সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

সুইজারল্যান্ডে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা শুরু

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২১, ২০২৬ ১২:৪৩
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার পর সুইজারল্যান্ডে উচ্চপর্যায়ের মুখোমুখি বৈঠকে বসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসন এবং উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যেই এই আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের লেক লুসার্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে বৈঠক শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

সূত্র অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরাও আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।

 

বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল পরিস্থিতি, ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, তেল রপ্তানি এবং বিদেশে থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়।


এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুও আলোচনায় স্থান পেয়েছে বলে জানা গেছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে এবং সম্ভাব্য সমঝোতার ক্ষেত্রগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। বৈঠকের অগ্রগতির ওপর ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার দিকনির্দেশনা নির্ভর করতে পারে।


আন্তর্জাতিক মহলে এই আলোচনাকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন পক্ষের প্রত্যাশা, এই বৈঠকের মাধ্যমে কিছু মৌলিক বিষয়ে সমঝোতার পথ তৈরি হতে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আন্তর্জাতিক

View more
অস্ট্রেলিয়ায় নতুন ভিসা, সুযোগ পাবে বাংলাদেশিরাও! আবেদন শুরু ১২ নভেম্বর থেকে
অস্ট্রেলিয়ায় নতুন ভিসা, সুযোগ পাবে বাংলাদেশিরাও! আবেদন শুরু ১২ নভেম্বর থেকে

অস্ট্রেলিয়ায় পেশাগত প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী বাংলাদেশিসহ বিদেশি নাগরিকদের জন্য সাবক্লাস ৪০৭ ট্রেনিং ভিসার আবেদনপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসছে। আগামী ১২ নভেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। পরিবর্তিত নিয়ম অনুযায়ী, আবেদন জমা দেওয়ার সময় এবং ভিসা মঞ্জুরের সময় আবেদনকারীকে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থাকতে হবে। ফলে দেশটিতে অবস্থানরত বিদেশিদের এই ভিসার আবেদন করতে হলে নতুন শর্ত বিবেচনায় নিতে হবে।   সাবক্লাস ৪০৭ অস্ট্রেলিয়ার আগে থেকেই চালু থাকা একটি অস্থায়ী ট্রেনিং ভিসা। এর মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকেরা নির্দিষ্ট পেশায় দক্ষতা বৃদ্ধি, পেশাগত লাইসেন্স অর্জন কিংবা কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারেন। প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ধরন ও অনুমোদনের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সুযোগ রয়েছে। তবে এটি সাধারণ চাকরি খোঁজার বা স্থায়ীভাবে বসবাসের ভিসা নয়। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই ভিসার আওতায় মূলত তিন ধরনের প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। প্রথমত, কোনো পেশায় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় নিবন্ধন বা লাইসেন্স অর্জনের প্রশিক্ষণ। দ্বিতীয়ত, নিজের বর্তমান পেশার সঙ্গে সম্পর্কিত দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ। তৃতীয়ত, বিদেশি যোগ্যতা অর্জন, সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত প্রশিক্ষণ কিংবা পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির বিশেষ কর্মসূচি।   