সুইজারল্যান্ড

নিরাপত্তা ও উচ্চ জীবনমানের কারণে বিদেশে নতুন জীবন শুরু করতে আগ্রহী মার্কিন নাগরিকদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। ছবি: সংগৃহীত
বিদেশে নতুন জীবন গড়তে মার্কিনিদের প্রথম পছন্দ সুইজারল্যান্ড, শীর্ষ ১০ দেশের তালিকা প্রকাশ

নিজের জন্মভূমির গণ্ডি পেরিয়ে অন্য কোনো দেশে নতুন করে জীবন সাজানোর স্বপ্ন দেখেন অনেকেই। ভিন্ন জীবনযাত্রা, নতুন কর্মসংস্থান আর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির স্বাদ পেতে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যেও এখন বিদেশে পাড়ি জমানোর ঝোঁক আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। আমেরিকান কর্মীদের জন্য বাসযোগ্য ও কাজের পরিবেশ উপযোগী এমন সেরা দেশগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'কান্ট্রি নেভিগেটর'। গবেষণায় কর্মসংস্থান, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং কাজের সংস্কৃতির মতো বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে সুইজারল্যান্ডকে শীর্ষ স্থানে রাখা হয়েছে।   গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক এই প্রতিবেদনে জানানো হয়, বর্তমানে ওই দেশগুলোতে কতজন মার্কিন নাগরিক বসবাস করছেন, প্রতি বছর আমেরিকা থেকে স্থানান্তরের জন্য কত মানুষ তথ্য খুঁজছেন, শ্রমবাজারের সক্ষমতা, বেকারত্বের হার, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ কতটা মেলবন্ধন তৈরি করে—এইসব গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড বিচার করে ১০ নম্বরের স্কেলে স্কোর নির্ধারণ করা হয়েছে।   ১০ এর মধ্যে ৮.৩৪ নম্বর পেয়ে তালিকায় সবার ওপরে জায়গা করে নিয়েছে ইউরোপের পর্বতঘেরা দেশ সুইজারল্যান্ড। তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি এক লাখ বাসিন্দার বিপরীতে বর্তমানে প্রায় ৪৭৫ জন আমেরিকান বাস করছেন। এছাড়া প্রতি বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সুইজারল্যান্ডে স্থানান্তরিত হওয়ার জন্য ৩১,৭০০-এর বেশি ইন্টারনেট অনুসন্ধান (সার্চ) চালানো হয়। দেশটির জনসেবা, উন্নত পরিকাঠামো এবং উচ্চ নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে সুইজারল্যান্ডের বৃহত্তম শহর জুরিখকে অভিবাসীদের জন্য বিশ্বের অন্যতম সেরা শহর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।   তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ গোলার্ধের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ নিউজিল্যান্ড। তাদের সার্বিক স্কোর ৮.২২। দীর্ঘদিন ধরেই প্রবাসীদের পছন্দের তালিকায় থাকা এই দেশে প্রতি এক লাখ বাসিন্দার মধ্যে প্রায় ৬২১ জন আমেরিকান বসবাস করছেন, যা গবেষণায় পাওয়া সর্বোচ্চ হারগুলোর একটি। প্রতি বছর প্রায় ৬০,৯০০ বার মার্কিন নাগরিকরা নিউজিল্যান্ডে বসবাসের তথ্য জানতে অনুসন্ধান চালান, যা সুইজারল্যান্ডের অনুসন্ধানের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।   ৮.১৬ নম্বর পেয়ে তৃতীয় স্থান দখল করেছে আয়ারল্যান্ড। নতুন বাসিন্দা আকর্ষণে দেশটি তাদের বিশেষ পুনঃবাসন সুবিধাসহ নানা প্রণোদনা কর্মসূচি চালু করায় আন্তর্জাতিক অভিবাসীদের মধ্যে আয়ারল্যান্ডের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।   প্রতিবেদনে বেশ কিছু চমকপ্রদ ও ব্যতিক্রমী তথ্যও উঠে এসেছে। ভৌগোলিকভাবে আমেরিকার খুব কাছে হওয়ায় এবং যাতায়াত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কানাডা তালিকায় পঞ্চম স্থানে নেমে এসেছে। যদিও আমেরিকা থেকে স্থানান্তরের অনুসন্ধানে সবচেয়ে এগিয়ে কানাডা, যার বার্ষিক অনুসন্ধান সংখ্যা ১ লাখ ৫ হাজারেরও বেশি (যা সুইজারল্যান্ডের অনুসন্ধানের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি)। তবুও কানাডায় ৬.৯ শতাংশ উচ্চ বেকারত্বের হার এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় তুলনামূলক মাঝারি স্কোর (৭৬ শতাংশ) থাকায় দেশটি শীর্ষ চারে স্থান পায়নি।   অন্য একটি আশ্চর্যজনক তথ্য হলো, কাজের সংস্কৃতি এবং যোগাযোগের দিক দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সাংস্কৃতিক মিল পাওয়া গেছে ফিনল্যান্ডের। এই গবেষণায় কর্মক্ষেত্রের আচরণের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া 'কালচারাল ডিসটেন্স' স্কোরে ফিনল্যান্ড মাত্র ০.৪ নম্বর পেয়েছে, যা তালিকায় থাকা চারটি ইংরেজিভাষী দেশসহ অন্য সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে।   কান্ট্রি নেভিগেটর-এর গবেষণা অনুযায়ী মার্কিন নাগরিকদের বসবাসের জন্য সেরা ১০টি দেশের তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো:   ১. সুইজারল্যান্ড ২. নিউজিল্যান্ড ৩. আয়ারল্যান্ড ৪. নেদারল্যান্ডস ৫. কানাডা ৬. নরওয়ে ৭. ডেনমার্ক ৮. অস্ট্রেলিয়া ৯. সিঙ্গাপুর ১০. যুক্তরাজ্য   প্রতিবেদনে বলা হয়, উন্নত কর্ম পরিবেশ, নিখুঁত নাগরিক সুবিধা এবং সামাজিক নিরাপত্তার কারণে এই দেশগুলো শুধু মার্কিন নাগরিকদের জন্যই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে যেকোনো প্রবাসীর জন্যই স্বপ্নভূমি হয়ে উঠেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
খেলার আসল আত্মা ধ্বংস করে ফুটবলকে সম্পূর্ণ করপোরেট ব্যবসায় রূপান্তরের প্রতিবাদে জুরিখে ফিফাবিরোধী বিশাল বিক্ষোভ মিছিল। ছবি: সংগৃহীত
ফিফার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন সুইজারল্যান্ডের সমর্থকেরা, দুর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভ

চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট প্রায় শেষের দিকে আসার মুহূর্তে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নিজের দেশ সুইজারল্যান্ডে এক বড় ধরনের কেলেঙ্কারি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে লক্ষ্য করে দেশটির জুরিখ শহরের রাস্তায় হাজার হাজার ফুটবল সমর্থক এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়েছেন। বৈশ্বিক ফুটবলের নানা পদ্ধতিগত ও অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে সাধারণ ফুটবল সমর্থকদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটায় তারা এই আন্দোলনের ডাক দেন।   বিক্ষোভকারীরা ফুটবলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতি, মাত্রাতিরিক্ত ম্যাচ সংবলিত ক্লান্তিকর ক্যালেন্ডার এবং খেলাটির লাগামহীন বাণিজ্যিকীকরণের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। সমালোচকদের মতে, অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে ফুটবলের আসল আত্মাকে ধ্বংস করে একে সম্পূর্ণ করপোরেট ব্যবসায় পরিণত করা হচ্ছে। বর্তমান বিশ্বকাপের কিছু সাম্প্রতিক বিতর্ক এই বিক্ষোভের আগুনে যেন আরও বেশি ঘি ঢেলে দিয়েছে।   চলতি টুর্নামেন্টে ফুলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা বাতিল করার অত্যন্ত বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনা দলের পক্ষে বিশ্বকাপ পাতানো হচ্ছে বলে চারদিকে ছড়িয়ে পড়া ব্যাপক গুজব ফুটবলপ্রেমীদের এই ক্ষোভকে আরও উস্কে দিয়েছে। এসব কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে নিজেদের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করতে সমর্থকরা জুরিখের রাস্তায় রাস্তায় বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত ব্যানার নিয়ে মিছিল করেন।   বিক্ষোভকারীদের বহন করা ব্যানারে ‘আধুনিক ফিফার বিরুদ্ধে’, ‘ফিফার দুর্নীতি বন্ধ করো’, ‘ইনফান্তিনো দূর হটো’ এবং ‘ফুটবল সমর্থকদের সম্পদ’ এর মতো নানা ধরনের স্লোগান দেখা গেছে। বর্তমানে সাধারণ ফুটবল সমর্থক এবং ফুটবল পরিচালনা কর্মকর্তাদের মধ্যকার দূরত্ব ও বৈরিতা এক বিশাল রূপ নিয়েছে। এর আগে ইউরোপিয়ান সুপার লিগ চালুর বিতর্কিত চেষ্টার সময় ফুটবলে শেষবার এই ধরনের বড় আকারের বিদ্রোহ দেখা গিয়েছিল।   ফুটবল বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন ফ্যান গ্রুপ ইতিমধ্যে সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে যে ফিফা যদি গ্যালারির সাধারণ মানুষের মনের কথা ও দাবি শুনতে ব্যর্থ হয়, তবে বিশ্ব ফুটবল খুব শীঘ্রই আরও বড় আকারের গণবিক্ষোভ এবং সমন্বিত বয়কটের মুখোমুখি হতে বাধ্য হবে।

