আমেরিকা

উচ্ছেদ ঠেকাতে আদালতের দরজায় পরিবার, নিউইয়র্কের অভিজাত আবাসনে জাতিগত বিদ্বেষ ও সংঘাতের জল গড়ালো বহুদূর

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ২১:৭
ভাইরাল সংঘর্ষের পর আইনি জটিলতায় জড়ানো নিউইয়র্কের আবাসন ভবন। ছবি: সংগৃহীত
ভাইরাল সংঘর্ষের পর আইনি জটিলতায় জড়ানো নিউইয়র্কের আবাসন ভবন। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনের ইস্ট সাইডে অবস্থিত একটি যৌথ মালিকানাধীন আবাসিক ভবনে (কো-অপ) দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত কোন্দল এবার সুপ্রিম কোর্টে গড়িয়েছে। জাতিগত বিদ্বেষ, দারোয়ানের সাথে মারামারি এবং পরবর্তীতে ফ্ল্যাট থেকে উচ্ছেদের নোটিশকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। নিজের ৫৭ বছর বয়সী সন্তানকে ফ্ল্যাট থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এক বয়স্ক দম্পতি।

 

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় গণমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক পোস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে ম্যানহাটন সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা নথির বরাত দিয়ে এই আইনি লড়াইয়ের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

আদালতের নথি বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ২০২৪ সালের অক্টোবরে আর্ভিং কার্টেন এবং ক্যারল কার্টেন দম্পতি ৩৩৯ ইস্ট ৫৮তম স্ট্রিটের একটি ১০ তলা ভবনের পেন্টহাউস ইউনিটটি প্রায় ৪ লাখ ডলারে কেনেন। লক্ষ্য ছিল তাঁদের ৫৭ বছর বয়সী ছেলে কেভিন কার্টেন সেখানে বসবাস করবেন। কেভিন পেশায় একজন ঠিকাদার এবং ফ্লোরিডায় তাঁর নিজস্ব একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে ভবনে ওঠার পর থেকেই সেখানকার দারোয়ান লরেন্স মনটগোমারির সাথে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

 

আইনি নথি অনুযায়ী, বিবাদের সূত্রপাত ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, যখন কেভিন ভবন ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ‘নিউ বেডফোর্ড ম্যানেজমেন্ট’-এর কাছে দারোয়ান লরেন্সের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ইহুদি ধর্মাবলম্বী কেভিন দাবি করেন, লরেন্স ইচ্ছা করে তাঁর চিঠি বা পার্সেল আটকে রাখতেন, তাঁর প্রেমিকাকে না জানিয়ে স্পর্শ করেছিলেন এবং ক্রমাগত বর্ণবাদী ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করতেন।

 

অভিযোগের ঠিক পরদিনই, অর্থাৎ ১৮ সেপ্টেম্বর ভবনের ভেতরেই দুজনের মধ্যে এক তুমুল বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যা ক্যামেরায় রেকর্ড হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, দারোয়ান লরেন্স ফোন উঁচিয়ে কেভিনের মুখের সামনে ধরলে কেভিন সেটি থাপ্পড় দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এর পরপরই লরেন্স তাকে আঘাত করেন, যার ফলে কেভিনের চোখে গুরুতর জখম হয়। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা ভিডিওতে কেভিনকেও একাধিকবার অসংবেদনশীল ও আপত্তিকর বর্ণবাদী শব্দ ব্যবহার করতে এবং দারোয়ানের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে মেঝেতে আছাড় মারতে দেখা যায়।

 

ঘটনার পর পুলিশ এসে উভয়কেই গ্রেপ্তার করে। দারোয়ান লরেন্সের বিরুদ্ধে শারীরিক আক্রমণ ও আক্রমণের চেষ্টা এবং কেভিনের বিরুদ্ধে সম্পদের ক্ষতি ও হেনস্তার অভিযোগ আনা হয়। আদালতের আদেশে মামলাটি আপাতত গোপনীয় রাখা হয়েছে।

 

