পারস্য উপসাগরের তপ্ত ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে আগুনের হলকা। ইরানি আকাশসীমায় ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১৫-এর নিইরানের খোঁজ ক্রু সদস্যকে খুঁজে বের করতে এবার সরাসরি ইরানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের এলিট স্পেশাল ফোর্সেস। শুক্রবার দিবাগত রাতে এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানের মাধ্যমে বিমানে থাকা দুই ক্রুর মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, দ্বিতীয়জনের সন্ধানে এখনো ইরানি ভূখণ্ডে তল্লাশি চালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ও বিবিসি-র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন সামরিক পরিভাষায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ‘কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ অভিযানে নেমেছে পেন্টাগন। এই অভিযানে দুটি হেলিকপ্টার ও একটি রিফুয়েলিং বিমান অংশ নেয়। উদ্ধারকাজ চলাকালীন স্থানীয় ইরানি মিলিশিয়াদের হালকা অস্ত্রের গুলিতে মার্কিন হেলিকপ্টারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি হেলিকপ্টার থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত সেগুলো ইরাকের ঘাঁটিতে নিরাপদে ফিরতে সক্ষম হয়েছে। সাবেক প্যারারেস্কিউ কমান্ডারদের মতে, এই অভিযান কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজে পেতে ইরানের গহীন এলাকায় এখন চলছে মার্কিন কমান্ডো আর ইরানি বাহিনীর লুকোচুরি। এদিকে, নিখোঁজ ওই মার্কিন ক্রুকে খুঁজে বের করতে বা ধরিয়ে দিতে ৬০ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে ইরান। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি এ-১০ ওয়ার্টহগ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও সেটির পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমান উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ঘটনা শান্তি আলোচনায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। তার ভাষ্যমতে, "এটি যুদ্ধ, আর আমরা এখন যুদ্ধের মাঝেই আছি।"
ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো একটি বিশেষ অভিযান ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানি সংবাদমাধ্যম তসনিম নিউজ। শুক্রবার ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশে এই উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয় বলে জানা গেছে। তসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার ভোরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দেশটির মধ্যাঞ্চলে একটি উন্নতমানের মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর পাইলট প্যারাস্যুটের সাহায্যে ইরানের অভ্যন্তরে অবতরণ করেন। এর পরপরই ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার এবং সি-১৩০ হারকিউলিস বিমানের সমন্বয়ে একটি মার্কিন উদ্ধারকারী দল ওই এলাকায় তল্লাশি শুরু করে। তবে ইরানি বাহিনীর তৎপরতার মুখে তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের নতুন এবং উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে লেকেনহিথ স্কোয়াড্রনের এই অনুপ্রবেশকারী যুদ্ধবিমানটিকে পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিমানটি ধ্বংস হওয়ার পর পাইলট বর্তমানে ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পাইলট উদ্ধারে ব্যর্থ হওয়াকে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি সংকট হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। তসনিম নিউজের দাবি, এই পরাজয় ঢাকতে পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অন্য কোনো ব্যক্তিকে ‘উদ্ধারকৃত পাইলট’ হিসেবে প্রচার করার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানও মার্কিন ও ইসরায়েলি ঘাঁটি লক্ষ্য করে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। পাইলটের বর্তমান অবস্থান বা উদ্ধারে ব্যর্থতার বিষয়ে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ওপর স্মরণীয় এক আঘাত হানার দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, সৌদি আরবে অবস্থানরত ২০০ জন মার্কিন পাইলট এবং ফাইটার জেট ক্রুদের আবাসিক এলাকায় সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, এটি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনার ওপর তাদের অন্যতম বড় এবং বিধ্বংসী অভিযান। আইআরজিসি-র অ্যারোস্পেস ফোর্সের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মজিদ মুসাভি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই বিশেষ অভিযানে একটি মার্কিন 'অ্যাওয়াকস' (AWACS) নজরদারি বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া হামলায় আরও বেশ কিছু মার্কিন যুদ্ধবিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। সম্প্রতি আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পাল্টাপাল্টি জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। ক্রমাগত এই হামলার মুখে নিরাপত্তা শঙ্কায় মার্কিন সেনারা তাদের নিয়মিত ব্যারাক ও ঘাঁটি ছেড়ে বিভিন্ন হোটেল এবং অফিস স্পেসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে বলে জানা গেছে। এই সংঘাতের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে মার্কিন যুদ্ধবিমানে হামলার এক চাঞ্চল্যকর দাবিকে কেন্দ্র করে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ উপকূলীয় সিস্তান-বালুচিস্তান প্রদেশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দর এলাকায় তারা একটি মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বিবিসি ফার্সির বরাত দিয়ে জানা গেছে, গতকাল ইরানি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিওতে মার্কিন এই শক্তিশালী যুদ্ধবিমানটিকে চাবাহারের আকাশে উড়তে দেখা যায়। বিবিসির ফ্যাক্ট-চেকিং বিভাগ ভিডিওগুলো যাচাই করে নিশ্চিত করেছে যে, এর মধ্যে অন্তত একটি ভিডিও চাবাহার বন্দর এলাকার টিস সেতুর কাছে ধারণ করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, উড়ন্ত এফ-১৮ বিমানটিকে লক্ষ্য করে প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হচ্ছে এবং এক পর্যায়ে বিমানটির লেজের অংশে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। তবে বিস্ফোরণের পর বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অকাট্য প্রমাণ বা ভিডিও ফুটেজ সামনে আসেনি। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। এক পাল্টা বিবৃতিতে তারা জানায়, ওই অঞ্চলে তাদের কোনো যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়নি। আকাশসীমার এই সংঘাতের খবরটি নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের আকাশসীমায় একটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানে আঘাত হানা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা এই তথ্য প্রকাশ করেছে। ইসরায়েল এই দাবিটি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের আকাশসীমায় একটি যুদ্ধবিমান বিমানবিধ্বংসী হামলার মুখোমুখি হলেও এটি সফলভাবে হুমকি শনাক্ত করে নিরাপদে অভিযান শেষ করেছে এবং কোনো ক্ষতি হয়নি। এটি ঘটেছে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে তৃতীয়বারের মতো। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ইরানের আকাশে ২০০টির বেশি আকাশযান ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, জ্বালানি বহনকারী উড়োজাহাজ এবং যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত। বিশ্লেষকরা বলছেন, উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবি চলমান সংঘাতের তথ্যযুদ্ধকে আরও জটিল করে তুলছে।
এফ-৩৫ লাইটনিং টু মডেলের একটি অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড। এ তথ্য প্রকাশ করেছে সিএনএন। মার্কিন পক্ষের ধারণা, যুদ্ধবিমানটিকে লক্ষ্য করে ইরানের পক্ষ থেকে হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স জানান, পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ প্রযুক্তিসম্পন্ন বিমানটি ইরানের আকাশসীমার ভেতর দিয়ে উড়ছিল। উড্ডয়নের সময় জটিলতা তৈরি হওয়ায় সেটি নিরাপদে অবতরণ করতে বাধ্য হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস দাবি করেছে, তাদের হামলার ফলে যুদ্ধবিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এফ-৩৫ লাইটনিং টু যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে, যার প্রতিটির মূল্য ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে এক ভয়াবহ ড্রোন হামলায় ইতালীয় বিমান বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ রিমোটলি পাইলটেড এয়ারক্রাফট বা ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। ইতালির চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল লুসিয়ানো পোর্তোলানো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আক্রমণের শিকার এই বিমানঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইতালীয় বাহিনীর যৌথ ব্যবহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। জেনারেল পোর্তোলানো জানান, ধ্বংস হওয়া বিমানটি ওই অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রম এবং অপারেশনাল ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য একটি অপরিহার্য সম্পদ ছিল। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, হামলায় কোনো ইতালীয় সেনার প্রাণহানি ঘটেনি এবং বর্তমানে সেখানে অবস্থানরত সকল কর্মীরা নিরাপদ রয়েছেন। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় গত কয়েকদিন ধরেই ওই ঘাঁটিতে ইতালীয় সেনাদের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছিল। বর্তমানে যারা সেখানে অবস্থান করছেন, তারা কেবল অত্যন্ত জরুরি এবং অপরিহার্য দায়িত্বগুলো পালন করছেন। ইতালির প্রতিরক্ষা দপ্তর এবং জয়েন্ট অপারেশন হেডকোয়ার্টার সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং মাঠ পর্যায়ের কন্টিনজেন্টগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানি হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে কুয়েতে তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। United States Central Command (সেন্টকম) সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের পক্ষ থেকে বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কার মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সময় এই ঘটনা ঘটে। ভূপাতিত হওয়া বিমানগুলো ছিল মার্কিন বিমান বাহিনীর অত্যাধুনিক F-15E Strike Eagle যুদ্ধবিমান। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুল সনাক্তকরণের কারণে এই ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তিনটি বিমানে থাকা মোট ছয়জন এয়ারক্রু জরুরি অবস্থায় সফলভাবে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন। পরে তাদের দ্রুত উদ্ধার করা হয় এবং বর্তমানে তারা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন বলে জানিয়েছে সেন্টকম। ঘটনার পর মার্কিন ও কুয়েতি সামরিক কর্তৃপক্ষ যৌথ তদন্ত শুরু করেছে। কীভাবে এই ভুল সনাক্তকরণ ঘটল এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের তৃতীয় দিনে কুয়েতে এক নাটকীয় ও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার সাক্ষী হলো বিশ্ব। সোমবার সকালে কুয়েতে মোতায়েন করা মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘প্যাট্রিয়ট’-এর ভুল নিশানায় নিজস্ব একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। যান্ত্রিক বিভ্রাট বা শত্রুভাবাপন্ন মনে করে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’-এর শিকার হওয়া বিমানটি কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ‘মিনা আল আহমাদি’র ভেতরে আছড়ে পড়ে। এই ঘটনায় শোধনাগারের দুজন শ্রমিক আহত হলেও বিমানের পাইলট অলৌকিকভাবে অক্ষত রয়েছেন। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানটি ভূপৃষ্ঠে পতনের ঠিক আগ মুহূর্তে পাইলট সফলভাবে ইজেক্ট করে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করতে সক্ষম হন। তবে যুদ্ধবিমানটি সরাসরি তেল শোধনাগারের ভেতরে বিধ্বস্ত হওয়ায় সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র বা কুয়েত সরকার এখনো এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা—যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা বা রাডার বিভ্রান্তির কারণে প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বন্ধুভাবাপন্ন বিমানটিকে শত্রু হিসেবে শনাক্ত করেছিল। উল্লেখ্য, প্যাট্রিয়ট সিস্টেমটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ধ্বংস করার জন্য অত্যন্ত নিখুঁত হলেও বিরল ক্ষেত্রে এটি এমন মারাত্মক ভুল করতে পারে। এই দুর্ঘটনাটি চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। মিনা আল আহমাদি রিফাইনারি কুয়েতের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা হওয়ায় সেখানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উড়ন্ত বস্তুকে শনাক্ত করার ত্রুটি বা শত্রু-মিত্র চিহ্নিতকরণ পদ্ধতিতে কারিগরি গোলযোগের কারণেই এই ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ সংগঠিত হয়েছে। বর্তমানে কুয়েত ও মার্কিন সামরিক কমান্ড বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। যুদ্ধের উত্তেজনার মাঝে নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এমন ত্রুটি মিত্র দেশগুলোর সামরিক কৌশলে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে তালেবানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর (পিএএফ) ভয়াবহ বিমান হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলার পর থেকে আফগানিস্তানের কান্দাহারসহ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানগুলোকে টহল দিতে দেখা গেছে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম পিটিভি নিউজ এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সূত্র এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, ‘অপারেশন গাজব লিল-হক’-এর আওতায় কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়ায় অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৩৩ জন তালেবান সদস্য নিহত এবং দুই শতাধিক আহত হয়েছেন। তবে হতাহতের এই সংখ্যা কোনো স্বাধীন মাধ্যম থেকে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি: পাক মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যমতে, এই হামলায় তালেবানের বিপুল পরিমাণ সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: ২৭টি চেকপোস্ট সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং ৯টি পোস্টের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ। ২টি কর্পস সদর দপ্তর ও ৩টি ব্রিগেড সদর দপ্তর ধ্বংস। বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ডিপো, লজিস্টিক ঘাঁটি এবং ৩টি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর গুঁড়িয়ে দেওয়া। প্রায় ৮০টিরও বেশি ট্যাংক, আর্টিলারি গান এবং সাঁজোয়া যান ধ্বংস করার দাবি করেছে পাকিস্তান। নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে, যেকোনো ধরনের পাল্টা আক্রমণ মোকাবিলায় পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এই বিমান হামলার পর দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
বিশ্ব রাজনীতির স্নায়ুকেন্দ্র মধ্যপ্রাচ্যে এক নজিরবিহীন সামরিক তৎপরতা শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কূটনৈতিক আলোচনার সমান্তরালে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে ওই অঞ্চলে ৫০টিরও বেশি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে পেন্টাগন। বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে এই চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। মার্কিন এই বিমান বহরের মধ্যে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী স্টিলথ ফাইটার এফ-২২ র্যাপ্টর, এফ-৩৫ লাইটনিং টু এবং নির্ভরযোগ্য এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন। এছাড়া এই বিশাল বহরের সাথে যুক্ত হয়েছে একাধিক ‘রিফুয়েলার’ বা আকাশেই জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, যা দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে আকাশপথে অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা রাখে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘এক্সিওস’ (Axios) জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এই বিশাল যুদ্ধবিমান বহরকে নির্দিষ্ট সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বিন্যস্ত করা হয়েছে। এর আগেই ওই অঞ্চলে পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ও কয়েক ডজন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে রেখেছিল ওয়াশিংটন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যখন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে সংলাপ শুরুর প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক তখন এই বিপুল সামরিক শক্তি প্রদর্শন মূলত তেহরানের ওপর চরম মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশল। বিশেষ করে গত জানুয়ারি থেকে ইরানে শুরু হওয়া অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর মারমুখী অবস্থানের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক উপস্থিতি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে কোনো সমঝোতা না এলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যে কোনো সময় আগুনের কুণ্ডলীতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। আপাতত গোটা বিশ্বের নজর এখন জেনেভার আলোচনার টেবিল এবং মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমানের গর্জনের দিকে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews