- প্রচ্ছদ
- Topic
মার্কো রুবিও
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো এবং তেল পরিশোধনে সহযোগিতা জোরদার করতে ভারতের ধনকুবের মুকেশ আম্বানির প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে বুধবার (২১ অক্টোবর) ভারতের গুজরাটের জামনগরে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম তেল পরিশোধন কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সফরে রিলায়েন্সের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি ও তাঁর ছেলে অনন্ত আম্বানির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। আলোচনায় ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক সহযোগিতার সম্ভাবনা গুরুত্ব পায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের জামনগরে রিলায়েন্সের দুটি বিশাল তেল শোধনাগার রয়েছে। এগুলোর সম্মিলিত সক্ষমতা দৈনিক প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করা। বিশ্বের বৃহত্তম একক স্থানে অবস্থিত তেল পরিশোধন কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিত এই স্থাপনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ভারী অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে ডিজেলসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য উৎপাদনে প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা রয়েছে। ভারত সফরে মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রিলায়েন্সের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ খুঁজছে। তাঁর মতে, প্রতিষ্ঠানটির বিপুল তেল পরিশোধন সক্ষমতা শুধু ভারতের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পশ্চিম গোলার্ধের দেশগুলো থেকে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল ভারতের শোধনাগারে প্রক্রিয়াজাত করার সুযোগ রয়েছে। এতে ভারতের জ্বালানি আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহ বাড়তে পারে। রুবিও ভারতের তেল পরিশোধন খাতকে একটি ‘পরিশোধন পরাশক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি জানান, রিলায়েন্স অতীতেও ভেনেজুয়েলার ভারী অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করেছে। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়ায় দেশটির আরও বেশি অপরিশোধিত তেল ভারতের শোধনাগারে পাঠানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য, রিলায়েন্স যাতে ভেনেজুয়েলার তেল আমদানি ও পরিশোধন আরও বাড়ায়। একই সঙ্গে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে ভবিষ্যতে তেল উৎপাদন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে। ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ অত্যন্ত ভারী প্রকৃতির। এ ধরনের তেল প্রক্রিয়াজাত করতে বিশেষ প্রযুক্তি ও উন্নত শোধনাগার প্রয়োজন হয়। রিলায়েন্সের জামনগর কমপ্লেক্সে সেই সক্ষমতা রয়েছে। ফলে ভেনেজুয়েলার উৎপাদন বাড়লে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বেশি পরিমাণ তেল আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবহারযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর করা সম্ভব হতে পারে। তবে সরবরাহ বৃদ্ধির পরিমাণ এবং তা বিশ্ববাজারে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে উৎপাদন, পরিবহন, বাণিজ্যিক চুক্তি ও বাজার পরিস্থিতির ওপর। এই সফরের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো ভারতের জ্বালানি আমদানিতে রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমানো। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ভারত রাশিয়া থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কিনে আসছে। মার্কিন প্রশাসন ভারতকে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি কেনার জন্য উৎসাহিত করছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের তেলকে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে ভারতের জ্বালানি আমদানির উৎস পরিবর্তন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। তাই রাশিয়ার তেলের পরিবর্তে ভেনেজুয়েলার তেল ব্যবহার অবিলম্বে পুরোপুরি কার্যকর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। রুবিওর সফর শেষে বুধবার রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৈঠকে প্রচলিত ও নতুন জ্বালানি খাতে বাণিজ্যিক অংশীদারত্বের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, শক্তিশালী সরবরাহব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতের বিনিয়োগ নিয়েও মতবিনিময় করেন উভয় পক্ষ। মুকেশ আম্বানি ও অনন্ত আম্বানি যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তবে এই বৈঠকে নতুন কোনো নির্দিষ্ট তেল সরবরাহ বা বিনিয়োগ চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তেল শোধনাগারের পাশাপাশি রিলায়েন্সের নতুন জ্বালানি উৎপাদন প্রকল্প এবং ডিজিটাল অবকাঠামো সম্পর্কেও ধারণা নেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জামনগরে প্রতিষ্ঠানটির নতুন এনার্জি গিগাফ্যাক্টরি এবং নির্মাণাধীন ডেটা সেন্টার প্রকল্পের তথ্য তাঁকে জানানো হয়। বৈঠকে বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা এবং ডেটা সেন্টার পরিচালনায় জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিষয়টিও উঠে আসে। রিলায়েন্সের মতে, ভবিষ্যতে জ্বালানি ও ডিজিটাল অবকাঠামোর মধ্যে সমন্বিত বিনিয়োগের সুযোগ আরও বাড়বে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন তেল শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনার সঙ্গেও রিলায়েন্সের নাম যুক্ত হয়েছে। গত ১০ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ব্রাউনসভিল