সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

পিএইচডি

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্টে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডি সুযোগ পেয়েছেন নুদরাত ফারিহা ঐশী। ছবি: সংগৃহীত
কুতুবদিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডেড পিএইচডির সুযোগ পেলেন ফারিহা ঐশী

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার নুদরাত ফারিহা ঐশী যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্টে পাঁচ বছর মেয়াদি পূর্ণ অর্থায়নের পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পিএইচডি করছেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি কুতুবদিয়ার তরুণদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ।    নুদরাত ফারিহা ঐশীর শিক্ষাজীবনের শুরু বাংলাদেশেই। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করার পর তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। সেখানে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতেও হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পড়ার সুযোগ রয়েছে।    স্নাতক শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ফারিহা। সেখানে ইউনিভার্সিটি অব ব্রিজপোর্ট থেকে বিজনেস অ্যানালিটিক্স বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির অ্যানালিটিক্স স্নাতকোত্তর কর্মসূচিতে তথ্য বিশ্লেষণ, গবেষণা এবং ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি থিসিস বা ইন্টার্নশিপের সুযোগ রয়েছে।    এরপর শুরু হয় পিএইচডিতে ভর্তির প্রস্তুতি। গ্র্যাজুয়েট রেকর্ড এক্সামিনেশন বা জিআরইতেও ভালো ফল করেন তিনি। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও আবেদন প্রক্রিয়া শেষে এবার ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্টে হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্টে পিএইচডির সুযোগ পেয়েছেন।    ইউম্যাস অ্যামহার্স্টের তথ্য অনুযায়ী, হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্টের পিএইচডি কর্মসূচিতে গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি এই কর্মসূচির শিক্ষার্থীদের জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত বছরে ৪০ হাজার ডলারের বেশি গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাব, ভোক্তার আচরণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার সুযোগ রয়েছে।    কুতুবদিয়ার দক্ষিণ ধুরংয়ের সন্তান ফারিহা ঐশী স্থানীয়ভাবে একটি পরিচিত পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তিনি দক্ষিণ ধুরং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জালাল আহমেদের নাতনী। তার বাবা জাফর একজন ব্যাংকার এবং মা লাভলী গৃহিণী। পরিবারের সদস্যরা তার এই অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করেছেন।    ফারিহার এই সাফল্যের গল্পের আরেকটি দিক হলো, তার একাডেমিক পথটি একাধিক বিষয়ের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। বাংলাদেশে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে পড়াশোনার পর যুক্তরাষ্ট্রে বিজনেস অ্যানালিটিক্সে স্নাতকোত্তর এবং এখন হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্টে পিএইচডি করছেন তিনি। ফলে ব্যবস্থাপনা, তথ্য বিশ্লেষণ ও পর্যটন গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্রকে একসঙ্গে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।   পিএইচডি শেষে অর্জিত জ্ঞান, গবেষণার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দেশ, মানুষ ও মানবতার কল্যাণে কাজে লাগাতে চান ফারিহা ঐশী। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার এই নতুন অধ্যায় সফলভাবে শেষ করে ভবিষ্যতে দেশের জন্য কাজ করার প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তিনি।    কুতুবদিয়ার মতো একটি দ্বীপ উপজেলা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ পাওয়া ফারিহা ঐশীর যাত্রা তাই শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণার গল্প। তার সামনে এখন দীর্ঘ গবেষণার পথ। এই পথ সফলভাবে পেরিয়ে তিনি কী ধরনের গবেষণা ও অবদান রাখেন, সেটিই হবে তার পরবর্তী অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডি, ফান্ডিং ২ কোটির বেশি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ফাহমিদা আক্তার চৌধুরী ইভা যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটিতে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডির সুযোগ পেয়েছেন। ২০২৬ সালের Fall সেমিস্টার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই প্রোগ্রামে তিনি পূর্ণ অর্থায়ন পেয়েছেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই ফান্ডিংয়ের মোট মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় দুই কোটি টাকারও বেশি বলে জানানো হয়েছে।    ফাহমিদা ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি শেষ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। ২০২৩ সালে স্নাতক সম্পন্ন করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটিতে পদার্থবিজ্ঞানে মাস্টার্সে ভর্তি হন এবং পূর্ণ স্কলারশিপে সেই ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।    মাস্টার্সের পাশাপাশি গবেষণাতেও সক্রিয় ছিলেন ফাহমিদা। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন একাডেমিক ও বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে তিনি নিজের গবেষণাকর্ম উপস্থাপন করেন এবং গবেষক ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পান।    মাস্টার্স শেষ করার পর একই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডির জন্য পূর্ণ অর্থায়নের সুযোগ পান তিনি। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পুরো পিএইচডি প্রোগ্রামের ফান্ডিংয়ের পরিমাণ দুই কোটি টাকারও বেশি।   ফাহমিদার উচ্চশিক্ষার পথচলায় পরিবারের সমর্থনের কথাও প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাবা ও স্বামীর সহযোগিতা পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে স্বামী চিকিৎসক রোমান খানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন ফাহমিদা।    নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের মতো বিশেষায়িত একটি ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ পাওয়া ফাহমিদার একাডেমিক ও গবেষণাভিত্তিক পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   সূত্র: আজকের পত্রিকা  

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
২.৫৭ সিজিপিএ নিয়ে পিএইচডি অর্জন করল আরমান সৈকত!
২.৫৭ সিজিপিএ নিয়ে পিএইচডি অর্জন করল আরমান সৈকত!