তাবাস্সুম জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০
সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ চার নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ছবি: সংগৃহীত
সুইজারল্যান্ডকে ৩–১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচের নিষ্পত্তি হয় অতিরিক্ত সময়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১০ মিনিটে লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির রেকর্ড দশম অ্যাসিস্ট, যা তাকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতার আসনে বসিয়েছে। গোল হজমের পরও দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে সুইজারল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭ মিনিটে দান এনদোয়ে সমতা ফেরান। এরপর ৭৩ মিনিটে ব্রিল এম্বোলো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড। এরপরও দৃঢ় রক্ষণে আর্জেন্টিনাকে আটকে রাখে তারা। ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকেই এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই অতিরিক্ত সময়ের ১১২ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজ বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক বাঁকানো শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে আলভারেজের প্রথম গোল। এরপর যোগ করা সময়ে সুইজারল্যান্ড সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালালেও রক্ষণে সফলভাবে তা ঠেকিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। পাল্টা আক্রমণে ১২০+১ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজ তৃতীয় গোল করে ম্যাচের ফল নিশ্চিত করেন। টানা কঠিন দুটি নকআউট ম্যাচ জিতে শেষ চারে ওঠা আর্জেন্টিনার সামনে এবার অপেক্ষা করছে ইংল্যান্ড। সেমিফাইনালে দুই দলের লড়াই বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
মার্কিন দাবি সরাসরি নাকচ, পরমাণু কেন্দ্রে জাতিসংঘের পরিদর্শকদের ঢুকতে দেবে না ইরান

সুইজারল্যান্ডে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে প্রথম দফার শান্তি আলোচনা শেষ হতে না হতেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, গত বছর মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় তাদের যেসব প্রধান পরমাণু কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেখানে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার (আইএইএ) কোনো পরিদর্শককে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।   মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়া চরম বিশৃঙ্খলা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলা এই যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সম্প্রতি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য দুই পক্ষকে ৬০ দিনের একটি সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।   এই চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে বর্তমানে কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে রয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইরানের শীর্ষ নেতা মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানে সফর করছেন এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। একই সময়ে ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যেও সরাসরি আলোচনার জোর প্রস্তুতি চলছে।   তবে এই জোরালো কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাঝেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের করা একটি দাবিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ভ্যান্স দাবি করেছিলেন যে, গত বছরের ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধের সময় শত্রুপক্ষের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরমাণু সাইটগুলোতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের পুনরায় আমন্ত্রণ জানাতে সম্মত হয়েছে ইরান।   কিন্তু মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি স্পষ্ট করে জানান, আইএইএ-এর মহাপরিচালকের সাথে পরিদর্শনের বিষয়ে তাদের কোনো বৈঠকই হয়নি। একই সাথে মার্কিন ও ইহুদিবাদী সামরিক আগ্রাসনে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাকে আপাতত কোনো অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা তেহরানের নেই বলেও তিনি দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার রাখার বার্তা দিল যুক্তরাষ্ট্র
জেনেভায় শান্তি আলোচনা চললেও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার রাখার বার্তা দিল যুক্তরাষ্ট্র

