জালিয়াত

ফ্লোরিডায় কথিত ৯৫.৬ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক জালিয়াতির মামলায় অভিযুক্ত একই পরিবারের সদস্য। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় এক সপ্তাহে ১৭০ ঘণ্টা কাজ দেখিয়ে ধরা পড়ল ৯৬ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি, অভিযুক্ত একই পরিবারের ৬ জন

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে একটি ছোট প্যারালিগ্যাল অফিসকে কেন্দ্র করে পরিচালিত ৯৫.৬ মিলিয়ন ডলারের কথিত নির্মাণ-খাতের জালিয়াতি ও অর্থপাচার চক্রের অভিযোগে একই পরিবারের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের একজন এক সপ্তাহে ১৭০ ঘণ্টা কাজ করার তথ্য দেখিয়েছিলেন, যদিও একটি সপ্তাহে মোট সময়ই ১৬৮ ঘণ্টা। এই অসঙ্গতিসহ একাধিক প্রমাণ থেকেই তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউপিবিএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাউথ মিলিটারি ট্রেইলে অবস্থিত ‘এমএলএস প্যারালিগ্যাল সার্ভিসেস’ নামের একটি অফিসকে কেন্দ্র করে ১০টি ভুয়া নির্মাণ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শ্রমিকদের বেতন প্রক্রিয়াকরণ, শ্রমিক ক্ষতিপূরণ (Workers’ Compensation) বীমার জাল সনদ ব্যবহার এবং লাইসেন্স ছাড়া চেক নগদায়নের মাধ্যমে বড় পরিসরে আর্থিক জালিয়াতি চালানো হতো।   তদন্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এই চক্রের মাধ্যমে ৯৫ কোটি ৬৬ লাখ ৪৪ হাজার ৪৫১ ডলারেরও বেশি মূল্যের পে-রোল চেক প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া বীমা আবেদন করে সংগৃহীত সনদপত্র বীমাবিহীন ঠিকাদারদের কাছে ভাড়া দেওয়া হতো, যাতে তারা শ্রমিক ক্ষতিপূরণ বীমার নিয়ম এড়িয়ে কাজ চালিয়ে যেতে পারে।     তদন্তে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা একপর্যায়ে নিজেদের নজরদারিতে রয়েছে বলে সন্দেহ করেন। তারা একটি অচিহ্নিত গাড়িকে ঘিরে ৯১১ নম্বরে ফোন করেন। পরে জানা যায়, গাড়িটিতে থাকা ব্যক্তিরাই ছিলেন গোপন অভিযানে থাকা তদন্তকারী কর্মকর্তা। ওই ঘটনাই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দেয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।     মামলাটি যৌথভাবে তদন্ত করেছে পাম বিচ কাউন্টি শেরিফের অফিস এবং ব্রাওয়ার্ড শেরিফের অফিসের মানি লন্ডারিং টাস্কফোর্স। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থপাচার, বীমা জালিয়াতি ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
মিয়ামি স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার ম্যাচ, জাল টিকিট কাণ্ডে আটক ৮ দর্শক

মিয়ামি স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের মধ্যকার ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালীন আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে মিয়ামি-ডেইড শেরিফ অফিস এবং মিয়ামি পুলিশ। শুক্রবারের এই ঘটনায় আটকদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে স্টেডিয়ামে প্রবেশ, জালিয়াতি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   মিয়ামি-ডেইড শেরিফ অফিসের তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে একটি ক্রীড়া ইভেন্টে বেআইনিভাবে বাধা সৃষ্টির মতো গুরুতর (ফেলোনি) অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সুইটওয়াটারের বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সী ডেলফিনা দেগুই স্টেডিয়ামের গেট খোলার আগেই অন্যের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভেতরে প্রবেশের কথা স্বীকার করেছেন।   অন্যদিকে, জেফারসন হনোরিও দা সিলভা (৪১) নামের এক ব্যক্তি জাল টিকিট নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন। প্রথমবার ব্যর্থ হয়ে তিনি আবারও ফিরে আসেন এবং একটি গেট জোরপূর্বক খুলে সংরক্ষিত এলাকায় ঢুকে পড়েন। পরে নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।   বিনা টিকিটে নিরাপত্তাবেষ্টনী ফাঁকি দিয়ে স্টেডিয়ামে ঢুকে পড়েছিলেন মিয়ামি বিচ এলাকার ২১ বছর বয়সী বাসিন্দা হুয়ান ক্যাপোটে গার্সিয়া। একটি বাথরুম থেকে বের হওয়ার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া নিউইয়র্ক থেকে খেলা দেখতে আসা নিকোলাস পিনো এবং হুলিয়ান দাউদ নামের আরও দুই সমর্থককে তিন স্তরের কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনী পার হওয়ার পর আটকে দেয় পুলিশ।   এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আরেক ব্যক্তি, ৩৫ বছর বয়সী নিকোলাস রিকের বিরুদ্ধে দুটি লঘু অপরাধের (মিসডিমিনার) অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিশৃঙ্খল আচরণের জন্য তাকে প্রথমে স্টেডিয়াম থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজে বাধা দিলে এবং বিরূপ আচরণ করলে শেষ পর্যন্ত তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৪, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডায় ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি মেডিকেয়ার জালিয়াতি। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি মেডিকেয়ার জালিয়াতি, আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মেডিকেয়ার ও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের জালিয়াতির অভিযোগে ১২ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মেডিকেয়ার, মেডিকেইড, ফেডারেল কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সুবিধা কর্মসূচি (এফইএইচবিপি) এবং বিভিন্ন বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠানকে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের ভুয়া দাবি দাখিলের অভিযোগ আনা হয়েছে।   ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেসন এ. রেডিং কিনিওনেস এক বিবৃতিতে জানান, মামলাগুলো বিচার বিভাগের ২০২৬ সালের ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার ফ্রড টেকডাউন অভিযানের অংশ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে এমন একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণার চিত্র উঠে এসেছে, যেখানে চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজন ছিল না—এমন চিকিৎসাসামগ্রী, ক্ষত চিকিৎসার বিশেষ পণ্য, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং কমিউনিটি মানসিক স্বাস্থ্যসেবার নামে ৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের ভুয়া বিল বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিতে জমা দেওয়া হয়েছে।   অভিযোগে বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের নামে এমন চিকিৎসা ও পরীক্ষার বিল করা হয়েছে, যা বাস্তবে তারা গ্রহণ করেননি। আবার কোথাও রোগী ও বিপণনকারীদের অবৈধ আর্থিক সুবিধা বা কমিশন দিয়ে এসব ভুয়া দাবি দাখিল করা হয়েছে। এর ফলে সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচির বিপুল অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি প্রকৃত রোগীদের জন্য বরাদ্দ সম্পদের ওপরও চাপ সৃষ্টি হয়েছে।   বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তদন্তে এই প্রতারণার কিছু অংশে আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠে এসেছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, প্রতারণার নেটওয়ার্কের কিছু কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের ব্যক্তি বা সংগঠনের মাধ্যমে পরিচালিত অথবা সমন্বিত হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে কোন দেশ বা কোন আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এতে জড়িত, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   কর্তৃপক্ষ বলছে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে এ ধরনের সংঘবদ্ধ জালিয়াতি শুধু সরকারি অর্থের ক্ষতিই করে না, বরং রোগীদের নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করে। চিকিৎসাগতভাবে অপ্রয়োজনীয় পণ্য বা সেবা রোগীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া, ভুয়া পরীক্ষার বিল করা এবং স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির অর্থ অপব্যবহার—এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিচার বিভাগ।   ডিওজে জানিয়েছে, ফ্লোরিডার এই মামলাগুলো দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি দমন অভিযানের অংশ। তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং নতুন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আরও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।   এদিকে মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সুবিধাভোগীদের নিজেদের স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিল, দাবি এবং নোটিশ নিয়মিত যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কোনো চিকিৎসা বা সেবার বিল নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
মেডিকেয়ারে জালিয়াতির টাকায় সমুদ্রসৈকত রিসোর্ট, ফেরারি ও হীরার গহনা; অভিযুক্ত নার্স প্র্যাকটিশনার

যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার কর্মসূচিতে শত শত মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির অভিযোগে এক নার্স প্র্যাকটিশনারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করেছে দেশটির বিচার বিভাগ (DOJ)। অভিযোগে বলা হয়েছে, চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজন ছিল না এমন ক্ষত চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত অ্যালোগ্রাফট (Allograft) প্রয়োগ করে তিনি মেডিকেয়ারের কাছে বিপুল অঙ্কের ভুয়া বিল জমা দেন এবং সেই অর্থে বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন।   বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে দায়ের করা মামলায় ওই নার্স প্র্যাকটিশনারের বিরুদ্ধে ৯০৬ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিটি রোগীর নামে গড়ে ১০ লাখ ডলারেরও বেশি বিল মেডিকেয়ারের কাছে জমা দেওয়া হয়, যদিও এসব অ্যালোগ্রাফট চিকিৎসার কোনো চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছিল না।   তদন্তে আরও জানা গেছে, জালিয়াতির অর্থ দিয়ে অভিযুক্ত ফিলিপাইনে ৪.৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি সমুদ্রসৈকত রিসোর্ট নির্মাণ করেন। এছাড়া তিনি বিলাসবহুল গাড়ি, মূল্যবান স্থাবর সম্পত্তি এবং দামি গয়না কেনেন।   তদন্তের অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ ৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে। এছাড়া ৫৯৪ হাজার ডলার মূল্যের একটি Ferrari 296 GTS, আরও সাতটি বিলাসবহুল গাড়ি, ৮৬৫ হাজার ডলার মূল্যের একটি কাস্টম Bulgari হীরার নেকলেস এবং প্রায় ১০ লাখ ডলার মূল্যের অন্যান্য বিলাসবহুল গহনাও জব্দ করা হয়েছে।   একই সময়ে ফ্লোরিডার মিডল ডিস্ট্রিক্টে আরও তিনজনের বিরুদ্ধে ১১৮ মিলিয়ন ডলারের পৃথক একটি অ্যালোগ্রাফট জালিয়াতির মামলা করা হয়েছে। সেখানে এক নার্স প্র্যাকটিশনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি প্রতারণার অর্থ দিয়ে একটি এনএফএল স্টেডিয়ামের বিলাসবহুল স্যুট ভাড়া নেন এবং ৪ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের শিল্পকর্ম সংগ্রহ করেন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি দমন ইউনিটের ডেটা অ্যানালিটিক্স টিম অ্যালোগ্রাফটের জন্য মেডিকেয়ার থেকে অস্বাভাবিক হারে অর্থ পরিশোধের প্রবণতা শনাক্ত করার পর এই তদন্ত শুরু হয়।   এদিকে, Centers for Medicare & Medicaid Services (CMS) ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অ্যালোগ্রাফটের জন্য মেডিকেয়ারের পরিশোধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে প্রতি বর্গসেন্টিমিটারে ১২৭ ডলার নির্ধারণ করেছে। সংস্থাটির মতে, এই পদক্ষেপ না নিলে শুধু অ্যালোগ্রাফট খাতের অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীর মাসিক পার্ট-বি প্রিমিয়াম গড়ে ১১ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারত।   