ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধ অভিবাসীদের ভর্তিতে নিষেধাজ্ঞা
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের উচ্চশিক্ষায় অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার লক্ষ্যে সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধ বা নথিপত্রহীন অভিবাসীদের ভর্তি নিষিদ্ধ করেছে স্টেট বোর্ড অব এডুকেশন। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এক ভোটাভুটিতে ৬-১ ভোটে বিতর্কিত এই নীতিটি পাস হয়। এর ফলে ফ্লোরিডার ২৮টি স্টেট কলেজ এবং প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষা কার্যক্রমগুলো অবৈধ অভিবাসীদের জন্য পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল।
অরল্যান্ডো সেন্টিনেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রস্তাবের বিপক্ষে একমাত্র ভোটটি দিয়েছেন বোর্ডের সদস্য ড্যানিয়েল ফোগানহোলি, যিনি নিজে একজন ব্রাজিলীয় অভিবাসীর সন্তান এবং প্রথম প্রজন্মের আমেরিকান। তবে বোর্ড অব এডুকেশন দাবি করেছে, ভর্তি সংক্রান্ত নতুন মাপকাঠি নির্ধারণের এই ক্ষমতা ফ্লোরিডার বিদ্যমান আইনেই তাদের দেওয়া হয়েছে।
হায়ার এড ড্রাইভের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে ফ্লোরিডার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ৫০ হাজার নথিপত্রহীন বা অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত ছিল। গত বছরই ডেফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস (ডেকা) কর্মসূচির আওতাধীন অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য ‘ইন-স্টেট টিউশন’ বা হ্রাসকৃত বেতন সুবিধা বাতিল করেছিল ফ্লোরিডা প্রশাসন।
নতুন এই নিষেধাজ্ঞার পর জনসাধারণের মতামতের অংশে অ্যালেক্স লিবারম্যান নামের এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "শিক্ষাব্যবস্থা কোনোভাবেই অভিবাসীদের নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশের হাতিয়ার হতে পারে না।" ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ভার্জিনিয়া বোল্টন একে অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে বলেন, এই পদক্ষেপ শুধু শিক্ষা বিভাগের আদর্শেরই পরিপন্থী নয়, বরং এটি মার্কিন সংবিধানেরও ঘোর বিরোধী।
অন্যদিকে, ফ্লোরিডার ডেমোক্র্যাট দলীয় স্টেট সিনেটর কার্লোস গুইলারমো স্মিথ এই নতুন নীতিকে সরাসরি ফ্লোরিডা আইনের লঙ্ঘন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, অঙ্গরাজ্যের আইনে স্টেট কলেজগুলোতে সবার জন্য ‘উন্মুক্ত দ্বার’ ভর্তি নীতি বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে, যা এই নিয়মের মাধ্যমে লঙ্ঘিত হচ্ছে। এছাড়া সংবিধানে সবার জন্য শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার যে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেটিকেও চরমভাবে অবজ্ঞা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গভর্নর রন ডিস্যান্টিস বোর্ডের এই ভোটাভুটি ও সিদ্ধান্তকে প্রকাশ্যে স্বাগত জানিয়েছেন। স্পেকট্রাম নিউজের শেয়ার করা একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, "আপনি এখানে অবৈধভাবে অবস্থান করবেন আর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করবেন, এটি কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত হতে পারে না। আমি চাই ওই আসনগুলোতে ফ্লোরিডার বৈধ বাসিন্দারাই সুযোগ পাক।"
