ক্যানসারের রোগী সেজে ২০০ জনের বেশি মানুষের কাছ থেকে ৪০ হাজার ডলার হাতিয়ে নিলেন ফ্লোরিডার এক নারী
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ভুয়া গল্প সাজিয়ে ২০০ জনের বেশি মানুষের কাছ থেকে ৪০ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অনুদান হিসেবে পাওয়া এই অর্থ তিনি চিকিৎসার জন্য নয়, ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করেছেন।
ফ্লোরিডার কলিয়ার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (CCSO) জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম মারিবেথ এলেন জোনস (৫১)। তিনি বোনিটা স্প্রিংসের বাসিন্দা এবং একটি আবাসিক কমিউনিটিতে কার্যক্রম পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।
তদন্তে জানা গেছে, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তিনি বাসিন্দাদের কাছে দাবি করেন যে তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে তিনি নিজের চুল কেটে ফেলেন, যাতে দেখে মনে হয় তিনি কেমোথেরাপির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের শারীরিক অবস্থাও আরও খারাপ হচ্ছে বলে বিভিন্ন মানুষকে জানাতেন।
তার এই দাবিতে সহানুভূতিশীল হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তার জন্য একটি গুফান্ডমি (GoFundMe) তহবিল সংগ্রহ অভিযান চালু করেন। ওই অনলাইন তহবিলের অর্থ সরাসরি তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে জমা হতো। এর বাইরে অনেকেই তাকে নগদ অর্থ ও ব্যক্তিগত চেকের মাধ্যমেও আর্থিক সহায়তা দেন।
তদন্তে আরও বেরিয়ে আসে, এটিই প্রথম নয়। এর আগেও ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার একই দাবি করে অন্তত দুটি পৃথক গুফান্ডমি প্রচারণার সুবিধাভোগী ছিলেন তিনি।
তদন্তকারীদের ভাষ্য, চিকিৎসা ব্যয়ের নামে সংগ্রহ করা অর্থের কোনো অংশই ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়নি। বরং তিনি ব্যক্তিগত ঋণ ও অন্যান্য দেনা পরিশোধে সেই অর্থ ব্যয় করেছেন।
কলিয়ার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এভাবে নেপলস এলাকার অন্তত ২৩৮ জন বাসিন্দার কাছ থেকে ৪০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তদন্ত শেষে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে চলতি সপ্তাহে মারিবেথ এলেন জোনস নিজেই নেপলস জেল সেন্টারে আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলারের মধ্যে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গুরুতর চুরির (গ্র্যান্ড থেফট) মামলা করা হয়েছে, যা ফ্লোরিডা আইনে দ্বিতীয় ডিগ্রির গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে তিনি আইনজীবী নিয়োগ করেছেন কি না বা আদালতে তার প্রথম শুনানি কবে হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
কলিয়ার কাউন্টির শেরিফ কেভিন রামবস্ক বলেন, "এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় একটি ঘটনা। কারণ মানুষ আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করেছিল, একজন জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে থাকা মানুষকে তারা সাহায্য করছে। সেই মানবিকতাকেই কাজে লাগিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "এ ধরনের প্রতারণা শুধু আর্থিক ক্ষতিই করে না, প্রকৃত অসুস্থ মানুষের জন্য পরিচালিত বৈধ তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রমের ওপরও মানুষের আস্থা নষ্ট করে।"
এদিকে অনলাইন তহবিল সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান গুফান্ডমি জানিয়েছে, তাদের প্ল্যাটফর্মে প্রতারণার কোনো স্থান নেই। মারিবেথ জোনসের নামে পরিচালিত সব তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তার নামে কোনো তহবিল সংগ্রহের সুযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, তাদের 'গিভিং গ্যারান্টি' কর্মসূচির আওতায় অনুদানদাতাদের ৪১ হাজার ডলারের বেশি অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনার পর অনলাইনে অনুদান দেওয়ার আগে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কলিয়ার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়। কর্তৃপক্ষ বলছে, অনুদান দেওয়ার আগে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা, আয়োজকের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সম্ভব হলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, হাসপাতাল বা নিবন্ধিত দাতব্য প্রতিষ্ঠানে অর্থ দেওয়াই নিরাপদ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে স্কুলের শিক্ষা সফরে গিয়ে পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে ১০ বছরের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আহমেদ ওসমান ও তার ২৪ বছর বয়সী শিক্ষিকা হান্নাহ জর্গেনসেন। মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, আইওয়া সিটির বরলগ এলিমেন্টারি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ‘স্কুল অব দ্য ওয়াইল্ড’ শিক্ষা সফরের সময় ম্যাকব্রাইড নেচার রিক্রিয়েশন এরিয়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। জনসন কাউন্টি শেরিফের অফিস জানায়, দুপুরের দিকে কোরালভিল রিজার্ভয়ার ও লেক ম্যাকব্রাইডের স্পিলওয়ে এলাকার পানিতে লোকজন থাকার খবর পেয়ে জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটের দিকে একজন প্রাপ্তবয়স্ককে পানি থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে বরলগ এলিমেন্টারির পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষক হান্নাহ জর্গেনসেন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এরপর পানিতে নিখোঁজ থাকা ১০ বছরের শিক্ষার্থী আহমেদ ওসমানকে খুঁজতে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তল্লাশি চালানোর পর অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পরদিন বুধবার আবার উদ্ধার অভিযান শুরু হলে দুপুর ১টা ২৪ মিনিটের দিকে কোরালভিল রিজার্ভয়ার থেকে আহমেদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শেরিফের অফিস জানায়, আহমেদ আইওয়া সিটির বাসিন্দা ছিল। ঘটনার সঠিক কারণ কী এবং কীভাবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী পানিতে পড়ে গেলেন, তা এখনো তদন্তাধীন। জনসন কাউন্টি শেরিফের অফিসের প্রকাশিত তথ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে আহমেদের বাবা মোহাম্মদ ওসমান নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, তার ছেলে পানিতে পড়ে যাওয়ার পর হান্নাহ তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, আহমেদকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়েই হান্নাহ পানিতে পড়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত দুজনই মারা যান। এই বিবরণটি পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে; কর্তৃপক্ষ এখনো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। হান্নাহ জর্গেনসেন বরলগ এলিমেন্টারিতে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি গার্নার এলিমেন্টারিতে প্যারাএডুকেটর হিসেবে কাজ করেছেন এবং সেখানে প্র্যাকটিকাম ও স্টুডেন্ট টিচিংও সম্পন্ন করেছিলেন। গার্নার এলিমেন্টারির পক্ষ থেকে তাকে শিক্ষার্থীদের প্রতি যত্নশীল ও নিবেদিত শিক্ষক হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে। আহমেদের মৃত্যুতে আইওয়া সিটির বাংলাদেশি ও সুদানি কমিউনিটিতেও শোক নেমে এসেছে। ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে স্মরণ করে একটি ভিজিলের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে আহমেদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। স্বজন ও পরিচিতরা তাকে হাসিখুশি, ভদ্র ও বুদ্ধিমান শিশু হিসেবে স্মরণ করেন। তারা জানান, আহমেদ ফুটবল খেলতে ভালোবাসত। এদিকে ঘটনার পর আইওয়া সিটি কমিউনিটি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ‘স্কুল অব দ্য ওয়াইল্ড’ কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরবর্তী শিক্ষা সফরগুলো বাতিল করেছে। শিক্ষার্থী ও স্কুল স্টাফদের জন্য কাউন্সেলর এবং অতিরিক্ত সাপোর্ট স্টাফের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এই দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযানে জনসন কাউন্টি মেট্রো ডাইভ টিম, স্থানীয় ফায়ার ও পুলিশ বিভাগ, আইওয়া ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেস, আইওয়া স্টেট প্যাট্রোল, ইউএস আর্মি কর্পস অব ইঞ্জিনিয়ার্সসহ একাধিক সংস্থা অংশ নেয়। ঘটনাটির তদন্ত এখনো জনসন কাউন্টি শেরিফের অফিসের নেতৃত্বে চলছে।
২৫ কোটি ডলারের মামলায় আইফোন ক্রেতাদের ক্ষতিপূরণের আবেদন শুরু, জানুন বিস্তারিত
ম্যানহোলে ঢুকে সোনা-দামি জিনিস খোঁজার অভিযোগ, নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার কুইন্সের দুই ব্যক্তি
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের নিয়ম সীমিত ও ডিভি লটারিতে বড় পরিবর্তন চেয়ে সিনেটে নতুন বিল