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে ২ দশমিক ৫৭ সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক শেষ করেছিলেন আরমান সাইকট। সাধারণ ধারণা অনুযায়ী, এমন ফলাফল নিয়ে উচ্চশিক্ষার বড় সুযোগ পাওয়া কঠিন। কিন্তু সেই ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ করে দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সপেরিমেন্টাল কোয়ান্টাম রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে পূর্ণ অর্থায়নে ইন্টিগ্রেটেড পিএইচডি প্রোগ্রামে সুযোগ পেয়েছেন তিনি।   আরমানের এই অর্জনের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে একাডেমিক ফলাফলের বাইরে গবেষণায় তার দীর্ঘ প্রস্তুতি। স্নাতক শেষ করার পর তিনি প্রায় ১৪ মাস গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করেন। এ সময় গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি একাধিক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন এবং কোয়ান্টাম বিজ্ঞানে নিজের দক্ষতা ও আগ্রহ তৈরি করেন।   তবে এই সুযোগ একবারে আসেনি। গবেষণার সুযোগ ও পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য তিনি প্রায় ১০০ জন অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে ইমেইল পাঠানো, প্রত্যাখ্যান সামলানো এবং নতুন সুযোগ খুঁজে যাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক সাড়া পান তিনি।   আরমানের যাত্রা দেখাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিই একজন শিক্ষার্থীর পুরো ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। গবেষণার অভিজ্ঞতা, নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা, শেখার আগ্রহ, মেন্টরশিপ এবং দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতাও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।   বিশেষ করে গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য তার অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা দিচ্ছে। সিজিপিএ প্রত্যাশার চেয়ে কম হলেও গবেষণার কাজ, প্রকাশনা, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা দিয়ে নিজের প্রোফাইল শক্তিশালী করার সুযোগ থাকে।   আরমান সাইকটের কোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়। এটি এমন শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ, যারা তুলনামূলক কম সিজিপিএর কারণে নিজেদের একাডেমিক ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েন।   তার পথচলা অন্তত এটুকু স্পষ্ট করে, একটি ট্রান্সক্রিপ্ট একজন শিক্ষার্থীর সম্ভাবনার পুরো গল্প বলে না। লক্ষ্য, গবেষণার দক্ষতা, কৌতূহল এবং বারবার চেষ্টা করার মানসিকতাও ভবিষ্যতের দরজা খুলে দিতে পারে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
১৮ মাসে পড়তে শেখা, ১১ বছরেই কলেজ গ্র্যাজুয়েট আর ১৩ বছরেই পদার্থবিজ্ঞানে ডিগ্রি
১৮ মাসে পড়তে শেখা, ১১ বছরেই কলেজ গ্র্যাজুয়েট আর ১৩ বছরেই পদার্থবিজ্ঞানে ডিগ্রি