বন্দরে একটি নতুন তেল শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে আমেরিকা ফার্স্ট রিফাইনিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এতে রিলায়েন্সের বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি পণ্য কেনার চুক্তির কথা জানানো হয়েছে। প্রস্তাবিত শোধনাগারটির দৈনিক প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা থাকার কথা। ট্রাম্প এই উদ্যোগকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় জ্বালানি চুক্তি হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তবে পুরো ৩০০ বিলিয়ন ডলার একটি তেল শোধনাগার নির্মাণে বিনিয়োগ করা হচ্ছে, এমন তথ্য নিশ্চিত নয়। প্রকল্পটির নির্মাণব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি ক্রয়-বিক্রয়ের আর্থিক মূল্য আলাদা বিষয়। রয়টার্সের মার্চ মাসের প্রতিবেদনে শোধনাগার নির্মাণের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। রিলায়েন্সও ট্রাম্পের ঘোষিত পুরো ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের অঙ্ক আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। প্রস্তাবিত টেক্সাস শোধনাগারটি যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হালকা অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করার জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে। অন্যদিকে ভারতের জামনগর কমপ্লেক্স বিশেষভাবে ভারী অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম। ফলে দুটি প্রকল্পের প্রযুক্তিগত উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য সরবরাহব্যবস্থা এক নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ, জ্বালানি পণ্য কেনা এবং ভারতের পরিশোধন সক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। এসব উদ্যোগের বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে চূড়ান্ত চুক্তি ও প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির মধ্যেই রুবিওর ভারত সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডিজেল পরিবহন, কৃষি, নির্মাণ ও পণ্য সরবরাহ খাতের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি। এর দাম বাড়লে ট্রাক পরিবহন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসার পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় জ্বালানির দাম রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসন তাই আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও ডিজেলের সরবরাহ বাড়ানোর বিভিন্ন সুযোগ খতিয়ে দেখছে। তবে ভেনেজুয়েলা থেকে বেশি অপরিশোধিত তেল কেনা কিংবা ভারতের পরিশোধন সক্ষমতা ব্যবহার করলেই যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য নির্ভর করে উৎপাদন, পরিশোধন, পরিবহন, আন্তর্জাতিক চাহিদা এবং সরবরাহব্যবস্থার ওপর। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। ভারত সফরে মার্কো রুবিওর আলোচনা দুই দেশের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। রিলায়েন্সের বৃহৎ তেল পরিশোধন সক্ষমতা এবং ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেলের সম্ভাব্য সরবরাহকে কাজে লাগাতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। তবে সফরের পর নতুন কোনো বড় চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ঘোষণা আসেনি। আগামী দিনে রিলায়েন্সের সঙ্গে বাণিজ্যিক আলোচনা, টেক্সাসের প্রস্তাবিত শোধনাগারের অগ্রগতি এবং ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ বৃদ্ধির ওপর এই সহযোগিতার বাস্তব ফলাফল নির্ভর করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। অনলাইন প্রেডিকশন মার্কেটের সাম্প্রতিক হিসাব বলছে, দলটির সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে দুজনেরই সম্ভাবনা কমেছে। তবে এই পরিবর্তনকে এখনই রিপাবলিকান ভোটারদের মতামতের বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে সতর্ক করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। প্রেডিকশন মার্কেট পলিমার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মনোনয়নসংক্রান্ত বাজারে মোট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৭১ কোটি ৪০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। সেখানে ৩ সেপ্টেম্বর ভ্যান্সের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছিল প্রায় ৫৩ শতাংশ। মঙ্গলবার সেই হার নেমে এসেছে ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশে। অন্যদিকে, ৩ আগস্ট রুবিওর সম্ভাবনা ছিল ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ, যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ১ শতাংশে। যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ন্ত্রিত আরেকটি প্রেডিকশন মার্কেট কালশির হিসাবেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যদিও সেখানে পরিবর্তনের মাত্রা তুলনামূলক কম। ৩ সেপ্টেম্বর ভ্যান্সের সম্ভাবনা ছিল ৪৫ দশমিক ৮ শতাংশ, মঙ্গলবার তা কমে হয়েছে ৪৩ শতাংশ। রুবিওর ক্ষেত্রে ৩ আগস্টের ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে সম্ভাবনা নেমে এসেছে ১৮ শতাংশে। এই বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭০ হাজার ডলার। ভ্যান্সের সম্ভাবনা কমার পেছনে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যও আলোচনায় এসেছে। সপ্তাহান্তে এক বক্তব্যে তিনি স্বীকার করেন, ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সম্ভাবনাও রয়েছে। নিজের চারটি ছোট সন্তান এবং তাঁর স্ত্রীর রাজনীতির প্রতি অনাগ্রহের বিষয়টি এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তবে অর্থনীতির অধ্যাপক ও প্রেডিকশন মার্কেট গবেষক কোলম্যান স্ট্রাম্পফ মনে করেন, ভ্যান্সের বক্তব্যকে বাজারের পরিবর্তনের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তাঁর মতে, গত এক সপ্তাহে ভ্যান্সের সম্ভাবনা প্রায় চার শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। এর কেবল একটি অংশ তাঁর বক্তব্যের পর ঘটেছে। বাজারের এই পরিবর্তনকে বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সাধারণত ভ্যান্সের সম্ভাবনা কমলে তাঁর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী রুবিওর অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার কথা। কিন্তু এবার দুজনের সম্ভাবনাই কমছে। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস এবং রাজনৈতিক ভাষ্যকার টাকার কার্লসনের মতো সম্ভাব্য বিকল্পদের সম্ভাবনাও এখনো এক অঙ্কের নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ফলে বাজারে ভ্যান্স বা রুবিওর পরিবর্তে কোনো একজন নতুন প্রার্থী স্পষ্টভাবে এগিয়ে আসছেন—এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে না। স্ট্রাম্পফের মতে, দুই শীর্ষ প্রার্থীর সম্ভাবনা কমলেও অন্য কোনো প্রার্থী উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে না আসার অর্থ হতে পারে, বাজারের অংশগ্রহণকারীরা এখনো ভ্যান্সের বক্তব্যকে বড় ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। বরং একাধিক অপেক্ষাকৃত কম সম্ভাবনাময় প্রার্থীর দিকে বাজারের হিসাব কিছুটা ছড়িয়ে পড়তে পারে। নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক কস্টাস প্যানাগোপোলস মনে করেন, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ২০২৮ সালের মনোনয়ন দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর মতে, রিপাবলিকানরা যদি মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে, তাহলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত নেতাদের জন্য সেই সম্পর্ক রাজনৈতিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে। ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও—দুজনই ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হওয়ায় এর প্রভাব তাঁদের ওপরও পড়তে পারে। প্যানাগোপোলসের মতে, কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক অবস্থান আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তবে এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসন ভবিষ্যতের সমস্যার জন্য বিরোধীদের দায়ী করার সুযোগও পেতে পারে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল এবং তার পরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাই ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সান দিয়েগো ক্যাম্পাসের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক থ্যাড কাউসারও মনে করেন, ভ্যান্স ও রুবিওর শক্তির একটি বড় উৎস হলো ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক। গত এক দশকে রিপাবলিকান প্রাথমিক নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সেই সমীকরণ বদলে যায় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। বিশ্লেষকদের মতে, টেক্সাস, কানসাস, আইওয়া বা নেব্রাস্কার মতো ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান-সমর্থিত রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য দলটির জন্য সতর্কবার্তা হতে পারে। এমনকি যেসব এলাকায় রিপাবলিকানদের সহজে জেতার কথা, সেখানে অল্প ব্যবধানে জয়ও দলের সমর্থনে দুর্বলতার ইঙ্গিত দিতে পারে। নির্বাচনের ফলাফলের পর রিপাবলিকানদের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে, তারা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ধারা অব্যাহত রাখবে, নাকি ভিন্ন পরিচয়ের দিকে এগোবে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে কাজ করা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল শাটজের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের খারাপ ফলাফল হলে ক্ষমতার কেন্দ্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা সুবিধার বদলে অসুবিধা হয়ে উঠতে পারে। সে ক্ষেত্রে ২০২৮ সালের মনোনয়ন দৌড় আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রেডিকশন মার্কেটের হিসাবকে সরাসরি জনমত জরিপ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। টেক্সাস ক্রিশ্চিয়ান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কিথ গ্যাডি সতর্ক করেছেন, বাজারের মূল্যকে ভোটারদের মতামতের বিকল্প হিসেবে দেখা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, এসব বাজারে অংশগ্রহণকারীরা কোনো প্রার্থীর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও লেনদেন করেন; প্রার্থী হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা বা জয়ের সম্ভাবনা নিয়েই কেবল তাঁদের হিসাব তৈরি হয় না। অন্যদিকে, স্ট্রাম্পফের মতে, বেশি লেনদেন হওয়া প্রেডিকশন মার্কেট দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রতিফলন দিতে পারে। তবে কোনো পূর্বাভাসই শতভাগ নির্ভুল নয়। সব মিলিয়ে, ভ্যান্স ও রুবিওর সম্ভাবনা কমে যাওয়া রিপাবলিকান ভোটাররা তাঁদের প্রত্যাখ্যান করেছেন—এমন প্রমাণ নয়। বরং এটি ২০২৮ সালের মনোনয়ন নিয়ে বাজারের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিতে পারে। শেষ পর্যন্ত দলীয় সমর্থন, অর্থায়ন, গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সমর্থন এবং ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলই রিপাবলিকানদের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার লড়াইয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টের নকশায় পরিবর্তন আনছে দেশটির সরকার। নতুন নকশার পাসপোর্টে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতীক ঈগলের ছবি এবং দেশটির প্রায় ২৫০ বছরের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো তুলে ধরা হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত ২৯ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে নতুন নকশাটি উন্মোচন করেন। তবে নতুন পাসপোর্ট পেতে নাগরিকদের ২০২৮ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে, অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদন করার সুযোগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে আগামী বছর থেকেই। নেক্সস্টার নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন পাসপোর্টের পাতায় পাতায় ঈগলের ছবি থাকবে। বর্তমানে পাসপোর্টের প্রচ্ছদে থাকা এই জাতীয় প্রতীকটি নতুন নকশাতেও রাখা হচ্ছে, তবে ভেতরের পাতাগুলোতেও এর উপস্থিতি দেখা যাবে। রুবিওর ভাষ্য অনুযায়ী, পাসপোর্টের নকশায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায় তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে রয়েছে লেক্সিংটনের যুদ্ধ, পশ্চিমাঞ্চলে দেশটির বিস্তার, রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের আকাশে উড্ডয়ন, ইও জিমায় মার্কিন পতাকা উত্তোলন এবং আর্টেমিস মহাকাশ অভিযানের পৃথিবীতে ফিরে আসার দৃশ্য। পাসপোর্টের প্রচ্ছদেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন নকশায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সিলমোহর আরও বড় আকারে থাকবে এবং ‘ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা’ লেখা থাকবে প্রচ্ছদের ওপরের দিকে। বর্তমান নকশায় সিলমোহর, ‘পাসপোর্ট’ এবং দেশের নাম নির্দিষ্ট বিন্যাসে থাকলেও নতুন নকশায় লেখার অবস্থান ও প্রতীকের আকারে পরিবর্তন আসবে। নকশাটির মাধ্যমে দেশের ইতিহাস, জাতীয় পরিচয় এবং নাগরিকত্বের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক তুলে ধরতে চায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন পাসপোর্ট উন্মোচনের অনুষ্ঠানে রুবিও বলেন, পাসপোর্ট দেশের সঙ্গে নাগরিকের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের প্রতীক। তাঁর মতে, দেশের সীমান্তের বাইরে গেলেও নাগরিকের সঙ্গে এই সম্পর্ক বজায় থাকে। পাসপোর্টের পাতায় ঈগলের ছবি দেখে বিমানবন্দরে অপেক্ষার সময় যাত্রীরা আগ্রহ নিয়ে সেগুলো উল্টেপাল্টে দেখবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শিশুদের সময় কাটানোর জন্য ভিডিও গেমের বিকল্প হিসেবে ঈগলের ছবি দেখার বিষয়টি মজার ছলে উল্লেখ করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। নতুন পাসপোর্টের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইনে আবেদন করার ব্যবস্থাও চালুর প্রস্তুতি চলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছর থেকে নাগরিকেরা অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদন করতে পারবেন। তবে অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ চালু হওয়া এবং নতুন নকশার পাসপোর্ট হাতে পাওয়া দুটি আলাদা বিষয়। নতুন নকশার পাসপোর্ট ২০২৮ সালের আগে চালু হওয়ার কথা নয়। এতে আবেদনকারীদের জন্য ডিজিটাল সেবা বাড়লেও নতুন পাসপোর্ট পেতে আরও সময় অপেক্ষা করতে হবে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সীমিত সংস্করণের ‘প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট’ প্রকাশ করেছিল দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। ওই বিশেষ পাসপোর্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতি রাখা হয়েছিল। প্রথমে ওয়াশিংটন ডিসির পাসপোর্ট কার্যালয়ে এটি পাওয়া গেলেও পরে জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আরও দুই ডজন কার্যালয়ে এর প্রাপ্যতা বাড়ানো হয়। নতুন নিয়মিত পাসপোর্টের নকশা পরিবর্তনের উদ্যোগটি সেই বিশেষ সংস্করণ থেকে আলাদা। সূত্র: নেক্সস্টার নিউজ, দ্য হিল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বা আইসিসির একজন সাবেক বিচারক নোবেল শান্তি পুরস্কার জেতার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংস্থাটির ওপর নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। শুক্রবার নেওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে আইসিসির সাথে চুক্তিবদ্ধ যেকোনো প্রতিষ্ঠানের লেনদেন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক কোনো চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপর এ ধরনের আক্রমণ এর আগে কখনো দেখা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে আইসিসি প্রতিষ্ঠার রোম চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও পরে তা অনুমোদন করেনি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনোই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে আমেরিকানদের বিচার করার সুযোগ দেবেন না। তিনি আইসিসিকে একটি 'বিপথগামী আদালত' হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, এই কারণেই যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। এর মাধ্যমে সংস্থাটির সাথে সমস্ত লেনদেন নিষিদ্ধ করা হবে এবং তাদের পরিচালনার সক্ষমতা পুরোপুরি পঙ্গু করে দেওয়া হবে। তবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ছয় মাসের একটি শিথিল মেয়াদ বা গ্রেস পিরিয়ড রাখা হয়েছে। এই সময়ে টেলিযোগাযোগ, সফটওয়্যার, পেনশন পরিশোধ এবং বন্দি সংক্রান্ত কিছু লেনদেনের সুযোগ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞার কড়া নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। তারা