যুক্তরাষ্ট্রে স্বজন আনার পথে সুখবর, ফ্যামিলি ভিসায় বড় অগ্রগতি; নাগরিকত্বে বাড়ছে ফি
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় একসঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সামনে এসেছে। ডিভি-২০২৭ লটারির রেজিস্ট্রেশন এখনো শুরু না হলেও এটি বাতিল হয়নি। অন্যদিকে আগস্ট ২০২৬ ভিসা বুলেটিনে গ্রিনকার্ডধারীদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের জন্য এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। একই সময়ে নাগরিকত্বের আবেদন ফি বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা চলছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ডিভি-২০২৭ প্রোগ্রামের রেজিস্ট্রেশন শুরুর তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং নতুন তারিখ পরে জানানো হবে। দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ডাইভারসিটি ভিসা প্রোগ্রামের আবেদন প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তবে নির্বাচিতদের ভিসা আবেদনের নির্ধারিত সময়সীমায় কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। ডিভি-২০২৭-এর ভিসা আবেদনের সময়কাল ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত থাকবে।
নতুন ব্যবস্থায় ডিভি লটারিতে রেজিস্ট্রেশনের সময় ১ ডলার ফি নেওয়ার নিয়ম কার্যকর হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান ফি তালিকাতেও ডাইভারসিটি ভিসা রেজিস্ট্রেশন ফি হিসেবে ১ ডলার উল্লেখ রয়েছে। তবে ডিভি-২০২৭ রেজিস্ট্রেশনের সুনির্দিষ্ট শুরুর তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে আগস্টের ভিসা বুলেটিনে ফ্যামিলি স্পনসরড ভিসায় বড় ধরনের অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে এফ২এ ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে সব দেশের জন্য চূড়ান্ত পদক্ষেপের তারিখ এগিয়ে ২২ জুলাই ২০২৬ করা হয়েছে। এফ২এ ক্যাটাগরিতে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনকার্ডধারীদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা অন্তর্ভুক্ত। জুলাইয়ের বুলেটিনে এই তারিখ ছিল ১ জানুয়ারি ২০২৫। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে প্রায় ১৯ মাসের অগ্রগতি হয়েছে।
শুধু এফ২এ নয়, আগস্টের বুলেটিনে এফ১, এফ২বি, এফ৩ ও এফ৪ ক্যাটাগরিতেও অগ্রগতি হয়েছে। একই সঙ্গে এফ২এ ক্যাটাগরির আবেদন জমা দেওয়ার তারিখের তালিকায় সব দেশের জন্য ক্যাটাগরিটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। তবে ভিসা বুলেটিনের তারিখ পরিবর্তন হতে পারে। কোনো ক্যাটাগরিতে আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়ে গেলে পরবর্তী মাসগুলোতে অগ্রগতির গতি কমতে বা তারিখ পিছিয়ে যেতে পারে।
নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে গ্রিনকার্ডধারীকে অন্তত পাঁচ বছর স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে থাকার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে হয়। তবে মার্কিন নাগরিককে বিয়ের মাধ্যমে যোগ্যতা অর্জনকারী অনেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে তিন বছরের নিয়ম প্রযোজ্য। যোগ্য আবেদনকারীরা প্রয়োজনীয় পাঁচ বা তিন বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ৯০ দিন আগেও নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারেন।
তবে নাগরিকত্বের আবেদন ফি বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বর্তমানে নাগরিকত্বের আবেদন ফি এবং সম্ভাব্য নতুন ফি নিয়ে পরিবর্তনের প্রস্তাব থাকলেও, কোনো প্রস্তাবকে চূড়ান্ত কার্যকর ফি হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ফি পরিবর্তন হলে ইউএসসিআইএসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী তা কার্যকর হবে।
ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ডিভি-২০২৭-এর নতুন রেজিস্ট্রেশন তারিখ, ভিসা বুলেটিনে নিজের প্রাইওরিটি ডেটের অবস্থান এবং নাগরিকত্বের যোগ্যতা ও ফি সম্পর্কে সরাসরি মার্কিন সরকারি তথ্য অনুসরণ করা। বিশেষ করে এফ২এ আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আগস্টের অগ্রগতি দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকা অনেক পরিবারের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View more২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের বাটলার শহরে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে এক ব্যর্থ হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ জেমস কোপেনহেভার মারা গেছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার পর দীর্ঘ দুই বছর ধরে তিনি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। ৭৬ বছর বয়সী এই বৃদ্ধের শরীরে গুলির কিছু অংশ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রয়ে গিয়েছিল এবং তিনি স্থায়ী স্নায়বিক ক্ষতির শিকার হয়েছিলেন। হাউস রিপাবলিকান কনফারেন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেমস কোপেনহেভারের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে আইনপ্রণেতারা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, তিনি অসীম শক্তি ও অধ্যবসায়ের সঙ্গে এই অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আয়োজিত ওই সমাবেশে থমাস ম্যাথিউ ক্রুকস নামের এক বন্দুকধারী পাশের একটি গ্লাস ম্যানুফ্যাকচারিং ভবনের ছাদ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ওই ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা কোরি কম্পারেটোর নিহত হন এবং জেমস কোপেনহেভার ও ডেভিড ডাচ নামের দুই দর্শনার্থী গুরুতর আহত হয়েছিলেন। ২০২৫ সালে এক সাক্ষাৎকারে জেমস কোপেনহেভার ওই দিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ট্রাম্পের ভাষণের সময় তিনি পেছনে থাকা জাম্বোট্রন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। হঠাৎ তিনি ডান হাতে টান অনুভব করেন এবং বুঝতে পারার আগেই দ্বিতীয় একটি গুলি তার শরীরে আঘাত হানে। ওই হামলায় তাঁর ট্রাইসেপ ও তলপেটে গুলি লেগেছিল। এই ঘটনার পর তাকে একাধিক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের গাফিলতির কারণে এমন ভয়াবহ ক্ষতির শিকার হয়েছেন দাবি করে চলতি বছরের শুরুতে তিনি ও ডেভিড ডাচ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করেছিলেন। এই হামলার পর মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা ও পরিকল্পনাগত চরম গাফিলতির বিষয়টি সামনে আসে। ব্যাপক সমালোচনার মুখে ঘটনার দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে সংস্থাটির তৎকালীন পরিচালক কিম্বারলি চিটল পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে মার্কিন কংগ্রেসের দ্বিদলীয় টাস্কফোর্সের তদন্তেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে ভয়াবহ ব্যর্থতার প্রমাণ মেলে। এসব ব্যর্থতার জেরে পরে বেশ কয়েকজন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টকে বেতন ছাড়াই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। অন্যদিকে, হামলার পরপরই রক্তমাখা মুখে ট্রাম্পের মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে ‘ফাইট’ বলার দৃশ্যটি তার নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম আলোচিত প্রতীকে পরিণত হয়, যার ওপর ভর করে তিনি গ্রোভার ক্লিভল্যান্ডের পর প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে টানা নয় এমন দুই মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার ইতিহাস গড়েন।
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরু হতেই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট
মিশিগানে হাসপাতালের ভেতর চার মাসের অপরিণত শিশুকে নি র্যাতন, পা ভাঙার অভিযোগ নার্সের বিরুদ্ধে
আমেরিকায় নিত্যপণ্য কিনতে সাশ্রয়ী যেসব সুপারশপ, ওয়ালমার্টের চেয়েও কম দামে বিক্রি করছে কিছু প্রতিষ্ঠান
যুক্তরাষ্ট্রে গত সপ্তাহে বেকারত্ব ভাতার জন্য নতুন আবেদনের সংখ্যা কমে ৫৭ বছরের কাছাকাছি সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে বেকারত্ব ভাতার আবেদন ১ হাজার কমে ১ লাখ ৯৭ হাজারে দাঁড়িয়েছে, যা ১৯৬৯ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি। বৃহস্পতিবার দেশটির শ্রম দপ্তরের প্রকাশিত এই তথ্য প্রমাণ করছে যে, গ্রীষ্মের ধীরগতির পর মার্কিন শ্রমবাজার আবারও তার পুরোনো গতি ফিরে পেয়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, স্থিতিশীল শ্রমবাজারের কারণে চলতি মাসে বেকারত্বের হার ৪.