মাত্র ১১ বছর বয়সে কলেজের ডিগ্রি অর্জন করে চমক সৃষ্টি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এলিয়ট ট্যানার। ১৩ বছর বয়সেই তিনি পদার্থবিজ্ঞানে চার বছরের স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে ১৮ বছর বয়সে তিনি ডার্ক ম্যাটার নিয়ে পিএইচডি গবেষণার শেষ পর্যায়ে রয়েছেন।   এলিয়ট মাত্র ৯ বছর বয়সে কলেজে ভর্তি হন। এর দুই বছর পর, ১১ বছর বয়সে নরম্যান্ডেল কমিউনিটি কলেজ থেকে গণিতে অ্যাসোসিয়েট অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটায় ভর্তি হয়ে ১৩ বছর বয়সে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন, সঙ্গে গণিতে মাইনর করেন।   এরপর একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হন এলিয়ট। মাত্র ১৫ বছর বয়সে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি পিএইচডি ক্যান্ডিডেট হিসেবে উন্নীত হন। বর্তমানে পরীক্ষামূলক কণাপদার্থবিদ্যা নিয়ে গবেষণা করছেন তিনি। তার গবেষণার অন্যতম বিষয় ডার্ক ম্যাটার।   এলিয়টের অসাধারণ মেধার পরিচয় অবশ্য আরও ছোট বয়সেই পাওয়া যায়। মাত্র ১৮ মাস বয়সে নিজে নিজে পড়তে শেখেন তিনি। তিন বছর বয়সে যোগ-বিয়োগ করতে পারতেন এবং পাঁচ বছর বয়সেই ‘হ্যারি পটার’ সিরিজ পড়তেন। তিন বছর বয়সে চতুর্থ শ্রেণির পর্যায়ের পড়াশোনাও করছিলেন।   প্রথমদিকে তাকে সাধারণ স্কুলে ভর্তি করা হলেও দ্রুতই সেই শিক্ষাব্যবস্থা তার জন্য যথেষ্ট না হওয়ায় বাবা-মা তাকে হোমস্কুলিং করান। সেখানে তার শেখার গতি অনুযায়ী পড়াশোনার সুযোগ তৈরি করা হয়।   শুধু বইয়ের পড়াশোনার মধ্যেই তাকে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। মহাকাশের প্রতি আগ্রহ তৈরি হলে তাকে কেনেডি স্পেস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। গণিত, বিজ্ঞান ও কোডিং শেখার পাশাপাশি বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও বাস্তব অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ পান তিনি।   এলিয়টের বাবা-মা জানিয়েছেন, এত দ্রুত পড়াশোনা করলেও তার শৈশব যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকেও তারা গুরুত্ব দিয়েছেন। বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা ও বয়সসুলভ কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নিজের আগ্রহ অনুযায়ী পড়াশোনা করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।   বর্তমানে পিএইচডির পাশাপাশি এলিয়ট গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংগঠনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং শিক্ষক সহকারী হিসেবেও কাজ করছেন। ভবিষ্যতে পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তার।   তার মা বলেন, এলিয়টকে তারা কখনো জোর করে দ্রুত পড়াশোনা করাননি; বরং তার শেখার আগ্রহ ও সক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছেন।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া ইসরাত এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া ইসরাত এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজে পড়াশোনা করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন ইসরাত জাহান। ময়মনসিংহের মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগ থেকে শুরু হওয়া তাঁর শিক্ষাজীবনের পথ পেরিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মেমফিসের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ পর্যন্ত। সেখানে পূর্ণ তহবিলের সহায়তায় স্নাতকোত্তর শেষ করার পর তিনি পিএইচডির জন্য ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আর্বানা-শ্যাম্পেইনে ভর্তি হন এবং মেমফিসে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতাও করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যেও তাঁর স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এবং পরবর্তী সময়ে পিএইচডি শিক্ষার্থী হিসেবে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।   কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ইসরাত। সুযোগ না পেয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ময়মনসিংহের মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। তাঁর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন বলে নিজেকে কখনো পিছিয়ে থাকা মনে করেননি। বরং নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছেন।   শিক্ষাজীবনের শুরুটাও তাঁর জন্য খুব সহজ ছিল না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন পড়াশোনায় দীর্ঘ সেশনজটের কারণে ২০১০ সালে শুরু করা স্নাতক পড়াশোনার চূড়ান্ত পরীক্ষা দিতে তাঁকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। পরে এক বন্ধুর পরামর্শে বিদেশে উচ্চশিক্ষার কথা ভাবেন তিনি।   তখন ইংরেজি বিভাগে পড়াশোনা করলেও ইংরেজিতে কথা বলা ও অনেক বিষয় বুঝতে তাঁর সমস্যা হতো। সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে নিয়মিত চেষ্টা করেন। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য জিআরই পরীক্ষাও দেন দুইবার। প্রথমবার প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর দ্বিতীয়বার আরও প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দেন।   এরপর শুরু হয় উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় খোঁজার পালা। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাগত পটভূমি বিবেচনা করা হবে, কোথায় জিআরই বাধ্যতামূলক নয় এবং ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের মতো বিষয়ে পড়ার সুযোগ আছে কি না, এসব তথ্য তিনি বিভিন্ন উচ্চশিক্ষাবিষয়ক গ্রুপ ও বিভিন্ন সূত্র থেকে খুঁজে বের করেন। পরে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিল রেখে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন।   সেই চেষ্টার ফল আসে ইউনিভার্সিটি অব মেমফিস থেকে। সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পূর্ণ তহবিলের সহায়তায় স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ পান ইসরাত। বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি অনুযায়ী, তিনি বাংলাদেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৬ সালে স্নাতক এবং ২০১৮ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ২০২২ সালে ইউনিভার্সিটি অব মেমফিস থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তাঁর স্নাতকোত্তর গবেষণার বিষয় ছিল বাংলাদেশি নারীদের আর্থসামাজিক অবস্থার সঙ্গে প্রজনন আচরণের সম্পর্ক।   স্নাতকোত্তর শেষ করার পর ইসরাত ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আর্বানা-শ্যাম্পেইনের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পিএইচডি শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রোফাইলে তাঁর গবেষণার আগ্রহের মধ্যে নারীর স্বাস্থ্য, জনমিতি, স্বাস্থ্য বৈষম্য ও চিকিৎসা সমাজবিজ্ঞান উল্লেখ রয়েছে। একই প্রোফাইলে ইউনিভার্সিটি অব মেমফিসে সমাজবিজ্ঞানের দুটি কোর্স পড়ানোর তথ্যও রয়েছে।   ইউনিভার্সিটি অব মেমফিসের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে স্নাতকোত্তর শেষ করার পর ইসরাত জাহান পিএইচডির জন্য ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আর্বানা-শ্যাম্পেইনে যান। মেমফিস বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিতে তাঁর পদ হিসেবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অ্যাডজাঙ্কট ইনস্ট্রাক্টরের তথ্যও রয়েছে।   একসময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজে পড়াশোনা করাকে ঘিরে নানা ধরনের কটাক্ষ শুনতে হয়েছিল ইসরাতকে। সেই পথ পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা ও শিক্ষকতায় পৌঁছানোর গল্পটি দেখায়, শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শুধু কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে না। নিজের দক্ষতা তৈরি, সঠিক তথ্য খোঁজা এবং সুযোগের জন্য ধারাবাহিক চেষ্টা করাও উচ্চশিক্ষার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
দুই কোটির বেশি ফান্ডিং পেলেন বাংলাদেশের ইভা
যুক্তরাষ্ট্রে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডি, দুই কোটির বেশি ফান্ডিং পেলেন বাংলাদেশের ইভা

