যুক্তরাষ্ট্রে চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট দেশটির সেবা খাতের কর্মীদের জন্য এক অবিশ্বাস্য আর্থিক আশীর্বাদ নিয়ে এসেছে। দেশটির বোস্টন শহরের এক নারী বারটেন্ডার মাত্র একটি দিনের শিফটে কাজ করে প্রায় ১,০০০ মার্কিন ডলার বকশিশ বা টিপস পেয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। স্বাভাবিক কর্মদিবসের তুলনায় এটি অনেক গুণ বেশি অর্থ। আন্তর্জাতিক ফুটবল ভক্ত ও দর্শকদের ভিড়ের কারণে বারের সাধারণ একটি দিনের শিফট কীভাবে বিপুল আয়ের সুযোগে পরিণত হয়েছে, সেই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। ক্যালে ম্যাটুলোনিস নামের ওই তরুণী বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে বারটেন্ডার হিসেবে কাজ করছেন। তিনি জানান, বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচ দেখতে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজার হাজার আন্তর্জাতিক দর্শক এখন বোস্টন শহরে অবস্থান করছেন। ঘটনার দিন সকালের শেষভাগ থেকে শুরু করে সন্ধ্যার পূর্ব পর্যন্ত প্রায় পৌনে সাত ঘণ্টা তিনি একটানা কাজ করেন। ক্যালে ম্যাটুলোনিস সংবাদমাধ্যম নিউজউইককে বলেন, "আজ কাজের চাপ এত বেশি ছিল যে আমি পুরোপুরি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। এটি ছিল অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমের একটি দিন, তবে একই সাথে এটি বেশ মজাদারও ছিল।" একটি মাত্র কর্মদিবসে বকশিশ বা টিপস থেকে এত বিশাল পরিমাণ টাকা আয় করাকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও বিরল ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন ক্যালে। তিনি বলেন, "হ্যাঁ, আমি নিশ্চিতভাবেই অন্যান্য সাধারণ দিনের তুলনায় অনেক বেশি টাকা আয় করেছি। দিনে এক হাজার ডলার আয় করা কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়।" বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে বারে বেচাকেনা এবং গ্রাহকদের ভিড় কিছুটা বাড়বে বলে তিনি আগে থেকে ধারণা করলেও, আয়ের পরিমাণ যে এতটা আকাশচুম্বী হবে তা তিনি ভাবতেও পারেননি। এই অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি তাকে বেশ চমকে দিয়েছে। খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বড় কোনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলাকালীন আয়োজক শহরগুলোর বার, রেস্তোরাঁ এবং হোটেলগুলোতে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের আনাগোনা এবং ভিড় অনেক বেড়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে খেলা দেখা, বন্ধুদের বড় দল নিয়ে টেবিল বুকিং করা এবং উৎসবমুখর পরিবেশে খরচ করার প্রবণতার কারণেই মূলত বারের কর্মীরা সাধারণ সময়ের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে বকশিশ বা টিপস পেয়ে থাকেন। ক্যালের ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটিই ঘটেছে, যার বড় একটি অংশ এসেছে স্কটল্যান্ডের ফুটবল ভক্তদের কাছ থেকে। চলতি সপ্তাহে স্কটল্যান্ডের বিপুল সংখ্যক ফুটবল সমর্থক বোস্টন শহরজুড়ে অবস্থান করছেন। ক্যালের বারে আসা গ্রাহকদের একটি বড় অংশই ছিল স্কটিশ নাগরিক। ক্যালে জানান, সেই নির্দিষ্ট দিনে তার মোট আয়ের অন্তত অর্ধেক টাকাই এসেছে এই স্কটিশ সমর্থকদের পকেট থেকে। সাধারণত যেসব দেশে বকশিশ বা টিপস দেওয়ার নিয়ম নেই, সেসব দেশের নাগরিকদের সুবিধার্থে বিশ্বকাপের এই ব্যস্ত সময়ে বিলের সাথে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ বা গ্র্যাচুইটি যোগ করার অনুমতি দিয়েছিল বারের মালিকপক্ষ। তবে স্কটল্যান্ডের সমর্থকেরা সেই নির্ধারিত বিলের বাইরেও অত্যন্ত উদারভাবে আলাদা করে ক্যালেকে মোটা অঙ্কের বকশিশ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক এই ফুটবল ভক্তদের উদারতা ও চমৎকার ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে ক্যালে ম্যাটুলোনিস এখন তাদের দেশের ফুটবল দলের সমর্থক হয়ে গেছেন। তিনি আনন্দের সাথে জানান, যেহেতু ওই দিন আগত গ্রাহকদের বেশিরভাগই স্কটল্যান্ডের নাগরিক ছিলেন এবং তারা তাকে মন খুলে বকশিশ দিয়েছেন, তাই তিনি এখন মনেপ্রাণে ফুটবল মাঠে স্কটল্যান্ড দলের জয় কামনা করছেন। ফুটবল বিশ্বকাপ আমেরিকার সাধারণ চাকরিজীবী ও সেবা খাতের কর্মীদের জীবনে যে এমন দারুণ অর্থনৈতিক জোয়ার নিয়ে আসবে, তা এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।
