যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে হীরার গহনা ও দামি ঘড়ির লোভে এক যুবককে জিপিএস দিয়ে ট্র্যাক করে তারই সাবেক দুই বন্ধু গুলি করে হত্যা করেছে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে খোদ নিহতের মায়ের চোখের সামনেই। গত ১৩ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে ২৪ বছর বয়সী জেরেমি ওর্তেগাকে হত্যার ঘটনায় শুক্রবার ২৫ বছর বয়সী ওয়েলফি এস্পিনাল এবং ২৭ বছর বয়সী লেনিন তোরিবিওর বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ম্যানহাটনের ইউএস অ্যাটর্নি জে ক্লেটন জানিয়েছেন, এই ঘটনায় অভিযুক্ত এস্পিনালকে নিউ জার্সি থেকে গ্রেপ্তার করা হলেও অপর অভিযুক্ত তোরিবিও এখনো পলাতক রয়েছে।
নিহত জেরেমির মা ইয়োকাস্টা ওর্তেগা চোখের সামনে ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু দেখে এখনো স্তব্ধ। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ঘটনার দিন ভোর পৌনে ৫টার দিকে ছেলে চাবি ফেলে যাওয়ায় তিনি নিজে গিয়ে দরজা খুলে দেন এবং ছেলের জন্য দোতলায় অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু অনেকক্ষণ পরও ছেলে ওপরে না আসায় তিনি বাইরে উঁকি দিয়ে দেখেন জেরেমি প্রাণভয়ে দৌড়াচ্ছে। তিনি দ্রুত নিচে নেমে দেখেন, জেরেমির ছোটবেলার বন্ধু ওয়েলফি তাকে পেছন থেকে বুকে পরপর দুটি গুলি করে।
রক্তাক্ত ছেলেকে বাঁচাতে মা আকুতি করে বলছিলেন, "দয়া করে আমার ছেলেকে মেরো না!" কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। দ্রুত জেরেমিকে জ্যাকোবি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলেও প্রায় এক ঘণ্টা পর সে মারা যায়। ক্ষোভে ও শোকে পাথর হয়ে যাওয়া মা ইয়োকাস্টা প্রশ্ন রাখেন, "যে ছেলেটার সাথে তুমি বড় হয়েছো, তাকে এভাবে কেন মারলে? কিসের এত ঈর্ষা ও ঘৃণা ছিল?"
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হত্যার পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল অনেক আগে থেকেই। অভিযুক্ত তোরিবিও গত ২৮ মার্চ, ২০২৫ তারিখে একটি জিপিএস ট্র্যাকার চালু করে, যা কয়েকদিন পর এস্পিনাল গোপনে জেরেমির গাড়ির নিচে লাগিয়ে দেয়। এই ট্র্যাকারের সাহায্যেই তারা জেরেমিকে আপার ম্যানহাটনের একটি নাইটক্লাবে অনুসরণ করে এবং সেখানে তাকে হীরা খচিত গহনা পরা অবস্থায় দেখতে পায়।
১২ এপ্রিল তারা জেরেমিকে অনুসরণ করে মিডটাউনের একটি রেস্তোরাঁয় যায় এবং পরে থ্রগস নেক এলাকায় জেরেমির বাড়ির আশপাশে রেকি করে। সেদিন রাতে জেরেমি বাড়ি ফেরার আগেই তারা গাড়ি পরিবর্তন করে ও চুরি করা লাইসেন্স প্লেট লাগিয়ে ওই এলাকায় ওত পেতে ছিল। জেরেমি আসামাত্রই তারা তাকে ধাওয়া করে গুলি চালায় এবং তার কাছে থাকা লুই ভিটন ব্র্যান্ডের একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। ব্যাগটিতে জেরেমির শখের হীরার ঘড়ি এবং কার্টিয়ার ব্র্যান্ডের একটি ব্রেসলেট ছিল।
তবে খুনিরা জেরেমির গাড়ির নিচ থেকে জিপিএস ট্র্যাকারটি সরাতে ভুলে যায়। আর এই ট্র্যাকারের সূত্র ধরেই পুলিশ খুনিদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়, কারণ ডিভাইসটি তোরিবিওর নিজের নামে ও ইমেইলে নিবন্ধিত ছিল।
জেরেমির বোন ব্রায়ান্না ওর্তেগা জানান, অভিযুক্ত এস্পিনাল তার ভাইয়ের হাইস্কুল জীবনের বন্ধু ছিল এবং প্রায়ই তাদের বাড়িতে আসত। তারা একসাথে বাস্কেটবল খেলত এবং ঘুরে বেড়াত। জেরেমির পরিবার ধারণা করছে, একটি রিসাইক্লিং কোম্পানিতে সুপারভাইজার পদে কর্মরত জেরেমির প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও চরম ঈর্ষা থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তারা। এর আগেও এস্পিনালের বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধের রেকর্ড রয়েছে।
অন্যদিকে, সিঙ্গেল মাদারের সংসারে বেড়ে ওঠা জেরেমি তার ছোট ভাইবোনদের কাছে একজন বাবার মতোই ছিলেন। ২০১৯ সালে জেমস মনরো হাইস্কুল থেকে পাস করা জেরেমির কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না।
এর আগে একবার বন্দুকের মুখে ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ায় সে সবসময় সতর্ক হয়ে চলত। জেরেমির ভাই জেইডেন জানান, তার ভাইয়ের মৃত্যুতে তাদের বাড়িটি এখন পুরোপুরি শূন্য হয়ে পড়েছে। সব সময় হাসি-খুশি ও প্রাণবন্ত জেরেমিকে হারিয়ে পুরো পরিবার এখন চরম শোক ও আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