১ শতাংশেই অপরিবর্তিত থাকবে। তবে শ্রমবাজারের এই ইতিবাচক খবরের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বিশেষত ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ গত সপ্তাহে তাদের সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩.৭৫ থেকে ৪.০০ শতাংশে উন্নীত করেছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবার সুদ বৃদ্ধির ঘটনা। এফডব্লিউডি বন্ডস-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্রিস্টোফার রাপকির মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়েছে, তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে ব্যাপক বিনিয়োগের কারণে মার্কিন অর্থনীতি আপাতত পুরোদমে সচল রয়েছে। অন্যদিকে, বন্ডের ঊর্ধ্বমুখী ইয়েল্ডের কারণে দীর্ঘমেয়াদি বন্ধকি ঋণের (মর্টগেজ) সুদের হার ৭.০৩ শতাংশে পৌঁছালেও আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ির বিক্রি অপ্রত্যাশিতভাবে ৬.৪ শতাংশ বেড়েছে। মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাড়ি নির্মাতারা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে দাম কমানোসহ নানা প্রণোদনা দেওয়ায় গত মাসে বার্ষিক হিসেবে ৬ লাখ ৮৪ হাজার নতুন বাড়ি বিক্রি হয়েছে, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ। তবে বিক্রি বাড়লেও বাজারে অবিক্রীত বাড়ির বিশাল মজুত রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে নতুন আবাসন প্রকল্প নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ক্যালিফোর্নিয়ায় বিদ্যুৎ বিলের চাপ কমাতে স্বয়ংক্রিয় ৭৫ ডলার ছাড়, নিউসমের ঘোষণায় স্বস্তিতে লাখো পরিবার
সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার দিতে আদালতের নির্দেশ
নিজেদের আইসিই কর্মকর্তা পরিচয়ে দুই নির্মাণ শ্রমিককে টেনে-হিঁচড়ে নেওয়ার দৃশ্য ভাইরাল
যুক্তরাষ্ট্রে ননসিটিজেন ভোটার খুঁজে বের করতে অন্তত ৪৭টি অঙ্গরাজ্যের ভোটার তালিকা দ্রুত পর্যালোচনার জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে হোয়াইট হাউস। অভ্যন্তরীণ একটি ই-মেইল পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশটির নিরাপত্তা ও অভিবাসন ব্যবস্থার শত শত কর্মকর্তাকে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাজে যুক্ত করা হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বরের ওই ই-মেইলটি পাঠিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) এক কর্মকর্তা। এতে ভোটার তালিকা পর্যালোচনার অগ্রগতি ও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কর্মকর্তাদের সমস্যার কথা উঠে এসেছে। ই-মেইলটি আরও দেখায়, পুরো প্রক্রিয়াটিতে হোয়াইট হাউসের সরাসরি তদারকি রয়েছে। একপর্যায়ে অগ্রগতি না হলে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের সঙ্গে বিষয়টি তোলার কথাও উল্লেখ করা হয়। ডিএইচএসের ‘আনলফুল ভোটার ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় এই যাচাই চলছে। সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটির নিরাপত্তা ও অভিবাসন ব্যবস্থার বিভিন্ন শাখা থেকে শত শত কর্মকর্তাকে ভোটার তালিকায় সম্ভাব্য অনিয়ম খুঁজতে কাজে লাগানো হয়েছে। একই সঙ্গে ডিএইচএসের কাছে পাওয়া ৪৭টি অঙ্গরাজ্যের ভোটার তালিকা দ্রুত যাচাই করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় ভুলভাবে মার্কিন নাগরিকদের ননসিটিজেন হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। ডিএইচএসের কাছে থাকা ভোটার তালিকার কিছু সংস্করণে জন্মসালসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য না থাকায় বিভিন্ন সরকারি তথ্যভান্ডারের সঙ্গে নাম মিলিয়ে দেখা কঠিন হচ্ছে। কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের যাচাইয়ে একই নামের অভিবাসীদের সঙ্গে মিল থাকার কারণে মার্কিন নাগরিকদেরও সম্ভাব্য ননসিটিজেন হিসেবে চিহ্নিত করার ঘটনা ঘটেছে। বিদেশে জন্ম নেওয়া মার্কিন নাগরিকরাও ভুলভাবে এই তালিকায় চলে এসেছেন বলে সংশ্লিষ্ট একজন জানিয়েছেন। ভোটার তালিকার ঘাটতি পূরণ করতে ডিএইচএস বেসরকারি তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাকুরিন্টের কাছ থেকেও তথ্য নিচ্ছে। সরকারি তদন্তকারীরা এসব তথ্য ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস, পররাষ্ট্র দপ্তর এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন। উদ্দেশ্য হলো ভোটার তালিকায় থাকা সম্ভাব্য ননসিটিজেনদের শনাক্ত করা। ডিএইচএসের সচিব মার্কওয়েন মুলিন সম্প্রতি বলেছেন, বর্তমানে ১ হাজার ৬২০টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে এবং এই সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। তবে ১ সেপ্টেম্বরের ই-মেইল অনুযায়ী, যাচাইয়ে চিহ্নিত ব্যক্তিরা সত্যিই ননসিটিজেন এবং ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত বা ভোট দিয়েছেন—এ বিষয়ে ডিএইচএসের কর্মকর্তাদের ‘কিছুটা নিশ্চিততা’ রয়েছে। অর্থাৎ সব চিহ্নিত ব্যক্তির বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। এই উদ্যোগের জন্য ইউএসসিআইএসের জালিয়াতি শনাক্তকরণ ও জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের শত শত কর্মকর্তাকেও সাময়িকভাবে পুনর্নিয়োগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট থেকে অন্তত তিন সপ্তাহের জন্য তাদের এই কাজে যুক্ত করা হয়। কর্মকর্তাদের প্রতি ঘণ্টায় পাঁচটি নাম যাচাইয়ের লক্ষ্য দেওয়া হলেও বাস্তবে সেই লক্ষ্যমাত্রা খুব কমই পূরণ হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের কর্মকর্তাদেরও সম্ভাব্য ননসিটিজেন ভোটারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মতো প্রমাণ আছে কি না, তা যাচাই করতে অতিরিক্ত সম্পদ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগস্টের শেষ দিকে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে একটি ফোনালাপের পর ডিএইচএস কর্মকর্তাদের বৈঠকে আইসিইর সংশ্লিষ্ট দলটি কাজের পরিমাণ ও বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছিল বলেও ই-মেইলে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্য ডিএইচএসকে সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা দিতে রাজি হয়নি। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রেনান সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৬টি অঙ্গরাজ্য কোনো তথ্য বাদ না দিয়ে পূর্ণ ভোটার তালিকা দিতে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে, বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্য এ ধরনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে ডিএইচএসকে অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্য বাদ দেওয়া প্রকাশ্য ভোটার তালিকার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। নেভাদার ঘটনা এই যাচাই প্রক্রিয়ার জটিলতাও তুলে ধরেছে। জুলাইয়ে ডিএইচএস দাবি করেছিল, অঙ্গরাজ্যটির ভোটার তালিকায় প্রায় ১৬ হাজার সম্ভাব্য ননসিটিজেন রয়েছে। পরে নেভাদা কর্তৃপক্ষ প্রমাণ চাইলে ডিএইচএস জানায়, ওই সংখ্যা প্রাথমিক এবং মাত্র ১৮৫টি ঘটনা যাচাই করা হয়েছে। নেভাদার সেক্রেটারি অব স্টেটের কার্যালয় জানিয়েছে, প্রাথমিক দাবিগুলো যাচাইয়ের জন্য আরও তথ্য চাওয়া হলেও ডিএইচএস তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০০০ সাল থেকে সফটওয়্যার ত্রুটি ও প্রশাসনিক ভুলের কারণে অঙ্গরাজ্যগুলোর ভোটার তালিকায় ৩০ হাজারের বেশি ননসিটিজেন যুক্ত হয়ে থাকতে পারেন। তবে তাদের কতজন ভোট দিয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। একইভাবে, ১৯৯৬ সালে ‘ভোটিং বাই এলিয়েনস’ আইন কার্যকর হওয়ার পর এ আইনে মাত্র ১২৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল বলে রয়টার্সের জুলাইয়ের পর্যালোচনায় উঠে আসে। ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর এ আইনে আরও অন্তত ২০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সম্ভাব্য ননসিটিজেন ভোটের সব ঘটনাই তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে। ডিএইচএসও বলেছে, তাদের তদন্ত আইন অনুযায়ী পেশাদারভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাচাই প্রক্রিয়ায় ভুলভাবে মার্কিন নাগরিকদের চিহ্নিত করার ঝুঁকি নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। সূত্র: রয়টার্স
নিউইয়র্কে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের সঙ্গে মেরিল্যান্ড বিএনপি নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ
নিউইয়র্কে মামদানির সঙ্গে সাবওয়ে ট্রেনে ঘুরলেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী