যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার পরিবর্তে ভাড়া থাকাই এখন অধিকাংশ মানুষের জন্য তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। নতুন আবাসন সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ভাড়া বাজারে মূল্যসংশোধনের ধারাবাহিক প্রভাবের কারণে দেশটির বড় শহরগুলোতে ভাড়ার হার কমতে থাকায় এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
রিয়েল এস্টেটবিষয়ক প্রতিষ্ঠান Realtor.com-এর সর্বশেষ ভাড়া বাজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ৫০টি মহানগর এলাকায় বর্তমানে বাড়ি কেনার তুলনায় ভাড়া থাকাই অর্থনৈতিকভাবে বেশি সুবিধাজনক। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বহুতল আবাসন নির্মাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় ভাড়া বাজারে চাপ কমেছে এবং ভাড়াটিয়ারা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন।
Realtor.com-এর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জোয়েল বার্নারের মতে, ২০২১ ও ২০২২ সালে ভাড়ার যে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল, বাজার এখন ধীরে ধীরে তার সংশোধন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে কয়েক বছরের সমপরিমাণ ভাড়া বৃদ্ধি হওয়ায় বর্তমানে অনেক শহরে ভাড়ার হার নিচের দিকে নামছে।
তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে নির্মিত বিপুলসংখ্যক বহুতল আবাসন বাজারে যুক্ত হওয়ায় ভাড়াটিয়াদের জন্য বিকল্প বেড়েছে। ফলে বাড়িওয়ালাদেরও ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ সীমিত হয়ে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি বৃহত্তম মহানগর এলাকায় মধ্যম ভাড়া দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৮৬ ডলার। এটি ২০২২ সালের গ্রীষ্মকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় ৭৮ ডলার বা প্রায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কম। তবে মহামারির আগের সময়ের তুলনায় এখনও ভাড়া ২৪৮ ডলার বা প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়ি কেনার খরচ এখনও উচ্চ সুদের হার ও আবাসনমূল্যের কারণে অনেক পরিবারের নাগালের বাইরে রয়েছে। ফলে বাড়ি কেনার জন্য ঋণ নেওয়ার চেয়ে ভাড়া থাকাকে অনেকেই আর্থিকভাবে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছেন।
Realtor.com-এর অর্থনীতিবিদ জিয়াই জু জানিয়েছেন, গ্রীষ্মকাল আসায় মৌসুমি কারণে আগামী মাসগুলোতে ভাড়ার হার সামান্য বাড়তে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে আবাসন সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে বছরভিত্তিক ভাড়া কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে বহুতল আবাসন নির্মাণের যে জোয়ার দেখা গেছে, তার প্রভাব এখনও বাজারে পড়ছে। ফলে ২০২৬ সালজুড়েই ভাড়াটিয়ারা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতে পারেন।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সব ধরনের আবাসন ইউনিটের ভাড়াই কমেছে। দুই শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম ভাড়া এক বছরে ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৮৫ ডলারে নেমে এসেছে। এটি ২০২২ সালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় ১০৭ ডলার কম।
একই সময়ে এক শয়নকক্ষের ইউনিটের মধ্যম ভাড়া ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৭৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়াও ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪২২ ডলারে নেমেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় আকারের ইউনিটগুলোর ক্ষেত্রে প্রায় তিন বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ভাড়া কমছে। স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের ক্ষেত্রেও আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
এদিকে আবাসন বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভাড়া থাকবেন নাকি বাড়ি কিনবেন, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্যক্তিগত আর্থিক সক্ষমতা মূল্যায়ন করা জরুরি। এ জন্য বর্তমানে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও আবাসনসংক্রান্ত ওয়েবসাইট ‘মর্টগেজ বনাম ভাড়া’ হিসাব করার বিশেষ ক্যালকুলেটরও ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছে।
