সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

মুসলিম

ইসলামই দিয়েছেন সেই শান্তি, স্বস্তি ও বরকত যা সবসময় খুঁজেছি
ইসলাম গ্রহণের পর অ্যাম্বার বললেন, ইসলামই দিয়েছেন সেই শান্তি, স্বস্তি ও বরকত যা সবসময় খুঁজেছি

যুক্তরাষ্ট্রের পেশাদার মিক্সড মার্শাল আর্টস ফাইটার অ্যাম্বার লেইব্রক ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। ক্যালিফোর্নিয়ার প্লেজান্টনে মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার ইস্ট বে-তে ২১ জুলাই তিনি শাহাদাহ পাঠ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ওই মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার। এরপর থেকে তাকে নিয়মিত জুমার নামাজে অংশ নিতে দেখা গেছে।   অ্যাম্বার লেইব্রক ইস্ট বে এলাকায় বেড়ে ওঠেন এবং পেশাদার এমএমএ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তিনি বেলাটর এমএমএ ও প্রফেশনাল ফাইটার্স লিগে প্রতিযোগিতা করেছেন। মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার ইস্ট বের তথ্য অনুযায়ী, লারিসা পাচেকোর সঙ্গে একটি লড়াইয়ের পর তিনি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তার প্রশিক্ষক ও মুসলিম কমিউনিটির সদস্য মুজিব হামিদ তাকে ইসলামের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।   এরপর ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরি হয় অ্যাম্বারের মধ্যে। ২০২৩ সালের ২১ জুলাই তিনি মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার ইস্ট বেতে শাহাদাহ পাঠ করেন। পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলাম গ্রহণের কথা প্রকাশ করেন তিনি। সমসাময়িক সংবাদ প্রতিবেদনেও তার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি উঠে আসে।   ইসলাম গ্রহণের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে অ্যাম্বার জানান, জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তাকে আল্লাহর আরও কাছে নিয়ে গেছে এবং নিজের দ্বীন খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে। তিনি আরও জানান, জীবনের ঘটনাগুলোকে নতুনভাবে দেখার পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং নিজের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন এসেছে।   মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার ইস্টের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইসলাম গ্রহণের পর অ্যাম্বার নিয়মিত জুমার নামাজে অংশ নিতে শুরু করেন। কেন্দ্রটির বিভিন্ন কার্যক্রমেও পরে তাকে যুক্ত হতে দেখা যায়। নারীদের আত্মরক্ষা ও বক্সিং প্রশিক্ষণসংক্রান্ত কয়েকটি অনুষ্ঠানে তিনি প্রশিক্ষক হিসেবেও অংশ নিয়েছেন।   নিজের আধ্যাত্মিক যাত্রা নিয়ে অ্যাম্বার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও লিখেছিলেন, জীবনের সবকিছু নিজের নির্ধারিত সময়ে ঘটবে এমন নয়, বরং আল্লাহর নির্ধারিত সময়ের ওপর তিনি বিশ্বাস রাখতে শিখেছেন। তার এই বক্তব্য ইসলাম গ্রহণের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হিসেবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তার নামে বিভিন্ন দীর্ঘ বক্তব্যের সবগুলো হুবহু উদ্ধৃতি হিসেবে নিশ্চিত করা যায় না। তাই তার ইসলাম গ্রহণ, শাহাদাহ পাঠ এবং পরবর্তী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার ইস্টের নিশ্চিত তথ্য ও সমসাময়িক সংবাদ প্রতিবেদনকেই নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে।   ইসলাম গ্রহণের পরও অ্যাম্বার তার পেশাগত পরিচয় ধরে রেখেছেন। ক্রীড়া ও ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি নতুন ধর্মীয় পরিচয়কে ঘিরে তার অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম কমিউনিটিতেও আলোচনায় এসেছে। মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার ইস্টে তার নিয়মিত অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের মোট মুসলিমের ২০ শতাংশই অন্য ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছেন, ১৩ দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ
যুক্তরাষ্ট্রের মোট মুসলিমের ২০ শতাংশই অন্য ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছেন, ১৩ দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ

যুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম গ্রহণের চিত্র নিয়ে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ২০ শতাংশই শৈশবে অন্য ধর্ম বা ধর্মহীন পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন। পরবর্তীতে তারা ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। জরিপের আওতাভুক্ত ১৩টি দেশের মধ্যে ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের এই হার যুক্তরাষ্ট্রেই সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে।   গবেষণার তথ্যমতে, নতুন ধর্মান্তরিত হওয়া এসব মুসলিমের ১৭ শতাংশ শৈশবে অন্য কোনো ধর্মীয় পরিবারে বেড়ে উঠেছিলেন, যাদের একটি বড় অংশই এসেছেন খ্রিষ্টান পরিবার থেকে। বাকি ৩ শতাংশের শৈশবে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয় ছিল না। জীবনের নানা পর্যায়ে ইসলামের একত্ববাদ, প্রার্থনার নিয়ম, আধ্যাত্মিকতা, নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তারা ধীরে ধীরে এই ধর্মটি গ্রহণ করেছেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতি বছর ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষের ইসলাম গ্রহণের যে দাবিটি প্রচলিত রয়েছে, পিউ রিসার্চ নির্দিষ্ট করে সেই বার্ষিক পরিসংখ্যান নিশ্চিত না করলেও দীর্ঘমেয়াদে ধর্ম পরিবর্তনের এই বৃহৎ ও ধারাবাহিক চিত্রটি তুলে ধরেছে।   তবে গবেষণায় এ-ও বলা হয়েছে যে, শুধুমাত্র ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে সামগ্রিকভাবে মুসলিম জনসংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিষয়টি এমন নয়। ইসলাম গ্রহণের পাশাপাশি ধর্ম ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাও সেখানে রয়েছে, যা অনেকটাই পরস্পরকে ভারসাম্যপূর্ণ করেছে।   বরং দেশটির মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে অভিবাসন, জন্মহার এবং জনসংখ্যার বয়স কাঠামো সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে। তা সত্ত্বেও, বর্তমান মার্কিন মুসলিম সমাজের এক-পঞ্চমাংশই যে নতুন করে ইসলামের ছায়াতলে এসেছেন, তা সেখানকার মুসলিম কমিউনিটির একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হিসেবেই স্বীকৃতি পাচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
মদিনায় মসজিদে নববীর পাশে ১২০ বিলাসবহুল বাড়ি
মদিনায় মসজিদে নববীর পাশে ১২০ বিলাসবহুল বাড়ি, কিনতে পারবেন বিদেশি মুসলিমরাও

মদিনায় মসজিদে নববীর পাশে ১২০টি বিলাসবহুল আবাসিক ইউনিট নিয়ে নতুন একটি আবাসিক প্রকল্পে আগ্রহীদের মালিকানা নিতে নিবন্ধন শুরু হয়েছে। ফেয়ারমন্ট রেসিডেন্সেস রুয়া আল মদিনাহ নামের এই প্রকল্পটি রুয়া আল মদিনাহ হোল্ডিংয়ের উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের মালিকানাধীন একটি কোম্পানি। প্রকল্পটির অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ইউনিটে বিলাসবহুল আবাসনের পাশাপাশি ফেয়ারমন্ট ব্র্যান্ডের হোটেলধাঁচের সেবা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।   রুয়া আল মদিনাহ হোল্ডিং ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে প্রকল্পটির ১২০টি ইউনিটের জন্য আগ্রহী ক্রেতাদের নিবন্ধন শুরু করেছে। প্রকল্পটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও মালিকানার আগ্রহ জানাতে নিবন্ধনের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এখনো ইউনিটগুলোর বিক্রয়মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। নিবন্ধনের পর সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে ইউনিটের আকার, মূল্য এবং পেমেন্ট পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।   প্রকল্পটির অবস্থান মসজিদে নববীর একেবারে পাশে রুয়া আল মদিনাহ উন্নয়ন এলাকার মধ্যে। প্রকল্পের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, কিছু আবাসিক ইউনিট থেকে মসজিদে নববীর আংশিক দৃশ্যও দেখা যাবে। মদিনার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য ও সংস্কৃতি থেকে অনুপ্রাণিত নকশার সঙ্গে আধুনিক বিলাসবহুল আবাসনের সমন্বয় করা হয়েছে।   ফেয়ারমন্ট রেসিডেন্সেস রুয়া আল মদিনাহকে মদিনার প্রথম ব্র্যান্ডেড রেসিডেন্সেস প্রকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ১২০টি আবাসিক ইউনিটের পাশাপাশি একই কমপ্লেক্সে ফেয়ারমন্ট ব্র্যান্ডের হোটেল সুবিধাও রয়েছে। বাসিন্দাদের জন্য ফেয়ারমন্টের আতিথেয়তা সেবা এবং বিভিন্ন রেসিডেন্ট সার্ভিস দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত তথ্য অনুযায়ী, বাড়ির মালিকরা ফেয়ারমন্টের বিভিন্ন সেবা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে কনসিয়ার্জ ও অন্যান্য হোটেলধাঁচের সেবা রয়েছে। এছাড়া অ্যাকোরের মালিকানা সুবিধা কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৫ হাজার ৬০০টির বেশি হোটেল ও রিসোর্টে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার সুযোগও রয়েছে।   এই প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো বিদেশি মুসলিমদের জন্য মালিকানার সুযোগ। সৌদি আরবের নতুন নন-সৌদি প্রপার্টি মালিকানা আইনে মক্কা ও মদিনা শহরে বিদেশি ব্যক্তিদের সম্পত্তি মালিকানা মুসলিম ব্যক্তিদের জন্য সীমিত করা হয়েছে। সৌদি আরবের রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, সৌদি নাগরিক নন এমন মুসলিম ব্যক্তিরা নির্ধারিত ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে মদিনায় সম্পত্তি মালিকানার জন্য আবেদন করতে পারেন। এই সুযোগ সৌদিতে বসবাসকারী মুসলিমদের পাশাপাশি বিদেশে বসবাসকারী মুসলিমদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে নির্দিষ্ট প্রকল্প ও ভৌগোলিক এলাকার নিয়ম এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।   সৌদি আরবের নন-সৌদি প্রপার্টি মালিকানা ব্যবস্থা ২২ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় সৌদির বাইরে বসবাসকারী নন-সৌদি নাগরিকরাও নির্ধারিত নিয়ম মেনে সম্পত্তি মালিকানার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে মক্কা ও মদিনায় মালিকানার ক্ষেত্রে মুসলিম হওয়ার শর্ত রয়েছে।   তবে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি। মদিনায় বিদেশি মুসলিমদের সম্পত্তি কেনার সুযোগ তৈরি হলেও শহরের যেকোনো স্থানে যেকোনো সম্পত্তি কেনার অনুমতি দেওয়া হয়নি। নন-সৌদি মালিকানা নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকা এবং সরকারের নির্ধারিত নিয়মের আওতায় রয়েছে। তাই কোনো বিদেশি ক্রেতাকে চূড়ান্তভাবে সম্পত্তি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের মালিকানা অধিকার এবং সরকারি নিবন্ধনের শর্ত যাচাই করতে হবে।   ফেয়ারমন্ট রেসিডেন্সেস রুয়া আল মদিনাহ প্রকল্পের ক্ষেত্রে বর্তমানে যে বিষয়টি নিশ্চিত, তা হলো ১২০টি বিলাসবহুল আবাসিক ইউনিটের জন্য আগ্রহ নিবন্ধন শুরু হয়েছে। এখনো আনুষ্ঠানিক বিক্রয়মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো নির্দিষ্ট মূল্যকে প্রকল্পটির চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।   রুয়া আল মদিনাহ হোল্ডিং সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের একটি কোম্পানি এবং মদিনায় মসজিদে নববীর আশপাশে বৃহৎ নগর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য মদিনায় হোটেল, আবাসিক স্থাপনা, বাণিজ্যিক এলাকা, জনপরিসর ও পর্যটন অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়ন।   মসজিদে নববীর কাছাকাছি একটি আন্তর্জাতিক হোটেল ব্র্যান্ডের আবাসিক ইউনিটের মালিকানার সুযোগ চালু হওয়ায় প্রকল্পটি সৌদি নাগরিকদের পাশাপাশি বিদেশি মুসলিম ক্রেতাদের কাছেও আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে বর্তমানে এটি মূলত আগ্রহ নিবন্ধনের পর্যায়ে রয়েছে। ইউনিটের চূড়ান্ত দাম, বিক্রয় প্রক্রিয়া, পেমেন্ট পরিকল্পনা এবং মালিকানার বিস্তারিত শর্ত পরবর্তী পর্যায়ে প্রকাশ করা হবে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের জন্য সুদ এড়িয়ে ক্রেডিট কার্ড, গাড়ি ও বাড়ি কেনার যেসব বিকল্প আছে
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের জন্য সুদ এড়িয়ে ক্রেডিট কার্ড, গাড়ি ও বাড়ি কেনার যেসব বিকল্প আছে