যুক্তরাষ্ট্রে আরোপিত আমদানি শুল্ক বাবদ দেওয়া অর্থের ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ফেরত পেয়েছে খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কস্টকো। বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত আর্থিক ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটি এ তথ্য জানিয়েছে। কস্টকোর ভাষ্য, ফেরত পাওয়া অর্থের একটি অংশ দিয়ে ইতিমধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয়সহ বিভিন্ন পণ্যের দাম কমানো হয়েছে। কস্টকোর কর্মকর্তারা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় জানান, ফেরত পাওয়া অর্থের মধ্যে ১৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার শুল্কের টাকা এবং ১ কোটি ডলার সুদ। প্রতিষ্ঠানটি আরও অর্থ ফেরত পাওয়ার আশা করছে। ভবিষ্যতে পাওয়া অর্থের বেশির ভাগও সদস্য ক্রেতাদের জন্য পণ্যের দাম কমানোসহ অন্যান্য সুবিধায় ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তারা জানান। কস্টকোর প্রধান নির্বাহী রন ভ্যাকরিস বলেন, গত প্রান্তিকের শেষ ভাগে ফলমূল ও শাকসবজি, মাংস এবং পানীয়সহ দৈনন্দিন কেনাকাটার বেশ কিছু পণ্যের দাম কমানো হয়েছে। ঘরের আসবাব ও হার্ডওয়্যারের কিছু পণ্যের দামও কমেছে। তবে শুল্ক ফেরতের অর্থ থেকে কোনো ক্রেতাকে সরাসরি টাকা দেওয়ার ঘোষণা প্রতিষ্ঠানটি দেয়নি। ২০২৫ সালে জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, ওই আইনে প্রেসিডেন্টকে এভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। এরপর আদায় করা শুল্কের অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হয়। কস্টকোর প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ৩০ আগস্ট শেষ হওয়া ১৬ সপ্তাহের প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির পণ্য বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৯ হাজার ৩৯০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এ সময়ে নিট মুনাফা হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, শুল্ক ফেরতের অর্থের একটি অংশ ক্রেতাদের সুবিধায় ব্যয় করার পরও তা প্রান্তিকের মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কস্টকোর সদস্যদের জন্য এর বাস্তব অর্থ হলো নির্বাচিত পণ্যে কম দাম। কোন পণ্যের দাম কতটা কমবে, তা পণ্যভেদে নির্ভর করবে; সব কেনাকাটায় সমান ছাড় বা আগের কেনাকাটার বিপরীতে নগদ ফেরত দেওয়ার কথা প্রতিষ্ঠানটি জানায়নি।
'বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত' ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের আহ্বান তারেক রহমানের
শিশুদের আসক্তির অভিযোগে আলাবামায় টিকটকের ১০ কোটি ডলারের সমঝোতা
ট্রাম্পের এয়ার ফোর্স ওয়ান সফরে সিএনএনকে জায়গা দিল না হোয়াইট হাউস
হরমুজ প্রণালিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্ট করা মানচিত্রের জবাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করে পাল্টা মানচিত্র প্রকাশ করেছে ইরানের একটি সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট। ১৮ আগস্ট প্রকাশিত ওই পোস্টে ক্যালিফোর্নিয়াকে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নতুন ভূখণ্ড’ বলে উল্লেখ করা হয়। ১৮ আগস্ট ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। ছবিতে প্রণালিটির ওপর ‘NEW U.S. Territory’ লেখা ছিল। পরে হোয়াইট হাউসের সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টেও ট্রাম্পের পোস্টটি শেয়ার করা হয়। এর জবাবে ‘Iran in Hyderabad’ নামে ইরানের সরকারি অ্যাকাউন্ট যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্র প্রকাশ করে, যেখানে ক্যালিফোর্নিয়াকে নীল রঙে আলাদা করে দেখানো হয়। ছবির ওপর লেখা ছিল, ‘NEW TERRITORY OF ISLAMIC REPUBLIC OF IRAN’। পোস্টটির ভাষা ও সময় বিবেচনায় এটি ট্রাম্পের হরমুজ-সংক্রান্ত মানচিত্রের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছিল; ক্যালিফোর্নিয়া নিয়ে ইরানের আনুষ্ঠানিক ভূখণ্ড দাবি হিসেবে এটিকে উপস্থাপন করা হয়নি। এর কয়েক দিন আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন। ১৮ আগস্ট তিনি ওই বক্তব্যের পরই মানচিত্রটি প্রকাশ করেন। ট্রাম্পের পোস্টের জবাবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও সেখানে নৌ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই দুই পক্ষের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি মানচিত্র প্রকাশের ঘটনা ঘটে।
স্বামীকে বি ষ মিশিয়ে হ ত্যা! শিশুদের সঙ্গে শোক সামলানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছিলেন বই
বাংলাদেশি লাইসেন্সে যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানো যাবে? স্টেটভেদে জেনে নিন নিয়ম