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউ ইয়র্কে ড্রাইভার লাইসেন্স রিনিউ করতে যাচ্ছেন? শুধু পুরোনো লাইসেন্স হাতে নিয়ে ডিএমভি অফিসে যাওয়ার আগে জেনে নেওয়া জরুরি, আপনি শুধু লাইসেন্স রিনিউ করবেন, নাকি স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্স থেকে রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্সে পরিবর্তন করবেন। কারণ তিনটির নিয়ম এক নয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক না থাকলে ডিএমভিতে গিয়েও কাজ শেষ না করে ফিরে আসতে হতে পারে। নিউ ইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিক্যালসের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ ড্রাইভার লাইসেন্স মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছর আগে থেকেই রিনিউ করা যায়। এমনকি মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দুই বছরের মধ্যে রিনিউ করার সুযোগ থাকে। তবে মেয়াদ শেষ হওয়া লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালানো বৈধ নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে ফেডারেল রিয়েল আইডি ব্যবস্থায়। ২০২৫ সালের ৭ মে থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে পরিচয়পত্র হিসেবে সাধারণ স্ট্যান্ডার্ড ড্রাইভার লাইসেন্স আর গ্রহণ করছে না ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। ফলে নিউ ইয়র্কের স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালানো গেলেও সেটি একা দেখিয়ে এয়ারপোর্টের টিএসএ সিকিউরিটি চেকপয়েন্ট পার হওয়ার ওপর নির্ভর করা যাবে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্সধারীরা প্লেনে ভ্রমণই করতে পারবেন না। তাদের রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড আইডির পরিবর্তে বৈধ যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট, পাসপোর্ট কার্ড, পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট কার্ড বা টিএসএ অনুমোদিত অন্য পরিচয়পত্র ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। আপনার নিউ ইয়র্ক ড্রাইভার লাইসেন্সে যদি রিয়েল আইডির তারকা বা এনহ্যান্সড লাইসেন্সের যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার চিহ্ন না থাকে এবং সেটি স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্স হয়, তাহলে ফেডারেল পরিচয়পত্রের প্রয়োজন হয় এমন কাজে সেটি ব্যবহার করা যাবে না। যারা শুধু বর্তমান স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্স একই ধরনের লাইসেন্স হিসেবে রিনিউ করতে চান, তারা যোগ্য হলে অনলাইনে রিনিউ করতে পারেন। আগে থেকেই রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্স থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে অনলাইনে রিনিউ করা যায় এবং ডকুমেন্টের ধরন একই থাকে। কিন্তু স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্স থেকে প্রথমবার রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্সে পরিবর্তন করতে হলে ডিএমভি অফিসে সরাসরি যেতে হবে। প্রয়োজনীয় পরিচয় ও বসবাসের প্রমাণ জমা দিতে হবে এবং নতুন ছবি তোলা হবে। রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ডিএমভি আবেদনকারীর পূর্ণ বৈধ নামের প্রমাণ চায়। কোনো ডকুমেন্টে ডাকনাম, সংক্ষিপ্ত নাম বা অন্য নাম থাকলে অতিরিক্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে। বিয়ে, ডিভোর্স বা আদালতের আদেশের কারণে নাম পরিবর্তন হয়ে থাকলে আগের ও বর্তমান নামের সংযোগ প্রমাণের কাগজও সঙ্গে রাখতে হতে পারে। একই সঙ্গে নিউইয়র্কে বসবাসের দুটি গ্রহণযোগ্য প্রমাণ দিতে হয়। বর্তমান নিউইয়র্ক ঠিকানাসহ ড্রাইভার লাইসেন্স বা নন ড্রাইভার আইডি, সাম্প্রতিক ব্যাংক স্টেটমেন্ট, পে স্টাব, ইউটিলিটি বিলসহ বিভিন্ন ডকুমেন্ট গ্রহণযোগ্য হতে পারে। অধিকাংশ রেসিডেন্সি ডকুমেন্ট ডিএমভি অফিসে যাওয়ার আগের ৩৬৫ দিনের মধ্যে ইস্যু করা হতে হয় এবং পোস্ট অফিস বক্সকে আবাসিক ঠিকানা হিসেবে গ্রহণ করা হয় না। সোশ্যাল সিকিউরিটি সম্পর্কিত প্রমাণসহ ঠিক কোন ডকুমেন্ট আপনার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবে, তা আবেদনকারীর পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই শুধু সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড বা ডব্লিউ-টু সঙ্গে নিলেই সবার ডকুমেন্টের প্রয়োজনীয়তা পূরণ হবে, এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ডিএমভির ডকুমেন্ট গাইড ব্যবহার করে নিজের জন্য নির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করাই নিরাপদ। ডিএমভি এখন অনলাইন প্রি-স্ক্রিনিং সুবিধাও দিচ্ছে। রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড আইডির জন্য অফিসে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট কী কী লাগবে তা যাচাই করা যায় এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাগজপত্র আগেই রিভিউয়ের জন্য জমা দেওয়ার সুযোগও রয়েছে। এতে ভুল বা অসম্পূর্ণ ডকুমেন্ট নিয়ে অফিসে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। রিয়েল আইডির জন্য সাধারণ ট্রানজ্যাকশন ফি ছাড়া আলাদা ৩০ ডলারের কোনো চার্জ নেই। তবে এনহ্যান্সড ড্রাইভার লাইসেন্সের জন্য নিয়মিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত ৩০ ডলার দিতে হয়। এনহ্যান্সড লাইসেন্সের একটি বাড়তি সুবিধা রয়েছে। যোগ্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা কানাডা, মেক্সিকো এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের নির্দিষ্ট দেশ থেকে স্থল বা সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় এটি ব্যবহার করতে পারেন। তবে এসব দেশ থেকে আন্তর্জাতিক বিমান ভ্রমণের জন্য এনহ্যান্সড লাইসেন্স পাসপোর্টের বিকল্প নয়। নিউইয়র্কের সবচেয়ে প্রচলিত ক্লাস ডি ড্রাইভার লাইসেন্সের সাধারণ আট বছরের রিনিউ ফি ৬৪ দশমিক ৫০ ডলার। নিউইয়র্ক সিটি এবং মেট্রোপলিটন কমিউটার ট্রান্সপোর্টেশন ডিস্ট্রিক্টের অন্তর্ভুক্ত কাউন্টিগুলোতে আট বছরের লাইসেন্সের জন্য অতিরিক্ত ১৬ ডলার এমসিটিডি ফি প্রযোজ্য হওয়ায় মোট ফি ৮০ দশমিক ৫০ ডলার হতে পারে। এনহ্যান্সড লাইসেন্স নিলে এর সঙ্গে আরও ৩০ ডলার যোগ হবে। কমার্শিয়াল ক্লাস এ, বি বা সি লাইসেন্সের সাধারণ রিনিউ ফি ১৬৪ দশমিক ৫০ ডলার। এমসিটিডি এলাকায় তা ১৮০ দশমিক ৫০ ডলার হতে পারে। লাইসেন্সের শ্রেণি ও অন্যান্য পরিস্থিতির কারণে ফি ভিন্ন হতে পারে। আরেকটি বিষয় ভুলে গেলে রিনিউ আটকে যেতে পারে। নিউইয়র্কে ড্রাইভার লাইসেন্স রিনিউ করার জন্য ভিশন টেস্ট পাস করা বাধ্যতামূলক। ডিএমভি অফিসে পরীক্ষা দেওয়া যায়, আবার অনুমোদিত ভিশন প্রোভাইডারের মাধ্যমেও পরীক্ষা করানো যায়। অনলাইনে রিনিউ করলে অনুমোদিত ভিশন টেস্টের তথ্য ডিএমভিতে থাকতে হবে। ভিশন টেস্টের ফল সাধারণত ১২ মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকে। যাদের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হতে এখনো ১২ মাসের বেশি বাকি, তারাও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে আগাম রিনিউ করে রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্সে পরিবর্তন করতে পারেন। তবে আগাম রিনিউয়ের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের নতুন মেয়াদ ও মোট ফি স্বাভাবিক রিনিউয়ের তুলনায় আলাদা এবং কখনো বেশি হতে পারে। সব মিলিয়ে ডিএমভিতে যাওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নিজের বর্তমান লাইসেন্সের ধরন এবং কী ধরনের লাইসেন্স নিতে চান তা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্স নিতে চাইলে পূর্ণ বৈধ নাম, পরিচয়, বৈধ স্ট্যাটাস ও নিউইয়র্কের ঠিকানার প্রয়োজনীয় প্রমাণ আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা জরুরি। কয়েক মিনিটের প্রস্তুতি ডিএমভি অফিসে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর খালি হাতে ফিরে আসার ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারে।
মসজিদ সফরে মেয়েদের হিজাব পরতে উৎসাহ, শিক্ষার্থীদের কোরআন দেওয়ার অভিযোগে স্কুলের বিরুদ্ধে মামলা
সাত বছর বকশিশ না দিয়ে বৃদ্ধের দুর্ব্যবহার, মৃত্যুর পর ওয়েট্রেসকে দিয়ে গেলেন ৫০ হাজার ডলার ও গাড়ি
রাতে ঘুরে এসে ব্যাংক অ্যাপ খুলতেই হতবাক নারী, অ্যাকাউন্টে ৫ ঋণ ৫ হাজার কোটি ডলার!
