নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার ৩৫ বছর প্রবাসে বাঙালির শেকড় খোঁজার অনন্য এক ইতিহাস
নব্বইয়ের দশকে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে মাত্র কয়েকটি টেবিল নিয়ে যে বাংলা বইমেলার সূচনা হয়েছিল, তা আজ প্রবাসী বাঙালিদের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার ৩৫ বছরের এই দীর্ঘ পথচলা কেবল বই বিক্রির ইতিহাস নয়, বরং প্রবাসের মাটিতে বাঙালির ভাষা ও আত্মপরিচয় টিকিয়ে রাখার এক অনন্য সংগ্রাম। চলুন জেনে নিই এই ঐতিহাসিক যাত্রার পেছনের অজানা গল্প।
প্রবাসের মাটিতে বাঙালির অস্তিত্ব, ভাষা ও সংস্কৃতির এক গভীর ইতিহাসের জীবন্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা। সুদীর্ঘ ৩৫ বছরের এই পথচলা নিছক কোনো বার্ষিক সাংস্কৃতিক আয়োজনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি।
ভিন্ন এক বাস্তবতায় যেখানে ভাষা ও পরিচয়ের সংকট প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়, সেখানে এই মেলা প্রবাসীদের আত্মপরিচয় পুনর্গঠনের এক সৃজনশীল প্রয়াস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই আয়োজনের পরতে পরতে মিশে আছে বহু মানুষের স্বপ্ন, ত্যাগ ও নিরলস পরিশ্রমের এক অবিস্মরণীয় আখ্যান।
সময়ের পরিক্রমায় এই মেলা কেবল বই বিক্রির স্থান থেকে রূপ নিয়েছে বাঙালির বুদ্ধিবৃত্তিক বিনিময়ের অনন্য এক কেন্দ্রে। এখানে যেমন নতুন লেখকের আত্মপ্রকাশ ঘটে, তেমনি প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিকদের সঙ্গে পাঠকের এক নিবিড় সংযোগও তৈরি হয়।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, প্রবাসে বসবাসরত বাঙালিদের জন্য এটি একধরনের ‘সাংস্কৃতিক ঘর’ তৈরি করেছে। এর সুবাদে মেলাটি এখন প্রবাসী বাঙালির আত্মপরিচয়, সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ ও সৃজনশীল ধারাবাহিকতার এক অনন্য দলিল হিসেবে কাজ করছে।
এই ঐতিহাসিক যাত্রার সূচনা হয়েছিল ১৯৯১ সালে। সেসময় নিউইয়র্কে ‘মুক্তধারা’র কার্যক্রমকে সুসংগঠিত রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে আয়োজকদের মতে, প্রকৃত অর্থে বইমেলার জন্ম হয় ১৯৯২ সালে।
সাত তরুণের অদম্য উদ্যম নিয়ে সে বছর বইমেলার ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। এই উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন বিশ্বজিত সাহা, হারুন আলী, আবদুর রহিম বাদশা, ছাখাওয়াত আলী, সজল পাল, শামীম হোসেন এবং দিলদার হোসেন দিলু।
১৯৯২ সালে ব্রুকলিনের একটি পাবলিক স্কুল এবং কুইন্সের একটি ছোট্ট চার্চে টেবিলের ওপর বই সাজিয়ে প্রথম মেলার আয়োজন করা হয়। প্রবাসজীবনের নানা সীমাবদ্ধতা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলা ভাষাকে ঘিরে একটি সাংস্কৃতিক স্বদেশ নির্মাণের আকাঙ্ক্ষাই ছিল এর মূল চালিকাশক্তি।
প্রথম দিকের সেই ক্ষুদ্র আয়োজন ধীরে ধীরে নিউইয়র্কের বাঙালি সমাজে এক বিশাল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের রূপ নেয়। শুরুর দিকে তারিক মাহবুবের একটি প্রতিষ্ঠান এবং বিএটিএস মেলায় স্টল দিয়ে অংশগ্রহণ করেছিল।
পরবর্তীকালে বইমেলাটি মূলত কুইন্সকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে এবং অ্যাস্টোরিয়া, উডসাইড ও জ্যাকসন হাইটসের মতো এলাকায় গত তিন দশক ধরে ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হতে থাকে।
২০২৩ সাল থেকে মেলাটির স্থায়ী ঠিকানা হয়েছে জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টার (জেপিএসি)। সবুজে ঘেরা পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক এই পরিবেশ অনেকের কাছেই ঢাকার বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের আবহকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
১৯৯২ সালের প্রেক্ষাপটটি প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। সেসময় প্রবাসে একুশে ফেব্রুয়ারি উদ্যাপন বা ভাষা-সাংস্কৃতিক চেতনা প্রকাশের মতো কোনো শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম ছিল না। সেই শূন্যতা থেকেই আয়োজকরা জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে একটি অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করেন।
