বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্কের সম্পদে বড় ধাক্কা লেগেছে। মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারের দর ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার পর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তাঁর সম্পদ থেকে উধাও হয়েছে প্রায় ১১৮ বিলিয়ন ডলার। ফলে বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ হিসেবে পাওয়া মর্যাদা হারিয়েছেন কি না, তা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে স্পেসএক্সের ঐতিহাসিক শেয়ারবাজারে অভিষেকের পর ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। সে সময় প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তবে প্রযুক্তি খাতজুড়ে সাম্প্রতিক বিক্রির চাপ এবং বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কারণে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম দ্রুত কমতে শুরু করে। মাত্র তিনটি লেনদেন সেশনে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ৬০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি কমে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদের ওপর। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স সূচক অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৯৫৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর সম্পদ কমেছে প্রায় ১১৮ বিলিয়ন ডলার। তুলনা করলে দেখা যায়, ভারতের অন্যতম শীর্ষ ধনী ব্যক্তি গৌতম আদানির মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১১৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাস্ক যে অর্থ হারিয়েছেন, তা বিশ্বের অনেক শীর্ষ ধনীর পুরো সম্পদের সমান। যদিও ব্লুমবার্গের হিসাবে মাস্কের সম্পদ এক ট্রিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গেছে, ফোর্বস এখনও তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করছে। ফলে তিনি এখনও ট্রিলিয়নিয়ার কি না, তা নির্ভর করছে কোন সম্পদ-তালিকা বিবেচনা করা হচ্ছে তার ওপর। মাস্কের সম্পদের সবচেয়ে বড় অংশ স্পেসএক্সে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩৮ শতাংশ মালিকানা ধরে রেখেছেন। ব্লুমবার্গের হিসাবে স্পেসএক্সে তাঁর অংশীদারির মূল্য বর্তমানে প্রায় ৭৪৪ বিলিয়ন ডলার, যা তাঁর মোট সম্পদের প্রায় ৮০ শতাংশ। স্পেসএক্সের মূল্য কমার পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে। কোম্পানিটি মহাকাশভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামো গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ জন্য আগামী বছরগুলোতে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি ঘোষিত বন্ড বিক্রির একটি অংশও এই প্রকল্পে ব্যয় করা হবে। শুধু স্পেসএক্স নয়, মাস্কের আরেক প্রতিষ্ঠান টেসলাও চাপের মুখে রয়েছে। মঙ্গলবার টেসলার শেয়ারের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হওয়া নতুন নিরাপত্তা তদন্তকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। গত ১৯ জুন টেক্সাসে একটি টেসলা মডেল-৩ গাড়ি একটি বাড়িতে আঘাত করলে ৭৬ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির উন্নত চালক-সহায়ক প্রযুক্তি সক্রিয় ছিল বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। তবে বিপুল সম্পদ হারানোর পরও বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে মাস্কের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তাঁর বর্তমান সম্পদের পরিমাণ এখনও বিশ্বের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ধনী ব্যক্তির সম্মিলিত সম্পদের চেয়েও বেশি। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৯৭ বিলিয়ন ডলার। সেই তুলনায় মাস্ক এখনও অনেক এগিয়ে রয়েছেন। অর্থনীতিবিদ পিটার শিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মন্তব্য করে বলেন, স্পেসএক্সের শেয়ার দরপতনে কাগজে-কলমে মাস্কের যে ক্ষতি হয়েছে, তা ওয়ারেন বাফেটের পুরো সম্পদের চেয়েও বেশি। তবে তাতেও বিশ্বের শীর্ষ ধনী হিসেবে তাঁর অবস্থান অটুট রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি খাতের অস্থিরতা এবং শেয়ারবাজারের ওঠানামা মাস্কের সম্পদে বড় প্রভাব ফেললেও তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর আকার ও প্রভাব এতটাই বিশাল যে নিকট ভবিষ্যতে বিশ্বের শীর্ষ ধনীর অবস্থান থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া সহজ হবে না।
