- প্রচ্ছদ
- Topic
#লিওনব্ল্যাক
মার্কিন ধনকুবের ও বিনিয়োগকারী লিওন ব্ল্যাককে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনকে নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের তদন্তে হাজির হওয়ার নির্দেশ থাকলেও তিনি সেখানে যাননি। বরং কংগ্রেসের তদন্ত কমিটির জারি করা সমনকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি করেন ব্ল্যাক। মামলায় ব্ল্যাক দাবি করেছেন, প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির জারি করা সমনগুলো অবৈধ। তার মতে, এসব সমনের সঙ্গে কমিটির আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যের কোনো বৈধ সম্পর্ক নেই। কংগ্রেসের সমনের মধ্যে ছিল এপস্টিন-সংক্রান্ত কিছু গোপনীয়তা চুক্তি জমা দেওয়া এবং শপথের অধীনে ক্যামেরার সামনে জবানবন্দি দেওয়া। ব্ল্যাকের দাবি, এসব চুক্তি প্রকাশ করা হলে এমন কিছু নারীর ব্যক্তিগত তথ্য সামনে চলে আসতে পারে, যারা নিজেদের তথ্য গোপন রাখার অধিকার চেয়েছিলেন। ঘটনার সূত্রপাত গত জুনে। তখন এপস্টিনকে নিয়ে কংগ্রেসের তদন্ত কমিটির সামনে স্বেচ্ছায় সাক্ষ্য দিতে হাজির হয়েছিলেন ব্ল্যাক। কিন্তু আইনপ্রণেতারা তাকে কয়েকটি গোপনীয়তা চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করার পর তিনি বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান। এরপর কমিটি তার বিরুদ্ধে সমন জারি করে এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পাশাপাশি ক্যামেরার সামনে শপথ নিয়ে জবানবন্দি দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এবার সেই নির্দেশ মানার বদলে আদালতে গিয়ে সমনগুলোই চ্যালেঞ্জ করলেন তিনি। গোপনীয়তা চুক্তি বলতে এমন একটি আইনি চুক্তিকে বোঝায়, যেখানে দুই পক্ষ সম্মত হয় যে তাদের মধ্যে থাকা নির্দিষ্ট কোনো তথ্য, ঘটনা বা ব্যক্তিগত বিষয় অন্য কারও কাছে প্রকাশ করা যাবে না। সাধারণত কোনো সম্পর্ক, চাকরি, ব্যবসায়িক চুক্তি বা বিরোধের মীমাংসার সময় এ ধরনের চুক্তি করা হয়। লিওন ব্ল্যাকের ক্ষেত্রে কংগ্রেস জানতে চাইছে, এপস্টিন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে এমন কোনো গোপনীয়তা চুক্তি তিনি করেছিলেন কি না এবং সেগুলোতে কী ধরনের তথ্য গোপন রাখার কথা বলা হয়েছিল। ব্ল্যাকের আইনজীবী সুসান এস্ট্রিচ বৃহস্পতিবার বলেন, বিষয়টি এখন আর এপস্টিনের কর্মকাণ্ডের সত্যতা খুঁজে বের করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তার অভিযোগ, তদন্তের আড়ালে ব্ল্যাককে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। তার ভাষায়, গোপনীয়তা চুক্তিগুলো প্রকাশ করা হলে এমন কিছু নারীর পরিচয় বা ব্যক্তিগত তথ্য সামনে আসতে পারে, যাদের এপস্টিনের সঙ্গে কোনো পরিচিত বা প্রকাশ্য সম্পর্ক নেই। এ কারণেই কংগ্রেসের ক্ষমতার অপব্যবহারের জবাব দিতে আদালতে যেতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ব্ল্যাকের আদালতে যাওয়ার খবর সামনে আসার পর কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির সদস্য রবার্ট গার্সিয়া বলেন, ব্ল্যাক দুটি কংগ্রেশনাল সমন অমান্য করছেন। তার ভাষায়, এপস্টিনের সঙ্গে ব্ল্যাকের সম্পর্ক এবং তদন্তে সহযোগিতা করতে তার অনীহা—দুটিই গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি ব্ল্যাককে কংগ্রেস অবমাননার দায়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি। কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমারও ব্ল্যাকের অবস্থানে সন্তুষ্ট নন। তিনি বলেন, আমেরিকান জনগণের সামনে প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে ব্ল্যাক মামলা করে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। কোমারের মতে, এপস্টিনকে ঘিরে