বাংলাদেশ থেকে পদার্থবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষার পথ পাড়ি দিয়ে এবার যুক্তরাষ্ট্রে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডি করতে যাচ্ছেন ফাহমিদা আক্তার চৌধুরী ইভা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক এই শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স শেষ করার পর একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্স পিএইচডি প্রোগ্রামে সুযোগ পেয়েছেন। তার পিএইচডি পর্যায়ের মোট ফান্ডিংয়ের আর্থিক মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় দুই কোটি টাকার বেশি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার পুত্রবধূ ইভার এই অর্জন ইতোমধ্যে পরিবার ও পরিচিতজনদের মধ্যে আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। তিনি আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের তুলাই শিমুল গ্রামের ব্যবসায়ী জুলমত খাঁনের ছেলে চিকিৎসক রোমান খাঁনের স্ত্রী। বর্তমানে স্বামী-স্ত্রী দুজনই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।   ইভার উচ্চশিক্ষার যাত্রা শুরু হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে। সেখান থেকে স্নাতক শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটিতে ফান্ডিং নিয়ে মাস্টার্সে ভর্তি হন। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণায়ও নিজেকে যুক্ত করেন তিনি।   ইভার গবেষণায় সক্রিয় থাকার তথ্যেরও স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০২৬ সালে সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড রিসার্চ এনডেভার্স এক্সিবিশনে পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হিসেবে ‘মোসাম্মৎ ফাহমিদা আক্তার চৌধুরী ইভা’ পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড পাওয়া শিক্ষার্থীদের একজন ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা ও গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ সংশ্লিষ্ট প্রকাশনায় তার এই অর্জনের তথ্য উঠে আসে।   মাস্টার্স শেষ করার পর এবার তার সামনে খুলেছে পিএইচডির দরজা। সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটির ফিজিক্স বিভাগে নিউক্লিয়ার ফিজিক্স ও নিউক্লিয়ার অ্যাস্ট্রোফিজিক্সসহ একাধিক ক্ষেত্রে গবেষণার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭ গ্র্যাজুয়েট বুলেটিন অনুযায়ী, বিভাগটিতে ফিজিক্সে পিএইচডি প্রোগ্রাম রয়েছে এবং নিউক্লিয়ার ফিজিক্স এর গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ক্ষেত্রগুলোর একটি।   বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, ফিজিক্স পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি শিক্ষার্থীর একজন অনুমোদিত ফ্যাকাল্টি মেন্টর এবং টিচিং অথবা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত থাকতে হয়। ফিজিক্স বিভাগের গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে প্রতিযোগিতামূলক স্টাইপেন্ড এবং টিউশন ওয়েভারের সুযোগ রয়েছে। ফলে এ ধরনের ফান্ডিং শুধু টিউশন খরচে সীমাবদ্ধ নয়, গবেষণা ও একাডেমিক কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্যও শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দেয়।   তবে ইভার ব্যক্তিগত ফান্ডিং অফারের সুনির্দিষ্ট ডলার মূল্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশ্য তথ্য থেকে নিশ্চিত করা যায়নি। পরিবার ও স্থানীয়ভাবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পুরো পিএইচডি প্রোগ্রামে তার পাওয়া ফান্ডিংয়ের মোট মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় দুই কোটি টাকার বেশি।   নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটির গবেষণা কার্যক্রমও উল্লেখযোগ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্স বিভাগে এক্সপেরিমেন্টাল নিউক্লিয়ার ফিজিক্স, নিউক্লিয়ার অ্যাস্ট্রোফিজিক্স, থিওরেটিক্যাল নিউক্লিয়ার ফিজিক্স এবং এক্সপেরিমেন্টাল অ্যাটমিক অ্যান্ড নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকরা কাজ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, পিএইচডি প্রোগ্রামটি শিক্ষার্থীদের মৌলিক ও স্বাধীন গবেষণায় দক্ষ করে তোলার জন্য তৈরি করা হয়েছে।   ইভার এই পর্যায়ে পৌঁছানোর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন। ছোটবেলা থেকেই বিদেশে উচ্চশিক্ষা এবং নিউক্লিয়ার ফিজিক্স নিয়ে গবেষণা করার ইচ্ছা ছিল তার। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে শুরু থেকেই পাশে ছিলেন বাবা। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মেয়েকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়া এবং উচ্চশিক্ষার পথে উৎসাহ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাবার ভূমিকার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন ইভা।   বিয়ের পরও তার উচ্চশিক্ষার পথ থেমে যায়নি। ইভার স্বামী চিকিৎসক রোমান খাঁনও তার পড়াশোনা ও গবেষণার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। সংসার ও ব্যক্তিজীবনের পাশাপাশি নিজের দীর্ঘদিনের একাডেমিক লক্ষ্য ধরে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।   নিজের অর্জন সম্পর্কে ইভা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই বিদেশে উচ্চশিক্ষা এবং নিউক্লিয়ার ফিজিক্স নিয়ে গবেষণা করার স্বপ্ন ছিল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। সামনে আরও ভালো গবেষণা করার মাধ্যমে দেশের জন্য কিছু করতে চাই।’   স্ত্রীর অর্জনে গর্ব প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক রোমান খাঁন। তিনি বলেন, ‘ইভার নিজের স্বপ্ন ও লক্ষ্য সম্পর্কে শুরু থেকেই আমি জানতাম। সে যেন পড়াশোনা ও গবেষণা চালিয়ে যেতে পারে, সেটাই চেয়েছি। তার এই অর্জনে আমি অত্যন্ত গর্বিত। আশা করি ভবিষ্যতেও সে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।’   চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের শ্রেণিকক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাগার পর্যন্ত ইভার এই যাত্রা এখন নতুন একটি অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডি গবেষণার মাধ্যমে নিজের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গবেষণাক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগও তৈরি হয়েছে তার।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
অফিস সহকারী থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি
অফিস সহকারী থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি, এবার সেখানেই ওষুধ তৈরির গবেষণাগারে তিনি

