যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে খুন এবং শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধে যুক্ত অবৈধ অভিবাসীদের পরিচয় প্রকাশ করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)। একইসঙ্গে সংস্থাটি নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট দলীয় গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং মেয়র জোহরান মামদানির ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আশ্রয়দাতা (স্যাংচুয়ারি) নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে। আইস-এর দাবি, জ্যামাইকা, এল সালভাদর, ইকুয়েডর এবং হন্ডুরাস থেকে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা এসব ব্যক্তি হত্যা, ধর্ষণ এবং শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের মতো গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
আইস নিউইয়র্ক সিটি শাখার ফিল্ড অফিস ডিরেক্টর কেনেথ জেনালো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্যাংচুয়ারি বা আশ্রয়দাতা রাজনীতিকরা আইন মান্যকারী নাগরিকদের চেয়ে অপরাধী অভিবাসীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তবে আইস কর্মকর্তারা খুনি ও ধর্ষকদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
মূলত নিউইয়র্কের শীর্ষ এই দুই নেতার সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপের পরই আইস এই কড়া প্রতিক্রিয়া দেখাল। সম্প্রতি গভর্নর ক্যাথি হোকুল এমন একটি আইন পাসের উদ্যোগ নিয়েছেন, যার ফলে স্থানীয় পুলিশ এবং ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাধাগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি হাসপাতাল বা পার্কের মতো সর্বজনীন স্থানে আইস এজেন্টদের প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর মেয়র জোহরান মামদানি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন, যা ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি থেকে নিউইয়র্ককে রক্ষায় আশ্রয়দাতা হিসেবে কাজ করবে। আইস-এর মতে, এই ধরনের নীতি নিউইয়র্ককে আরও অনিরাপদ করে তুলছে এবং সহিংস অপরাধীদের পুনরায় অপরাধ করার ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
প্রকাশিত তথ্যে বেশ কয়েকজন গুরুতর অপরাধীর নাম ও তাদের অপকর্মের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন জ্যামাইকার নাগরিক মোসিয়াহ রাইট, যিনি এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরও মিনেসোটায় হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এছাড়া এল সালভাদরের হোসে ফুয়েন্তেস-সারাভিয়া, ভিসেন্তে মেজিয়া-মার্কেজ, ব্লাস আলবার্তো দিয়াজ এবং বেঞ্জামিন কুইজাদার মতো অপরাধীরা ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন ও জোরপূর্বক যৌন নিপীড়নের মতো জঘন্য ঘটনায় জড়িত।
ইকুয়েডরের হোসে ইজরায়েল চাপা ফ্লোরেস এবং হন্ডুরাসের ফ্র্যাঙ্কলিন সাউল বানেগাস-সেভালোসও শিশু নির্যাতন এবং মাদক সংক্রান্ত অপরাধে অভিযুক্ত। আইস জানিয়েছে, জঘন্য এই অপরাধীরা বর্তমানে তাদের হেফাজতে রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ও বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আইস-এর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারির পর থেকে নিউইয়র্কে আইস-এর ডিটেইনার বা আটকের অনুরোধ অগ্রাহ্য করার কারণে প্রায় ৬,৯৪৭ জন অপরাধী অবৈধ অভিবাসীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, এই মুক্তিপ্রাপ্তদের অপরাধের তালিকায় ২৯টি হত্যাকাণ্ড, ২,৫০৯টি হামলা, তিন শতাধিক ডাকাতি এবং অসংখ্য মাদক ও যৌন অপরাধের ঘটনা রয়েছে।
এছাড়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নিউইয়র্কের বিভিন্ন কারাগারে থাকা সাত সহস্রাধিক অবৈধ অভিবাসীর বিরুদ্ধে আইস-এর সক্রিয় পরোয়ানা রয়েছে, যারা শতাধিক খুন এবং কয়েকশ ভয়ানক অপরাধে যুক্ত থাকার পরও স্থানীয় আইনের কারণে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের আইভি লিগভুক্ত স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্নেল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীর বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের পরও বিনা বাধায় ক্যাম্পাসে ফিরে আসার খবরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ১৯ বছর বয়সী অস্টিন ফ্রাঙ্কো নামের ওই শিক্ষার্থী গত জুনে নিউইয়র্কের একটি স্টার্টআপ কোম্পানির ইন্টারভিউ প্রত্যাখ্যান করে ভাইরাল হন। কারণ হিসেবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, কোনো "ইহুদির অধীনে