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে আবারও স্পষ্ট করেছে যুক্তরাষ্ট্র।   মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক দাপ্তরিক বার্তায় জানিয়েছে, পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে তাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে মোতায়েন রয়েছেন এবং নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ওই বার্তায় সেন্টকম উল্লেখ করে, মার্কিন বাহিনী ‘আকাশে, মাটিতে এবং সমুদ্রে’ সমানভাবে সক্রিয় রয়েছে। এর সঙ্গে একটি ছবি প্রকাশ করা হয়, যেখানে অত্যাধুনিক দুটি যুদ্ধবিমানকে আকাশে নিয়মিত টহল দিতে দেখা গেছে। বার্তাটি থেকে বোঝা যায়, চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র কোনো শৈথিল্য দেখাতে চায় না।   এর আগে সেন্টকম আরব সাগরে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ভেতরের কিছু ছবিও প্রকাশ করেছিল। সেখানে নৌবাহিনীর সদস্যদের বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে সক্রিয় দেখা যায়। এসব ছবি ও বার্তার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি এবং উপস্থিতি যে এখনও দৃঢ় রয়েছে, সেটিই তুলে ধরা হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।   এদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক কার্যকর করতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে নিবিড় আলোচনা চলছে। এই আলোচনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে সতর্ক আশাবাদ তৈরি হলেও একই সময়ে মার্কিন বাহিনীর এমন বার্তা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতি অব্যাহত রাখার কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।   মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই অস্থির। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েন, আঞ্চলিক সংঘাত এবং বিভিন্ন শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে চলমান শান্তি আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে নজর রয়েছে।   মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদারের এই বার্তা মূলত একটি কৌশলগত অবস্থান তুলে ধরে—যেখানে একদিকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা, অন্যদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি বজায় রাখা।

নীলুফা নিশাত জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
সুইজারল্যান্ডে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা শুরু

দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার পর সুইজারল্যান্ডে উচ্চপর্যায়ের মুখোমুখি বৈঠকে বসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসন এবং উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যেই এই আলোচনা শুরু হয়েছে।   রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের লেক লুসার্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে বৈঠক শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।   সূত্র অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরাও আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।   বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল পরিস্থিতি, ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, তেল রপ্তানি এবং বিদেশে থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুও আলোচনায় স্থান পেয়েছে বলে জানা গেছে।   সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে এবং সম্ভাব্য সমঝোতার ক্ষেত্রগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। বৈঠকের অগ্রগতির ওপর ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার দিকনির্দেশনা নির্ভর করতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলে এই আলোচনাকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন পক্ষের প্রত্যাশা, এই বৈঠকের মাধ্যমে কিছু মৌলিক বিষয়ে সমঝোতার পথ তৈরি হতে পারে।

তাবাস্সুম জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
জুরিখ বিমানবন্দর | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপের কারণে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ বিমানবন্দরে বিমান চলাচল ব্যাহত

সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক রিসোর্টে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক শান্তি সংলাপের জেরে আকাশসীমায় জরুরি ‘নো-ফ্লাই জোন’ বা বিমান চলাচল নিষিদ্ধ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। এই আকস্মিক নির্দেশনার কারণে দেশটির বিমান ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ‘স্কাইগাইড’-এর প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় বড় ধরণের ত্রুটি দেখা দেয়, যার ফলে সুইজারল্যান্ডের অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম জুরিখ বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা ও সামগ্রিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সুইসইনফোর বরাতে বিমান ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান স্কাইগাইড আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   স্কাইগাইড তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, শনিবার রাতে অত্যন্ত আকস্মিক ও শেষ মুহূর্তে বার্গেনস্টক রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কারিগরি সংলাপ আয়োজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তের পরই অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে ওই অঞ্চলের আকাশসীমা সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ বা নো-ফ্লাই জোন হিসেবে সক্রিয় করা হয়। এই আকস্মিক সক্রিয়করণের ফলে সুইজারল্যান্ডের ডুবেনডর্ফ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং জুরিখ বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারের মূল রাডার সিস্টেমে একটি বড় ধরণের কারিগরি জটিলতা ও গোলযোগের সৃষ্টি হয়, যা পুরো বিমান চলাচল ব্যবস্থাকে স্থবির করে দেয়।   এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রযুক্তিগত দুর্ঘটনার কারণে বিমান ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা স্কাইগাইড বাধ্য হয়ে রাজধানী বার্নের পূর্বাঞ্চলের সম্পূর্ণ আকাশসীমা বেশ কয়েক ঘণ্টার জন্য পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। জুরিখ বিমানবন্দরের একজন অফিশিয়াল মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই জটিলতার কারণে রোববার সকালের একটি বড় অংশ জুড়ে বিমানবন্দরটি থেকে কোনো বিমানের উড্ডয়ন বা টেক-অফ করা সম্ভব হয়নি। তবে সকাল পৌনে সাতটা পর্যন্ত পূর্বনির্ধারিত কিছু বিমানের অবতরণ বা ল্যান্ডিং প্রক্রিয়া সচল ছিল। অবশ্য যে সমস্ত বিমান ইতিমধ্যে বিমানবন্দরের কাছাকাছি চলে এসেছিল, সেগুলোকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রেখে নিরাপদে নামার অনুমতি দেওয়া হয়।   বিবৃতিতে স্কাইগাইড আরও উল্লেখ করেছে যে, জুরিখ বিমানবন্দরে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে থমকে গেলেও এবং রাডার সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দিলেও আকাশসীমার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সব সময়ের জন্য সম্পূর্ণ নিশ্চিত ছিল। পরবর্তীতে কারিগরি ত্রুটি কাটিয়ে ওঠার পর সকাল পৌনে আটটা থেকে আকাশপথে বিমান চলাচল পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং বর্তমানে বিমানবন্দরের সমস্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণ পূর্বের নিয়মে ফিরে এসেছে। তবে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে আগামী সোমবার সকাল আটটা পর্যন্ত ওই আকাশসীমার ওপর দিয়ে অন্য দেশের বিমান চলাচলের ক্ষমতা সামান্য হ্রাস করে রাখা হবে, যার প্রভাব খুবই সামান্য হবে।   উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে বিগত কয়েক মাস ধরে চলমান ভয়াবহ সশস্ত্র সংঘাতের অবসান ঘটাতে এবং বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে গত বুধবার একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সেই সমঝোতার আলোকেই এই চূড়ান্ত কারিগরি সংলাপে অংশ নিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সুইজারল্যান্ডে এসে পৌঁছেছেন। পাকিস্তানের বিশেষ মধ্যস্থতায় বার্গেনস্টকের এই সংলাপে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লমেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

