টিপিএস

টিপিএস বাতিলের পর নিউইয়র্ক সিটিতে চাকরি হারিয়েছেন কয়েক ডজন হাইতিয়ান কর্মী। ছবি:সংগৃহীত
নিউইয়র্কে টিপিএস বাতিলের পর চাকরি হারালেন কয়েক ডজন হাইতিয়ান কর্মী

নিউইয়র্ক সিটি সরকার টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএস হারানো বেশ কয়েকজন হাইতিয়ান কর্মীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর হাইতিয়ান নাগরিকদের এই সুরক্ষা বাতিলের পথ পরিষ্কার হওয়ায় কর্মীদের বৈধ কাজের অনুমতি আর বহাল না থাকায় এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ।   নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, নগর সরকার নিজ উদ্যোগে এসব কর্মীকে ছাঁটাই করতে চায়নি। ফেডারেল আইনের বাধ্যবাধকতার কারণেই কর্মীদের কাজের অনুমতির বিষয়টি পর্যালোচনা করে যাদের বৈধভাবে কাজ করার অন্য কোনো অনুমতি নেই, তাদের চাকরি থেকে আলাদা করতে হয়েছে।   সিটি হলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ জুলাই টিপিএসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর হাইতিয়ান কর্মীদের চাকরির বৈধতা পর্যালোচনা করা হয়। শুক্রবার নগর কর্তৃপক্ষ কয়েকজন কর্মীকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আক্রান্ত কর্মীর সংখ্যা ‘এক ডজনের বেশি’ থেকে ‘কয়েক ডজন’ বলা হয়েছে। তাদের বড় একটি অংশ নগরীর হাসপাতাল ব্যবস্থায় কাজ করতেন।   মেয়র মামদানি সোমবার জানান, এই পরিস্থিতি নিয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। হাইতিয়ান নাগরিকদের জন্য টিপিএস পুনর্বহাল অথবা বিকল্প হিসেবে ডিফার্ড এনফোর্সড ডিপারচার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মামদানির ভাষ্য অনুযায়ী, টিপিএস পুনর্বহাল কিংবা এ ধরনের বিকল্প সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষমতা ফেডারেল সরকারের হাতে রয়েছে।   টিপিএস এমন একটি সাময়িক অভিবাসন সুরক্ষা, যার আওতায় নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকরা নিজ দেশে চলমান যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা গুরুতর মানবিক সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ও কাজের অনুমতি পেয়ে থাকেন। হাইতির নাগরিকদের জন্য এই সুরক্ষা দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ছিল।   জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের একটি সিদ্ধান্তের পর ট্রাম্প প্রশাসনের হাইতির টিপিএস বাতিলের পথে থাকা আইনি বাধা কার্যত দূর হয়ে যায়। এরপর আগস্টের শুরুতে ফেডারেল আদালতও আগের সেই নিষেধাজ্ঞা আর কার্যকর নেই বলে নিশ্চিত করে। ফলে হাইতিয়ান টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়।   নিউইয়র্ক শহরের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হাইতিয়ান অভিবাসীরা নগরীর স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচর্যা খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। টিপিএস বাতিলের ফলে শুধু সরকারি কর্মী নয়, বেসরকারি খাতের বহু কর্মীরও চাকরি ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের বৈধতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।    মামদানি জানিয়েছেন, চাকরি হারানো কর্মীদের পাশে থাকার জন্য নগর সরকার আইনি পরামর্শ, নতুন ধরনের কাজের অনুমতি পাওয়ার সম্ভাবনা যাচাই এবং স্বাস্থ্যবিমা সংক্রান্ত সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে টিপিএস পুনর্বহাল না হলে এসব কর্মীর ভবিষ্যৎ অনেকটাই ফেডারেল সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।   টিপিএস বাতিলের প্রভাব নিউইয়র্কের বাইরেও ব্যাপক। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তিন লাখের বেশি হাইতিয়ান নাগরিক এই সুরক্ষার আওতায় ছিলেন। তাদের অনেকেই বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, কাজ করছেন এবং পরিবার গড়ে তুলেছেন। এখন টিপিএস বাতিলের কারণে তাদের বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অধিকার নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।   মেয়র মামদানির ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি নিউইয়র্কের অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নগর সরকার একদিকে ফেডারেল আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে কর্মীদের চাকরি থেকে সরিয়েছে, অন্যদিকে একই সময়ে টিপিএস পুনর্বহালের জন্য ফেডারেল সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছে।   এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে অভিবাসন অধিকার, কর্মসংস্থান এবং ফেডারেল বনাম স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সিদ্দিকুর রহমান আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের অধীন ইউএসসিআইএস এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়। ছবি: সংগৃহীত
শেষ মুহূর্তে বাড়ল কয়েক লাখ অভিবাসীর ওয়ার্ক পারমিট

মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে হাইতিসহ সাতটি দেশের অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএস) পাওয়া অভিবাসীদের কাজের অনুমতির মেয়াদ সাময়িকভাবে বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। এই সিদ্ধান্তে কয়েক লাখ অভিবাসী আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার (১০ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের অধীন ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS) এ বিষয়ে ঘোষণা দেয়। ঘোষণা অনুযায়ী, টিপিএসধারী হাইতির নাগরিকদের কাজের অনুমতির মেয়াদ এখন ২৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে ইথিওপিয়া, সিরিয়া, সোমালিয়া, ইয়েমেন, দক্ষিণ সুদান এবং মিয়ানমারের টিপিএসধারীদের বর্তমান কাজের অনুমতি আরও এক সপ্তাহ কার্যকর থাকবে।   এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের টিপিএস বাতিলের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার অনুমতি দেয়। ওই রায়ের পর কয়েক লাখ অভিবাসীর কাজের অনুমতি এবং বহিষ্কার থেকে পাওয়া আইনি সুরক্ষা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়। টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) এমন একটি মানবিক কর্মসূচি, যার আওতায় যুদ্ধ, সশস্ত্র সংঘাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের নাগরিকরা, যারা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তারা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দেশটিতে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পান।   সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর থেকেই মানবাধিকার সংগঠন এবং অভিবাসী অধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, টিপিএস বাতিল হলে বিপুলসংখ্যক মানুষ একসঙ্গে কাজের অনুমতি হারাতে পারেন এবং বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়বেন। এদিকে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনও কাজের অনুমতির মেয়াদ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিল। তাদের মতে, হঠাৎ করে এসব কর্মীর অনুমতি বাতিল হলে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাত শ্রমিক সংকটে পড়তে পারে।   অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে অবৈধ অভিবাসন দমন এবং বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করেছেন। একই সঙ্গে বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি নির্ধারণ এবং আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য যাচাইয়ের মতো পদক্ষেপ রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করেছে, এসব নীতির ফলে অভিবাসী ও বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বেড়েছে। পাশাপাশি বর্ণগত বৈষম্যমূলক আচরণের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।   অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা এবং দেশটির নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সুরক্ষিত রাখা।   বিশ্লেষকদের মতে, কাজের অনুমতির এই সাময়িক মেয়াদ বৃদ্ধি টিপিএসধারী অভিবাসীদের জন্য আপাত স্বস্তি নিয়ে এলেও তাদের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। কারণ টিপিএস কর্মসূচি নিয়ে প্রশাসনের আইনি ও নীতিগত অবস্থান এখনও পরিবর্তনশীল, ফলে আগামী সপ্তাহগুলোতে এ বিষয়ে আরও সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি সংগৃহীত
টিপিএসধারী অভিবাসীদের স্থায়ী মর্যাদা না পেলে দেশে ফিরতে হবে: ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) নিয়ে বসবাসরত অভিবাসীদের স্থায়ী বৈধ আবাসিক মর্যাদা অর্জন করতে হবে, অন্যথায় নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। রোববার (২৮ জুন) সিএনএনের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের প্রধান মার্কওয়েইন মুলিন।   সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের টিপিএস সুবিধা প্রত্যাহারের অনুমতি দিয়েছে। এই মর্যাদার আওতায় এতদিন যুদ্ধ, সংঘাত ও মানবিক সংকটে থাকা দেশগুলো থেকে আসা নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে বৈধভাবে বসবাসের সুযোগ পেয়ে আসছিলেন।   মুলিন বলেন, ‘হয় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করে স্থায়ী বৈধ মর্যাদা অর্জনের চেষ্টা করুন, নয়তো আমরা আপনাকে নিজ দেশে ফিরে যেতে সহায়তা করব। আমরা বিমানের টিকিট দেব, পাশাপাশি নিজ দেশে পুনর্বাসনের জন্য দুই হাজার ১০০ ডলার সহায়তা দেওয়া হবে।’   মার্কিন আইনে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য সংকটপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে নিজ দেশ ছেড়ে আসা বিদেশি নাগরিকদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) দেওয়া হয়। এ সুবিধার আওতায় তারা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পান।   এতদিন টিপিএসের মেয়াদ নিয়মিত নবায়ন করা হলেও বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন ধাপে ধাপে এই সুরক্ষা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো হাইতি ও সিরিয়ায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি রেখেছে। তাদের মতে, দেশ দুটিতে সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদ, অপহরণ ও অপরাধের ঝুঁকি এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।   ২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর প্রথমবারের মতো হাইতির নাগরিকদের জন্য টিপিএস চালু করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে ২০১২ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরুর পর দেশটির নাগরিকদেরও একই ধরনের সুরক্ষা দেওয়া হয়।

