যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে পাঁচ সন্তানের এক মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই বোনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত ক্যারোলিন "ক্যারো" পেনা (৩২) হত্যাকাণ্ডের মাত্র কয়েক মিনিট আগে তার দীর্ঘদিনের এক বান্ধবীকে ফোন করেছিলেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর প্রায় ১টা ৩৫ মিনিটে ক্যারোলিন পেনা তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ক্রিস্টিনা সালিনাসকে ফোন করেন। তবে ফোনটি রিসিভ করা হয়নি। এর কয়েক মিনিট পরই ডেল রিও এলাকায় তার ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়।
এ ঘটনায় কিটি মিয়া ডিয়াজ (২১), আমায়া "কুকি" ডিয়াজ (১৯) এবং কিয়ান্দ্রা রেনে ফাজ (২১) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্রিস্টিনা সালিনাস বলেন, তিনি যদি ফোনটি ধরতে পারতেন, তাহলে হয়তো ঘটনাটি এভাবে ঘটত না। তিনি বলেন, "আমার মনে হয় আমি যদি ফোনটি ধরতাম, তাহলে আমি তার সঙ্গে থাকতাম। হয়তো এমন কিছু ঘটত না।"
সালিনাস জানান, হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় ক্যারোলিন পেনাকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে বিমানযোগে সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলেও সেখানে তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি রক্তাক্ত ছবি দেখে চুল বাঁধার ধরন ও পোশাক দেখে তিনি বুঝতে পারেন সেটি তারই বন্ধু। বন্ধুকে স্মরণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় সালিনাস লেখেন, "তুমি একা চলে যেতে, আমি কখনও তা হতে দিতাম না। তুমি নেই, কিন্তু কখনও ভুলে যাওয়ার নও।"
তিনি তাদের একসঙ্গে তোলা সর্বশেষ একটি ছবিও প্রকাশ করেন। পাশাপাশি নিজের বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিও শেয়ার করে লেখেন, "তোমার আমার বাড়িতে আসা, একসঙ্গে খাওয়া, গল্প করা আর হাসির মুহূর্তগুলোই সবচেয়ে বেশি মনে পড়বে।"
এদিকে গ্রেপ্তারের সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে অভিযুক্ত কিটি ডিয়াজকে হাসিমুখে পুলিশি গাড়ির দিকে যেতে দেখা যায়। অন্যদিকে তার বোন আমায়া ডিয়াজকে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে "রেকর্ড করা বন্ধ করো" বলতে শোনা যায়।
স্বাধীন সাংবাদিক মাইকেল এলিজোন্ডোর দাবি, গ্রেপ্তারের পর আমায়া ডিয়াজকে বেশ হাসিখুশি দেখা গেছে। পুলিশের গাড়ির জানালা দিয়ে মুখ বের করে জিভ দেখানোসহ বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিও করেন তিনি।
তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট একই দিনে অভিবাসন-সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আদালতের এক রায়ে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের জন্য দেওয়া টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বাতিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্য রায়ে সীমান্তে আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) আবেদনকারীদের সংখ্যা সীমিত করার 'মিটারিং' নীতি পুনরায় চালুর আইনি পথ উন্মুক্ত হয়েছে। এদিকে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগ নিয়ে বহুল আলোচিত মামলার রায় এখনও অপেক্ষমাণ রয়েছে। ৬-৩ ভোটের রায়ে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার হাইতিয়ান এবং প্রায় ৬ হাজার সিরীয় নাগরিকের টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বাতিলের অনুমতি দিয়েছে। টিপিএস এমন একটি কর্মসূচি, যার আওতায় যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য সংকটপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে নিজ দেশে ফিরতে না পারা বিদেশি নাগরিকরা সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পান। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেল জ্যাকসন এই রায়কে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য "বিশাল জয়" বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করেছে যে টিপিএস কখনোই স্থায়ী বসবাসের পথ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা নয়। অন্যদিকে, টিপিএস সুবিধাভোগীদের পক্ষে থাকা আইনজীবীরা রায়টিকে "দুঃখজনক দিন" হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, এতে হাজারো পরিবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। একই দিনে মুলানি বনাম ওট্রো ল্যাবো মামলায় সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের একটি আদেশ বাতিল করেছে, যা সীমান্তে দৈনিক অ্যাসাইলাম আবেদনকারীর সংখ্যা সীমিত করার 'মিটারিং' নীতি স্থগিত রেখেছিল। বিচারপতি কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন ভিন্নমত দিয়ে বলেন, এই মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে গ্রহণ করার প্রয়োজন ছিল না। কারণ সংশ্লিষ্ট নীতিটি ২০২১ সালেই প্রত্যাহার করা হয়েছিল। যদিও বর্তমানে নীতিটি কার্যকর নেই, আদালতের এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রশাসন চাইলে ভবিষ্যতে এটি পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে আইনি বাধার মুখে পড়বে না। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির সবচেয়ে আলোচিত মামলা ট্রাম্প বনাম বারবারা এখনও সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। মামলাটিতে প্রশ্ন উঠেছে, অবৈধভাবে অথবা সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিবাসীদের সন্তানদের জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়া হবে কি না। এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত শুনানিতে কয়েকজন বিচারপতি ট্রাম্প প্রশাসনের উপস্থাপিত আইনি যুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস প্রশাসনের সলিসিটর জেনারেলকে বলেন, "এটা একই সংবিধান।" এই মামলার রায় আগামী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে গত ৫ জুন রোড আইল্যান্ডের একটি ফেডারেল আদালত ইউএসসিআইএসের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ স্থগিতাদেশ এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি নীতি অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করে। এতে হাজারো আবেদনকারী সাময়িক স্বস্তি পান। বর্তমানে ইউএসসিআইএস ২০২২ সালের তুলনামূলক শিথিল 'পাবলিক চার্জ' নীতি অনুসরণ করছে। এই নীতিতে কেবল নগদ সরকারি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সেবাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়। তবে বিদেশে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটগুলোতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর নতুন নির্দেশনায় আবেদনকারীদের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা ব্যয় বহনের সক্ষমতাও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ইস্যু স্থগিতের সিদ্ধান্তও এখনও কার্যকর রয়েছে। এ ছাড়া ২০২২ সালের পাবলিক চার্জ নীতি বাতিল করে আরও কঠোর নীতি কার্যকরের একটি প্রস্তাব বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। সেটি ২০২৬ সালের মধ্যেই চূড়ান্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিবাসন আইনজীবীরা জানিয়েছেন, অনেক পরিবার এখনও ভুল ধারণার কারণে এসএনএপি বা ডব্লিউআইসির মতো বৈধ সরকারি সুবিধা গ্রহণ থেকে বিরত থাকছেন। অথচ বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী এসব সুবিধা 'পাবলিক চার্জ' নির্ধারণে গণনা করা হয় না। অভিবাসী অধিকারকর্মীদের মতে, একের পর এক আদালতের রায় এবং পরিবর্তিত নীতিমালার কারণে লাখো অভিবাসী পরিবার দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করছে। এসিএলইউর আইনজীবী সেসিলিয়া ওয়াং বলেন, "আমরা যারা এই দেশে জন্মেছি, সবাই আমেরিকান। কোনো রাজনীতিবিদ ঠিক করতে পারেন না কে এই দেশে জন্ম নেওয়ার যোগ্য।" অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে। আদালতের সামনে থাকা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব মামলার রায়ের দিকেও এখন নজর রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সময় সরকারি চাকরি হারানো যুক্তরাষ্ট্রের একদল জলবায়ু বিজ্ঞানী ও গবেষক এবার নিজেদের উদ্যোগেই নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারের বাইরে পরিচালিত অলাভজনক ওয়েবসাইট Climate.us-এর মাধ্যমে তারা জলবায়ু–সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, গবেষণা এবং সরকারি বিভিন্ন প্রতিবেদনের সংরক্ষিত সংস্করণ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেছেন। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ফিউচারিজম জানিয়েছে, নতুন এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এর জলবায়ুবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্লাইমেট গভ এর সাবেক প্রোগ্রাম ম্যানেজার রেবেকা লিন্ডসে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন NOAA-এর আরও বহু সাবেক বিজ্ঞানী, গবেষক এবং তথ্যবিশেষজ্ঞ। তাদের তৈরি নতুন ওয়েবসাইটে গত ১৫ বছরে প্রকাশিত আবহাওয়া ও জলবায়ু–সংক্রান্ত তথ্য, বিভিন্ন জলবায়ু সূচক এবং যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম জাতীয় জলবায়ু মূল্যায়ন প্রতিবেদন (Fifth National Climate Assessment) সংরক্ষণ করা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, এসব তথ্য গবেষক, শিক্ষার্থী, নীতিনির্ধারক এবং সাধারণ মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহারযোগ্য থাকবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ৮০ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবী বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ কাজ করেছেন। পাশাপাশি ২ হাজার ৫০০-এরও বেশি ব্যক্তি অনুদান দিয়ে প্রায় আড়াই লাখ মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেন। সেই অর্থেই অলাভজনক এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের সরকারি ব্যয় সংকোচন নীতির অংশ হিসেবে NOAA, পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (EPA)সহ একাধিক ফেডারেল সংস্থায় ব্যাপক জনবল ছাঁটাই করা হয়। এতে জলবায়ু গবেষণা ও জনসাধারণের জন্য তথ্যপ্রকাশে যুক্ত অনেক বিজ্ঞানী চাকরি হারান। এরপর তারা সরকারি কাঠামোর বাইরে একত্রিত হয়ে গবেষণা ও তথ্য সংরক্ষণের এই স্বাধীন উদ্যোগ শুরু করেন। রেবেকা লিন্ডসে বলেন, নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া উচিত নয়। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা এবং তথ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা যেমন জরুরি, তেমনি জনসাধারণের জন্য তা সহজলভ্য রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, ক্লাইমেট নিয়ে ওয়েবসাইট শুধু একটি নতুন ওয়েবসাইট নয়; এটি দেখিয়ে দিয়েছে যে সরকারি চাকরি হারানোর পরও গবেষণা থেমে থাকে না। বরং বিজ্ঞানীরা একত্রিত হয়ে স্বাধীনভাবে জনস্বার্থে গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা আরও বিস্তৃত করেছে। সোমবার (২৯ জুন) ৬-৩ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্তে আদালত জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট নীতিগত মতপার্থক্যের কারণেও স্বাধীন ফেডারেল সংস্থার কমিশনারদের অপসারণ করতে পারবেন। এই রায়ের মাধ্যমে প্রায় ৯০ বছর ধরে বহাল থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক নজির কার্যত বাতিল হয়ে গেল। মামলাটি কেন্দ্রীভূত ছিল ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) ডেমোক্র্যাট কমিশনার রেবেকা স্লটারকে অপসারণকে ঘিরে। ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টের পক্ষে রায় দিয়ে জানায়, কংগ্রেস কোনো আইনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার ওপর এমন সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে পারে না, যা সংবিধানের ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে লিখেছেন, সংবিধানের ভাষা, ইতিহাস ও কাঠামো স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে প্রেসিডেন্ট তার অধীনস্থ কর্মকর্তাদের অপসারণের ক্ষমতা রাখেন। আদালতের মতে, স্বাধীন সংস্থার কর্মকর্তাদের শুধুমাত্র “যথাযথ কারণ” দেখিয়ে অপসারণের যে সুরক্ষা এতদিন কার্যকর ছিল, তা সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই রায়ের ফলে শুধু ফেডারেল ট্রেড কমিশন নয়, বরং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি), ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি), ফেডারেল ইলেকশন কমিশন (এফইসি)সহ বহু স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর হোয়াইট হাউসের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মনে করছেন সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞরা। ভবিষ্যতে যে কোনো প্রেসিডেন্ট এসব সংস্থায় নিজের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়োগ ও অপসারণে আরও স্বাধীনতা পাবেন। রায় প্রকাশের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এটিকে “বড় বিজয়” বলে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতার প্রশ্নে এটি সুপ্রিম কোর্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হননি তিন উদারপন্থী বিচারপতি। বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়র তার ভিন্নমতে বলেন, এই রায় প্রেসিডেন্টকে এমন এক বিস্তৃত ক্ষমতা দিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান কখনো কল্পনা করেনি। বিচারপতি এলেনা কেগান ও কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন তার এই মতের সঙ্গে একমত হন। সোটোমেয়র লিখেছেন, আদালতের এই সিদ্ধান্তে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বেশি ক্ষমতাবান হয়ে উঠবেন। এই রায়ের মাধ্যমে ১৯৩৫ সালের ঐতিহাসিক Humphrey’s Executor v. United States মামলার নজির কার্যত বাতিল হয়ে গেল। সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট সর্বসম্মতিক্রমে রায় দিয়েছিল যে, ফেডারেল ট্রেড কমিশনের মতো স্বাধীন সংস্থার কমিশনারদের প্রেসিডেন্ট ইচ্ছামতো অপসারণ করতে পারবেন না; নির্দিষ্ট আইনগত কারণ থাকতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক ইতিহাসে নির্বাহী ক্ষমতার ভারসাম্যে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করল। এর ফলে স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা এবং কংগ্রেসের তদারকি ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে জাতীয় বিতর্ক শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এই রায় ভবিষ্যতের সব মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্যও ক্ষমতার পরিধি বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।