তাবাস্সুম জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
সুইজারল্যান্ডে শুরু হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বহুল প্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক কারিগরি সংলাপ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান তীব্র সামরিক সংকট নিরসন ও বিশ্ব শান্তির লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বহু প্রতীক্ষিত ও ঐতিহাসিক কারিগরি পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক সংলাপ। কাতার ও পাকিস্তানের বিশেষ মধ্যস্থতায় আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নীতি-নির্ধারক ও প্রতিনিধিদের পাশাপাশি আঞ্চলিক প্রভাবশালী নেতারাও অংশ নিচ্ছেন। অত্যন্ত গোপনীয় ও বিলাসবহুল পরিবেশে শুরু হওয়া এই সংলাপের ওপর পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা বহুলাংশে নির্ভর করছে। এই বৈঠকে মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন এবং হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।   সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশেষ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মাসুদ পেজেশকিয়ানের স্বাক্ষরিত চুক্তিটি লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত ও ভয়াবহ সামরিক হামলার কারণে নতুন করে চরম চাপের মুখে পড়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি করা হয়েছে যে, দুই দেশের মধ্যকার প্রাথমিক চুক্তির প্রথম শর্তই ছিল লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা। কিন্তু ইসরায়েল এখনো লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা দুই দেশের মধ্যকার পূর্ববর্তী সমঝোতার স্পষ্ট লঙ্ঘন। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক শহরের লুসার্ন হ্রদের পাড়ে অবস্থিত একটি অভিজাত হোটেলে এই সংলাপের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।   উচ্চপর্যায়ের এই সংলাপে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আমেরিকার নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের প্রভাবশালী জামাতা জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে, ইরানের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং অভিজ্ঞ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে এই সংলাপে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, দেশটির প্রভাবশালী সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি।   সুইজারল্যান্ডে কারিগরি আলোচনা শুরু হওয়ার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। তবে এর বিপরীতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম দাবি করেছে যে, আন্তর্জাতিক এই নৌপথটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও উন্মুক্ত রয়েছে এবং গত ২০ জুন পর্যন্ত সেখান দিয়ে ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে পার হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এক বিশেষ ঘোষণায় জানিয়েছেন, সাময়িক যুদ্ধবিরতির ৬০ দিন এবং এর পরবর্তী সময়েও হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কোনো জাহাজের কাছ থেকে কোনো ধরণের অতিরিক্ত টোল আদায় করা হবে না।   টানা ৬০ দিন ধরে চলতে যাওয়া এই কারিগরি সংলাপে ইরান মূলত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি রাষ্ট্রীয় সম্পদ মুক্তি এবং লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বিশেষ উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবার রোববার এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ওয়াশিংটনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কেবল ব্যবসা ও লাভ-ক্ষতির ভাষা বোঝে। তাই তারা যদি এই চুক্তি শুধু কাগজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বৈশ্বিক সরবরাহ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন মূল ভূখণ্ডে হু হু করে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়া এবং জীবনযাত্রার চড়া ব্যয়ের কারণেই মূলত ট্রাম্প প্রশাসন তড়িঘড়ি করে ইরানের সাথে এই শান্তি সংলাপে বসতে বাধ্য হয়েছে।   সূত্র: আল জাজিরা