ফ্লোরিডার বিলাসবহুল আবাসন বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে মিয়ামির উপকূলবর্তী অভিজাত এলাকা কী বিসকেইন। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে একই এলাকায় বিক্রির জন্য উঠে এসেছে দুটি অতি-বিলাসবহুল জলসীমা-সংলগ্ন প্রাসাদ, যার সম্মিলিত মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৬২ মিলিয়ন ডলার। রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা দক্ষিণ ফ্লোরিডার উচ্চমূল্যের আবাসন বাজারে নতুন করে গতি সঞ্চার করেছে। প্রথমে বাজারে আসে বহুল আলোচিত ‘স্কারফেস ম্যানশন’। প্রায় ১৩ হাজার বর্গফুটের এই প্রাসাদটির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২৩৭ মিলিয়ন ডলার। বিশাল আয়তনের জমি, ব্যক্তিগত জলপথ সুবিধা এবং বিলাসবহুল নকশার কারণে সম্পত্তিটি দ্রুতই আন্তর্জাতিক রিয়েল এস্টেট বাজারের নজর কেড়ে নেয়। এর দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে পাশের আরেকটি জলসীমা-সংলগ্ন প্রাসাদ বিক্রির খবর সামনে আসে। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বীমা ব্যবসায়ী নিকোলাস এস্ট্রেলা সিনিয়রের মালিকানাধীন এই সম্পত্তির সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ১২৫ মিলিয়ন ডলার। যদিও এটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে তালিকাভুক্ত করা হয়নি, তবে সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে সম্পত্তিটি ইতোমধ্যে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। সম্পত্তিটির বিপণনের দায়িত্বে রয়েছে ডগলাস এলিম্যানের রিয়েল এস্টেট এজেন্ট লুর্দেস আলাত্রিস্তে ও কার্স্টেন স্মিথ। তবে তারা বিক্রেতার পরিচয় সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিয়ামি ও এর আশপাশের দ্বীপাঞ্চল গত কয়েক বছরে বিশ্বের ধনী ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং তারকাদের অন্যতম পছন্দের আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। ফ্লোরিডায় ব্যক্তিগত আয়কর না থাকা, তুলনামূলক উষ্ণ আবহাওয়া, সমুদ্রঘেঁষা জীবনযাত্রা এবং উচ্চমাত্রার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ধনীদের এই অঞ্চলের প্রতি আকৃষ্ট করছে। দক্ষিণ ফ্লোরিডার কিছু আবাসিক এলাকা ইতোমধ্যে ‘বিলিয়নিয়ার বাঙ্কার’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। কারণ এসব এলাকায় বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বসবাস ক্রমেই বাড়ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও উচ্চ সুদের হার থাকা সত্ত্বেও অতিধনীদের জন্য নির্মিত সম্পত্তির চাহিদা এখনও শক্তিশালী রয়েছে। রিয়েল এস্টেট খাতের পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ২৩৭ মিলিয়ন ডলারের ‘স্কারফেস ম্যানশন’ এবং ১২৫ মিলিয়ন ডলারের নতুন প্রাসাদ—এই দুই সম্পত্তির সম্মিলিত মূল্য ৩৬২ মিলিয়ন ডলার হওয়ায় কী বিসকেইন আবারও আন্তর্জাতিক আবাসন বাজারের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। দুটি সম্পত্তির যেকোনো একটি বিক্রি হলেও তা চলতি বছরের সবচেয়ে আলোচিত ও ব্যয়বহুল আবাসন লেনদেনের তালিকায় স্থান করে নিতে পারে। বিলাসবহুল আবাসনের ক্রমবর্ধমান মূল্য এবং উচ্চ আয়ের ক্রেতাদের আগ্রহ প্রমাণ করছে, মিয়ামির অভিজাত এলাকাগুলো এখনও বিশ্বের ধনকুবেরদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় ঠিকানা হয়ে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটিতে নিয়মিত পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের সময় একটি বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আটজন নিহত হয়েছেন। বিমানটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভূপাতিত হয়ে আগুনে পুড়ে যায় বলে জানিয়েছে বিমানঘাঁটি কর্তৃপক্ষ। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ২০ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর একটি নিয়মিত পরীক্ষামূলক মিশনে অংশ নিয়েছিল। এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটির ৪১২তম টেস্ট উইংয়ের উপকমান্ডার কর্নেল জেমস হেইস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দুর্ঘটনার ভিডিও পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এটি ছিল এমন একটি দুর্ঘটনা যেখানে বেঁচে থাকার কোনো সুযোগ ছিল না। তিনি বলেন, “আমরা আটজন মহান আমেরিকানকে হারিয়েছি। এটি একটি ভয়াবহ ট্র্যাজেডি।” কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে সামরিক সদস্য, সরকারি বেসামরিক কর্মী এবং সরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ছিলেন। নিহতদের পরিচয় তাদের পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার পর প্রকাশ করা হবে। বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তাদের দুইজন কর্মীও রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, “গভীর দুঃখের সঙ্গে আমরা নিশ্চিত করছি যে