যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনের সময়সূচি চূড়ান্ত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে তার জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর ৮ জুলাই একটি বিশাল শোকযাত্রা নিয়ে যাওয়া হবে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইরাকে।
সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ৯ জুলাই খামেনিকে তার জন্মস্থান মাশহাদে সমাহিত করা হবে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের এই শীর্ষ নেতা। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী মার্চ মাসেই তার দাফন কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের সংঘাত এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেই দাফন প্রক্রিয়া স্থগিত করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই দীর্ঘ শোকযাত্রা ও দাফনের নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
তেহরানের মেয়র আলিরেজা জাকানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় এই শোকযাত্রা ও দাফনের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগামী ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত কয়েক ধাপে এই জানাজা ও বিদায় অনুষ্ঠান চলবে। ৮ জুলাই ইরাকে শোকযাত্রা শেষে সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় ৯ জুলাই মাশহাদে তার চূড়ান্ত দাফন কাজ সম্পন্ন হবে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, কয়েকটি ধাপে আয়োজিত এই বিশাল শোকযাত্রায় আঞ্চলিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বেশ কিছু ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্মসূচিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
সাড়ে চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে এবার দৃশ্যপট পরিবর্তনের জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের টানা ও গভীর হামলায় রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ এস-৩০০ মিসাইলের মজুতে চরম ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই সংকটের সুযোগ নিয়ে ইউক্রেনীয় বাহিনী এখন আরও সহজে রাশিয়ার অভ্যন্তরে সফল আক্রমণ চালাতে সক্ষম হচ্ছে বলে দাবি করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। ইউক্রেনের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত শতকের ষাট ও সত্তরের দশকে তৈরি সোভিয়েত আমলের এস-৩০০ মিসাইল রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। যুদ্ধক্ষেত্রে বর্তমানে রাশিয়া এস-৩৫০, এস-৪০০ এবং প্যান্টসির-এস১-এর মতো অত্যাধুনিক ব্যবস্থা ব্যবহার করলেও এস-৩০০ মিসাইলের ওপর তাদের নির্ভরতা একেবারেই কমেনি। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের ২০২৫ সালের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই সময়ে রাশিয়ার হাতে অন্তত ৪০০টির বেশি এস-৩০০ ও এস-৪০০ ইন্টারসেপ্টর ছিল। তবে বর্তমানে এই মজুত উদ্বেগজনক হারে কমে আসছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, রাশিয়া সম্প্রতি তাদের আকাশ প্রতিরক্ষার কাজে ব্যবহৃত এস-৩০০ মিসাইলগুলোকে ইউক্রেনে আক্রমণ চালানোর জন্য ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি, ইউক্রেনের জেট ইঞ্জিনযুক্ত অত্যাধুনিক ও দ্রুতগতির ড্রোনগুলোকে ঠেকাতেও রাশিয়াকে তাদের এই মূল্যবান মিসাইলগুলোর বিশাল একটি অংশ খরচ করতে হচ্ছে। রাশিয়ার এই আকাশ প্রতিরক্ষা সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে ইউক্রেন এখন সরাসরি তাদের মিসাইল সাইটগুলোতে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করছে। ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রুশ সামরিক বিশেষজ্ঞ রব লি জানান, গত কয়েক মাসে ক্রিমিয়া, লুহানস্কসহ বিভিন্ন অধিকৃত অঞ্চলে রাশিয়ার বিপুল সংখ্যক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে কিয়েভ। পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া এই মিসাইলগুলোর প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, বিশেষ করে গাইডেন্স সিকার এবং কন্ট্রোল মডিউলের তীব্র সংকটে পড়েছে। চীন বা পশ্চিমা বাজার থেকে এসব যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে না পারায় মস্কোর পক্ষে দ্রুত এই বিপুল ঘাটতি পূরণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (জিইউআর) ভারপ্রাপ্ত প্রধান ওলেহ চোরনি সতর্ক করে বলেছেন যে, ড্রোন হামলা মোকাবিলার জন্য রাশিয়ার হাতে এখনও বেশ কিছু অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল রয়েছে। অন্যদিকে, এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইউক্রেনও নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা সংকটে ভুগছে। বিশেষ করে রুশ ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিহত করতে সক্ষম মার্কিন প্যাক-৩ ইন্টারসেপ্টরের তীব্র অভাব কিয়েভকে বেশ চিন্তায় ফেলেছে। নরওয়েজিয়ান ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রাশিয়া যেখানে বছরে ৬০০ থেকে ৮০০ ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে যাচ্ছে, সেখানে বিশ্বব্যাপী প্যাক-৩ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন গত বছর মাত্র ৬২০টি ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ করেছে। তারপরও রাশিয়ার এই মিসাইল ঘাটতির খবর যুদ্ধক্ষেত্রে কিয়েভের অবস্থানকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করেছে। সম্প্রতি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার অস্ত্র দিয়ে এই ধরনের জোরালো হামলাই মূলত যুদ্ধ বন্ধে মস্কোকে বাধ্য করার অন্যতম প্রধান উপায়।
ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে মাংসের জন্য পোষা বিড়াল পাচারকারী একটি বড় চক্রের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে দেশটির পুলিশ। কয়েক দিন ধরে চলা এই বিশেষ অভিযানে ৪শরও বেশি জীবিত বিড়াল উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পোষা প্রাণী চুরির এই চক্রটির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে ভিয়েতনামের স্থানীয় গণমাধ্যম ও প্রাণী কল্যাণ সংস্থাগুলোর বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, হো চি মিন সিটিতে সাম্প্রতিক সময়ে বিপুলসংখ্যক পোষা বিড়াল চুরির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এই আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের সন্ধান পায়। অভিযানে পুলিশ সন্দেহভাজনদের আস্তানা থেকে ৪৫টি খাঁচায় বন্দি অবস্থায় প্রায় ৪০০টি জীবিত বিড়াল উদ্ধার করে। এছাড়া বরফ ভর্তি চারটি ফোমের বাক্সে আরও প্রায় ৮০টি মৃত বিড়াল এবং অন্য একটি আস্তানা থেকে আরও ২১টি জীবিত বিড়াল জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া মোট ৫০০টিরও বেশি বিড়ালের এই ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিয়েতনামের ইতিহাসে অন্যতম বড় প্রাণী উদ্ধার অভিযান হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। পুলিশি জেরার মুখে আটককৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা গত তিন বছর ধরে হো চি মিন সিটি, তে নিন এবং আন গিয়াংসহ দক্ষিণ ভিয়েতনামের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষের পোষা বিড়াল ধরে এনে পাচার করছিল। আন্তর্জাতিক প্রাণী কল্যাণ সংস্থা 'হিউম্যান ওয়ার্ল্ড ফর অ্যানিমেলস'-এর প্রতিনিধি কারানভির কুকরেজা বলেন, এই ঘটনাটি ভিয়েতনামে বিড়ালের মাংসের ব্যবসার বিশাল এবং ভয়াবহ রূপটিকে আবারও সবার সামনে এনেছে। উদ্ধারকৃত বিড়ালগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি গর্ভবতী ছিল এবং চলতি সপ্তাহে পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থাতেই কিছু বাচ্চার জন্ম হয়েছে। উদ্ধার অভিযানের পর গত কয়েক দিনে অন্তত ৪০টি বিড়ালকে তাদের আসল মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও নির্মম পরিবেশে আটকে রাখার কারণে উদ্ধার হওয়া বিড়ালগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি ইতিমধ্যে মারা গেছে। বিড়ালগুলোর সেবায় বর্তমানে স্থানীয় পশু চিকিৎসক এবং স্বেচ্ছাসেবকরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। অনেক পরিবার তাদের হারিয়ে যাওয়া পোষা বিড়ালটিকে খুঁজতে এসে না পেয়ে চোখের জল ফেলছেন। ভিয়েতনামে কুকুর এবং বিড়ালের মাংস খাওয়া ও বিক্রি করা আইনত বৈধ হলেও বিক্রেতাদের অবশ্যই প্রাণীর উৎসের বৈধ অনুমতিপত্র থাকতে হয়। তবে ২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় কুকুরের মাংস নিষিদ্ধ হওয়ার পর ভিয়েতনাম সরকারও পোষা প্রাণীদের সুরক্ষায় আইন সংস্কারের পরিকল্পনা করছে। হো চি মিন সিটির স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, এই বড় ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে বিড়ালের মাংস খাওয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি হবে।
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে একের পর এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। এক তরুণীর বাঞ্জি জাম্পিংয়ের সময় দড়ি ছাড়া নিচে পড়ে মৃত্যুর ঠিক পরদিনই পাহাড়ি ট্রেইলে মশার স্প্রে করতে গিয়ে ১০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরেক নারী। গত রবিবার (১৪ জুন) ব্রাজিলের মারিকাহ এলাকার ‘গ্রুটাস ডো স্পার’ পাহাড়ে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিহত ওই নারীর নাম রোসমারি সুজার্ট গার্সিয়া (৫৯)। তিনি রিও ডি জেনিরোর বাসিন্দা এবং একদল পর্যটকের সাথে ওই পাহাড়ে ট্র্যাকিং করতে গিয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাহাড়ের একটি উঁচু পয়েন্টে দাঁড়িয়ে রোসমারি মশার কামড় থেকে বাঁচতে পায়ে স্প্রে করার জন্য এক পা ওপরে তোলেন। কিন্তু উঁচু ও খাড়া পাহাড়ের ওপর একক পায়ে দাঁড়াতে গিয়ে তিনি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদের দিকে পড়ে যান। দলের ট্যুর গাইড তাকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে হাত ধরলেও শেষ রক্ষা হয়নি। তীব্র টানে গাইড নিজেও পড়ে যাচ্ছিলেন, তবে শেষ মুহূর্তে একটি গাছের শিকড় ধরে তিনি নিজেকে সামলে নেন। চোখের পলকে ১০০ ফুট নিচে পাথুরে মাটিতে আছড়ে পড়েন রোসমারি। উদ্ধারকর্মীরা পাহাড়ের নিচ থেকে রোসমারির নিথর দেহ উদ্ধার করেছে। জানা গেছে, পাহাড়ে হাঁটার জন্য হেলমেট ও গ্লাভসসহ সমস্ত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম তার শরীরে ছিল। পুলিশ এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এর ঠিক আগের দিন শনিবার (১৩ জুন) ব্রাজিলের সাও পাওলোতে আরও একটি ভয়ংকর কাণ্ড ঘটে। একটি সেতু থেকে ২৩ বছর বয়সী মারিয়া এদুয়ার্দো নামের এক তরুণী বাঞ্জি জাম্পিং করতে গেলে আয়োজকরা তার পায়ে দড়ি না বেঁধেই তাকে নিচে ফেলে দেয়। ১৩০ ফুট নিচে পড়ে তাৎক্ষণিকভাবেই তার মৃত্যু হয়। পরপর দুই দিনে এমন দুটি মর্মান্তিক মৃত্যু পুরো দেশটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।