তাবাস্সুম জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
গণভোটে হেরে গেল অভিবাসন কমানোর প্রস্তাব, স্বস্তিতে সুইজারল্যান্ড

সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ১ কোটির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের একটি বিতর্কিত প্রস্তাব গণভোটে প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির ভোটাররা। ডানপন্থি রাজনৈতিক দল সুইস পিপলস পার্টি (এসভিপি-ইউডিসি) সমর্থিত এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট পড়েছে ৫৪ শতাংশেরও বেশি।   রোববার অনুষ্ঠিত এই গণভোটে প্রস্তাবটি বাতিল হওয়ার পর দেশটির প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সুইজারল্যান্ডের বিচার ও পুলিশমন্ত্রী বিট ইয়ান্স এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে নাগরিকেরা দেশের স্থিতিশীলতা, উন্মুক্ততা এবং নির্ভরযোগ্যতার পক্ষে তাদের রায় দিয়েছেন।   ইউডিসি প্রস্তাবিত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল ২০৫০ সালের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের স্থায়ী জনসংখ্যা কোনোভাবেই যেন ১ কোটি পার না হয়। বর্তমানে দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৯৫ লাখ, যার মধ্যে এক-চতুর্থাংশেরও বেশি বিদেশি নাগরিক। ইউডিসির দাবি ছিল, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করা না হলে দেশের আবাসন সংকট, যানজট, অপরাধ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ওপর চাপ আরও বাড়বে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব পাস হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের মানুষের অবাধ চলাচল সংক্রান্ত চুক্তি বাতিল করতে হতো, যা দেশটির অর্থনীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করত।   ভোটের ফলাফলকে হতাশাজনক উল্লেখ করে ইউডিসির সভাপতি মার্সেল ডেটলিং বলেন, হেরে গেলেও ৪৫ শতাংশ মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রমাণ করে যে দেশের একটি বড় অংশ বর্তমানের এই অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন নীতি পছন্দ করছে না। অন্যদিকে, সুইস ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন জানিয়েছে, এই প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে সুইস জনগণ আত্মগুটিয়ে নেওয়া এবং বিদেশিবিদ্বেষী রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।   এবারের গণভোটে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল রেকর্ড প্রায় ৫৯ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর গড় উপস্থিতির (৪৯%) চেয়ে অনেক বেশি। একই দিনে অনুষ্ঠিত অন্য আরেকটি গণভোটে সুইস ভোটাররা বেসামরিক সেবায় যোগদানের নিয়ম কঠোর করার সরকারি প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন।

তাবাস্সুম জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স | ছবি: সংগৃহীত
সুইজারল্যান্ড সফর বাতিল করলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও আজ সুইজারল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন না মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। হোয়াইট হাউসের এক শীর্ষ মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের এই সফর বাতিলের খবরটি প্রকাশ করা হয়েছে।   হোয়াইট হাউসের ওই মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, "ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তার সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনে যেমনটি বলেছিলেন, আসন্ন কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা নিয়ে দুপক্ষের পরিকল্পনা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে যেকোনো মুহূর্তে আলোচনার সুযোগ তৈরি হলেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলটি দ্রুত সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।"   তিনি আরও বলেন, "এই ধরনের একটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আলোচনার আয়োজন করা কখনোই সহজ বা পুরোপুরি পূর্বানুমানযোগ্য নয়। তাই এই মুহূর্তে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় ভাইস প্রেসিডেন্ট আজ রাতে রওনা হচ্ছেন না। এই আলোচনার পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আমরা খুব দ্রুত তা গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেব।"   এর আগে এই আলোচনার অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও তার প্রস্তাবিত সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক মুখপাত্র ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছিলেন।   পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি এই বিষয়ে বলেন, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ইতোমধ্যে ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল উপায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত ও কার্যকর হয়ে গেছে। বর্তমানে এই চুক্তিটি বাস্তবায়নের মূল প্রক্রিয়াগুলো শুরু হয়েছে। যেহেতু প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের প্রস্তাবিত সুইজারল্যান্ড সফরটি স্থগিত করা হয়েছে। তবে চুক্তি বাস্তবায়নের পরবর্তী কৌশলগত এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান তার মধ্যস্থতা ও সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে তিনি জানান।

তাবাস্সুম জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব ভোট দিয়ে প্রত্যাখ্যান করলেন নাগরিকরা