বিচার বিভাগ বলেছে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতির পরিকল্পনাকারীদের পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব ও শপথ ভঙ্গ করে যারা এ ধরনের অপরাধে জড়িত হন, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ l ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষা অনুদানে জালিয়াতি ঠেকিয়ে ২০০ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয়ের দাবি ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ (ইডি) জানিয়েছে, গত ২৭ এপ্রিল থেকে কঠোর পরিচয়-যাচাইকরণ বা আইডেন্টিটি ভেরিফিকেশনের নতুন নিয়ম চালু করার পর থেকে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার প্রতারকদের হাতে যাওয়া থেকে রক্ষা করা হয়েছে। দেশব্যাপী জালিয়াতি প্রতিরোধের এই উদ্যোগে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ আবেদনকারীদের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড বা সরকারি শিক্ষার্থী সহায়তার জন্য আবেদনের সময় সরকার-প্রদত্ত পরিচয়পত্র প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।   শিক্ষা বিভাগের ডেপুটি আন্ডার সেক্রেটারি এবং ভারপ্রাপ্ত ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড চিফ অপারেটিং অফিসার জেমস বার্জারন ফক্স নিউজ ডিজিটালকে জানান, নিয়মটি চালু করার পর থেকে তারা প্রতারকদের হাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ যাওয়া ঠেকাতে পেরেছেন। তিনি আরও বলেন, তাদের নতুন জালিয়াতি শনাক্তকরণ টুলটি 'ফাফসা' (FAFSA - ফ্রি অ্যাপ্লিকেশন ফর ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড) ফর্মের শুরুতেই কাজ করে। এটি অর্থ ছাড় হওয়ার আগেই প্রক্রিয়ার শুরুতেই জালিয়াতি আটকে দেয়, যা টাস্কফোর্সের একটি বড় অগ্রাধিকার।   চলতি বসন্তে শিক্ষা বিভাগ সরাসরি অনলাইন ফাফসা অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেমে রিয়েল-টাইম এবং ঝুঁকি-ভিত্তিক পরিচয় স্ক্রিনিং ব্যবস্থা যুক্ত করেছে। এর আগে বিভাগের এক ঘোষণায় বলা হয়, জালিয়াতি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এখন সরাসরি ফাফসার ভেতরেই তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি আবেদনকারীকে রিয়েল-টাইমে ঝুঁকি-ভিত্তিক পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে।   যেসব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে জালিয়াতির ঝুঁকি দেখা যাবে, তাদের পেল গ্রান্ট এবং ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের মতো সহায়তা পাওয়ার আগে সরকার-প্রদত্ত পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ধারণা, এই টুলটি বর্তমান ফাফসা চক্রের সময় করদাতাদের ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ সাশ্রয় করবে। বিভাগের মতে, এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালীন সময়ের একটি প্রয়োজনীয় সংশোধন।   সেসময় পূর্ববর্তী বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসন যাচাইকরণের মূল নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো শিথিল করেছিল। বিভাগের দাবি, পূর্ববর্তী ওই নীতিমালার কারণে জালিয়াতি প্রতিরোধের বদলে অন্যান্য দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে ফাফসা জমা দেওয়ার পরে মাত্র ১ শতাংশেরও কম শিক্ষার্থীর পরিচয় যাচাই করা হতো।   নতুন এই উন্নত জালিয়াতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আধুনিক ও জটিল সব প্রতারণা রুখতে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। এটি মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত বট এবং করদাতাদের অর্থে পরিচালিত ঋণ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য অসাধু চক্রের তৈরি করা ভুয়া পরিচয় বা 'ঘোস্ট স্টুডেন্টদের' অবরুদ্ধ করে। এই সমস্যা মোকাবিলায় শিক্ষামন্ত্রী লিন্ডা ম্যাকম্যাহন সমস্ত শিক্ষার্থী সহায়তা কর্মসূচির একটি ব্যাপক পর্যালোচনার নির্দেশ দেন এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন বা সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সাথে রিয়েল-টাইম ডেটা-শেয়ারিং ব্যবস্থা সম্প্রসারিত করেন। শুধুমাত্র এই ডেটা-শেয়ারিং উদ্যোগটির মাধ্যমেই মৃত ব্যক্তিদের নামে অর্থ ছাড় রোধ করে এবং পরিচয় চুরি ধরে করদাতাদের প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।   বার্জারন বিষয়টি সম্পর্কে আরও বলেন, আমেরিকান নাগরিকদের গাড়ি চালানো বা বিমানে ওঠার জন্য আইডি দেখাতে হয়। তাই উচ্চশিক্ষার জন্য করদাতাদের দেওয়া হাজার হাজার ডলারের সহায়তা পাওয়ার আগে মানুষের পরিচয় যাচাই করাটাই যৌক্তিক।   নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে শিক্ষা বিভাগ মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সাথেও অংশীদারিত্ব করেছে, যাতে ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের তহবিল কোনোভাবেই অবৈধ অভিবাসীদের হাতে না পৌঁছায়। সংস্থার তথ্যমতে, ক্যালিফোর্নিয়ায় সবচেয়ে বেশি জালিয়াতির চেষ্টা হয়েছে এবং শুধু সেখান থেকেই আটকে দেওয়া তহবিলের পরিমাণ ছিল ১৭১ মিলিয়ন ডলার।   ঐতিহাসিকভাবে ক্যালিফোর্নিয়া কমিউনিটি কলেজ সিস্টেমের অভ্যন্তরে ঘোস্ট স্টুডেন্টদের কারণে ফেডারেল এবং স্টেট এইডের লাখ লাখ ডলার বেহাত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও সেখানে আশঙ্কাজনক হারে পরিচয় জালিয়াতির ঘটনা দেখা গেছে। প্রাথমিক আবেদন যাচাইকরণের পাশাপাশি, শিক্ষা বিভাগ বিভিন্ন বাহ্যিক ডিজিটাল প্রতারণামূলক ওয়েবসাইটগুলোর দিকেও কড়া নজর রাখছে। বিভাগটি সম্প্রতি আপডেট করা অনলাইন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে 'ভুয়া কলেজ ওয়েবসাইটগুলো' সম্পর্কে পরিবারগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। এই সাইটগুলো মূলত এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট ব্যবহার করে নিরীহ শিক্ষার্থীদের আর্থিক প্রতারণার ফাঁদে ফেলে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