বিলিয়নিয়ার উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সাবেক সঙ্গী অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার দাবি করেছেন, সন্তান জন্ম দেওয়ার পর মাস্কের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি বহু-মিলিয়ন ডলারের নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (এনডিএ) তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে দেওয়া বক্তব্যে সেন্ট ক্লেয়ার বলেন, মাস্কের সম্পদ ব্যবস্থাপক জ্যারেড বার্চাল তার সঙ্গে একটি গোপন চুক্তির বিষয়ে যোগাযোগ করেন। শুরুতে তাকে ১৫ মিলিয়ন ডলার এবং বাড়ি কেনার জন্য অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে আরও বড় একটি প্রস্তাবে ১৫ মিলিয়ন ডলার এবং ২০ বছরের জন্য প্রতি মাসে ১ লাখ ডলার দেওয়ার কথা বলা হয়, শর্ত ছিল ব্যক্তিগত বিষয় ও সম্পর্ক সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখতে হবে। সেন্ট ক্লেয়ার জানান, তিনি ওই এনডিএ স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। তার মতে, চুক্তিতে মাস্ক, তার কর্মী এবং সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করার শর্ত ছিল, যা তাকে নৈতিকভাবে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি মূলত সিগন্যাল অ্যাপে গোপন বার্তা এবং ফোনকলের মাধ্যমে আলোচিত হয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেন্ট ক্লেয়ার প্রথম জানান, ইলন মাস্ক তার সন্তানের পিতা—যার নাম রোমুলাস। পরবর্তীতে মাস্কও বিষয়টি নিশ্চিত করেন যে তার আরেকটি সন্তান রয়েছে। সেন্ট ক্লেয়ারের দাবি, এনডিএ প্রত্যাখ্যানের পর থেকে তিনি মাস্কের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ রাখেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা আদালতে দাখিল করা শপথনামায় দাবি করেছেন, ইরানে সামরিক অভিযানের সময় ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘গ্রোক’ ব্যবহার করেছে মার্কিন প্রশাসন। নথি অনুযায়ী, ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ২ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ২ হাজারের বেশি অস্ত্র ব্যবহারের অভিযানে এ প্রযুক্তি সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। পেন্টাগনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ক্যামেরন স্ট্যানলি আদালতে জমা দেওয়া শপথনামায় গ্রোককে “জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই প্রযুক্তি বিভিন্ন মিশন-গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কার্যক্রমে সহায়তা করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটিই সম্ভবত প্রথমবারের মতো কোনো সরকারি নথিতে স্পষ্টভাবে স্বীকার করা হলো যে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ইলন মাস্কের এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। তবে পেন্টাগনের সামরিক কর্মকাণ্ডে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে বেসামরিক হতাহতের ঘটনাগুলো সামনে আসার পর এআই-নির্ভর লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন ও হামলা পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। নতুন এই তথ্য সামনে আসে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার সংগঠন এনএএসিপির করা একটি মামলার শুনানিতে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান এক্সএআই-এর ‘কলোসাস ২’ ডেটা সেন্টার প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই অন্তত ৫৭টি গ্যাসচালিত টারবাইন পরিচালনা করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ‘ক্লিন এয়ার অ্যাক্ট’ বা পরিচ্ছন্ন বায়ু আইন লঙ্ঘন করে। মামলার নথিতে গ্রোকের জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়, যা পরে জনসমক্ষে আসে।
বিশ্বখ্যাত ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বাজারে নিজেদের আধিপত্য বাড়াতে এক বিশাল পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জনপ্রিয় এআই কোডিং সফটওয়্যার কারসরের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যানিস্ফিয়ারকে ৬০ বিলিয়ন ডলারে কিনে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার স্পেসএক্সের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে করপোরেট এআই প্রযুক্তির বাজারে স্পেসএক্সের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা। কয়েক দিন আগেই ইলন মাস্কের এই রকেট ও এআই কোম্পানিটি প্রথমবারের মতো শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। নাসডাক শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরুর পর কোম্পানিটির বাজারমূল্য ২ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং এটি বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান কোম্পানিতে পরিণত হয়। এই ব্লকবাস্টার আইপিও অভিষেকের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় কারসর সফটওয়্যারটি কিনে নেওয়ার বড় চুক্তিটি সম্পন্ন করল স্পেসএক্স। মূলত গত এপ্রিল মাস থেকেই কোম্পানিটি কারসরকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য আলোচনা চালিয়ে আসছিল। স্পেসএক্স মূলত তাদের নিজস্ব এআই প্রযুক্তি এক্সএআই এবং এর চ্যাটবট গ্রককে আরও উন্নত করতে কারসরের এই কোডিং সক্ষমতাকে কাজে লাগাবে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক্সএআই-এর সাথে স্পেসএক্সের একীভূতকরণ হলেও এআই কোডিংয়ের বাজারে তারা প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে ছিল। ৬০ বিলিয়ন ডলারের এই নতুন চুক্তিটি কারসরকে আরও বড় পরিসরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং বা ডেটা সেন্টারের ক্ষমতা সরবরাহ করবে। এই ঐতিহাসিক চুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাক-বাজার লেনদেনেই স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে কোম্পানিটির বাজার মূলধনের সাথে আরও প্রায় ২৪৭ বিলিয়ন ডলার যোগ হতে যাচ্ছে, যার ফলে এর মোট বাজার মূল্য দাঁড়াবে ২.৫৩ ট্রিলিয়ন ডলার। বর্তমানে স্পেসএক্সের প্রতিটি শেয়ার ২১১.২৭ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে, যা আইপিও চালুর মূল দাম ১৩৫ ডলারের চেয়ে প্রায় ৫৬ শতাংশ বেশি। এই ধারা বজায় থাকলে স্পেসএক্স শিগগিরই আমাজনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম কোম্পানিতে পরিণত হবে। ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো কারসরও সিলিকন ভ্যালির অন্যতম শীর্ষস্থানীয় স্টার্টআপ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোডিং করতে পারে। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কারসর অত্যন্ত দ্রুত গতিতে তাদের ব্যবসা প্রসারিত করেছে। চলতি মাসের শুরুতে রয়টার্সের সাথে শেয়ার করা তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটি বার্ষিক প্রায় ২.৬ বিলিয়ন ডলারের করপোরেট রাজস্ব আয় করছে। এর আগে কোম্পানিটি এনভিডিয়া ও গুগলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের বিনিয়োগসহ ৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে নতুন তহবিল সংগ্রহের আলোচনা করছিল। আশা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের মধ্যে এই চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হবে। স্পেসএক্সের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এক্স৬৭-এর সাথে কারসরের এই মার্জার বা একীভূতকরণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হচ্ছে। রেগুলেটরি ফাইলিং বা প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্র অনুযায়ী, কোনো বিশেষ কারণে এই চুক্তিটি বাতিল হলে স্পেসএক্স কারসরকে ১০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেবে। এছাড়া সরকারি বা আইনি জটিলতার কারণে চুক্তি সফল না হলে অতিরিক্ত ৪ বিলিয়ন ডলার রেগুলেটরি ফি দিতে হবে।
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ সম্প্রতি ১.২ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ২০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। একজন সাধারণ মার্কিন নাগরিকের পক্ষে এই বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া প্রায় অসম্ভব এক বিষয়। বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একজন সাধারণ আমেরিকান নাগরিকের পক্ষে ইলন মাস্কের এই বিশাল সম্পদের সমান স্তরে পৌঁছাতে বিপুল সময় লেগে যাবে। বর্তমানে একটি সাধারণ মার্কিন পরিবারের গড় বার্ষিক আয় প্রায় ৮০ হাজার ডলার। এই আয়ের সবটুকু অর্থ যদি কোনো পরিবার সম্পূর্ণভাবে সঞ্চয় করতে পারে, তবুও তারা এই অর্থের সমান করতে পারবে না। কোনো প্রকার খরচ এবং কর পরিশোধ না করে আয়ের প্রতিটি ডলার জমা করলেও মাস্কের বর্তমান সম্পদের সমান হতে একটি সাধারণ পরিবারের প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ বছর সময় লেগে যাবে। এই দীর্ঘ সময়ের বিষয়টি ভালোভাবে বোঝার জন্য মানব ইতিহাসের একটি বড় প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা যেতে পারে। আজ থেকে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে পৃথিবীতে আধুনিক মানুষের কোনো অস্তিত্বই ছিল