আমেরিকা

ফ্লোরিডায় একই এলাকায় ৩৬২ মিলিয়ন ডলারের দুই বাড়ি, উত্তপ্ত মিয়ামির বিলাসবহুল আবাসন বাজার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১৯:৫৪
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডার বিলাসবহুল আবাসন বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে মিয়ামির উপকূলবর্তী অভিজাত এলাকা কী বিসকেইন। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে একই এলাকায় বিক্রির জন্য উঠে এসেছে দুটি অতি-বিলাসবহুল জলসীমা-সংলগ্ন প্রাসাদ, যার সম্মিলিত মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৬২ মিলিয়ন ডলার। রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা দক্ষিণ ফ্লোরিডার উচ্চমূল্যের আবাসন বাজারে নতুন করে গতি সঞ্চার করেছে।

 

প্রথমে বাজারে আসে বহুল আলোচিত ‘স্কারফেস ম্যানশন’। প্রায় ১৩ হাজার বর্গফুটের এই প্রাসাদটির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২৩৭ মিলিয়ন ডলার। বিশাল আয়তনের জমি, ব্যক্তিগত জলপথ সুবিধা এবং বিলাসবহুল নকশার কারণে সম্পত্তিটি দ্রুতই আন্তর্জাতিক রিয়েল এস্টেট বাজারের নজর কেড়ে নেয়।

 

এর দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে পাশের আরেকটি জলসীমা-সংলগ্ন প্রাসাদ বিক্রির খবর সামনে আসে। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বীমা ব্যবসায়ী নিকোলাস এস্ট্রেলা সিনিয়রের মালিকানাধীন এই সম্পত্তির সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ১২৫ মিলিয়ন ডলার। যদিও এটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে তালিকাভুক্ত করা হয়নি, তবে সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে সম্পত্তিটি ইতোমধ্যে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

 

সম্পত্তিটির বিপণনের দায়িত্বে রয়েছে ডগলাস এলিম্যানের রিয়েল এস্টেট এজেন্ট লুর্দেস আলাত্রিস্তে ও কার্স্টেন স্মিথ। তবে তারা বিক্রেতার পরিচয় সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিয়ামি ও এর আশপাশের দ্বীপাঞ্চল গত কয়েক বছরে বিশ্বের ধনী ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং তারকাদের অন্যতম পছন্দের আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। ফ্লোরিডায় ব্যক্তিগত আয়কর না থাকা, তুলনামূলক উষ্ণ আবহাওয়া, সমুদ্রঘেঁষা জীবনযাত্রা এবং উচ্চমাত্রার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ধনীদের এই অঞ্চলের প্রতি আকৃষ্ট করছে।

 

দক্ষিণ ফ্লোরিডার কিছু আবাসিক এলাকা ইতোমধ্যে ‘বিলিয়নিয়ার বাঙ্কার’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। কারণ এসব এলাকায় বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বসবাস ক্রমেই বাড়ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও উচ্চ সুদের হার থাকা সত্ত্বেও অতিধনীদের জন্য নির্মিত সম্পত্তির চাহিদা এখনও শক্তিশালী রয়েছে।

 

রিয়েল এস্টেট খাতের পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ২৩৭ মিলিয়ন ডলারের ‘স্কারফেস ম্যানশন’ এবং ১২৫ মিলিয়ন ডলারের নতুন প্রাসাদ—এই দুই সম্পত্তির সম্মিলিত মূল্য ৩৬২ মিলিয়ন ডলার হওয়ায় কী বিসকেইন আবারও আন্তর্জাতিক আবাসন বাজারের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। দুটি সম্পত্তির যেকোনো একটি বিক্রি হলেও তা চলতি বছরের সবচেয়ে আলোচিত ও ব্যয়বহুল আবাসন লেনদেনের তালিকায় স্থান করে নিতে পারে।

 

বিলাসবহুল আবাসনের ক্রমবর্ধমান মূল্য এবং উচ্চ আয়ের ক্রেতাদের আগ্রহ প্রমাণ করছে, মিয়ামির অভিজাত এলাকাগুলো এখনও বিশ্বের ধনকুবেরদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় ঠিকানা হয়ে রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
মিথ্যা দাবিতে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করছে অ্যামাজন-ওয়ালমার্ট
‘মেড ইন ইউএসএ’ মিথ্যা দাবিতে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করছে অ্যামাজন-ওয়ালমার্ট! :গবেষণা

