জেনেভায় শান্তি আলোচনা চললেও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার রাখার বার্তা দিল যুক্তরাষ্ট্র
সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে আবারও স্পষ্ট করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক দাপ্তরিক বার্তায় জানিয়েছে, পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে তাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে মোতায়েন রয়েছেন এবং নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ওই বার্তায় সেন্টকম উল্লেখ করে, মার্কিন বাহিনী ‘আকাশে, মাটিতে এবং সমুদ্রে’ সমানভাবে সক্রিয় রয়েছে। এর সঙ্গে একটি ছবি প্রকাশ করা হয়, যেখানে অত্যাধুনিক দুটি যুদ্ধবিমানকে আকাশে নিয়মিত টহল দিতে দেখা গেছে। বার্তাটি থেকে বোঝা যায়, চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র কোনো শৈথিল্য দেখাতে চায় না।
এর আগে সেন্টকম আরব সাগরে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ভেতরের কিছু ছবিও প্রকাশ করেছিল। সেখানে নৌবাহিনীর সদস্যদের বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে সক্রিয় দেখা যায়। এসব ছবি ও বার্তার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি এবং উপস্থিতি যে এখনও দৃঢ় রয়েছে, সেটিই তুলে ধরা হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক কার্যকর করতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে নিবিড় আলোচনা চলছে। এই আলোচনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে সতর্ক আশাবাদ তৈরি হলেও একই সময়ে মার্কিন বাহিনীর এমন বার্তা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতি অব্যাহত রাখার কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই অস্থির। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েন, আঞ্চলিক সংঘাত এবং বিভিন্ন শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে চলমান শান্তি আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে নজর রয়েছে।
মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদারের এই বার্তা মূলত একটি কৌশলগত অবস্থান তুলে ধরে—যেখানে একদিকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা, অন্যদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি বজায় রাখা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreইংল্যান্ডের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসিক এলাকাগুলোর একটি স্যান্ডব্যাঙ্কসে একটি বিলাসবহুল বাড়িকে ঘিরে প্রতিবেশীদের দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনার সেলিয়া সয়্যার অভিযোগ করেছেন, পাশের বাড়ির মালিক পরিকল্পনা অনুমোদনের শর্ত ভঙ্গ করে এমনভাবে বাড়ি নির্মাণ করেছেন, যাতে তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডরসেটের পুল এলাকার স্যান্ডব্যাঙ্কসে অবস্থিত নিজের বহুমূল্য বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন সেলিয়া সয়্যার। এলাকাটি যুক্তরাজ্যের অন্যতম ব্যয়বহুল আবাসিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত, যেখানে বহু ধনী ব্যবসায়ী, তারকা ও ক্রীড়াবিদদের বাড়ি রয়েছে। বিরোধের সূত্রপাত হয় প্রতিবেশী নিল কেনেডি তার পুরোনো বাংলো ভেঙে তিনতলা আধুনিক বাড়ি নির্মাণের পর। সেলিয়ার দাবি, নির্মাণকাজের সময় অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করা হয়নি। বিশেষ করে বাড়ির বারান্দা ও কিছু জানালার অবস্থান এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেখান থেকে সরাসরি তার বাগান ও ব্যক্তিগত সানবাথিং এলাকায় নজর দেওয়া সম্ভব। এতে তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সেলিয়া আরও অভিযোগ করেন, তিনি শুরু থেকেই স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সম্ভাব্য গোপনীয়তা লঙ্ঘনের বিষয়টি জানিয়েছিলেন। পরে প্রতিবেশী নির্মাণে অনুমোদনের বাইরে পরিবর্তন আনার অভিযোগে তিনি আনুষ্ঠানিক আপত্তিও জানান। তার ভাষ্য, পরিকল্পনা অনুমোদনের নিয়ম যদি বাস্তবে কার্যকর না হয়, তাহলে সেই অনুমতির মূল্যই থাকে না। প্রতিবেশীর পক্ষ থেকে পরে নির্মাণের কিছু অংশের জন্য রেট্রোস্পেকটিভ বা পরে অনুমোদনের আবেদন করা হলেও, এ নিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলের সঙ্গে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলতে থাকে। একই সময়ে সেলিয়ার নিজের বাড়ির একটি কাচঘেরা সানরুম নিয়েও আলাদা পরিকল্পনা-সংক্রান্ত বিরোধ তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেটি রাখার অনুমতি পান তিনি। স্যান্ডব্যাঙ্কসকে প্রায়ই "ব্রিটেনের পাম বিচ" বলা হয়। সমুদ্র ও পুল হারবারের মনোরম অবস্থানের কারণে এখানকার বাড়িগুলোর দাম কয়েক মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত পৌঁছায় এবং এটি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে অভিজাত আবাসিক এলাকাগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। ঘটনাটি ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার, পরিকল্পনা আইন এবং প্রতিবেশীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার প্রশ্নে আবারও যুক্তরাজ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তীব্র গরমে ঘরই যেন ‘হিট ট্র্যাপ’, রান্নাঘরে ঘুমাতে বাধ্য হচ্ছেন ব্রিটিশরা