চলমান তদন্তে ব্ল্যাকের সাক্ষ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কংগ্রেস অবমাননার অভিযোগ উঠলে বিষয়টি সম্ভাব্য ফৌজদারি বিচারের জন্য মার্কিন বিচার বিভাগের কাছে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। এদিকে এপস্টিনের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে ব্ল্যাকের বক্তব্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ব্ল্যাক জানিয়েছেন, তিনি এপস্টিনকে সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন। দীর্ঘ সময়ের সেই সম্পর্কের সময়ে এপস্টিনকে তিনি মোট ১৫৮ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিলেন বলেও কংগ্রেসের কাছে স্বীকার করেছেন। তবে ব্ল্যাকের দাবি, অর্থগুলো বৈধ কাজের জন্যই দেওয়া হয়েছিল এবং ২০১৯ সালের জুলাইয়ে এপস্টিনের বিরুদ্ধে যৌন পাচারের অভিযোগ ওঠার আগে তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশ করা এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিতেও লিওন ব্ল্যাকের নাম রয়েছে। এসব নথির মধ্যে ছবি, ভিডিও এবং তদন্তের বিভিন্ন তথ্য রয়েছে, যেখানে এপস্টিনের সঙ্গে ব্ল্যাকের যোগাযোগের বিষয়টিও উঠে এসেছে। তবে কোনো ব্যক্তির নাম এসব নথিতে থাকা বা কোনো ছবিতে দেখা যাওয়াকে নিজে থেকেই অপরাধের প্রমাণ হিসেবে ধরা হচ্ছে না। ব্ল্যাকও এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অন্যায় করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ব্ল্যাককে ঘিরে বিতর্কের আরেকটি বড় অংশ সাবেক রুশ মডেল গুজেল গ্যানিয়েভাকে নিয়ে। আদালতের নথি অনুযায়ী, গ্যানিয়েভার সঙ্গে ব্ল্যাকের প্রায় ছয় বছরের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর গ্যানিয়েভা ব্ল্যাকের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন এবং একটি মামলা করেন। সেই মামলায় দাবি করা হয়েছিল, ২০১৫ সালে তার নীরবতা নিশ্চিত করতে ব্ল্যাক একটি গোপনীয়তা চুক্তি করেছিলেন। গ্যানিয়েভার করা মামলাটি পরে আদালত খারিজ করে দেন। বিচারকের সিদ্ধান্তে তার স্বাক্ষর করা গোপনীয়তা চুক্তি এবং চুক্তির পরবর্তী সময়ে তিনি যে প্রায় ৯ মিলিয়ন ডলার পেয়েছিলেন, সেই বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়। ব্ল্যাকের আইনজীবী গ্যানিয়েভার অভিযোগকে ‘স্পষ্টতই মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে ব্ল্যাক নিজে আগে দাবি করেছিলেন, তিনি গ্যানিয়েভার কাছ থেকে উল্টো চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন। এপস্টিনের প্রকাশিত নথিতে গ্যানিয়েভাকে ঘিরে ব্ল্যাক ও এপস্টিনের যোগাযোগের বিষয়টিও উঠে এসেছে। একটি ই-মেইলে এপস্টিন তার সহকারীকে গ্যানিয়েভার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সাবেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এই বিষয়টিও এখন কংগ্রেসের তদন্তের নজরে রয়েছে। ফলে ব্ল্যাকের গোপনীয়তা চুক্তি প্রকাশে আপত্তি এবং কংগ্রেসে হাজির না হয়ে আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত—দুটিই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে ২০২১ সালে ব্ল্যাক তার সহপ্রতিষ্ঠিত অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট থেকে সরে দাঁড়ান। তখন তিনি বলেছিলেন, এপস্টিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা জনসম্মুখের আলোচনা ও সংবাদমাধ্যমের নজরদারি তার স্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল। এখন আবার সেই পুরোনো সম্পর্কই তাকে কংগ্রেসের তদন্তের মুখোমুখি করেছে। আর তদন্ত কমিটির সমন এড়িয়ে আদালতে করা নতুন মামলার পর বিষয়টি কোন দিকে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।