যুক্তরাষ্ট্রের দুই বৃহৎ খুচরা বিক্রেতা অ্যামাজন ও ওয়ালমার্টের বিরুদ্ধে ‘মেড ইন ইউএসএ’ লেবেল নিয়ে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ উঠেছে। নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান দুটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) শপিং সহকারীরা পণ্যের ভুয়া ‘মেড ইন ইউএসএ’ দাবি শনাক্ত করতে সক্ষম হলেও, সেগুলো ক্রেতাদের সামনে সতর্কবার্তা হিসেবে তুলে ধরে না।    কলাম্বিয়া ল’ স্কুলের সেন্টার ফর ল’ অ্যান্ড দ্য ইকোনমির প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, অ্যামাজনের ‘অ্যালেক্সা ফর শপিং’ এবং ওয়ালমার্টের ‘স্পার্কি’ এআই সিস্টেম অনেক ক্ষেত্রে বুঝতে পারে যে কোনো পণ্যের উৎপত্তি সম্পর্কে দেওয়া তথ্য বিভ্রান্তিকর বা অসত্য হতে পারে। তবে সেই তথ্য ব্যবহার করে ক্রেতাদের সতর্ক করার পরিবর্তে তারা সাধারণত বিষয়টি এড়িয়ে যায় বা নিরপেক্ষ উত্তর দেয়।    গবেষণার সহলেখক ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফেডারেল ট্রেড কমিশন চেয়ার লিনা খানের মতে, এআই প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক না কেন, ব্যবসায়িক স্বার্থ অনেক সময় সেই প্রযুক্তির ব্যবহারকে প্রভাবিত করে। তাই ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় নীতিনির্ধারক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর ভূমিকা জরুরি।    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অ্যামাজন ও ওয়ালমার্টের ওয়েবসাইটে ‘মেড ইন ইউএসএ’ পণ্য খোঁজার জন্য আলাদা কোনো ফিল্টার নেই। পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রশ্নের ভাষা সামান্য পরিবর্তন করলেই একই এআই সহকারী ভিন্ন উত্তর দিচ্ছে, যা তথ্য উপস্থাপনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।    অ্যামাজন গবেষণার উপসংহারের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে জানিয়েছে, উৎপাদক বা তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতারা তথ্য সরবরাহ করলে পণ্যের উৎপত্তি-সংক্রান্ত তথ্য তারা প্রদর্শন করে এবং অ্যালেক্সার সক্ষমতা আরও উন্নত করার কাজ চলছে। ওয়ালমার্ট এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন অ্যামাজন ও ওয়ালমার্টকে চিঠি দিয়ে তাদের প্ল্যাটফর্মে তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতাদের বিভ্রান্তিকর ‘মেড ইন ইউএসএ’ দাবির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। সাম্প্রতিক গবেষণাটি সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১, ২০২৬ ২:৪
শিক্ষার্থী ভিসায় স্বামী বা স্ত্রীকে সঙ্গে নেবেন, নাকি পরে আনবেন? কী বলছে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম

শিক্ষার্থী ভিসায় স্বামী বা স্ত্রীকে সঙ্গে নেবেন, নাকি পরে আনবেন? কী বলছে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম

জনস হপকিন্সের গবেষককে বিমানবন্দরে আটক করল আইস

জনস হপকিন্সের গবেষককে বিমানবন্দরে আটক করল আইস, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের ক্ষোভ

নিউইয়র্কের সরকারি আবাসন লটারি দ্রুত করতে বড় সংস্কারের উদ্যোগ

দুই বছর পর্যন্ত অপেক্ষা! নিউইয়র্কের সরকারি আবাসন লটারি দ্রুত করতে বড় সংস্কারের উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারেবিদেশি ক্রেতার আগ্রহে বড় ধাক্কা
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারেবিদেশি ক্রেতার আগ্রহে বড় ধাক্কা, বিনিয়োগ কমল ৩৫ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বিদেশি ক্রেতাদের বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরস এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এক বছরে বিদেশি ক্রেতারা যুক্তরাষ্ট্রে ৪২ বিলিয়ন ডলারের আবাসিক সম্পত্তি কিনেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ কম। ক্রয়-বিক্রয়ের পরিমাণও নেমে এসেছে প্রায় ৩৩ শতাংশ।   এনএআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত বিদেশি নাগরিক ও নতুন অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৭৮ হাজার ১০০টি আবাসিক সম্পত্তি কিনেছেন। আগের বছরের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্য হ্রাস। একই সময়ে মোট বিনিয়োগও ৬৪ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৪২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ মর্টগেজ সুদের হার, বাড়ির ক্রমবর্ধমান দাম, শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি অভিবাসন নীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে অনিশ্চয়তাও অনেক বিনিয়োগকারীকে অপেক্ষার অবস্থানে রেখেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে চীনা নাগরিকরা এখনও সবচেয়ে বেশি মূল্যের আবাসন কিনেছেন। তাদের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। এরপর রয়েছে কানাডা, ভারত, মেক্সিকো ও যুক্তরাজ্যের ক্রেতারা।   অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশি বিদেশি ক্রেতা আকৃষ্ট করেছে ফ্লোরিডা। মোট বিদেশি আবাসন ক্রয়ের ২১ শতাংশই হয়েছে এই অঙ্গরাজ্যে। এরপর রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, অ্যারিজোনা ও নিউইয়র্ক।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিদেশি ক্রেতাদের বড় একটি অংশ নগদ অর্থে বাড়ি কিনেছেন। প্রায় অর্ধেক লেনদেনই হয়েছে কোনো ধরনের গৃহঋণ ছাড়াই, যা দেশীয় ক্রেতাদের তুলনায় অনেক বেশি।   আবাসন বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় বিলাসবহুল ও উচ্চমূল্যের আবাসনের বাজারে চাপ বাড়তে পারে। তবে মর্টগেজ সুদের হার কমলে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হলে বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ আবারও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১, ২০২৬ ০:৫১
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ হওয়া স্বত্তেও মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানোয়

যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ হওয়া স্বত্তেও মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানোয়, ট্রাম্প প্রশাসন এর বিরুদ্ধে মামলা

ডাকে পাঠানো লটারির বিজয়ী টিকিট চুরি

ডাকে পাঠানো লটারির বিজয়ী টিকিট চুরি! মার্কিন ডাক বিভাগের কর্মী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের মেয়াদি মর্টগেজ সুদ এক বছরে সর্বোচ্চ

যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের মেয়াদি মর্টগেজ সুদ এক বছরে সর্বোচ্চ, বাড়ি কেনা আরও কঠিন

দুই কক্ষের ফ্ল্যাট ভাড়ায় নিউইয়র্ককে ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে ব্যয়বহুল এখন সান ফ্রান্সিসকো
দুই কক্ষের ফ্ল্যাট ভাড়ায় নিউইয়র্ককে ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে ব্যয়বহুল এখন সান ফ্রান্সিসকো

ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো দুই কক্ষের অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়ার ক্ষেত্রে নিউইয়র্ককে ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরে পরিণত হয়েছে। নতুন বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শহরটিতে দুই কক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম মাসিক ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২০ ডলারে, যা এক বছর আগের তুলনায় ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।   রিয়েল এস্টেট প্ল্যাটফর্ম জাম্পারের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক মাসের ব্যবধানে সান ফ্রান্সিসকোতে দুই কক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথম শহরটিতে দুই কক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম ভাড়া ৬ হাজার ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে।   অন্যদিকে, নিউইয়র্কে দুই কক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম মাসিক ভাড়া ৫ হাজার ৪৫০ ডলার। অর্থাৎ, সান ফ্রান্সিসকোতে একই ধরনের বাসার ভাড়া নিউইয়র্কের তুলনায় ৫৭০ ডলার বেশি। তবে এক কক্ষের অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়ায় এখনো শীর্ষে রয়েছে নিউইয়র্ক। সেখানে মধ্যম মাসিক ভাড়া ৪ হাজার ৫৬০ ডলার, আর সান ফ্রান্সিসকোতে তা ৪ হাজার ১৮০ ডলার।   বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কোম্পানিগুলোর ব্যাপক নিয়োগ, অফিসে কর্মীদের ফিরিয়ে আনার নীতি এবং নতুন আবাসন নির্মাণের ধীরগতির কারণে সান ফ্রান্সিসকোতে ভাড়ার ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে শহরে ভাড়ার জন্য খালি বাসার সংখ্যা এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। ফলে নতুন ভাড়াটিয়াদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও বেড়েছে।   এই চাপ এখন আশপাশের শহরগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে। ওকল্যান্ডে এক কক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া বছরে ৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সান ফ্রান্সিসকোর উচ্চ ভাড়ার কারণে অনেক মানুষ তুলনামূলক কম খরচের শহরে চলে যাওয়ায় সেখানেও ভাড়া দ্রুত বাড়ছে।   তবে জাতীয় পর্যায়ে ভাড়ার বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে দুই কক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম মাসিক ভাড়া ১ হাজার ৯০৬ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেশি। এক কক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম ভাড়া অপরিবর্তিত থেকে ১ হাজার ৫২০ ডলারে রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১, ২০২৬ ০:৬
সিএনএনের জরিপে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে সবচেয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন পেয়েছেন জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত

সিএনএন জরিপে বড় চমক, জনপ্রিয়তায় শীর্ষে উঠে এলেন জোহরান মামদানি

যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক থেরাপিস্ট সোফিয়া ড্রটস। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় থেরাপিস্টের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলার পর নিখোঁজ কিশোর, ছেলেকে খুঁজছেন মা

হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

হোয়াইট হাউসের অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের ঘাড়ের ছবি নিয়ে শুরু ঠাট্টা-বিদ্রূপ

0 Comments