পিএইচডি

পিএইচডিতে চুরির অভিযোগের পর এবার ৩ বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির দাবিও ভুয়া?
পিএইচডিতে চুরির অভিযোগের পর এবার ৩ বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির দাবিও ভুয়া? বিতর্কে কেমব্রিজের অধ্যাপক

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেসন আর্ডে নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন। পিএইচডি গবেষণাপত্রে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগের পাশাপাশি, আরও দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করার দাবি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বলছে, আর্ডে কখনোই সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মরত ছিলেন না।    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জেসন আর্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার পিএইচডি অভিসন্দর্ভে ১০০টিরও বেশি অংশ অন্য একজন গবেষকের কাজ থেকে যথাযথ স্বীকৃতি ছাড়া নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিজের জীবনীতে তিনি ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগো এবং ডারহাম ইউনিভার্সিটিতে একাডেমিক পদে কাজ করার দাবি করেছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জানিয়েছে, তাদের এমন কোনো আনুষ্ঠানিক রেকর্ড নেই।    জেসন আর্ডে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, লিভারপুল জন মুরস বিশ্ববিদ্যালয়, যেখান থেকে তিনি পিএইচডি সম্পন্ন করেন, ইতোমধ্যে অভিযোগ তদন্ত করে কোনো একাডেমিক অসদাচরণের প্রমাণ পায়নি। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তে তার আপত্তি নেই।    এদিকে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ও জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অসদাচরণবিষয়ক নীতিমালা অনুযায়ী, প্রয়োজন হলে অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত করা হতে পারে।    জেসন আর্ডে ২০২৩ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে আলোচনায় আসেন। অটিজমে আক্রান্ত এবং শৈশবে বাকপ্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ওঠার তার ব্যক্তিগত জীবনসংগ্রাম আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো তার একাডেমিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি আবেদনকারীদের জন্য ১৮১টি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে চান? ১৮১ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন ফি ও ভর্তি সম্ভাবনার তথ্য এক তালিকায়

যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করার স্বপ্ন দেখছেন? কিন্তু কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করবেন, কোথায় আবেদন ফি কম, কোথায় ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করছেন? সেই সমস্যার সমাধান দিতে তৈরি হয়েছে ১৮১টি শীর্ষস্থানীয় মার্কিন R1 (Carnegie Classification) গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার।   প্রায় এক মাস ধরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও বিশ্লেষণ করে তৈরি করা এই তালিকায় একসঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন ফি, ২০২৫ সালের উপলব্ধ ভর্তি তথ্যের ভিত্তিতে আনুমানিক পিএইচডি অ্যাকসেপ্টেন্স রেট (Acceptance Rate) এবং ডুওলিঙ্গো ইংলিশ টেস্ট (DET) গ্রহণ করে কি না এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।   সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অ্যাকসেপ্টেন্স রেট অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। ফলে শত শত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ঘেঁটে সময় নষ্ট না করে আবেদনকারীরা খুব সহজেই নিজেদের প্রোফাইলের সঙ্গে মিলিয়ে একটি বাস্তবসম্মত শর্টলিস্ট তৈরি করতে পারবেন। এতে আবেদন ব্যয়, প্রতিযোগিতার মাত্রা এবং সম্ভাব্য সুযোগ সবকিছু এক নজরেই বোঝা সম্ভব।   তালিকার প্রস্তুতকারীর দাবি, তথ্যগুলো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংকলন করা হয়েছে। তবে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়নি, সেগুলো ইচ্ছাকৃতভাবেই বাদ রাখা হয়েছে, যাতে বিভ্রান্তিকর তথ্য অন্তর্ভুক্ত না হয়।   উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি আবেদনের ক্ষেত্রে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাঙ্কিং নয়, গবেষণার ক্ষেত্র, সম্ভাব্য সুপারভাইজার, অর্থায়নের সুযোগ, আবেদন ব্যয় এবং ভর্তি প্রতিযোগিতার মতো বিষয়গুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই একটি নির্ভরযোগ্য ও সংগঠিত তথ্যভান্ডার আবেদনকারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও সহজ ও কার্যকর করতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা থাকলে আবেদন শুরু করার আগে এই তথ্যভান্ডার একবার দেখে নেওয়া আপনার সময়, অর্থ এবং পরিশ্রম তিনটিই বাঁচাতে পারে। তাই সম্পূর্ণ তালিকাটি দেখে নিজের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেছে নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া না করাই ভালো।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যে ফুল ফান্ডেড পিএইচডির সুযোগ পেলেন আকিব
মেধার জোরে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, যুক্তরাজ্যে ফুল ফান্ডেড পিএইচডির সুযোগ পেলেন আকিব