নতুন নিয়মে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে আবেদনকারীর অবস্থানসংক্রান্ত শর্ত। ১২ নভেম্বর থেকে অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে অবস্থান করে সাবক্লাস ৪০৭ ভিসার আবেদন জমা দিলে তা বৈধ আবেদন হিসেবে গ্রহণ করা হবে না। অনলাইন ইমিঅ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হলেও অবস্থানসংক্রান্ত শর্ত পূরণ না করলে আবেদন অবৈধ গণ্য হতে পারে। তবে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে আবেদন করার পর অন্য কোনো বৈধ ভিসায় দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভিসার শর্ত মেনে চলতে হবে। সাবক্লাস ৪০৭ ভিসা মঞ্জুরের সময় আবেদনকারীকে আবার অস্ট্রেলিয়ার বাইরে অবস্থান করতে হবে। বিদেশ থেকে করা আবেদনের ভিত্তিতে ব্রিজিং ভিসাও পাওয়া যাবে না।   বাংলাদেশি নাগরিকেরা প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ করলে এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে শুধু প্রশিক্ষণ নেওয়ার আগ্রহ থাকলেই চলবে না। অস্ট্রেলিয়ায় অনুমোদিত স্পনসর, নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং প্রয়োজনীয় মনোনয়ন থাকতে হবে। সাধারণত আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হওয়া, সংশ্লিষ্ট পেশায় প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকা এবং স্বাস্থ্য ও চরিত্রসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করা জরুরি। সাধারণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্পনসরশিপ ও প্রশিক্ষণ মনোনয়ন অনুমোদনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা স্পনসর হলে কিছু ক্ষেত্রে মনোনয়নসংক্রান্ত ছাড় থাকতে পারে। আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সম্পর্কও যাচাই করা হয়।   সরবরাহ করা সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাবক্লাস ৪০৭ ভিসার মূল আবেদন ফি ৫৩৫ অস্ট্রেলীয় ডলার থেকে শুরু। পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রক্রিয়ার কারণে মোট খরচ বাড়তে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার আগে সরকারি ওয়েবসাইটে সর্বশেষ ফি ও শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন। এই ভিসা নিয়ে প্রতারণার ঝুঁকিও বিবেচনায় রাখতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান শুধু চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রেনিং ভিসার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। অনুমোদিত স্পনসর, বৈধ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর ভিসা পাওয়া নির্ভর করে। বিশেষ করে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত আবেদনকারীদের দেশ ছাড়ার আগে বর্তমান ভিসার মেয়াদ ও নতুন আবেদনসংক্রান্ত শর্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা জরুরি।   তবে ১২ নভেম্বরের আগে বৈধভাবে জমা দেওয়া আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে নতুন অবস্থানসংক্রান্ত নিয়ম কার্যকর হবে না। সেসব আবেদন জমা দেওয়ার সময় প্রচলিত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে। নতুন আইনে নির্দিষ্ট শ্রেণির আবেদনকারীদের জন্য ব্যতিক্রম রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ট্রেনিং ভিসাকে দেশটিতে অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার সীমিত করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর বাংলাদেশিসহ বিদেশি আবেদনকারীদের স্পনসরশিপ, প্রশিক্ষণের অনুমোদন এবং অস্ট্রেলিয়ার বাইরে অবস্থানের শর্ত নিশ্চিত করেই আবেদন করতে হবে।   তথ্যসূত্র: অস্ট্রেলিয়ার Department of Home Affairs এবং Federal Register of Legislation-এ প্রকাশিত Migration Amendment (Training Visas—Application Requirements) Regulations 2026।   #Australia #AustraliaVisa #AustralianVisa #Subclass407 #TrainingVisa #AustraliaTrainingVisa #VisaUpdate #AustralianImmigration #BangladeshiApplicants #WorkplaceTraining #SkillDevelopment #ImmigrationNews