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী যেসব মুসলিম সুদ বা রিবা এড়িয়ে চলতে চান, তাদের জন্য ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার, গাড়ি কেনা কিংবা বাড়ির ফাইন্যান্সিং নিয়ে অনেক সময় দ্বিধা তৈরি হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থায় কিছু ক্ষেত্রে সুদ না দিয়েও এসব সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামি স্কলার ও ফিকহ বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন মতামতেও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে কিছু বিকল্প ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়া যায়। তবে প্রতিটি আর্থিক চুক্তির শর্ত আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।   ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে প্রথমেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলেই যে অবশ্যই সুদ দিতে হবে, এমন নয়। যেসব কার্ডে গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে, সেখানে নির্ধারিত তারিখের মধ্যে পুরো স্টেটমেন্ট ব্যালেন্স পরিশোধ করলে সাধারণ কেনাকাটার ওপর সুদ না দেওয়ার সুযোগ থাকে।   যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো জানিয়েছে, বেশিরভাগ ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটার জন্য গ্রেস পিরিয়ড থাকে। তবে সব কার্ডে গ্রেস পিরিয়ড থাকা বাধ্যতামূলক নয় এবং কার্ডভেদে শর্ত আলাদা হতে পারে।   অর্থাৎ, কেউ যদি এক মাসে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ১ হাজার ডলারের কেনাকাটা করেন এবং নির্ধারিত তারিখের মধ্যে পুরো ১ হাজার ডলার পরিশোধ করেন, তাহলে গ্রেস পিরিয়ড প্রযোজ্য থাকা অবস্থায় ওই কেনাকাটার জন্য সুদ দিতে হয় না। কিন্তু পুরো ব্যালেন্স পরিশোধ না করে শুধু ন্যূনতম পেমেন্ট দিলে সুদ আরোপ হতে পারে। ক্যাশ অ্যাডভান্সের ক্ষেত্রেও সাধারণ কেনাকাটার মতো নিয়ম প্রযোজ্য নয় এবং সেখানে দ্রুত সুদ শুরু হতে পারে।   এই বাস্তবতার সঙ্গে ইসলামি ফিকহের কিছু মতামতেরও মিল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যাসেম্বলি অব মুসলিম জুরিস্টস অব আমেরিকা বা এএমজেএর একটি ফতোয়ায় বলা হয়েছে, পশ্চিমা দেশগুলোতে প্রয়োজনের বাস্তবতা বিবেচনায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে ছাড় রয়েছে।   ব্যবহারকারীকে নিশ্চিত হতে হবে যে তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো পাওনা পরিশোধ করতে পারবেন এবং সুদ কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি করবেন না। এএমজেএর আরেকটি সিদ্ধান্তেও গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যে পুরো পাওনা পরিশোধ করার শর্তে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের অনুমতির কথা বলা হয়েছে।   তবে এর অর্থ এই নয় যে সব ধরনের ক্রেডিট কার্ডকে ইসলামি স্কলাররা সুদমুক্ত বা শরিয়াহসম্মত বলে ঘোষণা করেছেন। বরং বিষয়টি শর্তসাপেক্ষ। বিশেষ করে যে চুক্তিতে বিলম্ব হলে সুদ দিতে হয়, সেটি গ্রহণ করা নিয়ে আলেমদের মধ্যে সতর্কতা রয়েছে। তাই কোনো কার্ড নেওয়ার আগে তার চুক্তি, সুদের শর্ত, গ্রেস পিরিয়ড, ক্যাশ অ্যাডভান্সের নিয়ম এবং বিলম্বিত পেমেন্টের শর্ত ভালোভাবে দেখা জরুরি।   গাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও সুদ এড়িয়ে চলতে চান এমন ক্রেতাদের সামনে কিছু বিকল্প রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন গাড়ি নির্মাতা ও ডিলার সময় সময় নির্দিষ্ট গাড়ি, নির্দিষ্ট মেয়াদ ও নির্দিষ্ট যোগ্যতার ক্রেতাদের জন্য শূন্য শতাংশ বা ০ শতাংশ এপিআর ফাইন্যান্সিং অফার করে। তবে এ ধরনের অফার সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। ভালো ক্রেডিট স্কোর, নির্দিষ্ট গাড়ির মডেল, ডাউন পেমেন্ট, ঋণের মেয়াদ কিংবা অন্য কোনো শর্ত থাকতে পারে।   ইসলামি ফাইন্যান্স বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মঞ্জের কাহফের প্রকাশিত ফতোয়াতেও যুক্তরাষ্ট্রে ০ শতাংশ গাড়ি ফাইন্যান্সিং নিয়ে ইতিবাচক মতামত পাওয়া যায়। একটি ক্ষেত্রে তিনি এমন গাড়ি কেনার ব্যবস্থা অনুমোদনযোগ্য বলেছেন, যেখানে ক্রেতার সঙ্গে সরাসরি চুক্তিতে সুদের অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা নেই এবং ডিলার নিজস্ব খরচের অংশ হিসেবে অন্য কোনো অর্থ পরিশোধ করে। তার ব্যাখ্যায় মূল বিষয় হলো ক্রেতার সঙ্গে করা চুক্তির প্রকৃতি।   আরেকটি ফতোয়ায় ড. মঞ্জের কাহফ যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সুদভিত্তিক ফাইন্যান্সিং এড়িয়ে চলার কথা বলেন এবং উল্লেখ করেন যে বিভিন্ন গাড়ি ডিলারের কাছ থেকে ০ শতাংশ ফাইন্যান্সিংয়ের সুযোগ পাওয়া যায়। তবে বাজারের অফার এবং চুক্তির শর্ত সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে কোনো নির্দিষ্ট গাড়ির অফার শরিয়াহসম্মত কি না, তা চুক্তি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই নিরাপদ।   এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ০ শতাংশ এপিআর লেখা থাকলেই কোনো গাড়ির ফাইন্যান্সিং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইসলামি দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। চুক্তিতে বিলম্বের সুদ, অতিরিক্ত চার্জ, মালিকানা, লিজের কাঠামো এবং অন্যান্য শর্ত কী আছে, তা দেখতে হবে। একইভাবে কোনো ডিলার যদি গাড়ির দাম বাড়িয়ে নির্দিষ্ট কিস্তিতে বিক্রি করে, সেটি সরাসরি সুদভিত্তিক ঋণের সমান কি না, তা চুক্তির কাঠামোর ওপর নির্ভর করে।   বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে সুদ এড়িয়ে চলতে চান এমন মুসলিমদের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি বিকল্প তৈরি হয়েছে। প্রচলিত মর্টগেজের পরিবর্তে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানগুলো মুরাবাহা, ইজারা এবং ডিমিনিশিং মুশারাকার মতো কাঠামো ব্যবহার করে থাকে।   ডিমিনিশিং মুশারাকায় সাধারণভাবে ক্রেতা এবং ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে বাড়ির মালিক হন। ক্রেতা মাসিক পেমেন্টের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানের মালিকানার অংশ কিনে নেন। শেষ পর্যন্ত বাড়ির সম্পূর্ণ মালিকানা ক্রেতার কাছে চলে আসে। মুরাবাহায় ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠান বাড়ি কিনে নির্ধারিত লাভ যোগ করে গ্রাহকের কাছে একটি নির্দিষ্ট মোট মূল্যে বিক্রি করে। আর ইজারায় লিজ বা ভাড়া ভিত্তিক কাঠামোর মাধ্যমে মালিকানা হস্তান্তরের ব্যবস্থা থাকতে পারে।   বাড়ির ফাইন্যান্সিং নিয়ে এএমজেএর অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোর চুক্তি নিয়ে পর্যালোচনার পর এএমজেএর রেসিডেন্ট ফতোয়া কমিটি কিছু প্রতিষ্ঠানের কাঠামো নির্দিষ্ট শর্তে শরিয়াহসম্মত হিসেবে গ্রহণ করেছে। তাদের পর্যালোচনায় মুরাবাহা, ডিমিনিশিং মুশারাকা এবং ইজারার মতো চুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।   আরও সাম্প্রতিকভাবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এএমজেএর রেসিডেন্ট ফতোয়া কমিটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়া কোম্পানির ডিমিনিশিং পার্টনারশিপ বা ধীরে ধীরে মালিকানা হস্তান্তরভিত্তিক হোম ফাইন্যান্সিং চুক্তি পর্যালোচনা করে সেটিকে ইসলামি আইনের অধীনে গ্রহণযোগ্য বলে মত দিয়েছে। তবে কমিটি একই সঙ্গে স্বাধীন শরিয়াহ তদারকি বোর্ড রাখার পরামর্শ দিয়েছে এবং চুক্তিতে নির্ধারিত শর্তগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।   এএমজেএর আগের পর্যালোচনায় মুবরাক মর্টগেজের মুরাবাহা চুক্তিকেও শরিয়াহসম্মত হিসেবে গ্রহণযোগ্য বলা হয়েছে। তবে একই প্রতিষ্ঠান স্পষ্ট করেছে, কোনো কোম্পানির চুক্তি পরিবর্তিত হলে আগের ফতোয়ার অবস্থানও পরিবর্তিত হতে পারে। অর্থাৎ শুধু কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম ইসলামিক ফাইন্যান্সের সঙ্গে যুক্ত থাকলেই সেটির বর্তমান চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণযোগ্য ধরে নেওয়া যাবে না।   এখানে ভোক্তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইসলামিক ফাইন্যান্স মানে শুধু প্রচলিত সুদের নাম পরিবর্তন করা নয়। প্রকৃত মালিকানা কার, সম্পদের ঝুঁকি কে বহন করছে, লাভ কীভাবে নির্ধারিত হচ্ছে, বিলম্ব হলে কী হচ্ছে, বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও ইন্স্যুরেন্সের দায়িত্ব কার এবং চুক্তি শেষ হলে সম্পদের মালিকানা কীভাবে হস্তান্তর হবে, এসব বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন।   তাই যুক্তরাষ্ট্রে সুদ এড়িয়ে চলতে চান এমন মুসলিমদের জন্য বাস্তব কিছু পথ রয়েছে। ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যে পুরো ব্যালেন্স পরিশোধ করে সুদ এড়ানোর সুযোগ কিছু ইসলামি ফিকহ বিশেষজ্ঞ শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন করেছেন। গাড়ির ক্ষেত্রে প্রকৃত ০ শতাংশ ফাইন্যান্সিং কিংবা চুক্তির কাঠামো অনুযায়ী শরিয়াহসম্মত বিকল্প বিবেচনা করা যেতে পারে। আর বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে মুরাবাহা, ইজারা ও ডিমিনিশিং মুশারাকার মতো ফাইন্যান্সিং ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে চালু রয়েছে।   তবে এগুলো কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা পরিবারের জন্য আর্থিক কিংবা ধর্মীয় সিদ্ধান্তের নির্দেশনা নয়। একজনের জন্য যে ব্যবস্থা উপযুক্ত হতে পারে, অন্যজনের জন্য তা নাও হতে পারে। বিশেষ করে ইসলামি ফাইন্যান্সের ক্ষেত্রে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে এবং চুক্তির সামান্য পরিবর্তনেও ধর্মীয় সিদ্ধান্ত বদলে যেতে পারে।   তাই সুদ এড়িয়ে চলতে চান এমন কেউ ক্রেডিট কার্ড, গাড়ি বা বাড়ির ফাইন্যান্সিং নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পুরো চুক্তি ভালোভাবে পড়ুন, মোট কত টাকা পরিশোধ করতে হবে তা হিসাব করুন, সব ধরনের ফি ও জরিমানার শর্ত দেখুন এবং প্রয়োজন হলে যোগ্য ও বিশ্বস্ত ইসলামি স্কলার বা ইসলামিক ফাইন্যান্স বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা সুরক্ষা সংস্থার তথ্যও যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
ভেনিসে মসজিদ নির্মাণ ঘিরে বিরোধ , বাংলাদেশিদের ধর্মঘটের হুমকি
ভেনিসে মসজিদ নির্মাণ ঘিরে বিরোধ , বাংলাদেশিদের ধর্মঘটের হুমকি

