- প্রচ্ছদ
- Topic
মৃত্যুদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রে মৃ ত্যুদণ্ড নিয়ে জনমত এখনও পুরোপুরি বদলে যায়নি। সাম্প্রতিক একাধিক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির অধিকাংশ মানুষ হ ত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির জন্য মৃ ত্যুদণ্ডকে সমর্থন করেন। তবে কয়েক দশক আগের তুলনায় এই সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে মৃ ত্যুদণ্ড নৈতিকভাবে কতটা গ্রহণযোগ্য এবং গুরুতর অপরাধ ঠেকাতে এটি আদৌ কার্যকর কি না—এসব প্রশ্নে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে স্পষ্ট বিভক্তি দেখা যাচ্ছে। পিউ রিসার্চের জুলাই ২০২৬ সালের জরিপে ৬৬ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, হ ত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে মৃ ত্যুদণ্ডের পক্ষে তারা। বিপরীতে ৩২ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন। ৩ হাজার ৫৫৪ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত এই জরিপে মৃ ত্যুদণ্ডের নৈতিকতা এবং অপরাধ প্রতিরোধে এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জরিপের ফলাফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্য উঠে এসেছে। ৬৮ শতাংশ মানুষ বলেছেন, হ ত্যার মতো অপরাধের ক্ষেত্রে মৃ ত্যুদণ্ড নৈতিকভাবে ন্যায়সংগত। কিন্তু একই সময়ে ৫৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, মৃ ত্যুদণ্ড গুরুতর অপরাধ সংঘটন থেকে মানুষকে বিরত রাখে না। অর্থাৎ, অনেক আমেরিকান এই শাস্তিকে নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করলেও অপরাধ দমনে এর কার্যকারিতা নিয়ে তারা নিশ্চিত নন। কয়েক দশকে কমেছে সমর্থন মৃ ত্যুদণ্ডের প্রতি আমেরিকানদের সমর্থন একসময় বর্তমানের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। গ্যালাপের দীর্ঘমেয়াদি জরিপ অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালে ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক হ ত্যার দায়ে দোষী ব্যক্তির জন্য মৃ ত্যুদণ্ডের পক্ষে ছিলেন। কয়েক দশক পর সেই সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। ২০২৫ সালের গ্যালাপ জরিপে ৫২ শতাংশ মানুষ মৃ ত্যুদণ্ডের পক্ষে মত দেন, আর ৪৪ শতাংশ এর বিরোধিতা করেন। অর্থাৎ, মৃ ত্যুদণ্ড এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন পেলেও পক্ষে-বিপক্ষের ব্যবধান এখন আগের তুলনায় অনেক কম। নৈতিকতার প্রশ্নেও একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ২০২৬ সালের জুনের গ্যালাপ জরিপে মাত্র ৫২ শতাংশ আমেরিকান বলেছেন, মৃ ত্যুদণ্ড নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য। গ্যালাপের হিসাবে, এটি তাদের জরিপে এ ধরনের মতামতের সর্বনিম্ন পর্যায়। রাজনৈতিক বিভাজনও স্পষ্ট মৃ ত্যুদণ্ড নিয়ে মার্কিন জনমতে রাজনৈতিক বিভাজনও বড় ভূমিকা রাখছে। পিউ রিসার্চের জরিপে রিপাবলিকান ও রিপাবলিকানপন্থী স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ৮৪ শতাংশ মৃ ত্যুদণ্ডের পক্ষে ছিলেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট ও ডেমোক্র্যাটপন্থী ভোটারদের মধ্যে সমর্থনের হার ছিল ৫১ শতাংশ। এর ফলে দেখা যাচ্ছে, মৃ ত্যুদণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে শুধু নৈতিক অবস্থানের পার্থক্য নয়, রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গেও দৃষ্টিভঙ্গির বড় সম্পর্ক রয়েছে। রিপাবলিকানদের মধ্যে সমর্থন তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও অর্ধেকের বেশি মানুষ নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই শাস্তির পক্ষে রয়েছেন। তবে মৃ ত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্তের আশঙ্কা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ রয়েছে। পিউয়ের জরিপে ৭৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে মৃ ত্যুদণ্ড দেওয়ার কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে। মাত্র এক-চতুর্থাংশ মনে করেন, এমন ভুল ঠেকানোর জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। ব্যর্থ কার্যকরণে নতুন করে প্রশ্ন মৃ ত্যুদণ্ড নিয়ে এই বিতর্কের মধ্যেই টেনেসিতে একটি ব্যর্থ কার্যকরণের ঘটনা বিষয়টিকে আরও আলোচনায় এনেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ক্রিস্টা পাইকের মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময় তাকে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের ওষুধ পেন্টোবারবিটালের দুই ডোজ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি বেঁচে যান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তার আইনজীবীরা জানান, তিনি সচেতন ছিলেন ও কথা বলছিলেন। ঘটনাটি কেন ঘটেছে, তা নিয়ে তখনও নিশ্চিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। পাইকের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, ইনজেকশনের শিরার লাইন সঠিকভাবে স্থাপন করা হয়নি। টেনেসিতে একই বছরে এটি ছিল দ্বিতীয় ব্যর্থ মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকরণের ঘটনা। এর আগে মে মাসে টনি কারাদার্সের মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে শিরায় প্রবেশের পথ তৈরি করার চেষ্টা করেও সফল না হওয়ায় কার্যক্রম বাতিল করা হয়। ক্রিস্টা পাইকের ঘটনার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি রাজ্যের ২০২৬ সালের বাকি মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকরণ স্থগিত করেন এবং তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া পর্যালোচনার নির্দেশ দেন। তবে অন্য কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে নির্ধারিত কার্যকরণ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যায়। ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান মৃ ত্যুদণ্ডের প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি একটি নির্বাহী আদেশে গুরুতর ফেডারেল অপরাধের ক্ষেত্রে মৃ ত্যুদণ্ড চাওয়ার বিষয়ে বিচার বিভাগকে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন। আদেশে মৃ ত্যুদণ্ডকে সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তি ও অপরাধ প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরা হয়। চলতি সপ্তাহেও ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকরণের পদ্ধতি নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক জরিপগুলো দেখাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে মৃ ত্যুদণ্ডের পক্ষে এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠ জনমত রয়েছে। কিন্তু ১৯৯০-এর দশকের ৮০ শতাংশ সমর্থনের তুলনায় বর্তমান অবস্থান অনেক দুর্বল। বিশেষ করে শাস্তিটির নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকারিতা এবং নিরপরাধ ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি—এই তিনটি বিষয় আমেরিকানদের মতামতকে ক্রমেই বিভক্ত করছে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রে মৃ ত্যুদণ্ডের প্রতি আস্থা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শাস্তিকে ঘিরে প্রশ্ন বাড়ছে, আর জনমতের ব্যবধানও ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে এক নারী আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ার পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির কারা বিভাগের প্রধান ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা। শনিবার (৩ অক্টোবর) অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর বিল লি এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, চলতি মাসেই নিজ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন স্ট্রাডা। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রাণঘাতী ইনজেকশন বা লিথাল ইনজেকশনের মাধ্যমে ক্রিস্টা পাইক নামের ওই নারী আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময় সকাল ১০টায় তাঁকে দুই দফায় পেন্টোবারবিটাল দেওয়া হলেও তিনি মারা যাননি। উল্টো সংকটাপন্ন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। আইনজীবীদের দাবি, ইনজেকশন দেওয়ার সময় তাঁকে জোরে জোরে শ্বাস নিতে ও কাঁদতে দেখা যায় এবং বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় ভেন্টিলেটরের সাহায্যে বেঁচে আছেন। কারাপ্রধান স্ট্রাডা তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দুই ডোজ ইনজেকশন দেওয়ার পরও আসামির বেঁচে যাওয়ার ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এ অবস্থায় টেনেসিবাসী তথা বৃহত্তর স্বার্থে তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন। হত্যাকাণ্ডের দায়ে অভিযুক্ত ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ডটি কার্যকর হলে তিনি হতেন গত ২০০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রথম নারী। কিন্তু এই বিরল ব্যর্থতার পর তাঁর আইনজীবীরা সাজা কমানোর আবেদন করেছেন। আইনজীবীরা এক বিবৃতিতে কারাপ্রধান ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডার পদত্যাগকে যৌক্তিক উল্লেখ করে বলেন, এই পদত্যাগ ক্রিস্টার কোনো উপকারে আসবে না। বুধবারের এই ঘটনা সম্পূর্ণ পদ্ধতিগত ব্যর্থতার প্রমাণ। তারা আশা প্রকাশ করেন, স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে টেনেসির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই ব্যবস্থায় থাকা বড় ধরনের ত্রুটিগুলো সামনে আসবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সব আলামত সংরক্ষণের জন্য আইনজীবীরা শুক্রবার একটি জরুরি আবেদনও দাখিল করেছেন। এদিকে টেনেসির কারা বিভাগ তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর পদ্ধতির পক্ষেই সাফাই গেয়েছে। তাদের দাবি, যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, প্রোটোকল তার বাইরে অতিরিক্ত কোনো প্রক্রিয়ার অনুমোদন দেয় না। তবে ঠিক কী কারণে এই ব্যর্থতা এবং পুনরায় ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হবে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।
খ্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে দুই শতাব্দীর মধ্যে প্রথমবার কোনো নারীকে মৃত্যুদণ্ড দেবে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য টেনেসি। ১৯৯৫ সালে সহপাঠী কোলিন স্লেমারকে হত্যার ঘটনায় দণ্ডিত পাইক বর্তমানে ৫০ বছর বয়সী। নাশভিল, টেনেসি: যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ২০০ বছর পর প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে। ৫০ বছর বয়সী খ্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড আগামী বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর কার্যকর করার কথা রয়েছে। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ১৮২০ সালের পর টেনেসিতে প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। ১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে সহপাঠী ১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন পাইক। তারা দুজনই নক্সভিলের জব কর্পসে পড়াশোনা করতেন। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, পাইক মনে করতেন স্লেমার তার প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করছেন। এ কারণে পাইক ও তার প্রেমিক টাডারিল শিপ স্লেমারকে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে নির্যাতন ও হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনার নৃশংসতা, জড়িতদের অল্প বয়স এবং নিহতের শরীরে শয়তানবাদ-সংশ্লিষ্ট একটি প্রতীক খোদাই করার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। মামলায় শিপ স্বীকার করেছিলেন যে তিনিই স্লেমারের শরীরে পেন্টাগ্রাম বা পাঁচকোণা তারকা আকৃতির প্রতীকটি খোদাই করেছিলেন। পাইক তার অপরাধের দায় অস্বীকার করেননি। তবে তার আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছেন, ১৮ বছর বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উপযুক্ত নয়। তাদের দাবি, শৈশব থেকেই পাইক গুরুতর নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন ও অবহেলার শিকার হয়েছেন। পরবর্তী সময়ে তার বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার শনাক্ত হয়। পাইকের আইনজীবী স্টিফেন ফেরেলের ভাষ্য অনুযায়ী, ছোটবেলা থেকেই পাইক যৌন নির্যাতনের শিকার হন এবং ১১ ও ১৭ বছর বয়সে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। তার আইনজীবীদের দাবি, মৃত্যুদণ্ড নির্ধারণের সময় বিচারকদের সামনে তার শৈশবের এসব পরিস্থিতি ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যথেষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। ক্ষমা প্রার্থনার আবেদনে পাইক নিজের অপরাধের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি বলেন, তিনি তখন মানসিকভাবে অসুস্থ ১৮ বছর বয়সী এক তরুণী ছিলেন এবং নিজের কর্মকাণ্ডের ভয়াবহতা বুঝতে তার অনেক বছর লেগেছে। তিনি স্বীকার করেছেন, তার কর্মকাণ্ডে একটি পরিবারের সন্তান, বোন ও বন্ধুকে হারাতে হয়েছে। পাইকের আইনজীবীরা আরও বলছেন, বর্তমানে কিশোর-কিশোরীদের মস্তিষ্কের বিকাশ ও শৈশবের মানসিক আঘাতের প্রভাব সম্পর্কে আগের তুলনায় অনেক বেশি বৈজ্ঞানিক