বাংলাদেশ থেকে পদার্থবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষার পথ পাড়ি দিয়ে এবার যুক্তরাষ্ট্রে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডি করতে যাচ্ছেন ফাহমিদা আক্তার চৌধুরী ইভা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক এই শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স শেষ করার পর একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্স পিএইচডি প্রোগ্রামে সুযোগ পেয়েছেন। তার পিএইচডি পর্যায়ের মোট ফান্ডিংয়ের আর্থিক মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় দুই কোটি টাকার বেশি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার পুত্রবধূ ইভার এই অর্জন ইতোমধ্যে পরিবার ও পরিচিতজনদের মধ্যে আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। তিনি আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের তুলাই শিমুল গ্রামের ব্যবসায়ী জুলমত খাঁনের ছেলে চিকিৎসক রোমান খাঁনের স্ত্রী। বর্তমানে স্বামী-স্ত্রী দুজনই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। ইভার উচ্চশিক্ষার যাত্রা শুরু হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে। সেখান থেকে স্নাতক শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটিতে ফান্ডিং নিয়ে মাস্টার্সে ভর্তি হন। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণায়ও নিজেকে যুক্ত করেন তিনি। ইভার গবেষণায় সক্রিয় থাকার তথ্যেরও স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০২৬ সালে সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড রিসার্চ এনডেভার্স এক্সিবিশনে পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হিসেবে ‘মোসাম্মৎ ফাহমিদা আক্তার চৌধুরী ইভা’ পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড পাওয়া শিক্ষার্থীদের একজন ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা ও গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ সংশ্লিষ্ট প্রকাশনায় তার এই অর্জনের তথ্য উঠে আসে। মাস্টার্স শেষ করার পর এবার তার সামনে খুলেছে পিএইচডির দরজা। সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটির ফিজিক্স বিভাগে নিউক্লিয়ার ফিজিক্স ও নিউক্লিয়ার অ্যাস্ট্রোফিজিক্সসহ একাধিক ক্ষেত্রে গবেষণার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭ গ্র্যাজুয়েট বুলেটিন অনুযায়ী, বিভাগটিতে ফিজিক্সে পিএইচডি প্রোগ্রাম রয়েছে এবং নিউক্লিয়ার ফিজিক্স এর গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ক্ষেত্রগুলোর একটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, ফিজিক্স পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি শিক্ষার্থীর একজন অনুমোদিত ফ্যাকাল্টি মেন্টর এবং টিচিং অথবা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত থাকতে হয়। ফিজিক্স বিভাগের গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে প্রতিযোগিতামূলক স্টাইপেন্ড এবং টিউশন ওয়েভারের সুযোগ রয়েছে। ফলে এ ধরনের ফান্ডিং শুধু টিউশন খরচে সীমাবদ্ধ নয়, গবেষণা ও একাডেমিক কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্যও শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দেয়। তবে ইভার ব্যক্তিগত ফান্ডিং অফারের সুনির্দিষ্ট ডলার মূল্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশ্য তথ্য থেকে নিশ্চিত করা যায়নি। পরিবার ও স্থানীয়ভাবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পুরো পিএইচডি প্রোগ্রামে তার পাওয়া ফান্ডিংয়ের মোট মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় দুই কোটি টাকার বেশি। নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটির গবেষণা কার্যক্রমও উল্লেখযোগ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্স বিভাগে এক্সপেরিমেন্টাল নিউক্লিয়ার ফিজিক্স, নিউক্লিয়ার অ্যাস্ট্রোফিজিক্স, থিওরেটিক্যাল নিউক্লিয়ার ফিজিক্স এবং এক্সপেরিমেন্টাল অ্যাটমিক অ্যান্ড নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকরা কাজ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, পিএইচডি প্রোগ্রামটি শিক্ষার্থীদের মৌলিক ও স্বাধীন গবেষণায় দক্ষ করে তোলার জন্য তৈরি করা হয়েছে। ইভার এই পর্যায়ে পৌঁছানোর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন। ছোটবেলা থেকেই বিদেশে উচ্চশিক্ষা এবং নিউক্লিয়ার ফিজিক্স নিয়ে গবেষণা করার ইচ্ছা ছিল তার। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে শুরু থেকেই পাশে ছিলেন বাবা। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মেয়েকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়া এবং উচ্চশিক্ষার পথে উৎসাহ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাবার ভূমিকার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন ইভা। বিয়ের পরও তার উচ্চশিক্ষার পথ থেমে যায়নি। ইভার স্বামী চিকিৎসক রোমান খাঁনও তার পড়াশোনা ও গবেষণার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। সংসার ও ব্যক্তিজীবনের পাশাপাশি নিজের দীর্ঘদিনের একাডেমিক লক্ষ্য ধরে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। নিজের অর্জন সম্পর্কে ইভা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই বিদেশে উচ্চশিক্ষা এবং নিউক্লিয়ার ফিজিক্স নিয়ে গবেষণা করার স্বপ্ন ছিল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। সামনে আরও ভালো গবেষণা করার মাধ্যমে দেশের জন্য কিছু করতে চাই।’ স্ত্রীর অর্জনে গর্ব প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক রোমান খাঁন। তিনি বলেন, ‘ইভার নিজের স্বপ্ন ও লক্ষ্য সম্পর্কে শুরু থেকেই আমি জানতাম। সে যেন পড়াশোনা ও গবেষণা চালিয়ে যেতে পারে, সেটাই চেয়েছি। তার এই অর্জনে আমি অত্যন্ত গর্বিত। আশা করি ভবিষ্যতেও সে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের শ্রেণিকক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাগার পর্যন্ত ইভার এই যাত্রা এখন নতুন একটি অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডি গবেষণার মাধ্যমে নিজের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গবেষণাক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগও তৈরি হয়েছে তার।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কতা: আপনার গাড়ির নম্বর পুলিশ খুঁজেছে কি না জানবেন যেভাবে
আমেরিকায় ৫০০ ডলারে একর জমি! কিনতে পারবেন বাংলাদেশিরাও
ভার্জিনিয়ায় বাড়ছে বাংলাদেশিদের আগ্রহ, সহজেই চাকরি ও গ্রিন কার্ড
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে আগের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ গুনতে হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রস্তাবে নাগরিকত্বের আবেদনপত্র Form N-400-এর কাগজে জমা দেওয়ার ফি ৭৬০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলার করার কথা বলা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করলে বর্তমান ৭১০ ডলারের পরিবর্তে দিতে হবে ১ হাজার ২৮০ ডলার। তবে এটি এখনো কার্যকর হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) ২৩ জুন প্রস্তাবটি প্রকাশ করেছে। আগামী ২৪ আগস্ট পর্যন্ত এ বিষয়ে জনসাধারণের মতামত নেওয়া হবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কাগজে Form N-400 জমা দেওয়ার ফি ৭৬০ থেকে বেড়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলার হলে আবেদনকারীর খরচ বাড়বে ৫৭০ ডলার বা প্রায় ৭৫ শতাংশ। অনলাইনে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ৭১০ থেকে ১ হাজার ২৮০ ডলারে বেড়ে প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। এখানে বিষয়টি পাসপোর্টের আবেদন ফি নিয়ে নয়। Form N-400 