৪০ লাখ ডলারের মেডিক্যাইড জালিয়াতি l ছবি: সংগৃহীত
জর্জিয়ায় ৪০ লাখ ডলারের মেডিক্যাইড জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত আটলান্টার চিকিৎসক

যুক্তরাষ্ট্রের দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি বিরোধী এক বিশাল অভিযানের অংশ হিসেবে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে নতুন করে মেডিক্যাইড প্রতারণার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। মঙ্গলবার জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস কার আটলান্টার এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে অভিযোগ গঠন এবং একটি সাইকিয়াট্রিক ক্লিনিকের সঙ্গে আলাদা দেওয়ানি নিষ্পত্তির কথা ঘোষণা করেন।   এই পদক্ষেপটি মার্কিন বিচার বিভাগের 'ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার ফ্রড টেকডাউন'-এর অংশ। দেশজুড়ে পরিচালিত এই অভিযানে ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ৬ বিলিয়ন (৬৫০ কোটি) ডলারের ভুয়া বিল জমা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে বহু চিকিৎসক ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত চিকিৎসা পেশাদার রয়েছেন।   এই জালিয়াতির অন্যতম বড় ঘটনায় আটলান্টার ৫২ বছর বয়সী চিকিৎসক মুরেল রুটলেজ জুনিয়রের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা প্রতারণার ৪০টি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, ইস্ট পয়েন্ট এলাকায় 'রুটলেজ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েটস' নামের একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন তিনি। ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে রোগীদের এমন সব চিকিৎসা সেবা দেওয়ার নামে জর্জিয়া মেডিক্যাইডের কাছে হাজার হাজার বিল জমা দিয়েছেন, যা বাস্তবে কখনোই দেওয়া হয়নি। তদন্তকারীদের মতে, ক্ষতস্থান পরিচর্যা, অ্যালার্জি পরীক্ষা এবং সাইকোথেরাপির মতো সেবার কথা বলে ৪০ লাখ ডলারেরও বেশি ভুয়া বিল করা হয়েছে।   এর মাধ্যমে তিনি অবৈধভাবে মেডিক্যাইড থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন। জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের মেডিক্যাইড ফ্রড অ্যান্ড পেশেন্ট প্রোটেকশন ডিভিশনসহ একাধিক ফেডারেল ও স্টেট সংস্থা যৌথভাবে এই তদন্ত পরিচালনা করে। তবে আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত রুটলেজকে নির্দোষ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।   অন্যদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় 'অ্যাভ্যান্ট ইন্টারভেনশনাল সাইকিয়াট্রি' এবং ড. ওকাহ অ্যানিওকউ-এর সঙ্গে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের একটি দেওয়ানি নিষ্পত্তি বা সেটেলমেন্টের ঘোষণাও দিয়েছে। রাজ্য তদন্তকারীদের অভিযোগ, ড. অ্যানিওকউ নিজে সেবা দিয়েছেন দেখিয়ে মেডিক্যাইডের কাছে বিল জমা দেওয়া হলেও, বাস্তবে কিছু সেবা অন্যান্য কর্মীদের দ্বারা প্রদান করা হয়েছিল।   এসব কর্মীদের অনেকেরই মেডিক্যাইড প্রোভাইডার হিসেবে লাইসেন্স বা অন্তর্ভুক্তি ছিল না। যদিও এই নিষ্পত্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি কোনো দায় স্বীকার করেনি, তবে একজন সাধারণ নাগরিক এবং জর্জিয়ার একটি কেয়ার ম্যানেজমেন্ট সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছিল বলে জানা যায়।   জর্জিয়ার এই ঘটনাগুলো দেশজুড়ে চলা এ বছরের সর্ববৃহৎ সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি বিরোধী অভিযানের অংশ। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের মতে, এই প্রতারণা চক্রগুলো অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা, বেআইনি কমিশন এবং ভুয়া বিলের মাধ্যমে করদাতাদের অর্থে পরিচালিত মেডিকেয়ার ও মেডিক্যাইড কর্মসূচির ব্যাপক ক্ষতি করেছে। টেক্সাসে প্রায় ৯০৬ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি এবং মানব টিস্যু গ্রাফট সংক্রান্ত আরেকটি মাল্টিবিলিয়ন ডলারের প্রতারণার ঘটনাও এই অভিযানের মাধ্যমে সামনে এসেছে।   ২০০৭ সালে মার্কিন বিচার বিভাগের 'হেলথ কেয়ার ফ্রড স্ট্রাইক ফোর্স' গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ২০০ জনেরও বেশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলারের ভুয়া বিল জমার মামলা হয়েছে। জর্জিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেডিক্যাইডের অর্থ সুরক্ষিত রাখা তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য এবং এই খাতে দুর্নীতি রোধে তাদের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
মেডিকিয়ার প্রতারণা মামলায় সাইপ্রাসে গ্রেপ্তার ইব্রাহিম হিলমি l ছবিঃ এফ বি আই মিয়ামি
৩.৭ বিলিয়ন ডলারের মেডিকিয়ার জালিয়াতির অভিযোগে সাইপ্রাসে গ্রেপ্তার ফ্লোরিডার নাগরিক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের মেডিকিয়ার জালিয়াতির একটি বড় চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইব্রাহিম হিলমি নামের এক ব্যক্তিকে সাইপ্রাস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, হিলমি দক্ষিণ ফ্লোরিডার ডেলরে বিচ এলাকায় 'সানশাইন সিনিয়র সলিউশনস' নামক একটি মেডিকেল সাপ্লাই স্টোর এবং এর পাশাপাশি আরও একটি কোম্পানি পরিচালনা করতেন। এই জালিয়াতির খবরটি ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।   ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য মেডিকিয়ারের কাছে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের ভুয়া বিল বা ক্লেম জমা দেওয়া হয়েছিল। অথচ বাস্তবে রোগীরা এসব চিকিৎসা সামগ্রী কখনোই পাননি। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে যে, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হংকং-ভিত্তিক একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে পাচার করা হয়েছে।   