উচ্ছেদ ঠেকাতে আদালতের দরজায় পরিবার, নিউইয়র্কের অভিজাত আবাসনে জাতিগত বিদ্বেষ ও সংঘাতের জল গড়ালো বহুদূর
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনের ইস্ট সাইডে অবস্থিত একটি যৌথ মালিকানাধীন আবাসিক ভবনে (কো-অপ) দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত কোন্দল এবার সুপ্রিম কোর্টে গড়িয়েছে। জাতিগত বিদ্বেষ, দারোয়ানের সাথে মারামারি এবং পরবর্তীতে ফ্ল্যাট থেকে উচ্ছেদের নোটিশকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। নিজের ৫৭ বছর বয়সী সন্তানকে ফ্ল্যাট থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এক বয়স্ক দম্পতি।
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় গণমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক পোস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে ম্যানহাটন সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা নথির বরাত দিয়ে এই আইনি লড়াইয়ের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
আদালতের নথি বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ২০২৪ সালের অক্টোবরে আর্ভিং কার্টেন এবং ক্যারল কার্টেন দম্পতি ৩৩৯ ইস্ট ৫৮তম স্ট্রিটের একটি ১০ তলা ভবনের পেন্টহাউস ইউনিটটি প্রায় ৪ লাখ ডলারে কেনেন। লক্ষ্য ছিল তাঁদের ৫৭ বছর বয়সী ছেলে কেভিন কার্টেন সেখানে বসবাস করবেন। কেভিন পেশায় একজন ঠিকাদার এবং ফ্লোরিডায় তাঁর নিজস্ব একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে ভবনে ওঠার পর থেকেই সেখানকার দারোয়ান লরেন্স মনটগোমারির সাথে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
আইনি নথি অনুযায়ী, বিবাদের সূত্রপাত ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, যখন কেভিন ভবন ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ‘নিউ বেডফোর্ড ম্যানেজমেন্ট’-এর কাছে দারোয়ান লরেন্সের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ইহুদি ধর্মাবলম্বী কেভিন দাবি করেন, লরেন্স ইচ্ছা করে তাঁর চিঠি বা পার্সেল আটকে রাখতেন, তাঁর প্রেমিকাকে না জানিয়ে স্পর্শ করেছিলেন এবং ক্রমাগত বর্ণবাদী ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করতেন।
অভিযোগের ঠিক পরদিনই, অর্থাৎ ১৮ সেপ্টেম্বর ভবনের ভেতরেই দুজনের মধ্যে এক তুমুল বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যা ক্যামেরায় রেকর্ড হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, দারোয়ান লরেন্স ফোন উঁচিয়ে কেভিনের মুখের সামনে ধরলে কেভিন সেটি থাপ্পড় দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এর পরপরই লরেন্স তাকে আঘাত করেন, যার ফলে কেভিনের চোখে গুরুতর জখম হয়। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা ভিডিওতে কেভিনকেও একাধিকবার অসংবেদনশীল ও আপত্তিকর বর্ণবাদী শব্দ ব্যবহার করতে এবং দারোয়ানের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে মেঝেতে আছাড় মারতে দেখা যায়।
ঘটনার পর পুলিশ এসে উভয়কেই গ্রেপ্তার করে। দারোয়ান লরেন্সের বিরুদ্ধে শারীরিক আক্রমণ ও আক্রমণের চেষ্টা এবং কেভিনের বিরুদ্ধে সম্পদের ক্ষতি ও হেনস্তার অভিযোগ আনা হয়। আদালতের আদেশে মামলাটি আপাতত গোপনীয় রাখা হয়েছে।
এই ঘটনার পর কো-অপ পরিচালন পর্ষদ দারোয়ান লরেন্সের পাশে দাঁড়ায় এবং ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর কেভিনকে সতর্কীকরণ নোটিশ পাঠায়। এতে বলা হয়, ভবনের শান্তি বজায় না রাখলে তাঁকে অযোগ্য বাসিন্দা হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে কার্টেন পরিবারের আইনজীবী এর বিরোধিতা করে জানান, কো-অপ কর্তৃপক্ষ ঘটনার কোনো সঠিক তদন্ত করেনি এবং জাতিগত বিদ্বেষমূলক আচরণের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