পড়াশোনার খরচ চালাতে কখনো কম্পিউটারের দোকানে কাজ করেছেন, আবার সরকারি চাকরিতে ছিলেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর। সীমিত সুযোগ আর আর্থিক সংকটের মধ্যেও গবেষক হওয়ার স্বপ্ন ছাড়েননি আশুতোষ নাথ। সেই পথ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস বোস্টন থেকে অর্গানিক কেমিস্ট্রিতে পিএইচডি শেষ করেছেন তিনি। এবার ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনের কলেজ অব ফার্মেসিতে পিএইচডি পরবর্তী গবেষণায় যুক্ত হয়ে নতুন ওষুধ উদ্ভাবনে কাজ করতে যাচ্ছেন ৩৪ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি গবেষক।   আশুতোষের বেড়ে ওঠা খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা স্বচ্ছল ছিল না। তাঁর বাবা মিলন নাথ জীবিকার সন্ধানে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থেকে পরিবার নিয়ে মানিকছড়িতে চলে গিয়েছিলেন। মা নিয়তী দেবীও সংসারের হাল ধরেছিলেন। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে আশুতোষ সবার ছোট। তাঁর উচ্চশিক্ষার পথ তৈরিতে বড় ভাই পরিতোষ নাথের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। পোশাক সেলাই করে উপার্জনের একটি বড় অংশ ছোট ভাইয়ের পড়াশোনায় ব্যয় করতেন তিনি।   স্কুল ও কলেজ শেষ করার পর আশুতোষ ভর্তি হন চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের রসায়ন বিভাগে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়াশোনার সঙ্গে বেড়ে যায় খরচ। বই কেনা থেকে শুরু করে নিজের দৈনন্দিন ব্যয় মেটানোও কঠিন হয়ে পড়ে। তখন চট্টগ্রামের চকবাজারের একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ শুরু করেন তিনি। সেখানকার আয় দিয়ে নিজের খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারকেও কিছু অর্থ পাঠাতেন।   স্নাতকে পড়ার সময়ই সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন আশুতোষ। ২০১৬ সালে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি পেয়ে ঢাকায় চলে আসেন। চাকরির বেতনে সংসারের প্রয়োজন মেটানো কঠিন হওয়ায় পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিংও করতেন। দিনের চাকরির পর রাত জেগে কাজ করে নিজের পড়াশোনা ও পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন সামলেছেন তিনি।   স্নাতকে রসায়ন নিয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য নতুন সুযোগ আসে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে। বুয়েটে রসায়নে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন আশুতোষ। ২০১৯ সালে সেখান থেকে ডিগ্রি শেষ করেন। এই সময়টিই তাঁর জীবনের গতিপথ বদলে দেয়। নিয়মিত গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জার্নালে তাঁর গবেষণাপত্র প্রকাশ হতে থাকে।   বুয়েটে গবেষণার অভিজ্ঞতা থেকেই বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন আরও দৃঢ় হয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে থাকেন আশুতোষ। শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালে শতভাগ স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস বোস্টনে পিএইচডি করার সুযোগ পান। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্র্যাজুয়েট টিচিং ও রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবেও কাজ করেন।   ২০২৬ সালে ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস বোস্টন থেকে কেমিস্ট্রিতে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক গ্র্যাজুয়েশন নথিতেও তাঁর পিএইচডি এবং অর্গানিক কেমিস্ট্রিতে গবেষণার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাঁর গবেষণার মূল ক্ষেত্র ছিল জটিল পলিহেটেরোসাইক্লিক অণু তৈরির নতুন ও কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবন।   অধ্যাপক ওয়েই ঝাংয়ের তত্ত্বাবধানে পিএইচডি গবেষণার সময় সিনথেটিক অর্গানিক কেমিস্ট্রির বিভিন্ন আধুনিক পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। অর্গানিক সিনথেসিস, রিঅ্যাকশন অপটিমাইজেশন, এনএমআর, এলসি এমএস, এইচপিএলসি, ক্রিস্টালোগ্রাফি, ডিএফটি ক্যালকুলেশন এবং মলিকিউলার ডকিংয়ের মতো গবেষণা পদ্ধতিতে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।   তাঁর গবেষণার ফল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকীতেও জায়গা পেয়েছে। ২০২৫ সালে আশুতোষ নাথ, জন মার্ক আওয়াদ ও অধ্যাপক ওয়েই ঝাংয়ের একটি গবেষণা বেইলস্টাইন জার্নাল অব অর্গানিক কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত হয়। ২০২৬ সালে অর্গানিক লেটারসেও তাঁর একাধিক গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। এসব গবেষণায় জটিল রাসায়নিক কাঠামো তৈরির নতুন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছেন তিনি।   নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরেও গবেষণার অভিজ্ঞতা হয়েছে আশুতোষের। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল ও বোস্টন চিলড্রেনস হসপিটালের গবেষকদের সঙ্গে ছোট অণু ও প্রিসিশন ভ্যাকসিন সংশ্লিষ্ট গবেষণায় সহযোগিতা করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।   পিএইচডির পর এবার গবেষণার ক্ষেত্র আরও সরাসরি ওষুধ আবিষ্কারের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন আশুতোষ। চলতি আগস্টে ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনের কলেজ অব ফার্মেসিতে পিএইচডি পরবর্তী গবেষক হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা তাঁর। সেখানে সিনথেটিক অর্গানিক কেমিস্ট্রিতে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে মেডিসিনাল কেমিস্ট্রি ও ড্রাগ ডিসকভারির কাজে ব্যবহার করবেন।   নতুন গবেষণায় জৈবিকভাবে সক্রিয় ক্ষুদ্র অণুর নকশা, সংশ্লেষণ ও কার্যকারিতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। ভবিষ্যতে সিনথেটিক ও মেডিসিনাল কেমিস্ট্রির সঙ্গে কম্পিউটেশনাল মডেলিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে যুক্ত করে ওষুধ উদ্ভাবনের গবেষণা আরও এগিয়ে নিতে চান তিনি।   খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত এলাকা থেকে চট্টগ্রামের কম্পিউটার দোকান, সেখান থেকে ঢাকায় সরকারি অফিসের চাকরি, বুয়েটের গবেষণাগার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি, আশুতোষের দীর্ঘ পথচলার নতুন গন্তব্য এখন ওষুধ উদ্ভাবনের গবেষণা। তাঁর লক্ষ্য, এমন গবেষণায় যুক্ত হওয়া যার ফল শেষ পর্যন্ত মানুষের চিকিৎসায় নতুন ও কার্যকর ওষুধ তৈরিতে কাজে লাগতে পারে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
পিএইচডিতে চুরির অভিযোগের পর এবার ৩ বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির দাবিও ভুয়া?
পিএইচডিতে চুরির অভিযোগের পর এবার ৩ বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির দাবিও ভুয়া? বিতর্কে কেমব্রিজের অধ্যাপক