চলমান ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে আসা লাখ লাখ বিদেশি ফুটবল ভক্তদের মধ্যে আমেরিকার একটি জনপ্রিয় সালাদ ড্রেসিং বা সস নিয়ে তুমুল উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। ‘র্যাঞ্চ ড্রেসিং’ (Ranch Dressing) নামের এই সসটির স্বাদ পেয়ে বিদেশি পর্যটকেরা এতটাই দিওয়ানা হয়েছেন যে, দেশে ফেরার সময় তারা দলে দলে এই সসের বোতল ব্যাগে ভরে নিয়ে যাচ্ছেন। আর তাতেই বিপাকে পড়েছে মার্কিন বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা বিভাগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন (TSA) আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য একটি বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। টিএসএ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই প্রিয় র্যাঞ্চ সসের বোতল কোনোভাবেই বিমানের ‘ক্যারিয়ন’ বা হাতের ব্যাগে নেওয়া যাবে না। নিয়মানুযায়ী বিমানে হাতের ব্যাগে ৩.৪ আউন্সের বেশি তরল বহন করা নিষেধ। তাই কেউ যদি এই সস দেশে নিয়ে যেতে চান, তবে তাকে অবশ্যই সেটি বুকিং লাগেজ বা ‘চেকড ব্যাগে’ প্যাক করতে হবে। গত ১৬ জুন নিজেদের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এই সসের বোতলের ছবি শেয়ার করে টিএসএ রসিকতা করে লেখে, "আপনারা যারা একটি বিশাল ক্রীড়া ইভেন্ট উপভোগ করতে এসেছেন এবং এখানে এসে র্যাঞ্চ সসের সন্ধান পেয়েছেন... দয়া করে বাড়ি ফেরার সময় এটি আপনাদের চেকড ব্যাগে রাখুন।" রসিকতা করে তারা আরও যোগ করে, "বিমানবন্দরে র্যাঞ্চ সস নিয়ে শেষ ঝামেলা হওয়ার পর পার হওয়া দিন: ০।" সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একজন ইউরোপীয় ভক্ত লিখেছেন, "আমাকে আগে কেউ কেন বলেনি যে র্যাঞ্চ সস আসক্তির মতো? ইউরোপে আমাদের দ্রুত র্যাঞ্চ সস দরকার!" ইউরোপের অনেক দেশেই এই সসটি সচরাচর পাওয়া যায় না শুনে অনেক মার্কিন নাগরিকও অবাক হয়েছেন। বিশ্বকাপের সুবাদে বিদেশি দর্শনার্থীরা কেবল আমেরিকান খাবারই নয়, এখানকার সংস্কৃতিকেও বেশ উপভোগ করছেন। এই যেমন চলতি সপ্তাহে বস্টনের এসকেলেটরে নরওয়েজিয়ান ফুটবল ভক্তদের ঐতিহ্যবাহী 'ভাইকিং রোয়িং' (নৌকা বাইচের মতো অঙ্গভঙ্গি) করার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এছাড়া বস্টনের স্থানীয় বারগুলোতে স্কটিশ ফুটবল ভক্তদের তুমুল ভিড় ও বিয়ারের রেকর্ড চাহিদার কথাও জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টানা প্রায় পাঁচ মাসব্যাপী তেল অবরোধের কারণে যখন কিউবার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ভেঙে পড়ছে, তখন দেশটির সাধারণ মানুষের মনে এক নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে। দ্বীপরাষ্ট্রটির জনগণের বড় একটি অংশ আশা করছে, আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ হয়তো তাদের যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসন থেকে রক্ষা করবে অথবা অন্ততপক্ষে আগামী ১৯ জুলাই টুর্নামেন্ট শেষ হওয়া পর্যন্ত সাময়িক স্বস্তি দেবে। বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই ভূ-রাজনৈতিক সংকটের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী মনোভাবের মুখে কিউবানরা এখন বিশ্বকাপকে তাদের এক ধরনের সুরক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচনা করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে নিযুক্ত কিউবার সাবেক রাষ্ট্রদূত কার্লোস আলজুগারে এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেছেন, “বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এই মুহূর্তে কিউবায় কোনো ধরনের সামরিক অভিযান চালানো বেশ কঠিন হয়ে পড়বে।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের খুবই কাছাকাছি অবস্থিত। ফলে যেকোনো মার্কিন হামলার জবাবে কিউবা ড্রোন বা অন্যান্য আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে, বিশেষ করে দক্ষিণ ফ্লোরিডার বহু লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে। যা এই বিশ্বমঞ্চের আয়োজনকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করতে পারে। এবারের বিশ্বকাপের স্কটল্যান্ড বনাম ব্রাজিল ম্যাচসহ মোট সাতটি গুরুত্বপূর্ণ খেলা কিউবার উত্তর উপকূল থেকে মাত্র ২০০ মাইল দূরে অবস্থিত মার্কিন শহর মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডসহ মোট আটটি দেশের ফুটবল