সমস্যার এখানেই শেষ নয়; কেভিনের সাথে প্রতিবেশীদেরও বিরোধ তৈরি হয়। কেভিনের পাশের ফ্ল্যাটের এক বাসিন্দা কো-অপ পর্ষদের সদস্য ছিলেন। কার্টেন পরিবারের দাবি, টেরাসে গাছ রাখা নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে ওই পর্ষদ সদস্যের স্ত্রী কেভিনকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেন।
সবশেষ পরিস্থিতির অবনতি ঘটে যখন গত ২২ জুলাই কো-অপ পরিচালন পর্ষদ একটি জরুরি সভা ডেকে কার্টেন পরিবারের ইজারা বাতিল, তাঁদের শেয়ার নিলামে বিক্রি এবং কেভিনকে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার নোটিশ জারি করে। নোটিশে পর্ষদ সদস্যকে হেনস্তার অস্পষ্ট অভিযোগ আনা হলেও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বলে দাবি কার্টেন পরিবারের।
উচ্ছেদের বিরুদ্ধে কার্টেন পরিবার জরুরিভিত্তিতে আদালতের আশ্রয় নিলে ম্যানহাটনের এক বিচারক আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত পর্ষদের উচ্ছেদ প্রস্তাবের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কার্টেন পরিবার মামলায় চুক্তির শর্ত ভঙ্গ এবং বৈষম্যমূলক আচরণের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে।
উভয় পক্ষের আইনি লড়াই ও মানসিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই আবাসন এলাকার বিষয়টি এখন নিউ ইয়র্কের স্থানীয় রাজনীতি ও আইনি অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি-আমেরিকান নতুন প্রজন্মের মধ্যে ক্যারিয়ার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসা, ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা তথ্যপ্রযুক্তির মতো দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় পেশার পাশাপাশি আইন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, ডেটা সায়েন্স, ব্যবসা ও উদ্যোক্তা হওয়ার মতো ক্ষেত্রও তরুণদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে। কমিউনিটির কয়েকটি পরিবারের বাস্তব অভিজ্ঞতায়ও দেখা যাচ্ছে, পড়াশোনা বা কর্মজীবনের মাঝপথে অনেকে নিজেদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নতুন করে সাজাচ্ছেন। টেক্সাসের বাংলাদেশি কমিউনিটির এক তরুণীর গল্প তার একটি উদাহরণ। মিডল স্কুল থেকেই তিনি হেলথ কেয়ার ও মেডিকেল সায়েন্স নিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। হাই স্কুল পেরিয়ে কলেজেও সেই লক্ষ্য ধরে পড়াশোনা করেছেন। সম্প্রতি কলেজ শেষ করার পরও অবশ্য সেই দীর্ঘদিনের পরিকল্পনায় পরিবর্তন এসেছে। এখন তিনি হেলথ কেয়ারের পরিবর্তে আইন পেশায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং ল স্কুলে ভর্তির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন। অর্থাৎ যে ক্যারিয়ারের জন্য একজন শিক্ষার্থী কৈশোর থেকে বছরের পর বছর প্রস্তুতি নিয়েছেন, কলেজ শেষ করার পর নিজের আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনা করে সেই পথ পরিবর্তন করতেও দ্বিধা করছেন না। জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও দেখা যাচ্ছে ভিন্ন ধরনের একটি পরিবর্তন। এক বাংলাদেশি পরিবারের তরুণীর শুরু থেকেই তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহ ছিল। পড়াশোনার ক্ষেত্রেও আইটি ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ পছন্দ। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ এবং প্রযুক্তি খাতে কাজের ধরন পরিবর্তনের কারণে এখন তিনি নিজের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নতুনভাবে সাজাচ্ছেন। আইটি পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে তিনি একই প্রযুক্তি খাতের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যারিয়ার গড়ার পরিকল্পনা করছেন। অর্থাৎ তার ক্ষেত্রে পরিবর্তনটি আইটি থেকে বেরিয়ে যাওয়া নয়, বরং আইটির ভেতরেই ভবিষ্যৎমুখী একটি নতুন বিশেষায়িত ক্ষেত্র বেছে নেওয়া। এই পরিবর্তনের পেছনে শুধু ব্যক্তিগত আগ্রহ নয়, দ্রুত বদলে যাওয়া চাকরির