যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে দেশটিতে অস্থায়ী সুরক্ষা কর্মসূচি (টেম্পোরারি প্রোটেকটেড স্ট্যাটাস বা টিপিএস) বাতিলের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা আরও জোরালো হয়েছে। এই রায়ের ফলে হাইতি ও সিরিয়ার হাজারো অভিবাসী তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলা, হন্ডুরাসসহ আরও কয়েকটি দেশের নাগরিকদের টিপিএস সুবিধা বাতিলের পথও সহজ হয়ে গেছে। ফলে শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৩ লাখ অভিবাসী এই সিদ্ধান্তের প্রভাবের মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
৬-৩ ভোটের রায়ে মুলিন বনাম ডো (Mullin v. Doe) মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বলেন, টিপিএস প্রদান বা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত মূলত প্রেসিডেন্টের এখতিয়ার। এ ধরনের সিদ্ধান্তে আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ খুবই সীমিত। এর মাধ্যমে নিম্ন আদালতের সেইসব আদেশও বাতিল হয়ে যায়, যেগুলো ট্রাম্প প্রশাসনকে টিপিএস বাতিলে বাধা দিয়েছিল।
বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে বলেন, ১৯৯০ সালে কংগ্রেস যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য সংকটের কারণে নিজ দেশে নিরাপদে ফিরতে না পারা বিদেশি নাগরিকদের সাময়িক মানবিক সুরক্ষা দিতে টিপিএস চালু করেছিল। তবে বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই এই সাময়িক সুবিধা কয়েক দশক ধরে বহাল ছিল, যা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
রায়ে আরও বলা হয়, হাইতির নাগরিকদের ২০১০ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর টিপিএস দেওয়া হয়েছিল। আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুক্তিও গ্রহণ করেন যে, হাইতির টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত বর্ণবৈষম্যের কারণে নয়, বরং নীতিগত কারণে নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বর্তমানে টিপিএস সুবিধাভোগী প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার হাইতির নাগরিক এবং প্রায় ৪ হাজার সিরিয়ান নাগরিক বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন, যদি তাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অন্য কোনো বৈধ অভিবাসন মর্যাদা না থাকে।
অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রায়টির প্রভাব শুধু হাইতি ও সিরিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভেনেজুয়েলা, হন্ডুরাসসহ আরও কয়েকটি দেশের টিপিএস বাতিলের প্রচেষ্টাও এখন আইনি বাধা ছাড়াই এগিয়ে নিতে পারবে ট্রাম্প প্রশাসন। বর্তমানে ১৭টি দেশের প্রায় ১৩ লাখ মানুষ টিপিএস কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।
বিশেষ করে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে। সেখানে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টিপিএসধারী বাস করেন। তাদের অনেকেই বৈধভাবে চাকরি করছেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
তবে সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হননি বিচারপতি এলেনা কাগান। বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়র ও কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসনকে সঙ্গে নিয়ে দেওয়া ভিন্নমত পোষণকারী রায়ে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুরক্ষা দুর্বল করেছে এবং টিপিএস বাতিলের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক বিবেচনার অভিযোগ যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশের টিপিএস বাতিল করেছে বা বাতিলের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। প্রশাসনের দাবি, সংকট মোকাবিলায় অস্থায়ী সহায়তা দেওয়ার জন্য চালু হওয়া এই কর্মসূচি অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ী সুবিধায় পরিণত হয়েছে, যা আইন প্রণেতাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল না।
অন্যদিকে অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এই রায়ের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে বহু পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে, অনেক মানুষ বৈধভাবে কাজ করার অধিকার হারাবেন এবং এমন দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হবেন, যেখানে এখনো নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়।
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোরও উদ্বেগ রয়েছে। কারণ টিপিএস সুবিধাভোগীদের বড় একটি অংশ স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, খাদ্য সরবরাহ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে কর্মরত। আন্তর্জাতিক শরণার্থী সহায়তা প্রকল্পের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হুসেইন এলবাকরি বলেন, টিপিএসধারীদের মধ্যে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষক, নির্মাণশ্রমিক, খাদ্যসেবা কর্মী এবং হোম হেলথ কেয়ার কর্মীর মতো বহু গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবী রয়েছেন। তাদের হারালে শ্রমবাজারে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আরেকটি বড় আইনি সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে একই দিনে আদালত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য প্রশাসনের 'ওয়েট ইন মেক্সিকো' নীতিও বহাল রাখার সুযোগ দেয়।
তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তের পরও টিপিএস কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক যে দ্রুত শেষ হচ্ছে না, তা স্পষ্ট। মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে ভবিষ্যৎ আইনি পদক্ষেপ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অভিবাসীদের সহায়তায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের মিশিগান সিটির ওয়াশিংটন পার্ক সৈকতে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পানিতে ডুবে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়েছে এবং ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ৩২ শিকাগো ও ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নিহত কিশোরের নাম কিগান রবার্টস। তিনি মিশিগান সিটির বাসিন্দা ছিলেন। গত সোমবার বিকেল প্রায় ৫টা ৪০ মিনিটে ওয়াশিংটন পার্ক বিচের বাতিঘরের দক্ষিণ পাশে পানিতে নামার পর কিগান হঠাৎ তলিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একবার পানির নিচে চলে যাওয়ার পর তাকে আর ভেসে উঠতে দেখা যায়নি। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনী, পুলিশ, ইন্ডিয়ানা ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সস এবং লা পোর্ট কাউন্টি জরুরি চিকিৎসা সেবা বিভাগের সদস্যরা। নৌযান, ড্রোন এবং ডুবুরি দলের সহায়তায় ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু হয়। তবে প্রবল ঢেউ, বিপজ্জনক স্রোত এবং পানির নিচে অত্যন্ত কম দৃশ্যমানতার কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়। উদ্ধারকারীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সোমবার সন্ধ্যায় ডুবুরি অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার আবার অনুসন্ধান শুরু হয়। অবশেষে বুধবার সকাল প্রায় ৭টা ৪৫ মিনিটে মিশিগান সিটি পিয়ারের পূর্ব পাশে পাথরের কাছে প্রায় ১১ ফুট গভীর পানি থেকে কিগানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অনুসন্ধান চলাকালে তিনজন দমকলকর্মী পানিতে ডুব দিয়ে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে গিয়ে সামান্য আহত হন। তাদের হাসপাতালে নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া ইন্ডিয়ানা ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সসের একজন ডুবুরিও আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার চিকিৎসা দেওয়া হয়। লা পোর্ট কাউন্টির করোনার কার্যালয় জানিয়েছে, পানিতে ডুবে শ্বাসরোধ হওয়ায় কিগানের মৃত্যু হয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ ঘটনার পর মিশিগান সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট সৈকতে বেড়াতে আসা মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, সমুদ্র বা লেকের পানিতে নামার আগে আবহাওয়া ও পানির পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে, সতর্কতামূলক নির্দেশনা মেনে চলতে হবে এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই পানিতে নামা উচিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রে গ্রীষ্মকালে সৈকত ও লেকে বেড়াতে মানুষের ভিড় বাড়ে। তবে প্রবল স্রোত, উঁচু ঢেউ এবং পানির নিচের প্রতিকূল পরিবেশের কারণে প্রতিবছর এমন দুর্ঘটনা ঘটে। তাই স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আপস্টেট এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একই পরিবারের ছয় সদস্যের মৃতদেহ। পুলিশের ধারণা, নানি অ্যামি স্টেডম্যান নিজেই তার মেয়ে এবং চার নাতি-নাতনিকে বিষপ্রয়োগ ও ছুরিকাঘাতে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পেছনে শিশুদের বাবার কাছে তাদের হেফাজত বা কাস্টডি চলে যাওয়ার ক্ষোভ কাজ করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মেকানিকভিলের পুলিশ প্রধান বিল র্যাবিট জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া একটি হাতে লেখা সুইসাইড নোট এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক প্রমাণ এই মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে নানির সরাসরি সম্পৃক্ততার দিকেই শক্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে। নিহতরা হলেন ৪৪ বছর বয়সী সারাহ মায়ার্স এবং তার চার সন্তান—১৩ বছরের হার্পার হারমন, ১১ বছরের হাডসন হারমন এবং ১০ বছর বয়সী যমজ গ্যাভিন ও গ্রেসলিন। চ্যানেল ১৩-এর সূত্রমতে, নানির বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া সিরিঞ্জ এবং বিপুল পরিমাণ প্রেসক্রিপশন ও সাধারণ ওষুধের উপস্থিতিতে বোঝা যায় যে শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল। তবে এর মধ্যে একজনকে ছুরিকাঘাতও করা হয়েছে। প্রতিবেশীরা বেশ কয়েকদিন ধরে তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পুলিশে খবর দিলে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পচন ধরা লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিশুদের বাবা ব্র্যাডি হারমন সম্প্রতি আদালতের মাধ্যমে দুই মাসের জন্য সন্তানদের নিজ হেফাজতে নেয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন, যা আগামী বুধবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। ২০১৯ সালের পর থেকে সন্তানদের কাছে না পাওয়া এই বাবা উটাহ অঙ্গরাজ্যে তার বাড়িতে তাদের স্বাগত জানানোর জন্য অধীর আগ্রহে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক এমন সময় পুলিশের কাছ থেকে এই ভয়াবহ খবর পেয়ে তিনি মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েন। সংবাদমাধ্যম টাইমস ইউনিয়নকে কাঁদতে কাঁদতে তিনি জানান, সন্তানদের ফিরে পাওয়ার আনন্দ মুহূর্তেই তাদের চিরতরে হারানোর শোকে পরিণত হয়েছে। তিনি সাবেক স্ত্রীর বিরুদ্ধে সন্তানদের তার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখার অভিযোগ আনেন এবং মৃতদেহগুলো উটাহতে সমাহিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। মেকানিকভিলের পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত এখনও চলছে এবং পুরো বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে। তবে পুলিশ নিশ্চিত যে এই হত্যাকাণ্ড অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরেই সংঘটিত হয়েছে এবং বাইরের কোনো ব্যক্তির এর সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই। সম্পূর্ণ তদন্ত প্রতিবেদন, টক্সিকোলজি রিপোর্ট এবং মেডিকেল পর্যালোচনা শেষে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত কারণ ও দায়বদ্ধতা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে সিরীয় ও হাইতিয়ান অভিবাসীদের অস্থায়ী আইনি সুরক্ষা (টিপিএস) বাতিলের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনকে সবুজ সংকেত দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দেওয়া ৬-৩ ব্যবধানের এই বিভক্ত রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পাওয়া প্রায় ৩ লাখ ৫৬ হাজার সিরীয় এবং হাইতিয়ান নাগরিক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়লেন। এর আগে নিম্ন আদালত সরকারের এই সুরক্ষা কর্মসূচি বাতিলের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্ট সেই রায় বাতিল করে জানিয়েছে, অস্থায়ী নির্বাসন সুরক্ষা বাতিলের এই সিদ্ধান্ত আদালতের মাধ্যমে স্থগিত করার কোনো অধিকার সিরিয়া ও হাইতির অভিবাসীদের নেই। সংখ্যাগরিষ্ঠের পক্ষে রায় লিখতে গিয়ে বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো জানান, টিপিএস আইনের আওতায় অসাংবিধানিক দাবির বিচারিক পর্যালোচনার কোনো সুযোগ নেই। এই রায়ের ফলে অভিবাসী ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর পক্ষে সরকারের টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করা এবং ফেডারেল আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ল। তাছাড়া, হাইতির নাগরিকদের ক্ষেত্রে বর্ণবাদের অভিযোগ এনে সমান সুরক্ষার যে দাবি করা হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ বেঞ্চ সেটিও নাকচ করে দিয়েছে। বিচারপতি আলিটো উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রশাসন মূলত টিপিএস কর্মসূচির পূর্ববর্তী বাস্তবায়নের বিরোধী, যা সম্পূর্ণ বর্ণ-নিরপেক্ষ একটি যৌক্তিক আইনি অবস্থান। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে টিপিএস সুবিধা পাওয়া ১৭টি দেশের ১০ লক্ষাধিক অভিবাসীর ওপর। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে ১৩টি দেশের অভিবাসীদের আইনি সুরক্ষা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে, যার ফলে তাদের কাজের বৈধতা হারানোসহ গ্রেফতার ও বিতাড়নের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, বিচারপতি সোনিয়া সোটোমায়র এবং কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসনের সমর্থন নিয়ে ভিন্নমত পোষণকারী বিচারপতি এলেনা কাগান তার পর্যবেক্ষণে বলেন, বাদীরা আজকের এই রায়ের চেয়ে আরও ন্যায্য বিচার প্রাপ্য ছিলেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, নিম্ন আদালতে আইনি লড়াই চলাকালীন এই সিদ্ধান্তের কারণে লাখো মানুষের জীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। হোয়াইট হাউস সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, অস্থায়ী সুরক্ষিত মর্যাদা যে কেবলই অস্থায়ী, এটি তারই প্রমাণ। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন জানান, এটি কখনোই স্থায়ী নাগরিকত্ব বা বৈধ বসবাসের পথ হিসেবে তৈরি করা হয়নি এবং এটি সম্পূর্ণভাবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারির এখতিয়ারভুক্ত। অন্যদিকে সিরীয় অভিবাসীদের পক্ষে আইনি লড়াই করা ইউসিএলএ-এর আইনের অধ্যাপক আহিলান অরুলানান্থাম এই রায়ের কড়া সমালোচনা করে মার্কিন কংগ্রেসকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, টিপিএস বাতিল হলে আমাদের সমাজের লাখো মানুষ চরম সংকটে থাকা নিজ দেশগুলোতে ফেরত পাঠানোর মতো অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হবেন। ২০১২ সালে বাশার আল-আসাদের দমনপীড়নের পর সিরিয়া এবং ২০১০ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর হাইতি প্রথম টিপিএস সুবিধা পেয়েছিল। তবে ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম জানান, এই দেশ দুটি আর টিপিএস-এর মানদণ্ড পূরণ করে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণায় হাইতিয়ান অভিবাসীদের নিয়ে নানা ভিত্তিহীন ও বিতর্কিত মন্তব্য করলেও, প্রশাসন বর্ণবাদের কোনো উদ্দেশ্য থাকার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ২০২৫ সালে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে ট্রাম্প অভিবাসন ব্যবস্থা কঠোর করতে ব্যাপক পদক্ষেপ নিচ্ছেন, যার মধ্যে ভেনিজুয়েলার নাগরিকদের বিতাড়ন এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের মতো বিতর্কিত নির্বাহী আদেশও রয়েছে।