কাজ করতে" তিনি একেবারেই আগ্রহী নন। এই মন্তব্যের জেরে অনলাইনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়লেও ফ্রাঙ্কো সম্প্রতি দাবি করেছেন, আগামী ফল সেমিস্টারে তিনি কোনো ধরনের শাস্তি ছাড়াই পুনরায় ক্যাম্পাসে ফিরছেন। রক্ষণশীল অলাভজনক সংস্থা ‘অ্যুরেসি ইন মিডিয়া’-এর এক ছদ্মবেশী তদন্তকারীর কাছে ফ্রাঙ্কো নিজেই তার এই নির্বিঘ্নে ফিরে আসার কথা স্বীকার করেছেন। ছদ্মবেশী ওই ব্যক্তি নিজেকে ফ্রাঙ্কোর মতোই সমমনা হিসেবে পরিচয় দিয়ে তার সাথে দেখা করেন। সেখানে ফ্রাঙ্কো জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার সাথে যোগাযোগ করলেও তার বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি। কারণ হিসেবে তিনি মনে করেন, তার মন্তব্যটিকে সরাসরি 'ঘৃণাত্মক' বা 'হেইট স্পিচ' হিসেবে চিহ্নিত করা যায়নি। এমনকি, এই বিতর্কের পর নিজের উগ্র সমর্থকদের কাছ থেকে তিনি প্রায় ২৫ হাজার ডলার অনুদানও সংগ্রহ করেছেন বলে হাসিমুখে স্বীকার করেছেন। এই ঘটনায় কর্নেল ইউনিভার্সিটির নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় ইহুদি নেতা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্তের জন্য সিভিল রাইটস অফিসে পাঠানো হয়েছে এবং তারা সব ধরনের বৈষম্য ও ঘৃণার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। তবে ফ্রাঙ্কোর ক্যাম্পাসে ফেরার দাবির বিষয়ে তারা সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। দ্য হ্যাম্পটন সিনাগগের প্রতিষ্ঠাতা র্যাবাই মার্ক স্নাইয়ার এই ঘটনাকে চরম উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে বলেছেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের প্রকাশ্য বিদ্বেষের পরও কোনো শিক্ষার্থীর বহাল তবিয়তে ক্লাস করার সুযোগ পাওয়াটা প্রমাণ করে যে, সমাজে ইহুদিবিদ্বেষ বর্তমানে কতটা স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। ডেভিয়ান গেকমান নামের আরেক শিক্ষার্থী জানান, বাকস্বাধীনতা মানেই পরিণতির হাত থেকে বেঁচে যাওয়া নয়; প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্যই এক অশনিসংকেত। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ফ্রাঙ্কো তার মন্তব্যের স্বপক্ষে সাফাই গেয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ইন্টারভিউ প্রত্যাখ্যানের ভাষাটি হয়তো খুব বেশি বুদ্ধিদীপ্ত ছিল না, তবে এর বিপরীতে মানুষের প্রতিক্রিয়া ছিল মাত্রারিক্ত। নিজের কর্মসংস্থান সংকটের পেছনেও তিনি ইহুদিদেরই দায়ী করেছেন। তবে মজার ব্যাপার হলো, পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত অন্য শিক্ষার্থীদের মতে, ফ্রাঙ্কো একসময় নিজেই কর্নেল ইউনিভার্সিটির ডাইনিং হলের 'কোশার' (ইহুদিদের খাবার) স্টেশনে কাজ করতেন। সর্বশেষ, ছদ্মবেশী মিডিয়া গ্রুপটি তাকে আর্থিক সহায়তা ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বোকা বানানোয় তিনি উল্টো হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টা ভোটার আইডি আইনের ব্যালটের ভাষা পরিবর্তন করে ব্যাপক তোপের মুখে পড়েছেন। ডেমোক্র্যাট এই নেতার বিরুদ্ধে 'প্রোপোজিশন ৩৯'-এর বর্ণনায় শেষ মুহূর্তে বিভ্রান্তিকর পরিবর্তন এবং কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। এই প্রস্তাবনায় বলা হয়েছিল, ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সরকারি আইডি অথবা ডাকযোগে ভোটের ক্ষেত্রে আইডি নম্বরের শেষ চার অঙ্ক প্রদান করতে হবে। কিন্তু ব্যালটে এর ভাষা এমনভাবে বদলে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, মূল বর্ণনায় প্রোপোজিশন ৩৯-কে "অতিরিক্ত ভোটার শনাক্তকরণ এবং নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা প্রতিষ্ঠা করার" একটি আইনি পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু এটি নভেম্বরের ব্যালটের জন্য চূড়ান্ত হওয়ার পর বোন্টা এর ভাষা বদলে লেখেন, এটি এমন একটি প্রস্তাবনা যা "সরকারি আইডি প্রদর্শন না করলে নাগরিকদের ভোট দেওয়া নিষিদ্ধ করে।" এই তীব্র সমালোচিত পরিবর্তনের সাফাই গাইতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) বোন্টা জানান, ভোটারদের কাছে আরও স্পষ্ট করার জন্যই এমনটা করা হয়েছে এবং ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ বৈধ। তিনি দাবি করেন, ব্যালটের নয়টি প্রস্তাবনারই ভাষা সম্পাদনা করা হয়েছে এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিচার বিভাগ (ডিওজে) ভোটারদের সঠিক ও নিরপেক্ষ তথ্য দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তার এই যুক্তিতে মোটেও সন্তুষ্ট হতে পারেননি সাধারণ মানুষ। এক্সে অনেকেই