সেটি কেবল একটি প্রতীকী নির্মাণ ছিল না, বরং প্রবাসে বাংলা ভাষার মর্যাদাকে দৃশ্যমান করে তোলার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ ছিল। ওই বছরই ‘মুক্তধারা নিউইয়র্ক’ এবং ‘বাঙালি চেতনা মঞ্চ’ যৌথভাবে বইমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সূচনা করে।
প্রথমদিকে এই উদ্যোগ ছিল নিখাদ আবেগ ও ভাষা-ভালোবাসা থেকে উৎসারিত। কিন্তু আয়োজকরা দ্রুতই উপলব্ধি করেন, কেবল আবেগ দিয়ে এমন বৃহৎ উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী করা সম্ভব নয়। এটিকে টেকসই করতে প্রয়োজন সুসংগঠিত পরিকল্পনা ও শক্ত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো।
সেই লক্ষ্যেই বইমেলাকে একটি নিয়মিত আয়োজনে পরিণত করার পাশাপাশি এর সঙ্গে যুক্ত করা হয় সাহিত্য আলোচনা, সেমিনার ও কবিতা পাঠের মতো বহুমাত্রিক কার্যক্রম। ১৯৯৪ সাল থেকে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশকরা সরাসরি অংশগ্রহণ শুরু করলে এই মেলা বৈশ্বিক রূপ পেতে শুরু করে।
২০০৬ সালে ‘মুক্তধারা নিউইয়র্ক’ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মুক্তধারা ফাউন্ডেশন’-এ রূপ নেয়। এই রূপান্তর প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।
উদ্যোক্তারা কেবল মেলার আয়োজন করেই থেমে থাকেননি। প্রবাসে বাংলা ভাষাকে টিকিয়ে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পাবলিক লাইব্রেরিতে বাংলা বই পৌঁছে দেওয়ার অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালের মধ্যে প্রায় ২৬টি লাইব্রেরিতে বাংলা বই সরবরাহ করা হয়।
২০০৭ সাল থেকে বইমেলায় একটি নতুন সাংগঠনিক ধারা প্রতিষ্ঠা করা হয়। রোটেশনাল নেতৃত্ব, অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রবীণ-নবীনের সেতুবন্ধনের মাধ্যমে এটিকে একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়।
হাসান ফেরদৌস, ড. নূরুন নবী, রোকেয়া হায়দারসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে এর নেতৃত্বের ভার সামলেছেন। মেলার উদ্বোধকদের তালিকাতেও রয়েছে এক গৌরবময় ইতিহাস।
জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যাত্রায় পরবর্তীতে যুক্ত হয়েছেন শহীদ কাদরী, হুমায়ূন আহমেদ ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো বাংলা সাহিত্যের দিকপালরা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, সেলিনা হোসেন, পবিত্র সরকার, ফরিদুর রেজা সাগর, মুহম্মদ নূরুল হুদা, শাহাদুজ্জামান এবং ২০২৬ সালে ইমদাদুল হক মিলনের মতো বিশিষ্টদের অংশগ্রহণ এই মেলাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
২০২০ সালের বৈশ্বিক মহামারির সময়ও এই মেলার পথচলা থেমে থাকেনি। পৃথিবীর সবকিছু স্থবির হয়ে পড়লেও নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে সেবার ১০ দিনব্যাপী এক ভার্চ্যুয়াল বইমেলার আয়োজন করা হয়।
২০২৩ সালে ৩২তম আসরের মাধ্যমে মেলাটি আবারও সশরীরে আয়োজনের ধারায় ফেরে। ২০২৪ সালের ৩৩তম মেলাটি ‘যত বই, তত প্রাণ’ স্লোগানে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করে। সেবার প্রায় ৪০টি প্রকাশনা সংস্থা ও শতাধিক লেখক এতে অংশ নেন।
২০২৫ সালের ৩৪তম আসরটি ছিল আরও বহুমাত্রিক। ইতিহাস, সাহিত্য ও চিত্রকলার সমন্বয়ে মেলাটি সেবার একটি পূর্ণাঙ্গ উৎসবে পরিণত হয়। ২৫টির বেশি প্রকাশনা সংস্থা এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি অতিথির সমাগম ঘটে এই আসরে।
সাদাত হোসাইনের উদ্বোধনে ওই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন ফিলিস টেইলর। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে রেহমান সোবহান, গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক, রওনক জাহান ও সিতারা বেগমের মতো বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বইমেলা মূলত তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমত, ভাষা ও একুশের চেতনা, যা নতুন প্রজন্মের কাছে আত্মপরিচয়ের শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
