যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়া থাকাই এখন সাশ্রয়ী, টানা ৩৪ মাস কমছে ভাড়ার দাম
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার পরিবর্তে ভাড়া থাকাই এখন অধিকাংশ মানুষের জন্য তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। নতুন আবাসন সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ভাড়া বাজারে মূল্যসংশোধনের ধারাবাহিক প্রভাবের কারণে দেশটির বড় শহরগুলোতে ভাড়ার হার কমতে থাকায় এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
রিয়েল এস্টেটবিষয়ক প্রতিষ্ঠান Realtor.com-এর সর্বশেষ ভাড়া বাজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ৫০টি মহানগর এলাকায় বর্তমানে বাড়ি কেনার তুলনায় ভাড়া থাকাই অর্থনৈতিকভাবে বেশি সুবিধাজনক। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বহুতল আবাসন নির্মাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় ভাড়া বাজারে চাপ কমেছে এবং ভাড়াটিয়ারা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন।
Realtor.com-এর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জোয়েল বার্নারের মতে, ২০২১ ও ২০২২ সালে ভাড়ার যে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল, বাজার এখন ধীরে ধীরে তার সংশোধন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে কয়েক বছরের সমপরিমাণ ভাড়া বৃদ্ধি হওয়ায় বর্তমানে অনেক শহরে ভাড়ার হার নিচের দিকে নামছে।
তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে নির্মিত বিপুলসংখ্যক বহুতল আবাসন বাজারে যুক্ত হওয়ায় ভাড়াটিয়াদের জন্য বিকল্প বেড়েছে। ফলে বাড়িওয়ালাদেরও ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ সীমিত হয়ে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি বৃহত্তম মহানগর এলাকায় মধ্যম ভাড়া দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৮৬ ডলার। এটি ২০২২ সালের গ্রীষ্মকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় ৭৮ ডলার বা প্রায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কম। তবে মহামারির আগের সময়ের তুলনায় এখনও ভাড়া ২৪৮ ডলার বা প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়ি কেনার খরচ এখনও উচ্চ সুদের হার ও আবাসনমূল্যের কারণে অনেক পরিবারের নাগালের বাইরে রয়েছে। ফলে বাড়ি কেনার জন্য ঋণ নেওয়ার চেয়ে ভাড়া থাকাকে অনেকেই আর্থিকভাবে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছেন।
Realtor.com-এর অর্থনীতিবিদ জিয়াই জু জানিয়েছেন, গ্রীষ্মকাল আসায় মৌসুমি কারণে আগামী মাসগুলোতে ভাড়ার হার সামান্য বাড়তে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে আবাসন সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে বছরভিত্তিক ভাড়া কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে বহুতল আবাসন নির্মাণের যে জোয়ার দেখা গেছে, তার প্রভাব এখনও বাজারে পড়ছে। ফলে ২০২৬ সালজুড়েই ভাড়াটিয়ারা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতে পারেন।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সব ধরনের আবাসন ইউনিটের ভাড়াই কমেছে। দুই শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম ভাড়া এক বছরে ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৮৫ ডলারে নেমে এসেছে। এটি ২০২২ সালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় ১০৭ ডলার কম।
একই সময়ে এক শয়নকক্ষের ইউনিটের মধ্যম ভাড়া ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৭৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়াও ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪২২ ডলারে নেমেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় আকারের ইউনিটগুলোর ক্ষেত্রে প্রায় তিন বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ভাড়া কমছে। স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের ক্ষেত্রেও আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
এদিকে আবাসন বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভাড়া থাকবেন নাকি বাড়ি কিনবেন, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্যক্তিগত আর্থিক সক্ষমতা মূল্যায়ন করা জরুরি। এ জন্য বর্তমানে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও আবাসনসংক্রান্ত ওয়েবসাইট ‘মর্টগেজ বনাম ভাড়া’ হিসাব করার বিশেষ ক্যালকুলেটরও ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছে।
