- প্রচ্ছদ
- Topic
ডাটা সেন্টার
১৮ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমানো বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া উদ্যোক্তা রবিন খোদার প্রতিষ্ঠিত এয়ারট্রাঙ্ক এক দশকেরও কম সময়ে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বড় ডেটা সেন্টার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ২০২৪ সালে ব্ল্যাকস্টোনের নেতৃত্বাধীন বিনিয়োগকারী জোটের অধিগ্রহণ চুক্তিতে প্রতিষ্ঠানটির এন্টারপ্রাইজ ভ্যালু নির্ধারিত হয় ২৪ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বেশি। ব্যবসার পাশাপাশি নারীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিশিক্ষায় বড় অনুদানের মাধ্যমেও পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। ২০১৫ সালে এয়ারট্রাঙ্ক প্রতিষ্ঠা করেন খোদা। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত বিবরণে তাঁর ১৮ বছর বয়সে সিডনিতে আসা এবং সেখান থেকে বড় পরিসরের ডেটা সেন্টার ব্যবসা গড়ার যাত্রার কথা উঠে এসেছে। ক্লাউড সেবা ও বিপুল তথ্য প্রক্রিয়াকরণের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে এয়ারট্রাঙ্কের ব্যবসাও সম্প্রসারিত হয়। ব্ল্যাকস্টোন ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর অধিগ্রহণ চুক্তির ঘোষণা দেয়। তাদের সঙ্গে ছিল কানাডা পেনশন প্ল্যান ইনভেস্টমেন্ট বোর্ড বা সিপিপি ইনভেস্টমেন্টস। বিক্রেতা ছিল ম্যাককুয়ারি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ও পিএসপি ইনভেস্টমেন্টস। ঘোষণায় বলা হয়, এটি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ব্ল্যাকস্টোনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। চুক্তির সময় এয়ারট্রাঙ্কের অস্ট্রেলিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, হংকং ও সিঙ্গাপুরে উপস্থিতি ছিল। গ্রাহকদের জন্য প্রতিশ্রুত সক্ষমতা ছিল ৮০০ মেগাওয়াটের বেশি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও এক গিগাওয়াটের বেশি সক্ষমতা গড়ার উপযোগী জমি ছিল প্রতিষ্ঠানটির হাতে। নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের পর অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার কথা ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর জানায় এয়ারট্রাঙ্ক। প্রতিষ্ঠানটির বিবরণ অনুযায়ী, সে সময় এটি ছিল বিশ্বের বৃহত্তম ডেটা সেন্টার অধিগ্রহণ এবং ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম লেনদেন। অধিগ্রহণের পরও প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী হিসেবে যুক্ত থাকেন খোদা। তবে ২৪ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক এন্টারপ্রাইজ ভ্যালু। এই অঙ্ককে খোদার ব্যক্তিগত সম্পদ বা তাঁর একার প্রাপ্ত বিক্রয়মূল্য হিসেবে দেখানো সঠিক হবে না। ব্ল্যাকস্টোনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বিনিয়োগকারীরা খোদার সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ব্যবসাটি এগিয়ে নিচ্ছেন। এয়ারট্রাঙ্কের পরবর্তী সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় ভারতও রয়েছে। ২০২৬ সালের ৫ জুন প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে পাঁচ গিগাওয়াটের বেশি ডেটা সেন্টার সক্ষমতা গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের ঘোষণা, ইতিমধ্যে ব্যয় হয়ে যাওয়া অর্থের হিসাব নয়। শিক্ষাক্ষেত্রে খোদার বড় উদ্যোগ আসে তাঁর পারিবারিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে। ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ইউনিভার্সিটি অব সিডনি জানায়, খোদা ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের ১০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলারের অনুদানে ২০ বছরের একটি কর্মসূচি পরিচালিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়টির হিসাবে, এটি তাদের ইতিহাসের বৃহত্তম অনুদান। ওয়েস্টার্ন সিডনির মেয়েদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বা স্টেম বিষয়ে পড়াশোনা এবং পেশা গড়তে সহায়তা করাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য। সপ্তম শ্রেণি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত পড়াশোনায় সহায়তা, মেন্টরিং ও স্কলারশিপের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যোগ্যতার শর্ত পূরণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পথও তৈরি করবে উদ্যোগটি। ২০২৬ সালে অস্ট্রেলিয়ান একাডেমি অব টেকনোলজিক্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ফেলো নির্বাচিত হন রবিন খোদা। ডেটা সেন্টার ব্যবসা গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রযুক্তিশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ তাঁর পেশাজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।