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেসন আর্ডে নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন। পিএইচডি গবেষণাপত্রে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগের পাশাপাশি, আরও দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করার দাবি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বলছে, আর্ডে কখনোই সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মরত ছিলেন না।    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জেসন আর্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার পিএইচডি অভিসন্দর্ভে ১০০টিরও বেশি অংশ অন্য একজন গবেষকের কাজ থেকে যথাযথ স্বীকৃতি ছাড়া নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিজের জীবনীতে তিনি ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগো এবং ডারহাম ইউনিভার্সিটিতে একাডেমিক পদে কাজ করার দাবি করেছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জানিয়েছে, তাদের এমন কোনো আনুষ্ঠানিক রেকর্ড নেই।    জেসন আর্ডে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, লিভারপুল জন মুরস বিশ্ববিদ্যালয়, যেখান থেকে তিনি পিএইচডি সম্পন্ন করেন, ইতোমধ্যে অভিযোগ তদন্ত করে কোনো একাডেমিক অসদাচরণের প্রমাণ পায়নি। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তে তার আপত্তি নেই।    এদিকে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ও জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অসদাচরণবিষয়ক নীতিমালা অনুযায়ী, প্রয়োজন হলে অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত করা হতে পারে।    জেসন আর্ডে ২০২৩ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে আলোচনায় আসেন। অটিজমে আক্রান্ত এবং শৈশবে বাকপ্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ওঠার তার ব্যক্তিগত জীবনসংগ্রাম আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো তার একাডেমিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি আবেদনকারীদের জন্য ১৮১টি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে চান? ১৮১ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন ফি ও ভর্তি সম্ভাবনার তথ্য এক তালিকায়

যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করার স্বপ্ন দেখছেন? কিন্তু কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করবেন, কোথায় আবেদন ফি কম, কোথায় ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করছেন? সেই সমস্যার সমাধান দিতে তৈরি হয়েছে ১৮১টি শীর্ষস্থানীয় মার্কিন R1 (Carnegie Classification) গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার।   প্রায় এক মাস ধরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও বিশ্লেষণ করে তৈরি করা এই তালিকায় একসঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন ফি, ২০২৫ সালের উপলব্ধ ভর্তি তথ্যের ভিত্তিতে আনুমানিক পিএইচডি অ্যাকসেপ্টেন্স রেট (Acceptance Rate) এবং ডুওলিঙ্গো ইংলিশ টেস্ট (DET) গ্রহণ করে কি না এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।   সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অ্যাকসেপ্টেন্স রেট অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। ফলে শত শত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ঘেঁটে সময় নষ্ট না করে আবেদনকারীরা খুব সহজেই নিজেদের প্রোফাইলের সঙ্গে মিলিয়ে একটি বাস্তবসম্মত শর্টলিস্ট তৈরি করতে পারবেন। এতে আবেদন ব্যয়, প্রতিযোগিতার মাত্রা এবং সম্ভাব্য সুযোগ সবকিছু এক নজরেই বোঝা সম্ভব।   তালিকার প্রস্তুতকারীর দাবি, তথ্যগুলো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংকলন করা হয়েছে। তবে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়নি, সেগুলো ইচ্ছাকৃতভাবেই বাদ রাখা হয়েছে, যাতে বিভ্রান্তিকর তথ্য অন্তর্ভুক্ত না হয়।   উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি আবেদনের ক্ষেত্রে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাঙ্কিং নয়, গবেষণার ক্ষেত্র, সম্ভাব্য সুপারভাইজার, অর্থায়নের সুযোগ, আবেদন ব্যয় এবং ভর্তি প্রতিযোগিতার মতো বিষয়গুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই একটি নির্ভরযোগ্য ও সংগঠিত তথ্যভান্ডার আবেদনকারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও সহজ ও কার্যকর করতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা থাকলে আবেদন শুরু করার আগে এই তথ্যভান্ডার একবার দেখে নেওয়া আপনার সময়, অর্থ এবং পরিশ্রম তিনটিই বাঁচাতে পারে। তাই সম্পূর্ণ তালিকাটি দেখে নিজের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেছে নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া না করাই ভালো।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যে ফুল ফান্ডেড পিএইচডির সুযোগ পেলেন আকিব
মেধার জোরে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, যুক্তরাজ্যে ফুল ফান্ডেড পিএইচডির সুযোগ পেলেন আকিব

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আকিব তাহমিদ যুক্তরাজ্যের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ গবেষণা বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক গবেষণা পরিষদের অর্থায়নে পরিচালিত হোয়াইট রোজ ডক্টরাল প্রশিক্ষণ অংশীদারত্বের অধীনে যুক্তরাজ্যের হাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ অর্থায়িত সামাজিক গবেষণায় স্নাতকোত্তর এবং অপরাধবিজ্ঞান বিষয়ে পিএইচডি গবেষণা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন।   ২০১৪–১৫ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হওয়া আকিব তাহমিদ এই বৃত্তির আওতায় এক বছর মেয়াদি সামাজিক গবেষণায় স্নাতকোত্তর এবং পরবর্তী সাড়ে তিন বছর মেয়াদি অপরাধবিজ্ঞান বিষয়ে পিএইচডি গবেষণা করবেন।   এই মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে তাঁর সম্পূর্ণ শিক্ষাব্যয় বহন করা হবে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্য গবেষণা ও উদ্ভাবন সংস্থার নির্ধারিত হারে তিনি নিয়মিত মাসিক ভাতাও পাবেন, যা যুক্তরাজ্যে তাঁর উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ব্যয় নির্বাহে সহায়তা করবে।   হোয়াইট রোজ ডক্টরাল প্রশিক্ষণ অংশীদারত্ব যুক্তরাজ্যের একটি স্বীকৃত গবেষণা প্রশিক্ষণ কাঠামো, যেখানে সামাজিক বিজ্ঞান ও মানবিক বিষয়ে উচ্চমানের গবেষণার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা হয়। যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক গবেষণা পরিষদের অর্থায়নে পরিচালিত এই ধরনের বৃত্তি দেশটির গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে বিবেচিত।   এর আগে আকিব তাহমিদ ব্রিটিশ কাউন্সিলের গ্রেট বৃত্তি ২০২৪–২৫ অর্জন করেন। এই বৃত্তির মাধ্যমে তিনি হাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর কার্যক্রম সম্পন্ন করেন এবং বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে ডিগ্রি অর্জন করেন।   আইন বিষয়ে একাডেমিক যাত্রার পাশাপাশি অপরাধবিজ্ঞান ও সামাজিক গবেষণার ক্ষেত্রে তাঁর নতুন গবেষণা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।   চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাক্ষেত্রে এমন সাফল্য অর্জন দেশের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জন্যও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
সাফল্যের সাথে পিএইচডি সম্পন্ন করেন ড. ইসমাইল হোসেন
মাত্র ৩ বছর ৯ মাসে পিএইচডি সম্পন্ন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হচ্ছেন বাংলাদেশি গবেষক ড. ইসমাইল হোসেন