এই ঘটনার পর কো-অপ পরিচালন পর্ষদ দারোয়ান লরেন্সের পাশে দাঁড়ায় এবং ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর কেভিনকে সতর্কীকরণ নোটিশ পাঠায়। এতে বলা হয়, ভবনের শান্তি বজায় না রাখলে তাঁকে অযোগ্য বাসিন্দা হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে কার্টেন পরিবারের আইনজীবী এর বিরোধিতা করে জানান, কো-অপ কর্তৃপক্ষ ঘটনার কোনো সঠিক তদন্ত করেনি এবং জাতিগত বিদ্বেষমূলক আচরণের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

 

সমস্যার এখানেই শেষ নয়; কেভিনের সাথে প্রতিবেশীদেরও বিরোধ তৈরি হয়। কেভিনের পাশের ফ্ল্যাটের এক বাসিন্দা কো-অপ পর্ষদের সদস্য ছিলেন। কার্টেন পরিবারের দাবি, টেরাসে গাছ রাখা নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে ওই পর্ষদ সদস্যের স্ত্রী কেভিনকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেন।

 

সবশেষ পরিস্থিতির অবনতি ঘটে যখন গত ২২ জুলাই কো-অপ পরিচালন পর্ষদ একটি জরুরি সভা ডেকে কার্টেন পরিবারের ইজারা বাতিল, তাঁদের শেয়ার নিলামে বিক্রি এবং কেভিনকে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার নোটিশ জারি করে। নোটিশে পর্ষদ সদস্যকে হেনস্তার অস্পষ্ট অভিযোগ আনা হলেও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বলে দাবি কার্টেন পরিবারের।

 

উচ্ছেদের বিরুদ্ধে কার্টেন পরিবার জরুরিভিত্তিতে আদালতের আশ্রয় নিলে ম্যানহাটনের এক বিচারক আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত পর্ষদের উচ্ছেদ প্রস্তাবের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কার্টেন পরিবার মামলায় চুক্তির শর্ত ভঙ্গ এবং বৈষম্যমূলক আচরণের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে।

 

উভয় পক্ষের আইনি লড়াই ও মানসিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই আবাসন এলাকার বিষয়টি এখন নিউ ইয়র্কের স্থানীয় রাজনীতি ও আইনি অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
পেনসিলভানিয়ায় জন্ম নেওয়া বিরল দুই মাথার ক্রেস্টেড গেকো। ছবি: সংগৃহীত
এক দেহে দুই মাথা, সব শঙ্কা উড়িয়ে সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে বিরল গেকো

