- প্রচ্ছদ
- Topic
পিএইচডি
বাংলাদেশের এমবিবিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসক ও লাইফ সায়েন্সের শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাবলিক হেলথ বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। দেশে মাস্টার অব পাবলিক হেলথ (এমপিএইচ) ডিগ্রি না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক হেলথে মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করা যায়। বিশেষ করে পিএইচডি পর্যায়ে যোগ্যতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী টিউশন ফি মওকুফ, ফেলোশিপ, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ কিংবা অন্যান্য ফান্ডিং পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চিকিৎসকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো পাবলিক হেলথ ও বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস। পাবলিক হেলথের মধ্যে এপিডেমিওলজি, বায়োস্ট্যাটিস্টিকস, হেলথ ম্যানেজমেন্টসহ বিভিন্ন বিষয় রয়েছে। অন্যদিকে বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেসের আওতায় সেল অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি, ফিজিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, মাইক্রোবায়োলজি, ইমিউনোলজি, নিউরোসায়েন্স এবং ক্যানসার বায়োলজির মতো বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এমপিএইচ প্রোগ্রামে ভর্তির ক্ষেত্রে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ববর্তী গবেষণার অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক নয়। ভালো একাডেমিক ফলাফল, প্রাসঙ্গিক কাজের অভিজ্ঞতা, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা এবং নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে আবেদনকারীরা ভর্তির জন্য বিবেচিত হতে পারেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামভেদে ভর্তির যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় নথি এবং আবেদন প্রক্রিয়ায় পার্থক্য রয়েছে। এমপিএইচ প্রোগ্রামে ভর্তি এবং ফুল ফান্ডিং পাওয়া এক বিষয় নয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এমপিএইচ একটি পেশাভিত্তিক মাস্টার্স ডিগ্রি, যেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ ফান্ডিং সীমিত হতে পারে। কিছু প্রতিষ্ঠানে আংশিক স্কলারশিপ, টিউশন সহায়তা বা অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া গেলেও সব শিক্ষার্থীর জন্য এসব সুবিধা নিশ্চিত নয়। ফলে আবেদনের আগে মোট টিউশন ফি, থাকা-খাওয়ার খরচ এবং সম্ভাব্য আর্থিক সহায়তার বিষয়টি যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে পাবলিক হেলথের গবেষণাভিত্তিক পিএইচডি প্রোগ্রামে ফান্ডিংয়ের সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকতে পারে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচিত পিএইচডি শিক্ষার্থীরা টিউশন সহায়তার পাশাপাশি নির্দিষ্ট পরিমাণ স্টাইপেন্ড পান। তবে ফান্ডিংয়ের ধরন, মেয়াদ, স্বাস্থ্যবিমা এবং অন্যান্য সুবিধা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের নীতিমালার ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশে আগে এমপিএইচ না করেও পাবলিক হেলথে পিএইচডি করা সম্ভব। তবে সব বিশ্ববিদ্যালয় সরাসরি এমবিবিএস ডিগ্রিকে পিএইচডিতে ভর্তির জন্য যথেষ্ট বিবেচনা করে না। কোনো কোনো প্রোগ্রামে মাস্টার্স ডিগ্রি, নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানভিত্তিক কোর্স, গবেষণার অভিজ্ঞতা বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদনকারীদের প্রতিটি প্রোগ্রামের শর্ত আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক পাবলিক হেলথ স্কুলে সোপহাস নামে একটি কেন্দ্রীয় অ্যাপ্লিকেশন ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা সম্ভব। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি আবেদন জমা দেওয়ার অর্থ এই নয় যে স্কলারশিপ বা ফান্ডিংও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যাবে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির আবেদনের সঙ্গে স্কলারশিপের জন্য বিবেচনা করে, আবার কোথাও আলাদা আবেদন প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে গবেষণাভিত্তিক পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করার সময় সংশ্লিষ্ট প্রফেসরের গবেষণার ক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কিছু প্রোগ্রামে আগে থেকেই প্রফেসরের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন হতে পারে, আবার অন্যগুলোতে সরাসরি বিভাগের ভর্তি কমিটির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়। ফলে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একই আবেদন পদ্ধতি অনুসরণ করা ঠিক হবে না। আবেদনের সময়সীমাও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আলাদা। ফল ২০২৭ সেশনে ভর্তিচ্ছুদের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিসেম্বর ও জানুয়ারির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ডেডলাইন থাকলেও কোথাও তার আগে বা পরে আবেদন গ্রহণ করা হয়। বিশেষ করে স্কলারশিপের অগ্রাধিকারভিত্তিক ডেডলাইন সাধারণ ভর্তি আবেদনের সময়সীমার আগেও শেষ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেনেসি, নক্সভিলেও পাবলিক হেলথ সায়েন্সেসে পিএইচডি করার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, পাবলিক হেলথ বিভাগের যোগ্য শিক্ষার্থীরা গ্র্যাজুয়েট টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের জন্য আবেদন করতে পারেন। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা টিউশন সহায়তা, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং মাসিক স্টাইপেন্ডের মতো সুবিধা পান। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পিএইচডি শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সবার জন্য ফান্ডিং নিশ্চিত নয়। উচ্চশিক্ষাবিষয়ক পরামর্শদাতা ধ্রুব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, তাঁর পরিচিত একজন বাংলাদেশি চিকিৎসক দেশে এমপিএইচ না করেই ইউনিভার্সিটি অব টেনেসি, নক্সভিলের পাবলিক হেলথ পিএইচডি প্রোগ্রামে ফেলোশিপ পেয়েছেন। তবে ওই চিকিৎসকের পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ফেলোশিপের বিস্তারিত তথ্য পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের ক্ষেত্রেও শুধু র্যাংকিংয়ের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের গবেষণার সুযোগ, ফ্যাকাল্টির কাজ, ফান্ডিংয়ের প্রাপ্যতা এবং নিজের একাডেমিক প্রোফাইলের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিবেচনা করা প্রয়োজন। তুলনামূলক কম র্যাংকিংয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করলেই ভর্তি বা ফুল ফান্ডিং নিশ্চিত হবে, এমন নয়। আবেদনকারীদের সাধারণত একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, সিভি, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইএলটিএস বা টোফেল স্কোর প্রস্তুত রাখতে হয়। গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রকাশিত গবেষণাপত্র, জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট কাজ কিংবা হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে পেশাগত অভিজ্ঞতা আবেদনকে শক্তিশালী করতে পারে। তবে কোন যোগ্যতাকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের সিদ্ধান্তের বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রে পাবলিক হেলথে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি চিকিৎসকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভর্তি ও ফান্ডিংয়ের শর্ত আলাদাভাবে যাচাই করা। বিশেষ করে ফুল ফান্ডিংয়ের অফারে টিউশন ফি, স্টাইপেন্ড, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ফি এবং সহায়তার মেয়াদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এতে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করার সময় সম্ভাব্য আর্থিক ব্যয় ও সুযোগ সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা পাওয়া যাবে।
বিদেশে গবেষণাভিত্তিক স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি করতে আগ্রহীদের জন্য সম্ভাব্য গবেষণা তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি সংক্ষিপ্ত ও প্রাসঙ্গিক ইমেইলে নিজের গবেষণার আগ্রহ, যোগ্যতা এবং অধ্যাপকের কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্য তুলে ধরতে হয়। তবে আবেদন করার আগে অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগ জরুরি কি না, তা বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামভেদে আলাদা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনায়ও সংশ্লিষ্ট কোর্সের নিয়ম আগে দেখে নিতে বলা হয়েছে। ইমেইল পাঠানোর প্রস্তুতিতে নিচের ১০টি বিষয় যাচাই করলে যোগাযোগের উদ্দেশ্য পরিষ্কার রাখা এবং সাধারণ ভুল এড়ানো সহজ হবে। ১. ইমেইল ঠিকানা ও প্রদর্শিত নাম নিজের নামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি পেশাদার ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করুন। প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল থাকলে সেটিও ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রাপকের কাছে আপনার যে নামটি দেখা যাবে, তার বানান ঠিক আছে কি না পরীক্ষা করুন। ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার নির্দেশনায়ও উপযুক্ত ইমেইল ঠিকানা এবং পেশাদার ভাষা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ২. বিষয়ের ঘরে যোগাযোগের উদ্দেশ্য ইমেইলের বিষয় বা সাবজেক্ট দেখেই যেন যোগাযোগের কারণ বোঝা যায়। পিএইচডি কিংবা গবেষণাভিত্তিক স্নাতকোত্তরের সুযোগ জানতে চাইছেন কি না এবং কোন শিক্ষাবর্ষে শুরু করতে চান, তা সংক্ষেপে লিখুন। শুধু ‘ভর্তির আবেদন’ বা ‘গবেষণার সুযোগ’ লিখলে উদ্দেশ্য পুরোপুরি স্পষ্ট নাও হতে পারে। ৩. অধ্যাপকের পরিচয় ও সঠিক সম্বোধন অধ্যাপকের নাম, পদবি, বিভাগ ও বর্তমান প্রতিষ্ঠান যাচাই করুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় প্রোফাইল থেকে তথ্য মিলিয়ে নেওয়া ভালো। সাধারণ সম্বোধনের বদলে তাঁর নামসহ উপযুক্ত একাডেমিক পদবি ব্যবহার করুন। অন্য কাউকে পাঠানো খসড়া সম্পাদনা করলে আগের অধ্যাপক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম থেকে গেছে কি না, বিশেষভাবে পরীক্ষা করুন। ৪. যোগাযোগের নিয়ম ও সময় অধ্যাপক নতুন শিক্ষার্থী নিচ্ছেন কি না এবং যোগাযোগের জন্য আলাদা ফরম বা নির্দেশনা দিয়েছেন কি না, আগে দেখুন। কিছু প্রোগ্রামে সরাসরি ইমেইলের পরিবর্তে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। অধ্যাপকের স্থানীয় সময় বিবেচনা করা যেতে পারে, তবে কোনো নির্দিষ্ট ঘণ্টায় পাঠালেই উত্তর আসবে, এমন নিশ্চয়তা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ৫. প্রত্যেক অধ্যাপকের জন্য আলাদা বক্তব্য একই লেখা অপরিবর্তিত রেখে বহু অধ্যাপককে পাঠানো এড়িয়ে চলুন। তাঁর সাম্প্রতিক গবেষণাপত্র, গবেষণাগারের কাজ এবং প্রকাশিত প্রকল্পের বিবরণ পড়ুন। কোন কাজটি আপনার আগ্রহের সঙ্গে মেলে, তা নির্দিষ্ট করে এক বা দুই বাক্যে লিখুন। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শ অনুযায়ী, যোগাযোগের আগে অধ্যাপকের গবেষণা সম্পর্কে জেনে নেওয়া এবং সেই বোঝাপড়া ইমেইলে তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ। ৬. নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে গবেষণার মিল আপনার থিসিস, গবেষণা প্রকল্প, ব্যবহৃত পদ্ধতি বা প্রাসঙ্গিক কাজের অভিজ্ঞতা অধ্যাপকের গবেষণার সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত, তা ব্যাখ্যা করুন। শুধু ‘আপনার গবেষণা ভালো লেগেছে’ বলার চেয়ে নির্দিষ্ট বিষয়ে নিজের আগ্রহ ও প্রস্তুতি দেখানো বেশি তথ্যবহুল। যে দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা বাস্তবে নেই, তা উল্লেখ করবেন না। ৭. সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য লেখা তিন থেকে চারটি ছোট অনুচ্ছেদে পরিচয়, গবেষণার আগ্রহ, প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা এবং অনুরোধ সাজানো যেতে পারে। খসড়া সংক্ষিপ্ত রাখতে ১৫০ থেকে ২৫০ শব্দকে একটি ব্যবহারিক লক্ষ্য হিসেবে ধরতে পারেন। এটি সর্বজনীন বা বাধ্যতামূলক সীমা নয়। দীর্ঘ আত্মজীবনী, অপ্রয়োজনীয় প্রশংসা এবং একই তথ্যের পুনরাবৃত্তি বাদ দিন। ৮. প্রয়োজনীয় নথি ও সংযুক্তি অধ্যাপক বা প্রোগ্রামের নির্দেশনা অনুযায়ী হালনাগাদ একাডেমিক সিভি, সংক্ষিপ্ত গবেষণা প্রস্তাব কিংবা নম্বরপত্র সংযুক্ত করুন। সব প্রতিষ্ঠানের চাহিদা এক নয়। অক্সফোর্ডের নির্দেশনায় সিভি ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে খসড়া গবেষণা প্রস্তাব সংযুক্ত করার কথা রয়েছে। ফাইল পিডিএফ আকারে পাঠালে নামের মধ্যে নিজের পরিচয় ও নথির ধরন পরিষ্কার রাখুন। অপ্রয়োজনীয় নথি পাঠিয়ে ইমেইল ভারী করবেন না। ৯. বানান, তথ্য ও সংযুক্তি পরীক্ষা পাঠানোর আগে অধ্যাপকের নাম, গবেষণাপত্রের শিরোনাম, নিজের ডিগ্রি, ফলাফল ও অভিজ্ঞতার তথ্য মিলিয়ে নিন। বানান ও ব্যাকরণ সংশোধনের সফটওয়্যার ব্যবহার করলেও চূড়ান্ত লেখাটি নিজে পড়ুন। প্রাপকের ঠিকানা সঠিক কি না এবং উল্লেখ করা ফাইলগুলো সংযুক্ত হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করুন। ১০. শেষে স্পষ্ট ও বিনয়ী অনুরোধ আসন্ন শিক্ষাবর্ষে অধ্যাপক নতুন গবেষণার্থী নেবেন কি না এবং সম্ভাব্য অর্থায়ন রয়েছে কি না, তা ভদ্রভাবে জানতে চান। প্রয়োজন হলে সংক্ষিপ্ত অনলাইন আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন। অনুরোধ এমনভাবে লিখুন, যাতে প্রাপক সহজেই বুঝতে পারেন আপনি তাঁর কাছে কী জানতে চাইছেন। ইমেইলের উত্তর না এলে সঙ্গে সঙ্গে আবার পাঠানোর প্রয়োজন নেই। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন নির্দেশিকায় এক থেকে দুই সপ্তাহ পর সংক্ষিপ্ত অনুস্মারক পাঠানোর পরামর্শ রয়েছে। আগের ইমেইলের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বিনয়ের সঙ্গে খোঁজ নিতে পারেন। এরপরও উত্তর না পেলে অন্য উপযুক্ত অধ্যাপক ও গবেষণার সুযোগ খোঁজা চালিয়ে যান। অধ্যাপকের ইতিবাচক উত্তর পেলেও সেটিকে ভর্তি বা অর্থায়নের নিশ্চয়তা হিসেবে ধরা যাবে না। অক্সফোর্ডের ইতিহাস বিভাগের নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে, কোনো অধ্যাপক তত্ত্বাবধানে আগ্রহ দেখালেই ভর্তির প্রস্তাব নিশ্চিত হয় না। সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের আনুষ্ঠানিক আবেদন, যোগ্যতা ও মূল্যায়নের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাসায়নিক প্রকৌশলে পিএইচডি করেছেন। তাঁর গবেষণার উল্লেখও করেছে ২০২৪ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার প্রদানকারী কমিটি। অথচ দুই বছর ধরে চাকরির খোঁজে ২ হাজার ৩০০টির বেশি আবেদন করেও স্থায়ী কাজ পাননি ৩০ বছর বয়সী জ্যাক ওয়েইস। যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের সল্টলেক সিটির এই বাসিন্দা এখন বাবা-মায়ের বাড়িতে থাকছেন। গবেষণাগার ও জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ফেলোশিপ থেকে শুরু করে সফটওয়্যার প্রকৌশলীর পদ, এমনকি খাবার তৈরির কাজেও আবেদন করেছেন তিনি। তবু অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো উত্তর পাননি, আর কিছু আবেদন শেষ হয়েছে প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে তাঁর এই দীর্ঘ চাকরির লড়াইয়ের চিত্র উঠে এসেছে। ওয়েইসের শিক্ষাজীবনের রেকর্ড ছিল বেশ উজ্জ্বল। তিনি রাইস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ সম্মানসূচক ফল নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করেন, যা শেষ হয় ২০২৪ সালে। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল বরফ তৈরির রাসায়নিক প্রক্রিয়া এবং অণুর পারস্পরিক ক্রিয়া। ২০২৪ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সময় বৈজ্ঞানিক গবেষণায় যন্ত্রশিক্ষার প্রয়োগের উদাহরণ হিসেবে তাঁর গবেষণার উল্লেখ করা হয়। তবে এই উল্লেখের অর্থ ওয়েইস নিজে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, এমন নয়। এত ভালো শিক্ষাগত যোগ্যতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকার পরও পছন্দের ক্ষেত্রে চাকরি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে নিজের বিশেষায়িত ক্ষেত্রের বাইরেও কাজ খুঁজতে হয়েছে। প্রথম দিকে ওষুধশিল্পের গবেষণাগার এবং জাতীয় গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের উচ্চতর গবেষণা বৃত্তিতে কাজ পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ওয়েইস। কিন্তু অধিকাংশ আবেদনের কোনো জবাব আসেনি। পরে সফটওয়্যার প্রকৌশলসহ বিভিন্ন খাতের চাকরিতে আবেদন করেন। প্রিন্সটন ও রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও উল্লেখযোগ্য সুযোগ পাননি। একপর্যায়ে হিমায়িত কাঁকড়ার কেক তৈরি ও বিক্রি করে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে খাবার প্রস্তুতের কাজেও আবেদন করেন তিনি। উচ্চশিক্ষিত একজন গবেষকের চাকরি খোঁজার পরিধি কতটা বিস্তৃত হতে পারে, তাঁর অভিজ্ঞতা তারই উদাহরণ। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অবশ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে অল্প সময়ের জন্য কাজ পেয়েছিলেন ওয়েইস। মারকর নামের প্রতিষ্ঠানটির হয়ে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল প্রশিক্ষণের জন্য রাসায়নিক প্রকৌশলবিষয়ক প্রশ্ন তৈরি করতেন, মডেলের উত্তর যাচাই করতেন এবং সেগুলো আরও উন্নত করতে সহায়তা করতেন। ঘণ্টাপ্রতি ৭০ ডলার পারিশ্রমিক পেলেও কাজের পরিমাণ নিয়মিত ছিল না। কোনো সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ পেতেন, আবার কোনো সপ্তাহে তা নেমে আসত মাত্র চার ঘণ্টায়। পরে কাজ কমতে কমতে একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ওই সুযোগও তাঁর জন্য স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা করতে পারেনি। দীর্ঘদিন চাকরি না পাওয়ার অভিজ্ঞতা ওয়েইসের পরিবারকেও বিস্মিত করেছে। তাঁর বাবা জন ওয়েইস একজন চিকিৎসক। ছেলের মেধা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকার পরও কেন তিনি কাজ পাচ্ছেন না, তা বুঝে উঠতে পারছেন না পরিবার। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে সামগ্রিক বেকারত্বের হার তুলনামূলক কম থাকলেও চাকরিপ্রার্থীদের অনেকেই নিয়োগ পেতে সমস্যার কথা বলছেন। প্রায় ২১৮ জন চাকরিপ্রার্থীর ওপর পরিচালিত একটি জরিপে ৬১ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, চাকরির আবেদন করার পর নিয়োগদাতাদের কাছ থেকে কোনো উত্তর না পাওয়ার বিষয়টি তাঁদের উদ্বিগ্ন করে। তীব্র প্রতিযোগিতা, বয়সভিত্তিক বৈষম্যের আশঙ্কা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এখন বিকল্প পেশার কথাও ভাবছেন ওয়েইস। আগামী নভেম্বরে আইন বিষয়ে পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় এমন একটি চালকবিহীন উড়োজাহাজ তৈরির ধারণা নিয়ে কাজ করছেন, যাতে লাগানো এলইডি লেজারের সাহায্যে মির্টল স্পার্জ নামের ক্ষতিকর আগ্রাসী আগাছা ধ্বংস করা যায়। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কাছে নীতিমালা পরিবর্তনের প্রস্তাবও জমা দিয়েছেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, প্রচলিত চাকরির বাইরে নিজস্ব উদ্যোগের মাধ্যমে নিজের দক্ষতার ব্যবহার ঘটানোর সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। দুই হাজারের বেশি আবেদন করেও স্থায়ী চাকরি না পাওয়া ওয়েইসের অভিজ্ঞতা তাই শুধু একজন গবেষকের ব্যক্তিগত সংকট নয়, বরং উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে ব্যবধান নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।
মাস্টার্স না করেও স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করা যায়। এসব প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও শিক্ষকতা সহকারী হিসেবে কাজ কিংবা ফেলোশিপের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে ভর্তির যোগ্যতা ও ফান্ডিং বিভাগভেদে আলাদা। ফল ২০২৭ সেশনে সব প্রোগ্রামে নিশ্চিত পূর্ণ অর্থায়ন পাওয়া যাবে, এমন সাধারণ ঘোষণা হিসেবে বিষয়টি দেখার সুযোগ নেই। সুযোগ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো পারডিউ ইউনিভার্সিটি, জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা শ্যাম্পেইন এবং ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি। প্রচারিত পোস্টে দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘জর্জিয়া ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি’ লেখা হলেও সঠিক নাম জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, যা জর্জিয়া টেক নামে পরিচিত। পারডিউ ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভর্তি নির্দেশনায় স্নাতক ডিগ্রিধারীদের সরাসরি পিএইচডিতে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশেষভাবে ভালো স্নাতক ফল থাকা শিক্ষার্থীরা সরাসরি পিএইচডিতে আবেদন করতে পারেন। পারডিউ ইঞ্জিনিয়ারিং জানিয়েছে, অধিকাংশ পিএইচডি শিক্ষার্থী অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বা ফেলোশিপের মাধ্যমে ফান্ডিং পান। তবে এটি প্রত্যেক আবেদনকারীর জন্য অর্থায়নের নিশ্চয়তা নয়। জর্জিয়া টেকের রোবোটিকস পিএইচডি প্রোগ্রামে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি নিয়ে আবেদন করা যায়। অন্যদিকে, কম্পিউটার সায়েন্সের পিএইচডি ভর্তি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের সাধারণত রিসার্চ বা টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ দেওয়া হয়। এতে স্টাইপেন্ড ও টিউশন মওকুফের সুবিধা থাকে। পিএইচডি করতে আগ্রহীদের সরাসরি ডক্টরাল প্রোগ্রামেই আবেদন করতে বলা হয়েছে। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির প্ল্যান্ট ব্রিডিং, জেনেটিকস অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি পিএইচডি প্রোগ্রামে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক অথবা মাস্টার্স ডিগ্রিধারীরা আবেদন করতে পারেন। সেখানে একজন উপযুক্ত শিক্ষকের গবেষণা তত্ত্বাবধানে নেওয়ার সম্মতিও প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়টির নিয়মেই উল্লেখ রয়েছে, কিছু বিভাগ পিএইচডিতে ভর্তির আগে মাস্টার্স চাইতে পারে। ফলে একটি বিভাগের সুযোগকে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিন্ন নিয়ম ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। ফল ২০২৭ নিয়ে মিশিগান স্টেটের গণিত শিক্ষা বিষয়ক ডক্টরাল প্রোগ্রামের ওয়েবসাইটে আবেদন চালু থাকার তথ্য রয়েছে। ওই প্রোগ্রামে শর্তসাপেক্ষে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সঙ্গে স্টাইপেন্ড, নির্ধারিত সীমার টিউশন সুবিধা ও হেলথ ইন্স্যুরেন্স দেওয়া হয়। সহায়তা অব্যাহত থাকা নির্ভর করে শিক্ষার্থীর অগ্রগতি, কাজের মান ও অর্থের প্রাপ্যতার ওপর। এটি ওই নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের ঘোষণা। ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা শ্যাম্পেইনের সিবেল স্কুল অব কম্পিউটিং অ্যান্ড ডেটা সায়েন্সের গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদনের জন্য চার বছরের স্নাতক বা গ্রহণযোগ্য সমমানের ডিগ্রি প্রয়োজন। তাদের পিএইচডির কাঠামোয় আগে মাস্টার্স না থাকা শিক্ষার্থীদের জন্যও পড়াশোনার ব্যবস্থা রয়েছে। স্কুলটির তথ্য অনুযায়ী, অল্প কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া পিএইচডি শিক্ষার্থীরা রিসার্চ বা টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পান, যার মধ্যে স্টাইপেন্ড ও পুরো টিউশন মওকুফ অন্তর্ভুক্ত। ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে প্রাসঙ্গিক বিষয়ে চার বছরের স্নাতক বা উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে আবেদন করা যায়। ভর্তির আগে গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক নিশ্চিত করতে হয়। প্রোগ্রামটি জানিয়েছে, পিএইচডি শিক্ষার্থীদের এক বছরের অর্থায়ন তারা দেয় এবং বাকি সময়ের অর্থায়ন তত্ত্বাবধায়ক বহন করেন। তবে উভয় পক্ষের বাজেটের ওপর এই সহায়তা নির্ভরশীল। এসব তথ্য থেকে স্পষ্ট, মাস্টার্স ছাড়াই পিএইচডিতে আবেদনের সুযোগ এবং পূর্ণ অর্থায়ন দুটি আলাদা বিষয়। ফল ২০২৭ সেশনের জন্য আবেদন করতে হলে নির্বাচিত বিভাগের বিজ্ঞপ্তি, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা, আবেদনের শেষ সময় এবং অর্থায়নের লিখিত শর্ত মিলিয়ে নিতে হবে। টিউশন মওকুফের পাশাপাশি স্টাইপেন্ড, হেলথ ইন্স্যুরেন্স ও অর্থায়নের মেয়াদ কতটুকু থাকবে, সেটিও সংশ্লিষ্ট অফারের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
সরকারি তিতুমীর কলেজের যে গণিত বিভাগে শিক্ষার্থী ছিলেন, বিসিএসের মাধ্যমে সেখানেই শিক্ষক হয়ে ফিরেছিলেন মো. আল আমীন মিয়া। এখন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস রিও গ্র্যান্ডে ভ্যালিতে গণিত ও পরিসংখ্যানবিষয়ক প্রোগ্রামে পিএইচডি করছেন তিনি। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণ অর্থায়নে পড়াশোনার পাশাপাশি গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করছেন। গবেষণার বিষয় স্বচালিত রোবটের নিরাপদ ও কার্যকর চলাচলের পথ নির্ধারণ। ময়মনসিংহের ভালুকার ধলিয়া বহুলী উচ্চবিদ্যালয়ে আল আমীনের শিক্ষাজীবনের শুরু। এরপর পড়েছেন রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজে। উচ্চমাধ্যমিক শেষে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও পছন্দের বিষয় পাননি। গণিত পড়ার আগ্রহ থেকেই বেছে নেন ঢাকার সরকারি তিতুমীর কলেজ। আল আমীনের ভাষ্য, ছোটবেলা থেকেই গণিতের কঠিন সমস্যা সমাধান করতে ভালো লাগত। দীর্ঘ চেষ্টার পর সমাধান খুঁজে পাওয়ার আনন্দ তাঁকে বিষয়টির প্রতি আরও আগ্রহী করে তোলে। তাই উচ্চশিক্ষার বিষয় বেছে নেওয়ার সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচিতির চেয়ে নিজের আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ছাত্রজীবনে তাঁর লক্ষ্য ছিল বিসিএস ক্যাডার কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক হওয়া। বিসিএসের প্রস্তুতিতে রুমমেটের উৎসাহও ভূমিকা রেখেছিল। পাশাপাশি প্রথম আলোর ‘স্বপ্ন নিয়ে’ পাতায় প্রকাশিত সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প পড়তেন। অন্যদের অভিজ্ঞতা তাঁকে নিজের লক্ষ্য ধরে রাখতে সাহস জোগাত। ৩৫তম বিসিএসের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন আল আমীন। সুযোগ পান নিজের পড়াশোনা করা তিতুমীর কলেজের গণিত বিভাগে শিক্ষকতার। কলেজের প্রকাশিত একটি অনাপত্তিপত্রের শিরোনামেও তাঁকে গণিত বিভাগের প্রভাষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষার্থী হিসেবে চেনা বিভাগে শিক্ষক হয়ে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে বিশেষ। যাঁদের কাছে একসময় পড়েছেন, তাঁদের সঙ্গেই সহকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, সেই শিক্ষকদের কাছ থেকে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের পাশাপাশি ধৈর্য, দায়িত্ববোধ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আচরণের নানা দিক শেখার সুযোগ পেয়েছেন। শিক্ষকতার সময় আল আমীন উপলব্ধি করেন, পাঠ্যবইয়ের বিষয় বুঝিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলাও জরুরি। তাঁর ক্লাসে গণিত বিভাগের বাইরের শিক্ষার্থীরাও আসতেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করতেন তিনি। অন্য কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে হতাশ হওয়া শিক্ষার্থীদের নিজের অভিজ্ঞতা বলতেন আল আমীন। বোঝানোর চেষ্টা করতেন, একটি প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ না পাওয়াই ভবিষ্যতের সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার অর্থ নয়। নিজের বিষয়ে দক্ষতা অর্জন এবং লক্ষ্য অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দিতেন। শিক্ষকতা করতে করতেই গবেষণার প্রতি আগ্রহ বাড়ে তাঁর। বিশেষ করে গণিতের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, গাণিতিক অপটিমাইজেশন ও কম্পিউটেশনাল সায়েন্সের সম্পর্ক তাঁকে আকৃষ্ট করে। এসব বিষয়ে উচ্চতর পড়াশোনা ও গবেষণার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন। আল আমীনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বেছে নেন ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস রিও গ্র্যান্ডে ভ্যালি। বর্তমানে সেখানকার ম্যাথমেটিক্যাল অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিক্যাল সায়েন্সেস প্রোগ্রামে গবেষণা করছেন। তাঁর গবেষণায় গাণিতিক অপটিমাইজেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিং ব্যবহার করে স্বচালিত মোবাইল রোবটের চলাচলের পথ নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। লক্ষ্য হলো, পরিবেশের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে রোবট যেন নিরাপদে ও দক্ষতার সঙ্গে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। আল আমীনের মতে, গবেষণায় কোনো পদ্ধতি প্রথমবার প্রত্যাশিত ফল না দিলেই থেমে যাওয়ার সুযোগ নেই। কোথায় সমস্যা হচ্ছে তা খুঁজে বের করা, বিকল্প পদ্ধতি পরীক্ষা করা এবং ফলের ভিত্তিতে মডেল উন্নত করা গবেষণার নিয়মিত অংশ। এই প্রক্রিয়ায় ধৈর্য ও ধারাবাহিকভাবে কাজ করার অভ্যাস প্রয়োজন। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের গবেষণার সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী তিনি। তবে সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অর্থায়ন, আধুনিক অবকাঠামো এবং অভিজ্ঞ গবেষকদের দিকনির্দেশনার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর পর্যবেক্ষণে, যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন বিভাগের গবেষকদের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ নতুন ধারণা পরীক্ষা করতে সহায়তা করে। বাংলাদেশে গণিত শিক্ষাকে গবেষণার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন আল আমীন। এ জন্য স্নাতক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সম্পৃক্ত করা, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের সঙ্গে যৌথ কাজ বাড়ানো এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানে গণিতের প্রয়োগ শেখানোর পরামর্শ দেন তিনি। পিএইচডি শেষে গবেষণা চালিয়ে যেতে চান আল আমীন। পাশাপাশি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। একসময় অন্যের সাফল্যের গল্প পড়ে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। এখন নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে যেতে সহায়তা করতে চান। সূত্র: পাবলিকিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ইউনিভার্সিটি অ্যাট বাফেলোতে পূর্ণকালীন ও সম্পূর্ণ অর্থায়নপ্রাপ্ত পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৭ সালের ফল সেমিস্টার থেকে নতুন ন্যূনতম স্টাইপেন্ড কার্যকর হবে। ১২ মাসের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে বছরে ন্যূনতম ৩৫ হাজার ১০০ ডলার এবং ১০ মাসের নিয়োগে শিক্ষাবর্ষে ন্যূনতম ২৭ হাজার ডলার পাবেন যোগ্য শিক্ষার্থীরা। ফান্ডিং প্যাকেজে টিউশন ও নির্ধারিত ফি মওকুফের সুবিধাও রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুলের প্রকাশিত তথ্যে এসব জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘পিএইচডি এক্সিলেন্স ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় এই স্টাইপেন্ড কাঠামো প্রযোজ্য হবে। এটি সব মাস্টার্স বা পিএইচডি আবেদনকারীর জন্য স্বয়ংক্রিয় অর্থায়নের ঘোষণা নয়। পূর্ণকালীন ও সম্পূর্ণ অর্থায়নপ্রাপ্ত পিএইচডি শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে নিয়োগের ভিত্তিতে সুবিধা দেওয়া হবে। পিএইচডির অ্যাসিস্ট্যান্টশিপগুলো প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় দেওয়া হয়। বাফেলোতে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ও রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ রয়েছে। টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টরা পাঠদান কার্যক্রমে, গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়ক কাজে এবং রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টরা শিক্ষকদের গবেষণায় সহায়তা করেন। টিচিং ও গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টের নিয়োগ সাধারণত সংশ্লিষ্ট বিভাগ দেয়। রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ দেওয়া হয় বিভাগ বা গবেষণা অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মাধ্যমে। ফুল অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে সাধারণত সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা এবং হাফ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে ১০ ঘণ্টা কাজের প্রত্যাশা থাকে। স্টেট পেরোলে থাকা টিচিং ও গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত হেলথ ইন্স্যুরেন্সসহ কিছু সুবিধা রয়েছে। নিয়োগের ধরন অনুযায়ী প্রযোজ্য সুবিধা ও শর্ত সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে। মাস্টার্সে পড়তে আগ্রহীদের ক্ষেত্রে অর্থায়নের বিষয়টি আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ মাস্টার্স প্রোগ্রামের খরচ শিক্ষার্থীদের নিজস্ব অর্থায়নে বহন করতে হয়। ফলে পিএইচডির জন্য ঘোষিত স্টাইপেন্ড ও টিউশন মওকুফের কাঠামো মাস্টার্সেও একইভাবে প্রযোজ্য ধরে নেওয়া যাবে না। আবেদনের যোগ্যতা, অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের প্রাপ্যতা ও সময়সীমা জানতে আগ্রহীদের নিজ নিজ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশ থেকে আবেদন করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরাও পছন্দের বিভাগের কাছে ইমেইলে এসব তথ্য জানতে পারেন।
মাস্টার্স না করেও স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। পারডু ইউনিভার্সিটি, জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা শ্যাম্পেইন এবং ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন বিভাগে এই পথ খোলা আছে। এসব প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও শিক্ষকতা সহায়তার মাধ্যমে ফান্ডিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। সরাসরি পিএইচডিতে আবেদনের সুযোগ এবং ফান্ডিং নিশ্চিত হওয়া দুটি পৃথক বিষয়। কোনো বিভাগ স্নাতক ডিগ্রিধারীদের আবেদন গ্রহণ করলেও ভর্তি নির্ভর করে আবেদনকারীর যোগ্যতা ও বিভাগের নির্বাচনের ওপর। আবার ফান্ডিংয়ের ধরন, মেয়াদ এবং কোন খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তা নির্ধারিত হয় সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রাম ও লিখিত অফারের শর্ত অনুযায়ী। পারডু ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের ভর্তি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রোগ্রামে যোগ দেওয়ার আগে আবেদনকারীর চার বছর মেয়াদি ব্যাচেলর ডিগ্রি বা সমমানের যোগ্যতা থাকতে হবে। পিএইচডি আবেদনকারীদের স্বাধীন গবেষণার সম্ভাবনাও দেখাতে হবে। বিভাগটি জানিয়েছে, পিএইচডিতে ভর্তি হলে শিক্ষার্থীদের ফেলোশিপ, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ও রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হয়। এই বিবেচনা প্রত্যেকের ফান্ডিং নিশ্চিত হওয়ার সমার্থক নয়। জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, যা জর্জিয়া টেক নামে পরিচিত। এর গ্র্যাজুয়েট ভর্তি নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীর ব্যাচেলর ডিগ্রি, সমমানের ডিগ্রি অথবা উচ্চতর ডিগ্রি থাকতে হবে। তবে নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের অতিরিক্ত শর্তও প্রযোজ্য। কম্পিউটার সায়েন্সের পিএইচডি নির্দেশনায় চূড়ান্ত লক্ষ্য পিএইচডি হলে সরাসরি ডক্টরাল প্রোগ্রামে আবেদন করতে বলা হয়েছে। জর্জিয়া টেকের স্কুল অব কম্পিউটার সায়েন্স জানিয়েছে, গবেষণা অনুদানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে পিএইচডি শিক্ষার্থীরা টিউশন ও স্টাইপেন্ড পান। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ফান্ডিং নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ বা টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ সাধারণত প্রাথমিক ভর্তি অফারে উল্লেখ থাকে। অফারে ফান্ডিংয়ের তথ্য না থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের কাছে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ সম্পর্কে জানতে হবে। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির কম্পিউটেশনাল ম্যাথমেটিকস, সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পিএইচডিতে মাস্টার্স বাধ্যতামূলক নয়। বিভাগের আনুষ্ঠানিক প্রশ্নোত্তরে বলা হয়েছে, ভর্তির জন্য আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি প্রয়োজন। আবেদনকারীদের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ও ফেলোশিপের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হয়। অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীরা সাধারণত নির্ধারিত ক্রেডিট পর্যন্ত টিউশন মওকুফ, স্টাইপেন্ড, হেলথ ইন্স্যুরেন্স ও গ্রীষ্মকালীন সহায়তা পান। এই তথ্য ওই বিভাগের জন্য প্রযোজ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য নয়। ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা শ্যাম্পেইনের কম্পিউটার সায়েন্স পিএইচডির ভর্তি শর্তেও সমমানের ব্যাচেলর ডিগ্রির কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট গ্রেইঞ্জার কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, যোগ্যতার শর্ত পূরণকারী পিএইচডি শিক্ষার্থীদের প্রথম পাঁচ বছরের ফল ও স্প্রিং সেমিস্টারে ফান্ডিংয়ের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। এতে পূর্ণ টিউশন মওকুফ, আংশিক ফি মওকুফ ও স্টাইপেন্ড অন্তর্ভুক্ত থাকে। ফলে এই সুবিধাকে সব ফি এবং বছরের প্রতিটি সময়ের খরচ বহনের নিশ্চয়তা হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং পিএইচডিতে সরাসরি ভর্তির পথ স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগে মাস্টার্স না করেই পিএইচডি করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা ডিরেক্ট পিএইচডি ট্র্যাকে আবেদন করতে পারেন। ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে গ্র্যাজুয়েট অ্যাসোসিয়েটশিপ গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, কোনো প্রোগ্রাম অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে অর্থায়ন করলেও অন্য কোনো প্রোগ্রাম অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীকে অথবা আংশিক সহায়তা দিতে পারে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাই প্রথম কাজ হলো নিজের বিষয় ও গবেষণার আগ্রহের সঙ্গে মানানসই প্রোগ্রাম নির্বাচন করা। ২০২৭ সালের ফল সেমিস্টারে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগের চলতি ভর্তি বিজ্ঞপ্তি, ডিগ্রির সমমান, ইংরেজি দক্ষতার শর্ত এবং আবেদনের শেষ সময় দেখতে হবে। ফান্ডিংয়ের অফার পেলে টিউশন, বাধ্যতামূলক ফি, স্টাইপেন্ড, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, গ্রীষ্মকালীন সহায়তা ও নবায়নের শর্ত মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের তালিকা দিয়ে ভর্তি বা পূর্ণ অর্থায়ন নিশ্চিত করা যায় না।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাস্টার্স ও পিএইচডি করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত সুপারভাইজার খুঁজে পাওয়া বড় একটি চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে যাঁরা বৃত্তি বা আর্থিক সহায়তা নিয়ে উচ্চশিক্ষা করতে চান, তাঁদের অনেকেই শুধু গুগল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের ওপর নির্ভর করেন। অথচ পেশাজীবীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইন ব্যবহার করেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষক এবং অর্থায়নসহ গবেষণার সুযোগ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া সম্ভব। উচ্চশিক্ষাবিষয়ক পরামর্শদাতা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আবদুল হাকিম তিস্তি লিংকডইনের মাধ্যমে মাস্টার্স ও পিএইচডির সুপারভাইজার খোঁজার কয়েকটি কার্যকর কৌশল তুলে ধরেছেন। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী, শুধু অধ্যাপকদের খুঁজে বের করাই যথেষ্ট নয়। নিজের শিক্ষাগত ও গবেষণাসংক্রান্ত পরিচিতি তৈরি, গবেষণার সঙ্গে মিল খোঁজা এবং সঠিকভাবে যোগাযোগ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমেই নিজের লিংকডইন পরিচিতি পেশাদারভাবে সাজাতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগের আগে শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং আগ্রহের বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা জরুরি। একটি ভালো পরিচিতিমূলক ছবি, আকর্ষণীয় সংক্ষিপ্ত পরিচয়, শিক্ষাগত তথ্য, গবেষণা প্রকল্প, প্রকাশিত গবেষণাপত্র এবং প্রাসঙ্গিক দক্ষতা যুক্ত করতে হবে। যেমন, কোনো শিক্ষার্থী যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও জীবতথ্যবিজ্ঞান নিয়ে পিএইচডি করতে চান, তাহলে নিজের পরিচিতিতে উল্লেখ করতে পারেন, তিনি জিনতত্ত্ব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও জীবতথ্যবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণায় আগ্রহী এবং এসব বিষয়ে পিএইচডি করার পরিকল্পনা করছেন। এতে পরিচিতি দেখেই সংশ্লিষ্ট অধ্যাপক শিক্ষার্থীর গবেষণার আগ্রহ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাবেন। দ্বিতীয় ধাপে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক শব্দ ব্যবহার করে অনুসন্ধান করা। শুধু অধ্যাপক লিখে খোঁজার পরিবর্তে পিএইচডিতে ভর্তির সুযোগ, নতুন পিএইচডি শিক্ষার্থী নিয়োগ, সম্পূর্ণ অর্থায়নসহ পিএইচডি, গবেষণা সহকারী নিয়োগ এবং গবেষণা প্রকল্পে শিক্ষার্থী নেওয়ার মতো বিষয়গুলো অনুসন্ধান করতে হবে। এসব শব্দের সঙ্গে নিজের বিষয় বা গবেষণার ক্ষেত্র যুক্ত করলে অনুসন্ধান আরও কার্যকর হয়। যেমন, জীবতথ্যবিজ্ঞানে পিএইচডির সুযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সম্পূর্ণ অর্থায়নসহ পিএইচডি কিংবা জিনতত্ত্বে গবেষণার সুযোগ খুঁজতে পারেন। একইভাবে প্রকৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান, জনস্বাস্থ্য, ব্যবসায় শিক্ষা বা অন্য যেকোনো বিষয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের গবেষণার ক্ষেত্র অনুযায়ী অনুসন্ধান করতে পারবেন। লিংকডইনে অনুসন্ধানের সময় বিভিন্ন বাছাইয়ের সুবিধা ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তি অনুসন্ধানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষকদের পরিচিতি খুঁজে পাওয়া যায়। অন্যদিকে প্রকাশিত পোস্ট অনুসন্ধান করলে গবেষণার সুযোগ বা আর্থিক সহায়তাসংক্রান্ত ঘোষণা পাওয়া যেতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য কিংবা অন্য কোনো দেশের অবস্থান নির্বাচন করেও অনুসন্ধানের পরিধি সীমিত করা সম্ভব। অনেক অধ্যাপক তাঁদের গবেষণাগারে নতুন পিএইচডি শিক্ষার্থী নেওয়ার ঘোষণা সরাসরি লিংকডইনে প্রকাশ করেন। কেউ কেউ গবেষণা প্রকল্পে সহকারী নিয়োগের তথ্যও জানান। তাই শুধু অধ্যাপকদের পরিচিতি দেখার পরিবর্তে তাঁদের সাম্প্রতিক পোস্ট ও গবেষণাসংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত অনুসরণ করা উপকারী। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অধ্যাপকের গবেষণা ও নিজের আগ্রহের মধ্যে মিল খুঁজে বের করা। কোনো অধ্যাপককে বার্তা পাঠানোর আগে তিনি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত, কোন বিভাগে গবেষণা করছেন এবং তাঁর সাম্প্রতিক প্রকাশনাগুলো কী বিষয়ে, তা ভালোভাবে দেখতে হবে। পাশাপাশি তিনি বর্তমানে কোনো গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করছেন কি না এবং তাঁর গবেষণাগারে নতুন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী নেওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট, অধ্যাপকের গবেষণাগারের তথ্য এবং সাম্প্রতিক গবেষণাপত্র থেকে তথ্য মিলিয়ে নেওয়া ভালো। কারণ লিংকডইনের পরিচিতিতে সব সময় গবেষণার সর্বশেষ তথ্য বা নতুন শিক্ষার্থী নেওয়ার সুযোগ উল্লেখ নাও থাকতে পারে। উপযুক্ত অধ্যাপক খুঁজে পাওয়ার পর প্রথমেই বড় বার্তা পাঠানোর প্রয়োজন নেই। বরং সংক্ষিপ্ত ও পেশাদারভাবে যোগাযোগের অনুরোধ পাঠানো যেতে পারে। সেখানে নিজের পরিচয়, গবেষণার আগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট অধ্যাপকের কাজের প্রতি আগ্রহের কথা জানানো যথেষ্ট। যেমন, কোনো অধ্যাপক যদি জিনতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করেন, তাহলে তাঁকে জানানো যেতে পারে যে শিক্ষার্থী তাঁর গবেষণা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী এবং ভবিষ্যতে তাঁকে সুপারভাইজার হিসেবে নিয়ে পিএইচডি করার সম্ভাবনা সম্পর্কে আলোচনা করতে চান। প্রথম বার্তাটি এমনভাবে লিখতে হবে, যাতে অধ্যাপক সহজেই বুঝতে পারেন কেন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। যোগাযোগের অনুরোধ গ্রহণ করার পর পরবর্তী বার্তায় নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রকাশিত গবেষণাপত্র এবং কাঙ্ক্ষিত মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামের কথা সংক্ষেপে জানানো যেতে পারে। বিশেষ করে অধ্যাপকের সাম্প্রতিক কোনো গবেষণার সঙ্গে নিজের আগ্রহের মিল থাকলে সেটি উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার বিস্তারিত বিবরণসংবলিত জীবনবৃত্তান্ত পাঠানো যেতে পারে। তবে অধ্যাপকের বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক ইমেইল ঠিকানা পাওয়া গেলে সেখানেও যোগাযোগ করা কার্যকর পদ্ধতি। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ভর্তির জন্য আলাদা আবেদন প্রক্রিয়া রয়েছে। ফলে কোনো অধ্যাপক আগ্রহ দেখালেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ভর্তি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হতে পারে। এদিকে মাস্টার্স ও পিএইচডির আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগ ও শিক্ষাক্রমভেদে আলাদা হয়ে থাকে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক গবেষণাভিত্তিক পিএইচডি প্রোগ্রামে শিক্ষকতা সহকারী, গবেষণা সহকারী কিংবা বিশেষ গবেষণা বৃত্তির মাধ্যমে পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার খরচের সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সব মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামে একই ধরনের আর্থিক সহায়তা থাকে না। তাই কোনো শিক্ষাক্রমে অর্থায়নের সুযোগ থাকলে শিক্ষাব্যয় কতটা বহন করা হবে, মাসিক বা বার্ষিক ভাতা কত, স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা রয়েছে কি না এবং কত বছর পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, তা বিস্তারিত জেনে নেওয়া উচিত। আবদুল হাকিম তিস্তির পরামর্শ অনুযায়ী, সুপারভাইজার খোঁজার সময় একটি সাধারণ ভুল হলো একই বার্তা অসংখ্য অধ্যাপকের কাছে পাঠানো। এতে শিক্ষার্থীর প্রকৃত গবেষণার আগ্রহ বোঝানো কঠিন হয়ে পড়ে। বরং প্রতিটি অধ্যাপকের গবেষণা সম্পর্কে জেনে আলাদাভাবে বার্তা তৈরি করা ভালো। এ ছাড়া প্রথম যোগাযোগেই শুধু বৃত্তি চাওয়ার পরিবর্তে নিজের গবেষণার দক্ষতা এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণাগারে কীভাবে অবদান রাখতে পারবেন, তা তুলে ধরা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যোগাযোগের ভাষা সংক্ষিপ্ত, ভদ্র ও পেশাদার হওয়া উচিত। শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে, লিংকডইন ব্যবহার করে কোনো অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করলেই ভর্তি বা আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির যোগ্যতা, গবেষণার বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য, অর্থায়নের প্রাপ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর চূড়ান্ত সুযোগ নির্ভর করে। বিশেষ করে বাংলাদেশের যেসব শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য লিংকডইন হতে পারে গবেষকদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং নতুন সুযোগ সম্পর্কে জানার একটি অতিরিক্ত মাধ্যম। বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক ভর্তি নির্দেশনা ও গবেষণাগারের তথ্যের সঙ্গে লিংকডইন ব্যবহার করলে উপযুক্ত সুপারভাইজার এবং সম্ভাব্য আর্থিক সহায়তার সুযোগ খুঁজে পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও গোছানো ও কার্যকর হতে পারে।
বিদেশে ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি করতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৭ শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে বিভিন্ন দেশের ২৭টি স্কলারশিপ ও উচ্চশিক্ষায় অর্থায়নের সুযোগের একটি তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশের এসব কর্মসূচিতে টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া, যাতায়াত কিংবা গবেষণার খরচে সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সব স্কলারশিপ সম্পূর্ণ ফান্ডেড নয়। কিছু কর্মসূচিতে শুধু টিউশন ফি কিংবা আংশিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, অক্টোবর মাসেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্কলারশিপের আবেদন শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের গেটস কেমব্রিজ স্কলারশিপের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য ১৪ অক্টোবর এবং কমনওয়েলথ মাস্টার্স স্কলারশিপের জন্য ২০ অক্টোবর গুরুত্বপূর্ণ ডেডলাইন। ফ্রান্সের এমিল বুতমি স্কলারশিপের মাস্টার্স পর্যায়ে প্রথম আবেদন পর্বের শেষ সময় ১৮ অক্টোবর। তবে আবেদনকারীর নাগরিকত্ব, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স অনুযায়ী সময়সীমায় পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাজ্যের গেটস কেমব্রিজ স্কলারশিপ বিশ্বের অন্যতম পরিচিত উচ্চশিক্ষা বৃত্তি। এই কর্মসূচির আওতায় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ টিউশন ফি, জীবনযাপনের খরচ এবং নির্দিষ্ট অন্যান্য ব্যয় বহন করা হয়। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য আবেদনের শেষ সময় ১৪ অক্টোবর ২০২৬। অন্য দেশের আবেদনকারীদের জন্য কোর্সভেদে ৮ ডিসেম্বর ২০২৬ অথবা ৬ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত সময় রয়েছে। ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ১৪ অক্টোবরের ডেডলাইন সাধারণভাবে প্রযোজ্য নয়। যুক্তরাজ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ কমনওয়েলথ মাস্টার্স স্কলারশিপ। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশসহ যোগ্য কমনওয়েলথভুক্ত দেশের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করার সুযোগ পান। স্কলারশিপে টিউশন ফি, বিমানভাড়া ও জীবনযাপনের নির্ধারিত ভাতাসহ বিভিন্ন ব্যয় বহন করা হয়। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং কমনওয়েলথ স্কলারশিপ কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী ২০ অক্টোবর ব্রিটিশ সময় বিকেল ৪টায় আবেদন শেষ হবে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনও এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ফ্রান্সের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিল বুতমি স্কলারশিপেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদনের সুযোগ রয়েছে। এই স্কলারশিপ মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য। মাস্টার্স পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা দুই বছরের প্রতিটি বছরে ১৮ হাজার ৫০০ ইউরো পর্যন্ত টিউশন ফি ছাড় পান। প্রথম আবেদন পর্বের ডেডলাইন ১৮ অক্টোবর এবং দ্বিতীয় পর্বের ডেডলাইন ২৯ নভেম্বর। ব্যাচেলর পর্যায়ের আন্তর্জাতিক আবেদনকারীদের জন্যও আলাদা সুযোগ রয়েছে। তবে এটি মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের সব জীবনযাত্রার খরচ বহন করে না। দক্ষিণ কোরিয়ার গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপ বা জিকেএস ২০২৭ কর্মসূচিও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের এই স্কলারশিপে বিভিন্ন পর্যায়ে টিউশন ফি, ভাষাশিক্ষা ও জীবনযাপনের সহায়তার সুযোগ থাকে। প্রকাশিত তালিকায় আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের এম্বাসি ট্র্যাকের ডেডলাইন ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে। তবে ইউনিভার্সিটি ট্র্যাকের আবেদন বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে পৃথক সময়ে পরিচালিত হয়। তাই আগ্রহীদের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাচেলর করতে আগ্রহীদের জন্য ইউনিভার্সিটি অব মায়ামির স্ট্যাম্পস স্কলারশিপ একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ। প্রকাশিত তালিকায় ১ নভেম্বর ২০২৬ আবেদন শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। এই স্কলারশিপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা টিউশন, আবাসন এবং অন্যান্য নির্ধারিত শিক্ষাব্যয়ের জন্য সহায়তা পেতে পারেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন ও স্কলারশিপ বিবেচনার শর্ত একসঙ্গে পূরণ করতে হয়। একই সময়ে রাশিয়ার ওপেন ডোরস স্কলারশিপ কর্মসূচিতেও আবেদন করার সুযোগের কথা রয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় ১ নভেম্বর ডেডলাইন উল্লেখ করা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে নির্ধারিত বিষয়ে মাস্টার্স, পিএইচডি এবং গবেষণার সুযোগ রয়েছে। তবে সব শিক্ষার্থী একই ধরনের আর্থিক সুবিধা পান না। বিশেষ করে সম্পূর্ণ জীবনযাত্রার খরচ বহন করা হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির শর্ত দেখে নিশ্চিত হতে হবে। এশিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য জাপানের এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক জাপান স্কলারশিপ প্রোগ্রামও গুরুত্বপূর্ণ। এই কর্মসূচির আওতায় জাপানের এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব টোকিওসহ অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করা যায়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি, জীবনযাপনের ভাতা এবং অন্যান্য নির্ধারিত সুবিধা পেতে পারেন। তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগের আবেদনের সময়সীমা এবং কাজের অভিজ্ঞতার শর্ত আলাদা হতে পারে। চীনের ইয়েনচিং একাডেমি স্কলারশিপেও মাস্টার্স পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন এই কর্মসূচিতে চীনবিষয়ক আন্তবিষয়ক গবেষণা ও পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রকাশিত তালিকায় ৩০ নভেম্বর ২০২৬ আবেদন শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। একই সময় অস্ট্রিয়ার হেলমুট ভাইথ স্টাইপেন্ডের ডেডলাইনও দেওয়া হয়েছে। অস্ট্রিয়ার এই কর্মসূচি কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স করতে আগ্রহী যোগ্য নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যৌথভাবে মাস্টার্স করার জন্য ইরাসমাস মুন্ডাস কর্মসূচিতে একাধিক স্কলারশিপ রয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় এমএপিপি, আইএলএসপিএসডি, এমইএসপিওএম ও গ্লোকাল কর্মসূচির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এসব প্রোগ্রামে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে বিভিন্ন ডেডলাইন দেওয়া হয়েছে। তবে ইরাসমাস মুন্ডাসের সব প্রোগ্রামের আবেদন একসঙ্গে শুরু বা শেষ হয় না। প্রতিটি কোর্সের নিজস্ব আবেদন পদ্ধতি, যোগ্যতা এবং ফান্ডিংয়ের শর্ত রয়েছে। সুইজারল্যান্ডের ইপিএফএল মাস্টার্স এক্সিলেন্স ফেলোশিপের জন্য ১৫ ডিসেম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ ডেডলাইন। প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা প্রতি সেমিস্টারে ১০ হাজার সুইস ফ্রাঁ সহায়তা পান। সর্বোচ্চ চার সেমিস্টার পর্যন্ত এই অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। তবে ফেলোশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিজেদের টিউশন ফি ও আবাসনসহ অন্যান্য ব্যয়ের দায়িত্বও বিবেচনায় রাখতে হয়। ফলে এটিকে সব খরচ বহনকারী স্কলারশিপ হিসেবে উল্লেখ করা যথাযথ নয়। নেদারল্যান্ডসের মাস্ট্রিখট বিশ্ববিদ্যালয়ের এনএল হাই পটেনশিয়াল স্কলারশিপেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদন ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে এবং স্কলারশিপের চূড়ান্ত ডেডলাইন ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৭। তবে স্কলারশিপের জন্য বিবেচিত হতে অনেক মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন ১০ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে সম্পন্ন করতে হয়। এই স্কলারশিপ মূলত নির্দিষ্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য, সব ব্যাচেলর কোর্সের জন্য নয়। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের লাইডেন ইউনিভার্সিটি এক্সিলেন্স স্কলারশিপে মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বাবদ নির্ধারিত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই স্কলারশিপ সম্পূর্ণ ফান্ডেড নয় এবং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। আবেদনকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও বেশি। তাই শুধু স্কলারশিপের নাম দেখে সম্পূর্ণ বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। জার্মানির ডাড ইপিওএস স্কলারশিপ উন্নয়নসংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষা করতে আগ্রহীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই কর্মসূচিতে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, অর্থনীতি, ইঞ্জিনিয়ারিং, পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য এবং নগর পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মাস্টার্স ও নির্দিষ্ট স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে সুযোগ রয়েছে। আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক কর্মঅভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সব কোর্সের ডেডলাইন এক নয়। ডাডের ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সভেদে আলাদা আবেদন সময়সূচি দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবের কিং আবদুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বা কাউস্টেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি মূলত স্নাতকোত্তর পর্যায়ের গবেষণাকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান। নির্ধারিত প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া যোগ্য শিক্ষার্থীরা টিউশন সহায়তা, আবাসন এবং গবেষণাসংশ্লিষ্ট ফান্ডিংয়ের সুযোগ পান। তবে আবেদনকারীকে আগে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের ভর্তির শর্ত ও নির্ধারিত ইনটেক সম্পর্কে জানতে হবে। কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ এবং হামাদ বিন খলিফা ইউনিভার্সিটিতেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ ও ফান্ডিংয়ের সুযোগ রয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় যথাক্রমে ১৫ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ ডেডলাইন উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের ভর্তি ও ফান্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত পৃথক হতে পারে। থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতেও মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে স্কলারশিপ রয়েছে। তবে এআইটির সাধারণ স্কলারশিপে সম্পূর্ণ অথবা আংশিক টিউশন ফি ছাড় দেওয়া হতে পারে। জীবনযাপনের খরচ এবং অন্যান্য ফি অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীকে বহন করতে হয়। ফলে সব এআইটি স্কলারশিপকে সম্পূর্ণ ফান্ডেড হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। প্রকাশিত ২৭টি সুযোগের তালিকায় আরও রয়েছে সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াসংশ্লিষ্ট জেমস স্কলারশিপ, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াইয়ের এডিবি স্কলারশিপ, সুইস গভর্নমেন্ট এক্সিলেন্স স্কলারশিপ এবং ফ্রান্সের এমওপিজিএ ফেলোশিপ। তবে এসব কর্মসূচির মধ্যে কিছু গবেষণা ফেলোশিপ, কিছু টিউশন সহায়তা এবং কিছু সম্পূর্ণ স্কলারশিপ। সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির প্রধান ক্যাম্পাস বর্তমানে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অবস্থিত, হাঙ্গেরিতে নয়। পাশাপাশি সুইস গভর্নমেন্ট এক্সিলেন্স স্কলারশিপের সব বিভাগ সাধারণ মাস্টার্স ডিগ্রির শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত নয়। বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের পাশাপাশি ভর্তির যোগ্যতা যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক প্রতিষ্ঠানে ভালো সিজিপিএ, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার এবং প্রাসঙ্গিক গবেষণা বা কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে পিএইচডি ও গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামে আবেদনকারীর গবেষণার আগ্রহ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সুযোগের মধ্যে মিল থাকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, স্কলারশিপের আবেদন চালু থাকা এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির আবেদন চালু থাকা সব সময় একই বিষয় নয়। অনেক ক্ষেত্রে আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করতে হয়। কিছু স্কলারশিপে আলাদা আবেদন প্রয়োজন, আবার কিছু প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন থেকেই ফান্ডিংয়ের জন্য বিবেচনা করা হয়। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে বিদেশে পড়াশোনার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাই অক্টোবর থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা জরুরি। বিশেষ করে যেসব স্কলারশিপের আবেদন অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে শেষ হবে, সেগুলোর ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে যোগ্যতা ও ডেডলাইন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি স্কলারশিপে টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া, বিমানভাড়া এবং অন্যান্য খরচের কতটুকু বহন করা হবে, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এতে আবেদনকারীরা নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আর্থিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সুযোগ নির্বাচন করতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে প্রথম পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশি গবেষক নাদিয়া তাসনিম আহমেদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শুরু করা এই গবেষক ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি (ভিসিইউ) থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে এ বিষয়ে চালু হওয়া প্রথম পিএইচডি প্রোগ্রামের প্রথম গ্র্যাজুয়েট হিসেবে স্বীকৃতি পান তিনি। তাঁর গবেষণার মূল বিষয় ছিল ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত জটিল আণবিক প্রক্রিয়া, যা ভবিষ্যতে রোগ শনাক্তকরণ ও নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি উদ্ভাবনে সহায়ক হতে পারে। ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে নাদিয়া তাসনিমের এই অর্জনের তথ্য তুলে ধরা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রথম পিএইচডি ডিগ্রিধারী হওয়ার মধ্য দিয়ে নাদিয়া শুধু নিজের শিক্ষাজীবনেই নতুন অধ্যায় যোগ করেননি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন একটি একাডেমিক প্রোগ্রামের ইতিহাসেও জায়গা করে নিয়েছেন। নাদিয়ার উচ্চশিক্ষার যাত্রা শুরু বাংলাদেশে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে পড়াশোনার পর তিনি ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শুরুতে ফার্মাসিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার পরিকল্পনা থাকলেও ধীরে ধীরে গবেষণার প্রতি তাঁর আগ্রহ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে নতুন ওষুধ উদ্ভাবন এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের জটিল সমস্যা সমাধানে গবেষণার ভূমিকা তাঁকে আকৃষ্ট করে। সেই আগ্রহ থেকেই উচ্চতর গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যুক্তরাষ্ট্রে এসে নাদিয়া ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ফার্মাসিউটিক্যাল ন্যানোটেকনোলজি বিষয়ে আরেকটি মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হন। সেখানেও তিনি প্রোগ্রামটির প্রথম দিকের শিক্ষার্থীদের একজন ছিলেন। এই পড়াশোনার মাধ্যমে ওষুধ তৈরিতে ন্যানোটেকনোলজির ব্যবহার, নতুন ধরনের ড্রাগ ডেলিভারি পদ্ধতি এবং আধুনিক গবেষণার বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করেন। এরপর ২০২০ সালে ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ফার্মেসিতে ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস বিষয়ে পিএইচডি শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নাদিয়া। ঠিক সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়টিতে চালু হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পিএইচডি প্রোগ্রাম। নতুন এই প্রোগ্রামে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব পান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সান্দ্রো দা রোচার সঙ্গে আলোচনার পর প্রোগ্রামটির প্রথম ব্যাচে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ভিসিইউর এই পিএইচডি প্রোগ্রামটি স্কুল অব ফার্মেসি এবং কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়। এর লক্ষ্য ওষুধ উৎপাদন, নতুন ওষুধের উপাদান তৈরি, ড্রাগ ডেলিভারি, ন্যানোম্যাটেরিয়ালস এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ফার্মাসিউটিক্যাল গবেষণায় বিশেষজ্ঞ তৈরি করা। প্রচলিত ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সের সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভিন্ন শাখাকে যুক্ত করাই প্রোগ্রামটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। গবেষণাকালে নাদিয়া মূলত ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডির সঙ্গে সম্পর্কিত আণবিক পরিবর্তন নিয়ে কাজ করেন। সিওপিডি ফুসফুসের একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যার কারণে শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয় এবং ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। রোগটির সঙ্গে ফুসফুসে প্রদাহ এবং টিস্যুর ক্ষতির সম্পর্ক রয়েছে। নাদিয়া তাঁর গবেষণায় মাস স্পেকট্রোমেট্রি নামের একটি উন্নত বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এর মাধ্যমে আণবিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রোটিনের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং রোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবর্তনগুলো বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়। বিশেষভাবে তিনি নিউট্রোফিল ইলাস্টেজ নামের একটি এনজাইমের কার্যক্রম নিয়ে কাজ করেন। এই এনজাইম শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ফুসফুসের প্রদাহ ও টিস্যুর ক্ষতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণায় তিনি ম্যাক্রোফেজ নামের রোগপ্রতিরোধী কোষের ওপর নিউট্রোফিল ইলাস্টেজের প্রভাব বোঝার চেষ্টা করেন। ম্যাক্রোফেজ শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা ক্ষতিকর উপাদান অপসারণ এবং প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। নাদিয়ার গবেষণায় এই কোষগুলোর কার্যক্রমে পরিবর্তন এবং ফুসফুসের রোগের সঙ্গে তার সম্ভাব্য সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের গবেষণা ভবিষ্যতে সিওপিডির সঙ্গে সম্পর্কিত নতুন বায়োমার্কার শনাক্ত এবং চিকিৎসাপদ্ধতি উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে। তবে এটি মূলত রোগের আণবিক প্রক্রিয়া বোঝার গবেষণা। এর মাধ্যমে নতুন কোনো চিকিৎসাপদ্ধতি ইতোমধ্যে উদ্ভাবিত হয়েছে বা রোগটির নিরাময় সম্ভব হয়েছে, এমন দাবি বিশ্ববিদ্যালয় করেনি। পিএইচডি গবেষণার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমেও সক্রিয় ছিলেন নাদিয়া। তিনি ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নতুন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ, গবেষণায় সহযোগিতা এবং একাডেমিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে এই সংগঠনের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণা ও একাডেমিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নাদিয়া প্রোগ্রামটির প্রথম এক্সিলেন্স ইন ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। তাঁর পিএইচডি গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন ভিসিইউর স্কুল অব ফার্মেসির অধ্যাপক অ্যাডাম হকরিজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি নাদিয়ার গবেষণার প্রতি আগ্রহ, অধ্যবসায়, স্বাধীনভাবে কাজ করার দক্ষতা এবং নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের মানসিকতার প্রশংসা করেন। নাদিয়া নিজের পিএইচডি সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়কে জানান, গবেষণাপত্রের চূড়ান্ত প্রতিরক্ষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রথমবার তাঁকে ডক্টর আহমেদ বলে সম্বোধন করার মুহূর্তটি ছিল বিশেষভাবে স্মরণীয়। দীর্ঘ গবেষণার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে এই অর্জনে পৌঁছানো তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। পিএইচডি শেষ করার পর যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএতে গবেষণার সুযোগ পান নাদিয়া। তিনি ওক রিজ ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড এডুকেশন বা ওরাইসের ফেলো হিসেবে এফডিএর গবেষণা কার্যক্রমে যুক্ত হন। ভিসিইউর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেখানে তিনি চিকিৎসায় ব্যবহৃত এসআইআরএনএ অলিগোনিউক্লিওটাইডভিত্তিক ওষুধের উপাদানের বিশুদ্ধতা ও কাঠামোগত পরিবর্তন বিশ্লেষণের পদ্ধতি উন্নয়নে কাজ করেন। এই গবেষণায়ও তিনি মাস স্পেকট্রোমেট্রি প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। ওষুধের উপাদানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বা অমিশ্রণ শনাক্ত করা ফার্মাসিউটিক্যাল গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে নতুন ধরনের ওষুধের গুণগত মান ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের জন্য এসব বিশ্লেষণ প্রয়োজন হয়। ভিসিইউর অ্যালামনাই তালিকাতেও নাদিয়া তাসনিম আহমেদকে ২০২৪ সালের ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পিএইচডি গ্র্যাজুয়েট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে এফডিএতে ওরাইস ফেলো হিসেবে তাঁর প্রথম কর্মজীবনের তথ্যও রয়েছে। ভবিষ্যতে ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে অ্যানালিটিক্যাল সায়েন্টিস্ট হিসেবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রিতে উচ্চশিক্ষা, যুক্তরাষ্ট্রে ন্যানোটেকনোলজিতে দ্বিতীয় মাস্টার্স, এরপর দেশটির প্রথম ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পিএইচডি প্রোগ্রামের প্রথম গ্র্যাজুয়েট হওয়ার মধ্য দিয়ে নাদিয়া তাসনিম আহমেদের শিক্ষাজীবনে যুক্ত হয়েছে একাধিক উল্লেখযোগ্য অর্জন। তাঁর এই সাফল্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশি গবেষকদের অংশগ্রহণের আরেকটি উদাহরণ হয়ে রয়েছে। সূত্র: পাবলিকিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটিতে ২০২৭ সালের স্প্রিং সেমিস্টারের জন্য পিএইচডি পর্যায়ে গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যান্ট অ্যান্ড সয়েল সায়েন্স বিভাগে এই গবেষণা সহকারী পদে নির্বাচিত শিক্ষার্থী টেকসই ও অর্গানিক কৃষি ব্যবস্থার ওপর গবেষণায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গবেষণার মূল বিষয় হবে অর্গানিক তরমুজ উৎপাদন ব্যবস্থায় অ্যানেরোবিক সয়েল ডিসইনফেস্টেশন বা অক্সিজেন সীমিত করে মাটিতে রোগজীবাণু ও আগাছা নিয়ন্ত্রণের একটি পদ্ধতি। একই সঙ্গে বায়োডিগ্রেডেবল মালচ ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা, পুষ্টি উপাদানের প্রাপ্যতা, পুষ্টিচক্র, মাটির জৈবিক কার্যক্রম, আগাছার উদ্ভব ও দমন, মাটির স্বাস্থ্য এবং ফসলের উৎপাদনশীলতায় কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে গবেষণা করা হবে। এই গবেষণায় মাঠপর্যায়ের কাজের পাশাপাশি ল্যাবরেটরিভিত্তিক গবেষণাও থাকবে। ফলে আগাছাবিজ্ঞান, মাটির উর্বরতা, মাটির জীববিজ্ঞান, টেকসই কৃষি এবং অর্গানিক ফসল উৎপাদনের একাধিক ক্ষেত্র নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। আবেদনকারীদের মাঠপর্যায়ের গবেষণা, মাটি ও উদ্ভিদের নমুনা সংগ্রহ, ল্যাবরেটরি বিশ্লেষণ এবং পরিসংখ্যানভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণের অভিজ্ঞতা থাকলে তা বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আবেদনকারীদের এগ্রোনমি, উইড সায়েন্স, সয়েল সায়েন্স, হর্টিকালচার, ক্রপ সায়েন্স অথবা ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি থাকতে হবে। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব বিষয়ের শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। পদটি টেক্সাসের লাবক শহরে অবস্থিত টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটির প্ল্যান্ট অ্যান্ড সয়েল সায়েন্স বিভাগে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীর গবেষণা কার্যক্রম ২০২৭ সালের স্প্রিং সেমিস্টারে শুরু হওয়ার কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুলের তথ্য অনুযায়ী, প্ল্যান্ট অ্যান্ড সয়েল সায়েন্স পিএইচডি প্রোগ্রামের ২০২৭ স্প্রিং সেমিস্টারের আবেদন সময়সীমা ১৫ অক্টোবর ২০২৬। প্ল্যান্ট অ্যান্ড সয়েল সায়েন্সে পিএইচডি প্রোগ্রামে মোট ৭২ ক্রেডিট আওয়ার সম্পন্ন করতে হয়। এর মধ্যে স্নাতক ডিগ্রির পর ৬০ ক্রেডিট আওয়ার গ্র্যাজুয়েট কোর্সওয়ার্ক এবং ১২ ক্রেডিট আওয়ার গবেষণামূলক অভিসন্দর্ভের জন্য নির্ধারিত। শিক্ষার্থীরা ক্রপ প্রোটেকশন, ক্রপ সায়েন্স, সয়েল সায়েন্স এবং ফাইবারস অ্যান্ড বায়োপলিমারসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষায়নের সুযোগ পান। গবেষণা সহকারী পদের জন্য আগ্রহীদের জীবনবৃত্তান্ত, অনানুষ্ঠানিক একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, গবেষণার আগ্রহ ও পূর্ব অভিজ্ঞতার সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং তিনজন রেফারির যোগাযোগের তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনপত্র সরাসরি সংশ্লিষ্ট গবেষকের কাছে ইমেইলে পাঠানোর নির্দেশনা রয়েছে। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে পদটিকে গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও নির্দিষ্ট মাসিক স্টাইপেন্ড, টিউশন ওয়েভার, হেলথ ইন্স্যুরেন্স কিংবা অন্যান্য আর্থিক সুবিধার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। তাই আবেদন করার আগে অর্থায়নের পূর্ণ শর্ত, সহকারী পদের মেয়াদ এবং টিউশন সুবিধা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট গবেষক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ থেকে নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের গবেষণা সহকারী পদ যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হতে পারে। তবে শুধু গবেষণা সহকারী পদের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত হয় না। সংশ্লিষ্ট পিএইচডি প্রোগ্রামের একাডেমিক ভর্তি শর্তও পূরণ করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। বিশেষ করে যারা এগ্রোনমি, সয়েল সায়েন্স, ক্রপ সায়েন্স, হর্টিকালচার বা আগাছাবিজ্ঞান বিষয়ে মাস্টার্স শেষ করেছেন এবং টেকসই কৃষি, অর্গানিক উৎপাদন ব্যবস্থা বা মাটির স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণায় আগ্রহী, তাদের জন্য এই সুযোগটি প্রাসঙ্গিক হতে পারে। আবেদনকারীদের জীবনবৃত্তান্ত ও গবেষণার আগ্রহের বিবরণ প্রস্তুতের সময় পূর্বের গবেষণার অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ের কাজ, ল্যাবরেটরি দক্ষতা এবং পরিসংখ্যান বিশ্লেষণের অভিজ্ঞতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডি করতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বড় একটি প্রশ্ন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া স্টাইপেন্ড দিয়ে কি থাকা, খাওয়া ও দৈনন্দিন খরচ চালানো সম্ভব? এর একক উত্তর নেই। অনেক ক্ষেত্রে স্টাইপেন্ড দিয়ে জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় খরচ সামলানো সম্ভব হলেও সেটি মূলত বিশ্ববিদ্যালয় ও শহর, ফান্ডিং প্যাকেজ, টিউশন ওয়েভার, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত খরচের ওপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের এডুকেশনইউএসএ বলছে, গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে পড়াশোনার আর্থিক পরিকল্পনা করার সময় শুধু টিউশন নয়, ফি ও জীবনযাত্রার খরচও একসঙ্গে হিসাব করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এক শহর থেকে অন্য শহরে থাকার খরচে বড় পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের ছোট শহর বা গ্রামীণ এলাকায় সাধারণত জীবনযাত্রার খরচ বড় শহরের তুলনায় কম হতে পারে। ধরা যাক, কোনো শিক্ষার্থী মাসে ২ হাজার ডলার স্টাইপেন্ড পাচ্ছেন। শুধু এই অঙ্ক দেখে ফান্ডিং ভালো না খারাপ, তা নির্ধারণ করা কঠিন। প্রথমে দেখতে হবে টিউশন পুরোপুরি মওকুফ হচ্ছে কি না, বিশ্ববিদ্যালয় হেলথ ইন্স্যুরেন্সের খরচ বহন করছে কি না, শিক্ষার্থীকে আলাদা কোনো ফি দিতে হবে কি না এবং স্টাইপেন্ড থেকে প্রযোজ্য ট্যাক্স কাটার পর হাতে কত থাকবে। এরপর সেই অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শহরের রেন্ট, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ তুলনা করতে হবে। এডুকেশনইউএসএও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ের সময় টিউশন, ফি ও জীবনযাত্রার ব্যয় মিলিয়ে সম্পূর্ণ বাজেট তৈরির পরামর্শ দেয়। একই সঙ্গে গ্র্যাজুয়েট টিচিং বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজের বিনিময়ে টিউশন ওয়েভার এবং স্টাইপেন্ড পাওয়ার সুযোগ খুঁজতে বলা হয়েছে। এ ধরনের সুযোগ বিশেষ করে পিএইচডি পর্যায়ে খুবই প্রচলিত। শিক্ষার্থীর মাসিক বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ সাধারণত হাউজিংয়ে চলে যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একা অ্যাপার্টমেন্ট নিয়ে থাকলে খরচ বেশি হতে পারে। রুমমেটের সঙ্গে অ্যাপার্টমেন্ট শেয়ার করলে সেই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। আবার ক্যাম্পাস থেকে দূরে কম রেন্টের বাসা পাওয়া গেলেও যাতায়াতের জন্য বাড়তি অর্থ খরচ হতে পারে। তাই শুধু রেন্ট নয়, রেন্ট ও ট্রান্সপোর্টেশন মিলিয়ে প্রকৃত খরচ হিসাব করা জরুরি। খাবারের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। নিয়মিত বাইরে খাওয়া এবং বাসায় রান্না করার মাসিক খরচে বড় পার্থক্য হতে পারে। গ্রোসারি কিনে রান্না করা, আগে থেকে খাবারের পরিকল্পনা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কম দামের দোকান বেছে নেওয়া শিক্ষার্থীদের বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। ট্রান্সপোর্টেশনের খরচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। নিউইয়র্ক, বোস্টন বা শিকাগোর মতো গণপরিবহননির্ভর এলাকায় অনেক শিক্ষার্থী গাড়ি ছাড়াই চলতে পারেন। অন্যদিকে ছোট শহর বা সাবার্বে গণপরিবহন সীমিত হলে গাড়ির প্রয়োজন হতে পারে। তখন শুধু গাড়ি কেনার দাম নয়, কার ইন্স্যুরেন্স, গ্যাস, মেইনটেন্যান্স ও রেজিস্ট্রেশনের খরচও মাসিক বাজেটে যোগ হয়। এ কারণেই একই অঙ্কের স্টাইপেন্ড দুই শিক্ষার্থীর জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। তুলনামূলক কম খরচের শহরে মাসে ২ হাজার ডলার দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যয় সামলানো সম্ভব হতে পারে, কিন্তু ব্যয়বহুল শহরে একই অর্থের বড় অংশ শুধু রেন্টেই চলে যেতে পারে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং বা স্টাইপেন্ডের অঙ্কের পাশাপাশি স্থানীয় জীবনযাত্রার খরচও বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। মাস্টার্স ও পিএইচডির ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও পার্থক্য রয়েছে। এডুকেশনইউএসএর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফেলোশিপ, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ও অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। টিচিং বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের বিনিময়ে টিউশন ওয়েভার অথবা স্টাইপেন্ড দেওয়ার ব্যবস্থা পিএইচডি পর্যায়ে বিশেষভাবে প্রচলিত। মাস্টার্সেও ফান্ডিং পাওয়া যায়, তবে সেটি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামভেদে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। তাই যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডিতে ভর্তি হলেই স্টাইপেন্ড পাওয়া যাবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। কোনো অফার গ্রহণের আগে শিক্ষার্থীকে অ্যাডমিশন লেটার ও ফান্ডিং অফারের শর্ত ভালোভাবে পড়তে হবে। স্টাইপেন্ড কত, কত মাস দেওয়া হবে, সামার ফান্ডিং আছে কি না, টিউশন কতটা ওয়েভ করা হচ্ছে, বাধ্যতামূলক ফি কত এবং হেলথ ইন্স্যুরেন্সের কতটা বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে, এসব তথ্য পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্টাইপেন্ডের টাকায় একজন গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর থাকা সম্ভব কি না, তার উত্তর শুধু স্টাইপেন্ডের অঙ্কে পাওয়া যাবে না। আসল হিসাব হলো সব কাটাকাটির পর হাতে কত টাকা থাকবে এবং সেই শহরে বাস্তবে প্রতি মাসে কত খরচ হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম বাছাইয়ের আগে এই দুই অঙ্ক পাশাপাশি রেখে হিসাব করলে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর অপ্রত্যাশিত আর্থিক চাপ অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন, কিন্তু সিজিপিএ তুলনামূলক কম? সিজিপিএ কম হলেও দেশটির কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নাম থাকলেই ভর্তি বা সম্পূর্ণ স্কলারশিপ নিশ্চিত—এমন ধারণা ঠিক নয়। আবেদনকারীর পছন্দের বিভাগ, ডিগ্রির ধরন এবং অর্থায়নের শর্ত আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেওয়া আবদুল হাকিম তিস্তির নামে সরবরাহ করা ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় এমন প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদনের জন্য ন্যূনতম জিপিএ ২ দশমিক ৫০। আবার একই তালিকার কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যূনতম জিপিএ ৩ দশমিক ০০ প্রয়োজন। ইউনিভার্সিটি অব ডেনভারের আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট ভর্তি নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে স্নাতক ডিগ্রিতে যুক্তরাষ্ট্রের মান অনুযায়ী ন্যূনতম ২ দশমিক ৫০ জিপিএ অথবা সম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট কোর্সওয়ার্কে ৩ দশমিক ০০ জিপিএ প্রয়োজন হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রাম আলাদা শর্ত দিলে সেটিই প্রযোজ্য হবে। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, সান মার্কোসের সাধারণ গ্র্যাজুয়েট ভর্তি শর্তেও সর্বশেষ সম্পন্ন ডিগ্রি অথবা শেষ ৬০ সেমিস্টার ক্রেডিটে অন্তত ২ দশমিক ৫০ জিপিএ গ্রহণের বিধান রয়েছে। তবে কোনো বিভাগ অতিরিক্ত যোগ্যতা নির্ধারণ করলে আবেদনকারীকে তা পূরণ করতে হবে। ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারে সাধারণ গ্র্যাজুয়েট ভর্তির জন্য স্নাতক পর্যায়ে ন্যূনতম ২ দশমিক ৭৫ জিপিএ প্রয়োজন। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজন ৩ দশমিক ০০। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কম জিপিএধারী আবেদনকারীর আবেদনও পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে টেক্সাস উইমেনস ইউনিভার্সিটিতে সাধারণভাবে স্নাতকের শেষ ৬০ সেমিস্টার ক্রেডিটে ৩ দশমিক ০০ জিপিএ প্রয়োজন। তবে সংশ্লিষ্ট একাডেমিক বিভাগ চাইলে ওই অংশে অন্তত ২ দশমিক ৫০ জিপিএ থাকা আবেদনকারীকে সাময়িক ভর্তির জন্য বিবেচনা করতে পারে। অর্থাৎ শুধু মোট সিজিপিএ নয়, শেষ কয়েক বছরের একাডেমিক ফলও কিছু ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তালিকায় থাকা ইউনিভার্সিটি অব মেইন অ্যাট প্রেস্ক আইলের ক্ষেত্রেও প্রোগ্রামভেদে পার্থক্য রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মাস্টার অব আর্টস ইন অর্গানাইজেশনাল লিডারশিপ এবং মাস্টার অব সায়েন্স ইন বিজনেস প্রোগ্রামে ন্যূনতম ৩ দশমিক ০০ জিপিএ প্রয়োজন। তাই পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে এক কথায় ‘কম সিজিপিএতে ভর্তির বিশ্ববিদ্যালয়’ বলা ঠিক হবে না। সরবরাহ করা তালিকার প্রথম ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো—কলোরাডোর ইউনিভার্সিটি অব ডেনভার, ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি সান মার্কোস, আলাবামার আলাবামা এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি, আরকানসাসের আরকানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি, জর্জিয়ার ফোর্ট ভ্যালি স্টেট ইউনিভার্সিটি, আইওয়ার ইউনিভার্সিটি অব নর্দার্ন আইওয়া, লুইজিয়ানার ইউনিভার্সিটি অব লুইজিয়ানা অ্যাট মনরো, আরকানসাসের ইউনিভার্সিটি অব আরকানসাস অ্যাট লিটল রক, ক্যানসাসের ফোর্ট হেইস স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ম্যাসাচুসেটসের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস ডার্টমাউথ। পরের ১০টি হলো—মেইনের ইউনিভার্সিটি অব মেইন অ্যাট প্রেস্ক আইল, ভার্জিনিয়ার লিবার্টি ইউনিভার্সিটি, কলোরাডোর ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডার, আইডাহোর ইউনিভার্সিটি অব আইডাহো, টেক্সাসের ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টন ক্লিয়ার লেক, ওয়েস্ট টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি, আলাবামার ট্রয় ইউনিভার্সিটি, টেক্সাসের টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, মিজৌরির ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল মিজৌরি এবং মিজৌরি স্টেট ইউনিভার্সিটি। ২১ থেকে ৩০ নম্বরে রয়েছে—মিশিগানের ইস্টার্ন মিশিগান ইউনিভার্সিটি, ওয়েস্টার্ন মিশিগান ইউনিভার্সিটি ও সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটি, উইসকনসিনের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন মিলওয়াকি, টেক্সাসের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস ও টেক্সাস উইমেনস ইউনিভার্সিটি, লুইজিয়ানার ইউনিভার্সিটি অব নিউ অরলিন্স, মিসিসিপির জ্যাকসন স্টেট ইউনিভার্সিটি, লুইজিয়ানার সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড এ অ্যান্ড এম কলেজ এবং টেক্সাসের প্রেইরি ভিউ এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি। তালিকার শেষ ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো—ওহাইওর কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটি, ক্লিভল্যান্ড স্টেট ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব টলিডো, ক্যানসাসের উইচিটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, কেনটাকির ইস্টার্ন কেনটাকি ইউনিভার্সিটি ও মারে স্টেট ইউনিভার্সিটি, টেনেসির টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটি, আলাবামার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট আলাবামা এবং টেক্সাসের লামার ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আরলিংটন। তবে এই ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রোগ্রামে কম সিজিপিএ গ্রহণ করা হবে বা সব আবেদনকারীকে সম্পূর্ণ অর্থায়ন দেওয়া হবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে কোনো একটি মাস্টার্স প্রোগ্রামের যোগ্যতা দেখে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি প্রোগ্রাম বা অর্থায়নের সুযোগ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। ভর্তি যোগ্যতার পাশাপাশি অর্থায়নের বিষয়টিও আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। ইউনিভার্সিটি অব ডেনভারের তথ্য অনুযায়ী, গ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ সংশ্লিষ্ট একাডেমিক বিভাগ থেকে দেওয়া হয়। বিভাগভেদে টিচিং, রিসার্চ ও সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগও থাকতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ইঞ্জিনিয়ারিং ও কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপকে প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাই ন্যূনতম ভর্তি যোগ্যতা পূরণ করলেই স্কলারশিপ নিশ্চিত—এমনটি ভাবার সুযোগ নেই। আবেদনের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ভর্তি শর্তের পাশাপাশি পছন্দের বিভাগের নির্দিষ্ট নির্দেশনাও ভালোভাবে পড়তে হবে। ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল মিজৌরির কিছু গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে জিআরই বা জিম্যাট, নির্দিষ্ট ন্যূনতম জিপিএ, সুপারিশপত্র এবং স্টেটমেন্ট অব পারপাসের মতো অতিরিক্ত নথি প্রয়োজন হতে পারে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জিপিএর সমমান নির্ধারণ। ডেনভারের আন্তর্জাতিক ভর্তি নির্দেশনায় যুক্তরাষ্ট্রের সমমানের জিপিএর কথা বলা হয়েছে। তাই বাংলাদেশের ট্রান্সক্রিপ্টে থাকা সিজিপিএ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নির্দিষ্ট জিপিএর সঙ্গে মিলিয়ে আবেদনযোগ্যতা নিশ্চিত করা উচিত নয়। যে প্রোগ্রামে আবেদন করতে চান, সেই বিভাগের ভর্তি দপ্তরের কাছ থেকে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় নথি এবং অর্থায়নের শর্ত নিশ্চিত করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে পড়াশোনা করেছেন বলেই যুক্তরাষ্ট্রে ফান্ডিংসহ মাস্টার্স বা পিএইচডিতে আবেদনের পথ বন্ধ হয়ে যায় না। তবে ভর্তি ও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সিদ্ধান্ত নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভাগের নির্ধারিত যোগ্যতা, আবেদনকারীর একাডেমিক প্রস্তুতি ও ফান্ডিংয়ের সুযোগের ওপর। ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রকাশিত ভর্তি নির্দেশনায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রোগ্রামভিত্তিক শর্ত পূরণের কথা বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকদের কমিটি ভর্তির সিদ্ধান্ত নেয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিভিন্ন কলেজে শিক্ষার্থীদের সুযোগ ও অভিজ্ঞতা এক রকম নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে আবেদন করার প্রস্তুতিতে নিজের ডিগ্রি, ট্রান্সক্রিপ্ট এবং বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতার সঙ্গে নির্বাচিত প্রোগ্রামের শর্ত মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি নির্দেশনায় বিভিন্ন বিভাগের জন্য আলাদা একাডেমিক ফলাফল, সুপারিশপত্র, ব্যক্তিগত বিবৃতি ও অন্যান্য নথির শর্ত রয়েছে। ফলে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ যোগ্যতা পূরণ করলেই তার সব মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির যোগ্যতা পূরণ হয়েছে, এমন ধরে নেওয়া যায় না। ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষাও প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট ভর্তি নির্দেশনায় আইইএলটিএসের ন্যূনতম স্কোর ৬.৫ উল্লেখ রয়েছে। তবে এই স্কোরকে যুক্তরাষ্ট্রের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অভিন্ন শর্ত মনে করা ঠিক হবে না। আবেদনকারীকে নির্বাচিত বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগের হালনাগাদ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। একইভাবে জিআরই সব প্রোগ্রামে বাধ্যতামূলক নয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, তাদের কিছু গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে জিআরই বা জিম্যাট প্রয়োজন হয়। ভর্তির পাশাপাশি ফান্ডিংয়ের জন্যও আলাদা খোঁজ নেওয়া জরুরি। ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ও স্কলারশিপ সরাসরি বিভাগ থেকে দেওয়া হয়। রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বা টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ সম্পর্কে জানতে আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট একাডেমিক বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ ভর্তির আবেদন জমা দেওয়ার পাশাপাশি বিভাগ কীভাবে ফান্ডিং দেয়, তার জন্য আলাদা আবেদন প্রয়োজন কি না এবং কোন সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হয়, সেসব বিষয়ও পরিষ্কার করা প্রয়োজন। অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ পেলেই সব ধরনের ব্যয় একইভাবে কভার হবে, এমন নয়। ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ২০২৫ থেকে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নির্দেশনায় সপ্তাহে ২০ ঘণ্টার পূর্ণ গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সঙ্গে স্টাইপেন্ড, টিউশন ওয়েভার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তুকিযুক্ত হেলথ ইন্স্যুরেন্সের কথা রয়েছে। কম সময়ের নিয়োগে সুবিধা ভিন্ন হতে পারে। তাই কোনো অফারকে ফুল ফান্ডেড হিসেবে বিবেচনা করার আগে টিউশন, অন্যান্য ফি, স্টাইপেন্ড, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং সহায়তার মেয়াদ লিখিত অফারে কীভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তা বুঝে নিতে হবে। প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আবেদনকারীর লক্ষ্য হওয়া উচিত নিজের যোগ্যতার স্পষ্ট ও প্রমাণযোগ্য বিবরণ তৈরি করা। নির্বাচিত প্রোগ্রাম অনুযায়ী প্রজেক্ট, গবেষণার অভিজ্ঞতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আবেদনপত্রে তুলে ধরা যায়। তবে কোনো একজনের সিজিপিএ বা পরীক্ষার স্কোর দেখে একই ফল পাওয়ার নিশ্চয়তা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যও কার্যকর সূচনা হলো উপযুক্ত প্রোগ্রাম খুঁজে তার ভর্তি ও ফান্ডিংয়ের শর্ত বোঝা, প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করা। সূত্র: scholarship funding with low CGPA
যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি অধ্যয়নরত অবস্থায় মারা গেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী তানভীর আলম মুনশি। সাস্ট স্পটলাইটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পর ৩৪ দিন কোমায় থাকার পর বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনে পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করছিলেন। তানভীর শাবির পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৪ থেকে ২০১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। সাস্ট স্পটলাইট জানিয়েছে, তিনি নিজ শিক্ষাবর্ষে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি গবেষণায় যুক্ত ছিলেন তানভীর। ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনের পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কিয়ুং জে লি গবেষণা দলের সদস্য তালিকাতেও তাঁর নাম রয়েছে। সাস্ট স্পটলাইটের তথ্যমতে, তাঁর প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা ১০টি। এসব গবেষণাপত্রে মোট ১৩৩টি সাইটেশন বা অন্য গবেষণায় উদ্ধৃতি রয়েছে। তাঁকে স্মরণ করে সাস্ট স্পটলাইটের লেখায় বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের গবেষণা শেখাতে সহযোগিতা করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা দেওয়া, কাজের প্রক্রিয়া বোঝানো এবং গবেষণায় আগ্রহী হতে উৎসাহ দিতেন তিনি। ওই স্মরণলেখায় তানভীরকে প্রচারবিমুখ মানুষ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। নিজের অর্জন তুলে ধরার চেয়ে গবেষণা ও অন্য শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় সময় দিতেন বলে উল্লেখ করা হয়। তানভীরের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে সাস্ট স্পটলাইট। তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে সংগঠনটি। সূত্র: সাস্ট স্পটলাইট
আমেরিকায় ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করে রিজেকশন পাওয়া মানেই প্রোফাইল দুর্বল, এমনটা নয়। ভালো সিজিপিএ, গবেষণার অভিজ্ঞতা, এমনকি প্রকাশনা থাকার পরও একজন আবেদনকারী বাদ পড়তে পারেন। কারণ গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশনে শুধু ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ করা হয়েছে কি না, সেটিই বিবেচনা করা হয় না। অ্যাকাডেমিক প্রস্তুতি, গবেষণার সম্ভাবনা, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার, প্রোগ্রামের সঙ্গে ফিট এবং ওই বছরের প্রতিযোগিতার মতো একাধিক বিষয় একসঙ্গে দেখা হয়। ইউসি বার্কলির গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশন নীতিতেও এমন হোলিস্টিক রিভিউয়ের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো রিসার্চ ফিট। একজন শিক্ষার্থীর প্রোফাইল ভালো হলেও তাঁর নির্দিষ্ট গবেষণার আগ্রহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্ট বা ফ্যাকাল্টির কাজের মিল না থাকলে আবেদনটি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে পিএইচডি প্রোগ্রামে সম্ভাব্য অ্যাডভাইজার, ল্যাব এবং গবেষণার ক্ষেত্রের সঙ্গে আবেদনকারীর আগ্রহের সামঞ্জস্য গুরুত্বপূর্ণ। ইউসি বার্কলির বিভিন্ন গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামও আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট ফ্যাকাল্টি ও গবেষণার সঙ্গে নিজেদের আগ্রহের মিল ব্যাখ্যা করতে বলে। আরেকটি বড় বিষয় হলো রিসার্চ পটেনশিয়ালের প্রমাণ। সিভিতে শুধু “Research Assistant” লেখা থাকলেই কমিটি বুঝতে পারে না একজন আবেদনকারী আসলে কী কাজ করেছেন। কোন গবেষণা প্রশ্ন নিয়ে কাজ করেছেন, তাঁর নিজের দায়িত্ব কী ছিল, কোন পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন এবং সেই কাজ থেকে কী শিখেছেন, এসব স্পষ্টভাবে তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশনা না থাকলেও থিসিস, গবেষণা প্রকল্প, ডেটা অ্যানালাইসিস, কনফারেন্স প্রেজেন্টেশন বা অন্য কোনো গবেষণাভিত্তিক কাজ গবেষণার প্রস্তুতি বোঝাতে পারে। এমআইটির গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশন গাইডগুলোতেও গবেষণার অভিজ্ঞতা ও তার নির্দিষ্ট অর্জনকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। স্টেটমেন্ট অব পারপাস বা SOP-ও অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য তৈরি করে। শুধু নিজের জীবনের গল্প, স্বপ্ন বা মোটিভেশন তুলে ধরলে সাধারণত যথেষ্ট হয় না। কেন নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে পড়তে চান, কী ধরনের গবেষণা করতে চান, আগের অভিজ্ঞতা কীভাবে সেই আগ্রহ তৈরি করেছে এবং ওই প্রোগ্রামের ফ্যাকাল্টি ও রিসোর্স আপনার পরিকল্পনার সঙ্গে কীভাবে মেলে, সেটি পরিষ্কারভাবে দেখাতে হয়। এমআইটি এবং ইউসি বার্কলির নির্দেশনাতেও প্রোগ্রাম ফিট, গবেষণার আগ্রহ এবং পূর্ববর্তী প্রস্তুতির মধ্যে সম্পর্ক স্পষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রেকমেন্ডেশন লেটার বা LOR-ও শুধু আনুষ্ঠানিক কাগজ নয়। এমন শিক্ষকের কাছ থেকে বিস্তারিত রেকমেন্ডেশন বেশি কার্যকর হতে পারে, যিনি আবেদনকারীর অ্যাকাডেমিক বা গবেষণার কাজ কাছ থেকে দেখেছেন এবং নির্দিষ্ট উদাহরণ দিতে পারেন। গবেষণা করার সক্ষমতা সম্পর্কে এমন মূল্যায়ন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এমআইটির একটি গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম সরাসরি বলছে, অন্তত একজন এমন ফ্যাকাল্টির লেটার থাকা উপকারী যিনি আবেদনকারীর কাজ ভালোভাবে জানেন এবং তাঁর স্বাধীন গবেষণার সক্ষমতা সম্পর্কে বলতে পারেন। ফান্ডিংও এখানে আলাদা একটি বিষয়। ফুল ফান্ডেড অ্যাডমিশনে শুধু অ্যাডমিশন নয়, টিউশন, স্টাইপেন্ড, ফেলোশিপ বা টিচিং ও রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মতো আর্থিক সহায়তার বিষয়ও জড়িত থাকে। ফলে কোনো প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার জন্য উপযুক্ত প্রার্থী হলেও নির্দিষ্ট বছরে ফান্ডিং কাঠামো বা উপলব্ধ পজিশন সীমিত হতে পারে। তবে সব প্রোগ্রামের ফান্ডিং মডেল এক নয়। কোথাও আগে থেকেই নির্দিষ্ট সময়ের ফান্ডিং প্যাকেজ থাকে, আবার কোথাও ফান্ডিং বিভিন্ন অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বা ফেলোশিপের মাধ্যমে দেওয়া হয়। উদাহরণ হিসেবে ইউসি বার্কলির একটি এমএ/পিএইচডি প্রোগ্রাম পাঁচ বছরের ফান্ডিং প্যাকেজের কথা উল্লেখ করে, যেখানে ফেলোশিপ ও পেইড টিচিং দায়িত্বের সমন্বয় রয়েছে। ফুল ফান্ডেড মাস্টার্সের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও প্রোগ্রামভেদে পরিবর্তিত হয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির তুলনায় মাস্টার্স পর্যায়ে নিশ্চিত ফান্ডিং সীমিত হতে পারে, আবার কিছু প্রোগ্রাম তুলনামূলক ভালো ফান্ডিং দেয়। তাই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে শুধু “Funding Available” লেখা দেখেই আবেদন না করে কোন ধরনের ফান্ডিং, কত সময়ের জন্য এবং কোন শর্তে দেওয়া হয়, তা আগে দেখা প্রয়োজন। আবেদনকারীর অ্যাপ্লিকেশন লিস্টও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সবচেয়ে সিলেক্টিভ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদন করলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। আবার শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং দেখে তালিকা তৈরি করলেও সমস্যা হতে পারে। ফ্যাকাল্টি ফিট, প্রোগ্রামের গবেষণার ক্ষেত্র, সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী নেওয়ার ধরণ, ফান্ডিং কাঠামো এবং নিজের অ্যাকাডেমিক প্রস্তুতি বিবেচনা করে আবেদন তালিকা তৈরি করা বেশি তথ্যভিত্তিক পদ্ধতি। কারণ প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের মূল্যায়ন পদ্ধতি ও অগ্রাধিকার এক নয়। অ্যাপ্লিকেশনের ছোটখাটো ভুলও কখনো বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। ভুল ডকুমেন্ট, অসম্পূর্ণ তথ্য, প্রোগ্রামের নির্দিষ্ট নির্দেশনা না মানা, ভুল ফরম্যাট বা ডেডলাইনের পর কোনো উপকরণ জমা দেওয়া আবেদনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আবার কোনো প্রোগ্রাম অতিরিক্ত ডকুমেন্ট গ্রহণই নাও করতে পারে। এমআইটির কিছু গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম আবেদনকারীদের অতিরিক্ত কাগজপত্র না পাঠানোর নির্দেশ দেয় এবং নির্ধারিত উপকরণের মধ্যেই আবেদন সীমাবদ্ধ রাখতে বলে। সবশেষে, সিজিপিএ বা ইংলিশ টেস্ট স্কোরকে পুরো অ্যাপ্লিকেশনের একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে দেখা ঠিক নয়। অনেক গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম হোলিস্টিক রিভিউয়ের মাধ্যমে অ্যাকাডেমিক রেকর্ডের পাশাপাশি গবেষণার অভিজ্ঞতা, SOP, রেকমেন্ডেশন, লেখার নমুনা এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার সম্ভাবনা বিবেচনা করে। তাই আমেরিকায় ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স বা পিএইচডিতে একটি রিজেকশনকে নিজের যোগ্যতার চূড়ান্ত মূল্যায়ন হিসেবে দেখা উচিত নয়। অনেক সময় একজন আবেদনকারীর সক্ষমতার পাশাপাশি নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের প্রয়োজন, ফ্যাকাল্টি ফিট, ওই বছরের আবেদনকারীদের প্রতিযোগিতা এবং উপলব্ধ ফান্ডিংয়ের মতো বিষয়ও সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে। একজন আবেদনকারীর জন্য সবচেয়ে কার্যকর প্রস্তুতি হলো নিজের গবেষণার আগ্রহ স্পষ্ট করা, উপযুক্ত প্রোগ্রাম ও ফ্যাকাল্টি খুঁজে আবেদন করা এবং প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট আবেদন ও ফান্ডিং নির্দেশনা ভালোভাবে অনুসরণ করা।
কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার নুদরাত ফারিহা ঐশী যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্টে পাঁচ বছর মেয়াদি পূর্ণ অর্থায়নের পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পিএইচডি করছেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি কুতুবদিয়ার তরুণদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ। নুদরাত ফারিহা ঐশীর শিক্ষাজীবনের শুরু বাংলাদেশেই। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করার পর তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। সেখানে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতেও হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পড়ার সুযোগ রয়েছে। স্নাতক শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ফারিহা। সেখানে ইউনিভার্সিটি অব ব্রিজপোর্ট থেকে বিজনেস অ্যানালিটিক্স বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির অ্যানালিটিক্স স্নাতকোত্তর কর্মসূচিতে তথ্য বিশ্লেষণ, গবেষণা এবং ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি থিসিস বা ইন্টার্নশিপের সুযোগ রয়েছে। এরপর শুরু হয় পিএইচডিতে ভর্তির প্রস্তুতি। গ্র্যাজুয়েট রেকর্ড এক্সামিনেশন বা জিআরইতেও ভালো ফল করেন তিনি। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও আবেদন প্রক্রিয়া শেষে এবার ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্টে হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্টে পিএইচডির সুযোগ পেয়েছেন। ইউম্যাস অ্যামহার্স্টের তথ্য অনুযায়ী, হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্টের পিএইচডি কর্মসূচিতে গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি এই কর্মসূচির শিক্ষার্থীদের জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত বছরে ৪০ হাজার ডলারের বেশি গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাব, ভোক্তার আচরণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার সুযোগ রয়েছে। কুতুবদিয়ার দক্ষিণ ধুরংয়ের সন্তান ফারিহা ঐশী স্থানীয়ভাবে একটি পরিচিত পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তিনি দক্ষিণ ধুরং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জালাল আহমেদের নাতনী। তার বাবা জাফর একজন ব্যাংকার এবং মা লাভলী গৃহিণী। পরিবারের সদস্যরা তার এই অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। ফারিহার এই সাফল্যের গল্পের আরেকটি দিক হলো, তার একাডেমিক পথটি একাধিক বিষয়ের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। বাংলাদেশে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে পড়াশোনার পর যুক্তরাষ্ট্রে বিজনেস অ্যানালিটিক্সে স্নাতকোত্তর এবং এখন হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্টে পিএইচডি করছেন তিনি। ফলে ব্যবস্থাপনা, তথ্য বিশ্লেষণ ও পর্যটন গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্রকে একসঙ্গে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। পিএইচডি শেষে অর্জিত জ্ঞান, গবেষণার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দেশ, মানুষ ও মানবতার কল্যাণে কাজে লাগাতে চান ফারিহা ঐশী। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার এই নতুন অধ্যায় সফলভাবে শেষ করে ভবিষ্যতে দেশের জন্য কাজ করার প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তিনি। কুতুবদিয়ার মতো একটি দ্বীপ উপজেলা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ পাওয়া ফারিহা ঐশীর যাত্রা তাই শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণার গল্প। তার সামনে এখন দীর্ঘ গবেষণার পথ। এই পথ সফলভাবে পেরিয়ে তিনি কী ধরনের গবেষণা ও অবদান রাখেন, সেটিই হবে তার পরবর্তী অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ফাহমিদা আক্তার চৌধুরী ইভা যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটিতে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডির সুযোগ পেয়েছেন। ২০২৬ সালের Fall সেমিস্টার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই প্রোগ্রামে তিনি পূর্ণ অর্থায়ন পেয়েছেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই ফান্ডিংয়ের মোট মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় দুই কোটি টাকারও বেশি বলে জানানো হয়েছে। ফাহমিদা ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি শেষ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। ২০২৩ সালে স্নাতক সম্পন্ন করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটিতে পদার্থবিজ্ঞানে মাস্টার্সে ভর্তি হন এবং পূর্ণ স্কলারশিপে সেই ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। মাস্টার্সের পাশাপাশি গবেষণাতেও সক্রিয় ছিলেন ফাহমিদা। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন একাডেমিক ও বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে তিনি নিজের গবেষণাকর্ম উপস্থাপন করেন এবং গবেষক ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পান। মাস্টার্স শেষ করার পর একই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডির জন্য পূর্ণ অর্থায়নের সুযোগ পান তিনি। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পুরো পিএইচডি প্রোগ্রামের ফান্ডিংয়ের পরিমাণ দুই কোটি টাকারও বেশি। ফাহমিদার উচ্চশিক্ষার পথচলায় পরিবারের সমর্থনের কথাও প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাবা ও স্বামীর সহযোগিতা পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে স্বামী চিকিৎসক রোমান খানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন ফাহমিদা। নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের মতো বিশেষায়িত একটি ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ পাওয়া ফাহমিদার একাডেমিক ও গবেষণাভিত্তিক পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: আজকের পত্রিকা
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে ২ দশমিক ৫৭ সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক শেষ করেছিলেন আরমান সাইকট। সাধারণ ধারণা অনুযায়ী, এমন ফলাফল নিয়ে উচ্চশিক্ষার বড় সুযোগ পাওয়া কঠিন। কিন্তু সেই ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ করে দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সপেরিমেন্টাল কোয়ান্টাম রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে পূর্ণ অর্থায়নে ইন্টিগ্রেটেড পিএইচডি প্রোগ্রামে সুযোগ পেয়েছেন তিনি। আরমানের এই অর্জনের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে একাডেমিক ফলাফলের বাইরে গবেষণায় তার দীর্ঘ প্রস্তুতি। স্নাতক শেষ করার পর তিনি প্রায় ১৪ মাস গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করেন। এ সময় গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি একাধিক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন এবং কোয়ান্টাম বিজ্ঞানে নিজের দক্ষতা ও আগ্রহ তৈরি করেন। তবে এই সুযোগ একবারে আসেনি। গবেষণার সুযোগ ও পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য তিনি প্রায় ১০০ জন অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে ইমেইল পাঠানো, প্রত্যাখ্যান সামলানো এবং নতুন সুযোগ খুঁজে যাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক সাড়া পান তিনি। আরমানের যাত্রা দেখাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিই একজন শিক্ষার্থীর পুরো ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। গবেষণার অভিজ্ঞতা, নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা, শেখার আগ্রহ, মেন্টরশিপ এবং দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতাও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য তার অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা দিচ্ছে। সিজিপিএ প্রত্যাশার চেয়ে কম হলেও গবেষণার কাজ, প্রকাশনা, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা দিয়ে নিজের প্রোফাইল শক্তিশালী করার সুযোগ থাকে। আরমান সাইকটের কোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়। এটি এমন শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ, যারা তুলনামূলক কম সিজিপিএর কারণে নিজেদের একাডেমিক ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। তার পথচলা অন্তত এটুকু স্পষ্ট করে, একটি ট্রান্সক্রিপ্ট একজন শিক্ষার্থীর সম্ভাবনার পুরো গল্প বলে না। লক্ষ্য, গবেষণার দক্ষতা, কৌতূহল এবং বারবার চেষ্টা করার মানসিকতাও ভবিষ্যতের দরজা খুলে দিতে পারে।
মাত্র ১১ বছর বয়সে কলেজের ডিগ্রি অর্জন করে চমক সৃষ্টি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এলিয়ট ট্যানার। ১৩ বছর বয়সেই তিনি পদার্থবিজ্ঞানে চার বছরের স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে ১৮ বছর বয়সে তিনি ডার্ক ম্যাটার নিয়ে পিএইচডি গবেষণার শেষ পর্যায়ে রয়েছেন। এলিয়ট মাত্র ৯ বছর বয়সে কলেজে ভর্তি হন। এর দুই বছর পর, ১১ বছর বয়সে নরম্যান্ডেল কমিউনিটি কলেজ থেকে গণিতে অ্যাসোসিয়েট অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটায় ভর্তি হয়ে ১৩ বছর বয়সে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন, সঙ্গে গণিতে মাইনর করেন। এরপর একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হন এলিয়ট। মাত্র ১৫ বছর বয়সে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি পিএইচডি ক্যান্ডিডেট হিসেবে উন্নীত হন। বর্তমানে পরীক্ষামূলক কণাপদার্থবিদ্যা নিয়ে গবেষণা করছেন তিনি। তার গবেষণার অন্যতম বিষয় ডার্ক ম্যাটার। এলিয়টের অসাধারণ মেধার পরিচয় অবশ্য আরও ছোট বয়সেই পাওয়া যায়। মাত্র ১৮ মাস বয়সে নিজে নিজে পড়তে শেখেন তিনি। তিন বছর বয়সে যোগ-বিয়োগ করতে পারতেন এবং পাঁচ বছর বয়সেই ‘হ্যারি পটার’ সিরিজ পড়তেন। তিন বছর বয়সে চতুর্থ শ্রেণির পর্যায়ের পড়াশোনাও করছিলেন। প্রথমদিকে তাকে সাধারণ স্কুলে ভর্তি করা হলেও দ্রুতই সেই শিক্ষাব্যবস্থা তার জন্য যথেষ্ট না হওয়ায় বাবা-মা তাকে হোমস্কুলিং করান। সেখানে তার শেখার গতি অনুযায়ী পড়াশোনার সুযোগ তৈরি করা হয়। শুধু বইয়ের পড়াশোনার মধ্যেই তাকে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। মহাকাশের প্রতি আগ্রহ তৈরি হলে তাকে কেনেডি স্পেস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। গণিত, বিজ্ঞান ও কোডিং শেখার পাশাপাশি বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও বাস্তব অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ পান তিনি। এলিয়টের বাবা-মা জানিয়েছেন, এত দ্রুত পড়াশোনা করলেও তার শৈশব যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকেও তারা গুরুত্ব দিয়েছেন। বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা ও বয়সসুলভ কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নিজের আগ্রহ অনুযায়ী পড়াশোনা করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে পিএইচডির পাশাপাশি এলিয়ট গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংগঠনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং শিক্ষক সহকারী হিসেবেও কাজ করছেন। ভবিষ্যতে পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তার। তার মা বলেন, এলিয়টকে তারা কখনো জোর করে দ্রুত পড়াশোনা করাননি; বরং তার শেখার আগ্রহ ও সক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজে পড়াশোনা করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন ইসরাত জাহান। ময়মনসিংহের মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগ থেকে শুরু হওয়া তাঁর শিক্ষাজীবনের পথ পেরিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মেমফিসের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ পর্যন্ত। সেখানে পূর্ণ তহবিলের সহায়তায় স্নাতকোত্তর শেষ করার পর তিনি পিএইচডির জন্য ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আর্বানা-শ্যাম্পেইনে ভর্তি হন এবং মেমফিসে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতাও করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যেও তাঁর স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এবং পরবর্তী সময়ে পিএইচডি শিক্ষার্থী হিসেবে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ইসরাত। সুযোগ না পেয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ময়মনসিংহের মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। তাঁর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন বলে নিজেকে কখনো পিছিয়ে থাকা মনে করেননি। বরং নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। শিক্ষাজীবনের শুরুটাও তাঁর জন্য খুব সহজ ছিল না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন পড়াশোনায় দীর্ঘ সেশনজটের কারণে ২০১০ সালে শুরু করা স্নাতক পড়াশোনার চূড়ান্ত পরীক্ষা দিতে তাঁকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। পরে এক বন্ধুর পরামর্শে বিদেশে উচ্চশিক্ষার কথা ভাবেন তিনি। তখন ইংরেজি বিভাগে পড়াশোনা করলেও ইংরেজিতে কথা বলা ও অনেক বিষয় বুঝতে তাঁর সমস্যা হতো। সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে নিয়মিত চেষ্টা করেন। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য জিআরই পরীক্ষাও দেন দুইবার। প্রথমবার প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর দ্বিতীয়বার আরও প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দেন। এরপর শুরু হয় উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় খোঁজার পালা। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাগত পটভূমি বিবেচনা করা হবে, কোথায় জিআরই বাধ্যতামূলক নয় এবং ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের মতো বিষয়ে পড়ার সুযোগ আছে কি না, এসব তথ্য তিনি বিভিন্ন উচ্চশিক্ষাবিষয়ক গ্রুপ ও বিভিন্ন সূত্র থেকে খুঁজে বের করেন। পরে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিল রেখে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন। সেই চেষ্টার ফল আসে ইউনিভার্সিটি অব মেমফিস থেকে। সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পূর্ণ তহবিলের সহায়তায় স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ পান ইসরাত। বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি অনুযায়ী, তিনি বাংলাদেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৬ সালে স্নাতক এবং ২০১৮ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ২০২২ সালে ইউনিভার্সিটি অব মেমফিস থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তাঁর স্নাতকোত্তর গবেষণার বিষয় ছিল বাংলাদেশি নারীদের আর্থসামাজিক অবস্থার সঙ্গে প্রজনন আচরণের সম্পর্ক। স্নাতকোত্তর শেষ করার পর ইসরাত ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আর্বানা-শ্যাম্পেইনের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পিএইচডি শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রোফাইলে তাঁর গবেষণার আগ্রহের মধ্যে নারীর স্বাস্থ্য, জনমিতি, স্বাস্থ্য বৈষম্য ও চিকিৎসা সমাজবিজ্ঞান উল্লেখ রয়েছে। একই প্রোফাইলে ইউনিভার্সিটি অব মেমফিসে সমাজবিজ্ঞানের দুটি কোর্স পড়ানোর তথ্যও রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব মেমফিসের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে স্নাতকোত্তর শেষ করার পর ইসরাত জাহান পিএইচডির জন্য ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আর্বানা-শ্যাম্পেইনে যান। মেমফিস বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিতে তাঁর পদ হিসেবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অ্যাডজাঙ্কট ইনস্ট্রাক্টরের তথ্যও রয়েছে। একসময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজে পড়াশোনা করাকে ঘিরে নানা ধরনের কটাক্ষ শুনতে হয়েছিল ইসরাতকে। সেই পথ পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা ও শিক্ষকতায় পৌঁছানোর গল্পটি দেখায়, শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শুধু কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে না। নিজের দক্ষতা তৈরি, সঠিক তথ্য খোঁজা এবং সুযোগের জন্য ধারাবাহিক চেষ্টা করাও উচ্চশিক্ষার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।