তথ্য জানা যায়। তাদের মতে, অপরাধের সময় পাইকের বয়স এবং তার শৈশবের পরিস্থিতি মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার কারণ হওয়া উচিত। মামলায় পাইকের প্রেমিক টাডারিল শিপের বয়স ছিল ১৭ বছর। তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে প্যারোলের সুযোগ রাখা হয়েছিল। ২০২৫ সালে তার প্যারোলের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। আরেক কিশোর সহযোগী হিসেবে দায় স্বীকার করে পরীক্ষামূলক মুক্তির সাজা পেয়েছিল। টেনেসির গভর্নর বিল লি সোমবার জানিয়েছেন, তিনি পাইকের সাজা মওকুফ করবেন না। এর পর পাইকের আইনজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করেছেন। এর আগে টেনেসি সুপ্রিম কোর্টও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ বন্ধ করেনি। ২৩ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক রায়ে আদালত জানায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতি নিয়ে পাইকের করা চ্যালেঞ্জ সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। এদিকে নিহত কোলিন স্লেমারের মা মে মার্টিনেজ মেয়ের মৃত্যুর পর প্রায় তিন দশক ধরে অপেক্ষা করছেন। তিনি পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার ভাষ্য, কোলিন মাত্র ১৯ বছর বয়সে মারা যান এবং বড় হয়ে ওঠার সুযোগ পাননি। মার্টিনেজ জানান, তার মেয়ে স্পেশাল অলিম্পিকসে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতেন, রোলার স্কেটিং পছন্দ করতেন এবং কম্পিউটার নিয়ে কাজ করার পেশাগত স্বপ্ন ছিল। কোলিনের হত্যাকাণ্ড নক্সভিল শহরেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় তাকে ধারালো বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয় এবং বড় একটি পাথর বা অ্যাসফল্টের টুকরা দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। ঘটনাটি ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকের তথাকথিত ‘স্যাটানিক প্যানিক’ বা শয়তানবাদ নিয়ে সামাজিক আতঙ্কের আলোচনাকেও উসকে দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা তুলনামূলকভাবে বিরল। ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড পুনরায় কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৮ জন নারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা ওই সময়ের মোট মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রায় ১ শতাংশ। ২০২৩ সালে মিসৌরিতে অ্যাম্বার ম্যাকলাফলিনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার লিসা মন্টগোমেরির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে, যা প্রায় সাত দশকের মধ্যে কোনো নারী ফেডারেল বন্দির প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ছিল। ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের হিসাবে, আধুনিক মৃত্যুদণ্ডের যুগে যুক্তরাষ্ট্রে ১৮, ১৯ বা ২০ বছর বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য ২৭৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। তবে এই বয়সসীমার ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা বর্তমানে ক্রমেই বিরল হয়ে এসেছে। পাইক ১৯৯৬ সালে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পর প্রায় ৩০ বছর ধরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে কারাগারে রয়েছেন। তার মৃত্যুদণ্ড বুধবার কার্যকর হলে টেনেসির ইতিহাসে ২০০ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP), ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টার (DPIC)
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন হত্যা মামলায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। প্রায় ১৩ বছর আগে সংঘটিত আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মামলায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রায় এলো। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তিন আসামি হলেন—সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা, মো. আজাদ ও শাহজাহান। আদালত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দিয়েছেন। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তিন আসামিই পলাতক। এ ছাড়া মো. সুজন, ছানোয়ার হোসেন, শফিকুল ইসলাম ও রুজবেলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে; অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ভোরে প্রাতর্ভ্রমণে বের হয়েছিলেন দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন। টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর বটতলা বাজার এলাকায় তাঁর ওপর হামলা হয়। হামলাকারীরা গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহতের ছোট ভাই লাভলু মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। বাদী ওই অভিযোগপত্রে নারাজি দিলে আদালতের নির্দেশে পরে সিআইডি পুনঃতদন্ত করে। ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল সিআইডি আটজনের বিরুদ্ধেই পুনরায় অভিযোগপত্র জমা দেয়। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে সোমবার আদালত তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড, চারজনকে যাবজ্জীবন এবং একজনকে খালাস দেওয়ার রায় ঘোষণা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে ২০০ বছরের বেশি সময় পর কোনো নারী বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একমাত্র নারী বন্দি ক্রিস্টা গেইল পাইকের মৃত্যুদণ্ড ৩০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় কার্যকরের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। কার্যকর হলে ১৮১৯ সালের পর টেনেসিতে কোনো নারীর প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। অঙ্গরাজ্যের কারা বিভাগও এরই মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য গণমাধ্যমের সাক্ষী নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পাইকের বিরুদ্ধে ১৯৯৫ সালে নক্সভিলে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ঘটনার সময় পাইকের বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। জব কর্পস প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে একই প্রতিষ্ঠানে থাকা স্লেমারকে হত্যার ঘটনায় পাইকের সঙ্গে আরও দুই কিশোর জড়িত ছিল। তবে তিনজনের মধ্যে শুধু পাইকই মৃত্যুদণ্ড পান। পাইকের তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের বয়স ছিল ১৭ বছর। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার মৃত্যুদণ্ড হয়নি এবং তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য সহযোগী শ্যাডোলা পিটারসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করে এবং পরে প্রবেশন পান। পাইকের ক্ষেত্রে ১৮ বছর বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি এখনো মামলাটির অন্যতম আলোচিত দিক। পাইকের আইনজীবীরা বলছেন, অপরাধের সময় তার বয়স এবং শৈশবের দীর্ঘদিনের নির্যাতনের ইতিহাস বিবেচনায় নেওয়া উচিত। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, পাইক শৈশবে যৌন নির্যাতন, শারীরিক সহিংসতা, অবহেলা ও অন্যান্য নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। তার আইনজীবীদের দাবি, বিচার চলাকালে এসব পরিস্থিতি যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ঠেকাতে পাইকের আইনজীবীরা সেপ্টেম্বরে টেনেসির গভর্নর বিল লির কাছে ক্ষমা বা সাজা কমানোর আবেদন করেছেন। তারা মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। এর আগে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়েও আইনি লড়াই হয়েছে। আগস্টে তিন দিনের শুনানির পর বিশেষ বিচারক মার্ক ওয়ার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাইকের আইনজীবীরা বর্তমান পদ্ধতিতে অপ্রয়োজনীয় বা অসাংবিধানিক কষ্টের ঝুঁকি প্রমাণ করতে পারেননি। পরে তার আইনজীবীরা ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানান। পাইকের মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে। একদিকে ১৯৯৫ সালের হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতা এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের ন্যায়বিচারের প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে অপরাধের সময় পাইকের বয়স, তার শৈশবের নির্যাতনের ইতিহাস এবং মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থার ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তার আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা। ৩০ সেপ্টেম্বর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে পাইক হবেন টেনেসিতে ১৮১৯ সালের পর মৃত্যুদণ্ড পাওয়া প্রথম নারী। একই সঙ্গে আধুনিক সময়ে অঙ্গরাজ্যটিতে ১৮, ১৯ বা ২০ বছর বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া প্রথম ব্যক্তিও হবেন তিনি।
ফ্লোরিডায় একটি ট্রাকের কেবিনে চার শিশুকে ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে আটকে রেখে যৌন নির্যাতন ও অবহেলা করার অভিযোগ উঠেছে দুই প্রাপ্তবয়স্কের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কেইশা মনিক ইপস, ৫১, এবং তামরা মার্শন স্টুয়ার্ট, ৩৭, এর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমেয়ার। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার শিশুর মধ্যে দুই মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। তাদের বয়স ছিল ৫, ৫, ৬ ও ৯ বছর। অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুদের দীর্ঘ সময় ধরে একটি ট্রাকের কেবিনে রাখা হয়। ওই সময় তাদের স্বাভাবিকভাবে স্কুলে যাওয়া, চিকিৎসা নেওয়া কিংবা বাইরে চলাফেরার সুযোগও ছিল না। ১ সেপ্টেম্বর ফ্লোরিডার কিসিমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে উথমেয়ার বলেন, শিশুরা এমন একটি চলন্ত কারাগারে আটকে ছিল, যেখানে তাদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা প্রাপ্তবয়স্করাই তাদের নির্যাতন করেছেন। তিনি জানান, শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত কথিত অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় তার দপ্তর মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করবে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ইপস পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন। তিনি মিয়ামি ও আটলান্টার মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। স্টুয়ার্টকে তার বাগদত্তা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযোগ, দুজনই শিশুদের সঙ্গে ট্রাকের কেবিনে বসবাস করতেন। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের দিনের অধিকাংশ সময় ট্রাকের ভেতরেই কাটাতে হতো। কেবিনের জায়গা ছিল অত্যন্ত ছোট। চার শিশুকে একটি মাত্র শয্যায় পাশাপাশি শুতে হতো এবং জায়গার সংকটের কারণে তাদের কুঁকড়ে থাকতে হতো বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। শিশুরা প্রায় পাঁচ বছর স্কুলে যেতে পারেনি বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। তাদের পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হতো না এবং নিয়মিত চিকিৎসা বা দাঁতের চিকিৎসাও করানো হয়নি বলে অভিযোগ। এমনকি জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও তাদের চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়নি বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুই শিশুর শরীরে চিকিৎসা না পাওয়া পোড়ার ক্ষত ছিল। এর মধ্যে এক মেয়ে তদন্তকারীদের জানিয়েছে, রান্না করা নুডলসের কারণে একবার সে গুরুতরভাবে পুড়ে যায়। ওই সময় প্রচুর রক্তপাত হলেও তাকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়নি। পরে ওই ঘটনার কারণে তার শরীরে স্থায়ী দাগ তৈরি হয় বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এক শিশুর শরীরে চিকিৎসা না পাওয়া যৌনবাহিত সংক্রমণও শনাক্ত হয়েছে বলে অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে। দীর্ঘদিনের কথিত নির্যাতন ও অবহেলার কারণে শিশুদের গুরুতর শারীরিক সমস্যাও তৈরি হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের দাবি। শুধু শারীরিক ও চিকিৎসাগত অবহেলাই নয়, শিশুদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। উথমেয়ারের দপ্তর জানিয়েছে, দুই মেয়েশিশুকে স্টুয়ার্ট বছরের পর বছর যৌন নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের কাছে শিশুদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই ছেলে ওই নির্যাতনের ঘটনা দেখতে পেয়ে স্টুয়ার্টকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছিল। এরপর তাদের মাথায় ঘুষি মারা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। শিশুরা ইপসকে কথিত যৌন নির্যাতনের বিষয়টি জানিয়েছিল এবং তিনি ঘটনাগুলোর কিছু প্রত্যক্ষও করেছিলেন বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এরপরও তিনি শিশুদের স্টুয়ার্টের সঙ্গে একা রেখে যেতেন। একজন শিশুকে তিনি অপমানজনক নামেও ডেকেছিলেন বলে তদন্তকারীদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। উথমেয়ারের দপ্তরের দাবি, স্টুয়ার্ট তদন্তকারীদের কাছে একটি মেয়েশিশুর বিরুদ্ধে তিনটি যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটানোর কথা স্বীকার করেছেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান। তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, শিশুদের ট্রাকের কেবিনে এমনভাবে রাখা হতো যে তাদের নিয়মিত গোসল করা, শৌচাগার ব্যবহার করা কিংবা বাইরে গিয়ে শারীরিকভাবে চলাফেরা করার সুযোগ ছিল না। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রয়োজন মেটাতে কখনো কখনো তাদের কাপ ও কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করতে হতো। ইপস যখন ট্রাক চালাতেন, ঘুমাতেন বা গোসল করতেন, তখন শিশুদের দেখাশোনার দায়িত্ব স্টুয়ার্টের ওপর থাকত বলে শিশুদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। ফলে বছরের পর বছর তাদের জীবন কার্যত ট্রাকের ছোট কেবিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে তদন্তকারীদের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। উথমেয়ার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তার দলের কাজ করা মামলাগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি। শিশুদের দীর্ঘ সময় ধরে কথিত নির্যাতন ও অবহেলার কারণে তারা গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগছে বলেও তিনি জানান। ইপস ও স্টুয়ার্টকে ৬ আগস্ট গ্রেপ্তার করা হয়। ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুজনই ডুভাল কাউন্টি কারাগারে ছিলেন। স্টুয়ার্টের আইনগত প্রতিনিধিত্ব করছে ডুভাল কাউন্টি পাবলিক ডিফেন্ডারের কার্যালয়। ইপসের পক্ষে রয়েছে ফ্লোরিডার অফিস অব ক্রিমিনাল কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিভিল রিজিওনাল কাউন্সেল। ফ্লোরিডার আইনে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধরনের যৌন নির্যাতনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত প্রাপ্তবয়স্কের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রসিকিউশন মৃত্যুদণ্ড চাইলেই তা কার্যকর হবে এমন নয়। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা, প্রমাণ এবং সাজা নির্ধারণ করা হবে। ঘটনাটি সামনে আসার পর শিশুদের দীর্ঘ সময় শিক্ষা, চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার অভিযোগ বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে কী ঘটেছিল এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো কতটা প্রমাণিত হয়, তা পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত হবে। সূত্র: ফক্স নিউজ
মাদক মামলায় মিসরের টেলিভিশন উপস্থাপিকা সারাহ খলিফা এবং আরও ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার কায়রোর একটি ফৌজদারি আদালত এই রায় দেন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, আসামিরা মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামাল সংগ্রহ ও পাচারের উদ্দেশ্যে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গড়ে তুলেছিলেন। মামলায় মোট ২৮ জন আসামি ছিলেন। আদালত একই মামলায় আরও নয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন এবং সাতজনকে খালাস দিয়েছেন। মামলায় ৭৫০ কেজির বেশি মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছিল। ৩৯ বছর বয়সী সারাহ খলিফা ‘মিশন ইমপসিবল’ নামে একটি নিরাপত্তা ও অপরাধবিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপনার জন্য পরিচিত। বেসরকারি আল-মেহওয়ার টেলিভিশন চ্যানেলে অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হতো। টেলিভিশনের পাশাপাশি তিনি একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিক ও ইভেন্ট ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে; ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারী দুই মিলিয়নের বেশি। তবে খলিফা আদালতে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তদন্তকারীদের কাছে তিনি বলেছেন, জীবনে কখনো সিগারেটও পান করেননি এবং তিনি নির্দোষ। মামলার তদন্তে প্রসিকিউশন জানিয়েছে, ওই চক্র বিদেশ থেকে মাদক তৈরির কাঁচামাল আমদানি করত। পরে আবাসিক ভবনে এসব উপকরণ মজুত করে কৃত্রিম মাদক তৈরি করা হতো। চক্রের সদস্যদের মধ্যে কাঁচামাল সংগ্রহ, মাদক তৈরি ও সরবরাহের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। অভিযানে মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিও জব্দ করা হয়। ২০২৫ সালের এপ্রিলে তদন্তের অংশ হিসেবে সারাহ খলিফাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আগে মিসরের গ্র্যান্ড মুফতির ধর্মীয় মতামত নেওয়া হয়েছে। দেশটির আইনে মৃত্যুদণ্ডের মামলায় আদালতকে এ মতামত নিতে হয়। তবে এই মতামত বাধ্যতামূলক নয়। রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক বিচারিক সংস্কারের আওতায় আসামিরা প্রথমে আপিল আদালতে পুনর্বিচারের আবেদন করতে পারেন এবং এরপর ক্যাসেশন কোর্টে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এদিকে শনিবারই একই আদালত অন্য একটি মামলায় সারাহ খলিফাকে তার গাড়িচালককে মারধর ও সেই ঘটনার ভিডিও ধারণের অভিযোগে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। মিসরে মাদক পাচার, সন্ত্রাসবাদ এবং পূর্বপরিকল্পিত হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ১৯৮৭ সালের একটি হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সৈয়দ মোহাম্মদ রব্বানীর মৃত্যুদণ্ড ২০২৩ সালে বাতিল হলেও এখনও কারাগারেই দিন কাটছে তাঁর। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর মৃত্যুদণ্ডের সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে পরিবর্তিত হয়েছে। ৬০ বছর বয়সী রব্বানী বর্তমানে ডিকিনসনের ক্যারল ইয়াং ইউনিটে হসপিস সেবা নিচ্ছেন। ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত হিউস্টন ক্রনিকলের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। রব্বানীর জীবনের এই দীর্ঘ কারাবাসের শুরু ১৯৮৭ সালে হিউস্টনে। ওই বছর কুইক-এন-ইজি নামের একটি কনভেনিয়েন্স স্টোরে গুলিতে নিহত হন ২৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি অভিবাসী মোহাম্মদ জাকির হাসান। ওই হত্যাকাণ্ডে রব্বানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। পরের বছর হ্যারিস কাউন্টির একটি জুরি তাঁকে ক্যাপিটাল মার্ডারে দোষী সাব্যস্ত করে এবং মৃত্যুদণ্ড দেয়। তখন রব্বানীর বয়স ছিল মাত্র ২৪ বছর। ১৯৯২ সালে টেক্সাস কোর্ট অব ক্রিমিনাল আপিলস তাঁর দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় বহাল রাখে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখও একপর্যায়ে নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ আইনি লড়াই। রব্বানীর আইনজীবীরা তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সাংবিধানিক ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কয়েক মাসের মধ্যেই মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা তাঁকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য মানসিকভাবে অযোগ্য বলে মত দেন। কিন্তু তাঁর আইনি আবেদন দীর্ঘ সময় নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় পড়ে থাকে। প্রায় ২৮ বছর পর ২০২২ সালে সেই আবেদন আবার আদালতের সামনে আসে। তত দিনে রব্বানীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ব্যাপক অবনতি হয়েছে। তিনি ছানি পড়ে প্রায় দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন। ২০২২ সালে স্ট্রোকের পর তাঁর চলাফেরা ও যোগাযোগের সক্ষমতাও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁর মস্তিষ্কে স্থায়ী ক্ষতির পাশাপাশি গুরুতর মানসিক অসুস্থতার কথাও আদালতের নথি ও পরবর্তী প্রতিবেদনে উঠে আসে। অবশেষে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে টেক্সাসের সর্বোচ্চ ফৌজদারি আপিল আদালত রব্বানীর মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে। তবে হত্যার ঘটনায় তাঁর দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় বহাল থাকে। অর্থাৎ তিনি খালাস পাননি, কেবল মৃত্যুদণ্ডের সাজা বাতিল হয়েছে। পরে তাঁর সাজা প্যারোলের সুযোগসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে পরিবর্তন করা হয়। দীর্ঘ কারাবাসের মধ্যে পরিবারের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ১৯৯৫ সালে বাবার মৃত্যুর পর বাংলাদেশের স্বজনদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। প্রায় তিন দশক পর ২০২৩ সালে তাঁর ছোট ভাই সৈয়দ ফাসাইনি ইন্টারনেটে বড় ভাইয়ের খোঁজ করতে গিয়ে তাঁর মামলার সংবাদ খুঁজে পান। তখনই পরিবার জানতে পারে, রব্বানী এখনও জীবিত এবং টেক্সাসের কারাগারে আছেন। এরপর বাংলাদেশ থেকে পরিবারের পক্ষ থেকে রব্বানীকে মুক্তি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। তাঁর ভাই বিচারকের কাছে চিঠি লিখে জানান, মুক্তি পেলে পরিবার তাঁকে গ্রহণ করবে এবং তাঁর দেখাশোনা করবে। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর পরিবারের প্রত্যাশা ছিল, জীবনের শেষ সময়টা অন্তত স্বজনদের সঙ্গে কাটাতে পারবেন রব্বানী। কিন্তু সেই প্রত্যাশাও পূরণ হয়নি। ২০২৬ সালের জুনে হিউস্টন ক্রনিকল জানায়, রব্বানীর প্যারোল আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। তাঁর আইনজীবী বেঞ্জামিন উলফের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিবাসনগত অবস্থানের কারণে চিকিৎসাজনিত মুক্তির সুযোগও তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বর্তমানে তিনি ডিকিনসনের ক্যারল ইয়াং ইউনিটে হসপিস সেবা নিচ্ছেন। রব্বানীর মামলা টেক্সাসের দীর্ঘদিনের কারাবন্দিদের মধ্যে মানসিক সক্ষমতা ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আইনি মানদণ্ড নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর একটি উদাহরণ হয়ে আছে। একই সময়ে হ্যারিস কাউন্টির আরও কয়েকজন দীর্ঘদিনের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির সাজাও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে পুনর্বিবেচনার মুখে পড়েছে। মৃত্যুদণ্ডের রায় আর তাঁর মাথার ওপর নেই। কিন্তু কারাগারের দরজাও খোলেনি। তরুণ বয়সে যে মানুষটি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, তাঁর জীবনের তিন দশকেরও বেশি সময় কেটে গেছে কারাগারের ভেতর। এখন শারীরিকভাবে ভেঙে পড়া সেই মানুষটির সামনে মুক্ত জীবনের চেয়ে কারাগারেই জীবনের শেষ অধ্যায় কাটানোর সম্ভাবনাই বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৬ বছর পর একই দিনে তিনটি পৃথক অঙ্গরাজ্যে তিন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার টেনেসি, আলাবামা ও ওকলাহোমায় তিন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিকে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কথা রয়েছে। শেষ মুহূর্তে আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ না এলে ২০১০ সালের পর এটিই হবে যুক্তরাষ্ট্রে একই দিনে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রথম ঘটনা। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও ফক্স নিউজের তথ্য অনুযায়ী, টেনেসিতে ৬৬ বছর বয়সী অ্যান্থনি ড্যারেল হাইনস, আলাবামায় ৪২ বছর বয়সী জেরেমি উইলিয়ামস এবং ওকলাহোমায় ৭০ বছর বয়সী কার্লোস কুয়েস্তা রদ্রিগেজের মৃত্যুদণ্ড বৃহস্পতিবার কার্যকরের সূচি রয়েছে। তিনজনই পৃথক হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত। ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক রবিন মাহের জানিয়েছেন, একই দিনে তিনটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত বিরল। তবে তিন অঙ্গরাজ্যের একই দিনের সময়সূচির মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। এটি মূলত কাকতালীয়ভাবে একই দিনে পড়েছে। এর আগে সর্বশেষ ২০১০ সালের ৭ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে একই দিনে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল। সেদিন লুইজিয়ানা, ওহাইও ও টেক্সাসে তিন বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ২০১৮ সালেও একই দিনে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় নির্ধারিত হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত মাত্র একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অপেক্ষায় থাকা অ্যান্থনি ড্যারেল হাইনসকে ১৯৮৫ সালে ৫৪ বছর বয়সী ক্যাথরিন জিন জেনকিনসকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। জেনকিনস কিংস্টন স্প্রিংসের একটি মোটেলে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন হাইনস। ১৯৮৬ সালে হাইনসকে প্রথম মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে আপিলের মাধ্যমে নতুন করে সাজা নির্ধারণের সুযোগ পেলেও ১৯৮৯ সালে আবারও তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে হাইনসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তিনি দুইবার স্ট্রোক করেছেন এবং আংশিক পক্ষাঘাতগ্রস্ত। এ কারণে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার জন্য তার শরীরে শিরা খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এই উদ্বেগের পেছনে রয়েছে টেনেসিতে কয়েক মাস আগের একটি ঘটনা। আরেক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির শরীরে ইনজেকশন দেওয়ার উপযোগী শিরা খুঁজে পেতে সমস্যার কারণে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর শেষ পর্যন্ত স্থগিত করতে হয়েছিল। হাইনসের আইনজীবীরা একই ধরনের পরিস্থিতি তার ক্ষেত্রেও তৈরি হতে পারে বলে আদালত ও গভর্নরের কাছে হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন। আলাবামায় জেরেমি উইলিয়ামসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে পাঁচ বছর বয়সী কামারি হল্যান্ডকে ২০২১ সালে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায়। আদালতের নথি অনুযায়ী, উইলিয়ামস ওই শিশুকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন এবং নিজের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিরোধিতা করছেন না। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, উইলিয়ামস শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং সেই নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করেন। ঘটনাটি আলাবামার সাম্প্রতিক সময়ের বহুল আলোচিত অপরাধ মামলাগুলোর একটি। অন্যদিকে ওকলাহোমায় কার্লোস কুয়েস্তা রদ্রিগেজকে ২০০৩ সালে তার প্রেমিকা অলিম্পিয়া ফিশারকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ওকলাহোমার অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ফিশার সম্পর্কটি শেষ করার পরিকল্পনা করছিলেন। এ সময় কুয়েস্তা রদ্রিগেজ তাকে গুলি করেন। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, প্রথম গুলির প্রায় আট মিনিট পর তিনি ফিশারকে দ্বিতীয়বার গুলি করেন। দ্বিতীয় গুলিতেই তার মৃত্যু হয়। ফিশারের গর্ভবতী মেয়ে ঘটনাস্থলের খুব কাছেই ছিলেন। গত জুলাইয়ে ওকলাহোমা পারডন অ্যান্ড প্যারোল বোর্ড ৩-১ ভোটে কুয়েস্তা রদ্রিগেজের ক্ষমার আবেদন সুপারিশ না করার সিদ্ধান্ত নেয়। তার আইনজীবীরা মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন করেছিলেন। তবে শুনানিতে কুয়েস্তা রদ্রিগেজ নিজেই জানান, তিনি ক্ষমা চান না। যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এখন অল্প কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের মধ্যেই কেন্দ্রীভূত। ২০২৫ সালে ১১টি অঙ্গরাজ্যে মোট ৪৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল, যা ২০০৯ সালের পর সর্বোচ্চ। এর মধ্যে শুধু ফ্লোরিডাতেই ১৯টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। আলাবামা, সাউথ ক্যারোলাইনা ও টেক্সাসে পাঁচজন করে এবং টেনেসিতে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত চারটি অঙ্গরাজ্যে ১৯টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। বৃহস্পতিবারের তিনটি মৃত্যুদণ্ড নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী কার্যকর হলে প্রায় ১৬ বছরের মধ্যে প্রথমবার একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি পৃথক অঙ্গরাজ্যে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল লেবানন। দেশটির পার্লামেন্ট মৃত্যুদণ্ডের বিধান আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করে তার পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আইন অনুমোদন করেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড সম্পূর্ণ বিলোপের স্বীকৃতি পেল লেবানন। মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টে এ-সংক্রান্ত বিল পাস হওয়ার পর স্পিকারের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বর্তমানে যেসব আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড রয়েছে, সেগুলো পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হবে। আইনে কঠোর শ্রমসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এখন বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। এরই মধ্যে তার সরকার বিলটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই লেবাননে কার্যত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ছিল না। সর্বশেষ ২০০৪ সালে সেখানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এরপর আর কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হলেও আদালত বিভিন্ন মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়ে আসছিল। এমনকি এই সপ্তাহের শুরুতেও একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। নতুন আইনের ফলে সেই ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো। এর আগে হত্যা ও রাষ্ট্রদ্রোহের মতো অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান ছিল। নতুন আইনের অধীনে এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক হেবা মরায়েফ বলেন, লেবাননের এই সিদ্ধান্ত দেশটির মানবাধিকার অগ্রযাত্রায় একটি বড় মাইলফলক। দুই দশকের বেশি সময় ধরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়ার যে বাস্তবতা ছিল, নতুন আইন সেটিকে স্থায়ী আইনি সুরক্ষায় পরিণত করেছে এবং জীবন রক্ষার অধিকারকে আরও শক্তিশালী করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, লেবাননের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য দেশের জন্য একটি শক্তিশালী উদাহরণ হয়ে থাকবে। তবে পার্লামেন্টে বিলটি সর্বসম্মতভাবে পাস হয়নি। হিজবুল্লাহর সংসদীয় জোট এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। যদিও পার্লামেন্টের বিবৃতিতে ভোটের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। মৃত্যুদণ্ড বিলোপের পাশাপাশি লেবাননের পার্লামেন্ট কারাগারের অতিরিক্ত বন্দি সংকট মোকাবিলায় সাধারণ ক্ষমা সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবও বিবেচনা করছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির কারাগারগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি বন্দিতে পূর্ণ। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, লেবাননের কারাগারে থাকা প্রায় ৮০ শতাংশ বন্দির বিচার তখনও শেষ হয়নি। বিশ্বজুড়ে বহু দেশ ইতোমধ্যে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করলেও মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশে এখনো এই শাস্তি বহাল রয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, ইরান ও মিসরে এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে লেবাননের এই সিদ্ধান্তকে অঞ্চলটির বিচারব্যবস্থায় একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদকে মানবতাবিরোধী অপরাধসহ গৃহযুদ্ধকালীন বিভিন্ন অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। মঙ্গলবার দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত অনুপস্থিতিতে দেওয়া রায়ে তাঁর ছোট ভাই ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মাহের আল–আসাদকেও মৃত্যুদণ্ড দেন। একই মামলায় সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের রায়ে বাশার আল–আসাদকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী করা হয়েছে। ২০১১ সালে দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধও মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। আদালতের মতে, ওই সময় সংঘটিত অপরাধের মধ্যে শিশু হত্যার ঘটনাও রয়েছে। আতেফ নাজিব ছিলেন বাশার আল–আসাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এবং দারা প্রদেশে রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক প্রধান। ২০১১ সালের আন্দোলনের শুরুতে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নে তাঁর ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন এবং নির্যাতনের ফলে মৃত্যুর মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল। ২০১১ সালে সিরিয়ার সরকারবিরোধী গণআন্দোলনের সূচনা হয়। দেয়ালে সরকারবিরোধী স্লোগান লেখার অভিযোগে কয়েকজন কিশোরকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ঘটনা সে সময় ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি করে। পরবর্তী সময়ে সেই বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। বাশার আল–আসাদ ২০০০ সালে তাঁর বাবা হাফেজ আল–আসাদের মৃত্যুর পর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হন। প্রায় ২৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বিদ্রোহীদের দ্রুত অগ্রযাত্রায় তাঁর সরকারের পতন ঘটে। ক্ষমতা হারানোর পর তিনি সিরিয়া ছেড়ে রাশিয়ায় চলে যান এবং বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন। বাশার ও মাহের আল–আসাদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সিরিয়ার নতুন নেতৃত্ব এর আগে রাশিয়ার কাছে তাঁদের হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে। তবে রাশিয়ায় অবস্থান করায় মৃত্যুদণ্ডের এই রায় বাস্তবায়ন নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এই রায় সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় নির্ধারণে দেশটির নতুন সরকারের নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি। তবে সাবেক সরকারের অন্যান্য কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সদস্যদের বিরুদ্ধেও বিচারপ্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। আতেফ নাজিবের বিচার ছিল ক্ষমতাচ্যুত আসাদ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নতুন সিরিয়ায় শুরু হওয়া প্রথম গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ্য বিচারগুলোর একটি।
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত বলেছেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ, চিকিৎসা প্রতিবেদন, তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। রোববার বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এজলাসে এসে রায় পাঠ শুরু করেন। পরে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তিনি রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, চিকিৎসকের সাক্ষ্য ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী পুলিশের সাক্ষ্যেও সেই তথ্যের সমর্থন পাওয়া গেছে। আদালত আরও বলেন, মামলার ১ নম্বর থেকে ১৬ নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্য থেকে উঠে এসেছে যে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের পর আসামি সোহেল রানা গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। এ সময় স্বপ্না আক্তার ঘটনাস্থলের ওই ফ্ল্যাটেই অবস্থান করছিলেন। অপরাধ সংঘটনে বাধা না দিয়ে তিনি সহযোগিতা করেছেন বলে আদালত মনে করেন। ফলে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার একই অপরাধে দায়ী বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যা করেন। আদালত তাঁর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির কথাও উল্লেখ করেন। ওই জবানবন্দিতে সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন। রায় ঘোষণার আগে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে এবং স্বপ্না আক্তারকে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে প্রিজন ভ্যান থেকে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে হাজতখানায় নেওয়া হয়। মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয় গত বৃহস্পতিবার। শুনানি শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন। গত ১৯ মে শিশুটি ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হওয়ার পর দায়ের হওয়া মামলার রায় ১৯ দিনের মাথায় ঘোষণা করা হলো। মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯ মে পল্লবীর একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের আগেই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। পরে একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরদিন ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার। এরপর ১ জুন ট্রাইব্যুনাল তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। চার্জ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন এবং যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেন। সেই ধারাবাহিকতায় রোববার মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
২০২৫ সালে ইরান এ অন্তত ১ হাজার ৬৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। ১৯৮৯ সালের পর এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যক ফাঁসি কার্যকর হওয়ার ঘটনা। নরওয়ে-ভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস এবং প্যারিসভিত্তিক টুগেদার অ্যাগেইনস্ট দ্য ডেথ পেনাল্টি যৌথভাবে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে যেখানে ৯৭৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল, সেখানে এক বছরের ব্যবধানে ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৪৮ জন নারীও ছিলেন। এতে আরও বলা হয়েছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র যদি বর্তমান সংকট থেকে টিকে যায়, তাহলে দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে মৃত্যুদণ্ড আরও ব্যাপকভাবে ব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে। তাদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকার টিকে থাকলে দমন-পীড়নের উপায় হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগ আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।