হাসপাতালের ছাদে ‘মৃত্যুর ফেরেশতা’ সেজে আতঙ্ক! গ্রেফতার যুবক
৩ বছর ধরে জেলে ইমরান খান, এবার মুক্তির দাবিতে বাড়ছে আন্তর্জাতিক চাপ
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনা হয়েছে বলে একাধিক মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস ও প্রতিরক্ষা দপ্তর এ ধরনের দ্বন্দ্বের খবর অস্বীকার করেছে। ওয়াশিংটন পোস্ট ও অন্যান্য মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ট্রাম্প জানতে পারেন যে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত কমে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের সঙ্গে তীব্র আলোচনা হয়। প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, অস্ত্রের সীমিত মজুতই ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আরও বড় সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে পেন্টাগনের ভেতরে অস্ত্র সরবরাহ ও বাজেট নিয়ে জরুরি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস এই খবরকে সঠিক নয় বলে দাবি করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও অতীতে একাধিকবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র রয়েছে এবং মজুত সংকটের অভিযোগকে তিনি "মিডিয়ার তৈরি গল্প" হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পেন্টাগন কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং কিছু অস্ত্র ক্রয়ের বাজেট থেকে অর্থ সরিয়ে নিতে হয়েছে। পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক প্রস্তুতি ধরে রাখতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, টমাহক ক্রুজ মিসাইল, প্যাট্রিয়ট এবং থাডের মতো উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত পুনর্গঠনে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে একদিকে চলমান সামরিক অভিযান পরিচালনা এবং অন্যদিকে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে আলোচনার জন্য "শেষ সুযোগ" দেওয়ার কথা বলেছেন। ফলে সামরিক প্রস্তুতি, অস্ত্রের মজুত এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ—এই তিনটি বিষয়ই এখন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে মেক্সিকো থেকে ভেনেজুয়েলায়, পাঁচ ঘণ্টা পরই ভূমিকম্পে প্রাণ গেল প্রেমিকের
বিমানে ওভারহেড বিনে ব্যাগ রাখতেও লাগবে আলাদা টাকা! এয়ারলাইনে নতুন নিয়ম
‘খ্রিস্টান হওয়ায় হত্যা করেছি’, নিজেকে জিহাদি দাবি করল ব্রিটিশ নারী হত্যাকারী
থাইল্যান্ডের নাগরিক বিউট পিম্পাপর্ন (৩৩) ইতালির মিলান থেকে ব্যাংককে ফিরছিলেন । ডাবাইয়ে সংযোগকারী ফ্লাইটে ওঠার পর সেখান থেকে ব্যাংককের উদ্দেশে ছয় ঘণ্টার যাত্রা শুরু হয়। মা ও তার মেয়ে ফ্লাইটে ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুম থেকে জেগে তিনি দেখেন পাশের আসনে বসা পুরুষ যাত্রী তার নিতম্ব চেপে ধরেছেন এবং অশ্লীল কাজ করছেন। অভিযুক্ত যাত্রী পরে বিনোদনের স্ক্রিন সামঞ্জস্য করার ভান করতে থাকেন এবং বারবার তার দিকে তাকাতে থাকেন । মা বিউট পিম্পাপর্ন ফ্লাইটে হৈ চৈ সৃষ্টি না করে ব্যাংকের ডন মুয়াং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর কেবিন ক্রুদের বিষয়টি জানান । ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রথমে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন । অভিযুক্ত যাত্রী এবং তার সঙ্গে থাকা পাকিস্তানি ট্যুর গ্রুপের সদস্যরা ক্ষমা চান। অভিযুক্ত যাত্রী কেঁদে তার কাছে ক্ষমা চান এবং তার পায়ে হাত দিয়ে অনুরোধ করেন । কিন্তু কেবিন ক্রুরা বিষয়টি গুরুতর বলে পুলিশকে জানান এবং বিমান থেকে মেয়েটিকে সরিয়ে নেন যেন তিনি ঘটনা দেখতে না পান । বিমান নামার পর ট্যুরিস্ট পুলিশ ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা অভিযুক্ত রজা আলীকে বিমান থেকে নামিয়ে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যান । ডন মুয়াং জেলা পুলিশ স্টেশনের পুলিশ লেফটেন্যান্ট কর্নেল চামন্যান্ট কঙ্কং জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে থাইল্যান্ডে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে । পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি এবং প্রাথমিকভাবে উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করা হবে । ভুক্তভোগী মা তার পরনের কাপড় জমা দিয়েছেন এবং ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে । তিনি জানিয়েছেন, তিনি মামলা করতে চান এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন । তিনি তার পরিচয় প্রকাশ করে অন্যান্য নারীদের সতর্ক করেছেন যে একা ভ্রমণের সময় সাবধান থাকতে হবে এবং কোনও অস্বস্তি বোধ করলে সাহসের সাথে প্রতিবাদ করতে হবে । ফ্লাইটটি পরিচালনাকারী সংস্থা ফ্লাইদুবাইয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং চলমান তদন্তের বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করছেন না ।
গাজা যুদ্ধে মার্কিন সামরিক সহায়তার কড়া সমালোচক এল-সায়েদ; যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার পথে
তরুণীকে ধর্ষণ, পাকিস্তানে এক থানার সব পুলিশ সদস্য বরখাস্ত