টেক্সাসে দেহব্যবসার অভিযোগে সাবেক পুলিশ প্রধানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের জনসন কাউন্টিতে কথিত একটি দেহব্যবসা ও সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র পরিচালনার অভিযোগে সাবেক এক পুলিশ প্রধানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে গ্র্যান্ড জুরি। তদন্তসংশ্লিষ্ট আদালতের নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের সম্পৃক্ততা ছিল। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের কাছ থেকে জব্দ করা বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত পাওয়ার দাবি করেছেন তদন্তকারীরা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ৪ জানিয়েছে, বুধবার জনসন কাউন্টির গ্র্যান্ড জুরি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। মামলাটি তদন্ত করছে জনসন কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়, টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটি এবং সোমারভেল কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়।
অভিযোগ গঠন হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মাইকেল কেচারসাইড, তার স্ত্রী অ্যাশলি কেচারসাইড, গডলি পুলিশের সাবেক প্রধান ম্যাথিউ ক্যানট্রেল, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা জেরেমি আরবাথনট ও সলোমন ওমোটোয়া এবং জনসন কাউন্টি কারাগারের সাবেক সংশোধন কর্মকর্তা রেজিনা ক্যানট্রেল।
আদালতের নথি অনুযায়ী, মাইকেল ও অ্যাশলি কেচারসাইডের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া মাইকেলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে দেহব্যবসা পরিচালনায় সহায়তার অভিযোগ রয়েছে।
সাবেক পুলিশ প্রধান ম্যাথিউ ক্যানট্রেলের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত থাকা, দেহব্যবসা পরিচালনায় সহায়তা, যৌন নিপীড়নের দুটি অভিযোগ এবং একজনকে অনুসরণ করে হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা জেরেমি আরবাথনট ও সলোমন ওমোটোয়ার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধে অংশগ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর পাশাপাশি ওমোটোয়ার বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে যৌনসেবা গ্রহণের উদ্দেশ্যে যোগাযোগ করার অভিযোগও রয়েছে।
রেজিনা ক্যানট্রেলের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় গোপন সরকারি তথ্যের অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত হলফনামা অনুযায়ী, গত মার্চের শেষ দিকে তদন্তকারীরা অ্যাশলি ও মাইকেল কেচারসাইডের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ট্যাবলেট এবং ইউএসবি ড্রাইভ জব্দ করেন। এসব ডিভাইস থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, অ্যাশলি কেচারসাইড একাধিক গ্রাহকের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে যৌনসেবার ব্যবস্থা করতেন।
আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, ‘লোলা ব্রেয়া’ ছদ্মনাম ব্যবহার করে একটি এসকর্ট-সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। তদন্তকারীরা বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের স্ক্রিনশটও উদ্ধার করেছেন বলে দাবি করেছেন, যেখানে সাক্ষাতের পর অর্থ পরিশোধের তথ্য রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নথি অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের সেবার জন্য আলাদা অর্থ নেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, রাতভর সেবার জন্য ৫ হাজার ডলার, ৯০ মিনিটের জন্য ১ হাজার ৩০০ ডলার এবং এক ঘণ্টার জন্য ৬০০ ডলার পর্যন্ত নেওয়া হতো। এছাড়া ২০২৪ সালের একটি নোটে উল্লেখ রয়েছে, একজন গ্রাহক অ্যাশলি কেচারসাইডকে ডালাস স্টার্সের একটি আইস হকি খেলা দেখাতে নিয়ে যেতে প্রায় ৪ হাজার ডলার ব্যয় করেছিলেন।
তদন্তকারীদের দাবি, জব্দ করা ডিভাইসগুলোতে এমন একাধিক বার্তা পাওয়া গেছে, যেখানে মাইকেল কেচারসাইড অ্যাশলির বিভিন্ন গ্রাহকের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়সূচি ও যোগাযোগের সমন্বয় করতেন।
জনসন কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি টিমোথি গুড এক বিবৃতিতে বলেন, এটি অত্যন্ত বিস্তারিত এবং এখনো চলমান একটি তদন্ত। মামলায় যেসব অভিযোগ উঠে এসেছে, তার কিছু অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বা সাবেক সদস্য হওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নতুন তথ্য সামনে এলে তদন্তও এগিয়ে নেওয়া হবে।