ইতালির ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকায় বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির প্রস্তাবিত মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধ তীব্র হয়েছে। ৮ হাজার বর্গমিটার জমিতে প্রকল্পটির অনুমোদন আটকে যাওয়ার পর আন্দোলন ও ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা। তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে দুই পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনার কথা বলছে।   মেস্ত্রের ভিয়া জিউস্তিজিয়া এলাকায় একটি পরিত্যক্ত করাতকলের জমিতে মসজিদ ও ইসলামিক কালচারাল সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি। জমিটি কিনে সেখানে একটি বড় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা চলছিল।   তবে গত মে মাসে দায়িত্ব নেওয়া ভেনিসের নতুন কেন্দ্র-ডানপন্থি মেয়র সিমোনে ভেনতুরিনি প্রকল্পটির অনুমোদন আটকে দেন। মেয়রের বক্তব্য, প্রস্তাবিত স্থাপনাটি আকারে অনেক বড় এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক একীভূত হওয়ার বিষয়েও আরও অগ্রগতি প্রয়োজন। ইতালীয় ভাষা শেখা, নারীদের সামাজিক অংশগ্রহণ এবং সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠানোর মতো বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।    মেয়রের অবস্থানে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা বলছেন, ভেনিস ও মেস্ত্রে এলাকায় বসবাসরত মুসলিমদের জন্য একটি স্থায়ী ও উপযুক্ত নামাজের স্থান প্রয়োজন। তাদের দাবি, আগের প্রশাসনের সময় থেকেই ভিয়া জিউস্তিজিয়া এলাকার জমিটি ধর্মীয় কেন্দ্র নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে আলোচনায় ছিল। স্থানীয় প্রশাসন অবশ্য বলছে, আগের পর্যায়ে কোনো চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়নি।    কমিউনিটির প্রতিনিধি প্রিন্স হাওলাদার জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নামতে পারেন। এমনকি ধর্মঘটের মাধ্যমে ফিনক্যানতিয়েরি শিপইয়ার্ডসহ স্থানীয় পর্যটন ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় প্রভাব ফেলার কথাও তিনি বলেছেন। ভেনিস, মেস্ত্রে ও মারঘেরার বিভিন্ন শিল্প ও সেবা খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতির কারণে এমন কর্মসূচি স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে কমিউনিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।    তবে শ্রমিক সংগঠন সিজিআইএল ধর্মঘটের এমন উদ্যোগ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারকে সমর্থন করলেও ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের দাবিতে এ ধরনের ধর্মঘটকে সমর্থন করছে না।    এদিকে বিরোধের মধ্যেই ৩০ আগস্ট দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেয়র ও বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে আলোচনায় বসার আগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে প্রস্তাবিত মসজিদের আকার ও নগর পরিকল্পনা নিয়ে মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে। প্রকল্পের নকশা আরও ছোট করার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।    মসজিদ প্রকল্পটি নিয়ে ইতালির রাজনীতিতেও বিতর্ক শুরু হয়েছে। উপ-প্রধানমন্ত্রী ও দ্য লিগ দলের নেতা মাত্তেও সালভিনি মসজিদ নির্মাণের দাবিতে ধর্মঘটের হুমকির সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে কেন্দ্র-বামপন্থি রাজনীতিক ও মানবাধিকারকর্মীদের একটি অংশ বাংলাদেশি মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর আহ্বান জানিয়েছেন।    দীর্ঘদিন ধরে ভেনিস অঞ্চলে বসবাস ও কাজ করা বাংলাদেশিরা রেস্টুরেন্ট, হোটেল, ক্যাফে এবং শিল্প খাতসহ বিভিন্ন পেশায় যুক্ত। মেস্ত্রের প্রস্তাবিত মসজিদ তাই শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের বিষয় নয়, স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক অবস্থান, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নগর পরিকল্পনা নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।   সূত্র: বিডিনিউজ ২৪

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৪:০
খন্দকার জামিল, মর্টগেজ লোন অফিসার, ইজারা ইসলামিক ফাইন্যান্স
ইজারা ইসলামিক ফাইন্যান্স কীভাবে কাজ করে, প্রচলিত মর্টগেজের সঙ্গে পার্থক্য কোথায়

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের মধ্যে শরিয়াহসম্মত হোম ফাইন্যান্সিং নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। প্রচলিত মর্টগেজের বিকল্প হিসেবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইসলামিক শরিয়া ভিত্তিক লোন নিয়ে কাজ করে তার মধ্যে ইজারা ইসলামিক ফাইন্যান্স একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে প্রচলিত সুদভিত্তিক লোনের পরিবর্তে লিজ বা ভাড়াভিত্তিক ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়।   ইজারার একটি প্রচলিত কাঠামো হলো ‘লিজ টু ওন’ বা ‘লিজ টু পারচেজ’, যেখানে ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন সম্পত্তি গ্রাহকের কাছে লিজ দেওয়া হয় এবং চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পরবর্তীতে মালিকানা হস্তান্তরের ব্যবস্থা থাকে।    প্রচলিত মর্টগেজে একজন ক্রেতা ব্যাংক বা লেন্ডারের কাছ থেকে অর্থ লোন নিয়ে বাড়ি কেনেন এবং সেই টাকার ওপর ইন্টারেস্ট পরিশোধ করেন। অন্যদিকে, ইজারা কাঠামোতে সম্পত্তির মালিকানা ও লিজের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে মাসিক পেমেন্ট নির্ধারণ করা হয়। তবে ইজারা ফাইন্যান্সের নির্দিষ্ট কাঠামো প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হতে পারে।   ইজারা ইসলামিক ফাইন্যান্স এবং প্রচলিত মর্টগেজের পার্থক্য সম্পর্কে ইজারা লোন নিয়ে কাজ করা ফাইন্যান্সিং অফিসার খন্দকার জামিল বলেন, “রেগুলার মর্টগেজে যখন আপনি বাড়ি কেনেন, ওই বাড়িতে আপনার ইন্টারেস্ট ইনভলভ থাকে।   অর্থাৎ আপনি ধরেন ৫০০,০০০ ডলার লোন নিলেন, প্রতি মাসে আপনাকে যে পেমেন্ট করতে হবে, তার একটি অংশ যাবে ৫০০,০০০ ডলারের লোনের অংশ হিসেবে, আর বাকিটা যাবে ইন্টারেস্ট হিসেবে।”   ইজারা পদ্ধতি সম্পর্কে খন্দকার জামিল বলেন, “ইজারা ইসলামী ফাইন্যান্স হচ্ছে লিজ টু ওন পদ্ধতি। এখানে ইন্টারেস্ট বিষয়টি ইনভলভ থাকে না। এটা কাজ করে এরকম যে ইজারা একটা ট্রাস্ট গঠন করে, বাড়ির মালিকানা থাকে ট্রাস্টের নামে এবং আপনি একজন টেন্যান্ট হিসেবে বাড়িতে বসবাস করেন।”   তিনি আরও বলেন, “প্রতি মাসে আপনি যে পেমেন্ট দেবেন, পেমেন্টের একটি অংশ লোনের অংশ হিসেবে যাবে আর বাকিটা রেন্ট হিসেবে যাবে। এখানে আপনি ইন্টারেস্ট পেমেন্ট করছেন না। এখানে আপনি রেন্টের মাধ্যমে প্রফিটটা পে করছেন।”   ইজারা কাঠামোর ক্ষেত্রে সম্পত্তির মালিকানা, লিজের শর্ত এবং মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চুক্তির ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।   সাধারণ ইজারা নীতিতে ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠান বা লেসর সম্পত্তির মালিক হিসেবে সেটি গ্রাহকের কাছে লিজ দেয়। লিজ টু ওনকাঠামোয় পরবর্তীতে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের মাধ্যমে সম্পত্তির মালিকানা গ্রাহকের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা থাকে।    খন্দকার জামিলের ব্যাখ্যায়, দুই ব্যবস্থার মূল পার্থক্য হলো প্রচলিত মর্টগেজে ঋণের ওপর ইন্টারেস্ট পরিশোধ করা হয়, আর ইজারা কাঠামোয় সম্পত্তি ব্যবহারের জন্য রেন্টভিত্তিক পেমেন্টের মাধ্যমে ফাইন্যান্সিং ব্যবস্থা পরিচালিত হয়।   তবে কোনো নির্দিষ্ট ইজারা ফাইন্যান্সিং পণ্য শরিয়াহসম্মত কি না, তা নির্ধারণ করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চুক্তির সম্পূর্ণ কাঠামো, মালিকানা ব্যবস্থা, রেন্ট, প্রফিট এবং অন্যান্য শর্ত আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৪:০
মুসলিম অধিকারকর্মী জাহরা বিলুর
ক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন মুসলিম অধিকারকর্মী, এবার ফেডারেল মামলা

ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টো হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষামূলক সফরে মসজিদে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলার পর ফেডারেল মামলায় নাম এসেছে মুসলিম অধিকারকর্মী জাহরা বিলুর। ২০২৫ সালের শরতে স্কুলের ‘সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের সান্তা ক্লারার মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশনের মসজিদে নেওয়া হয়েছিল। ওই সফরকে কেন্দ্র করে পালো আল্টো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও স্কুলের প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন একদল অভিভাবক ও সাবেক শিক্ষার্থী। মামলায় বিলুর ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়েছে।    ৮ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল কোর্টে মামলাটি দায়ের করা হয়। ‘কমিউনিটি মেম্বার্স ফর রিলিজিয়াস নিউট্রালিটি ইন পাবলিক স্কুলস’ নামে একটি গ্রুপের সঙ্গে কয়েকজন অভিভাবক ও বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী মামলাটি করেছেন। তাদের অভিযোগ, স্কুলের ওই সফরে শিক্ষার্থীদের কোরআন দেওয়া হয়, মেয়েদের হিজাব পরতে উৎসাহিত করা হয় এবং তারা মুসলিমদের নামাজ পর্যবেক্ষণ করে। শিক্ষার্থীদের ইসলামি ধর্মীয় যুব কর্মসূচির সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।    মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের এমন ধারণার সঙ্গে পরিচয় করানো হয়েছিল যে ইসলাম বিশেষভাবে সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে সম্পর্কিত। সফরের সময় শিক্ষার্থীদের ছবি তোলা এবং অভিভাবকদের যথাযথ অনুমতি ছাড়া সেসব ছবি অনলাইনে প্রকাশের অভিযোগও রয়েছে। মামলাকারীদের দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষ ধর্মীয় নিরপেক্ষতা, শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা এবং বিভিন্ন ধর্মের প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।    এই মামলায় জাহরা বিলুর নাম আসার কারণ হলো, তিনি ওই সফরের সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। বিলু কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস বা CAIR-এর সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া অফিসের নির্বাহী পরিচালক। নিজের বক্তব্যে তিনি জানান, তাকে একজন আমেরিকান মুসলিম নারী হিসেবে তার নাগরিক অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।    বিলু মামলাটিকে ভুলভাবে উপস্থাপিত বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, পাবলিক স্কুলে ধর্ম নিয়ে শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা থাকা প্রয়োজন, কিন্তু নিরপেক্ষতার অর্থ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধর্ম ও ধর্মীয় সম্প্রদায় সম্পর্কে জানার সুযোগ থেকে দূরে রাখা নয়। তিনি বলেন, মসজিদ পরিদর্শন, মুসলিমদের নামাজ দেখা কিংবা ইসলাম সম্পর্কে শেখা আর শিক্ষার্থীদের ইসলাম ধর্ম পালনে বাধ্য করা এক বিষয় নয়।    পালো আল্টো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট জেসন গ্লাস জানিয়েছেন, ধর্ম বিষয়ে স্কুলের শিক্ষা একাডেমিক হতে হবে, ধর্মীয় আচার পালনের উদ্দেশ্যে নয়। কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে প্রচার বা অবমূল্যায়ন করাও স্কুলের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মামলা চলমান থাকায় ডিস্ট্রিক্ট এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি এবং জানিয়েছে, তারা নিজেদের প্রক্রিয়াগুলো পর্যালোচনা করছে।    অন্যদিকে, মামলাকারীরা বলছেন, সফরটি শুধু ধর্ম সম্পর্কে জানার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না এবং ইসলামকে অন্য ধর্মের তুলনায় বিশেষভাবে সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে যুক্ত করে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তাদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড পাবলিক স্কুলের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার সীমা লঙ্ঘন করতে পারে।    তবে সফরে অংশ নেওয়া অন্তত একজন শিক্ষার্থী ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তার মতে, এটি ছিল ধর্ম সম্পর্কে একটি বৃহত্তর শিক্ষামূলক ইউনিটের অংশ, যেখানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধর্ম ও স্থানীয় ধর্মীয় সম্প্রদায় সম্পর্কে জানানো হচ্ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মসজিদ সফরের উদ্দেশ্য ছিল ইসলাম সম্পর্কে শেখা, কাউকে ধর্মান্তরিত করা নয়।    ফলে মামলাটিকে ঘিরে মূল প্রশ্ন এখন দাঁড়িয়েছে, পাবলিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় সম্পর্কে সরাসরি শেখানোর ক্ষেত্রে শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা এবং ধর্মীয় অনুশীলনে সম্পৃক্ত করার মধ্যে আইনগত সীমারেখা কোথায়। ফেডারেল আদালতে মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রমে সেই প্রশ্নই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের অজু ও এশীয়দের চাল ধোয়ায় কম পানি ব্যবহারের পরামর্শ
যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের অজু ও এশীয়দের চাল ধোয়ায় কম পানি ব্যবহারের পরামর্শ

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত মুসলিমদের অজুর সময় এবং এশীয় সম্প্রদায়কে চাল ধোয়ার ক্ষেত্রে পানির অপচয় কমানোর আহ্বান জানিয়েছে দেশটির পানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'অফওয়াট'। 'ওয়াটার এফিসিয়েন্সি ইন ফেইথ অ্যান্ড ডাইভার্স কমিউনিটিজ' শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   সাউথ স্টাফোর্ডশায়ার ওয়াটার, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিভিনিটি অনুষদ এবং কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদসহ বেশ কয়েকটি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই প্রকল্পে দৈনন্দিন পানি ব্যবহারের অভ্যাসে পরিবর্তন আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।   কেমব্রিজে পরিচালিত পাইলট প্রকল্পে মুসলিমদের নামাজের আগে অজুর জন্য মাত্র এক লিটার পানি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়। অফওয়াটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অনেকেই কল ছেড়ে অজু করতে গিয়ে ১২ লিটার পর্যন্ত পানি খরচ করেন। সংস্থাটির মতে, অজুর সময় এক লিটারের বোতল ব্যবহার করলে প্রতিদিন একজনের প্রায় ৫৫ লিটার পর্যন্ত পানি সাশ্রয় হতে পারে।   এই প্রচারণার মাধ্যমে কেমব্রিজে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার ৯০০ লিটার পানি সাশ্রয় হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, এশীয়দের চাল ধোয়ায় পানি সাশ্রয়ের কৌশল শেখাতে করদাতাদের প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ড খরচ করে যুক্ত করা হয় ২০১৪ সালের মাস্টারশেফ বিজয়ী শেফ পিং কুম্বসকে। তিনি এক ভিডিও বার্তায় জানান, অনেকেই পরিষ্কার পানি বের না হওয়া পর্যন্ত পাঁচ-সাতবার চাল ধুয়ে থাকেন, যা আদতে অপ্রয়োজনীয়।   তবে অফওয়াটের এই অভিনব উদ্যোগটি ব্রিটেনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অভ্যাসে পরিবর্তনের উপদেশ দেওয়ার চেয়ে পানি সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর উচিত নিজেদের ত্রুটিপূর্ণ পাইপ ও অবকাঠামো মেরামতের দিকে নজর দেওয়া।   গত জুলাইয়ে গ্রিনপিস ইউকের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রতিদিন ছিদ্রযুক্ত পাইপের কারণে প্রায় ২.৮৭ বিলিয়ন লিটার পানি অপচয় হয়, যা দিয়ে এক হাজার ১৫০টি অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুল ভর্তি করা সম্ভব।   ক্যাবিনেট অফিসের শ্যাডো মিনিস্টার মাইক উড এই প্রকল্পের পেছনে করদাতাদের অর্থ ব্যয়ের তীব্র সমালোচনা করে জানান, মানুষ এমনিতেই পানির বিল বৃদ্ধিতে চাপে আছে; সেখানে এমন প্রকল্পে জনগণের টাকা খরচ করা মোটেও যৌক্তিক নয়।   তীব্র বিতর্কের মুখে অফওয়াটের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়ায় জনসাধারণকে সচেতন করার লক্ষ্যেই একাধিক ধর্মীয় গোষ্ঠী ও দাতব্য সংস্থার সঙ্গে এই পাইলট প্রকল্পটি চালানো হয়েছিল।   এটি কারও ওপর বাধ্যবাধকতা চাপিয়ে দেয়নি বা ধর্মীয় রীতিনীতিতে হস্তক্ষেপ করেনি। উল্লেখ্য, দেশজুড়ে পানির ব্যবহার কমাতে গত জুন মাসে ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে ‘লেটস সেভ ওয়াটার’ নামে একটি পৃথক প্রচার অভিযানও শুরু করেছে যুক্তরাজ্য সরকার।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
‘মুসলিম দেশগুলোর সম্পদ লুট করতে চায় শত্রুরা’, হুঁশিয়ারি ইরানের স্পিকার গালিবাফের
‘মুসলিম দেশগুলোর সম্পদ লুট করতে চায় শত্রুরা’, হুঁশিয়ারি ইরানের স্পিকার গালিবাফের

মুসলিম দেশগুলোর মূল্যবান সম্পদ ও কাঁচামাল লুট করার জন্য শত্রুরা সবসময় তৎপর রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) ইরাকের রাজধানী বাগদাদে আয়োজিত ইরানি ও ইরাকি ব্যবসায়ীদের এক যৌথ বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, গালিবাফ তাঁর বক্তব্যে মুসলিম বিশ্বের ওপর চলমান আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং সতর্ক করেছেন যে, শত্রুদের প্রধান লক্ষ্যই হলো ইসলামী দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক শক্তিকে দুর্বল করে নিজেদের ফায়দা হাসিল করা।   একই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনায় মুখর হন শীর্ষ এই ইরানি কর্মকর্তা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বিভিন্ন অর্থনৈতিক বাধাকে ‘অন্যায্য নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দ্রুত সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।   ইরাক ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার মাধ্যমে এই মার্কিন চাপ মোকাবিলার ওপর জোর দেন তিনি। গালিবাফ মনে করেন, প্রতিবেশী ও মিত্র দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই শত্রুদের সম্পদ লুটের এই ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া এবং নিজেদের অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী করা সম্ভব।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০
পর্তুগালে বোরকা-নিকাবসহ মুখঢাকা পোশাক পরলে গুনতে হবে ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা
পর্তুগালে বোরকা-নিকাবসহ মুখঢাকা পোশাক পরলে গুনতে হবে ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা

পর্তুগালে জনসমক্ষে এমনভাবে মুখ ঢাকা নিষিদ্ধ করে নতুন আইন কার্যকর করা হয়েছে, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন এই আইনের ফলে জনসমক্ষে বোরকা ও নিকাব পরা মুসলিম নারীরাও সরাসরি এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছেন, যা দেশটিতে নতুন করে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।   আইন অনুযায়ী, জনসমক্ষে পরিচয় গোপনকারী কোনো পোশাক বা উপকরণ ব্যবহার করলে অমান্যকারীদের ন্যূনতম ১৫০ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হবে।   তবে এই আইনটি সব ক্ষেত্রে ঢালাওভাবে প্রযোজ্য হবে না। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশেষ কিছু যৌক্তিক পরিস্থিতিতে মুখ ঢাকার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যগত জরুরি প্রয়োজন, পেশাগত দায়িত্ব পালন, শিল্প ও সংস্কৃতির কোনো বিশেষ আয়োজন, বৈরী আবহাওয়া এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের ভেতরের কার্যক্রম।   মূলত জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করার সুবিধার্থেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন আইনের পক্ষের সমর্থক ও নীতিনির্ধারকরা।   অন্যদিকে, মানবাধিকারকর্মী ও সুশীল সমাজের একটি বড় অংশ এই নতুন আইনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা সরাসরি মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নারীদের নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক পরার মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়ের পোশাকের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছেন তারা।   পর্তুগালের এই পদক্ষেপের রেশ কাটতে না কাটতেই স্পেনের বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জেও বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার এক নতুন উদ্যোগ সামনে এসেছে। স্পেনের ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ভক্স ও পিপলস পার্টির পক্ষ থেকে আনা এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আইন বারবার লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।   এমনকি কাউকে জোর করে বোরকা বা নিকাব পরতে বাধ্য করলে চার বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের কঠোর বিধানেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মুখঢাকা পোশাক নিয়ে একের পর এক এমন আইন ও প্রস্তাবের ফলে জননিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত মানবাধিকারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বিতর্কটি এখন পুরো মহাদেশ জুড়েই আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
Australia’s Muslim population
অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুত বাড়ছে ইসলামী অর্থনীতি, মুসলিমদের ব্যয় ছুঁতে পারে ৯ বিলিয়ন ডলার

অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে ইসলামী অর্থনীতি। দেশটির মুসলিম জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান ভোক্তা চাহিদাকে কেন্দ্র করে হালাল খাদ্য, পর্যটন, পোশাক, প্রসাধনী, ওষুধ, গণমাধ্যম ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে তৈরি হচ্ছে বড় বাজার। একটি জাতীয় প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম জনগোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ ব্যয় প্রায় ৯ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারে পৌঁছাতে পারে।   ‘দ্য স্টেট অ্যান্ড ফিউচার অব দ্য অস্ট্রেলিয়ান ইসলামিক ইকোনমি রিপোর্ট’-এ দেশটির ইসলামী অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের মূল বার্তা হলো, মুসলিমদের ঘিরে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে এখন আর ছোট বা বিশেষায়িত বাজার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তর অর্থনীতির একটি পরিমাপযোগ্য ও ক্রমবর্ধমান অংশে পরিণত হচ্ছে।   এই বাজার সম্প্রসারণের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম জনগোষ্ঠীর আকার ও তাদের ক্রমবর্ধমান ক্রয়ক্ষমতা। প্রতিবেদনে বর্তমানে দেশটিতে ১০ লাখের বেশি মুসলিম বসবাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই জনগোষ্ঠীর খাদ্যাভ্যাস, ভ্রমণ, পোশাক, আর্থিক সেবা ও জীবনযাপনের বিভিন্ন চাহিদাকে কেন্দ্র করে নতুন ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।   সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোর একটি মুসলিমবান্ধব পর্যটন। প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় মুসলিম পর্যটকদের ব্যয় ১৭০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই খাতে বার্ষিক যৌগিক প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। ফলে হালাল খাবার, নামাজের সুবিধা ও মুসলিমবান্ধব আবাসন নিশ্চিত করতে পারলে পর্যটন খাতে আরও বড় বাজার তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।   হালাল প্রসাধনী ও ওষুধের বাজারেও উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণের কথা উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। গত পাঁচ বছরে অস্ট্রেলিয়ার হালাল প্রসাধনী খাতে প্রায় ১০০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে হালাল ওষুধের বাজার প্রায় ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ হালাল ধারণাটি শুধু খাদ্যপণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ব্যক্তিগত পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ নতুন নতুন খাতে ছড়িয়ে পড়ছে।   অস্ট্রেলিয়ার জন্য ইসলামী অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হালাল পণ্য রফতানি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটি বছরে প্রায় ১৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের হালাল পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করে। এর প্রায় ৯৭ শতাংশই খাদ্যপণ্য। বিশেষ করে হালাল মাংস রফতানিতে অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হিসেবে অবস্থান করছে।   এই রফতানি বাজার অস্ট্রেলিয়ার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন মুসলিমপ্রধান দেশে হালাল খাদ্যের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিবেদনে অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বের ১২তম বৃহত্তম হালাল পণ্য সরবরাহকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় মুসলিম ভোক্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক হালাল বাজারও দেশটির কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রফতানি খাতের সামনে বড় সুযোগ তৈরি করছে।   তবে সম্ভাবনার তুলনায় অস্ট্রেলিয়ার ইসলামী অর্থায়ন খাত এখনো অপেক্ষাকৃত ছোট। প্রতিবেদনে এই খাতে প্রায় ১০০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের সম্পদ ও তহবিল থাকার কথা বলা হয়েছে। শরিয়াহসম্মত বাড়ি কেনার অর্থায়ন, বিনিয়োগ ও অন্যান্য আর্থিক পণ্যের চাহিদা থাকলেও প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে নিয়ন্ত্রক ও কাঠামোগত পার্থক্য এই খাতের দ্রুত সম্প্রসারণে বাধা হয়ে আছে।   প্রতিবেদনে ইসলামী অর্থনীতির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে কয়েকটি ক্ষেত্রে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আরও কার্যকর ও সমন্বিত হালাল সনদব্যবস্থা, ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য সমতাভিত্তিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় রফতানি সহায়তা।   অস্ট্রেলিয়ার ইসলামী অর্থনীতির এই সম্প্রসারণ শুধু মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যাবৃদ্ধির গল্প নয়। বরং এটি এমন একটি বাজারের বিকাশ, যেখানে ধর্মীয় চাহিদার সঙ্গে পর্যটন, কৃষি, খাদ্য, অর্থায়ন, স্বাস্থ্যসেবা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সরাসরি যুক্ত হচ্ছে। ফলে মুসলিম ভোক্তাদের জন্য তৈরি পণ্য ও সেবা এখন দেশটির মূলধারার ব্যবসার কাছেও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সুযোগ হয়ে উঠছে।   ৯ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ ব্যয় থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলারের হালাল রফতানি - পরিসংখ্যানগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ায় ইসলামী অর্থনীতি আর ছোট কোনো বিশেষায়িত বাজারে সীমাবদ্ধ নেই। প্রয়োজনীয় নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক সহায়তা পাওয়া গেলে আগামী কয়েক বছরে এটি দেশটির আরও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতে পরিণত হতে পারে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
মুসলিমদের ‘শিকারের পারমিট’ চেয়ে মিশিগানের জনপ্রতিনিধির পোস্ট, তীব্র বিতর্ক
মুসলিমদের ‘শিকারের পারমিট’ চেয়ে মিশিগানের জনপ্রতিনিধির পোস্ট, তীব্র বিতর্ক

মিশিগানের প্লেইনফিল্ড টাউনশিপের একজন নির্বাচিত ট্রাস্টির ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ইঙ্গিতপূর্ণ একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। পোস্টটিতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ‘হান্টিং পারমিট’ ব্যবহারের কথা বলা হয়। তবে ট্রাস্টি বব রেমিঙ্গা দাবি করেছেন, তিনি ওই পোস্ট শেয়ার করেননি এবং তার নাম ব্যবহার করে পোস্টটি ছড়ানো হয়ে থাকতে পারে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ১৭ জানিয়েছে, বব রেমিঙ্গার নামে থাকা একটি ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। পোস্টটির ভাষা ইসলামবিদ্বেষী এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ইঙ্গিত বহন করে বলে সমালোচনা ওঠে।   রেমিঙ্গা ফক্স ১৭-কে বলেন, পোস্টটি সম্পর্কে যোগাযোগ করার আগে তিনি কিছুই জানতেন না। তার দাবি, কেউ তার নাম ব্যবহার করে পোস্টটি তৈরি বা সম্পাদনা করে থাকতে পারে।   সাংবাদিক তাকে পোস্টটি সরাসরি দেখালে রেমিঙ্গা সেটিকে অত্যন্ত অনুপযুক্ত ও নিষ্ঠুর বলে মন্তব্য করেন। তিনি আবারও বলেন, এ ধরনের বক্তব্য তিনি নিজে কখনো প্রকাশ করতেন না।   ঘটনাটি সামনে আসার পর প্লেইনফিল্ড চার্টার টাউনশিপ বোর্ডও বিষয়টি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। বোর্ড বলেছে, টাউনশিপের দায়িত্ব পুরো কমিউনিটিকে সম্মান ও সততার সঙ্গে সেবা দেওয়া। কোনো নির্বাচিত কর্মকর্তা এমন মন্তব্য করলে যা টাউনশিপের নীতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেটি ওই ব্যক্তির নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে বিবেচিত হবে, টাউনশিপ বা পুরো বোর্ডের অবস্থান হিসেবে নয়।   বোর্ড আরও জানিয়েছে, মিশিগান আইনে টাউনশিপ কর্তৃপক্ষ কোনো নির্বাচিত কর্মকর্তাকে এ ধরনের ব্যক্তিগত বক্তব্যের জন্য সরাসরি পদ থেকে অপসারণ করতে বা বেতন বন্ধ করতে পারে না। নির্বাচিত কর্মকর্তার বিষয়ে চূড়ান্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ভোটারদের নির্বাচন, পুনর্নির্বাচন বা রিকল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিতে হয়।   বিতর্কের পর বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার দুপুরে একটি বিশেষ বোর্ড মিটিং ডাকা হয়েছে। সেখানে রেমিঙ্গাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ এবং টাউনশিপের অবস্থান নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।   এদিকে গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসের ইসলামিক সেন্টারের ইমাম শরিফ সাহিবজাদা বলেছেন, ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে নেতিবাচক ধারণার বড় একটি কারণ হলো অজ্ঞতা ও ভুল বোঝাবুঝি। তার মতে, মানুষ একে অপরের ধর্ম ও বাস্তব জীবন সম্পর্কে জানলে এ ধরনের বিভাজন কমতে পারে।   তিনি মুসলিম সম্প্রদায়কে সামগ্রিকভাবে সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত করার ধারণাও প্রত্যাখ্যান করেন। একই সঙ্গে ঘৃণামূলক বক্তব্যের জবাব সংঘাত দিয়ে নয়, বরং বোঝাপড়া ও মানবিকতার মাধ্যমে দেওয়ার আহ্বান জানান।   ঘটনাটি স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটিতে উদ্বেগ তৈরি করেছে, বিশেষ করে এমন একটি পোস্টে সরাসরি মুসলিমদের লক্ষ্য করে ‘শিকার’ করার ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায়। তবে এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি, পোস্টটি সত্যিই রেমিঙ্গা নিজে শেয়ার করেছিলেন কি না।   রেমিঙ্গা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে টাউনশিপ বোর্ড তার বিরুদ্ধে সরাসরি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত বলে জানিয়েছে। ফলে শুক্রবারের বিশেষ মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে কী সিদ্ধান্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপ আসে, সেদিকেই এখন স্থানীয়দের নজর।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
হিজাব ও হালাল খাবার নিষিদ্ধের প্রস্তাব ছবি: সংগৃহীত
হিজাব ও হালাল খাবার নিষিদ্ধের প্রস্তাব, ‘ইসলাম ঠেকাতে’ টেক্সাস রিপাবলিকানদের নতুন পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে মুসলিমদের ধর্মীয় জীবনকে লক্ষ্য করে একাধিক কঠোর আইন করার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজ্যের কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ও রাজনৈতিক কর্মী হিজাব, হালাল খাবার, ইসলামিক স্কুল এবং মুসলিম সংগঠন নিয়ে বিভিন্ন বিধিনিষেধের প্রস্তাব দিয়েছেন।   আগস্টের শুরুতে ‘ট্রু টেক্সাস প্রজেক্ট’ আয়োজিত এক রাজনৈতিক সম্মেলনে এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে মুসলিমদের প্রভাবকে ‘ইসলামিফিকেশন অব টেক্সাস’ হিসেবে তুলে ধরে কয়েকজন বক্তা কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানান।   স্টেট সিনেটর বব হল বলেন, টেক্সাসে শরিয়াহ আইন ঠেকানো তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। আর স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যান্ডি হপার এমন কিছু প্রস্তাবের কথা বলেন, যেগুলোর লক্ষ্য মুসলিমদের জন্য জীবনকে ‘কঠিন’ করে তোলা।   আলোচনায় থাকা প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে পাবলিক স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ করা, হালাল খাবার বিক্রিতে বিধিনিষেধ, ইসলামিক চার্টার স্কুল বন্ধ করা এবং মুসলিম সংগঠনগুলোর ওপর আর্থিক ও নিয়ন্ত্রক তদন্ত বাড়ানো। কিছু প্রস্তাবে মুসলিমদের পেশাগত লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে।   এমনকি ইসলামকে ধর্মের পরিবর্তে রাজনৈতিক মতাদর্শ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার মাধ্যমে সেটিকে নিষিদ্ধ করার পথ তৈরির কথাও সম্মেলনে উঠে আসে। তবে এসব প্রস্তাবের কোনোটিই এখনো আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি এবং আগামী আইনসভা অধিবেশনে এগুলো কতটা সমর্থন পাবে, তা স্পষ্ট নয়।   টেক্সাসের মুসলিম সম্প্রদায় অবশ্য এসব উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করছে। স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ সালমান ভোজানি, যিনি ২০২২ সালে টেক্সাস হাউসে প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন, বলেন, টেক্সাসের মুসলিমরা কোনো হুমকি নয়; তারা এই রাজ্যেরই অংশ।   আইন বিশেষজ্ঞরাও প্রস্তাবগুলোর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক আইন বিশেষজ্ঞ ডগলাস লেকক বলেছেন, ধর্মীয় পোশাক বা ধর্মীয় চর্চাকে লক্ষ্য করে এমন আইন হলে তা প্রথম সংশোধনীর অধিকার নিয়ে বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।   পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, টেক্সাসের প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ২ শতাংশ মুসলিম বলে পরিচয় দেন।    এরই মধ্যে টেক্সাসে মুসলিম সম্প্রদায়কে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বেড়েছে। হিউস্টন ক্রনিকলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান বিতর্কের মধ্যে মসজিদ নির্মাণ, ইসলামিক আবাসিক প্রকল্প ও মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বিরোধ দেখা দিয়েছে।   তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—হালাল খাবার নিষিদ্ধ করার কোনো আইন বর্তমানে টেক্সাসে কার্যকর নেই। বরং টেক্সাস আইনসভায় অতীতে পাবলিক স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য হালাল খাবারের বিকল্প রাখার প্রস্তাবও উঠেছে।    টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের কার্যালয় জানিয়েছে, ২০২৭ সালে শরিয়াহ আইন নিষিদ্ধ করার আরও উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে হিজাব বা হালাল খাবার নিষিদ্ধ করার নির্দিষ্ট প্রস্তাবে গভর্নর সমর্থন করবেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানানো হয়নি।   টেক্সাস আইনসভায় আগামী অধিবেশনের জন্য বিল প্রি-ফাইলিং শুরু হবে ৯ নভেম্বর, আর আইনসভা অধিবেশন শুরু হবে ১২ জানুয়ারি।   অর্থাৎ, এসব প্রস্তাব এখনো মূলত রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও আলোচনার পর্যায়ে। তবে এগুলো বাস্তব আইনে রূপ নিলে ধর্মীয় স্বাধীনতা, বৈষম্য এবং সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে টেক্সাসে বড় ধরনের আইনি লড়াই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
আবদুল এল-সায়েদ: ইতিহাসের দোরগোড়ায়।ছবি:সংগৃহীত
মিশিগানে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ; যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে

মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারিতে জয় পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন প্রগতিশীল নেতা ও চিকিৎসক ডা. আবদুল এল-সায়েদ। নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত মুসলিম সিনেটর হবেন।   এনবিসি নিউজের প্রজেকশন অনুযায়ী, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে এল-সায়েদ তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসওম্যান হেইলি স্টিভেন্সকে পরাজিত করে দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। ভোট গণনার প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হওয়ার সময় এল-সায়েদ পান ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট, আর স্টিভেন্স পান ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ। দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান ছিল প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট। চূড়ান্ত প্রত্যয়িত ফল প্রকাশের পর এ সংখ্যায় সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।   এই প্রাইমারি ছিল ২০২৬ সালের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ডেমোক্র্যাটিক সিনেট নির্বাচনের একটি। দলীয় প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের সমর্থন পাওয়া হেইলি স্টিভেন্সের বিপরীতে এল-সায়েদকে সমর্থন দেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল শিবিরের প্রভাবশালী নেতারা। শেষ পর্যন্ত তৃণমূল পর্যায়ের সমর্থন ও জোরালো প্রচারণার মাধ্যমে তিনি বিজয় অর্জন করেন।   ৪১ বছর বয়সী আবদুল এল-সায়েদ মিশিগানের সাবেক জনস্বাস্থ্য পরিচালক। ২০১৮ সালে তিনি মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়নের জন্যও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি কোভিড-১৯ মহামারির সময় এবং স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় আলোচনায় পরিচিতি লাভ করেন।   নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ বাস্তবায়ন, ধনীদের ওপর বেশি কর আরোপ, অভিবাসন ব্যবস্থার সংস্কার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বিলুপ্তির পক্ষে অবস্থান নেন। একই সঙ্গে গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তিনি ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানান। এই অবস্থান তাকে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে এবং প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন এনে দেয়।   মিশিগানে বাংলাদেশি ভোটারদের মতে, মিশিগানে আরব-আমেরিকান ও মুসলিম ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি এবং তরুণ ভোটারদের সমর্থন এল-সায়েদের প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যনীতি নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটিও এই নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলেছে।   এখন তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচন। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করতে পারলে আবদুল এল-সায়েদ শুধু মিশিগানের নতুন সিনেটরই হবেন না, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছরেরও বেশি রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত মুসলিম সিনেটর হিসেবেও নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবেন।

Unknown আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
মুসলিমদের জালিমের পক্ষ নেওয়া উচিত নয়, প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের বার্তা
মুসলিমদের জালিমের পক্ষ নেওয়া উচিত নয়, প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের বার্তা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোকে কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণীর কথা বলেন, সবার আগে তাদের নিজেদের সরকারের আচরণ ইসলামের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা মূল্যায়ন করা উচিত। মূলত বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার জেরে বাহরাইনের শাসকের এক মন্তব্যের কড়া জবাব দিতে গিয়েই এ কথা বলেছে তেহরান।   সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) আরবি ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। পবিত্র কোরআনের সূরা হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইসলামের দৃষ্টিতে মর্যাদার ভিত্তি আরবি ভাষা বা ভৌগোলিক অবস্থান নয়; বরং তাকওয়া বা আল্লাহভীতি। বাঘাই জোর দিয়ে বলেন, কেবল আরব বা আরবি ভাষাভাষী হওয়ার কারণে কোনো শাসক নিজেকে মহানবী (সা.)-এর মিশনের প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করতে পারেন না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ইরান সব সময় সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক ও মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও এই নীতি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।   এই কূটনৈতিক বাগবিতণ্ডার সূত্রপাত মূলত বাহরাইনের শাসক হামাদ বিন ঈসা আল খলিফার একটি মন্তব্যের জেরে। সম্প্রতি তিনি ইরানকে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে মহানবী (সা.)-এর শিক্ষার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি দাবি করেন, মহানবী (সা.) ইরানকে শতাব্দীর অন্ধকার থেকে মুক্ত করে আধ্যাত্মিক, মানবিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোর পথ দেখিয়েছিলেন, আর সেই কৃতজ্ঞতার খাতিরেই তেহরানের উচিত বাহরাইনে হামলা না করা।   এর জবাবে বাঘাই প্রশ্ন তোলেন, একটি মুসলিম দেশের ওপর হামলা চালানো শক্তির সঙ্গে সহযোগিতা করা কিংবা মুসলমানদের শত্রুদের আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়া কি ইসলামের ন্যায়বিচার ও মুসলিম ঐক্যের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? তিনি কোরআনের আয়াত ও মহানবীর (সা.) বাণী উদ্ধৃত করে বলেন, মুসলমানদের কখনোই জালিমের পক্ষ নেওয়া বা তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করা উচিত নয়। ইসলামের বিকাশে দর্শন, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও গণিতে ইরানের ঐতিহাসিক অবদানের কথাও এ সময় স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।   উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ের শুরু থেকে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক হামলা চালিয়ে আসছে। এর জবাবে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে বাহরাইনসহ ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটেই ইরান তার প্রতিবেশীদের ইসলামি মূল্যবোধ ও ঐক্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিল।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
ভারতে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে মুসলিম দম্পতিকে রাস্তায় ফেলে মারধর I ছবি: সংগৃহীত
ভারতে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে মুসলিম দম্পতিকে রাস্তায় ফেলে মারধর