দ্বিতীয়ত, এটি একটি আন্তর্জাতিক সাহিত্য-বাজার। লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এটি বাংলা সাহিত্যের এক বৈশ্বিক অর্থনীতি গড়ে তুলেছে।
তৃতীয়ত, এটি প্রবাসীদের জন্য একটি উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক পরিসর বা পাবলিক স্পেস। এখানে ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, সাহিত্য ও সমকালীন পরিচয়ের নানা জটিল প্রশ্ন নিয়ে প্রতিনিয়ত মুক্ত আলোচনা হয়।
বিগত তিন দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই বইমেলা প্রমাণ করেছে যে, এটি কেবল একটি বার্ষিক উৎসব নয়। এটি একটি ভাষার টিকে থাকার নিরন্তর লড়াই এবং এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ঐতিহ্যের ধারাবাহিক হস্তান্তর।
১৯৯২ সালের সেই ছোট্ট উদ্যোগটি আজ আন্তর্জাতিক বাংলা সংস্কৃতির এক সুপ্রতিষ্ঠিত মঞ্চ। ২০২৬ সালের আসন্ন ৩৫তম আসর এই দীর্ঘ সাংস্কৃতিক যাত্রার আরও একটি পরিণত ও শক্তিশালী ধাপ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলেই প্রত্যাশা প্রবাসী বাঙালিদের।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির বিরুদ্ধে শহরে ইহুদিবিদ্বেষের পরিবেশ উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন প্রভাবশালী এক ইহুদি রাব্বির মেয়ে কারেন স্নেইয়ার ড্রেসবাখ। তাঁর দাবি, মামদানিকে ভোট দেওয়া অনেক ইহুদি এখন নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুতপ্ত। ইসরায়েল নিয়ে মেয়রের ধারাবাহিক কঠোর বক্তব্যের কারণে নিউইয়র্কের ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। কারেন স্নেইয়ার ড্রেসবাখ পার্ক ইস্ট সিনাগগের রাব্বি আর্থার স্নেইয়ারের মেয়ে। তিনি বহু-ধর্মীয় অ্যাপিল অব কনশেন্স ফাউন্ডেশনের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট। তাঁর অভিযোগ, ইসরায়েল নিয়ে মামদানির অবস্থান নিউইয়র্কে ইহুদিবিদ্বেষ আরও উসকে দিচ্ছে। মামদানি ইসরায়েলের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত। তিনি বয়কট, ডিভেস্টমেন্ট অ্যান্ড স্যাংশনস আন্দোলনকে সমর্থন করেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরেরও বিরোধিতা করেছেন। এসব অবস্থানকে কেন্দ্র করে ইহুদি সম্প্রদায়ের একটি অংশের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। স্নেইয়ার ড্রেসবাখের ভাষ্য অনুযায়ী, মামদানির বক্তব্যের কারণে নিউইয়র্কের ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ করে ইহুদি উপাসনালয়কে ঘিরে সাম্প্রতিক হামলা ও বিক্ষোভের ঘটনাগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর বাবা রাব্বি আর্থার স্নেইয়ারও ইহুদি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এদিকে, ইহুদি নেতাদের সঙ্গে মামদানির সম্পর্ক নিয়েও সম্প্রতি একাধিক বৈঠক হয়েছে। আগস্টে মেয়রের সঙ্গে ১০ জন রাব্বির একটি বন্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন রাব্বি জানান, ইসরায়েল নিয়ে মামদানির বক্তব্য নিউইয়র্কের ইহুদিদের একটি অংশকে বিচ্ছিন্ন ও নিরাপত্তাহীন করে তুলছে। তবে ওই বৈঠক নিয়ে মামদানি প্রশাসনের বক্তব্য ছিল ভিন্ন। মেয়রের ইহুদিবিদ্বেষবিরোধী দপ্তরের প্রধান ফিলিসা উইজডম বৈঠকটিকে খোলামেলা, ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেন। মামদানি নিজেও এর আগে বলেছেন, নিউইয়র্কে ইহুদিবিদ্বেষ বা যেকোনো ধরনের বিদ্বেষের কোনো স্থান নেই। তাঁর প্রশাসনের দাবি, সব ধরনের ঘৃণা ও বৈষম্য মোকাবিলায় তারা কাজ করছে। তবে ইসরায়েল বিষয়ে মামদানির অবস্থান এবং নিউইয়র্কে ইহুদি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকে কেন্দ্র করে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। মেয়রের নীতির সঙ্গে ইহুদি সম্প্রদায়ের একটি অংশের দূরত্ব বাড়ছে কি না, সেটিও নিউইয়র্কের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