না। মানবজাতির প্রাচীনতম পূর্বপুরুষেরা কেবল সেই আদিম সময়ে পৃথিবীতে প্রথম আবির্ভূত হতে শুরু করেছিল। একজন একক ব্যক্তির একটি সাধারণ জীবনকালের মধ্যে অর্জিত এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পৃথিবীর সার্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার এক বিশাল ব্যবধানকে ফুটিয়ে তোলে। পুরো মানব প্রজাতি একটি নির্দিষ্ট প্রজাতি হিসেবে পৃথিবীতে আবির্ভূত হওয়ার আগে থেকে আজ পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে কাজ করলেও এই পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করতে পারত না। একজন সাধারণ মানুষের জীবনকালের আয়ের সাথে এই সম্পদের কোনো তুলনা হয় না। আধুনিক বিশ্বে সম্পদের এই বিশাল পাহাড় মূলত প্রথাগত কাজের সময় বা সাধারণ মানুষের আজীবন শ্রমের হিসাব থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি বিষয়। বড় বড় বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোগত একচেটিয়া ব্যবসার মালিকানার মাধ্যমেই মূলত এই ধরনের অভাবনীয় পুঁজি বা সম্পদ তৈরি হওয়া সম্ভব হচ্ছে। এই সাধারণ গাণিতিক হিসাবটি বিশ্বের বর্তমান অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সম্পদ অর্জনের এক অবিশ্বাস্য চিত্রকে স্পষ্ট করে তোলে।
একসময় বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের উত্থান ঘটত তেল, ইস্পাত কিংবা রেলপথের মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পখাত থেকে। বিংশ শতকের শুরুতে তেল ব্যবসার মাধ্যমে জন ডি. রকফেলার হয়েছিলেন বিশ্বের প্রথম বিলিয়নেয়ার। সেই ঘটনার ১১০ বছর পর বিশ্ব অর্থনীতির ইতিহাসে যুক্ত হলো আরেকটি নতুন অধ্যায়। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। আন্তর্জাতিক আর্থিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে অভিষেক এবং প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্যের রেকর্ড উত্থানের পর মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ১ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এক ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক হওয়ার মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় ইলন মাস্কের এই অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে তার বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা এবং মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের মূল্যও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বর্তমান অবস্থানে পৌঁছাতে অবশ্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে মাস্ককে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তিনি বিশ্বের ৩৫তম ধনী ব্যক্তি ছিলেন। সে সময় তার সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার। মাত্র সাড়ে ছয় বছরের ব্যবধানে সেই সম্পদ প্রায় ৩৮ গুণ বেড়ে ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক অর্থনৈতিক ইতিহাসে এত দ্রুত সম্পদ বৃদ্ধির নজির খুব কমই রয়েছে। ২০২০ সালের পর টেসলার শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করে। একই সময়ে স্পেসএক্স বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করে এবং একের পর এক বড় প্রকল্প হাতে নেয়। ফলে দুই প্রতিষ্ঠানের বাজারমূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ইলন মাস্ক প্রথমবার বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তির আসনে বসেন ২০২১ সালের জানুয়ারিতে। সে সময় তিনি অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজসকে পেছনে ফেলেছিলেন। এরপর টেসলার শেয়ারদরের ওঠানামা এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক কারণে কয়েকবার তার অবস্থান পরিবর্তিত হলেও শেষ পর্যন্ত আবারও তিনি শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হন। বিশ্বের প্রথম বিলিয়নেয়ার জন ডি. রকফেলারের গল্পও অর্থনৈতিক ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি একজন সহকারী হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। পরে তেল ব্যবসায় প্রবেশ করে গড়ে তোলেন স্ট্যান্ডার্ড অয়েল। ১৯১৬ সালে তার সম্পদ এক বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে, যা সে সময়ের বিশ্ব অর্থনীতিতে ছিল অভাবনীয় ঘটনা। শেয়ারবাজারে স্ট্যান্ডার্ড অয়েলের ব্যাপক উত্থান তাকে ইতিহাসের প্রথম বিলিয়নেয়ারে পরিণত করে। অর্থনীতিবিদদের মতে, রকফেলারের যুগ ছিল জ্বালানি খাতের আধিপত্যের যুগ। অন্যদিকে মাস্কের উত্থান