ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কোন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। একই সঙ্গে ভিসার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। শনিবার (২০ জুন) দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা ভিসাধারীর নিজস্ব দায়িত্ব। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, বি১/বি২ (B1/B2) ভিজিটর ভিসাধারীরা যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন, অবকাশ যাপন, কেনাকাটা, বন্ধু বা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ, ব্যবসায়িক সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক এবং বিভিন্ন সভা বা সম্মেলনে অংশ নিতে পারবেন। দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, বি১/বি২ ভিসা মূলত স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণ ও নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হয়। ভিসাধারীরা নির্ধারিত উদ্দেশ্যের আওতায় থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন। ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, ভিসার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রত্যেক ভিসাধারীর দায়িত্ব। ভ্রমণের উদ্দেশ্য ও ভিসার শর্তের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখা প্রয়োজন। মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ভিসার নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে কোনো কার্যক্রমে জড়ালে ভবিষ্যতে ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ কারণে ভিসার শর্ত ও বিধিনিষেধ সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের প্রকাশিত গ্রাফিকসে বি১/বি২ ভিজিটর ভিসার আওতায় অনুমোদিত কার্যক্রমের তালিকাও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে পর্যটন, ছুটি কাটানো, কেনাকাটা, আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, ব্যবসায়িক বৈঠক এবং বিভিন্ন কনভেনশন বা সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে ইরান জাতীয় দলকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। নির্দেশনা অনুযায়ী, ইরান দলকে এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ সময় অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হবে না; বরং প্রতিটি ম্যাচের আগের দিন তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। ইরান দল বর্তমানে মেক্সিকোতে অবস্থান করছে। দলটি মেক্সিকোর তিজুয়ানায় অনুশীলন ক্যাম্প পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে। তাদের বিশ্বকাপের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে। ডিএইচএস-এর এক মুখপাত্র স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জানান, ইরান দলের ক্ষেত্রে ম্যাচের দিনই প্রবেশ ও একই দিনে প্রস্থান করতে হবে—এমন দাবি সঠিক নয়। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলটি ম্যাচের আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, ইরান দলকে শুধু ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে এবং একই দিনে দেশ ত্যাগ করতে হবে। এই তথ্যের কারণে দলটির লজিস্টিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ ওই দাবি নাকচ করে দিয়েছে। অন্যদিকে ইরানের মেক্সিকোতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আবোলফজল পাসানদিদেহ জানান, দলের কিছু সদস্যের ভিসা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, টিম ম্যানেজার, দুইজন বিশ্লেষক, মিডিয়া পরিচালক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি ভিসা পাননি। তবে যেসব ভিসা দেওয়া হয়েছে, সেখানে অবস্থানের সময়সীমা নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নেই বলে তিনি দাবি করেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ফুটবল দলের সব খেলোয়াড়কে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ভিসা দিয়েছে। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্টাফ সদস্য এখনো ভিসা পাননি বলে ইরান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে। ইরান বিশ্বকাপে তাদের অভিযান শুরু করবে ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ২১ জুন একই শহরে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। তৃতীয় ম্যাচটি ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। প্রাথমিকভাবে দলের অনুশীলন ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় নির্ধারিত ছিল। তবে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সামরিক উত্তেজনার পর সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান বিশ্বকাপে অংশ নিতে স্বাগত। তবে একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রে ইরান দলের অবস্থান তাদের নিরাপত্তার জন্য উপযুক্ত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের পরিকল্পনা করা বাংলাদেশিদের জন্য নতুন আর্থিক শর্ত যুক্ত হয়েছে। মার্কিন সরকারের ভিসা বন্ড কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশসহ ৩৮টি দেশের নাগরিকদের ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত বা ‘ভিসা বন্ড’ জমা দিতে হতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান বা ওভারস্টে কমানো। নতুন এই নীতির ফলে পর্যটন, ব্যবসা কিংবা অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া আরও ব্যয়বহুল ও কঠোর হতে পারে। কী এই ভিসা বন্ড? ভিসা বন্ড হলো এক ধরনের ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত, যা নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে অস্থায়ী ভিসা দেওয়ার আগে নেওয়া হতে পারে। এর উদ্দেশ্য হলো ভিসাধারীরা যেন ভিসার শর্ত মেনে চলেন এবং অনুমোদিত সময় শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন। প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দিয়ে থাকে। এর মধ্যে বি-১ (ব্যবসা) ও বি-২ (পর্যটন) ভিসা অন্যতম। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে। তবে অনুমোদিত সময় শেষ হওয়ার পরও কেউ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে তা ‘ভিসা ওভারস্টে’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা দেশটির অভিবাসন আইনের লঙ্ঘন। নতুন নিয়মে কী বলা হয়েছে? মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের বি-১ ও বি-২ ভিসার ক্ষেত্রে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলারের মধ্যে একটি বন্ড জমা দিতে হতে পারে। আবেদনকারী বিশ্বের যে দেশ থেকেই আবেদন করুন না কেন, এই নিয়ম তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীর ভ্রমণের উদ্দেশ্য, চাকরি, আয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। বন্ড জমা দেওয়ার জন্য আবেদনকারীকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম Pay.gov-এর মাধ্যমে সম্মতি জানাতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের আই-৩৫২ ফরমও পূরণ করতে হবে। ভিসাধারী যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন এবং ভিসার সব শর্ত মেনে চলেন, তাহলে জমা দেওয়া অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে। নির্দিষ্ট বিমানবন্দর ব্যবহার বাধ্যতামূলক পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় ভিসা পাওয়া ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট কয়েকটি বিমানবন্দর দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও দেশত্যাগ করতে হবে। এসব বিমানবন্দর হলো বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (জেএফকে) এবং ওয়াশিংটন ডুলাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। কেন চালু করা হচ্ছে এই নীতি? মার্কিন প্রশাসনের দাবি, যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসা ওভারস্টের হার তুলনামূলক বেশি, মূলত সেসব দেশকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারী অনুমোদিত সময় পার হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষের ধারণা, ভিসা বন্ড চালু হলে ওভারস্টের হার কমবে এবং ভিসা ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা আসবে। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদারের বৃহত্তর নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোন দেশগুলো প্রভাবিত হবে? সাম্প্রতিক ঘোষণায় মোট ৩৮টি দেশকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপাল। এছাড়া আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশও তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা এই নিয়মের বাইরে থাকবেন। ছাড় পাওয়ার সুযোগ আছে কি? মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সীমিত কিছু ক্ষেত্রে ভিসা বন্ড মওকুফ করা হতে পারে। যেমন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সরকারি কাজে ভ্রমণ বা জরুরি মানবিক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে। তবে সাধারণ পর্যটক বা ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের জন্য এ ধরনের ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা সীমিত। আগে কি এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল? ভিসা বন্ডের ধারণা নতুন নয়। নিউজিল্যান্ড একসময় ওভারস্টে নিয়ন্ত্রণে এ ব্যবস্থা চালু করেছিল, যদিও পরে তা বাতিল করা হয়। ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যও কিছু উচ্চ ঝুঁকির দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড চালুর পরিকল্পনা করেছিল, তবে সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালেও যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা বন্ড কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে করোনা মহামারির কারণে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ কমে যাওয়ায় পরিকল্পনাটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। বাংলাদেশিদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বাংলাদেশ এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের পরিকল্পনা করা অনেক পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীর জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলারের বন্ড বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৮ লাখ টাকার বেশি হওয়ায় এটি অনেক আবেদনকারীর জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে এই অর্থ ফেরতযোগ্য হওয়ায় যারা ভিসার শর্ত মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করবেন, তারা বন্ডের অর্থ ফেরত পাবেন। ফলে এটিকে স্থায়ী ব্যয় হিসেবে