বাংলাদেশের চাকরির অভিজ্ঞতাই হতে পারে আমেরিকায় ক্যারিয়ারের বড় শক্তি
এইচ-১বি ভিসার ফি বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার করার প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের
ডাউন সিনড্রোম নিয়েও ভালোবাসার কাছে হার মানেনি বাধা, ২৫ বছর একসঙ্গে ছিলেন ক্রিস-পল
২০১৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের কলেজ পার্কে স্কুল বাসে আগুন লাগার পর চালক রেনিটা স্মিথ দ্রুত ২০ শিশুকে বাস থেকে নামিয়ে নিরাপদে সরিয়ে নেন। কিন্তু সবার বের হওয়া নিশ্চিত করতে আগুনে জ্বলতে থাকা বাসে তিনি আবারও ঢুকে পড়েন। ঘটনায় কোনো শিশুই আহত হয়নি। সেদিন বিকেলে প্রিন্স জর্জেস কাউন্টির স্কুল বাসে গ্লেনার্ডেন উডস এলিমেন্টারি স্কুলের ২০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে বাড়ির পথে ছিলেন স্মিথ। বাসের ড্যাশবোর্ডে ব্রেকের সতর্ক সংকেত দেখার পর তিনি বাস থামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর মধ্যেই পোড়া গন্ধ পান এবং রিয়ারভিউ মিররে আগুনের শিখা দেখতে পান। সময় নষ্ট না করে সিটবেল্ট খুলে তিনি একে একে সব শিশুকে বাস থেকে বের করে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যান। আগুন তখন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল এবং কালো ধোঁয়ায় পুরো বাস ঢেকে যাচ্ছিল। শিশুরা নিরাপদে বেরিয়ে গেলেও রেনিটা নিশ্চিত ছিলেন না যে সবাই বাস থেকে বের হয়েছে কি না। কোনো বাস অ্যাটেনডেন্ট না থাকায় তিনি আবারও জ্বলন্ত বাসের ভেতরে ঢুকে প্রতিটি সিট পরীক্ষা করেন। শেষবার বাস থেকে বের হওয়ার সময় আগুন আরও ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আগুনটি বাসের পেছনের একটি চাকার কাছ থেকে শুরু হয়ে দ্রুত পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়েছিল। আগুনের ঘটনায় ২০ শিক্ষার্থীর কেউ আহত হয়নি। দুই সন্তানের মা রেনিটা পরে বলেন, বাসে থাকা শিশুরা তার কাছে নিজের সন্তানের মতো। তাদের বাবা-মায়ের কাছে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত তাদের দায়িত্ব নিজের সন্তানের মতো করেই দেখেন তিনি। তার সাহসিকতার স্বীকৃতিও আসে দ্রুত। প্রিন্স জর্জেস কাউন্টি স্কুল কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিস তাকে সম্মাননা দেয়। পরে তিনি ‘দ্য এলেন ডেজেনারেস শো’তেও অংশ নেন, যেখানে তার সাহসিকতার জন্য তাকে ২০ হাজার ডলারের একটি চেক দেওয়া হয়। রেনিটা অবশ্য নিজের কাজকে আলাদা কোনো বীরত্ব হিসেবে দেখেননি। তার কাছে সেদিনের সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল ২০ শিশুকে নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।
সড়ক দুর্ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর মা-মেয়েকে আটক করল আইসিই
নিউইয়র্কের পর এবার টেনেসিতে, ডাকাতির সময় গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
১৩ বছর ধরে ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত সহপাঠীকে আগলে রাখলো দুই বন্ধু, শেষে একসঙ্গেই গ্র্যাজুয়েশন
সিলেটের টিলাগড়ের তরুণ পংকজ তালুকদার কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরে কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর এই অর্জনের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বন্ধু, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ ও অভিনন্দন। পংকজ সিলেটের হাতিম আলী উচ্চবিদ্যালয় ও এমসি কলেজে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে নিউইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর পরিবারের মূল বাড়ি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে পংকজ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পথটি মোটেও সহজ ছিল না। শারীরিক প্রশিক্ষণ, মানসিক প্রস্তুতি এবং বিশেষায়িত সামরিক প্রশিক্ষণের প্রতিটি ধাপেই