রাশিয়ার রিয়াজান অঞ্চলে দেশটির অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইয়ানডেক্সের একটি বড় ডেটা সেন্টারে ড্রোন হা ম লার ঘটনা ঘটেছে। এতে ডেটা সেন্টারটিতে আ গু ন ধরে যায় এবং প্রতিষ্ঠানটিকে সাময়িকভাবে পুরো কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়। রাশিয়ার কোনো ডেটা সেন্টারে ইউক্রেনীয় ড্রোনের এমন বড় হা ম লার ঘটনা এর আগে নিশ্চিতভাবে সামনে আসেনি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ইয়ানডেক্স জানিয়েছে, হা ম লার পর ডেটা সেন্টারের কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সেবাগুলো পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ভোক্তা সেবাগুলো চালু রয়েছে। ইয়ানডেক্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জেনারেটিভ মডেল ইয়ানডেক্সজিপিটিও এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানানো হয়েছে। ইয়ানডেক্স ক্লাউডের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ডেটা সেন্টারের একটি অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ কারণে গ্রাহকদের বিকল্প ডেটা সেন্টার ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ড্রোন হা ম লায় ঠিক কতটা ভৌত ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইউক্রেনের ডেটা অবকাঠামোর বিরুদ্ধেও রাশিয়া সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একাধিক হা ম লা চালিয়েছে। ফলে ডেটা সেন্টার ও প্রযুক্তি অবকাঠামোকে ঘিরে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হা ম লার নতুন মাত্রা তৈরি হয়েছে। ইয়ানডেক্সের স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এবারের ড্রোন হা ম লা সেই সংঘাতকে আরও বিস্তৃত প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর দিকে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এদিকে একই সময়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়া ব্যাপক ক্ষে প ণাস্ত্র ও ড্রোন হা ম লা চালিয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়া এক রাতেই প্রায় ৭০টি ক্ষে প ণাস্ত্র এবং কয়েক ডজন শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করেছে। হা ম লায় দেশটির শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উত্তর ইউক্রেনের চেরনিহিভ অঞ্চলের প্রিলুকি শহরেই সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে রুশ ক্ষে প ণাস্ত্রের আঘাতে একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত শহরটিতে নি হ তের সংখ্যা ২২ জনে পৌঁছেছে বলে ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে। রাজধানী কিয়েভেও একটি আবাসিক ভবনে রুশ হা ম লার পর আরও দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রয়টার্সের সর্বশেষ হিসাবে, ইউক্রেনজুড়ে ওই রুশ হা ম লায় অন্তত ৩২ জন নি হ ত হয়েছেন এবং ১০০ জনের বেশি আ হ ত হয়েছেন। এর আগে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা মৃতের সংখ্যা ২৫ ও পরে ২৮ জন বলে জানিয়েছিলেন। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। প্রিলুকিতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে জরুরি বিভাগের কর্মীরা রাতভর কাজ করেন। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত ১৫ জনকে জীবিত বের করে আনেন। শহরটিতে প্রায় ৫৫ জন আ হ ত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আরও মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছিল। জেলেনস্কি এই হা ম লাকে রাশিয়ার অন্যতম ভয়াবহ ও ‘জঘন্য’ আ ঘা ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ঘটনাটি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্মদিনের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় তিনি বিষয়টি নিয়ে তীব্র মন্তব্যও করেন। জেলেনস্কি বলেন, শিশু ও সাধারণ মানুষকে হ ত্যা করাই যেন পুতিনের নিজের জন্য দেওয়া জন্মদিনের উপহার। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য দাবি করেছে, তাদের হা ম লার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক-শিল্প অবকাঠামো। দেশটি উচ্চনির্ভুলতার স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথের ক্ষে প ণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করেছে বলে মস্কো জানিয়েছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী বলেছে, রাশিয়ার ছোড়া ৪৬টি জেটচালিত ড্রোনের ৮০ শতাংশের কিছু বেশি তারা ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে ইউক্রেনের জন্য ব্যালিস্টিক ক্ষে প ণাস্ত্র এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে বলে জেলেনস্কি জানিয়েছেন। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। একই দিনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনকে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের জন্য ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউরোর একটি নতুন অর্থ ছাড় করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার ভূখণ্ডে পাল্টা আ ঘা ত চালিয়েছে। জেলেনস্কির দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার চারটি লক্ষ্যবস্তুতে আ ঘা ত হেনেছে। এর মধ্যে দুটি জ্বালানি স্থাপনা এবং একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র ছিল। ইয়ানডেক্সের ডেটা সেন্টারে ড্রোন হা ম লা এবং ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষে প ণাস্ত্র ও ড্রোন হা ম লা একই সময়ে সংঘটিত হওয়ায় সংঘাতের নতুন দিক সামনে এসেছে। সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি এখন দুই পক্ষের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, জ্বালানি ও যোগাযোগ অবকাঠামোও ক্রমেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সেবা ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি ছোট শহরে বিশাল ডেটা সেন্টার নির্মাণের জন্য প্রতিটি পরিবারকে ১০ হাজার ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে নর্থপয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট নামের একটি কোম্পানি। তবে