যা নাগরিকত্ব দাবির অভিযোগে সর্বোচ্চ তিন বছর এবং গুরুতর পরিচয় চুরির অভিযোগে বাধ্যতামূলকভাবে অতিরিক্ত দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে মার্কিন বিচার বিভাগ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, গ্র্যান্ড জুরির অভিযোগপত্র কেবল অভিযোগের আনুষ্ঠানিক উপস্থাপন। আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ভিয়াফানাকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আগামী সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে তার প্রাথমিক শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: মার্কিন বিচার বিভাগ, নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউইয়র্কে মা ও নানির হাতে চার শিশু খুন, ৪০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে বাবার মামলা
মেটার এআই চশমায় গোপনে যৌনতা, নগ্নতা ও বাথরুমের দৃশ্য ধারণের অভিযোগ, ক্যালিফোর্নিয়ায় মামলা