ভারতের বেঙ্গালুরুতে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে এক মুসলিম দম্পতিকে রাস্তায় ফেলে নির্মমভাবে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ডা. নগেন্দ্রাপ্পা নামের এক চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ। ওই চিকিৎসকের দাবি, এর আগে ওই দম্পতিকে ভারত থেকে একবার বিতাড়িত করা হয়েছিল এবং তারা বেআইনিভাবে আবারও দেশে প্রবেশ করেছে। গত বুধবার (২২ জুলাই) সকালে ঘটা এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।   পুলিশ ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বেঙ্গালুরুতে নিজস্ব ক্লিনিক পরিচালনাকারী ডা. নগেন্দ্রাপ্পা বুধবার সকালে ২৩ বছর বয়সী নাসরিনা ও তার স্বামী মোহাম্মদ বিলালের পথরোধ করেন। নাসরিনা পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে জানান, অভিযুক্ত চিকিৎসক প্রথমেই তাদের জাতীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হিন্দিতে গালিগালাজ শুরু করেন। এরপর নাসরিনাকে টেনেহিঁচড়ে মারধরের পাশাপাশি তার স্বামী বিলালের ওপরও চড়াও হন তিনি। বিলালের মাথা ও পিঠে উপর্যুপরি আঘাত করা হয় এবং একপর্যায়ে তাকে মাটিতে ফেলে লাথি মারেন ওই চিকিৎসক। এমনকি ঘটনাটি পুলিশকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় বেলান্দুর থানা-পুলিশ ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মারধর, নারীর শ্লীলতাহানি, বেআইনিভাবে পথরোধ এবং অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং ওই দম্পতির জাতীয়তা ও অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্যের সত্যতা এখনো যাচাই করা হয়নি।   এদিকে, গ্রেফতারের ঠিক আগেই অভিযুক্ত চিকিৎসক নিজেই ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করেন। সেখানে তাকে দম্পতিকে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে অভিযুক্ত করে গায়ে হাত তুলতে দেখা যায়। বিপরীতে ভুক্তভোগী বিলালকে স্থানীয় কন্নড় ভাষায় উত্তর দিয়ে বলতে শোনা যায় যে, তিনি গত ২০ বছর ধরে বেঙ্গালুরুতেই বসবাস করছেন। তবে সর্বশেষ প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, শুক্রবার আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন অভিযুক্ত ওই চিকিৎসক।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ফোর্ট ওর্থ আইএসডির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন শিক্ষিকা শাইমা আলজুবি। ছবি: সংগৃহীত
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের জেরে পদোন্নতি বাতিল, স্কুল ডিস্ট্রিক্টের বিরুদ্ধে আদালতে ফিলিস্তিনি মুসলিম প্রধান শিক্ষিকা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট ওর্থ ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের (ফোর্ট ওর্থ আইএসডি) বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দীর্ঘদিনের শিক্ষিকা ও প্রশাসক শাইমা আলজুবি। সম্প্রতি একটি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা অতীতের কিছু পোস্টকে কেন্দ্র করে সেই নিয়োগ বাতিল করা হয়। এবার তিনি অভিযোগ করেছেন, তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সমান আইনি সুরক্ষার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। পাশাপাশি তার মুসলিম পরিচয় ও ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত হওয়াও জেলা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি করা হয়েছে মামলায়।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাইমা আলজুবি দীর্ঘদিন ধরে ফোর্ট ওর্থ আইএসডিতে শিক্ষক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত মে মাসে তাকে ওয়েস্টার্ন হিলস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে জেলা কর্তৃপক্ষ।   ফোর্ট ওর্থ আইএসডি জানায়, আলজুবির ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অতীতে করা কিছু পোস্ট নিয়ে তদন্ত চলছিল। সেই তদন্তের কারণেই তার নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচিত পোস্টগুলোর মধ্যে ছিল কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার আন্দোলন ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’-এর প্রতি সমর্থন, যুক্তরাষ্ট্রে শিশু অবস্থায় আসা অভিবাসীদের সুরক্ষা কর্মসূচি ‘ডিফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস (ডাকা)’-এর পক্ষে মত এবং করোনা মহামারির সময় মাস্ক ব্যবহারের সমর্থনে লেখা পোস্ট।   নিয়োগ বাতিলের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। গত মে মাসের শেষ দিকে বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক এবং কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, অনলাইনে রক্ষণশীল গোষ্ঠীর চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় এক কমিউনিটি নেতা ফাদিয়া সালেম বলেন, এই ঘটনার মাধ্যমে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বার্তা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ‘৮১৭ পডকাস্ট’-এর ইজে ক্যারিয়নের ভাষ্য, বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টই মূল সমস্যা। অথচ বাস্তবে অনলাইনভিত্তিক ডানপন্থী প্রভাবশালীদের চাপ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে।   এদিকে ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় আলজুবি আদালতের কাছে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চেয়ে আবেদন করেছেন। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে ওয়েস্টার্ন হিলস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক পদে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং চতুর্দশ সংশোধনী অনুযায়ী সমান আইনি সুরক্ষার অধিকার তার ক্ষেত্রে লঙ্ঘিত হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্ত কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের বিষয়বস্তুর কারণে নয়, বরং অন্তত আংশিকভাবে তার মুসলিম পরিচয় এবং জাতিগত উৎস দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে।   অন্যদিকে ফোর্ট ওর্থ আইএসডি মামলার বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। জেলা কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি কর্মী-সংক্রান্ত গোপনীয় বিষয়। তবে এক বিবৃতিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, শাইমা আলজুবিকে ‘প্রিন্সিপাল প্রোগ্রাম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর’ নামে জেলা পর্যায়ের একটি নেতৃত্বের পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এই পদে তিনি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও একাডেমিক কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পালন করবেন।   কিন্তু আদালতে জমা দেওয়া নথিতে আলজুবির আইনজীবীরা দাবি করেছেন, এই পদটি বাস্তবে নতুন করে তৈরি করা হয়েছে এবং আলজুবি সেটি গ্রহণ করেননি। তার লক্ষ্য আগের ঘোষিত প্রধান শিক্ষক পদেই ফিরে যাওয়া।   এখন আদালত ফোর্ট ওর্থ আইএসডির জবাব পাওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। মামলার ফলাফল শুধু আলজুবির কর্মজীবন নয়, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় বৈষম্য সংক্রান্ত বিতর্কেও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।   সূত্র: ফক্স ৪, আদালতের নথি এবং ফোর্ট ওর্থ আইএসডির বিবৃতি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
উটাহর ভ্যালি ফেয়ার মলে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত মুসলিম কর্মী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ছবি: সংগৃহীত
‘সব মুসলিমকে মেরে ফেলতে চাই’, যুক্তরাষ্ট্রের ইউটায় ভয়াবহ ইসলামোফোবিক হামলা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় যুবক

যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের একটি শপিং মলে ধর্মীয় পরিচয়কে লক্ষ্য করে এক মুসলিম কর্মীর ওপর ছুরিকাঘাতের ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ৪৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তি স্বীকার করেছেন যে তিনি ভুক্তভোগীকে মুসলিম হওয়ার কারণেই লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিলেন।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার উটাহর ওয়েস্ট ভ্যালি সিটির ভ্যালি ফেয়ার মলের ভেতরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, মলের একটি কিয়স্কে কর্মরত মুসলিম যুবকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানানো হয়েছে।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন সাধারণ মানুষ সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে এসে হামলাকারীকে ধরে ফেলেন এবং পুলিশ পৌঁছানো পর্যন্ত তাকে আটকে রাখেন। এ সময় তাকে নিরস্ত করার চেষ্টা করতে গিয়ে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী হামলাকারীকে আঘাতও করেন। পরে পুলিশ এসে তাকে হেফাজতে নেয়।   গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম পিটার মাইকেল লারসেন। তাকে সল্ট লেক কাউন্টি কারাগারে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা এবং নিষিদ্ধ অবস্থায় বিপজ্জনক অস্ত্র বহনের অভিযোগে তদন্ত চলছে।   পুলিশের আদালতে দাখিল করা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় লারসেন বলেন যে তিনি ভুক্তভোগীকে "মুসলিম হওয়ার কারণে হত্যা করার উদ্দেশ্যে" লক্ষ্য করেছিলেন। তদন্তকারীদের ভাষ্য, তিনি আরও দাবি করেন যে তিনি মুসলিমদের হত্যা করতে চান। এসব বক্তব্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে এবং তাকে মুক্তি দিলে জনসাধারণের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আদালতে উল্লেখ করেছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য সল্ট লেক ট্রিবিউন জানায়, হামলার আগে সন্দেহভাজন ব্যক্তি কিয়স্কে এসে কর্মীর নাম ও ধর্মীয় পরিচয় জানতে চান। এরপর তিনি পানির একটি বোতল চান। ভুক্তভোগী পানি আনতে ঘুরে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই হামলাকারী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে শুরু করেন।   ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা উটাহ ইসলামিক সেন্টারের ইমাম শুয়াইব দিন জানান, আহত ব্যক্তি একাধিক অস্ত্রোপচার করাতে পারেন। এদিকে তার এক বন্ধু চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে একটি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ভুক্তভোগীর শরীরে অন্তত ১৫টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ।   তদন্তে আরও জানা গেছে, হামলাকারীকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে আটকে রাখার সময় তিনি কিছু আঘাত পান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।   মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রে গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসলামবিদ্বেষ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর থেকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক ঘটনা বাড়ে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসনবিরোধী বক্তব্য, শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী মতাদর্শ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরেও মুসলিমবিদ্বেষ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। হামলাটিকে ঘৃণাপ্রসূত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে কি না, সে বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করছে। এখন পর্যন্ত আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনের দৃষ্টিতে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসে মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের মামলা খারিজের আবেদন নাকচ I ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসে মুসলিমদের ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা, বিবাদীদের খারিজের আবেদন নাকচ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে একটি মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের করা ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘনের মামলাটি খারিজের আবেদন নাকচ করেছেন এক ফেডারেল বিচারক। ফলে মামলাটি এখন পূর্ণাঙ্গ বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে।   অস্টিনের ফেডারেল বিচারক ডেভিড অ্যালান এজরা সম্প্রতি দেওয়া এক আদেশে টেক্সাস ফিউনারেল সার্ভিস কমিশন (টিএফএসসি) এবং সংস্থাটির সাবেক প্রধান কর্মকর্তা ক্রিস্টিন টিপসের দায়ের করা মামলা খারিজের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেইআরএ নিউজ (KERA News) জানিয়েছে, বিচারকের মতে, মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে এবং সেগুলোর বিচার হওয়া উচিত।   মামলাটি করেছে টেক্সাসের ইস্ট প্লানো ইসলামিক সেন্টার (ইপিক)। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, মুসলিমদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী জানাজা ও দাফনের কার্যক্রমকে অন্যায়ভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে টেক্সাস ফিউনারেল সার্ভিস কমিশন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে নিশ্চিত করা ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আইনের সমান সুরক্ষার অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।   ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের মার্চে। সে সময় কমিশন অভিযোগ তোলে, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া ইপিক একটি ফিউনারেল হোম পরিচালনা করছে। এ অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়ে একটি নোটিশও পাঠানো হয়।   এর চার মাস পর ইপিক ফেডারেল আদালতে মামলা করে জানায়, তারা কোনো বাণিজ্যিক ফিউনারেল হোম পরিচালনা করছে না। বরং মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী জানাজা ও দাফনের আয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট সহায়তা দিয়ে থাকে, যা বহু বছর ধরেই বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রচলিত।   মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, তদন্ত চলাকালে কমিশনের তৎকালীন প্রধান ক্রিস্টিন টিপসের কিছু ব্যক্তিগত বার্তা মুসলিমদের প্রতি পক্ষপাতমূলক মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়। কেইআরএ নিউজের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত চলাকালে তিনি ইসলামবিরোধী বিভিন্ন লেখা, ভিডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। এসব তথ্যই তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বলে দাবি করে ইপিক।   রায়ে বিচারক এজরা উল্লেখ করেন, আদালতের সামনে এমন কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং কোনো পক্ষই দাবি করেনি যে ইপিক তাদের কার্যক্রমে শরিয়া আইন প্রয়োগ করছে। তিনি আরও বলেন, কমিশনের পাঠানো নোটিশে ইপিকের কোন নির্দিষ্ট কার্যক্রম টেক্সাসের আইন লঙ্ঘন করেছে, তাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।   বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে আরও বলেন, অতীতে ১৯৮৭ ও ২০১৪ সালে টেক্সাস ফিউনারেল সার্ভিস কমিশন অন্য দুটি মসজিদকে রাজ্যের আইন মেনে ধর্মীয় দাফনের আচার পরিচালনার সুযোগ দিয়েছিল। সেই নজিরের পরও ইপিকের ক্ষেত্রে ভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগকে আদালত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।   এ মামলায় টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কেইআরএ নিউজের হাতে আসা কিছু নথি ও রেকর্ড করা ফোনালাপ অনুযায়ী, ইপিকের বিরুদ্ধে তদন্তে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পক্ষপাতের প্রভাব থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন কমিশনের সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা। তবে গভর্নরের কার্যালয় এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, রাজ্যের আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেই তারা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করেছে।   আদালতের সর্বশেষ এ আদেশের অর্থ এই নয় যে ইপিক ইতোমধ্যে মামলায় জয়ী হয়েছে। বিচারক কেবল বলেছেন, মামলাটি খারিজ করার মতো পরিস্থিতি নেই এবং অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ বিচার হওয়া প্রয়োজন। এখন উভয় পক্ষ আদালতে তাদের সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করবে, এরপর মামলার চূড়ান্ত রায় দেওয়া হবে।   এদিকে মুসলিম নাগরিক অধিকারবিষয়ক সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (CAIR)-টেক্সাস আদালতের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ শাখার নির্বাহী পরিচালক মুস্তাফা ক্যারল এক বিবৃতিতে বলেন, প্রমাণ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে ইপিককে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্ত আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি ধর্মীয় সম্প্রদায় আইনের দৃষ্টিতে সমান সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মাত্র পাঁচ হাজার মুসলিম, তবু কেপ ভার্দেতে ধীরে ধীরে শক্ত হচ্ছে ইসলামের ভিত্তি

আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝখানে অবস্থিত ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত এই দেশটি মূলত পর্যটন, সমুদ্রবন্দর ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য পরিচিত। তবে এর আড়ালে রয়েছে আরেকটি কম আলোচিত ইতিহাস। সেটি হলো, শত শত বছরের দাসবাণিজ্য ও ঔপনিবেশিক শাসনের বাধা অতিক্রম করে কেপ ভার্দেতে ইসলামের ধীর কিন্তু ধারাবাহিক বিকাশ।   কেপ ভার্দের ২০২১ সালের জাতীয় আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ লাখ জনসংখ্যার এই দেশে মুসলিমের সংখ্যা আনুমানিক পাঁচ হাজার, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ। সংখ্যায় তারা ছোট একটি সম্প্রদায় হলেও ব্যবসা-বাণিজ্য, সমাজসেবা, ধর্মীয় কার্যক্রম এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার মাধ্যমে দেশটির বহুসাংস্কৃতিক সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।   দেশটির মুসলিমদের অধিকাংশই পশ্চিম আফ্রিকার সেনেগাল, গিনি-বিসাউ ও মালি থেকে আসা অভিবাসী। রাজধানী প্রাইয়া, বন্দরনগরী মিনদেলো এবং পর্যটননির্ভর সাল ও বোয়া ভিস্তা দ্বীপে তাদের বসবাস বেশি। তারা মূলত খুচরা ব্যবসা, নির্মাণশিল্প, পরিবহন, হোটেল ও পর্যটনসেবা এবং হস্তশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। ধর্মীয়ভাবে অধিকাংশই সুন্নি মুসলিম এবং পশ্চিম আফ্রিকার তিজানিয়া ও মুরিদ সুফি ধারার সাংস্কৃতিক প্রভাব তাদের জীবনাচরণে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।   ইতিহাসবিদদের মতে, কেপ ভার্দেতে ইসলামের ইতিহাস প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাব্দী পুরোনো। ১৪৬২ সালে পর্তুগিজরা দ্বীপপুঞ্জে উপনিবেশ স্থাপন করার পর কেপ ভার্দে দ্রুত আটলান্টিক দাসবাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়। সে সময় সেনেগাম্বিয়া ও আপার গিনি অঞ্চল থেকে আগত মুসলিম ব্যবসায়ী ও দাসদের মাধ্যমে দ্বীপটিতে ইসলামের প্রথম পরিচয় ঘটে।   ওলোফ, মান্দিঙ্কা ও ফুলানি জনগোষ্ঠীর বহু মুসলিম কৃষিকাজ ও গৃহস্থালি শ্রমে নিয়োজিত ছিলেন। তাদের অনেকেরই ইসলামি শিক্ষা ও ধর্মীয় জ্ঞান ছিল সমৃদ্ধ। কিন্তু পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক শাসনামলে ক্যাথলিক ধর্মকে প্রাধান্য দিয়ে মুসলিমদের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। অনেক মুসলিমকে জোরপূর্বক খ্রিস্টধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হয় এবং কোরআন তেলাওয়াত কিংবা প্রকাশ্যে ধর্মীয় আচার পালনের সুযোগ সীমিত করে দেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে দেশটিতে কোনো স্থায়ী ইসলামি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি।   তবে ইসলামের প্রভাব পুরোপুরি বিলীন হয়নি। স্থানীয় ক্রেওল ভাষা ও সংস্কৃতিতে পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিম ঐতিহ্যের নানা উপাদান আজও টিকে রয়েছে। পাশাপাশি অভিবাসী মুসলিমদের মধ্যে ফরাসি ও ওলোফ ভাষার ব্যবহার দেশটির সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।   ১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর কেপ ভার্দের সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়। এর ফলে মুসলিমরা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পান। পরবর্তী সময়ে পর্যটনশিল্পের বিকাশ, বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ার ফলে মুসলিম অভিবাসীর সংখ্যাও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়।   ১৯৯০ সালে রাজধানী প্রাইয়ায় দেশের প্রথম সরকারি স্বীকৃত মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বর্তমানে মুসলিমদের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পরে ২০১৪ সালে অন্তত ৫০০ সদস্যবিশিষ্ট ধর্মীয় সংগঠনকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার আইন কার্যকর হলে মুসলিম সংগঠনগুলোও সরকারি স্বীকৃতি ও বিভিন্ন প্রশাসনিক সুবিধা পেতে শুরু করে।   বর্তমানে রাজধানী প্রাইয়া, মিনদেলো এবং সাল দ্বীপে কয়েকটি ছোট মসজিদ ও ইবাদতের স্থান রয়েছে। সেখানে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমার নামাজ, রমজানের তারাবি এবং ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। যদিও দেশটিতে বড় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক মাদরাসা নেই, তবুও মসজিদকেন্দ্রিক ছোট ছোট মক্তবে শিশু-কিশোরদের কোরআন শিক্ষা ও ইসলামের মৌলিক বিষয় শেখানো হয়। রাজধানীতে একটি আধুনিক কেন্দ্রীয় মসজিদ ও ইসলামি শিক্ষা কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভূমি বরাদ্দসংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রকল্পটি এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।   কেপ ভার্দের মুসলিমদের প্রধান সংগঠন কম্যুনিদাদে ইসলামিকা দে কাবো ভের্দে। এ ছাড়া ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত অ্যাসোসিয়েশন ইসলামিকা দে দাওয়াহ দে কাবো ভের্দে নতুন মুসলিমদের সহায়তা, ইসলাম প্রচার, জাকাত বিতরণ এবং অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্থানীয়ভাবে ইসলাম গ্রহণকারী মুসলিমদের প্রতিষ্ঠিত আল ওয়াসিলাহ ফাউন্ডেশনও সমাজসেবা ও আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।   আফ্রিকার অন্যতম শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিত কেপ ভার্দেতে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রয়েছে। ২০২২ সালে ধর্মীয় সহনশীলতা নিয়ে ইকোওয়াসের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজনও দেশটির আন্তধর্মীয় সম্প্রীতির স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়। ঈদুল আজহায় অনেক মুসলিম পরিবার কোরবানির মাংস খ্রিস্টান প্রতিবেশীদের মধ্যেও বিতরণ করেন, যা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সামাজিক সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।   তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অধিকাংশ মুসলিম অভিবাসী হওয়ায় বৈধ আবাসিক কাগজপত্র ও বসবাসের অনুমতি অনেকের জন্য একটি বড় সমস্যা। পাশাপাশি ছোট মুসলিম জনগোষ্ঠীর কারণে অনেক এলাকায় হালাল খাদ্যের সহজ প্রাপ্যতা নেই। তবে ইতিবাচক বিষয় হলো, কেপ ভার্দেতে ধর্মীয় উগ্রবাদের উল্লেখযোগ্য কোনো নজির পাওয়া যায়নি। মুসলিমরা বরাবরই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সামাজিক সম্প্রীতিকে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, সংখ্যায় ছোট হলেও কেপ ভার্দের মুসলিম সম্প্রদায় দেশটির বহুসাংস্কৃতিক সমাজে একটি ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দাসবাণিজ্যের অন্ধকার ইতিহাস এবং ঔপনিবেশিক দমন-পীড়নের দীর্ঘ অধ্যায় অতিক্রম করে ইসলাম আজ কেপ ভার্দের স্বীকৃত ধর্মীয় পরিচয়ের একটি অংশে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে আফ্রিকা ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংযোগ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এই সম্প্রদায়ের সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসের সরকারি স্কুলে সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্য বাইবেল পাঠ বাধ্যতামূলক করল শিক্ষা বোর্ড l ছবি: সংগৃহীত
মুসলিমসহ ৫০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর বাধ্যতামূলক পাঠ্যসূচিতে বাইবেলের নির্বাচিত অংশ, টেক্সাসের সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সরকারি স্কুলে মুসলিমসহ সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত বাধ্যতামূলক পাঠ্যসূচিতে বাইবেলের নির্বাচিত অংশ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশজুড়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত টেক্সাস স্টেট বোর্ড অব এডুকেশন সম্প্রতি ভোটের মাধ্যমে নতুন পাঠ্যসূচির অনুমোদন দিয়েছে।   নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ২০৩০-৩১ শিক্ষাবর্ষ থেকে ধাপে ধাপে এই পাঠ্যসূচি চালু হবে। এতে বাইবেলের নির্বাচিত গল্প ও অংশের পাশাপাশি বিশ্বসাহিত্যের বিভিন্ন ধ্রুপদি রচনাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। টেক্সাস শিক্ষা বোর্ডের দাবি, এটি ধর্মীয় শিক্ষা নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বোঝাতে বাইবেলের কিছু অংশকে শিক্ষাসামগ্রী হিসেবে ব্যবহার করা হবে।   টেক্সাসে বর্তমানে ৫০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করে। নতুন পাঠ্যসূচি কার্যকর হলে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান, ইহুদি, বৌদ্ধসহ বিভিন্ন ধর্মীয় পটভূমির সব শিক্ষার্থী একই পাঠ্যক্রমের আওতায় আসবে।   সিদ্ধান্তের সমর্থকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আইন, ইতিহাস ও সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে ইহুদি-খ্রিস্টান ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ধারণা দিতেই বাইবেলের নির্বাচিত অংশ পাঠ্যসূচিতে যুক্ত করা হয়েছে।   তবে এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন শিক্ষাবিদ, নাগরিক অধিকার সংগঠন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাদের অভিযোগ, সরকারি স্কুলের বাধ্যতামূলক পাঠ্যসূচিতে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গ্রন্থ অন্তর্ভুক্ত করা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে রাষ্ট্র ও ধর্মের পৃথক অবস্থানের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাদের আশঙ্কা, এতে মুসলিমসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী এবং ধর্মনিরপেক্ষ পরিবারের শিক্ষার্থীরা নিজেদের উপেক্ষিত বা অস্বস্তিকর অবস্থায় অনুভব করতে পারেন।   বিশ্লেষকদের মতে, টেক্সাস যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষা ব্যবস্থা হওয়ায় এ সিদ্ধান্তের প্রভাব ভবিষ্যতে অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা নীতিতেও পড়তে পারে। একই সঙ্গে বিষয়টি আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।   তবে টেক্সাস শিক্ষা বোর্ড আবারও স্পষ্ট করেছে, নতুন পাঠ্যসূচির উদ্দেশ্য কোনো ধর্মীয় বিশ্বাস বা উপাসনা প্রচার করা নয়। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের ইতিহাস ও সাহিত্য সম্পর্কে বিস্তৃত জ্ঞান দেওয়ার লক্ষ্যেই বাইবেলের নির্বাচিত অংশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবুও সিদ্ধান্তটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ধর্ম, শিক্ষা এবং সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০