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে জন্ম নেওয়া বিরল দুই মাথার একটি গেকো টিকে থেকে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। জন্মের পর এর দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম বলে ধারণা করা হলেও, চার সপ্তাহ পার করে এখন সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে প্রাণীটি। এর দুটি মাথার নাম রাখা হয়েছে ‘সাইমন’ ও ‘গারফাঙ্কেল’।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর-পূর্ব পেনসিলভানিয়ার সরীসৃপ প্রজনন প্রতিষ্ঠান ‘রকস্টার গেকোস’-এ গত ২৯ জুন এই বিরল গেকোটির জন্ম হয়। জন্মের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির ভিডিও প্রকাশ করলে তা দ্রুতই ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে।   প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় এ ধরনের ঘটনা মাত্র দ্বিতীয়বার ঘটেছে। সাধারণত এ ধরনের প্রাণী দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে না। তবু শুরু থেকেই বিশেষ যত্ন নেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি প্রাণীর একাধিক মাথা নিয়ে জন্মানোর ঘটনাকে ‘পলিসেফালি’ বলা হয়। ভ্রূণের বিকাশের সময় জিনগত ত্রুটি বা পরিবেশগত বিভিন্ন কারণে এমনটি ঘটতে পারে।   দুই মাথার প্রাণীর ক্ষেত্রে প্রতিটি মাথার আলাদা মস্তিষ্ক থাকে। তবে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তারা যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এ কারণে চলাফেরা, খাবার গ্রহণ কিংবা দিক নির্ধারণে অনেক সময় সমস্যা দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে দুটি মাথা ভিন্ন দিকে যেতে চাইলে চলাফেরা অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে পড়ে, যা বন্য পরিবেশে তাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা আরও কমিয়ে দেয়।   তবে সাইমন ও গারফাঙ্কেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। রকস্টার গেকোস জানিয়েছে, শুরুতে দুটি মাথা কখনও কখনও ভিন্ন দিকে যেতে চাইলেও ধীরে ধীরে তারা চলাফেরায় সমন্বয় তৈরি করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো মাথাকেই অন্যটির ওপর প্রভাব বিস্তার করতে দেখা যায়নি। সাম্প্রতিক হালনাগাদ তথ্যে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, গেকোটির বয়স এখন চার সপ্তাহ। ওজন মাত্র ১ দশমিক ৮ গ্রাম হলেও এটি স্বাভাবিকভাবে খাবার খেতে পারছে। দুটি মাথাই আলাদাভাবে কোনো সহায়তা ছাড়াই খাবার গ্রহণ করছে।   আরও একটি স্বস্তির বিষয় হলো, গেকোটির মাথা দুটি এমনভাবে অবস্থান করছে যে তারা একে অপরকে আক্রমণ করতে পারে না। ফলে নিজেদের মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকিও নেই। নিউ ক্যালেডোনিয়ার স্থানীয় এই প্রজাতির ক্রেস্টেড গেকো পূর্ণবয়সে সাধারণত ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয় এবং ওজন হয় ৩৫ থেকে ৪৫ গ্রাম। তবে দুই মাথার এই গেকোটি স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারবে কি না, তা জানতে এখনও আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।   প্রাণীপ্রেমীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গেকোটির জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন। অনেকেই শুরু থেকেই এর বেড়ে ওঠার খবর অনুসরণ করছেন। কেউ কেউ আশা প্রকাশ করেছেন, বিরল এই প্রাণীটি সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন লাভ করবে। রকস্টার গেকোস জানিয়েছে, গেকোটির পাঁচ সপ্তাহ পূর্ণ হলে তারা আবারও এর নতুন অবস্থা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেবে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই মাথার প্রাণী সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সাপ ও কচ্ছপের মধ্যে। তবে মাছ, শূকর, ছাগলসহ বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যেও অতীতে পলিসেফালির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তবু সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা এমন প্রাণীর সংখ্যা খুবই কম।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ২২:১
ওহাইওতে আলোচিত হত্যা মামলার শুনানিতে অভিযুক্ত স্যামুয়েল হকস্টেটলার। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা, এরপর পরিবারকে শেষকৃত্যের সহায়তার প্রস্তাব আমিস যুবকের

আকস্মিক হামলার জবাব হিসেবে এই সামরিক অভিযান

ব্যালিস্টিক হামলার জবাবে ইরানে সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা

দুই বছরের ব্যবধানে সড়ক দুর্ঘটনায় মা-বাবাকে হারিয়েছে কানসাসের দুই কিশোর। ছবি: সংগৃহীত

দুই বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও ভাই, একই দিনে এবার মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বাবাকেও হারাল দুই শিশু