Unknown জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
‘বৈধতা নিন, নয়তো দেশ ছাড়ুন’—লাখো অভিবাসীর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কড়া বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েইন মুলিন টেম্পোরারি প্রটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএস-এর আওতায় থাকা অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি নেওয়ার অথবা দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এক আদেশে লাখ লাখ অভিবাসীর মানবিক সুরক্ষা বাতিল করার পর এই মন্তব্য করলেন তিনি। সিএনএন-এর ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুলিন জানান, এই রায়ের ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন হাইতি ও সিরিয়ার মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত ও চরম দারিদ্র্যপীড়িত দেশের অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সুযোগ পেল।   মুলিন তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, অভিবাসীদের আইনি কাগজপত্র পূরণের মাধ্যমে স্থায়ী বৈধতা নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে, অন্যথায় প্রশাসন তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে সাহায্য করবে। প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রশাসন বিমান ভাড়ার পাশাপাশি নতুন করে জীবন শুরু করতে মাথাপিছু প্রায় ২,১০০ ডলার আর্থিক সহায়তা দেবে বলেও তিনি জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আদালতের নির্দেশ এবং নাম অনুযায়ীই ‘টেম্পোরারি প্রটেক্টেড স্ট্যাটাস’ বা টিপিএস কোনো স্থায়ী বৈধতা নয়।   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন অনুযায়ী, যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পালিয়ে আসা মানুষদের সাময়িক আইনি বৈধতা হিসেবে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। ২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর হাইতিয়ানদের এবং ২০১২ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর সিরীয়দের এই সুরক্ষা দেওয়া হয়।   বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া এই রায়ের ফলে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার হাইতিয়ান এবং ৬ হাজার সিরীয় অভিবাসী এখন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর হাতে আটক বা সরাসরি দেশে ফেরত পাঠানোর হুমকির মুখে পড়েছেন। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো ব্যাপক সহিংসতা, অপরাধ ও সন্ত্রাসের কারণে হাইতি এবং সিরিয়ায় ভ্রমণের ওপর কড়া সতর্কতা জারি করে রেখেছে। এই রায়ের পর হাইতিয়ান অভিবাসী এবং মানবাধিকার কর্মীরা তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। ওহাইওর স্প্রিংফিল্ডে বসবাসরত হাইতিয়ানরা চরম অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন।   ফ্রাঙ্কি পিয়েরে নামের এক হাইতিয়ান অভিবাসী জানান, এই রায়ের ফলে বহু মানুষ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হবেন, যা সেখানকার অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও বড় ধরনের ধস নামাবে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প স্প্রিংফিল্ডের হাইতিয়ানদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছিলেন, যার জেরে শহরটিতে বোমাতঙ্ক ও শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীদের মিছিলের মতো ঘটনা ঘটেছিল।   