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা অ্যাট বার্মিংহাম (ইউএবি)-এ সফলভাবে পিএইচডি অভিসন্দর্ভ (ডিসার্টেশন) ডিফেন্স সম্পন্ন করেছেন বাংলাদেশি গবেষক ড. মো. ইসমাইল হোসেন। তাঁর এই অর্জনের কথা জানিয়েছেন ইউএবির সেন্টার ফর সাইবার সিকিউরিটির পরিচালক ও কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাগিব হাসান।     নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে অধ্যাপক রাগিব হাসান জানান, ড. ইসমাইল হোসেন তাঁর তত্ত্বাবধানে পিএইচডি সম্পন্ন করা অষ্টম গবেষক। ২০২২ সালে ইউএবিতে গবেষণা শুরু করার পর মাত্র ৩ বছর ৯ মাসে তিনি পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন, যা গবেষণার সময়কাল বিবেচনায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য।     অধ্যাপক রাগিব হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, ড. ইসমাইলের গবেষণার বিষয় ছিল স্মার্ট বিল্ডিং ও স্মার্ট অবকাঠামো। গবেষণাকালে তিনি স্মার্ট বিল্ডিং প্রকল্পের প্রধান পিএইচডি গবেষক হিসেবে কাজ করেন। এই সময়ে অধ্যাপক রাগিব হাসান, অধ্যাপক নাসিম উদ্দিন এবং আরেক পিএইচডি গবেষক জিসাদের সঙ্গে যৌথভাবে ১০টি আইইইই (IEEE) পিয়ার-রিভিউড গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তাঁদের গবেষণার ভিত্তিতে দুটি প্রভিশনাল পেটেন্টও ইস্যু হয়েছে।     গবেষণায় কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ইউএবি থেকে ব্লেজার ফেলোশিপসহ একাধিক সম্মাননা অর্জন করেন ড. ইসমাইল হোসেন। একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দিয়েছেন।     ফেসবুক পোস্টে অধ্যাপক রাগিব হাসান তাঁর শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত গুণাবলীরও প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, গবেষণার বাইরেও ড. ইসমাইল ও তাঁর পরিবার তাঁদের পরিবারের ঘনিষ্ঠজন হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে গত বছর অধ্যাপক রাগিব হাসানের দুর্ঘটনার পর ড. ইসমাইল এবং তাঁর গবেষণা দলের সদস্যরা পরিবারের পাশে থেকে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করেছেন।     অধ্যাপক রাগিব হাসান আরও জানান, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী মাসে ড. ইসমাইল হোসেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে টেনিউর-ট্র্যাক সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেবেন।     পোস্টের শেষাংশে তিনি ড. ইসমাইল হোসেনকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের আরেকজন মেধাবী গবেষকের এই সাফল্য তাঁকে গর্বিত করেছে। তিনি ড. ইসমাইলের গবেষণা ও একাডেমিক জীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
জাপানে ফুল স্কলারশিপ নিয়ে পিএইচডি করার সুযোগ

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য জাপান থেকে এসেছে আকর্ষণীয় এক সুযোগ। দেশটির কোচি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (কেইউটি) ২০২৭ সালের স্পেশাল স্কলারশিপ প্রোগ্রামের আওতায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে। বিশ্বের যেকোনো দেশের যোগ্য শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।   বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি একটি পূর্ণ অর্থায়নের পিএইচডি কর্মসূচি। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি, নিবন্ধন ফি এবং সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহন করা হবে। পাশাপাশি জীবনযাপনের জন্য মাসিক ভাতা, গবেষণাসংক্রান্ত সহায়তা এবং যাতায়াত ব্যয়ের সুবিধাও দেওয়া হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আবেদন করতে কোনো ফি দিতে হবে না।   গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই কোচি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি দীর্ঘদিন ধরে এই বিশেষ বৃত্তি কর্মসূচি পরিচালনা করছে। তিন বছর মেয়াদি এই পিএইচডি প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীরা এপ্রিল অথবা অক্টোবর সেশনে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন। ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কোচি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি জাপানের অন্যতম স্বনামধন্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। আধুনিক গবেষণা অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠানটি বিশেষভাবে পরিচিত।   এই বৃত্তির আওতায় ইন্টেলিজেন্ট মেকানিক্যাল অ্যান্ড অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড ফোটোনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডিজাইন, ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স, ইনফরমেটিকস, ডেটা অ্যান্ড ইনোভেশন এবং ইকোনমিকস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার সুযোগ রয়েছে।   আবেদনকারীদের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি থাকতে হবে অথবা ডিগ্রি সম্পন্ন হওয়ার শেষ পর্যায়ে থাকতে হবে। ভর্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ার সময় আবেদনকারীর বয়স ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। পাশাপাশি ভালো একাডেমিক ফলাফল, গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে।   বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদন করার আগে সম্ভাব্য সুপারভাইজারের অনুমোদন নিতে হবে। এজন্য প্রথমে নির্ধারিত গবেষণা প্রকল্প নির্বাচন করে সংশ্লিষ্ট সুপারভাইজার বা প্রকল্প পরিচালকের কাছে প্রি-অ্যাপ্লিকেশন রিকোয়েস্ট ফরম পাঠাতে হবে। অনুমোদন পাওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ আবেদন জমা দেওয়া যাবে।   আবেদনের জন্য প্রয়োজন হবে অনলাইন আবেদনপত্র, বৈধ পাসপোর্টের কপি, জীবনবৃত্তান্ত, ইংরেজি ভাষা দক্ষতার সনদ, গবেষণা প্রস্তাবনা, কভার লেটার এবং ব্যক্তিগত বিবৃতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, পিএইচডি সম্পন্ন করতে শিক্ষার্থীদের তিন বছর অধ্যয়ন, নির্ধারিত ক্রেডিট অর্জন, চূড়ান্ত গবেষণা প্রতিরক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করা এবং অন্তত একটি স্বনামধন্য পিয়ার-রিভিউড জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশ করতে হবে।   বিদেশে গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ খুঁজছেন এমন শিক্ষার্থীদের জন্য এই বৃত্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী জাপানে প্রযুক্তি, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি বা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গবেষণা করতে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি হতে পারে একটি আকর্ষণীয় পথ। ২০২৭ সালের এই স্পেশাল স্কলারশিপ প্রোগ্রামে আবেদনের শেষ তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২৬।   সূত্র: কোচি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, জাপান

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে চাকরির সুযোগ

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে চাকরির সুযোগ, আবেদন ৫ অক্টোবর পর্যন্ত

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০