১৪ মাসের শিশু হেনরি ব্রাউন। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ মাসের শিশুকে নির্মম নির্যাতনে হত্যা, মা ও প্রেমিকের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ১৪ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তার মা ও মায়ের প্রেমিককে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। শিশুটির শরীরে নির্যাতনের একাধিক চিহ্ন পাওয়া গেলেও আগে থেকেই তার নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ ওঠার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছিল বলে মামলার নথিতে উঠে এসেছে।   দ্য প্রেস-এন্টারপ্রাইজের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সান বার্নার্ডিনো কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক আলেকজান্ডার আর. মার্টিনেজ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে ৩৬ বছর বয়সী সামান্থা ভিক্টোরিয়া গারভারকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি স্বেচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড (Voluntary Manslaughter) এবং গুরুতর শারীরিক ক্ষতি সাধনকারী শিশু নির্যাতনের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন।   অন্যদিকে, ৩৪ বছর বয়সী সার্জিও ভিনসেন্ট মেনা দ্বিতীয়-ডিগ্রির হত্যাকাণ্ড এবং গুরুতর শারীরিক ক্ষতি সাধনকারী শিশু নির্যাতনের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। আদালত তাকে ২১ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার বিগ বেয়ার এলাকার সুগারলোফে অবস্থিত বাড়ি থেকে ১৪ মাসের হেনরি হুইটলি ব্রাউনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে পোড়া ও আঘাতের অসংখ্য চিহ্ন ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।   রায় ঘোষণার পর সান বার্নার্ডিনো কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, কোনো সাজাই ছোট্ট হেনরিকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না কিংবা তার ওপর চালানো নির্যাতনের কষ্ট মুছে দিতে পারবে না। তবে এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে এবং দোষীরা আর কোনো শিশুর ক্ষতি করতে পারবে না।   তদন্তে উঠে এসেছে, হেনরির নিরাপত্তা নিয়ে মৃত্যুর আগেই একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছিল। শিশুটির পিতামহী স্টেফানি ডানকান জানান, হেনরির জন্মের পর তিনি অন্তত ছয়বার শিশু ও পরিবার সেবা বিভাগে অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু তার অভিযোগ গুরুত্ব পায়নি। ডানকানের ভাষ্য, হেনরিকে নিয়মিত তাদের বাড়িতে দেখাশোনা করা হতো। তিনি বলেন, শিশুটি প্রায়ই নোংরা বোতল, পর্যাপ্ত পোশাক বা ডায়াপার ছাড়া আসত। ২০২৩ সালের জুনে হেনরির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখে তিনি পুলিশে খবর দেন।   একজন শেরিফের ডেপুটি শিশুটিকে পরীক্ষা করে জানান, যে বয়সের শিশু হাঁটতেও শেখেনি, তার শরীরে এ ধরনের আঘাত স্বাভাবিক নয়। এরপর তিনি বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিলেও হেনরিকে তার মা ও মেনার কাছেই থাকতে দেওয়া হয়। তদন্ত নথিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সামান্থা গারভার জানিয়েছিলেন, তিনি রাতে বাইরে যাওয়ার সময় হেনরিকে সার্জিও মেনার কাছে রেখে যান। অথচ তিনি জানতেন, মেনা দুই দিন ধরে না ঘুমিয়ে মাদক সেবন করছিলেন।   মেনা পরে তদন্তকারীদের জানান, তিনি মাদক গ্রহণের সময় হেনরিকে চলমান গরম পানির বাথটাবে রেখে দেন। পরদিন সকালে বাড়ি ফিরে গারভার দেখতে পান, শিশুটির যৌনাঙ্গ ও পায়ের নিচের অংশে মারাত্মক দগ্ধের চিহ্ন রয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, তাকে অত্যন্ত গরম পানিতে ডুবিয়ে দেওয়ার কারণেই এসব আঘাতের সৃষ্টি হয়।   মামলার নথি অনুযায়ী, গুরুতর আহত অবস্থায়ও হেনরিকে প্রায় ১২ ঘণ্টা চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। শুধু একটি অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়ানো হয়। এরপর রাত ৮টার দিকে জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করা হয়। প্রাথমিকভাবে অভিযুক্তরা দাবি করেছিলেন, ফোন করার ২০ মিনিট আগে শিশুটির হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়। তবে তদন্তকারীদের বিশ্বাস, তার মৃত্যু আরও আগেই হয়েছিল।   ময়নাতদন্ত ও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হেনরির শরীরে বিভিন্ন সময়ে সৃষ্ট আঘাতের চিহ্ন ছিল। এর আগে তার একটি হাত স্থানচ্যুত হয়েছিল এবং কয়েকটি দাঁতও ভেঙে পড়েছিল।   মামলাটি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, সামান্থা গারভার ২০১৩ সালেও শিশু নির্যাতনের একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। সেই মামলায় আদালতের নির্দেশনা পুরোপুরি পালন না করায় তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। তবুও পরবর্তী সময়ে তিনি কীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে যান এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থার একাধিক অভিযোগের পরও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ২১:২৯
ভাইরাল সংঘর্ষের পর আইনি জটিলতায় জড়ানো নিউইয়র্কের আবাসন ভবন। ছবি: সংগৃহীত