তবে শুধুমাত্র অভিবাসীরাই নন, খোদ রিপাবলিকান দলের অনেক নেতাও সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের সমালোচনা করেছেন। ওহাইওর রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ডিউইন এই রায়কে একটি ‘ভুল’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, হাইতির বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ এবং সেখানকার অর্থনীতি ও সরকার ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এছাড়া মাইক ললার ও ডন বেকনের মতো অন্যান্য রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যানরাও হাইতিয়ান অভিবাসীদের টিপিএস মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। বর্তমানে ১৭টি দেশের প্রায় ১৭ লাখ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে টিপিএস সুবিধার আওতায় রয়েছেন। অভিবাসন অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, ট্রাম্প প্রশাসন হয়তো অন্যান্য অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও এই সুবিধা বাতিল করে ১৯৯০ সালে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির পুরোপুরি ইতি টানতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কোলাজ । আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে লাখো অভিবাসীর অনিশ্চয়তা, ট্রাম্পকে টিপিএস বাতিলের ক্ষমতা দিল সুপ্রিম কোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ের ফলে দেশটিতে বসবাসরত কয়েক লাখ অভিবাসীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আদালত সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের জন্য দেওয়া টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বাতিলের ক্ষমতা বহাল রাখার সুযোগ দিয়েছে।   এই রায়ের ফলে প্রায়৩ লাখ ৫০ হাজার হাইতিয়ান এবং ৬ হাজার সিরীয় অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করার অধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। টিপিএস বাতিল হলে তাদের অনেককেই সহিংসতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা মানবিক সংকটে থাকা নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে হতে পারে।   আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা রায়ে বলেন, টিপিএস প্রদান বা বাতিলের সিদ্ধান্ত মূলত নির্বাহী বিভাগের এখতিয়ার। সাংবিধানিক প্রশ্ন ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ সীমিত। ফলে ভবিষ্যতেও প্রশাসন টিপিএস সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে তুলনামূলক বেশি স্বাধীনতা পাবে।   তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিবাসন অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী হাজারো পরিবার এই কর্মসূচির ওপর নির্ভর করে জীবন গড়ে তুলেছে। হঠাৎ করে তাদের আইনি সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ হারানো শুধু মানবিক সংকটই সৃষ্টি করবে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   টিপিএস মূলত যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা চরম অস্থিতিশীলতায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের নাগরিকদের অস্থায়ী নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য চালু করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এই কর্মসূচির আওতায় থাকা অনেক মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী জীবন গড়ে তুলেছেন। ফলে তাদের সুরক্ষা এক ঝটকায় প্রত্যাহার করা বড় ধরনের সামাজিক ও মানবিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।   অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান হলো, টিপিএস একটি অস্থায়ী কর্মসূচি এবং এর মেয়াদ অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে পারে না। প্রশাসনের দাবি, সংশ্লিষ্ট দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই মর্যাদা বাতিল করার ক্ষমতা সরকারের রয়েছে।   রায়ের পর এখন বিষয়টি আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পেয়েছে। অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলো কংগ্রেসকে দ্রুত আইন প্রণয়নের মাধ্যমে টিপিএসধারীদের জন্য স্থায়ী আইনি সুরক্ষা বা নাগরিকত্বের পথ তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে জাতীয় বিতর্কও উসকে দিয়েছে।

Unknown জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্প প্রশাসনের বড় আইনি জয়ের পর অনিশ্চয়তায় লাখো অভিবাসী। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বহিষ্কারের ঝুঁকিতে ১৩ লাখ অভিবাসী, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের রায়

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে দেশটিতে অস্থায়ী সুরক্ষা কর্মসূচি (টেম্পোরারি প্রোটেকটেড স্ট্যাটাস বা টিপিএস) বাতিলের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা আরও জোরালো হয়েছে। এই রায়ের ফলে হাইতি ও সিরিয়ার হাজারো অভিবাসী তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলা, হন্ডুরাসসহ আরও কয়েকটি দেশের নাগরিকদের টিপিএস সুবিধা বাতিলের পথও সহজ হয়ে গেছে। ফলে শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৩ লাখ অভিবাসী এই সিদ্ধান্তের প্রভাবের মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   ৬-৩ ভোটের রায়ে মুলিন বনাম ডো (Mullin v. Doe) মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বলেন, টিপিএস প্রদান বা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত মূলত প্রেসিডেন্টের এখতিয়ার। এ ধরনের সিদ্ধান্তে আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ খুবই সীমিত। এর মাধ্যমে নিম্ন আদালতের সেইসব আদেশও বাতিল হয়ে যায়, যেগুলো ট্রাম্প প্রশাসনকে টিপিএস বাতিলে বাধা দিয়েছিল।   বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে বলেন, ১৯৯০ সালে কংগ্রেস যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য সংকটের কারণে নিজ দেশে নিরাপদে ফিরতে না পারা বিদেশি নাগরিকদের সাময়িক মানবিক সুরক্ষা দিতে টিপিএস চালু করেছিল। তবে বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই এই সাময়িক সুবিধা কয়েক দশক ধরে বহাল ছিল, যা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   রায়ে আরও বলা হয়, হাইতির নাগরিকদের ২০১০ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর টিপিএস দেওয়া হয়েছিল। আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুক্তিও গ্রহণ করেন যে, হাইতির টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত বর্ণবৈষম্যের কারণে নয়, বরং নীতিগত কারণে নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বর্তমানে টিপিএস সুবিধাভোগী প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার হাইতির নাগরিক এবং প্রায় ৪ হাজার সিরিয়ান নাগরিক বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন, যদি তাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অন্য কোনো বৈধ অভিবাসন মর্যাদা না থাকে।   অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রায়টির প্রভাব শুধু হাইতি ও সিরিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভেনেজুয়েলা, হন্ডুরাসসহ আরও কয়েকটি দেশের টিপিএস বাতিলের প্রচেষ্টাও এখন আইনি বাধা ছাড়াই এগিয়ে নিতে পারবে ট্রাম্প প্রশাসন। বর্তমানে ১৭টি দেশের প্রায় ১৩ লাখ মানুষ টিপিএস কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।   বিশেষ করে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে। সেখানে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টিপিএসধারী বাস করেন। তাদের অনেকেই বৈধভাবে চাকরি করছেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তবে সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হননি বিচারপতি এলেনা কাগান। বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়র ও কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসনকে সঙ্গে নিয়ে দেওয়া ভিন্নমত পোষণকারী রায়ে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুরক্ষা দুর্বল করেছে এবং টিপিএস বাতিলের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক বিবেচনার অভিযোগ যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।   দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশের টিপিএস বাতিল করেছে বা বাতিলের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। প্রশাসনের দাবি, সংকট মোকাবিলায় অস্থায়ী সহায়তা দেওয়ার জন্য চালু হওয়া এই কর্মসূচি অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ী সুবিধায় পরিণত হয়েছে, যা আইন প্রণেতাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল না। অন্যদিকে অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এই রায়ের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে বহু পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে, অনেক মানুষ বৈধভাবে কাজ করার অধিকার হারাবেন এবং এমন দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হবেন, যেখানে এখনো নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়।   ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোরও উদ্বেগ রয়েছে। কারণ টিপিএস সুবিধাভোগীদের বড় একটি অংশ স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, খাদ্য সরবরাহ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে কর্মরত। আন্তর্জাতিক শরণার্থী সহায়তা প্রকল্পের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হুসেইন এলবাকরি বলেন, টিপিএসধারীদের মধ্যে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষক, নির্মাণশ্রমিক, খাদ্যসেবা কর্মী এবং হোম হেলথ কেয়ার কর্মীর মতো বহু গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবী রয়েছেন। তাদের হারালে শ্রমবাজারে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে।   সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আরেকটি বড় আইনি সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে একই দিনে আদালত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য প্রশাসনের 'ওয়েট ইন মেক্সিকো' নীতিও বহাল রাখার সুযোগ দেয়।   তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তের পরও টিপিএস কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক যে দ্রুত শেষ হচ্ছে না, তা স্পষ্ট। মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে ভবিষ্যৎ আইনি পদক্ষেপ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অভিবাসীদের সহায়তায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

কুমার বিশ্বজিতের যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন পিটিশন অনুমোদন, হিল্লোলের পোস্ট ঘিরে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনা

কুমার বিশ্বজিতের যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন পিটিশন অনুমোদন, হিল্লোলের পোস্ট ঘিরে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনা

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০