তাঁকে কঠোর পরিশ্রম ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, অনেক দিন ভোর ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে দিনের প্রশিক্ষণ শুরু হতো এবং শেষ হতো রাত ৮টা থেকে ৯টার দিকে। দীর্ঘ সময় ঘুম ও বিশ্রামের সুযোগ সীমিত থাকলেও প্রতিদিনই শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা ও সহনশীলতার পরীক্ষা দিতে হয়েছে। মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণও ছিল অত্যন্ত কঠিন। প্রায় ১১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় টানা চার দিন জঙ্গলে অবস্থান করতে হয়েছে তাঁকে। প্রচণ্ড গরম, সাপ, পোকামাকড় ও শারীরিক ক্লান্তির মধ্যেও প্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে হয়েছে। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে এম৪ রাইফেল দিয়ে গুলি চালানোর অনুশীলন, জীবন্ত গ্রেনেড নিক্ষেপ, মাইন শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন ধরনের দুর্গম বাধা অতিক্রমের প্রশিক্ষণও সম্পন্ন করেছেন পংকজ। প্রায় পাঁচ মাসের কঠোর প্রশিক্ষণে তাঁর ওজন কমেছে ২৬ পাউন্ড। পাশাপাশি প্রায় প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার দৌড়াতে হয়েছে। সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতাগুলোর একটি ছিল কাঁধে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ পাউন্ড ওজনের ভারী ব্যাগ নিয়ে টানা ১০ মাইল হাঁটা। কখনো মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেও এই প্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে হয়েছে। শরীর ভিজে গেলেও থেমে যাওয়ার সুযোগ ছিল না বলে জানিয়েছেন তিনি। পংকজ বলেন, অনেক সময় শরীর মনে করত আর পারছে না, আবার মন চাইত একটু বিশ্রাম নিতে। কিন্তু থেমে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। তখন নিজেকেই বারবার সাহস দিয়ে আরও একবার চেষ্টা করার মানসিকতা ধরে রাখতে হয়েছে। শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি পরিবার ও পরিচিত পরিবেশ থেকে দীর্ঘ সময় দূরে থাকাও ছিল বড় মানসিক পরীক্ষা। প্রশিক্ষণের সময় মুঠোফোন ব্যবহারের সুযোগ ছিল সীমিত। কখনো মাত্র ৩০ মিনিটের জন্য ফোন হাতে পাওয়ার সুযোগ মিলত। সেই অল্প সময়টুকুতেই পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হতো। দীর্ঘ প্রশিক্ষণ শেষে এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সদস্য। নিজের এই যাত্রার দিকে ফিরে তাকিয়ে পংকজ মনে করেন, নির্ঘুম রাত, কঠোর পরিশ্রম, ঘাম ও শারীরিক কষ্টই তাঁকে আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। এই পুরো সময়ে যারা তাঁকে সাহস ও মানসিক শক্তি দিয়েছেন, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে পংকজ বলেন, বেসামরিক জীবন থেকে যে যাত্রা শুরু করেছিলেন, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ করে এখন তিনি গর্বের সঙ্গে বলতে পারেন, “আমি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একজন সদস্য।” তিনি আরও বলেন, “এই পথ সহজ ছিল না। কিন্তু প্রতিটি কষ্ট সার্থক হয়েছে। কষ্ট ছিল সাময়িক, গর্ব থাকবে চিরদিন।” সিলেট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে প্রযুক্তি খাতে পেশাজীবন শুরু করার পর কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ পেরিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরে কর্মকর্তা হিসেবে পংকজের এই যাত্রা এখন তাঁর পরিচিতজনদের কাছে পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়ের অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে। সূত্র : sylhettoday24
ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে একের পর এক বিদায়, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাড়ছে কর্মী ছাড়ার চাপ
যুক্তরাষ্ট্রে ২ বছরের কনডিশনাল গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম,নিতে হবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