এই মামলার তদন্ত প্রথম প্রকাশ্যে আসে চলতি বছরের ৮ এপ্রিল। সেদিন মাইকেল কেচারসাইড, সাবেক পুলিশ প্রধান ম্যাথিউ ক্যানট্রেল এবং সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা সলোমন ওমোটোয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ১৫ এপ্রিল অ্যাশলি কেচারসাইডকে অর্থপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়, যদিও এর আগে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
আদালতের নথিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কেচারসাইড দম্পতির বাড়ি থেকেই কথিত এই কার্যক্রম পরিচালিত হতো এবং সেখানে গডলি পুলিশ বিভাগের কয়েকজন সদস্য নিয়মিত যাতায়াত করতেন। তদন্তে আরও অভিযোগ রয়েছে, কেচারসাইড দম্পতি ও ম্যাথিউ ক্যানট্রেল মিলে গডলি সিটি কাউন্সিল, স্থানীয় স্কুল বোর্ড এবং পুলিশ বিভাগের কয়েকজন সদস্যসহ যাদের প্রতিপক্ষ মনে করতেন, তাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনাও করেছিলেন।
প্রসঙ্গত, অ্যাশলি কেচারসাইড ২০২৩ সালেও আলোচনায় এসেছিলেন। তখন গডলি স্কুল জেলার যৌনশিক্ষা পাঠ্যক্রম নির্ধারণ-সংক্রান্ত একটি কমিটি থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কারণ, তার বিরুদ্ধে ২০১২ ও ২০১৬ সালে দেহব্যবসা-সংক্রান্ত দুটি দণ্ডাদেশের তথ্য প্রকাশ্যে আসে।
এদিকে ম্যাথিউ ক্যানট্রেলের বিরুদ্ধে ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে নিজের দাপ্তরিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে এক নারীকে হয়রানি ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগও আনা হয়েছে। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পৃথকভাবে দুটি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে।
পরে এপ্রিলের শেষ দিকে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা জেরেমি আরবাথনট এবং মে মাসের শুরুতে সাবেক সংশোধন কর্মকর্তা রেজিনা ক্যানট্রেলকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
জনসন কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান এবং এটি কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
সূত্র: ফক্স ৪, জনসন কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় এবং জনসন কাউন্টি শেরিফের দপ্তর।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্টন হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন তাঁর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন। পুরস্কারপ্রাপ্ত হিসেবে ইউনূসের নাম ঘোষণা করা হলে উপস্থিত প্রায় ৪০০ অতিথি দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় করতালির মাধ্যমে তাঁকে সম্মান জানান। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে প্রায় ২৫টি দেশের রাষ্ট্রদূত, উদ্যোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকেরা উপস্থিত ছিলেন। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং আরও শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ বিশ্ব গড়ার ক্ষেত্রে নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি এবং হিলারি ক্লিনটনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ড. ইউনূসের পাশাপাশি আরও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ভারতের সেলফ এমপ্লয়েড উইমেনস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক রিমা নানাবতী এবং টোরি বার্চ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও ফ্যাশন ডিজাইনার টোরি বার্চ। এ ছাড়া জর্ডানের মাইক্রোফান্ড ফর উইমেনের বোর্ড চেয়ার মুনা সুখতিয়ানকে প্রথমবারের মতো জর্জটাউন অ্যাম্বাসেডরস অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের এসব সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। পুরস্কার গ্রহণের পর বক্তব্যে ড. ইউনূস ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে তাঁর পাঁচ দশকের কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে চাকরিপ্রার্থী না হয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের মূলত চাকরি খোঁজার জন্য প্রস্তুত করে। অথচ তাঁদের সৃজনশীলতা ও উদ্যোক্তা হওয়ার সক্ষমতা বিকাশের ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ড. ইউনূস বলেন, তরুণদের মধ্যে এমন মানসিকতা তৈরি করতে হবে, যাতে তাঁরা নিজেদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে না দেখেন। বরং অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার মতো উদ্যোক্তা হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চাকরিপ্রার্থী নই, আমরা চাকরিদাতা।’ অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস জানান, চলতি বছরের শেষ নাগাদ গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় চালু করার আশা করছেন তিনি। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। সামাজিক ব্যবসার ধারণা নিয়েও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, সামাজিক সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে পরিচালিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মুনাফা বা উদ্বৃত্ত অর্থ অর্জন করতে পারে। তবে সেই অর্থ ব্যক্তিগত সম্পদ বাড়ানোর পরিবর্তে সামাজিক সমস্যা সমাধানের কাজে পুনর্বিনিয়োগ করা উচিত। গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ড. ইউনূস জানান, ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে লাখ লাখ পরিবারের জীবনে পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে নারীদের স্বাবলম্বী হওয়া, আর্থিক নিরাপত্তা অর্জন এবং নিজেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বাড়াতে এই কার্যক্রম ভূমিকা রেখেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতাদের সন্তানেরা এখন বড় হয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করছে। এই নতুন প্রজন্মের জন্য উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অনুষ্ঠানে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনও গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, গ্রামীণ ব্যাংকের কাজ তিনি নিজে প্রত্যক্ষ করেছেন। নারীদের স্বাবলম্বী, নিরাপদ ও ক্ষমতায়িত করে তুলতে প্রতিষ্ঠানটির অবদানের কথা তুলে ধরেন তিনি। হিলারি ক্লিনটন ক্ষুদ্রঋণ ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ধারণা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ড. ইউনূসের ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্যে নারীদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলার ক্ষেত্রে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রমের গুরুত্ব উঠে আসে। ওয়াশিংটনের এই অনুষ্ঠানে সম্মাননা গ্রহণের পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক ব্যবসা এবং তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে চাপে অবসর প্রাপ্তরা, পেনশন বাড়ানোর দাবি ভার্জিনিয়ার ড্যানভিলের কর্মীদের
সাইবার হামলায় অচল হতে পারে হাসপাতাল! কম্পিউটার ছাড়াই চিকিৎসার প্রস্তুতির আহ্বান
রিফর্মেশন কাজে গ্রাহকদের ৩ লাখ ডলারের বেশি আত্মসাৎ, ঠিকাদারের ৩০ বছরের কারাদণ্ড
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২৭ সালের ফান্ড ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামে আবেদন গ্রহণ চলছে। অর্থনীতি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পিএইচডি করছেন, এমন শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে সংস্থাটির সদর দপ্তরে ১০ থেকে ১২ সপ্তাহ কাজের সুযোগ পাবেন। বেতনসহ এই কর্মসূচিতে আবেদনের শেষ সময় ৫ ডিসেম্বর ২০২৬। আবেদনকারীর সামষ্টিক অর্থনীতি বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পিএইচডি শেষ হতে এক থেকে দুই বছর বাকি থাকতে হবে। ইন্টার্নশিপ চলাকালে তাঁকে শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধিত থাকতে হবে এবং কর্মসূচি শেষে পড়াশোনায় ফিরতে হবে। ২০২৭ সালের জুনে ইন্টার্নশিপ শুরুর সময় বয়স হতে হবে ৩২ বছরের কম। পাশাপাশি ইংরেজিতে লেখা ও বলায় দক্ষতা এবং শক্তিশালী বিশ্লেষণী, পরিমাণগত ও কম্পিউটার দক্ষতা প্রয়োজন। আগে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা পুনরায় আবেদন করতে পারবেন না। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে গবেষণায় যুক্ত হবেন। আইএমএফের কর্মসূচির বিবরণ অনুযায়ী, ইন্টার্নরা তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নিজস্ব গবেষণা প্রকল্পে কাজ করেন। এতে বাস্তব অর্থনৈতিক নীতিসংক্রান্ত প্রশ্ন নিয়ে কাজ করা, গবেষণার দক্ষতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক পেশাগত যোগাযোগ গড়ে তোলার সুযোগ থাকে। অনেক ইন্টার্ন সংস্থার কর্মীদের সামনে গবেষণার ফল উপস্থাপন করেন। কারও কাজ অভ্যন্তরীণভাবে প্রকাশিতও হয়। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচিত ইন্টার্নরা বেতনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যাতায়াতের জন্য ইকোনমি শ্রেণির বিমানভাড়া এবং সীমিত চিকিৎসাবিমার সুবিধা পাবেন। যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমতির জন্য যাঁদের ভিসা প্রয়োজন, তাঁদের আবেদন সহায়তায় প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেবে আইএমএফ। তবে থাকার ব্যবস্থা ইন্টার্নদের নিজেদের করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে জীবনবৃত্তান্ত, আবেদন করার আগ্রহ ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে স্টেটমেন্ট অব ইন্টারেস্ট বা কভার লেটার এবং বর্তমান শিক্ষার্থী হওয়ার প্রমাণ জমা দিতে হবে। এ জন্য সাম্প্রতিক একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সক্রিয় শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন ও সাম্প্রতিক ফলাফলের তথ্যসংবলিত প্রত্যয়নপত্র দেওয়া যাবে। অনলাইন আবেদনের কারিগরি প্রশ্নমালাও পূরণ করতে হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের আইএমএফের আনুষ্ঠানিক নিয়োগ পোর্টালে ‘২০২৭ ফান্ড ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম, ইকোনমিস্টস’ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। অসম্পূর্ণ আবেদন বিবেচনা করা হবে না। পরবর্তী ধাপের জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়োগ দল যোগাযোগ করবে। সূত্র: প্রথম আলো
গাড়ির ওপর দিয়ে লাফাবে টেসলা! আকাশে ওড়ার প্রযুক্তি নিয়ে নতুন রোডস্টার উন্মোচন করলেন ইলন মাস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযান বাড়ায় শ্রমিক সংকটে হিউস্টনের নির্মাণশিল্প, পিছিয়ে পড়ছে বাড়ি নির্মাণ
জালিয়াতি রোধে ওবামাকেয়ারের করছাড়ে কড়াকড়ি, সুবিধা হারাতে পারেন অভিবাসীদের একাংশ
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের বেনোয়া শহরের পৌর আদালতের বিচারক আসমা আলী তাঁর সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন। মিসিসিপি কলেজ অব ল-এর ‘অর্ডার অব দ্য রোজ’ সম্মাননায় ভূষিত হওয়ার পর তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ স্বীকৃতিকে নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। আসমা আলী তাঁর বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানটির ডিন অ্যান্ডারসন এবং মিসিসিপি কলেজ অব ল-এর সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, নিজের শিক্ষাজীবন ও পেশাগত অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি পাওয়া তাঁর জন্য বিশেষ সম্মানের। প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিতে তিনি সব সময় গর্ববোধ করবেন বলেও জানান। এর আগে, ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট আসমা আলী বেনোয়া শহরের পৌর আদালতের বিচারক হিসেবে শপথ নেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী এবং ইয়েমেনি অভিবাসীদের সন্তান। প্রায় এক দশকের আইনি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই আইনজীবী ২০১৭ সালে মিসিসিপি কলেজ অব ল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি অভিবাসন আইন নিয়ে কাজ করেন এবং রিডল্যান্ডে নিজস্ব আইন পেশা পরিচালনা করেন। তাঁর বিচারক নিয়োগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়। তবে তাঁর নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্যও ছড়িয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁকে রিডল্যান্ড বা লাম্বারটনে নয়, বরং বেনোয়া শহরের পৌর আদালতে নিয়োগ দেওয়া হয়। আসমা আলী জানিয়েছেন, বিচারক হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের আইন মেনে দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর সাম্প্রতিক সম্মাননা পাওয়ার ঘটনাটি বিচারক হিসেবে নিয়োগের পর তাঁর সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে সামনে এসেছে।
ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশির পর ফোন জব্দ, পরিবারের সদস্যদের তলব
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ৩.৭ শতাংশে, বাড়ছে নিত্যপণ্য, গ্যাস ও বিদ্যুতের খরচ