উচ্ছেদ ঠেকাতে আদালতের দরজায় পরিবার, নিউইয়র্কের অভিজাত আবাসনে জাতিগত বিদ্বেষ ও সংঘাতের জল গড়ালো বহুদূর

সম্প্রতি আইসিই কর্মকর্তারা চেক-ইন কাউন্টার ও বোর্ডিং গেটে প্লেইনক্লথে অবস্থান নিয়ে অভিযান চালাচ্ছেন

গ্রিনকার্ড থাকলেও বিমানবন্দরে আইসিই'র হাতে আটক হতে পারেন যাত্রীরা, যা জানা জরুরি

কাট দ্য কাটলারি

নিউ জার্সিতে ১ আগস্ট থেকে প্লাস্টিকের কাঁটাচামচ ও চামচ নিষিদ্ধ, যা জানা জরুরি

৩৭ সন্তানের সঙ্গে পল ও জিন ব্রিগসের পরিবারের একটি মুহূর্ত। ছবি: সংগৃহীত
৫ সন্তানের স্বপ্ন থেকে ৩৭ সন্তানের পরিবার, দত্তক নিয়েই বদলে দিলেন অসহায় শিশুদের জীবন

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়ার এক দম্পতির পরিবার এখন ৩৭ সন্তানের। তবে এত বড় পরিবার গড়ার পরিকল্পনা তাদের কখনোই ছিল না। জীবনের বিভিন্ন সময়ে অসহায় ও পরিত্যক্ত শিশুদের আশ্রয় দিতে দিতে আজ তারা হয়ে উঠেছেন ৩৭ সন্তানের মা-বাবা।   মার্কিন সাময়িকী পিপল-এ প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে পল ও জিন ব্রিগস দম্পতির ব্যতিক্রমী জীবনের গল্প। ১৯৭৬ সালে বিয়ের পর তারা সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু একসময় তাদের পরিবারে ৩৭ সন্তান হবে, এমন কল্পনাও করেননি।   বর্তমানে ৭১ বছর বয়সী পল ব্রিগস তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করেন। তার স্ত্রী ৬৯ বছর বয়সী জিন ব্রিগস দীর্ঘদিন ধরে পুরো পরিবারের দেখভাল করছেন। তাদের মোট ৩৭ সন্তানের মধ্যে পাঁচজন জৈবিক সন্তান এবং ৩২ জন দত্তক নেওয়া। সন্তানদের বয়স ১০ থেকে ৪৭ বছরের মধ্যে।   পল ব্রিগস বলেন, কখনোই নির্দিষ্ট সংখ্যক সন্তান নেওয়ার লক্ষ্য ছিল না। বরং সময়ের সঙ্গে এমন অনেক শিশুর মুখোমুখি হয়েছেন, যাদের একটি পরিবারের প্রয়োজন ছিল। সেই পরিস্থিতিগুলোই তাদের বারবার নতুন সন্তানকে পরিবারে স্বাগত জানাতে উদ্বুদ্ধ করেছে।   তাদের দত্তক নেওয়ার যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৫ সালে। সে সময় তারা মেক্সিকো থেকে আব্রাহাম নামের এক শিশুকে দত্তক নেন। পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া ওই শিশুটি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছিল। বর্তমানে সে প্রাপ্তবয়স্ক হলেও বাবা-মায়ের সঙ্গেই থাকে। এরপর ধীরে ধীরে বিভিন্ন দেশ থেকে আরও অনেক শিশুকে দত্তক নেন তারা, যাদের অনেকেই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা অন্য পরিবারের কাছে দত্তক যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল খুবই কম।   ব্রিগস দম্পতির ভাষ্য, তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসও এ সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তারা প্রতিটি দত্তক নেওয়ার আগে প্রার্থনা করতেন এবং মনে করতেন, যেসব শিশুকে নিয়ে তাদের মনে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মাত, তারাই তাদের পরিবারের অংশ হওয়ার জন্য উপযুক্ত।   