হলো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদনপত্র। নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পর একজন ব্যক্তি মার্কিন পাসপোর্টের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে পারেন। ফলে নতুন প্রস্তাবটি সরাসরি পাসপোর্টের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নয়। শুধু মূল নাগরিকত্বের আবেদন নয়, আবেদন প্রত্যাখ্যানের পর শুনানির অনুরোধ করার Form N-336-এর ফিও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কাগজে এই ফি ৮৩০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৪৭৫ ডলার এবং অনলাইনে ৭৮০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৪২৫ ডলার হতে পারে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে কম আয়ের আবেদনকারীদের ওপর। বর্তমানে নির্দিষ্ট আয়সীমার মধ্যে থাকা যোগ্য আবেদনকারীরা ৩৮০ ডলারের কম ফিতে Form N-400 জমা দিতে পারেন। নতুন প্রস্তাবে এই কম ফি ব্যবস্থাটি বাতিল করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে N-400 ও N-336-এর জন্য বর্তমানে থাকা ফি মওকুফের ব্যবস্থাও তুলে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে সামরিক বাহিনীর নির্দিষ্ট বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব আবেদনের ফি থেকে অব্যাহতি বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের যুক্তি, নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়ার প্রকৃত ব্যয় মেটানোর জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকেই পুরো খরচ নেওয়া হলে ইউএসসিআইএসের আর্থিক কাঠামো আরও টেকসই হবে। সংস্থাটি ফি থেকে প্রাপ্ত অর্থের ওপর নির্ভর করেই মূলত তার কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের কাছ থেকে প্রক্রিয়াকরণের প্রকৃত ব্যয়ের কাছাকাছি অর্থ নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। সরকারের নথিতে আরও বলা হয়েছে, কম ফি ও ফি মওকুফের আবেদন আলাদাভাবে যাচাই করতে ইউএসসিআইএসের অতিরিক্ত প্রশাসনিক সময় ও সম্পদ ব্যয় হয়। এসব ব্যবস্থা বাদ দিলে আবেদন গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণ সহজ হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, অভিবাসন অধিকারকর্মী ও নাগরিকত্ব নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো প্রস্তাবটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, কয়েকশ ডলার অতিরিক্ত খরচ এবং কম আয়ের মানুষের জন্য ছাড়ের সুযোগ কমে গেলে অনেক যোগ্য গ্রিন কার্ডধারীর জন্য নাগরিকত্বের আবেদন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। ভার্জিনিয়ায় নাগরিকত্বের আবেদন প্রস্তুতিতে সহায়তা করা রেবেকা থমাস স্থানীয় এনবিসি অ্যাফিলিয়েট WVIR-কে বলেন, তার শিক্ষার্থীদের অনেকের পক্ষেই প্রস্তাবিত বাড়তি ফি বহন করা সম্ভব নাও হতে পারে। বর্তমানে Form N-400-এর সাধারণ ফি কাগজে ৭৬০ ডলার এবং অনলাইনে ৭১০ ডলার। কম আয়ের যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য ৩৮০ ডলারের বিকল্প এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ফি মওকুফের ব্যবস্থাও রয়েছে। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে নাগরিকত্বের আবেদন করতে যাওয়া অনেক অভিবাসীর জন্য আর্থিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর নাগরিকত্ব নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য আবেদন করার সময় ও সম্ভাব্য খরচ নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা করতে হতে পারে। তবে এখনই বাড়তি টাকা দেওয়ার নিয়ম চালু হচ্ছে না। প্রস্তাবটি বর্তমানে জনমত পর্যায়ে রয়েছে এবং ২৪ আগস্টের পর সরকার প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
বিশ্বসেরা বার্কলেতেও শেখাতে হচ্ছে ভগ্নাংশ! কলেজে পড়া শিক্ষার্থীদের গণিতের ঘাটতি, হতাশায় প্রফেসর
নিউ জার্সির সৈকতে মিলল ৩৬ লাখ বছরের পুরোনো মেগালোডন হাঙরের বিশাল দাঁত