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ২:১৮
লন্ডনে গণেশ উৎসবের পর লেকে প্রতিমা বিসর্জ্জন, আবর্জনায় ক্ষুব্ধ  সিটি অব লন্ডন কর্পোরেশন

লন্ডনে গণেশ উৎসবের পর লেকে প্রতিমা বিসর্জ্জন, আবর্জনায় ক্ষুব্ধ  সিটি অব লন্ডন কর্পোরেশন

প্রবাসী বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত

স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে পোস্ট করায় বন্ধুকে হত্যা, কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড

পাকিস্তানের ২৪ বছর বয়সী মেধাবী তরুণী লাইবা ইজাজ

হার্ভার্ডে পড়ার স্বপ্নই হলো কাল, প্রতারিত হয়ে সত্য জানার পর ২৪ বছরের লাইবার রহস্যজনক মৃত্যু

যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল শহরের ৮৮ স্কুলে সাইবার হামলা
যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল শহরের ৮৮ স্কুলে সাইবার হামলা, ডার্ক ওয়েবে ৩ লাখ ২০ হাজার ফাইল

যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল শহরের ৮৮টি স্কুলকে প্রভাবিত করা বড় ধরনের সাইবার হামলায় চুরি হওয়া প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার ফাইল ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান এ তথ্য জানিয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বরে ব্রিস্টল সিটি কাউন্সিলের স্কুলসংক্রান্ত সার্ভারে সাইবার হামলা চালানো হয়। কাউন্সিলের ‘ট্রেডিং উইথ স্কুলস’ আইটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারী মোট ৮৮টি স্কুল এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পর চুরি হওয়া বিপুলসংখ্যক ফাইল ডার্ক ওয়েবে প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।   ব্রিস্টল সিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, ঠিক কোন কোন স্কুলের এবং কতজন ব্যক্তির তথ্য চুরি হয়েছে, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে তথ্য ফাঁসের প্রকৃত পরিধি নির্ধারণে তদন্ত চলছে।কাউন্সিলের শিক্ষা ও দক্ষতাবিষয়ক পরিচালক ভিক ভার্মা বুধবার অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে অপরিচিত নম্বর থেকে আসা ফোনকল, সন্দেহজনক ইমেইল এবং অপ্রত্যাশিত মেসেজের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্কুল কর্তৃপক্ষের দেওয়া নিরাপত্তাসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, অ্যাভন অ্যান্ড সমারসেট পুলিশ এবং রিজিওনাল অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত চালানো হচ্ছে। হামলায় কী ধরনের তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব কতটা বিস্তৃত, তা জানার চেষ্টা চলছে।   এদিকে তথ্য চুরির পর সম্ভাব্য প্রতারণা শনাক্ত করতে স্কুলগুলোর মাধ্যমে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনাও পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট স্কুল ও পরিবারগুলোকে জানানো হবে।   যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার আগেই সতর্ক করেছিল, দেশটির সরকারি খাতের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সাইবার হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। এ ধরনের হামলায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে।   সর্বশেষ এই ঘটনায় প্রকাশিত ফাইলগুলোর মধ্যে ঠিক কী ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে, তা এখনো বিস্তারিতভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে ব্রিস্টল সিটি কাউন্সিল।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১১:১৬
ব্রিটিশ পাসপোর্ট

ব্রিটিশ পাসপোর্ট আবেদন ও নবায়নে পরিচয় নিশ্চিতের দুই বছরের শর্ত, যা জানা জরুরি

জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে সামরিক প্রশিক্ষণ চলাকালে এক মার্কিন নৌ সেনার মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

জাপানে সামরিক প্রশিক্ষণের সময় মার্কিন নৌ সেনার মৃত্যু, তদন্ত শুরু

ইরানের প্রতি ওয়াশিংটনের বৈরী নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলেও ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী নীতি বদলাবে না: মোজতবা খামেনি

মানসিক চাপ কমাতে অর্থের বিনিময়ে কান্নার পরিবেশ তৈরি করার একটি অভিনব সেবা চালু হয়েছিল জাপানে। ছবি: সংগৃহীত
জাপানে কান্নার জন্য ভাড়া করা যায় সুদর্শন তরুণ, চোখের পানিও মুছে দেন তাঁরা