বিপুল এই অর্থের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও শহরটির বেশিরভাগ বাসিন্দা এই প্রকল্পের বিরোধিতা করছেন। ডেটা সেন্টারগুলো মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হয়, যা প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ, জমি এবং অন্যান্য সম্পদের ব্যবহার করে থাকে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে স্থানীয় সম্প্রদায়গুলো এ ধরনের প্রকল্পের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে শুরু করেছে, যারই ধারাবাহিকতায় পেনসিলভেনিয়ার হ্যাজল টাউনশিপেও একই ধরনের অসন্তোষ দেখা গেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নর্থপয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট পোকোনো পাদদেশের কাছাকাছি হ্যাজল টাউনশিপে প্রায় ১ হাজার ৩০০ একর জমির ওপর ১৫টি ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামো সংবলিত একটি ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস নির্মাণ করতে চাইছে। গত জুন মাসে কোম্পানিটি শহরটির প্রায় সাড়ে চার হাজার পরিবারের কাছে চিঠি পাঠিয়ে এই প্রস্তাব দেয়। এজন্য কোম্পানিটি ৪৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়ে ২০২৭ সালের শেষের দিকে প্রথম ডেটা সেন্টারটি তাদের 'সার্টিফিকেট অব অকুপেন্সি' বা ব্যবহারের সনদ পেলেই কেবল পরিবারগুলো এই অর্থ পাবে। এছাড়া, আগামী ১৫ বছরে স্থানীয় পুলিশ বিভাগসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের উন্নয়নে আরও ১২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে কোম্পানিটি। তবে প্রায় ১০ হাজার ৪৬০ জন বাসিন্দার এই শহরে ১০ হাজার ডলারের চেকও মানুষের উদ্বেগ কমাতে পারেনি। স্থানীয়দের প্রধান শঙ্কা হলো—নির্মাণকাজ, শব্দদূষণ এবং এর ফলে সম্পত্তির দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা। জেফ ফাসনাকট নামের একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জানান, তার সম্পত্তির যে পরিমাণ মূল্যহ্রাস ঘটবে, তার তুলনায় এই ১০ হাজার ডলার একেবারেই নগণ্য। এড নেগ্রা নামের আরেক অবসরপ্রাপ্ত বাসিন্দা মনে করেন, এই প্রস্তাব হিতে বিপরীত হতে পারে, কারণ অনেকেই এটিকে ‘ঘুষ’ হিসেবে দেখছেন। যদিও নর্থপয়েন্টের চিফ মার্কেটিং অফিসার ব্রেন্ট মাইলস দাবি করেছেন যে, গত বছর একটি জনসভায় স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতেই সরাসরি এই আর্থিক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। চার্লি লেশকোর মতো কিছু বাসিন্দা এই অর্থ দিয়ে গাড়ি কেনা বা বাড়ির ডাউনপেমেন্ট দেওয়ার স্বপ্ন দেখলেও, কার্ল মাজুসিয়াকের মতো অনেকেই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তাদের এলাকায় এই ডেটা সেন্টারের কোনো প্রয়োজন নেই। এদিকে ডেটা সেন্টার ও এআই প্রযুক্তির প্রসার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক বাড়ছে। সম্প্রতি অ্যানথ্রপিক-এর সাবেক গবেষক জ্যাকব ককসন এবং ইভান হুবিঙ্গার সতর্ক করেছেন যে, উন্নত এআই প্রযুক্তি আগামী এক দশকের মধ্যে মানবজাতির বিলুপ্তির কারণ হতে পারে। এমন সতর্কবার্তার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব বজায় রাখতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওপেনএআই, মেটা এবং এনভিডিয়ার মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এআই-এর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানবজাতির জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে—এমন সতর্কবার্তাকে ‘হোক্স’ বা ভিত্তিহীন প্রচারণা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে এআই ডেটা সেন্টার নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ের উদ্বেগকেও তিনি আক্রমণ করেছেন। ১৪ সেপ্টেম্বর ট্রুথ সোশ্যাল-এ ধারাবাহিক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প। এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যারা এআই পৃথিবী ধ্বংস করবে বলে সতর্ক করছেন এবং ডেটা সেন্টারকে নিজেদের এলাকার জন্য ক্ষতিকর বলছেন, তারা অতীতেও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে পৃথিবী ধ্বংসের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ট্রাম্প তাদের বক্তব্যকে ‘হোক্স’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, একই ধরনের লোকজন এখন নতুন একটি বিষয় নিয়ে এগিয়ে এসেছে। এটি ট্রাম্পের নিজের বক্তব্য; এর সত্যতা যাচাই না করে এটিকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, এআই ও ডেটা সেন্টার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে একটি ‘অসুস্থ ষড়যন্ত্র’ চলছে এবং এতে চীন লাভবান হবে। এর আগে তিনি বলেছিলেন, এআই নিয়ন্ত্রণে নতুন কোনো গার্ডরেল বা অতিরিক্ত বিধিনিষেধের প্রয়োজন নেই।