বিমানে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে বোয়িংয়ের দুইজন কর্মী ছিলেন। আমরা তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছি।” দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। তবে দুর্ঘটনার ভয়াবহতার কারণে কাউকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বিমানটি কেন বিধ্বস্ত হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। বিমান বাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এই তদন্ত শেষ হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। দুর্ঘটনার পর এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটির রানওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঘাঁটিতে আসা সব বিমান অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মঙ্গলবারের জন্য ঘাঁটির সব ধরনের উড্ডয়ন কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক বিমানঘাঁটি। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী ও নাসা নতুন এবং উন্নয়নাধীন বিভিন্ন ধরনের বিমানের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন পরিচালনা করে। বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘপাল্লার কৌশলগত বোমারু বিমান। ১৯৫০-এর দশকে প্রথমবারের মতো এটি বহরে যুক্ত হয় এবং বর্তমানে দেশটির আকাশ শক্তির অন্যতম প্রধান অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বোয়িং নির্মিত এই বিমানটি দীর্ঘ দূরত্বে প্রচলিত ও পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম। ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক বিভিন্ন সামরিক অভিযানে বি-৫২ ব্যবহৃত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান সম্পদ বৈষম্য ও স্বাস্থ্যসেবার উচ্চ ব্যয় নিয়ে আবারও সরব হয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বক্তব্যে তিনি দাবি করেছেন, দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এমনভাবে পরিচালিত হচ্ছে যে একজন ব্যক্তি ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক হওয়ার পথে এগিয়ে যেতে পারেন, অথচ লাখো আমেরিকান চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার খরচও বহন করতে পারেন না। ম্যাসাচুসেটসের এই সিনেটর বলেন, দেশের সম্পদ ক্রমশ অল্প কয়েকজন ধনীর হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা ব্যয়, বাসস্থান, শিক্ষা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ সামলাতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, বর্তমান ব্যবস্থায় সম্পদ ধনীদের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে, আর মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ওয়ারেন আবারও তাঁর বহুল আলোচিত ‘ওয়েলথ ট্যাক্স’ বা সম্পদ করের প্রস্তাব সামনে আনেন। তিনি মনে করেন, অতিধনীদের ওপর কর আরোপের মাধ্যমে সরকার অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ করতে পারবে, যা স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক খাতে বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে। অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে ওয়ারেনের অবস্থান নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ও পরিবারের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। তাঁর মতে, আয়ের পাশাপাশি বিপুল সম্পদের ওপরও কর আরোপ করা হলে অর্থনৈতিক ভারসাম্য কিছুটা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তবে এ ধরনের প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মতভেদ রয়েছে। সমালোচকদের দাবি, সম্পদ কর বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক উদ্যোগকে নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং এর বাস্তবায়নও জটিল হতে পারে। অন্যদিকে সমর্থকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ধনী-গরিব বৈষম্য কমাতে এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করতে এমন পদক্ষেপ প্রয়োজন। ওয়ারেনের সাম্প্রতিক মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়, আয় বৈষম্য এবং ধনীদের কর কাঠামো নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে অনেকেই অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ কেউ তাঁর প্রস্তাবিত সমাধানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ওয়ারেনের অবস্থান স্পষ্ট—তাঁর মতে, এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রয়োজন যেখানে কেবল অল্প কয়েকজন নয়, বরং সাধারণ মানুষও স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মৌলিক সুযোগ-সুবিধা সহজে পাওয়ার নিশ্চয়তা পাবে।