হিলমির এই গ্রেপ্তার মূলত মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি বিরোধী চলমান বড় মাপের একটি ক্র্যাকডাউনের অংশ। ফেডারেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফ্লোরিডাসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫টি অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগে মোট ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই চার্জ গঠন করা হয়েছে। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিগুলোতে সব মিলিয়ে ৬.৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের ভুয়া বিল জমা দেওয়ার ঘটনা এই মামলাগুলোর অন্তর্ভুক্ত।   মার্কিন বিচার বিভাগের মতে, ফেডারেল কর্তৃপক্ষের পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রতারণা বিরোধী সর্ববৃহৎ অভিযানগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। প্রতারক চক্রের শেকড় এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অপরাধীদের ধরতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৬৫০ কোটি ডলারের জালিয়াতি, ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা খাতে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ৬৫০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন প্রায় ৯০ জন চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী।   মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড কর্মসূচির নামে ভুয়া বিল, অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ঘুষভিত্তিক রোগী রেফারেল এবং জাল চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের সরকারি অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব অর্থের একটি অংশ ব্যয় করা হয়েছে বিলাসবহুল গাড়ি, দামি গয়না, প্রাসাদোপম বাড়ি, শিল্পকর্ম, ব্যক্তিগত নৌযান ও বিদেশি সম্পত্তি কেনায়।   মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এই অভিযানের ঘোষণা দিয়ে একে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় যৌথ ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের অভিযান বলে উল্লেখ করেন। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের আওতায় ৪৫টি অঙ্গরাজ্য ও বিভিন্ন অঞ্চলে একযোগে তদন্ত চালানো হয়। তদন্তে উঠে আসে, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তার জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থের বড় অংশ প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।   সবচেয়ে আলোচিত মামলাগুলোর একটিতে টেক্সাসের এক নার্সের বিরুদ্ধে প্রায় ৯০৬ মিলিয়ন ডলার বা ৯০ কোটি ৬০ লাখ ডলারের ভুয়া দাবি উত্থাপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি রোগীদের অপ্রয়োজনীয় টিস্যু গ্রাফট প্রয়োগ করে মেডিকেয়ারের কাছে প্রতি রোগীর জন্য বিপুল অঙ্কের বিল জমা দেন।   অভিযুক্ত মারিজেল ইউকি নামে ওই নার্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২৯৭ মিলিয়ন ডলার আদায় করতে সক্ষম হন এবং সেই অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি, গয়না ও স্থাবর সম্পত্তি কেনেন। এমনকি ফিলিপাইনে প্রায় ৪৬ লাখ ডলার ব্যয়ে একটি সমুদ্রসৈকত রিসোর্টও নির্মাণ করেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের সময় কর্তৃপক্ষ তার ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ৩ কোটি ডলার, কয়েক লাখ ডলার নগদ অর্থ, একটি বিলাসবহুল ফেরারি, আরও কয়েকটি দামি গাড়ি এবং উচ্চমূল্যের গয়না জব্দ করেছে।   অন্য এক মামলায় চিকিৎসা পণ্যের একটি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ কমিশন ও ঘুষভিত্তিক বিপণনের মাধ্যমে শত শত মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, রোগীদের প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও ব্যয়বহুল ক্ষত চিকিৎসা সামগ্রী ব্যবহারে চিকিৎসকদের উৎসাহিত করা হতো। এর বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।   এই চক্রের মাধ্যমে প্রায় ১২০ কোটি ডলারের ভুয়া বা অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা বিল জমা দেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত ৬১৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ আদায় করা হয় বলে অভিযোগ। ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে আরেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি প্রতিদিন শত শত ঘণ্টার কাউন্সেলিং ও থেরাপি সেবার বিল জমা দিয়েছেন, যা বাস্তবে প্রদান করা সম্ভব ছিল না।   অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর প্রতিষ্ঠানের কর্মীসংখ্যা এত কম ছিল যে তারা ২৪ ঘণ্টা কাজ করলেও ওই পরিমাণ সেবা দেওয়া সম্ভব হতো না। তবুও প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের দাবি উত্থাপন করা হয় এবং এর মধ্যে প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার আদায় করা হয়। কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই অর্থের বড় অংশ বিনিয়োগ, বিলাসবহুল গাড়ির ব্যবসা, সম্পত্তি ক্রয় এবং ব্যক্তিগত জীবনযাপনে ব্যয় করা হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনাগুলোর একটি ঘটেছে শিক্ষার্থী ক্রীড়াবিদদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে।   টেক্সাসের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ক্রীড়াবিদদের হৃদরোগ পরীক্ষা করে প্রায় ৮ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বিল জমা দেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করেই স্বাভাবিক বলে অনুমোদন দেন। মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এক শিক্ষার্থীর পরীক্ষার রিপোর্টে সম্ভাব্য হৃদরোগের লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও সেটিকে স্বাভাবিক বলে ঘোষণা করা হয়। মাত্র ২৪ দিন পর বাস্কেটবল অনুশীলনের সময় ওই শিক্ষার্থী হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।   তদন্তকারীদের দাবি, ওই ঘটনার পরও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক একই ধরনের অনুমোদন দেওয়া অব্যাহত রাখেন। ফ্লোরিডার আরেক বাসিন্দার বিরুদ্ধে প্রায় ৩৭৬ কোটি ডলারের ভুয়া চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের বিল জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাঁর দুটি প্রতিষ্ঠান এমন চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ক্ষত পরিচর্যা সামগ্রীর বিল করেছে, যা বাস্তবে কখনো সরবরাহই করা হয়নি।   কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রায় ৫৭ লাখ ডলার পেয়েছিলেন এবং পরে সেই অর্থের একটি অংশ বিদেশে স্থানান্তর করেন। তদন্ত শুরুর পর তিনি দেশ ছাড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সাইপ্রাসে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি দীর্ঘদিনের সমস্যা। মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড কর্মসূচিতে প্রতি বছর কোটি কোটি ডলার অপচয় ও প্রতারণার অভিযোগ উঠে আসে। তবে এবারের অভিযান আকার ও অর্থের পরিমাণের দিক থেকে সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় বলে বিবেচিত হচ্ছে।   মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগে সবাই আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি:সংগৃহীত
মেডিকেড জালিয়াতির দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে এক ব্যক্তিকে ৩৩০ হাজার ডলার জরিমানা ও কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের লরেন্সভিলের এক ব্যক্তি মেডিকেড জালিয়াতির অভিযোগে দোষ স্বীকার করার পর ৩৩০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে এবং কারাদণ্ড ভোগ করতে আদেশ পেয়েছেন।   অভিযুক্ত ৪৭ বছর বয়সী অ্যাভেরিল জনসন। তিনি টাকার এলাকায় তার একটি ল্যাবের মাধ্যমে জিনগত পরীক্ষার নামে ভুয়া দাবি দাখিল করে সরকারি মেডিকেড কর্মসূচি থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।   প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, জনসন তার প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল হেলথকেয়ার সেন্টার এলএলসি ব্যবহার করে মিথ্যা রোগীর নথি তৈরি করেন এবং দুই চিকিৎসকের পরিচয় অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করে ভুয়া পরীক্ষার আদেশ দেখান। এসব পরীক্ষার জন্য মেডিকেড প্রতি দাবি হিসেবে প্রায় ১,৯৮৮ ডলার ৬৯ সেন্ট করে পরিশোধ করত।   তদন্তে জানা যায়, কোনো রোগীই এই পরীক্ষার বিষয়ে জানতেন না। বিষয়টি প্রথম সামনে আসে যখন প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী নার্স একটি হটলাইনে অভিযোগ জানান। এরপর জর্জিয়া ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিটি হেলথ বিষয়টি তদন্তে নেয় এবং পরে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জালিয়াতির প্রমাণ পায়।   ডেকাল্ব কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক গ্রেগরি অ্যাডামস মঙ্গলবার দোষ স্বীকারোক্তি গ্রহণ করেন। রায়ে জনসনকে ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়, যার মধ্যে এক বছর কারাগারে থাকতে হবে এবং বাকি অংশ শর্তসাপেক্ষে। পাশাপাশি তাকে ৩৩০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে।   জর্জিয়া অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস জানিয়েছে, এটি স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি দমনে চলমান অভিযানের অংশ। সাম্প্রতিক সময়ে একই ধরনের আরেকটি জালিয়াতি মামলাও তদন্তাধীন রয়েছে।   অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস কার বলেন, জিনগত পরীক্ষার নামে এ ধরনের প্রতারণা এখন দেশজুড়ে বাড়ছে এবং করদাতাদের অর্থ অপচয় হচ্ছে। তার ভাষায়, “যারা করদাতাদের টাকা চুরি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বায়জিদ হাসান জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট
মিনেসোটায় বিলিয়ন ডলারের আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ, তদন্তের মুখে গভর্নর টিম ওয়ালজ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে ব্যাপক আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে ডেমোক্র্যাট দলীয় গভর্নর টিম ওয়ালজ এবং অ্যাটর্নি জেনারেল কিথ এলিসনকে বিচার বিভাগের (DOJ) তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। গত সোমবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই নির্দেশ দিয়েছেন। মার্কিন কংগ্রেসের হাউস ওভারসাইট কমিটির একটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্টের ভিত্তিতে তিনি এই পদক্ষেপ নেন, যেখানে অঙ্গরাজ্যটির সুবিধাভোগী প্রকল্পগুলোতে ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। হোয়াইট হাউসের ‘টাস্কফোর্স টু এলিমিনেট ফ্রড’-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জেডি ভ্যান্স। ওভারসাইট প্যানেল গত রবিবার তাকে মিনেসোটার এই জালিয়াতি নিয়ে অধিকতর তদন্তের আহ্বান জানিয়ে একটি চিঠি দেয়।   এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় জেডি ভ্যান্স জানান, তিনি এসব অভিযোগ বিচার বিভাগের নতুন ফ্রড ডিভিশনে ফৌজদারি তদন্তের জন্য পাঠিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মিনেসোটার কোনো কর্মকর্তাই আইনের ঊর্ধ্বে নন। যদি তারা এই জালিয়াতিতে সহায়তা করে থাকেন, শপথ নিয়ে মিথ্যা বলেন অথবা তথ্য ফাঁসকারীদের (হুইসেলব্লোয়ার) ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকেন, তবে তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স অবশ্য জানিয়েছেন, তদন্তের আগেই তারা বাইডেন প্রশাসনের মতো কাউকে অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করছেন না, তবে জালিয়াতিকে গুরুত্ব না দেওয়ার বিষয়টি ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হবে।   