তার ভাষ্য অনুযায়ী, এআইয়ের জন্য প্রয়োজন একজন ‘শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান প্রেসিডেন্ট’। ট্রাম্পের এই অবস্থান এসেছে এআই খাতের কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তির সতর্কবার্তার পর। অ্যানথ্রপিক-এর প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই সম্প্রতি এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, অত্যাধুনিক এআই এজেন্টের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে এবং যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান ও ইলন মাস্কও এআই উন্নয়নে আরও সতর্কতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। এআই নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে শুধু মানবজাতির অস্তিত্বের ঝুঁকিই নয়, চাকরি, গোপনীয়তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং ডেটা সেন্টারের পরিবেশগত ও স্থানীয় প্রভাব নিয়েও আলোচনা বাড়ছে। ডেটা সেন্টার স্থাপনের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার, পানি এবং স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর চাপ তৈরি হতে পারে—এমন উদ্বেগও বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে। তবে ট্রাম্পের যুক্তির বিপরীতে এআই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকে শুধু রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে দেখছেন না প্রযুক্তি খাতের সবাই। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে এআইয়ের অপব্যবহার এবং দ্রুত উন্নয়ন নিয়ে শিল্পখাতের ভেতর থেকেই সতর্কতা বাড়ছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রযুক্তি প্রতিযোগিতাও এআই নীতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করেছে। এদিকে ট্রাম্পের অবস্থান হলো, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ এআই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রগতি ধীর করে দিতে পারে এবং এতে চীন সুবিধা পেতে পারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। ফলে ওয়াশিংটনে এখন মূল বিতর্ক দাঁড়িয়েছে—এআইয়ের দ্রুত উন্নয়ন অব্যাহত রাখা হবে, নাকি নিরাপত্তার জন্য নতুন বিধিনিষেধ আনা হবে। সোর্স: রয়টার্স ও ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্ট।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ডাটা সেন্টার তৈরির জন্য বিপুল অঙ্কের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে খবরের শিরোনামে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকির দুই সাধারণ নারী কৃষক। প্রায় ২৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন (২ কোটি ৬৪ লাখ) মার্কিন ডলারের চোখ ধাঁধানো প্রস্তাব পাওয়ার পরও নিজেদের ২০০ বছরের পুরোনো পারিবারিক কৃষিজমিতে এআই হাব গড়ে তুলতে দিতে সাফ অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মা ও মেয়ে। সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেলসিয়া বেয়ার এবং তাঁর মা ইদা হাডলস্টন শুরুতে জমি বিক্রিতে রাজি হয়েছিলেন। তবে যখনই জানতে পারেন যে সেখানে এআই বট পরিচালনার জন্য ডাটা সেন্টার তৈরি করা হবে, তখনই তারা তাৎক্ষণিকভাবে চুক্তি বাতিল করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় অন্ধ ডেলসিয়া বেয়ারের ৪৬৩ একর জমির জন্য প্রতি একরে ৪৮ হাজার ডলার এবং লাঠিতে ভর দিয়ে চলা তাঁর মা ইদার ৭১ একর জমির জন্য একরপ্রতি ৬০ হাজার ডলার—সব মিলিয়ে ২৬ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছিল নাম প্রকাশ না করা একটি এআই কোম্পানি। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে প্রযুক্তি জায়ান্ট 'মেটা'র সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে চুক্তি বাতিলের পর ডেলসিয়া কোম্পানিটির প্রতিনিধিদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তারা যেন আর কখনো ফিরে না আসেন। জমি বিক্রি না করার বিষয়ে ডেলসিয়া জানান, কেবল একটি এআই হাব তৈরির জন্য পারিবারিক জমি ছেড়ে দিলে পরকালে বা বিচার দিবসে তাকে স্রষ্টার কাছে জবাবদিহি করতে হতে পারে—এমন নৈতিক ও ধর্মীয় অনুভূতি থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদিকে ডাটা সেন্টার নির্মাণকে কেন্দ্র করে মেসভিল শহরের বাসিন্দারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় অনেকেই সম্ভাব্য অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা চিন্তা করে কোটি কোটি ডলারের বিনিময়ে নিজেদের জমি বিক্রি করতে রাজি হয়েছেন। তবে ডেলসিয়াসহ এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা পর্যন্ত দায়ের করেছেন। এই বিষয়ে মেটা জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে প্রকল্পের বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সাধারণ কৃষক হয়েও বিশাল অঙ্কের অর্থের মোহ ত্যাগ করে প্রযুক্তি পরাশক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার এই ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের অভাবনীয় প্রসারের ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ডেটাসেন্টারের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিদ্যুৎ খরচ বৃদ্ধি ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে দেশটির আইনপ্রণেতারাও নতুন বিভিন্ন বিল বা আইন পাসের কথা বিবেচনা করছেন। ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে বর্তমানে প্রায় তিন শতাধিক ডেটাসেন্টার রয়েছে যা অনলাইন ব্যাংকিং, ভিডিও কনফারেন্সিং, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং এআই প্রযুক্তির মতো ডিজিটাল সেবাগুলো সচল রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু এই ডেটাসেন্টারগুলোর বিশাল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে সাধারণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সম্প্রতি ডাটাবেংকের ইরভাইনভিত্তিক একটি ফ্যাসিলিটিতে সিবিএস ক্যালিফোর্নিয়ার পক্ষ থেকে এক বিশেষ পরিদর্শন চালানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির অপারেশনস প্রধান টম কর্ডিক জানান যে হাসপাতাল, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং জরুরি ৯১১ কল সেন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলোকে নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এই ডেটাসেন্টারগুলো দিবারাত্রি কাজ করে যাচ্ছে। তবে এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পেছনে রয়েছে বিশাল শক্তির ব্যবহার। ইউসিএলএর সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল ইন্টারনেট ইনকোয়ারির পরিচালক সারাহ টি রবার্টস সতর্ক করে বলেছেন যে ডেটাসেন্টারগুলো আধুনিক প্রযুক্তির জন্য অপরিহার্য হলেও এগুলো প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ খরচ করে যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের সঙ্গে শেয়ার করা সম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। বিদ্যুৎ ঘাটতি ও পরিবেশ দূষণের আশঙ্কায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে ডেটাসেন্টার নির্মাণের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা বা কড়াকড়ি আরোপ করা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্য জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত কিছু নতুন ডেটাসেন্টার নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রথম স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে ডেটাসেন্টার কর্তৃপক্ষের দাবি, মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও আধুনিক প্রযুক্তির টিকে থাকার স্বার্থেই এই অবকাঠামোগুলো অত্যন্ত জরুরি। ডাটাবেংকের চিফ অপারেটিং অফিসার জো মিনারিক মনে করেন যে এআই নিয়ে সাধারণ মানুষের এক ধরনের ভীতি কাজ করে এবং অনেকে মনে করেন ডেটাসেন্টার বন্ধ করলেই এআইয়ের বিস্তার রোখা সম্ভব হবে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি খাতের এই চাকা সচল রাখতে ডেটাসেন্টারের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়নি, তবে সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রার খরচ এবং শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় স্থানীয় পর্যায়ে ডেটাসেন্টারের বিরুদ্ধে জনমত আরও জোরালো হতে পারে।
বিশ্বের সর্ববৃহৎ ডাটা সেন্টার হাব হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ভার্জিনিয়ার "ডাটা সেন্টার অ্যালির" কাছাকাছি বসবাসকারী এক বাসিন্দার মাসিক বিদ্যুৎ বিল হঠাৎ এক ধাক্কায় ১০০ ডলার থেকে বেড়ে ২৮১ ডলারে পৌঁছেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্লাউড কম্পিউটিং প্রযুক্তির কারণে এ অঞ্চলে বিদ্যুতের যে তীব্র সংকট ও চাহিদা তৈরি হয়েছে, এই ঘটনা তা নতুন করে সামনে নিয়ে এল। উত্তর ভার্জিনিয়ায় বর্তমানে ৩০০টিরও বেশি ডাটা সেন্টার রয়েছে, যা সারা বিশ্বের বিপুল পরিমাণ ইন্টারনেট ট্রাফিক পরিচালনা করে। এসব এআই ও প্রযুক্তিগত স্থাপনার বিশাল বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে নতুন পাওয়ার লাইন, সাবস্টেশন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। ভোক্তা অধিকার রক্ষায় সোচ্চার সংগঠনগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, ডাটা সেন্টারের কারণে বিদ্যুৎ খাতের এই বিশাল অবকাঠামো নির্মাণের খরচ শেষ পর্যন্ত সাধারণ আবাসিক গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো গ্রাহকের বিলে হঠাৎ এত বড় পরিবর্তনের পেছনে কেবল ডাটা সেন্টার নয়—পরিবর্তিত আবহাওয়া, গৃহস্থালি ব্যবহার এবং নির্ধারিত বিদ্যুৎ মাশুলের পরিবর্তনসহ একাধিক কারণও ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের গ্রামীণ অঞ্চলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তির ডাটা সেন্টার স্থাপনকে ঘিরে এক তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে টেক্সাসের ঐতিহ্যবাহী কৃষি জমি ও প্রকৃতি রক্ষা বনাম অর্থনৈতিক উন্নয়নের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির শীর্ষ নীতিনির্ধারকেরা। ডাটা সেন্টারগুলোর ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই নিয়ে বিরোধিতা দিন দিন বাড়ছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট ইতিমধ্যে গ্রামীণ এলাকাগুলোতে এআই ডাটা সেন্টার নির্মাণ নিষিদ্ধ করার পক্ষে তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। গভর্নরের এই সিদ্ধান্তকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন জানিয়েছেন রাজ্য प्रतिनिधि শেলি লুথার। তিনি জানান, গ্রামীণ টেক্সাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং কৃষি জমি রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। লুথার আরও বলেন, ডাটা সেন্টারের মতো বড় শিল্পায়নের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী সবুজ পাহাড়ি জমি ও সম্পদ নষ্ট করা ঠিক হবে না। পানি ও বিদ্যুতের মতো জরুরি উপাদান যেন এই বৃহৎ কর্পোরেশনগুলো হুট করে এসে দখল করতে না পারে, সেজন্য টেক্সাস আইনসভার অবিলম্বে আইন প্রণয়ন করা উচিত। অন্যদিকে, টেক্সাস রেলরোড কমিশনার ওয়েন ক্রিশ্চিয়ান অবশ্য গভর্নরের এই ডাটা সেন্টার নিষিদ্ধ করার চিন্তার সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তার মতে, বর্তমানে গ্রামীণ আমেরিকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি তীব্র সংকটের মুখে রয়েছে এবং দিন দিন তা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ক্রিশ্চিয়ান বলেন, বড় বড় জাতীয় কর্পোরেশনের কারণে গ্রামীণ এলাকার স্থানীয় ব্যবসাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং সেখানে নতুন কোনো কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। এই ডাটা সেন্টারগুলোর কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগ গ্রামীণ টেক্সাসের অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের একটি বড় সুযোগ হতে পারে। পানির সংকটের বিষয়ে ক্রিশ্চিয়ান একটি বিকল্প পরামর্শ দিয়ে বলেন, তেল ও গ্যাস উত্তোলনের ফলে তৈরি হওয়া বর্জ্য পানিকে ডাটা সেন্টারগুলো যেন নিজস্ব খরচে পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিশোধন করে ব্যবহার করে, তার নিয়ম করা হোক। টেক্সাস কমপট্রোলার অফিসের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে টেক্সাসের করদাতারা ডাটা সেন্টারগুলোর জন্য প্রায় ২.