তাকে 'প্রতারক' ও 'অসৎ' আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের সুরকার ব্রায়ান রালস্টন মন্তব্য করেন, বোন্টা ইচ্ছা করেই বিলটির মূল উদ্দেশ্য থেকে ভোটারদের মনোযোগ সরাতে কারচুপির আশ্রয় নিয়েছেন, কারণ তিনি জানেন অন্যথায় তিনি হেরে যাবেন। উল্লেখ্য, ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলদের এমন পক্ষপাতদুষ্ট ভাষা ব্যবহারের ইতিহাস নতুন নয়। এর আগে গ্যাস ট্যাক্স বাতিলের একটি জনবান্ধব প্রস্তাবনাকে "রাস্তা মেরামত ও পরিবহনের তহবিল বাতিল" হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল, যা ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি করেছিল। এই ব্যাপক সমালোচনার মধ্যেই প্রোপোজিশন ৩৯-এর সমর্থক গোষ্ঠী 'রিফর্ম ক্যালিফোর্নিয়া' বোন্টার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে। যদিও অতীতের রেকর্ড অনুযায়ী, আদালত সাধারণত ব্যালটের ভাষা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অ্যাটর্নি জেনারেলদের পক্ষেই রায় দিয়ে থাকে। তবে শুক্রবার এক তহবিল সংগ্রহের প্রচারণায় সংগঠনটি দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছে, লড়াই না করে তারা এই প্রকাশ্য দুর্নীতির কাছে কোনোভাবেই মাথা নত করবে না।
নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলে তৃতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির ৪০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী পড়া ও গণিতের শ্রেণিভিত্তিক পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় ফল করতে পারেনি। এরপরও গত বছর এসব শ্রেণির প্রায় ১০০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে। একই শ্রেণিতে রাখা হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থীকে। নিউইয়র্ক সিটির শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির প্রায় ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পরবর্তী শ্রেণিতে ওঠার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারেনি। তবে তাদের অধিকাংশকেই শেষ পর্যন্ত পরবর্তী শ্রেণিতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষা নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ। অভিভাবকদের সংগঠন Parent Leaders for Accelerated Curriculum Education-এর সহসভাপতি জিন হান দ্য পোস্টকে বলেন, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত দক্ষতা অর্জন না করেও শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে তুলে দেওয়া শিক্ষাব্যবস্থার জন্য গুরুতর ব্যর্থতা। তবে নিউইয়র্ক সিটির শিক্ষা বিভাগ বলছে, শুধু শ্রেণিভিত্তিক পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। শিক্ষার্থীর রিপোর্ট কার্ড, শ্রেণিকক্ষের কাজ এবং নির্ধারিত শিক্ষাগত দক্ষতা অর্জনের অন্যান্য প্রমাণও বিবেচনায় নেওয়া হয়। শিক্ষা বিভাগের এক মুখপাত্র বলেন, শিক্ষার্থীর কোর্সের ফলাফল থেকে তার নির্ধারিত শিক্ষাগত মান কতটা আয়ত্ত করেছে, তা বোঝা যায়। শুধু উপস্থিতি, আচরণ বা শ্রেণিকক্ষে কাটানো সময়ের ভিত্তিতে নয়, বরং নির্ধারিত শিক্ষাগত প্রত্যাশা পূরণ করেই শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করার কথা। নিউইয়র্ক সিটির স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের একই শ্রেণিতে রাখার হার গত এক দশকের বেশি সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০১৪ সালে তৎকালীন মেয়র বিল ডি ব্লাসিওর প্রশাসনের সময় চালু হওয়া একটি নীতির আওতায় শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে তোলার ক্ষেত্রে শ্রেণিভিত্তিক পরীক্ষার ফলের পাশাপাশি আরও বিস্তৃত মূল্যায়ন পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়। এর আগে ২০১০ সালে নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলোতে প্রায় ৯ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত। সে বছর ১ দশমিক ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে একই শ্রেণিতে রাখা হয়েছিল। গত বছর সেই হার কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশে। এ নিয়ে নিউইয়র্কের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, শ্রেণিভিত্তিক পরীক্ষায় দুর্বল ফল করা শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে তুলে দিলে তারা প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে কি না। অন্যদিকে শিক্ষা বিভাগের অবস্থান হলো, শিক্ষার্থীর সামগ্রিক একাডেমিক অগ্রগতি বিবেচনা করেই শ্রেণি উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।