এসব ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি তাঁর বর্তমান ভাড়া, সঞ্চিত অর্থ, সম্ভাব্য ডাউন পেমেন্ট এবং ভবিষ্যৎ ঋণ কিস্তির তুলনামূলক হিসাব করতে পারেন। এতে শুধু বর্তমান ব্যয় নয়, দীর্ঘমেয়াদে কোন সিদ্ধান্ত আর্থিকভাবে বেশি লাভজনক হবে, সে সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে গত কয়েক বছরের অস্থিরতার পর ভাড়া খাতে এই মূল্যহ্রাসকে অনেক বিশেষজ্ঞ ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন। তবে সুদের হার, নতুন নির্মাণ প্রকল্প এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভবিষ্যৎ বাজার পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে বলে মনে করছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে গিয়ে চরম অপমান ও বৈরিতার মুখে পড়েছেন এক মুসলিম প্রতিনিধি। দলটির মধ্যে নিজের অবস্থান ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করতে সম্মেলনে অংশ নেওয়া মোহাম্মদ হুসেইন শেষ পর্যন্ত কান্নায় ভেঙে পড়েন, যখন এক প্রভাবশালী খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতা তাকে সরাসরি বলেন, হয় খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করতে হবে, নয়তো দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে। ঘটনাটি ঘটেছে গত সপ্তাহে হিউস্টনে অনুষ্ঠিত টেক্সাস রিপাবলিকান পার্টির সম্মেলনে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সমালোচকদের মতে, দলীয় ঐক্যের কথা বলা হলেও সম্মেলনের বিভিন্ন আলোচনা ও বক্তব্যে মুসলিমবিরোধী মনোভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। মোহাম্মদ হুসেইন মিসরীয় বংশোদ্ভূত একজন মার্কিন নাগরিক। ১৯৯২ সালে তার পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে আসে। তিনি নিজেকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে রক্ষণশীল চিন্তার মানুষ হিসেবে পরিচয় দেন। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই তিনি দীর্ঘদিন রিপাবলিকান রাজনীতির প্রতি আগ্রহী ছিলেন। তবে সম্মেলনে গিয়ে তিনি ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। সম্মেলনের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল টেক্সাসকে ‘শরিয়ামুক্ত’ রাখার দাবি। বিভিন্ন বক্তা শরিয়া আইনকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরেন। অনেক বক্তার বক্তব্যে ইসলাম ও মুসলমানদের সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্যও উঠে আসে। একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন সাবেক ব্যাপটিস্ট ধর্মযাজক এবং ‘রিকভার আমেরিকা’ সংগঠনের সভাপতি ড. রিক স্কারবরো। সেখানে তিনি দাবি করেন, মুসলমানরা রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জনের জন্য মিথ্যা বলে এবং সুযোগ পেলে খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে সহিংস হয়ে উঠবে। এ ধরনের বক্তব্য শুনে আপত্তি জানান মোহাম্মদ হুসেইন। তিনি বলেন, শরিয়া আইন নিয়ে সম্মেলনে যেসব কথা বলা হচ্ছে, তার অনেকটাই ভুল ও বিভ্রান্তিকর। হুসেইন উপস্থিতদের উদ্দেশে বলেন, “যখন বলা হয় মুসলমানরা বাধ্য হয়ে মিথ্যা বলে, তখন আমাদের এমন অবস্থায় ফেলা হয় যেখানে আমরা যা-ই বলি না কেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করা সম্ভব হয় না। এটি ন্যায়সঙ্গত নয়, এটি আমেরিকান মূল্যবোধও নয়।” আলোচনা শেষে হুসেইনের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে আসেন স্কারবরো। একপর্যায়ে হুসেইন তাকে প্রশ্ন করেন, তিনি কি চান যে তিনি চলে যান? জবাবে স্কারবরো বলেন, “হ্যাঁ।” পরে টেক্সাস ট্রিবিউনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্কারবরো স্পষ্ট করেন যে তিনি শুধু সম্মেলন নয়, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার কথাই বলেছেন। তার ভাষায়, “আপনি যদি সেই মূল্যবোধ ও শিক্ষাকে সমর্থন করেন, যার পক্ষে কথা বলছেন, তাহলে আমেরিকায় আপনার জায়গা নেই।” এই মন্তব্যে ভেঙে পড়েন হুসেইন। তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে এক পাশে বসে পড়েন। পরে স্কারবরো তার কাছে গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং স্বীকার করেন যে তিনি হয়তো অতিরিক্ত কঠোর আচরণ করেছেন। সম্মেলনে মুসলিম অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে বিরূপ আচরণের অভিযোগ শুধু হুসেইনের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সামার হালাবি নামে একজন মুসলিম নারী প্রতিনিধি, যিনি হিজাব পরে সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন, তাকেও একাধিকবার কটূক্তির মুখে পড়তে হয়। এক পর্যায়ে এক অংশগ্রহণকারী তাকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ঘটনাটি তাকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। হালাবি ও তার স্বামী আমজাদ মুহতাসেব দুজনই নিবন্ধিত প্রতিনিধি হিসেবে সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। তারা বলেন, মুসলমানদের অনেক মূল্যবোধই রিপাবলিকানদের রক্ষণশীল অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পরিবারব্যবস্থা, ধর্মীয় অনুশাসন, মদ্যপান ও জুয়াবিরোধী অবস্থানের মতো বিষয়ে তাদের মধ্যে মিল রয়েছে। তবুও সম্মেলনের ভেতরে তাদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি ওঠে। মূল বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) নামের মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠনের সঙ্গে কিছু প্রতিনিধির সম্পর্ক। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট গত বছর সংগঠনটিকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেন। তবে সিএআইআর সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সম্মেলনে কয়েকজন প্রতিনিধি সিএআইআরের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা ব্যক্তিদের বহিষ্কারের চেষ্টা করেন। যদিও শেষ পর্যন্ত দলীয় নিয়ম অনুযায়ী তা সম্ভব হয়নি। তবে ভবিষ্যতে এমন প্রতিনিধিদের বাদ দেওয়ার সুযোগ রেখে নতুন নিয়ম গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে রিপাবলিকান দলের ভেতর থেকেই এ ধরনের আচরণের সমালোচনা করা হয়েছে। টেক্সাসের আইনপ্রণেতা মানো ডি-আয়ালা বলেন, দলকে শক্তিশালী করতে হলে আরও বেশি মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অখ্রিস্টান বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে দূরে ঠেলে দিলে দল দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অন্যদিকে সান আন্তোনিওর প্রতিনিধি কেভিন জেনিংসও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রিপাবলিকানদের মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে শরিয়া ইস্যুতে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। সম্মেলনের অভিজ্ঞতা নিয়ে মোহাম্মদ হুসেইন বলেন, তিনি এখন নতুন করে ভাবছেন ভবিষ্যতে কাকে ভোট দেবেন। তার প্রশ্ন, “যে দল আমাকে বলে ধর্ম বদলাও অথবা দেশ ছাড়ো, সেই দলের পক্ষে আমি কীভাবে দাঁড়াব?” তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে তিনি সেই প্রার্থীকে সমর্থন করবেন, যিনি ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাংবিধানিক অধিকার এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পক্ষে অবস্থান নেবেন। টেক্সাসের এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি এবং মুসলিমদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে আদর্শিক বিভাজন ও সংখ্যালঘু ভোটারদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির প্রশ্ন আরও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসতে পারে।
মিশিগান, যুক্তরাষ্ট্র: যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডিস্ট্রিক্ট-৭ থেকে স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কমিউনিটি নেত্রী সীমা আহমেদ। আগামী ৪ আগস্ট ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য প্রাইমারি নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা জোরদার করেছেন এবং এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় সীমা আহমেদ স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সাশ্রয়ী আবাসন এবং কর্মসংস্থানকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন। তার প্রচারসামগ্রীতে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিস্ট্রিক্ট-৭ এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যার মুখোমুখি। এর মধ্যে রয়েছে নিজস্ব বাড়ির মালিকানার নিম্নহার, শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব, তুলনামূলক উচ্চ অপরাধ প্রবণতা এবং স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার সীমাবদ্ধতা। প্রচারণা তথ্য অনুযায়ী, ডিস্ট্রিক্ট-৭ এলাকায় নিজস্ব বাড়ির মালিকানার হার প্রায় ৩৯ শতাংশ। একই সঙ্গে এলাকাটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাসিন্দা সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এছাড়া কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণও স্থানীয় বাসিন্দাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে উঠে এসেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সীমা আহমেদ একাধিক নীতিগত উদ্যোগের কথা বলেছেন। তার প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে সাশ্রয়ী আবাসন কর্মসূচি সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের জন্য আরও ন্যায্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং দক্ষতা উন্নয়নভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সহায়তা কর্মসূচি চালু করা। পাশাপাশি সমাজে পুনর্বাসনের প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য সহায়ক আবাসন কর্মসূচির বিষয়টিও তিনি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। সীমা আহমেদ মনে করেন, স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর নীতিনির্ধারণ এবং কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেছেন, এলাকার মানুষের বাস্তব সমস্যাগুলোকে আইনসভায় তুলে ধরে কার্যকর সমাধানের জন্য কাজ করতে চান তিনি। মিশিগানের স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অংশগ্রহণ গত কয়েক বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সীমা আহমেদের প্রার্থিতা শুধু একটি নির্বাচনী লড়াই নয়, বরং মূলধারার রাজনীতিতে দক্ষিণ এশীয় এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণেরও প্রতিফলন। আগামী বছরের প্রাইমারি নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে ডিস্ট্রিক্ট-৭ এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সীমা আহমেদের প্রচারণা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে কতটা সাড়া ফেলতে পারে, তা এখনই আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে তার প্রচারণার মূল বার্তা একটিই—স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আবাসন ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক ইস্যুতে কার্যকর পরিবর্তন এনে কমিউনিটির কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করা।
বিশ্বজুড়ে বিমানযাত্রীদের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে ২০২৬ সালের 'এয়ারলাইন প্যাসেঞ্জার এক্সপেরিয়েন্স অ্যাসোসিয়েশন' (APEX) পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের বৈশ্বিক তালিকায় গ্রাহকসেবায় অসাধারণ অবদানের জন্য শীর্ষস্থান অর্জনকারী বিমান সংস্থাগুলোকে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে পুরো বিশ্বমঞ্চে আমেরিকার বিমান সংস্থাগুলোর জন্য এবারের ফলাফল বেশ হতাশাজনক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র বিমান সংস্থা হিসেবে বিশ্বসেরা এয়ারলাইন্সের এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় নিজের জায়গা করে নিতে পেরেছে ডেল্টা এয়ারলাইন্স। মূলত ১,২০০টি উড়োজাহাজে বিনামূল্যে উন্নত ওয়াই-ফাই সেবা দেওয়ার অনন্য নজির গড়ে বৈশ্বিক ক্যাটাগরিতে ‘সেরা ওয়াই-ফাই’-এর পুরস্কার জিতেছে প্রতিষ্ঠানটি। একইসঙ্গে বিশ্বের মাত্র ৪০টি বিমান সংস্থার ভাগ্যলিপি হিসেবে খ্যাত 'এপেক্স ফাইভ স্টার গ্লোবাল এয়ারলাইন' পুরস্কারও নিজেদের ঝুলিতে পুরেছে ডেল্টা। বিশ্বসেরা বিমান সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক তালিকায় অন্যান্য প্রধান ক্যাটাগরির মধ্যে সেরা কেবিন সার্ভিসের পুরস্কার জিতেছে কোরিয়ান এয়ার। ইন-ফ্লাইট বিনোদনের জন্য সেরা নির্বাচিত হয়েছে এমিরেটস এবং সেরা খাবার ও পানীয় ক্যাটাগরিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে কাতার এয়ারওয়েজ। এছাড়া যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক আসনের স্বীকৃতি পেয়ে বিশ্বসেরা নির্বাচিত হয়েছে ইভা এয়ার। এদিকে উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের আঞ্চলিক পুরস্কারে এবার এক ঐতিহাসিক নজির গড়েছে মেক্সিকোর এরোমেক্সিকো। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কোনো বিমান সংস্থা হিসেবে প্রথমবারের মতো তারা এই অঞ্চলের সামগ্রিক সেরা গ্লোবাল এয়ারলাইন্সের খেতাব লুফে নিয়েছে। এই অঞ্চলে সেরা মেজর এয়ারলাইন্স হিসেবে ব্রিজ এয়ারওয়েজ, সেরা লো-কস্ট ক্যারিয়ার হিসেবে সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্স এবং সেরা আঞ্চলিক বিমান সংস্থা হিসেবে জেএসএক্স (JSX) পুরস্কৃত হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর আমেরিকায় সেরা খাবার ও আরামদায়ক আসনের ডাবল পুরস্কার জিতেছে জেটব্লু এয়ারওয়েজ। বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০০টি বিমান সংস্থার ১০ লক্ষাধিক ফ্লাইটের ওপর নজর রেখে 'ট্রিপইট' (TripIt) অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রীদের দেওয়া বেনামী রেটিং ও মতামত বিশ্লেষণ করে এই নিরপেক্ষ পুরস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এপেক্স গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. জো লিডার জানান, যাত্রীদের প্রতিক্রিয়াই হলো বিমান সংস্থাগুলোর সেবার মান বোঝার সবচেয়ে স্পষ্ট নির্দেশক। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে জেট ফুয়েলের ঘাটতি, ফ্লাইট বাতিল এবং বাড়তি লাগেজ ফির মতো নানা বৈশ্বিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও গত বছরের তুলনায় উত্তর আমেরিকায় বিমানযাত্রীদের সার্বিক সন্তুষ্টির হার ৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ডেল্টা এয়ারলাইন্সের প্রিমিয়াম ইকোনমি বা 'ডেল্টা কমফোর্ট' শ্রেণির যাত্রীরা অতিরিক্ত লেগরুম, ডেডিকেটেড লাগেজ স্পেস এবং উন্নত খাবার ও পানীয়ের সুবিধার কারণে বিমান সেবায় সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।