৮ বিলিয়ন ডলারের বিক্রয় কর ছাড় দিয়েছেন। যেভাবে নতুন প্রজেক্টের প্রস্তাব আসছে, তাতে আগামী দুই বছরে এই প্রণোদনার পরিমাণ ৩.২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই ডাটা সেন্টারগুলোর জন্য বরাদ্দ এই বিশাল কর ছাড়ের সুবিধা সম্পূর্ণ বাতিল করতে চাচ্ছেন। এমনকি টেক্সাসের কৃষি কমিশনার সিড মিলারও ডাটা সেন্টারের এই উদ্ভূত পরিস্থিতি ও প্রণোদনার বিষয়টি নিয়ে গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে একটি বিশেষ আইনসভা অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিশাল ডেটা সেন্টার নির্মাণের চাহিদা। আর সেই চাহিদা পূরণে এবার দেশটির বিভিন্ন আদিবাসী ভূমিকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনা করছে একাধিক প্রযুক্তি কোম্পানি। এতে কিছু উপজাতি অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ দেখলেও, অন্যরা পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের ওকলাহোমা সিটি থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত ক্যাডো নেশন সম্প্রদায়ের নেতৃত্বের একটি অংশ মনে করছে, ডেটা সেন্টার প্রকল্প তাদের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে সহায়ক হতে পারে। ২০১৭ সালে উপজাতিটির ক্যাসিনো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে তাদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হারিয়ে যায়। এরপর থেকেই কর্মসংস্থান ও রাজস্ব আয়ের নতুন পথ খুঁজছে সম্প্রদায়টি। ক্যাডো নেশনের চেয়ারম্যান ববি গঞ্জালেজ বলেন, তাদের সম্প্রদায় দরিদ্র নয়, তবে অর্থনৈতিকভাবে চরম সংকটে রয়েছে। তার মতে, ডেটা সেন্টার নির্মাণ নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং উপজাতির আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে একই সম্প্রদায়ের সবাই এই উদ্যোগকে সমর্থন করছেন না। ওকলাহোমার বিঙ্গার শহরে ক্যাডো সম্প্রদায়ের সাবেক কাউন্সিল সদস্য ট্রেসি নিউকুমেট বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়াও জীবনযাপন করা সম্ভব, কিন্তু পানির বিকল্প নেই। তার আশঙ্কা, ডেটা সেন্টার পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ পানি ব্যবহারের কারণে ভবিষ্যতে স্থানীয় জলসম্পদের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি হতে পারে। ডেটা সেন্টারগুলো সার্বক্ষণিক চালু রাখতে উচ্চক্ষমতার সার্ভার ঠান্ডা রাখার জন্য বিপুল পরিমাণ পানি ও বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ইতোমধ্যে এসব প্রকল্পকে কেন্দ্র করে পানি ব্যবহার, বিদ্যুৎ সরবরাহ, শব্দদূষণ এবং পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদও জানিয়েছেন। আদিবাসী ভূমিকে ঘিরে এই বিতর্ক আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বহুবার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি ও সম্পদ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। ফলে নতুন প্রকল্পগুলো নিয়েও অনেকের মধ্যে সতর্কতা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল কংগ্রেস অব আমেরিকান ইন্ডিয়ানস (এনসিএআই) এই খাতে বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি হোয়াইট হাউসে জমা দেওয়া এক মতামতে বলেছে, উপজাতীয় ভূমি বিস্তৃত, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং সেখানে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ এআই অবকাঠামো গড়ে তুলতে এসব অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণ পরিকল্পনার পর প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ আরও বেড়েছে। তবে আদিবাসী নেতারা জোর দিয়ে বলছেন, যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্মতি, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এআই প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হলেও, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার প্রশ্নও সমান গুরুত্ব নিয়ে সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের হেনরিকো কাউন্টিতে দ্রুত সম্প্রসারিত ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদার প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে স্থানীয় সরকার ও সরকারি স্কুলের বাজেটে। ১ জুলাই থেকে কাউন্টির সরকারি ভবন ও স্কুলগুলোর বিদ্যুতের খরচ প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় আগামী অর্থবছরে অতিরিক্ত প্রায় ৫০ লাখ ডলার ব্যয় হবে বলে জানিয়েছে কাউন্টি প্রশাসন। বাড়তি এই ব্যয় সামাল দিতে শিক্ষক, স্কুলকর্মী এবং অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কাউন্টি ম্যানেজার জন ভিতৌলকাস কর্মীদের পাঠানো এক বার্তায় জানান, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কমাতে সবাইকে নিজ নিজ কর্মস্থলে বিদ্যুৎ ব্যবহারে আরও সতর্ক হতে হবে। তিনি বলেন, আগামী বছরগুলোতেও বিদ্যুতের দাম আরও বাড়তে পারে, তাই