দলের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পও এই ফ্লোরিডাতেই অবস্থিত। আগামী ১৫ জুন মিয়ামিতে উরুগুয়ে বনাম সৌদি আরবের মধ্যকার প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে, যা দেখতে হাজার হাজার আন্তর্জাতিক ফুটবল অনুরাগী ইতিমধ্যেই ওই শহরে জড়ো হতে শুরু করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববাসীর নজর যেখানে এই অঞ্চলের দিকে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেবে না বলেই ধারণা করছেন কূটনৈতিক মহল। তবে কিউবার ওপর মার্কিন চাপ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা নথির বরাতে জানা গেছে, কিউবার কমিউনিস্ট সরকার রাশিয়া ও ইরান থেকে প্রায় ৩০০টি সামরিক ড্রোন সংগ্রহ করেছে, যার মধ্যে কিছু ড্রোনের পাল্লা ১,৫০০ মাইল পর্যন্ত। এই রিপোর্টের পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গুয়ান্তানামো বে সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শনকালে কিউবাকে সতর্ক করে বলেছেন যে, আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে পারে এমন অস্ত্র সংগ্রহ করা কিউবা সরকারের জন্য মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। এর জবাবে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো মার্কিন সামরিক হামলার পরিণতি হবে এক ‘ভয়াবহ রক্তগঙ্গা’। বর্তমানে কিউবার ভেতরের পরিস্থিতি তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বেশ নাজুক হয়ে পড়েছে, যার ফলে রাজধানী হাভানায় বিক্ষিপ্ত প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে। এই জনঅসন্তোষের মাঝেই মার্কিন নজরদারি বিমান দ্বীপটির ওপর চক্কর কাটছে এবং মার্কিন নৌবাহিনীর রণতরী ইউএসএস নিমিটজ কিউবার পশ্চিম উপকূলে অবস্থান নিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাবের মাঝে হাভানার একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা কার্লোস বুস্তামান্তে অবশ্য কিছুটা হতাশা ব্যক্ত করে বলেছেন, “বিশ্বকাপের সময়েই কিউবায় আক্রমণ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে উপযুক্ত সময়। কারণ এই বিশ্ব কিউবার চেয়ে ফুটবলকে অনেক বেশি ভালোবাসে এবং পরোয়া করে।”
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আগে টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে তুমুল সমালোচনা চললেও মেক্সিকোর ১৪ হাজার দর্শক একেবারে বিনামূল্যে উদ্বোধনী ম্যাচ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালতের রায়ে তারা নিজেদের ঐতিহাসিক অধিকার ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। আগামী ১২ জুন মেক্সিকো সিটির আজটেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে এই বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে। এই ঘটনার সূত্রপাত প্রায় ৬০ বছর আগে। ১৯৬০-এর দশকে আজটেকা স্টেডিয়ামটি নির্মাণের সময় অর্থসংকটে পড়ে কর্তৃপক্ষ ৬০০টি বক্স ও প্রায় ৮ হাজার গ্যালারি আসন আগাম বিক্রি করে। তখন ক্রেতাদের শর্ত দেওয়া হয়েছিল যে, ২০৬৫ সাল পর্যন্ত এই স্টেডিয়ামে আয়োজিত যেকোনো ইভেন্ট তারা অতিরিক্ত কোনো টিকিট ছাড়াই দেখতে পারবেন। বর্তমানে এই সুবিধাভোগীদের মোট আসনসংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। এর আগে ১৯৮৬ বিশ্বকাপেও ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এই আসনগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়ে ব্যর্থ হয়েছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে আবারও ফিফা ও স্টেডিয়াম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আসনগুলো নিজেদের টিকিট বিক্রির আওতায় আনার চেষ্টা করলে আসন মালিকদের সংগঠন আদালতের দ্বারস্থ হয়। শেষ পর্যন্ত আদালত আসন মালিকদের পক্ষেই রায় দেয় এবং এই আসনগুলো বিক্রি করতে না পারায় স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষকে প্রায় ৫৪ মিলিয়ন ইউরো ক্ষতিপূরণও দিতে হয়েছে। আসন মালিকদের সংগঠনের মহাসচিব রবার্তো রুয়ানো ওর্তেগা আদালতের এই স্বীকৃতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে বিশ্বকাপের এক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত ইলেকট্রনিক টিকিট হাতে না পৌঁছানোয় তিনি সতর্ক করে বলেছেন, স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে দেওয়া না হলে তারা আবারও বলপ্রয়োগের আইনি ব্যবস্থা চাইবেন। সমস্ত নাটকীয়তার মধ্যেও ১৪ হাজার আসনের মালিকরা ফ্রিতে এই বিশ্বমঞ্চের উদ্বোধনী ম্যাচ উপভোগ করবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস রাখছেন।