রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহে পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, নিউইয়র্কে বছরে প্রায় ৫০০ জনের মৃত্যু ঝুঁকিতে আড়াই কোটি মানুষ
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ, শক্তিশালী বজ্রঝড় এবং আকস্মিক বন্যার সম্মিলিত হুমকিতে চলতি সপ্তাহে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ চরম স্বাস্থ্য ও জীবনঝুঁকিতে রয়েছেন। গ্রীষ্মকাল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে এখনো কয়েকদিন বাকি থাকলেও দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল ইতোমধ্যে রেকর্ডভাঙা তাপমাত্রার কবলে পড়েছে।
এদিকে নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগ ২০২৬ সালের “হিট-রিলেটেড মর্টালিটি রিপোর্ট” প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে শহরটিতে প্রতি বছর তাপজনিত কারণে প্রায় ৫০০ জনের মৃত্যু হচ্ছে। এটিকে নিউইয়র্কে অন্যতম প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মার্কিন আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের পশ্চিমাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল মিলিয়ে অন্তত ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষ এই তীব্র তাপপ্রবাহের সরাসরি প্রভাবে রয়েছে। কিছু এলাকায় অনুভূত তাপমাত্রা ১০৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা জুন মাসের স্বাভাবিক গড়ের তুলনায় ৫ থেকে ১০ ডিগ্রি বেশি।
সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে নর্থ ক্যারোলাইনার র্যালি ও উইলমিংটন, সাউথ ক্যারোলাইনার মার্টল বিচ, ফ্লোরিডার টালাহাসি, মিসিসিপির হ্যাটিসবার্গ এবং ওকলাহোমার টালসা। এসব এলাকায় তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরে থাকতে পারে।
ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন এবং ওয়াশিংটনের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ থেকে ২৫ ডিগ্রি বেশি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শীতল আবহাওয়ার জন্য পরিচিত পোর্টল্যান্ড, সিয়াটল, বেকার্সফিল্ড ও রেডিংয়ে বিশেষ তাপ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, তাপপ্রবাহের পাশাপাশি উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাসের কারণে শক্তিশালী বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাপজনিত মৃত্যুর প্রায় ৮০ শতাংশ ঘটে তুলনামূলক কম তাপমাত্রার দিনগুলোতে, যখন পারদ ৮২ থেকে ৯৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে থাকে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কমিশনার ডা. অ্যালিস্টার এফ. মার্টিন বলেন, “গরম আবহাওয়া একটি নীরব কিন্তু প্রাণঘাতী ঘাতক। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শহর আরও উষ্ণ হয়ে উঠছে। এসব মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য।”
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে দীর্ঘস্থায়ী তীব্র তাপপ্রবাহে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিনো জনগোষ্ঠীর হার বেশি ছিল। নিম্নমানের আবাসন, শীতাতপনিয়ন্ত্রণের অভাব এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য এই ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে। বেশিরভাগ মৃত্যুই ঘটেছে ঘরে এসি না থাকা বা বিদ্যুতের উচ্চ খরচের কারণে তা ব্যবহার না করার ফলে।
নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য বিনামূল্যে এয়ার কন্ডিশনার সরবরাহকারী ফেডারেল কর্মসূচি “হোম এনার্জি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম”-এর বরাদ্দ এ বছর চাহিদার তুলনায় কম ছিল। ফলে চলতি বছরের ৫ জুনেই এই সুবিধা বন্ধ হয়ে যায়, যা ইতিহাসের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বন্ধ হওয়া বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত গরমে থাকলে হিট এক্সহসশন এবং হিট স্ট্রোকের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে। প্রবীণ, শিশু, গর্ভবতী নারী, হৃদরোগী, ডায়াবেটিস রোগী এবং বহিরাঙ্গন শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে সাময়িক ব্ল্যাকআউটের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষিখাতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, গবাদিপশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সেচের পানির সংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ নাগরিকদের সুরক্ষায় নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগ এবং জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ তিনটি নতুন কুলিং সেন্টার চালু করেছে।
এগুলো হলো-
- ব্রাউনসভিল নেবারহুড হেলথ অ্যাকশন সেন্টার, ২৫৯ ব্রিস্টল স্ট্রিট