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আকিব তাহমিদ যুক্তরাজ্যের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ গবেষণা বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক গবেষণা পরিষদের অর্থায়নে পরিচালিত হোয়াইট রোজ ডক্টরাল প্রশিক্ষণ অংশীদারত্বের অধীনে যুক্তরাজ্যের হাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ অর্থায়িত সামাজিক গবেষণায় স্নাতকোত্তর এবং অপরাধবিজ্ঞান বিষয়ে পিএইচডি গবেষণা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন।   ২০১৪–১৫ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হওয়া আকিব তাহমিদ এই বৃত্তির আওতায় এক বছর মেয়াদি সামাজিক গবেষণায় স্নাতকোত্তর এবং পরবর্তী সাড়ে তিন বছর মেয়াদি অপরাধবিজ্ঞান বিষয়ে পিএইচডি গবেষণা করবেন।   এই মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে তাঁর সম্পূর্ণ শিক্ষাব্যয় বহন করা হবে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্য গবেষণা ও উদ্ভাবন সংস্থার নির্ধারিত হারে তিনি নিয়মিত মাসিক ভাতাও পাবেন, যা যুক্তরাজ্যে তাঁর উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ব্যয় নির্বাহে সহায়তা করবে।   হোয়াইট রোজ ডক্টরাল প্রশিক্ষণ অংশীদারত্ব যুক্তরাজ্যের একটি স্বীকৃত গবেষণা প্রশিক্ষণ কাঠামো, যেখানে সামাজিক বিজ্ঞান ও মানবিক বিষয়ে উচ্চমানের গবেষণার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা হয়। যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক গবেষণা পরিষদের অর্থায়নে পরিচালিত এই ধরনের বৃত্তি দেশটির গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে বিবেচিত।   এর আগে আকিব তাহমিদ ব্রিটিশ কাউন্সিলের গ্রেট বৃত্তি ২০২৪–২৫ অর্জন করেন। এই বৃত্তির মাধ্যমে তিনি হাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর কার্যক্রম সম্পন্ন করেন এবং বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে ডিগ্রি অর্জন করেন।   আইন বিষয়ে একাডেমিক যাত্রার পাশাপাশি অপরাধবিজ্ঞান ও সামাজিক গবেষণার ক্ষেত্রে তাঁর নতুন গবেষণা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।   চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাক্ষেত্রে এমন সাফল্য অর্জন দেশের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জন্যও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
সাফল্যের সাথে পিএইচডি সম্পন্ন করেন ড. ইসমাইল হোসেন
মাত্র ৩ বছর ৯ মাসে পিএইচডি সম্পন্ন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হচ্ছেন বাংলাদেশি গবেষক ড. ইসমাইল হোসেন

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা অ্যাট বার্মিংহাম (ইউএবি)-এ সফলভাবে পিএইচডি অভিসন্দর্ভ (ডিসার্টেশন) ডিফেন্স সম্পন্ন করেছেন বাংলাদেশি গবেষক ড. মো. ইসমাইল হোসেন। তাঁর এই অর্জনের কথা জানিয়েছেন ইউএবির সেন্টার ফর সাইবার সিকিউরিটির পরিচালক ও কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাগিব হাসান।     নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে অধ্যাপক রাগিব হাসান জানান, ড. ইসমাইল হোসেন তাঁর তত্ত্বাবধানে পিএইচডি সম্পন্ন করা অষ্টম গবেষক। ২০২২ সালে ইউএবিতে গবেষণা শুরু করার পর মাত্র ৩ বছর ৯ মাসে তিনি পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন, যা গবেষণার সময়কাল বিবেচনায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য।     অধ্যাপক রাগিব হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, ড. ইসমাইলের গবেষণার বিষয় ছিল স্মার্ট বিল্ডিং ও স্মার্ট অবকাঠামো। গবেষণাকালে তিনি স্মার্ট বিল্ডিং প্রকল্পের প্রধান পিএইচডি গবেষক হিসেবে কাজ করেন। এই সময়ে অধ্যাপক রাগিব হাসান, অধ্যাপক নাসিম উদ্দিন এবং আরেক পিএইচডি গবেষক জিসাদের সঙ্গে যৌথভাবে ১০টি আইইইই (IEEE) পিয়ার-রিভিউড গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তাঁদের গবেষণার ভিত্তিতে দুটি প্রভিশনাল পেটেন্টও ইস্যু হয়েছে।     গবেষণায় কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ইউএবি থেকে ব্লেজার ফেলোশিপসহ একাধিক সম্মাননা অর্জন করেন ড. ইসমাইল হোসেন। একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দিয়েছেন।     ফেসবুক পোস্টে অধ্যাপক রাগিব হাসান তাঁর শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত গুণাবলীরও প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, গবেষণার বাইরেও ড. ইসমাইল ও তাঁর পরিবার তাঁদের পরিবারের ঘনিষ্ঠজন হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে গত বছর অধ্যাপক রাগিব হাসানের দুর্ঘটনার পর ড. ইসমাইল এবং তাঁর গবেষণা দলের সদস্যরা পরিবারের পাশে থেকে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করেছেন।     অধ্যাপক রাগিব হাসান আরও জানান, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী মাসে ড. ইসমাইল হোসেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে টেনিউর-ট্র্যাক সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেবেন।     পোস্টের শেষাংশে তিনি ড. ইসমাইল হোসেনকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের আরেকজন মেধাবী গবেষকের এই সাফল্য তাঁকে গর্বিত করেছে। তিনি ড. ইসমাইলের গবেষণা ও একাডেমিক জীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
জাপানে ফুল স্কলারশিপ নিয়ে পিএইচডি করার সুযোগ