এখন থেকেই সাশ্রয়ী ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় অবশ্যই বাতি নিভিয়ে রাখতে হবে, কর্মদিবস শেষে কম্পিউটার ও ল্যাপটপ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে, ব্যবহার না হলে চার্জার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রের প্লাগ খুলে রাখতে হবে এবং জানালার ব্লাইন্ড ব্যবহার করে ভবনের ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্পেস হিটার ব্যবহার থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানানো হয়েছে, কারণ একটি স্পেস হিটার পরিচালনায় বছরে ১৫০ থেকে ৩০০ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যয় হতে পারে। হেনরিকো কাউন্টিতে বর্তমানে ৩৭টি বড় ডেটা সেন্টার চালু রয়েছে এবং আরও অন্তত ১৭টি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণের কারণে এসব ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অতিরিক্ত চাহিদা বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং স্থানীয় সরকার ও অন্যান্য বড় গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যয়ও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ভার্জিনিয়া বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ডেটা সেন্টার হাব হিসেবে পরিচিত। অঙ্গরাজ্যটিতে ৪০০-এর বেশি ডেটা সেন্টার রয়েছে, যার বড় অংশই উত্তর ভার্জিনিয়ায় অবস্থিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিচমন্ড এলাকার আশপাশেও নতুন ডেটা সেন্টার দ্রুত গড়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়বে এবং তা বিদ্যুৎ উৎপাদন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও স্থানীয় বাজেটের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডোমিনিয়ন এনার্জি মূল্যবৃদ্ধির পেছনে জ্বালানির ব্যয়, বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেছে। তবে ভোক্তা অধিকারকর্মীদের একাংশের দাবি, দ্রুত সম্প্রসারিত ডেটা সেন্টার শিল্পের বিদ্যুৎ চাহিদাই এই ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ, যার আর্থিক চাপ শেষ পর্যন্ত স্থানীয় সরকার ও সাধারণ গ্রাহকদের ওপরই পড়ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ডেটা সেন্টার নির্মাণে ব্যবহৃত মূল্যবান সরঞ্জাম ও তামার তার চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সম্প্রতি ১৩ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের ডেটা সেন্টার অবকাঠামো সরঞ্জাম ও তামার তার বহনকারী দুটি ট্রেলার চুরির ঘটনা সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কুক কাউন্টি শেরিফের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের শিকাগোর একটি ট্রাক ইয়ার্ড থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি চুরি হওয়া ট্রাকের সন্ধান পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি ট্রেলারে প্রায় তিন লাখ ডলার মূল্যের তামার তার ছিল, যা আলাবামা থেকে চুরি করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা ট্রাকটির বিল্ট-ইন ট্র্যাকিং ডিভাইসের মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত করেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা দেখতে পান, ট্রেলারটি অক্ষত থাকলেও ট্রাকে ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নম্বরপ্লেট লাগানো ছিল। পরে তদন্তে জানা যায়, ওই নম্বরপ্লেটও উইসকনসিন থেকে চুরি করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, অপরাধীরা প্রথমে আলাবামা থেকে ট্রাকটি চুরি করে। এরপর পরিচয় গোপন করতে চুরি করা নম্বরপ্লেট লাগিয়ে সেটি ইলিনয়ে নিয়ে আসে। ট্রাক ইয়ার্ডের মালিক তদন্তকারীদের জানান, যে ব্যক্তি চুরি হওয়া ট্রাকটি সেখানে রেখে গিয়েছিল, সে এক সপ্তাহ আগেও আরেকটি ট্রাক একই স্থানে এনে রেখেছিল। পরে ওই দ্বিতীয় ট্রাকটির মালিক জানান, তার ট্রেলারটি ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিল থেকে চুরি হয়েছিল। এতে প্রায় ১০ লাখ ডলারের ডেটা সেন্টার অবকাঠামো সরঞ্জাম ছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ডেটা সেন্টারে সরবরাহ করার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই ট্রেলারের বর্তমান অবস্থান প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে ছয় মাসব্যাপী এক অনুসন্ধানে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি জানিয়েছে, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র এখন সরবরাহ ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে মূল্যবান পণ্য চুরি করছে। তারা 'স্ট্র্যাটেজিক থেফট' নামে পরিচিত একটি কৌশল ব্যবহার করে ট্রাক পরিবহন প্রতিষ্ঠান, ব্রোকার বা ক্যারিয়ারদের প্রতারণার মাধ্যমে পণ্য কিংবা অর্থ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। কার্গো চুরি প্রতিরোধবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক কার্গোনেটের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর উত্তর আমেরিকায় প্রায় ৭২ কোটি ৫০ লাখ ডলার মূল্যের পণ্য চুরি হয়েছে। এসব চুরির বড় অংশই ছিল তামাসহ বিভিন্ন ধাতু এবং এন্টারপ্রাইজ কম্পিউটিং হার্ডওয়্যার। প্রতিষ্ঠানটির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে ডেটা সেন্টারের কম্পিউটিং সরঞ্জাম এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিং যন্ত্রপাতি। উচ্চ বাজারমূল্য ও বাড়তি চাহিদার কারণে এসব পণ্য চোরচক্রের কাছে ক্রমেই বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রত্যন্ত কোয়েটা কাউন্টিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির জন্য বিশাল কম্পিউটার ডাটা সেন্টার বা প্রযুক্তি পার্ক তৈরির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। ‘প্রজেক্ট সেল’ নামের আটশ একরেরও বেশি বড় এই ডাটা সেন্টারটির নির্মাণকাজ রুখে দিতে তারা সেখানে এক বিশাল গণস্বাক্ষর অভিযান শুরু করেছেন। নিজেদের গ্রামীণ পরিবেশ, চাষের জমি, ভূগর্ভস্থ পানি ও সামগ্রিক প্রকৃতি রক্ষা করতে এবার সম্পূর্ণ একজোট হয়েছেন আমেরিকার এই প্রান্তিক অঞ্চলের হাজার হাজার বাসিন্দা। কয়েক সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই গণস্বাক্ষর আন্দোলনে ইতোমধ্যেই প্রায় সাড়ে ছয় হাজার স্থানীয় মানুষ নিজেদের নাম তালিকাভুক্ত করেছেন। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে ১৪ হাজার মানুষের নিশ্চিত স্বাক্ষর সংগ্রহ করা। যদি এই গণস্বাক্ষর অভিযান সফল হয়, তবে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে এটি হবে মাত্র তৃতীয় ঘটনা যেখানে সাধারণ জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের নেওয়া কোনো নীতি বা সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার আইনি সুযোগ তৈরি হবে। সাম্প্রতিক এক জাতীয় জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, আমেরিকার প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৭ জন মানুষই তাদের বসতবাড়ির কাছাকাছি এমন বড় কোনো প্রযুক্তি পার্ক বা ডাটা সেন্টার তৈরির তীব্র বিরোধিতা করছেন। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, এই বিশাল প্রকল্পের কারণে গ্রামীণ এলাকায় মারাত্মক শব্দদূষণ বাড়বে এবং সার্ভার ঠান্ডা রাখতে প্রচুর পরিমাণে পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর চরম অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ পড়বে। পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের গবেষকরাও এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। তাদের মতে, এই বিশাল কনস্ট্রাকশন বা নির্মাণকাজের ফলে স্থানীয় নদীগুলোতে পলি জমে পানির স্বাভাবিক তাপমাত্রা পরিবর্তন হতে পারে, যা মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হবে। একই সাথে বনাঞ্চল ধ্বংস করার কারণে বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। কোয়েটা কাউন্টির স্থানীয় প্রশাসন সাধারণ মানুষের এই দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ও আপত্তির বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করে জমিটিকে গ্রামীণ সংরক্ষণ এলাকা থেকে শিল্প এলাকা হিসেবে ঘোষণা করায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরি পার্ক নামক শহরটি আমেরিকার প্রথম শহর হিসেবে এই ধরনের ডাটা সেন্টারের বিরুদ্ধে গণভোটে জয়লাভ করেছিল। আমেরিকার এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের তৈরি হওয়া আন্দোলন এখন দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষদেরও বড় বড় কর্পোরেট আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর নতুন সাহস জোগাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে যখন রেকর্ড ভাঙা খরা চলছে, তখনো থেমে নেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই শিল্পের বিস্তার। এক অনুসন্ধানী বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশটির পরিকল্পিত নতুন এআই তথ্যকেন্দ্র বা ডাটা সেন্টারগুলোর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই তৈরি হচ্ছে চরম খরাকবলিত এলাকাগুলোতে। অনুমোদন পাওয়া ৮০৯টি নতুন তথ্যকেন্দ্রের মধ্যে ৫১৭টিই এমন সব অঞ্চলে অবস্থিত, যেগুলো গত এক বছর ধরে তীব্র পানির সংকটে ভুগছে। এই তথ্যকেন্দ্রগুলোতে থাকা হাজার হাজার কম্পিউটার দিনরাত সচল রাখার কারণে সেগুলো প্রচুর উত্তপ্ত হয়। এই কম্পিউটারগুলো ঠান্ডা রাখতে প্রতিদিন লাখ লাখ গ্যালন পানির প্রয়োজন হয়। হিসাব অনুযায়ী, একটি বড় তথ্যকেন্দ্রে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ গ্যালন পানি লাগে, যা ৫০ হাজার মানুষের দৈনিক পানির চাহিদার সমান। গবেষকরা জানিয়েছেন, চ্যাটজিপিটি বা এ ধরনের এআই মাধ্যমে মাত্র ১০০ শব্দের একটি বার্তা লিখলেই তথ্যকেন্দ্র ঠান্ডা করতে প্রায় ৫০০ মিলিলিটার পানি খরচ হয়ে যায়। গুগল, মেটা, মাইক্রোসফট এবং আমাজনের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরা এই তথ্যকেন্দ্রগুলোর পেছনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। তারা মূলত সস্তা জমি, কম কর এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে মরুভূমি ও খরাপ্রবণ এলাকাগুলোকে বেছে নিচ্ছে। কারণ শুষ্ক আবহাওয়ায় কম্পিউটার যন্ত্রাংশ সহজে নষ্ট হয় না। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৮ সালের মধ্যে এই খাতে বার্ষিক পানির চাহিদা ১৭ বিলিয়ন গ্যালন থেকে বেড়ে ৭৩ বিলিয়ন গ্যালনে পৌঁছাবে। এই বিপুল পরিমাণ পানির চাহিদার কারণে স্থানীয় কৃষক, খামারি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় সাধারণ মানুষকে পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে বলা হলেও এই তথ্যকেন্দ্রগুলোকে প্রায় আনলিমিটেড পানি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধ তৈরি হচ্ছে এবং ক্যালিফোর্নিয়াসহ বেশ কিছু অঙ্গরাজ্যে নতুন তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা কঠোর নিয়ম চাপানোর আইন পাসের কথা ভাবা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।