বাজারও ভূমিকা রাখছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ২০২৫ সালের ফিউচার অব জবস রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে চাকরির বাজারে প্রযুক্তিগত দক্ষতার গুরুত্ব দ্রুত বাড়বে। এআই ও বিগ ডেটা, নেটওয়ার্ক ও সাইবার সিকিউরিটি এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা দক্ষতার মধ্যে রাখা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে বিগ ডেটা স্পেশালিস্ট, ফিনটেক ইঞ্জিনিয়ার, এআই ও মেশিন লার্নিং স্পেশালিস্ট এবং সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপারদের দ্রুত বাড়তে থাকা পেশার তালিকায় রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের সর্বশেষ হিসাবও দেখাচ্ছে, এআই প্রযুক্তির কারণে আইটি খাতের সব চাকরি কমে যাচ্ছে এমন নয়। বরং কিছু পেশায় কর্মসংস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ডেটা সায়েন্টিস্টের চাকরি ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ, ইনফরমেশন সিকিউরিটি অ্যানালিস্ট ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সফটওয়্যার ডেভেলপারের চাকরি ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। তবে প্রযুক্তির পরিবর্তনের কারণে কিছু প্রচলিত কাজের ধরন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছে প্রশ্নটি এখন শুধু আইটি পড়বে কি না, তা নয়; বরং আইটির কোন শাখায় গেলে ভবিষ্যতে বেশি সুযোগ তৈরি হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই পরিবর্তন শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে আইটি পেশায় কাজ করা কিছু বাংলাদেশি-আমেরিকান পেশাজীবীও চাকরির বাজারের পরিবর্তনের মধ্যে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবছেন। তাদের কেউ নতুন দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করছেন, কেউ আইটির অন্য শাখায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, আবার কেউ চাকরির পরিবর্তে ব্যবসা ও উদ্যোক্তা হওয়ার দিকে ঝুঁকছেন। জর্জিয়ার এমনই এক তরুণ বাংলাদেশি আইটি পেশাজীবী, যিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি, দীর্ঘদিন আইটি খাতে কাজ করার পর এখন নতুন ব্যবসা শুরু করছেন। তার কাছে প্রযুক্তি খাতের দ্রুত পরিবর্তন এবং চাকরির অনিশ্চয়তা আইটি ক্যারিয়ারকে আগের তুলনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়েছে। ফলে চাকরির ওপর নির্ভর না করে নিজের ব্যবসা দাঁড় করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির আকারও দ্রুত বাড়ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভে বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের শুধু বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার। ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ হাজার। অর্থাৎ কমিউনিটির একটি বড় অংশ এখন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম। তাদের ক্যারিয়ার পছন্দ আগামী দিনের বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির পেশাগত পরিচয় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশি পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা আইটি পেশার বাইরে নতুন প্রজন্ম কতটা যাচ্ছে? একজন তরুণী হেলথ কেয়ার থেকে আইন পেশায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আরেকজন আইটি থেকে এআইভিত্তিক ক্যারিয়ারের দিকে এগোচ্ছেন। অন্যদিকে একজন অভিজ্ঞ আইটি পেশাজীবী চাকরির পরিবর্তে উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করছেন। এই তিনটি ঘটনা হয়তো পুরো কমিউনিটির চিত্র নয়। কিন্তু এগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নতুন প্রজন্ম এখন শুধু বাবা-মায়ের পছন্দের পেশা নয়, বরং নিজের আগ্রহ, ভবিষ্যতের চাকরির বাজার, প্রযুক্তির পরিবর্তন, আয়ের সম্ভাবনা এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা বিবেচনা করে ক্যারিয়ার বেছে নিতে চাইছে। বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্য তাই ক্যারিয়ার নিয়ে পুরনো প্রশ্নটি হয়তো ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। প্রশ্নটি আর শুধু ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার নাকি আইটি—এতটুকুতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং কোন পেশায় ভবিষ্যতের সুযোগ বেশি, কোন দক্ষতার চাহিদা বাড়বে এবং সন্তানের নিজের আগ্রহ কোথায়—সেটিও এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আর সেই পরিবর্তনের গল্পই হয়তো আগামী দিনের বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির নতুন ক্যারিয়ার মানচিত্র তৈরি করবে।
মেয়েকে নিয়ে হাঁটার সময়, গায়ের রঙের পার্থক্য দেখে বাবা-মেয়ের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন, নারী গ্রেপ্তার
কাজ কমবে, বেতন নয়! যুক্তরাষ্ট্রে ৩২ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহের প্রস্তাব ঘিরে বিশ্বজুড়ে ভিন্নমুখী বিতর্ক
যেখানে কেটেছিল ট্রাম্পের শৈশব, সেই বাড়ি বিক্রি হলো ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারে
শৈশবের ক্ষুধার কষ্ট হয়তো ভুলে যাননি তারা। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার স্কুলশিক্ষার্থীদের খাবারের বকেয়া পরিশোধে এগিয়ে এলেন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসের প্রায় ৩০ জন বন্দি। নিজেদের সীমিত অর্থ থেকে তারা সংগ্রহ করেছেন ৩ হাজার ৮১০ ডলার। কানসাসের নর্টন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটির বন্দিদের এই উদ্যোগের সঙ্গে পরে যুক্ত হন কানসাস ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন্সের কর্মীরাও। তারা আরও ৪৫৭ ডলার যোগ করায় মোট অনুদানের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৭ ডলার। এই অর্থ দেওয়া হয়েছে নর্টন কমিউনিটি স্কুলস, ইউএসডি ২১১-এর শিক্ষার্থীদের খাবারের বকেয়া পরিশোধে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শেষে স্কুল ডিস্ট্রিক্টটির শিক্ষার্থীদের খাবারের হিসাবে প্রায় ৬ হাজার ডলার বকেয়া ছিল। আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারের সন্তানদের স্কুলে সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবার দেওয়া হলেও অনেক পরিবারের পক্ষে সেই খরচ পুরোপুরি পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি জানতে পারেন নর্টন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটির ‘রিচিং আউট ফ্রম উইদিন’ বা আরওএফডব্লিউ কর্মসূচির সদস্যরা। এরপর নিজেদের মধ্যে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেন তারা। বন্দিদের নিজেদের অর্থ থেকেই আসে ৩ হাজার ৮১০ ডলার। পরে কারেকশনস বিভাগের কর্মীদের দেওয়া অর্থ যোগ হয়ে মোট অনুদান দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৭ ডলারে। অর্থাৎ স্কুলের মোট বকেয়ার প্রায় ৭১ শতাংশই এই অনুদানের মাধ্যমে পরিশোধে সহায়তা করা সম্ভব হবে। গত ৩ আগস্ট নর্টন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০ জন বন্দি স্কুলটির সুপারিনটেনডেন্ট কোরি রয়-এর হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেন। কোরি রয় জানান, বন্দিদের সঙ্গে কথা বলে স্থানীয় শিশুদের জন্য ইতিবাচক কিছু করার তাদের আগ্রহে তিনি অভিভূত হয়েছেন। অন্যদের জন্য কিছু করার সুযোগ তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়েও ইতিবাচকভাবে ভাবতে সাহায্য করেছে বলেও জানান তিনি। এই উদ্যোগের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক দিক হলো, সাহায্যের অর্থ এসেছে এমন মানুষদের কাছ থেকে যাদের নিজেদের আর্থিক সামর্থ্যও সীমিত। তারপরও স্থানীয় শিশুদের খাবারের বকেয়া মেটাতে নিজেদের হাতে থাকা অর্থের একটি অংশ তারা তুলে দিয়েছেন। নর্টনের এই ঘটনা শুধু স্কুলশিক্ষার্থীদের খাবারের খরচ নিয়ে পরিবারের আর্থিক সংকটের বিষয়টিই সামনে আনেনি, বরং কারাগারের পুনর্বাসনমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে বন্দিরাও কীভাবে সমাজের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন, তারও একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ তৈরি করেছে।