সুইজারল্যান্ডের মোট জনসংখ্যা কোনোভাবেই ১ কোটির ওপরে যেতে দেওয়া যাবে না—ডানপন্থী দলগুলোর এমন একটি বিতর্কিত প্রস্তাব গণভোটে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির নাগরিকরা। প্রাথমিক ফলাফলের বরাত দিয়ে রোববার আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এই তথ্য জানিয়েছে। দেশটির শীর্ষ কট্টর ডানপন্থী দল ‘সুইস পিপলস পার্টি’ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের এই কঠোর প্রস্তাবটি সামনে এনেছিল।   প্রাথমিক ভোট গণনা অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোটার এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। দেশজুড়ে প্রায় ৫৯ শতাংশ ভোটার এই ঐতিহাসিক গণভোটে অংশ নেন। সুইজারল্যান্ডের পার্লামেন্টে সবচেয়ে বেশি আসন থাকা পপুলিস্ট এই ডানপন্থী দলটি দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসনবিরোধী মনোভাব উসকে আসছিল। বিশেষ করে প্রতিবেশী ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আসা কর্মীদের ঢল ঠেকাতে তারা এই গণভোটের আয়োজন করে।   সমালোচকরা এই প্রস্তাবটিকে ‘সুইস ব্রেক্সিট’ নামে অভিহিত করেছিলেন। কারণ এই আইন পাস হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সুইজারল্যান্ডের দীর্ঘদিনের গভীর অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং মুক্ত যাতায়াতের চুক্তিগুলো বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ত। যদিও সুইজারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের একটি নয়, তবে এটি চারপাশ থেকে অন্যান্য সদস্য দেশগুলো দিয়েই পরিবেষ্টিত।   কট্টরপন্থী দলটির দাবি ছিল, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জনসংখ্যা অতিরিক্ত বৃদ্ধির কারণে সুইজারল্যান্ডের আবাসন ব্যবস্থা, সামাজিক কর্মসূচি, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং ঐতিহ্যগত জীবনযাত্রার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। তবে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার, পার্লামেন্ট এবং প্রধান ব্যবসায়ী সংগঠন ‘ইকোনমিসুইস’ শুরু থেকেই এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল। কারণ দেশটির চিকিৎসা, অর্থায়ন, ওষুধ এবং প্রযুক্তি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলো মূলত বিদেশী দক্ষ কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল।   সুইজারল্যান্ডের নিয়ম অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ২০৫০ সালের মধ্যে জনসংখ্যা ১ কোটির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে সরকারকে বাধ্যতামুলক ব্যবস্থা নিতে হতো। এমনকি জনসংখ্যা ৯৫ লাখে পৌঁছালেই রাজনৈতিক আশ্রয়, পারিবারিক পুনর্মিলন এবং রেসিডেন্সি পারমিট দেওয়া বন্ধ করতে হতো। তবে ভোটাররা সচেতনভাবে এই প্রস্তাবটি নাকচ করে দেওয়ায় সুইজারল্যান্ডের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বৈচিত্র্যময় সামাজিক কাঠামো আপাতত সুরক্ষিত রইল।

তাবাস্সুম জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
সুইজারল্যান্ডে জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমিত রাখার প্রস্তাব নিয়ে গণভোট আজ
সুইজারল্যান্ডে জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমিত রাখার প্রস্তাব নিয়ে গণভোট আজ: বিতর্কে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা

অভিবাসন কি সুইজারল্যান্ডের অর্থনীতির জন্য আশীর্বাদ, নাকি দেশের অবকাঠামো ও সামাজিক ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ—এই দীর্ঘদিনের বিতর্ক এবার পৌঁছেছে গণভোটের মঞ্চে। রোববার (১৪ জুন) ঐতিহাসিক এক গণভোটে অংশ নিচ্ছেন সুইস নাগরিকরা, যেখানে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের জনসংখ্যা কোনোভাবেই ১ কোটি ছাড়াতে না দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   এই প্রস্তাবটি সামনে এনেছে ডানপন্থী রাজনৈতিক দল Swiss People's Party। তাদের দাবি, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে আবাসন সংকট, সরকারি সেবার চাপ এবং পরিবেশগত সমস্যার সমাধান সহজ হবে। দলটি এটিকে ‘টেকসই উন্নয়নের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ হিসেবে তুলে ধরছে।   তবে সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলো এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করছে। তাদের মতে, এই সীমা কার্যকর হলে দেশের হাসপাতাল, হোটেল, নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে মারাত্মক কর্মী সংকট দেখা দেবে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (European Union) সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।   সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০২ সালে সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭৩ লাখ। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯১ লাখে। এর মধ্যে প্রায় ২৭ শতাংশ মানুষ বিদেশে জন্মগ্রহণকারী, যা দেশটির অভিবাসননির্ভর শ্রমবাজারের বাস্তবতাকেই তুলে ধরে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ট্রেনে ভিড়, বাসাভাড়ার ঊর্ধ্বগতি এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষও বাড়ছে।   সুইজারল্যান্ডের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের মাধ্যমে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরাসরি গণভোট আয়োজনের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। মাত্র এক লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করেই এ ধরনের প্রস্তাব ভোটে তোলা সম্ভব হয়, যা দেশটির গণতান্ত্রিক কাঠামোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।   সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ভোটের ফলাফল খুবই কাছাকাছি হতে পারে। প্রায় ৫২ শতাংশ ভোটার প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, আর ৪৫ শতাংশ পক্ষে রয়েছেন। বাকি অংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন।   প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেওয়া বার্ন ক্যান্টন পার্লামেন্টের প্রতিনিধি নিলস ফিয়েখটার বলেন, অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের কারণে দেশটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। তার মতে, আবাসন সংকট, যানজট এবং সামাজিক সেবার ওপর চাপ বৃদ্ধির পেছনে অভিবাসন একটি প্রধান কারণ।   অন্যদিকে বার্ন সিটি কাউন্সিলের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট সদস্য হেলিন জেনিস এই যুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, অভিবাসীদের দোষারোপ করা সমস্যার সমাধান নয়। তার মতে, বাসাভাড়া বৃদ্ধি বা অবকাঠামো সংকট মূলত নীতিগত সিদ্ধান্তের ফল, যা অভিবাসীরা নিয়ন্ত্রণ করেন না।   প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০৫০ সালের আগেই জনসংখ্যা ১ কোটিতে পৌঁছালে সরকারকে কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এর মধ্যে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমানো এবং বিদেশি কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের আনার সুযোগ সীমিত করার মতো পদক্ষেপ থাকতে পারে।   সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ হলো, জনসংখ্যা নির্ধারিত সীমায় পৌঁছে গেলে সুইজারল্যান্ডকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত চলাচলসহ কিছু আন্তর্জাতিক চুক্তি পুনর্বিবেচনা বা বাতিল করতে হতে পারে। ব্যবসায়ী সংগঠন ইকোনমিসুইস এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছে, এতে ইউরোপের সঙ্গে দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।   সংগঠনটির প্রধান অর্থনীতিবিদ রুডলফ মিনশ বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। তাই সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   অন্যদিকে নিয়োগকর্তা সংগঠনগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, দক্ষ বিদেশি কর্মী হারালে সুইস অর্থনীতির গতি কমে যাবে। বর্তমানে দেশটির হোটেল খাতের প্রায় অর্ধেক কর্মীই অভিবাসী, পাশাপাশি হাসপাতাল ও কেয়ার হোমগুলোও বিদেশি কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।   বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করছেন, সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশই বর্তমানে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী। এমন পরিস্থিতিতে তরুণ কর্মশক্তির চাহিদা পূরণে অভিবাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, যা সীমিত হলে ভবিষ্যতে সামাজিক ভারসাম্যেও প্রভাব পড়তে পারে।   বিশ্বে এখন পর্যন্ত কোনো দেশই মোট জনসংখ্যার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে এমন নীতি গ্রহণ করেনি। অতীতে চীন ‘এক সন্তান নীতি’ চালু করলেও পরে তা বাতিল করা হয়। ফলে সুইজারল্যান্ডের এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে তা আন্তর্জাতিকভাবে নজিরবিহীন একটি সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।

নীলুফা নিশাত জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সুইজারল্যান্ড স্থগিত করল সব ধরনের অস্ত্র রপ্তানি

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধে নিজের নিরপেক্ষ অবস্থান রক্ষার জন্য সুইজারল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রসহ যুদ্ধে জড়িত সব দেশের কাছে অস্ত্র রপ্তানি স্থগিত করেছে।   শুক্রবার দেশটির সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, বর্তমান সংকটজনক পরিস্থিতির কারণে কোনো ধরনের যুদ্ধ সরঞ্জাম রপ্তানি অনুমোদন দেওয়া হবে না।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল উদ্দেশ্য সুইজারল্যান্ডের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা। যুক্তরাষ্ট্রকেও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাখা হয়েছে।   সূত্র: আল-জাজিরা

Unknown মার্চ ২০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০