প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতির প্রতীক। এই দুই ব্যক্তির সাফল্যের মধ্যে এক শতাব্দীর বেশি সময়ের ব্যবধান থাকলেও উভয়েই নিজ নিজ যুগের অর্থনৈতিক রূপান্তরের প্রতিনিধিত্ব করেন। বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হওয়ার মাধ্যমে ইলন মাস্ক শুধু ব্যক্তিগত সম্পদের নতুন রেকর্ডই গড়েননি, বরং দেখিয়ে দিয়েছেন যে আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের সম্পদ কাঠামোতে আরও বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। তবে মাস্কের এই রেকর্ড নতুন বিতর্কও উসকে দিয়েছে। একদিকে যেমন অনেকেই এটিকে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা সাফল্যের প্রতীক হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সম্পদ বৈষম্যের প্রশ্নও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ফলে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ারের আবির্ভাব শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
ওয়াশিংটন: বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্কের ক্রমবর্ধমান সম্পদ ও প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আয় ও সম্পদের বৈষম্য, রাজনৈতিক প্রভাব এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। স্যান্ডার্স বলেন, অতি অল্পসংখ্যক মানুষের হাতে বিপুল পরিমাণ সম্পদ জমা হওয়া উদযাপনের বিষয় নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত। তার মতে, দেশে ধনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সম্পদের ব্যবধান এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা দীর্ঘমেয়াদে গণতন্ত্র ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। নিজের বক্তব্যে স্যান্ডার্স দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনও মাসিক আয়ের ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করছেন। একই সময়ে অল্প কয়েকজন ধনকুবেরের সম্পদ দ্রুত বাড়তে থাকায় অর্থনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, বিষয়টি কেবল সম্পদের নয়, ক্ষমতারও। অর্থনৈতিক শক্তির পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাবও যখন সীমিত কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়, তখন সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। মার্কিন রাজনীতিতে প্রগতিশীল ধারার অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত স্যান্ডার্স দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের পক্ষে কথা বলে আসছেন। তিনি বরাবরই ধনীদের ওপর উচ্চ হারে কর আরোপ এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য আরও কার্যকর সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়ে আসছেন। অন্যদিকে, ইলন মাস্ক বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা, মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তাকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্বদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সমর্থকদের মতে, তার এই সাফল্য প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, বিনিয়োগ এবং উদ্যোক্তা নেতৃত্বের ফল। তবে সমালোচকদের একাংশ মনে করেন, অল্প কয়েকজনের হাতে বিপুল সম্পদের কেন্দ্রীভবন বৈষম্যের প্রশ্নকে আরও তীব্র করে তুলছে। স্যান্ডার্সের সাম্প্রতিক মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। কেউ তার বক্তব্যকে অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন যে সফল উদ্যোক্তাদের অবদান এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। বিশ্লেষকদের মতে, সম্পদ, ক্ষমতা এবং গণতন্ত্রের সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে যে বিতর্ক চলছে, স্যান্ডার্সের এই মন্তব্য সেই আলোচনাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে আসন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণী বিতর্কে বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবেরদের একজন ইলন মাস্ক নতুন এক ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক হিসেবে তার নাম ইতিহাসে যুক্ত হতে পারে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুক্রবার (১২ জুন) ওয়াল স্ট্রিটে মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে অভিষেক ঘটলে এই রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, স্পেসএক্সের বহুল আলোচিত শেয়ার ছাড়ার ঘোষণা আসার আগেই মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৯৬ বিলিয়ন ডলার। এ সম্পদ নিয়েই তিনি বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তির অবস্থানে রয়েছেন। স্পেসএক্সে মাস্কের মালিকানা প্রায় ৪২ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারে প্রায় ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য নিয়ে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। কোম্পানিটি প্রতি শেয়ার ১৩৫ ডলার দরে প্রায় ৫৫৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ আইপিও সফল হলে মাস্কের সম্পদের পরিমাণ দ্রুত ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে শুক্রবারের লেনদেন শেষ হওয়ার আগেই মাস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, এ পরিমাণ সম্পদ সাধারণ মানুষের কল্পনারও বাইরে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য সংস্থা অক্সফামের এক হিসাব অনুযায়ী, মাস্ক যদি প্রতিদিন ১০ লাখ ডলার করেও ব্যয় করেন, তবুও তার সম্পদ শেষ করতে প্রায় দুই হাজার ৭৪০ বছর সময় লাগবে। অন্য ধনকুবেরদের সঙ্গে তুলনায় এই ব্যবধান আরও স্পষ্ট। গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ বর্তমানে প্রায় ৩০৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি। সম্ভাব্য ট্রিলিয়নিয়ার হলে মাস্কের সম্পদ তার তুলনায় তিন গুণেরও বেশি হবে। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কোটিপতি জন জ্যাকব অ্যাস্টর ১৮৪৮ সালে মৃত্যুকালে প্রায় ২ থেকে ৩ কোটি ডলারের সম্পদের মালিক ছিলেন, যা সে সময়ের অর্থনীতিতে বিশাল অঙ্ক হিসেবে বিবেচিত হতো। তুলনায় বর্তমান সময়ে মাস্কের সম্ভাব্য সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ শতাংশের সমান হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি, মহাকাশ খাত ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগের কারণে মাস্কের সম্পদের এই দ্রুত উত্থান ঘটেছে। স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে প্রবেশ সেই ধারা আরও জোরদার করতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির (আইপিও) মাধ্যমে রেকর্ড ৭৫ বিলিয়ন বা ৭ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও হিসেবে বিবেচিত এই প্রক্রিয়ার পর কোম্পানির মূল্যায়ন এবং মাস্কের সম্পদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেসএক্স প্রতি শেয়ার ১৩৫ ডলার দরে ৫৫ কোটি ৫৬ লাখ ক্লাস–এ শেয়ার বিক্রি করে এই অর্থ সংগ্রহ করে। এতে কোম্পানিটির বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার। তথ্য অনুযায়ী, “এসপিসিএক্স” প্রতীকে নাসডাকে লেনদেন শুরু হলে স্পেসএক্স বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর একটি হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইপিও–সংক্রান্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তালিকাভুক্তির পর ইলন মাস্কের কাছে প্রায় ৮৪ কোটি ৯৫ লাখ ক্লাস–এ শেয়ার এবং ৫৫৭ কোটি ক্লাস–বি শেয়ার থাকবে। এর মাধ্যমে তিনি কোম্পানির মোট ভোটিং ক্ষমতার ৮৪.৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করবেন। আইপিও মূল্যের ভিত্তিতে কাগজে–কলমে স্পেসএক্সে মাস্কের শেয়ারহোল্ডিংয়ের মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৬৬.৫ বিলিয়ন ডলার। এই হিসাবকে কেন্দ্র করেই তাকে ঘিরে “ট্রিলিয়নিয়ার” মর্যাদা অর্জনের আলোচনা সামনে এসেছে, যদিও তা নির্ভর করছে সম্পদ মূল্যায়নের নির্দিষ্ট কাঠামোর ওপর।
বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার বা লাখ কোটিপতির মর্যাদার কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। তাঁর মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের বহুল আলোচিত প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) শেয়ারবাজারে আসার পর মাস্কের মোট সম্পদের মূল্য ১.১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন আর্থিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। স্পেসএক্স বৃহস্পতিবার আইপিওর জন্য প্রতি শেয়ারের মূল্য ১৩৫ ডলার নির্ধারণ করেছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলারের একটি আইপিওর পথ তৈরি হয়েছে, যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিওগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ব্লুমবার্গ ও ফোর্বসের ধনকুবেরদের তালিকা অনুযায়ী, মাস্ক আগেই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ছিলেন। তবে স্পেসএক্সের আইপিও তাঁর সম্পদের পরিমাণকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। স্পেসএক্সের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মাস্ক কোম্পানিটির প্রায় অর্ধেক শেয়ারের মালিক। এর মধ্যে এমন কিছু শেয়ারও রয়েছে, যা নির্দিষ্ট কর্মদক্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে যুক্ত। আইপিও মূল্য অনুযায়ী স্পেসএক্সে তাঁর শেয়ারের মূল্য প্রায় ৮৬৭ বিলিয়ন ডলার। এর সঙ্গে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলায় তাঁর মালিকানাধীন শেয়ারের মূল্য যোগ করলে দুই প্রতিষ্ঠানে মাস্কের মোট অংশীদারত্বের মূল্য ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি দাঁড়ায়। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, মাস্কের ট্রিলিয়নিয়ার মর্যাদা নির্ভর করছে তাঁর সম্পদ কীভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে তার ওপর। স্পেসএক্সের কিছু শেয়ার ভবিষ্যতের নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে রয়েছে মহাকাশভিত্তিক তথ্যকেন্দ্র স্থাপন এবং মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি গড়ে তোলার মতো উচ্চাভিলাষী প্রকল্প। এসব শর্তাধীন শেয়ার বাদ দিলে মাস্ক এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রিলিয়নিয়ার নন বলে ধরা হতে পারে। তবে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম আরও সামান্য বাড়লে তিনি কাগজে-কলমে ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, স্পেসএক্স ও টেসলায় মাস্কের শেয়ারের সম্মিলিত মূল্য মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের মোট সম্পদের চেয়েও ১০ গুণের বেশি। বর্তমানে মাস্কের সম্পদের পরিমাণ বিশ্বের পরবর্তী চার শীর্ষ ধনী ব্যক্তির সম্মিলিত সম্পদের প্রায় সমান। এদের মধ্যে রয়েছেন গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন, আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং ওরাকলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন। আইপিওর আগে প্রকাশিত আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শুরু থেকে স্পেসএক্স প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার লোকসান করেছে। কোম্পানিটির ভাষ্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ প্রযুক্তিতে বড় ধরনের বিনিয়োগের কারণে এই লোকসান হয়েছে। মাস্কের পারিশ্রমিক কাঠামোও প্রচলিত করপোরেট ব্যবস্থার তুলনায় ভিন্ন। তিনি সাধারণত বেতন নয়, বরং উচ্চাভিলাষী ব্যবসায়িক লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে যুক্ত শেয়ারভিত্তিক পুরস্কার পান। টেসলার ক্ষেত্রেও তাঁর বেশ কিছু পারিশ্রমিক কর্মদক্ষতা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপর নির্ভরশীল। শুক্রবার থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা স্পেসএক্সের শেয়ার কেনাবেচা করতে পারবেন। আর যদি কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১৪০ ডলারে পৌঁছে যায়, তাহলে অতিরিক্ত শর্তাধীন শেয়ারগুলো হিসাবের বাইরে রাখলেও মাস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সম্পদ এবার ইরানের সামরিক বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় যুক্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড করপসের (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্ত ওই সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইলন মাস্ক পরিচালিত স্টারলিংকসহ অন্যান্য প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ব্যবহার করছে—এমন প্রমাণ পাওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফার্স নিউজের ওই প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, দখলকৃত ভূখণ্ড, কাতার, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমানে অবস্থিত স্টারলিংকের গ্রাউন্ড স্টেশনগুলো এখন ইরানের নতুন লক্ষ্যবস্তুর অন্তর্ভুক্ত। এর পাশাপাশি স্পেসএক্সের (SpaceX) অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং 'আল-ফাজাবি' ও 'মুবাডালা'-এর মতো কোম্পানির অবকাঠামোও এই হিটলিস্টে জায়গা পেয়েছে। তবে আইআরজিসি বা ইরানের সরকারি কর্তৃপক্ষ ফার্স নিউজের এই প্রতিবেদনের সত্যতা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি বা বিষয়টি অস্বীকারও করেনি। যদিও গত কয়েকদিন ধরে স্পেসএক্সের কার্যক্রম নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন ইরানের রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছিল। বিশ্লেষকদের ধারণা, মার্কিন সংবাদমাধ্যমের ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ফার্স নিউজ তাদের এই দাবিটি সামনে এনেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের সম্পদের ওপরও। ফোর্বস সাময়িকীর এপ্রিলের তালিকা অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ ধনীর মোট সম্পদ এক মাসে কমেছে ৮৮ বিলিয়ন ডলার। এদের মধ্যে শীর্ষ ধনী Elon Musk-এর সম্পদ কমেছে সবচেয়ে বেশি ২২ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৮১৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই তালিকায় থাকা অন্যরা হলেন Larry Page, Jeff Bezos, Sergey Brin এবং Mark Zuckerberg। ফোর্বসের তথ্যমতে, ল্যারি পেজের সম্পদ কমেছে ২০ বিলিয়ন ডলার, সের্গেই ব্রিনের ১৮ বিলিয়ন ডলার এবং মার্ক জাকারবার্গের কমেছে সর্বোচ্চ ২৭ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে জেফ বেজোসের সম্পদ কমেছে তুলনামূলক কম, প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরান-ইসরায়েল সংঘাতকে ঘিরে বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়িয়ে শেয়ার বিক্রি শুরু করেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বড় বড় শেয়ারবাজারে সূচক নিম্নমুখী হয়। এসঅ্যান্ডপি ৫০০, ডাও জোন্স ও নাসডাক সূচকে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে, বিশেষ করে প্রযুক্তি খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মূলত শেয়ারের দাম কমে যাওয়ার কারণেই এই অতিধনীদের সম্পদের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে শীর্ষ পাঁচ ধনীর এই সম্পদ হ্রাসের পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, যা বাংলাদেশের চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকারের চেয়েও বেশি। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুঁজিবাজারের ওঠানামার সঙ্গে এই সম্পদের পরিমাণ দ্রুত পরিবর্তিত হয় এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে তা আবারও বাড়তে পারে।
প্রযুক্তি বিশ্বের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইলন মাস্ক ও মার্ক জুকারবার্গের মধ্যকার দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। সম্প্রতি আদালতে জমা দেওয়া একটি মামলার নথিতে এই দুই টেক জায়ান্টের মধ্যকার গোপন বার্তা আদান-প্রদানের তথ্য ফাঁস হয়েছে। নর্থি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি জুকারবার্গ নিজেই মাস্ককে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়ে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। এক সময় যারা একে অপরকে ‘কেজ ফাইট’ বা মল্লযুদ্ধের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন, এখন তারা বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণী ইস্যুতে একযোগে কাজ করার ইঙ্গিত দিচ্ছেন যা প্রযুক্তি অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফাঁস হওয়া নথি থেকে জানা যায়, জুকারবার্গ তার বার্তায় মাস্কের গঠিত ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি’ বা ডজ (DOGE) প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে প্রশংসা করেন। শুধু তাই নয়, মাস্কের টিমের সদস্যদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস বা ডক্সিং এবং কোনো ধরণের হুমকি সম্বলিত কন্টেন্ট ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম থেকে সরিয়ে দিতে নিজের টিম প্রস্তুত রয়েছে বলে আশ্বাস দেন জুকারবার্গ। এই বার্তার জবাবে ইলন মাস্ক একটি হৃদয়ের ইমোজি পাঠিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ওপেনএআই অধিগ্রহণে যৌথভাবে বিনিয়োগ বা বিড করার প্রস্তাব দেন। যদিও জুকারবার্গ সরাসরি সেই প্রস্তাবে যুক্ত হননি, তবে ফোনে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, ওপেনএআই-কে ঘিরে মাস্কের করা একটি মামলার সূত্র ধরে এই ব্যক্তিগত চ্যাটগুলো সামনে এসেছে। প্রযুক্তি খাতে একে অপরের প্রবল প্রতিযোগী হওয়া সত্ত্বেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং সরকারি নীতিনির্ধারণী বিষয়ে তাদের এই গোপন সমঝোতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এক সময়ের তিক্ত সম্পর্ক পেছনে ফেলে এই দুই শীর্ষ উদ্যোক্তার কাছাকাছি আসা ভবিষ্যতে মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বড় ধরণের পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। জুকারবার্গ ও মাস্কের এই নতুন রসায়ন আগামী দিনে সিলিকন ভ্যালির ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।