আইসিই কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার বিধিনিষেধ নিয়ে নিউ জার্সির বিরুদ্ধে ডিওজের মামলা
ডলারের নোটে এই সিরিয়াল থাকলে দাম উঠতে পারে ১৯ হাজার ডলার পর্যন্ত
তেল নেওয়ার সময় টাকা না দেওয়ায় লাইটার দিয়ে নারীকে আ হ ত, গ্রেপ্তার আরেক নারী
যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীদের জন্য ২০২৭ সালে মাসিক ভাতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অবসরপ্রাপ্তদের সংগঠন এএআরপির সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, আগামী বছর জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা কোলা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে। এই হারে বৃদ্ধি হলে গড়ে অবসরপ্রাপ্ত একজন কর্মী মাসে প্রায় ৭৩ ডলার বেশি পেতে পারেন। তবে এই হিসাব এখনো চূড়ান্ত নয়। ২০২৭ সালের কোলা নির্ধারণে চলতি বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য বিবেচনা করা হবে। বিশেষ করে শহুরে মজুরি ও দাপ্তরিক কর্মীদের ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই-ডব্লিউ এই হিসাবের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর অক্টোবর মাসে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন চূড়ান্ত কোলা ঘোষণা করবে। এএআরপির হিসাব অনুযায়ী, জুলাইয়ে সিপিআই-ডব্লিউ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। পরবর্তী মাসগুলোর সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে এএআরপি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কোলা হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে খাদ্য ও জ্বালানির দামে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে চূড়ান্ত হার এই পূর্বাভাসের চেয়ে কম বা বেশি হতে পারে। ২০২৬ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটির কোলা ছিল ২ দশমিক ৮ শতাংশ। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এই বৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে। এতে গড়ে অবসরপ্রাপ্ত একজন কর্মীর মাসিক সুবিধা প্রায় ৫৬ ডলার বেড়েছে। সোশ্যাল সিকিউরিটির কোলা মূলত মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সুবিধাভোগীদের মাসিক ভাতা সমন্বয়ের জন্য দেওয়া হয়। ১৯৭৫ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এই সমন্বয় করা হচ্ছে। তবে মূল্যস্ফীতি কম থাকলে কোনো কোনো বছর এই বৃদ্ধির হার শূন্যও হতে পারে। ২০২৭ সালের কোলা নিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি হিসাব অবশ্য এএআরপির পূর্বাভাসের চেয়ে কম। সংস্থাটির ২০২৬ সালের ট্রাস্টি প্রতিবেদন তৈরির সময় ২০২৭ সালের জন্য ২ দশমিক ৪ শতাংশ কোলা ধরে হিসাব করা হয়েছিল। তবে সেটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে করা হিসাব, চূড়ান্ত ঘোষণা নয়। তাই এখনই ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি নিশ্চিত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পরই ২০২৭ সালের প্রকৃত কোলা নির্ধারণ করা হবে। তবে এএআরপির বর্তমান পূর্বাভাস সঠিক হলে যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীরা আগামী বছর মাসে আরও কিছুটা বেশি অর্থ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
এআই প্রম্পটসহ সংবাদপত্র প্রকাশ, ট্রলের শিকার টাইমস অব বাংলাদেশ
নিউইয়র্কে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা ভারী বৃষ্টিতে ঝুঁকিতে বিভিন্ন এলাকা