মূলত গত বছরের ডিসেম্বরে ইউটিউবার নিক শার্লির একটি ভাইরাল ভিডিওর পর ওভারসাইট কমিটি এই তদন্ত শুরু করে, যেখানে ভুয়া চাইল্ড কেয়ার সুবিধাগুলো কীভাবে ফেডারেল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে তা দেখানো হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, মিনেসোটার ‘ফিডিং আওয়ার ফিউচার’ স্ক্যান্ডালেই অন্তত ৩০০ মিলিয়ন ডলার চুরি গেছে, যার ফলে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগও গঠন করা হয়েছে। এমনকি একজন সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটরের মতে, ২০১৮ সালের পর থেকে মিনেসোটার ১৪টি মেডিকেইড কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি হতে পারে। যদিও গভর্নর ওয়ালজ ও অন্যান্য কর্মকর্তারা এই বিশাল অঙ্কের দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কমার চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, মিনেসোটার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বছরের পর বছর ধরে চলা এই জালিয়াতি সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং তা থামানোর আইনি ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তারা বারবার ব্যর্থ হয়েছেন।   অন্যদিকে, এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যায়িত করেছেন গভর্নর ওয়ালজ। তিনি অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন মিনেসোটার মতো ব্লু স্টেটগুলোকে (ডেমোক্র্যাট অধ্যুষিত) শাস্তি দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ ফেডারেল সরকারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। উল্লেখ্য, অভিবাসন আইন প্রয়োগে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ওয়ালজ ও মিনিয়াপোলিসের মেয়রের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের আরেকটি তদন্ত আগে থেকেই চলমান রয়েছে। চলমান এই জালিয়াতি কেলেঙ্কারির প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে মিনেসোটার জন্য প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ডলারের ফেডারেল মেডিকেইড তহবিল স্থগিত করেছে।

বায়জিদ হাসান জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বিদেশে জন্ম নেওয়া শত শত মার্কিন নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিলে জোরালো উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এবং বিদেশে জন্মগ্রহণকারী শত শত ন্যাচারালাইজড নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিলের এক নজিরবিহীন ও জোরালো প্রক্রিয়া শুরু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য গার্ডিয়ান' জানিয়েছে, মার্কিন বিচার বিভাগ (DOJ) বর্তমানে প্রায় ৩৮৪ জন নাগরিকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, নাগরিকত্ব অর্জনের পথে যেকোনো ধরনের অসততা বা তথ্য গোপনকে তারা কঠোরভাবে দমন করবে। যদিও এই পদক্ষেপ বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, তবে প্রশাসন একে "আইনের শাসন" রক্ষার একটি অংশ হিসেবেই দাবি করছে।    প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ তথ্যানুযায়ী, এই সাঁড়াশি অভিযান মূলত তাদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে যারা নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় তথ্য জালিয়াতি করেছেন। বিশেষ করে যারা নাগরিকত্ব আবেদনের সময় নিজেদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড গোপন করেছেন, জাল কাগজপত্র দাখিল করেছেন কিংবা কেবল গ্রিন কার্ড বা নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য ভুয়া বৈবাহিক সম্পর্ক (Marriage Fraud) দেখিয়েছেন, তাদের নাগরিকত্ব চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে। বিচার বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, এই ৩৮৪ জন নাগরিক কেবল "প্রথম তরঙ্গের" অংশ; ভবিষ্যতে এই তালিকা আরও দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসনের একটি অংশ একে "হোয়াইট হাউসের নিজস্ব উদ্যোগ" হিসেবে বর্ণনা করলেও সরকারি মুখপাত্ররা বলছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয় বরং প্রচলিত ফেডারেল আইনের যথাযথ প্রয়োগ মাত্র।   যুক্তরাষ্ট্রের আইনি কাঠামো অনুযায়ী, চাইলেই প্রশাসন একক সিদ্ধান্তে কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে পারে না। এর জন্য ফেডারেল আদালতে প্রতিটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে আলাদাভাবে মামলা দায়ের করতে হয় এবং সরকারের পক্ষ থেকে অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে হয়। বিচারক যদি সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সন্তুষ্ট হন যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জালিয়াতির মাধ্যমে নাগরিকত্ব নিয়েছেন, তবেই তা বাতিল করার আদেশ দেওয়া সম্ভব। নাগরিকত্ব বাতিল হওয়া ব্যক্তিকে তখন তার পূর্ববর্তী অভিবাসন স্ট্যাটাসে ফিরে যেতে হয়, যা তাকে সরাসরি নির্বাসনের (Deportation) ঝুঁকিতে ফেলে দেয়। ২০২৬ সালের এই বিশেষ অভিযান বিগত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক, কারণ এর আগে বছরে গড়ে মাত্র গুটি কয়েক নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা দেখা যেত।   ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানকে অনেকেই তাদের বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে দেখছেন। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও গণ-নির্বাসন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি নাগরিকত্ব যাচাইয়ের এই প্রক্রিয়াটি ভোটারদের কাছে একটি কঠোর বার্তা দেওয়ার রাজনৈতিক কৌশল। অন্যদিকে, অভিবাসন অধিকার রক্ষাকারী সংগঠনগুলো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে যে, এ ধরনের গণ-মামলার প্রস্তুতি বৈধভাবে নাগরিকত্ব পাওয়া লাখো মানুষের মনে ভীতি সৃষ্টি করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে আমেরিকান সামাজিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আইনজীবীরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, যারা কোনো তথ্য গোপন না করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পেয়েছেন তাদের ভয়ের কারণ নেই, তবে নথিপত্রে কোনো ধরনের অসঙ্গতি থাকলে দ্রুত আইনি সহায়তা নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ফাইল ফটো।