এসব ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি তাঁর বর্তমান ভাড়া, সঞ্চিত অর্থ, সম্ভাব্য ডাউন পেমেন্ট এবং ভবিষ্যৎ ঋণ কিস্তির তুলনামূলক হিসাব করতে পারেন। এতে শুধু বর্তমান ব্যয় নয়, দীর্ঘমেয়াদে কোন সিদ্ধান্ত আর্থিকভাবে বেশি লাভজনক হবে, সে সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে গত কয়েক বছরের অস্থিরতার পর ভাড়া খাতে এই মূল্যহ্রাসকে অনেক বিশেষজ্ঞ ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন। তবে সুদের হার, নতুন নির্মাণ প্রকল্প এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভবিষ্যৎ বাজার পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে বলে মনে করছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের একটি বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষককে আটক করেছে। ঘটনাটি এমন সময় ঘটল, যখন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে অভিবাসন-সংক্রান্ত অভিযানে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে গবেষকের দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষকের আইনজীবীদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গবেষক একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছালে আইস কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন। পরে তাকে অভিবাসন হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে তাকে আটকের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে বিস্তারিত জানায়নি। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, গবেষক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। প্রতিষ্ঠানটি তার আইনজীবী ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আইনি সহায়তা দিচ্ছে এবং বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন প্রয়োগের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দর, কর্মস্থল ও অন্যান্য স্থানে আইসের অভিযান বেড়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, এসব অভিযানে বৈধ কাগজপত্রধারী ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও গবেষকদেরও আটকের ঘটনা উদ্বেগ তৈরি করছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক গবেষক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতে বিদেশি গবেষকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকায় এ ধরনের গ্রেপ্তার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।
দুই বছর পর্যন্ত অপেক্ষা! নিউইয়র্কের সরকারি আবাসন লটারি দ্রুত করতে বড় সংস্কারের উদ্যোগ
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারেবিদেশি ক্রেতার আগ্রহে বড় ধাক্কা, বিনিয়োগ কমল ৩৫ শতাংশ
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ হওয়া স্বত্তেও মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানোয়, ট্রাম্প প্রশাসন এর বিরুদ্ধে মামলা
যুক্তরাষ্ট্রে ডাকযোগে পাঠানো একটি বিজয়ী লটারির টিকিট চুরি করে নিজের নামে পুরস্কারের অর্থ তোলার অভিযোগে মার্কিন ডাক বিভাগের (ইউএসপিএস) এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ফেডারেল পর্যায়ে ডাক চুরি ও প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়েছে। ফ্লোরিডার মিয়ামি এলাকায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় তদন্তকারীরা জানান, একজন ব্যক্তি তার বিজয়ী লটারির টিকিট ডাকযোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, টিকিটটি গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ডাক বিভাগের ওই কর্মী সেটি আত্মসাৎ করেন এবং পরে নিজের নামে পুরস্কারের অর্থ দাবি করেন। তবে লটারির যাচাই প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতি ধরা পড়লে বিষয়টি তদন্তে যায়। তদন্তে ইউএস পোস্টাল ইন্সপেকশন সার্ভিস এবং ফ্লোরিডা লটারি কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ করে। বিভিন্ন নথি, ডাক পরিবহনের তথ্য ও আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনার পর অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হলে আদালতে তার বিরুদ্ধে ডাক চুরি, সরকারি দায়িত্বের অপব্যবহার এবং প্রতারণাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, ডাক বিভাগের কর্মীদের ওপর জনগণের আস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত লাভের জন্য ডাক ব্যবস্থার অপব্যবহার করলে তা শুধু ফেডারেল আইন লঙ্ঘনই নয়, জনবিশ্বাসেরও মারাত্মক ক্ষতি করে। ফ্লোরিডা লটারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বড় অঙ্কের পুরস্কারের ক্ষেত্রে টিকিটের মালিকানা ও দাবি যাচাইয়ের জন্য একাধিক ধাপ অনুসরণ করা হয়। সেই প্রক্রিয়ার কারণেই অনিয়মটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। মার্কিন ডাক বিভাগের তদন্ত সংস্থাও জানিয়েছে, ডাক চুরি বা ডাকসামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফেডারেল আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের মেয়াদি মর্টগেজ সুদ এক বছরে সর্বোচ্চ, বাড়ি কেনা আরও কঠিন
দুই কক্ষের ফ্ল্যাট ভাড়ায় নিউইয়র্ককে ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে ব্যয়বহুল এখন সান ফ্রান্সিসকো
সিএনএন জরিপে বড় চমক, জনপ্রিয়তায় শীর্ষে উঠে এলেন জোহরান মামদানি
ক্যালিফোর্নিয়ায় এক কিশোরকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত এক থেরাপিস্টের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ হয়ে গেছে ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোর। তার মা আশঙ্কা করছেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ছেলেটি হয়তো আবার অভিযুক্ত থেরাপিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সান ফ্রান্সিসকোর ২৬ বছর বয়সী সোফিয়া ড্রটস কনট্রা কস্টা কাউন্টির একটি কিশোর সংশোধনাগারে কর্মরত অবস্থায় ওই কিশোরের থেরাপিস্ট ছিলেন। গত দুই সপ্তাহ আগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি। সোমবার তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে অবৈধ যৌন সম্পর্ক, যৌন নির্যাতন, অশ্লীল উপকরণ পাঠানো এবং শিশু পর্নোগ্রাফি সংরক্ষণের অভিযোগ। তবে আদালতে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালে কিশোরটির বয়স যখন ১৪ বা ১৫ বছর ছিল, তখন থেকেই সোফিয়া ড্রটস তার থেরাপিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পেশাগত সম্পর্কের অপব্যবহার করেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে মানসিকভাবে প্রভাবিত করে কিশোরটির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। তদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সংশোধনাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও ড্রটস থেরাপিস্ট হিসেবে তার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন এবং পরে তাদের মধ্যে অবৈধ যৌন সম্পর্ক তৈরি হয়। কিশোরটির মা, যিনি ছেলের পরিচয় গোপন রাখতে নাম প্রকাশ করতে চাননি, বলেন, তার ছেলে থেরাপিস্টের গ্রেপ্তারের দিন থেকেই নিখোঁজ। তার ভাষায়, 'সে শুধু চলে গেছে। কোথায় আছে জানি না। আমি শুধু আশা করছি, সে যেন ওই নারীর সঙ্গে না থাকে।' মায়ের দাবি, সংশোধনাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে তার ছেলে নিয়মিত সোফিয়া ড্রটসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। এমনকি পুলিশ যখন ড্রটসকে গ্রেপ্তার করে, তখনও তারা ভিডিও কলে কথা বলছিল বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রথমদিকে তিনি ড্রটসকে অত্যন্ত যত্নশীল ও দায়িত্বশীল থেরাপিস্ট বলেই মনে করেছিলেন। কখনো কল্পনাও করেননি যে তার ছেলে এমন পরিস্থিতির শিকার হতে পারে। তবে তদন্ত সামনে আসার পর ছেলের সঙ্গে কথা বললে সে মাকে জানায়, তাদের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মতিতেই হয়েছিল। এরপরই সে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার পর একবার সে বাড়িতে ফিরে গোসল করে এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরা গোড়ালির ইলেকট্রনিক নজরদারি যন্ত্র খুলে রেখে আবার চলে যায়। পরে সে প্রবেশন-সংক্রান্ত আদালতের নির্ধারিত শুনানিতেও উপস্থিত হয়নি। এ কারণে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কাউন্টির কয়েকজন কর্মকর্তা ও তত্ত্বাবধায়ক সময়মতো সম্ভাব্য অনিয়ম শনাক্ত করতে ব্যর্থ হন। ফলে অভিযুক্ত থেরাপিস্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুযায়ী অনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে। কিশোরটির পরিবারের পক্ষে দেওয়ানি মামলার আইনজীবী জন বারিস বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকির অভাবেই এমন ঘটনা ঘটেছে। তার আশা, এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে কিশোরটি বুঝতে পারবে যে এটি কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না, বরং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ। সোফিয়া ড্রটস ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে তিনি ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিতে উচ্চশিক্ষার জন্য ক্যালিফোর্নিয়ায় আসেন বলে বিভিন্ন প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলছে। আগামী আগস্টে সোফিয়া ড্রটসকে আবার আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের ঘাড়ের ছবি নিয়ে শুরু ঠাট্টা-বিদ্রূপ
ক্যালিফোর্নিয়ায় বিধ্বস্ত যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫বি যুদ্ধবিমান, শেষ মুহূর্তে প্রাণে বাঁচলেন পাইলট