এটিকে 'আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর ভিত্তির ওপর সরাসরি আঘাত' বলে উল্লেখ করেছে। এক বিবৃতিতে আইসিসি তাদের ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্রকে এই আদালত রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে যে, তারা একা লড়াই করতে পারবে না, তাদের ভাগ্য এখন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর হাতে। এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠান রক্ষার বিষয় নয়, বরং আইনের শাসনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা রক্ষার প্রশ্ন। আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজাত শামিম খান রয়টার্সকে বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য হলো স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের কাজকে বাধাগ্রস্ত করা। তবে তারা তাদের তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। মূলত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের কারণেই ওয়াশিংটন আইসিসির ওপর ক্ষুব্ধ। যদিও আইসিসি জানিয়েছে যে আফগানিস্তান তদন্তটি এখন তাদের অগ্রাধিকার তালিকায় নেই। মার্কো রুবিও তার বিবৃতিতে দাবি করেছেন যে কিছু বহিরাগত বিশেষজ্ঞ আমেরিকান সেনা, সীমান্তরক্ষী এবং নির্বাচিত নেতাদের বিচারের আওতায় আনার জন্য আইসিসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তবে আইসিসি কর্মকর্তারা এমন কোনো পদক্ষেপ নেননি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস জানিয়েছেন, ছয় মাসের এই শিথিল মেয়াদ আলোচনার একটি সুযোগ তৈরি করেছে। তবে আইসিসি যাতে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারে, সেজন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাতেও বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও আদালতকে সুরক্ষার জন্য ইইউ ব্লকিং স্ট্যাটিউট কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এ পর্যন্ত বিশ্বনেতা এবং বড় ধরনের সংঘাতের মূল হোতাসহ ৭০ জনের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এর মধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, সুদানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির এবং লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির মতো নাম রয়েছে। কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াত্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অবশ্য পরে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র সদস্য দেশগুলোকে আইসিসি ছাড়ার আহ্বান জানালেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক ছাড়া ন্যাটোর প্রায় সব সদস্য রাষ্ট্রই আইসিসিকে জোরালো সমর্থন দিয়ে আসছে। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক এই আদালতটিকে রক্ষায় তারা বদ্ধপরিকর। কাকতালীয়ভাবে শুক্রবার এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের কয়েক ঘণ্টা আগেই আইসিসির সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাইকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আইসিসির আপিল বিভাগে দায়িত্ব পালন করা দক্ষিণ আফ্রিকার এই আইনজ্ঞকে পুরস্কৃত করার মাধ্যমে নোবেল কমিটি আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারকদের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে। তারা জানিয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং নির্যাতিতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্বের জন্য অপরিহার্য। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও আইসিসি কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন, যা পরে জো বাইডেন প্রশাসন বাতিল করে দেয়। তবে গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই আইসিসি সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং বিকল্প ব্যাংকিং ও সফটওয়্যার ব্যবস্থা গড়ে তুলছিল। উৎস: রয়টার্স
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আসা ইরানি প্রতিনিধিদলের দুই সদস্য যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তার দাবি, দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার পরও তাঁরা নিউইয়র্কে অবস্থান করছিলেন। একজন শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে, অন্যজন শনিবার সকালে চলে যান। তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নির্দেশে গত সোমবার ইরানের জাতিসংঘ মিশনকে প্রতিনিধিদলের সবাইকে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বলা হয়। শুক্রবার দুই সদস্যের নিউইয়র্কে অবস্থানের বিষয়টি জানতে পেরে তাঁদের চলে যাওয়ার নির্দেশ আবার জানায় ওয়াশিংটন। পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা তাঁদের ‘বের করে দেওয়া হয়েছে’ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফা নির্দেশের পর দুজন পৃথক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়েন। তাঁদের জোরপূর্বক দেশ থেকে সরানোর কোনো বিবরণ মার্কিন কর্তৃপক্ষ দেয়নি। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও তাঁর প্রতিনিধিদলকেও নির্ধারিত সময়ের আগে নিউইয়র্ক ছাড়তে বলেছিলেন রুবিও। জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চললেও তাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে এপি। তবে মূল প্রতিনিধিদলকে বহিষ্কারের আগের মার্কিন দাবি অস্বীকার করেছে ইরানের জাতিসংঘ মিশন। তাদের বক্তব্য, আগে থেকে জানানো সফরসূচি অনুযায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল নিউইয়র্ক ছেড়েছে। সর্বশেষ যে দুই সদস্য শুক্রবার ও শনিবার দেশ ছেড়েছেন, তাঁদের বিষয়ে ইরানের পৃথক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে তার নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশিদের ভ্রমণ ঠেকাতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুধবার ঘোষণা দিয়েছেন, যারা ‘জন্ম পর্যটন’ নামে পরিচিত এই প্রক্রিয়ায় জড়িত বা অন্যদের এ কাজে সহায়তা করেন, তাদের ভিসা দেওয়া সীমিত করা হবে। রুবিওর ঘোষণার আওতায় শুধু যারা নিজেরা জন্ম পর্যটনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান তারাই নন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সহায়তা বা ব্যবসা করেন এমন ব্যক্তিরাও পড়বেন। এর মধ্যে এমন মধ্যস্থতাকারী বা ‘ভিসা ফিক্সার’ও রয়েছেন, যারা ভিসা আবেদনকারীদের তথ্য গোপন বা মিথ্যা বলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পরামর্শ দেন। এক বিবৃতিতে রুবিও বলেন, জন্ম পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত এবং এ থেকে লাভবান ব্যক্তিদের ভিসা দেওয়া সীমিত করে যুক্তরাষ্ট্র একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চায়। তাঁর ভাষ্য, বিদেশিরা যেন মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে নাগরিকত্ব ব্যবস্থাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারেন, সেটিই এই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য। জন্ম পর্যটন বলতে সাধারণত এমন পরিস্থিতিকে বোঝানো হয়, যখন কোনো বিদেশি মূলত যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে প্রবেশ করেন এবং শিশুটি জন্মের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পাবে এমন প্রত্যাশা থাকে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সন্তানের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ পর্যটন ভিসায় অনুমোদিত নয়। নতুন নীতির আওতায় যারা জেনেশুনে জন্ম পর্যটনে যুক্ত হয়েছেন বা অন্যদের এ কাজে সহায়তা করেছেন, তাদের ভিসা সীমিত করার ক্ষমতা ব্যবহার করবে পররাষ্ট্র দপ্তর। বাণিজ্যিকভাবে জন্ম পর্যটন পরিচালনা, সহায়তা বা উৎসাহ দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও এর আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। জন্ম পর্যটনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এর আগে চলতি বছরের আগস্টে প্রশাসন জন্ম পর্যটন ঠেকাতে আরও দুটি নির্বাহী আদেশ জারি করে। এসব পদক্ষেপের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের পরিধি সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের আইনি সিদ্ধান্তের পর প্রশাসন বিকল্প আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা খুঁজতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় আগস্টে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জন্ম পর্যটনের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ উদ্যোগ নেয়। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ওই সময় পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে জন্ম পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ৭৫০টির বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা তখন জানান, বিভিন্ন দেশের ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য ও গতিবিধি বিশ্লেষণ করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, জন্ম পর্যটনের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে ভিসা জালিয়াতির অভিযোগও যুক্ত থাকে। কোনো কোনো আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করে পর্যটন ভিসার আবেদন করতে পারেন। এ ধরনের তথ্য গোপন বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা রয়েছে বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ। চীনও এই নীতির আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের আগের বিভিন্ন তদন্তে চীনা নাগরিকদের জন্য পরিচালিত জন্ম পর্যটনকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কের তথ্য সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের মতো এলাকায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ে অতীতে তদন্ত ও মামলা হয়েছে। তবে জন্ম পর্যটনের সঙ্গে জড়িত সবাই চীনা নাগরিক এমন কোনো দাবি মার্কিন কর্তৃপক্ষ করেনি। নতুন ঘোষণাটি এমন সময় এসেছে, যখন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। ফক্স নিউজ জানিয়েছে, সফরের আগে রুবিওর ঘোষণাটি আসে। তবে ঘোষণার সঙ্গে চীন সফরের সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর দাবি করেছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর ব্যাখ্যা, নির্বাহী আদেশের সীমা এবং কংগ্রেসের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা নিয়ে এ বিতর্কের বিভিন্ন দিক রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন জন্ম পর্যটনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতে চাইছে, কিন্তু এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর আইনি ভিত্তি নিয়ে আদালতে বিতর্কও হয়েছে। আগস্টে জন্ম পর্যটন ও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করার সময় হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, প্রশাসন বিদ্যমান অভিবাসন আইনের ক্ষমতা ব্যবহার করেই নতুন পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। এর ফলে বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আদালত ও কংগ্রেসের আলোচনারও অংশ হয়েছে। রুবিওর সর্বশেষ ঘোষণায় মূল লক্ষ্য হিসেবে জন্ম পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও এর বাণিজ্যিক সহায়তাকারীদের ভিসা প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসা আবেদনকারীদের ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং অভিবাসন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য আরও গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: ফক্স নিউজ ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর
দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু বিদেশি নাগরিকের জন্য নতুন ভিসা বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ভূমি নীতি ও ব র্ণভিত্তিক ব ৈ ষ ম্যের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার মধ্যেই মঙ্গলবার এ ঘোষণা দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্ষতিপূরণ ছাড়াই জমি দখল, ব র্ণভিত্তিক বৈ ষ ম্য অথবা সংখ্যালঘু জাতিগত বা ব র্ণগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে স হিং তায় উসকানি দেওয়ার মতো আইন বা নীতির জন্য দায়ী কিংবা এতে জড়িত বিদেশি নাগরিকদের ওপর এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে। তবে এটি দক্ষিণ আফ্রিকার সব নাগরিকের ওপর ব্ল্যাঙ্কেট ভিসা নিষেধাজ্ঞা নয়। বরং নির্দিষ্ট নীতি বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে মার্কিন প্রশাসন যাদের মনে করছে, তাদের লক্ষ্য করেই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। রুবিও বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারকে আগে থেকেই এসব বিষয়ে উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, দেশটির সরকার সেসব উদ্বেগ যথাযথভাবে মোকাবিলা করেনি। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার সরকারের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের টানাপোড়েন অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় মার্কিন সহায়তা কমিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য আফ্রিকানারদের পুনর্বাসনকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করেছেন। ট্রাম্প এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে আফ্রিকানারদের বিরুদ্ধে বৈ ষ ম্য ও নি পী ড় নের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দেশটিতে ‘শ্বেতাঙ্গ গ ণ হ ত্যা’ চলছে বলেও দাবি করেছেন। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। ২০২৫ সালের মে মাসে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও রামাফোসার বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে তীব্র মতবিরোধ দেখা যায়। বৈঠকে ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ কৃষকদের বিরুদ্ধে স হিং সা তায় প্রমাণ হিসেবে কিছু ভিডিও ও ছবি দেখান। জবাবে রামাফোসা বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার শ্বেতাঙ্গ নাগরিকদের নি পী ড় ন করে—এমন কোনো নীতি দেশটির নেই। রামাফোসা আরও বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় অ প রা ধ ও হ ত্যা কা ণ্ডের ঘটনা রয়েছে, তবে এর শিকার শুধু শ্বেতাঙ্গরা নন; কৃষ্ণাঙ্গরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ ভুক্তভোগী। দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারের এই অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ইরান সংকটের কূটনৈতিক সমাধানে এখনো প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তেহরান এখনো আলোচনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিয়ে রুবিও বলেন, ওয়াশিংটন যুদ্ধের পরিবর্তে আলোচনার পথেই সমাধান চায়। কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে এখনো সেই আন্তরিকতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। রুবিওর এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুটেও পড়তে শুরু করেছে। ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী লোহিত সাগরে সৌদি আরবের জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতেও ইরানের হুমকির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে ইরানের কাছে একটি ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পৌঁছেছে। এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আগের অন্তর্বর্তী সমঝোতা পুনরুজ্জীবিত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে এখনো কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সমঝোতার ঘোষণা দেয়নি। মার্কিন প্রশাসন একদিকে আলোচনার কথা বললেও অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত রেখেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে। রুবিও স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো কূটনৈতিক পথ বন্ধ করেনি। তবে তাঁর ভাষায়, আলোচনায় অগ্রগতি আনতে হলে ইরানকেও বাস্তবসম্মত অবস্থান নিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের বিষয়ে আলোচনা করতে চলতি সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং বাহরাইন সফর করবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সোমবার (২২ জুন) মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই উচ্চপর্যায়ের সফরের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে জানান, আগামী ২৩ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর এই মধ্যপ্রাচ্য সফর অনুষ্ঠিত হবে। সফরকালে তিনি ইরানের সাথে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারক, হরমুজ প্রণালীতে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বিষয়গুলোর ওপর বিশেষভাবে জোর দেবেন। সফরের অংশ হিসেবে বাহরাইনে অবস্থানকালে রুবিও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) প্রতিনিধিদের সাথে একটি বিশেষ বৈঠকে মিলিত হবেন। স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট আরও জানান, এই বৈঠকে উপসাগরীয় দেশগুলোর যৌথ আঞ্চলিক অগ্রাধিকার এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর প্রভাব ফেলে এমন প্রধান প্রধান নিরাপত্তা ইস্যুগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। বিগত সপ্তাহে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে এটিই হতে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সর্বোচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ। এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে একটি ৬০ দিনের আনুষ্ঠানিক আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো গত চার মাস ধরে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধটির স্থায়ী অবসান ঘটানো।
মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শতাধিক বিদেশি নাগরিক ও কর্মকর্তার ওপর নতুন করে ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই ঘোষণা দিয়েছেন। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে নেওয়া এই জরুরি পদক্ষেপের কথা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, নতুন করে জারি করা এই নিষেধাজ্ঞার একটি বড় অংশই নিকারাগুয়ার কর্মকর্তাদের ওপর দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি নিকারাগুয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে এক আদিবাসী অধিকার কর্মীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করেই মূলত মার্কিন প্রশাসন এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, বিভিন্ন দেশের সরকার ও কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতেই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে যারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং সুশীল সমাজের ওপর দমন-পীড়ন, সেন্সরশিপ ও নানা ধরনের নির্যাতন চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করা এর মূল উদ্দেশ্য। ল্যাটিন আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে গণতন্ত্র রক্ষা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে চাপ সৃষ্টির যে নীতি যুক্তরাষ্ট্র অনুসরণ করছে, এই নিষেধাজ্ঞা তারই একটি বড় অংশ বলে জানানো হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী অভিযানে সহায়তা করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, প্রয়োজনের সময় যুক্তরাষ্ট্র আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। তখনই আমরা দেখেছি, ন্যাটোর সদস্য দেশ স্পেন আমাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিচ্ছে না, এমনকি তাদের ঘাঁটিও ব্যবহার করতে অনুমতি দিচ্ছে না। এটি দেখে তারা গর্বও করছে। রুবিও আরও উল্লেখ করেন, কিছু দেশ একই আচরণ করেছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে এর ফল কী হবে?
ইরানে চলমান সামরিক অভিযান ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা নিয়ে আল জাজিরাকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে চূড়ান্ত বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সোমবার (৩০ মার্চ) তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শেষ হওয়ার পর যেকোনো মূল্যে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। রুবিও জোর দিয়ে বলেন, এটি হয় ইরানের সম্মতিতে হবে, অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সামরিক জোটের শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, ইরানে ওয়াশিংটনের সামরিক লক্ষ্যগুলো অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং সেগুলো অর্জনে মাসের পর মাস নয়, মাত্র কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অভিযান শেষেও যদি ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয়, তবে দেশটিকে এর ‘ভয়াবহ পরিণাম’ ভোগ করতে হবে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই প্রণালি সচল করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বাইডেন-ট্রাম্পের উত্তরসূরি প্রশাসন। সাক্ষাৎকারে রুবিও আরও ইঙ্গিত দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কেবল এককভাবে নয় বরং আন্তর্জাতিক মিত্রদের নিয়ে একটি শক্তিশালী জোট গঠনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। তেহরানের প্রতি এই কঠোর হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
ইরানে চলমান সামরিক উত্তজনা ও মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযান নিয়ে আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। হাশেম আহেলবাররার সঙ্গে আলাপকালে রুবিও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, তেহরান বিশ্বকে ব্ল্যাকমেইল করার জন্যই পারমাণবিক শক্তির মালিক হতে চায়, যার ঝুঁকি যুক্তরাষ্ট্র কখনোই নেবে না। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, দেশটির তৈরি স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একমাত্র উদ্দেশ্য হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালানো। রুবিও জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে কেবল পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাই নয়, বরং সব ধরনের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি এবং ‘সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন’ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। সাক্ষাৎকারে রুবিও ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এটি একটি চূড়ান্ত বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় ইরানকে তাদের সামরিক সক্ষমতা সংকোচনের জন্য সরাসরি চাপ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।