বর্তমানে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ফলিং ওয়াটার্সে পাঁচ হাজার বর্গফুটেরও বেশি আয়তনের বাড়িতে তাদের সঙ্গে ১৪ সন্তান বসবাস করছে। এত বড় পরিবার পরিচালনা করতে সবাইকে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। কেউ রান্নার প্রস্তুতিতে সাহায্য করে, কেউ খাবারের টেবিল সাজায়, কেউ আবার বাসার রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে।   জিন ব্রিগস পরিবারের প্রধান রাঁধুনি। রান্নায় সন্তানরাও তাকে সহযোগিতা করে। স্প্যাগেটি, গ্রিলড চিজ, স্যুপ কিংবা রাতের খাবারে সকালের নাশতার মেনু, সবই পরিবারের সদস্যদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। বড় পরিবারের জন্য রান্নার পরিমাণ ঠিক রাখতে তারা আলাদা পরিমাপের তালিকাও ব্যবহার করেন। পরিবারের আর্থিক ব্যয় মূলত পলের চাকরির আয় ও কর্মস্থলের বিভিন্ন সুবিধার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তিন সন্তানের জন্য সরকারি সহায়তাও পান তারা।   ২০০৫ সালে ইউক্রেনের একটি এতিমখানা থেকে ১৫ বছর বয়সে দত্তক নেওয়া হয় জোসেফকে। বর্তমানে তিনি মেরিল্যান্ডের একটি স্যামস ক্লাব শাখার ব্যবস্থাপক। তার ভাষায়, নতুন পরিবার পাওয়ার পরই তিনি প্রথমবারের মতো নিরাপদ আশ্রয়, পরিচ্ছন্ন পোশাক, আর ভালোবাসার অনুভূতি পেয়েছিলেন।   জোসেফসহ ব্রিগস পরিবারের ১৭ সন্তান ওয়ালমার্ট বা স্যামস ক্লাবে কর্মজীবন শুরু করেছেন। ওয়ালমার্টের শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবারের পাঁচ সদস্য উচ্চশিক্ষার জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তাও পেয়েছেন।   এদিকে তাদের বড় মেয়ে মেরি কেট জনসনও বাবা-মায়ের পথ অনুসরণ করেছেন। তার নিজের ১৪ সন্তানের মধ্যে চারজনকে তিনি ঘানা থেকে দত্তক নিয়েছেন। তিনি বাবা-মায়ের বাড়ি থেকে অল্প দূরেই থাকেন এবং বলেন, নতুন ভাইবোন পরিবারে আসার প্রতিটি মুহূর্তই ছিল আনন্দের।   দীর্ঘ কয়েক দশকের অভিজ্ঞতায় সন্তানদের জন্য কিছু নিয়মে নমনীয় হলেও পারিবারিক মূল্যবোধ ধরে রেখেছেন ব্রিগস দম্পতি। তাদের দাবি, বড় পরিবার হলেও সময়মতো সবাইকে নিয়ে গির্জায় পৌঁছানো বা পারিবারিক দায়িত্ব ভাগাভাগি করার ক্ষেত্রে তারা এখনো শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সক্ষম।   আর ভবিষ্যতে আবারও কোনো শিশুকে দত্তক নেবেন কি না, এমন প্রশ্নে জিন ব্রিগস হাসতে হাসতে বলেন, যদি কোনো অসহায় শিশুর প্রয়োজন হয়, তাহলে বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনা করবেন, তবে এবার তিনি চান শিশুটি যেন নবজাতক না হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ২০:৩৬
নিউইয়র্কের আবাসন সংকট মোকাবিলায় কুইন্সে ৬০০-এর বেশি সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট, থাকছে ডে-কেয়ার ও ইনডোর পুল

নিউইয়র্কের আবাসন সংকট মোকাবিলায় কুইন্সে ৬০০-এর বেশি সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট, থাকছে ডে-কেয়ার ও ইনডোর পুল

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্প-ওবামার মর্যাদার লড়াই, কার সুযোগ কতটুকু?

১৬৭.৩ মিলিয়ন ডলারের পাওয়ারবল লটারি জিতে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া জেমস ফার্দিং

১৬৭ মিলিয়ন ডলারের লটারি জিতেও বদলায়নি স্বভাব, এক বছরে চারবার গ্রেপ্তার

0 Comments