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১১ জুন থেকে পর্দা উঠছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহোৎসব ফিফা বিশ্বকাপের। ইতিহাসে এবারই প্রথম ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে এই টুর্নামেন্ট। তবে খেলা শুরুর আগেই ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল ‘ট্রাইওন্ডা’। বিখ্যাত ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসের তৈরি এই বলটি শুধু খেলার উপকরণ নয়, বরং প্রযুক্তির এক অনন্য বিস্ময়। তিন আয়োজক দেশের নামের সমন্বয়ে বলটির নামকরণ করা হয়েছে ‘ট্রাইওন্ডা’। ডিজাইন তৈরিতেও রাখা হয়েছে তিন দেশের পতাকার রং—নীল, লাল ও সবুজ। তবে বলটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর ভেতরের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। নিখুঁত রেফারিং ও অফসাইডের সিদ্ধান্ত দ্রুত দিতে এতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘ডিপ-সিম’ প্রযুক্তি এবং একটি ১৪ গ্রাম ওজনের ৫০০ হার্ৎজ মোশন সেন্সর চিপ। এই চিপটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫০০ বার তথ্য (ডেটা) সংগ্রহ করতে পারে। ফলে বলটি কখন, কোথায়, কত গতিতে যাচ্ছে বা কোনো খেলোয়াড়ের শরীরের সামান্যতম স্পর্শ লেগেছে কি না—তা মুহূর্তের মধ্যেই জানা যাবে। এই সেন্সরটি বলের ভেতরে এমনভাবে বসানো হয়েছে যাতে বলের স্বাভাবিক ওজন, বাউন্স বা গতিতে কোনো প্রভাব না পড়ে। এই স্মার্ট বলটির আরেকটি চমকপ্রদ দিক হলো এর পাওয়ার সিস্টেম। ভেতরের সেন্সরটি সচল রাখতে ম্যাচ শুরুর আগে বলটি চার্জ করতে হবে। একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে বলটি টানা ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে পারবে। বাইরে থেকে দেখে সাধারণ মনে হলেও এই বলের সেন্সর ও স্টেডিয়ামের ক্যামেরা একসঙ্গে কাজ করে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও নিখুঁত করবে।
দীর্ঘ বিরতির অবসান ঘটিয়ে আবারও ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছেন ল্যাটিন পপ সম্রাজ্ঞী শাকিরা। ২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সং 'দাই দাই'-এর টিজার প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের চমকে দিয়েছেন তিনি। এবারের গানে তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন নাইজেরিয়ান মিউজিক সেনসেশন বার্না বয়। বৃহস্পতিবার ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে ধারণ করা ভিডিওটির একটি টিজার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেন শাকিরা। ভিডিওটিতে এবারের বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশ—মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার জাতীয় পতাকার রঙে একদল নৃত্যশিল্পীকে পারফর্ম করতে দেখা যায়। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ভিডিওতে শাকিরার আগের গাওয়া গানগুলোর প্রতি সম্মান জানিয়ে ২০০৬, ২০১০ এবং ২০১৪ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ম্যাচ বলগুলো রাখা হয়েছে। জানা গেছে, নতুন এই ট্র্যাকে ল্যাটিন পপের ছন্দের সঙ্গে আফ্রো-বিটের এক অনন্য ফিউশন ঘটিয়েছেন শাকিরা ও বার্না বয়। আগামী ১৪ মে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ থিম সংটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ২০০৬ সালে জার্মানিতে 'হিপস ডোন্ট লাই', ২০১০-এ দক্ষিণ আফ্রিকায় কালজয়ী 'ওয়াকা ওয়াকা' এবং ২০১৪ সালে ব্রাজিলে 'লা লা লা' গেয়ে ফুটবল বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন শাকিরা। মাঝখানে বিরতি দিয়ে আবারও তাঁর রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ফুটবল প্রেমীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা যোগ করেছে। আগামী ১১ জুন থেকে উত্তর আমেরিকায় ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ, যা চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। আসর শুরুর আগে শাকিরার এই গানটিকেই ধরা হচ্ছে বিশ্বকাপের মূল কাউন্টডাউন। ১৪ মে গানটি প্রকাশের পর থেকেই বিশ্বকাপের বৈশ্বিক উন্মাদনা নতুন মাত্রা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।