মানসিক চাপ কমাতে কান্না করতে চান, কিন্তু পাশে কাউকে পাচ্ছেন না? জাপানে এমন একটি অভিনব সেবা চালুর খবর একসময় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল, যেখানে অর্থের বিনিময়ে সুদর্শন তরুণদের ডেকে এনে কান্নার পরিবেশ তৈরি করা হতো। শুধু আবেগঘন ভিডিও দেখানোই নয়, কান্নার পর রুমাল দিয়ে চোখের পানিও মুছে দিতেন তাঁরা। টোকিওভিত্তিক এই সেবার নাম ইকেমেসো দানশি।   জাপানি ভাষায় ইকেমেসো দানশি বলতে মোটামুটি সুদর্শন কান্নার সঙ্গী বোঝায়। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ছিল মূলত অফিসকেন্দ্রিক। কর্মীদের মানসিক চাপ কমাতে বিশেষ সেশনের আয়োজন করা হতো, যেখানে আবেগঘন ভিডিও দেখিয়ে তাঁদের অনুভূতি প্রকাশে উৎসাহিত করা হতো।   জাপানে মানসিক চাপ কমাতে সুদর্শন তরুণ ভাড়া করার এক অভিনব সেবা চালু রয়েছে। টোকিওভিত্তিক ইকেমেসো দানশি নামের একটি প্রতিষ্ঠান অফিসে গিয়ে কর্মীদের আবেগঘন ভিডিও দেখিয়ে কাঁদতে সাহায্য করে। এরপর রুমাল দিয়ে তাঁদের চোখের পানি মুছে দেন বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত তরুণেরা। কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ কমানো এবং আবেগ প্রকাশে উৎসাহ দেওয়াই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।   ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাপানি উদ্যোক্তা হিরোকি তেরাই এই সেবা চালু করেন। জাপানি ভাষায় ইকেমেসো দানশি বলতে সুদর্শন কান্নার সঙ্গী বোঝায়। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে গ্রাহকেরা অনলাইন ক্যাটালগ থেকে নিজেদের পছন্দের তরুণ নির্বাচন করতে পারেন। নির্ধারিত দিনে সেই তরুণ অফিসে গিয়ে কান্নার বিশেষ সেশন পরিচালনা করেন।   সেশনে অংশগ্রহণকারীদের আবেগঘন সিনেমার দৃশ্য দেখানো হয়। কখনো দুঃখের গল্প শোনানো কিংবা মন খারাপ করা সংগীত পরিবেশন করা হয়। এসবের মাধ্যমে কর্মীদের নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতে উৎসাহ দেওয়া হয়। কেউ কেঁদে ফেললে তাঁর চোখের পানি আলতোভাবে রুমাল দিয়ে মুছে দেন দায়িত্বপ্রাপ্ত তরুণ।   এই সেবার পেছনে রয়েছে হিরোকি তেরাইয়ের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। তিনি আগে জাপানে বিবাহবিচ্ছেদ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেন। সেখানে বিচ্ছেদের সময় অনেক দম্পতিকে কাঁদতে দেখেছেন। কান্নার পর তাঁদের অনেকেই মানসিকভাবে স্বস্তি অনুভব করার কথা জানাতেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি কান্নাকে মানসিক চাপ কমানোর একটি উপায় হিসেবে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করেন।   জাপানের কর্মসংস্কৃতিতে প্রকাশ্যে আবেগ দেখানো অনেক সময় দুর্বলতা হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে অফিসে কান্না করলে সহকর্মীদের কাছে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে। তেরাইয়ের মতে, এই সামাজিক মনোভাবের কারণে অনেকে নিজেদের অনুভূতি চেপে রাখেন। তাঁর উদ্যোগের লক্ষ্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে মানুষ সংকোচ ছাড়াই আবেগ প্রকাশ করতে পারেন।   প্রতিষ্ঠানটির সেবার জন্য ২০১৫ সালে প্রতি সেশনে ৭ হাজার ৯০০ ইয়েন নেওয়া হতো। গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তিত্ব ও চেহারার তরুণদের তালিকাও রাখা হয়েছিল। কেউ চাইলে শান্ত স্বভাবের, কেউ বুদ্ধিদীপ্ত কিংবা অন্য ধরনের ব্যক্তিত্বের তরুণ বেছে নিতে পারতেন।   ২০১৮ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের এক প্রতিবেদনে এই অভিনব উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সেখানে জানানো হয়, কান্নার মাধ্যমে মানসিক স্বস্তি দেওয়ার ধারণাটি জাপানে রুই-কাতসু নামে পরিচিত। এই চর্চায় মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে আবেগঘন পরিবেশে অংশ নিয়ে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।   ২০২৫ সালের আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন টাইমসের এক প্রতিবেদনেও ইকেমেসো দানশির কার্যক্রম উঠে আসে। সেখানে প্রায় ২০ জন কান্নার সেশন পরিচালনাকারীর একটি দলের কথা উল্লেখ করা হয়। তবে ২০২৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সেবাটির বর্তমান বুকিং ব্যবস্থা ও কার্যক্রমের পরিধি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   জাপানের এই উদ্যোগ দেখিয়েছে, মানসিক চাপ মোকাবিলায় প্রচলিত পদ্ধতির বাইরেও ভিন্ন ধরনের সেবা গড়ে উঠতে পারে। তবে এমন সেবা পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসার বিকল্প নয়।   সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১০:১৮
কুয়েতের সাদ আল আবদুল্লাহ এলাকায় স্কুলশিক্ষার্থীদের কাছে ই-সিগারেট বিক্রির অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার। ছবি: সংগৃহীত

স্কুলশিক্ষার্থীদের কাছে ই-সিগারেট বিক্রি করায় কুয়েতে ৫ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা মুমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাহার করেছে অ্যামচ্যাম মিয়ানমার। ছবি: সংগৃহীত

৩ লাখ ডলারের দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাহার, মুক্ত স্পেনের বাংলাদেশি উদ্যোক্তা মুমিনুল ইসলাম

ফ্রান্সের ব্লাড ব্যাংক ও রক্তসংগ্রহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে সাইবার হামলার খবর সামনে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সের ব্লাড ব্যাংকে সাইবার হামলা, রক্ত সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে রোগী ও চিকিৎসকদের উদ্বেগ

0 Comments