নয়, অস্থায়ী আর্থিক নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উন্নত চিকিৎসা, জটিল অপারেশন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ কিংবা নির্দিষ্ট রোগের উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। তবে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চাইলে আলাদা কোনো “মেডিকেল ভিসা” নেই। সাধারণত বি-২ ভিসা (B-2 Visa) ভিজিটর ভিসার মাধ্যমেই আবেদন করতে হয়। যদিও এই ভিসা পর্যটন, আত্মীয়স্বজন দেখা এবং চিকিৎসা—সব ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যায়, চিকিৎসার জন্য আবেদনকারীদের অতিরিক্ত কিছু নথি ও আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয়। চিকিৎসাজনিত ভিসা আবেদনে প্রথমেই প্রমাণ করতে হয় যে আবেদনকারীর সত্যিই চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য নিজ দেশের ডাক্তার, বিশেষজ্ঞ বা হাসপাতালের রিপোর্ট জমা দিতে হতে পারে, যেখানে রোগের ধরন, বর্তমান শারীরিক অবস্থা এবং কেন উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন তা উল্লেখ থাকবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখাতে হয় কেন নিজ দেশে সেই চিকিৎসা সম্ভব নয় বা কেন বিদেশে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। এরপর দেখাতে হয় যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় চিকিৎসা নেওয়া হবে। আমেরিকার হাসপাতাল, ক্লিনিক বা চিকিৎসকের কাছ থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার, চিকিৎসা গ্রহণে সম্মতি, কিংবা সম্ভাব্য চিকিৎসা পরিকল্পনার নথি থাকলে আবেদন শক্তিশালী হয়। এতে কনস্যুলার কর্মকর্তারা বুঝতে পারেন আবেদনকারীর সফরের উদ্দেশ্য বাস্তব এবং নির্দিষ্ট। চিকিৎসার ভিসা আবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি হলো আর্থিক সক্ষমতা। আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হয় যে তিনি বা তাঁর পরিবারের কেউ চিকিৎসা ব্যয়, হাসপাতালের বিল, ওষুধ, থাকার খরচ এবং যাওয়া-আসার বিমান ভাড়া বহন করতে পারবেন। এজন্য ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সঞ্চয়ের কাগজপত্র, আয়কর নথি, চাকরির বেতন স্লিপ বা ব্যবসার আয় সংক্রান্ত দলিল ব্যবহার করা যেতে পারে। স্পন্সর থাকলে তার আর্থিক তথ্যও দেখাতে হতে পারে। কনস্যুলার কর্মকর্তারা আরও নিশ্চিত হতে চান যে আবেদনকারী চিকিৎসা শেষে নিজ দেশে ফিরে আসবেন। এজন্য চাকরি, ব্যবসা, পরিবার, সম্পত্তি, চলমান পড়াশোনা বা সামাজিক সম্পর্কের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অর্থাৎ আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে থাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন না—এটি বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরা জরুরি। আবেদন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সাধারণত বৈধ পাসপোর্ট, DS-160 ফর্ম, ভিসা ফি রসিদ, সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট কনফার্মেশন, চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্ট, হাসপাতালের চিঠি এবং আর্থিক কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হয়। সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞাসা করা হতে পারে কেন চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান, কতদিন থাকবেন, খরচ কে বহন করবে এবং চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরবেন কি না। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসার ভিসা পেতে সঠিক তথ্য দেওয়া, নথি পরিষ্কার রাখা এবং সফরের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে বোঝানো অত্যন্ত জরুরি। ভুয়া কাগজপত্র বা অসত্য তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে এবং ভবিষ্যৎ ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। সবশেষে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার ভিসা পেতে তিনটি বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়—চিকিৎসার বাস্তব প্রয়োজন, খরচ বহনের সক্ষমতা এবং চিকিৎসা শেষে নিজ দেশে ফিরে আসার নিশ্চয়তা। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সঠিক নথি থাকলে আবেদন প্রক্রিয়া অনেক সহজ হতে পারে।
চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে আগ্রহী বি-২ ভিসা আবেদনকারীদের জন্য নতুন শর্ত জানিয়েছে মার্কিন দূতাবাস, ঢাকা। দূতাবাসের এক বার্তায় বলা হয়েছে, চিকিৎসার জন্য ভিসা পেতে হলে আবেদনকারীদের সম্পূর্ণ ব্যয় বহনের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হবে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রকাশিত ওই বার্তায় জানানো হয়, একজন বি-২ ভিসা আবেদনকারীকে চিকিৎসা ব্যয়, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খরচ এবং যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া-আসার খরচ বহনের আর্থিক সক্ষমতা দেখাতে হবে। দূতাবাস আরও জানায়, কনস্যুলার কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হন যে, আবেদনকারীর পরিকল্পিত ভ্রমণ যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের ওপর কোনো আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়মের মাধ্যমে চিকিৎসাজনিত ভ্রমণের ক্ষেত্রে আর্থিক স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।