ব্রিটেনে আশ্রয় আবেদনের রমরমা ব্যবসা, প্রতারণা চক্রে আছে বাংলাদেশিও

ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক বিশাল ‘প্রতারণা শিল্প’। সমকামী সাজা, অর্থের বিনিময়ে নাস্তিক সাজানো, এমনকি রাজপথে সাজানো রাজনৈতিক প্রতিবাদের নাটক—এসবই এখন লন্ডনের অভিবাসন জালিয়াতি চক্রের প্রধান হাতিয়ার। অতি সম্প্রতি বিবিসি নিউজের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই ভয়াবহ জালিয়াতির চিত্র, যেখানে খোদ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। লন্ডনের মাইল এন্ড রোডের একটি অফিসে ছদ্মবেশে বিবিসির এক সাংবাদিক অনুসন্ধান চালিয়ে জাহিদ হাসান আখন্দ নামে এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করেন। নিজেকে ব্যারিস্টার পরিচয় দেওয়া জাহিদ ওই সাংবাদিককে (যিনি নিজেকে বাংলাদেশি ছাত্র হিসেবে পরিচয় দেন) ব্রিটিশ হোম অফিসকে ফাঁকি দেওয়ার তিনটি মোক্ষম পথ বাতলে দেন: সমকামিতা, নাস্তিকতা অথবা রাজনৈতিক নিপীড়ন। জাহিদ জানান, সমকামী সাজা সবচেয়ে সহজ পথ। এর জন্য তিনি প্রয়োজনে ‘ভাড়াটে পার্টনার’ বা সঙ্গী জোগাড় করে দেওয়ার প্রস্তাবও দেন। এছাড়া নাস্তিক হিসেবে প্রমাণ তৈরি করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট দেওয়া এবং চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে নাস্তিক ব্লগে নিবন্ধ লেখার পরামর্শ দেন তিনি। এই পুরো ‘প্যাকেজ’ বা আইনি সহায়তার জন্য তিনি দেড় হাজার পাউন্ড এবং জাল নথিপত্রের জন্য আরও দুই থেকে তিন হাজার পাউন্ড দাবি করেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই চক্রটি হুবহু মূলধারার সংবাদপত্রের মতো দেখতে ভুয়া নিউজ ওয়েবসাইট তৈরি করে। সেখানে আবেদনকারীদের নামে মিথ্যা মামলার খবর বা নিপীড়নের গল্প ছাপানো হয়। বাংলাদেশের আদালত ব্যবস্থা ডিজিটাল না হওয়ার সুযোগ নিয়ে এসব ভুয়া তথ্য যাচাই করা ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া, রাজনৈতিক আশ্রয় নিশ্চিত করতে রাজপথে ভুয়া মিছিলের আয়োজন করা হয়। শুধুমাত্র ছবি তোলার উদ্দেশ্যেই এসব মিছিলে লোক ভাড়া করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের চিকিৎসকের কাছে গিয়ে বিষণ্ণতা বা এইচআইভি পজিটিভ হওয়ার নাটক সাজাতেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাহিদ হাসান আখন্দ ২০২২ সালে ব্যারিস্টার হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করলেও তার আইন পেশা চর্চার কোনো লাইসেন্স নেই। তিনি যে ল’ ফার্মের নাম ব্যবহার করে মক্কেল ধরতেন, সেই প্রতিষ্ঠানটিও জানিয়েছে জাহিদ এখন আর তাদের কর্মী নন। যদিও জাহিদ তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ব্রিটেনে আশ্রয়প্রার্থীদের এই বিশাল জালিয়াতি চক্রটি এখন ব্রিটিশ প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে পেশাদার আইনজীবীদের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড পুরো অভিবাসন ব্যবস্থাকেই প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০
উরচেস্টার এলজিবিটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ১৭৫ জনের বেশি মানুষ জড়ো হন
যুক্তরাজ্যে সমকামী সেজে আশ্রয়ের জালিয়াত চক্র: বিবিসির অনুসন্ধানে বাংলাদেশিদের নাম

যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে সমকামী সেজে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার এক বিশাল জালিয়াতি চক্রের তথ্য ফাঁস করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। এই চক্রের সাথে পাকিস্তান ও বাংলাদেশি অভিবাসীদের সম্পৃক্ততা এবং কিছু অসাধু আইনজীবীর সরাসরি মদদ দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।  মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিবিসির এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া অভিবাসীদের একটি বড় অংশকে সমকামী সাজিয়ে ভুয়া প্রমাণপত্র তৈরির পরামর্শ দিচ্ছেন কিছু ইমিগ্রেশন আইনজীবী ও উপদেষ্টা। এর বিনিময়ে তারা একেকজন অভিবাসীর কাছ থেকে ১৫০০ থেকে ৭০০০ পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা) পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছেন। অনুসন্ধানে উঠে আসা ভয়াবহ কিছু তথ্য: সাজানো প্রমাণপত্র: আইনজীবীরা আবেদনকারীদের বিষণ্নতার ভান করে ডাক্তারের কাছে যাওয়া, এলজিবিটি ক্লাবে অংশ নেওয়া এবং কৃত্রিম ছবি তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন। এমনকি এইচআইভি পজিটিভ হওয়ার মিথ্যা নাটক সাজানোর নজিরও পাওয়া গেছে। তানিসা খান ও শাকিল সিন্ডিকেট: পূর্ব লন্ডনের তানিসা খান নামের এক উপদেষ্টা নিজেকে ১৭ বছরের অভিজ্ঞ দাবি করে জানান, আবেদনকারীদের সমকামী সঙ্গীর সাথে ঘনিষ্ঠ ছবি এমনকি ভুয়া শারীরিক সম্পর্কের স্বীকারোক্তি সম্বলিত চিঠিও তারা ম্যানেজ করে দেন। অনুসন্ধানে তার সাথে ‘ল অ্যান্ড জাস্টিস সলিসিটরস’-এর প্যারালিগ্যাল মাজেদুল হাসান শাকিলের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। আশ্রয় আবেদনের পরিসংখ্যান: ২০২৩ সালে যৌন পরিচয়ের ভিত্তিতে করা আবেদনের মধ্যে ৪২ শতাংশই ছিল পাকিস্তানি নাগরিকদের। বাংলাদেশি ও ভারতীয়দের মধ্যেও এই প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর (হোম অফিস)। হোম অফিসের হুঁশিয়ারি: বিবিসির এই অনুসন্ধানের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আশ্রয় ব্যবস্থার এই নগ্ন অপব্যবহার কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। যারা জালিয়াতির আশ্রয় নেবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণসহ যুক্তরাজ্য থেকে বিতাড়িত করা হতে পারে। ইতোমধ্যে অভিবাসন বিধিতে পরিবর্তন এনে স্থায়ী সুরক্ষার বদলে প্রতি ৩০ মাস অন্তর মামলা পর্যালোচনার নিয়ম চালু করেছে ব্রিটিশ সরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের জালিয়াতির ফলে যারা প্রকৃতপক্ষেই নিজ দেশে নির্যাতনের শিকার হয়ে আশ্রয় খুঁজছেন, তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ও নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০