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য জাপান থেকে এসেছে আকর্ষণীয় এক সুযোগ। দেশটির কোচি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (কেইউটি) ২০২৭ সালের স্পেশাল স্কলারশিপ প্রোগ্রামের আওতায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে। বিশ্বের যেকোনো দেশের যোগ্য শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।   বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি একটি পূর্ণ অর্থায়নের পিএইচডি কর্মসূচি। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি, নিবন্ধন ফি এবং সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহন করা হবে। পাশাপাশি জীবনযাপনের জন্য মাসিক ভাতা, গবেষণাসংক্রান্ত সহায়তা এবং যাতায়াত ব্যয়ের সুবিধাও দেওয়া হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আবেদন করতে কোনো ফি দিতে হবে না।   গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই কোচি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি দীর্ঘদিন ধরে এই বিশেষ বৃত্তি কর্মসূচি পরিচালনা করছে। তিন বছর মেয়াদি এই পিএইচডি প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীরা এপ্রিল অথবা অক্টোবর সেশনে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন। ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কোচি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি জাপানের অন্যতম স্বনামধন্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। আধুনিক গবেষণা অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠানটি বিশেষভাবে পরিচিত।   এই বৃত্তির আওতায় ইন্টেলিজেন্ট মেকানিক্যাল অ্যান্ড অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড ফোটোনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডিজাইন, ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স, ইনফরমেটিকস, ডেটা অ্যান্ড ইনোভেশন এবং ইকোনমিকস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার সুযোগ রয়েছে।   আবেদনকারীদের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি থাকতে হবে অথবা ডিগ্রি সম্পন্ন হওয়ার শেষ পর্যায়ে থাকতে হবে। ভর্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ার সময় আবেদনকারীর বয়স ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। পাশাপাশি ভালো একাডেমিক ফলাফল, গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে।   বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদন করার আগে সম্ভাব্য সুপারভাইজারের অনুমোদন নিতে হবে। এজন্য প্রথমে নির্ধারিত গবেষণা প্রকল্প নির্বাচন করে সংশ্লিষ্ট সুপারভাইজার বা প্রকল্প পরিচালকের কাছে প্রি-অ্যাপ্লিকেশন রিকোয়েস্ট ফরম পাঠাতে হবে। অনুমোদন পাওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ আবেদন জমা দেওয়া যাবে।   আবেদনের জন্য প্রয়োজন হবে অনলাইন আবেদনপত্র, বৈধ পাসপোর্টের কপি, জীবনবৃত্তান্ত, ইংরেজি ভাষা দক্ষতার সনদ, গবেষণা প্রস্তাবনা, কভার লেটার এবং ব্যক্তিগত বিবৃতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, পিএইচডি সম্পন্ন করতে শিক্ষার্থীদের তিন বছর অধ্যয়ন, নির্ধারিত ক্রেডিট অর্জন, চূড়ান্ত গবেষণা প্রতিরক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করা এবং অন্তত একটি স্বনামধন্য পিয়ার-রিভিউড জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশ করতে হবে।   বিদেশে গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ খুঁজছেন এমন শিক্ষার্থীদের জন্য এই বৃত্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী জাপানে প্রযুক্তি, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি বা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গবেষণা করতে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি হতে পারে একটি আকর্ষণীয় পথ। ২০২৭ সালের এই স্পেশাল স্কলারশিপ প্রোগ্রামে আবেদনের শেষ তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২৬।   সূত্র: কোচি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, জাপান

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০