- ব্রুকলিন ইস্ট হারলেম নেবারহুড হেলথ অ্যাকশন সেন্টার, ১৫৮ ইস্ট ১১৫তম স্ট্রিট
- ম্যানহাটন ট্রেমন্ট নেবারহুড হেলথ অ্যাকশন সেন্টার, ১৮২৬ আর্থার অ্যাভিনিউ
ব্রঙ্কস তাপমাত্রা সূচক এক বা একাধিক দিনে ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হলে, অথবা টানা দুই বা তার বেশি দিন ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি থাকলে এসব কেন্দ্র খোলা থাকবে।
নিউইয়র্ক সিটি ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট কমিশনার ক্রিস্টিনা ফারেল বাসিন্দাদের এসি না থাকলে কুলিং সেন্টার, লাইব্রেরি বা শীতল স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি “কুল অপশনস ফাইন্ডার” অ্যাপ এবং “নোটিফাই এনওয়াইসি” ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য জানার আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে ইরান সফর শেষে ফেরার পর অনুসন্ধানী সাংবাদিক ম্যাক্স ব্লুমেনথালের দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আইনি বিতর্ক শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটন ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) কর্মকর্তারা কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই তার ফোন দুটি জব্দ করে এক সপ্তাহ নিজেদের হেফাজতে রাখেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ফোন ফেরত দেওয়া হলেও, ওই সময়ে ফোনগুলোর সঙ্গে ঠিক কী করা হয়েছিল, তা জানতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে সাংবাদিকের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী সংস্থা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আমেরিকান-আরব অ্যান্টি-ডিসক্রিমিনেশন কমিটি (এডিসি) জানিয়েছে, ফোনগুলো জব্দ ও সংরক্ষণের পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে সিবিপির কাছ থেকে ফরেনসিক তথ্য এবং হেফাজতের নথি (চেইন অব কাস্টডি রেকর্ড) আদালতের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে তারা আবেদন করেছে। সংস্থাটির দাবি, কেবল ফোন ফেরত দিলেই বিষয়টি শেষ হয়ে যায় না। ফোনগুলো সরকারি হেফাজতে থাকার সময় কোনো তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ব্লুমেনথাল ইরান সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে ওয়াশিংটন ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তিনি জানান, সিবিপি কর্মকর্তারা তার দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করেন। তবে তার সঙ্গে থাকা ল্যাপটপ ও ক্যামেরা জব্দ করা হয়নি। ব্লুমেনথালের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কর্মকর্তাদের স্পষ্টভাবে জানান যে তিনি একজন সাংবাদিক এবং ইরানে শুধুমাত্র পেশাগত দায়িত্ব পালন করতেই গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তার ফোনের পাসকোড দিলে গোপন সূত্র, ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং সাংবিধানিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এরপরও কর্মকর্তারা তাকে জানান, প্রয়োজনে বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে ফোন থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হবে। কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্লুমেনথাল বলেন, “আমি সেখানে শুধু সাংবাদিকতার কাজ করেছি। আমি যা করছিলাম, তা পুরোপুরি সাংবাদিকতার দায়িত্বের অংশ ছিল।” এদিকে, এডিসি আদালতে জরুরি আবেদন করার এক দিন পর, গত ১৭ জুলাই সরকার ব্লুমেনথালের ফোন দুটি ফেরত দেয়। আবেদনপত্রে বলা হয়েছিল, ফোন জব্দ ও দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম ও চতুর্থ সংশোধনী এবং প্রাইভেসি প্রোটেকশন অ্যাক্ট-এর পরিপন্থী। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ফোন দুটি থেকে কোনো তথ্য নেওয়া বা পরীক্ষা করা হয়নি, তবুও এডিসি এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়। সংস্থাটির সভাপতি ও আইনি পরিচালক জেনিন ইউনেস বলেন, “শুধু ফোন ফেরত দিয়ে সরকার এই গুরুতর সাংবিধানিক অভিযোগের জবাব এড়িয়ে যেতে পারে না। যদি ফোনের তথ্যে প্রবেশই না করা হয়ে থাকে, তাহলে এক সপ্তাহ ধরে ফোন দুটি নিজেদের কাছে রাখার কারণ কী ছিল, সেটিরও ব্যাখ্যা দিতে হবে।” এডিসির মতে, ফোন দুটি জব্দ করার ঘটনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। ব্লুমেনথালের সঙ্গে থাকা ল্যাপটপ ও ক্যামেরা রেখে শুধুমাত্র ফোন জব্দ করা হয়েছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, কর্মকর্তাদের আগ্রহ ছিল তার ব্যক্তিগত যোগাযোগ, সংবাদসূত্র এবং সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত সংবেদনশীল তথ্যের দিকে। এই মামলার শুনানিতে এডিসি আদালতের কাছে সরকারের আবেদন খারিজ করে পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট ফরেনসিক রেকর্ড ও হেফাজতের নথি প্রকাশেরও দাবি করেছে। সংস্থাটি বলছে, এই মামলার গুরুত্ব শুধু একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত অধিকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে সীমান্তে সাংবাদিকদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দের ক্ষেত্রে কী ধরনের আইনি সীমা থাকবে এবং গোপন সংবাদসূত্র কতটা সুরক্ষা পাবে, সেই প্রশ্নেও এই মামলার রায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। এডিসি আরও উল্লেখ করেছে, ব্লুমেনথাল একা ইরান সফর করেননি। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন মার্কিন সাংবাদিক ছিলেন। কিন্তু তাদের পরিবর্তে শুধুমাত্র তাকেই জিজ্ঞাসাবাদ ও ফোন জব্দের মুখে পড়তে হয়। ব্লুমেনথাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দাবি করেন, তার সাংবাদিকতার ধরন এবং প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এডিসির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার কয়েক দিন আগে রাজনৈতিক কর্মী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক লরা লুমার এক্সে ব্লুমেনথালকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান এবং ইরান সফরের অর্থায়ন নিয়ে তদন্তের দাবি তোলেন। পরে বিমানবন্দরে সিবিপির জিজ্ঞাসাবাদেও একই ধরনের প্রশ্ন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এডিসির আইনজীবীদের মতে, যদি রাজনৈতিক চাপের পর কোনো সাংবাদিকের ডিভাইস জব্দ করে এক সপ্তাহ আটকে রাখা হয় এবং পরে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই ফেরত দিয়ে বিষয়টি শেষ করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে তা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকারের জন্য উদ্বেগজনক নজির হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব ভার্জিনিয়ার ফেডারেল জেলা আদালতে চলমান এই মামলার ফলাফল শুধু ম্যাক্স ব্লুমেনথালের ফোন জব্দের ঘটনার ব্যাখ্যাই নয়, ভবিষ্যতে সীমান্তে সাংবাদিকদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস তল্লাশি ও জব্দের ক্ষেত্রে আইনি সীমারেখা নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে চাকরি করলে কী কী সুবিধা মেলে, আবেদন করবেন কীভাবে?
দুজনেই বুয়েটের শিক্ষার্থী, তবু ছিলেন অপরিচিত; যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে গিয়ে পরিচয়, প্রেম, তারপর বিয়ে
ফ্লোরিডায় গ্রাহকের ২,৬০০ ডলারের লটারির টিকিট পৌঁছে না দিয়ে পুরস্কারের টাকা তুলে নিলেন ডাককর্মী নিজেই
আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীদের জন্য পেমেন্টের সময়সূচি মূলত স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে। তবে যারা 'সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম' (এসএসআই) গ্রহণ করেন, তারা ইতিমধ্যেই গত ৩১ জুলাই তাদের আগস্ট মাসের অর্থ পেয়ে গেছেন, কারণ ১ আগস্ট সাপ্তাহিক ছুটির দিন পড়েছিল। আগাম অর্থ প্রদান করার কারণে চলতি মাসে আর কোনো আলাদা এসএসআই পেমেন্ট পাঠানো হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরবর্তী এসএসআই পেমেন্ট দেওয়া হবে আগামী ১ সেপ্টেম্বর। অন্যান্য সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রে অর্থ প্রদানের নির্দিষ্ট দিনগুলো নির্ভর করবে তাদের জন্মতারিখ এবং সুবিধা গ্রহণের সময়কালের ওপর। যারা ১৯৯৭ সালের মে মাসের আগে থেকে সোশ্যাল সিকিউরিটি গ্রহণ করছেন অথবা যারা একই সঙ্গে এসএসআই সুবিধাও পেয়ে থাকেন, তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩ আগস্ট অর্থ জমা হবে। এরপর মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী সুবিধাভোগীরা ১২ আগস্ট তাদের পেমেন্ট পাবেন। যাদের জন্মতারিখ ১১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে, তাদের অর্থ দেওয়া হবে ১৯ আগস্ট। সর্বশেষ, মাসের ২১ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে যাদের জন্ম, তারা আগামী ২৬ আগস্ট তাদের প্রাপ্য অর্থ হাতে পাবেন। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এসএসএ) বর্তমানে কাগজের চেকের ব্যবহার পর্যায়ক্রমে পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করছে এবং সুবিধাভোগীদের ডাইরেক্ট ডিপোজিট বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। সংস্থাটির দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে এক শতাংশেরও কম মানুষ কাগজের চেকের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করে থাকেন। কোনো সুবিধাভোগী যদি নির্ধারিত সময়ে তাদের প্রত্যাশিত অর্থ না পান, তবে তাদের প্রথমেই নিজ নিজ ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এরপরও পেমেন্ট সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান না হলে সরাসরি সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা স্থানীয় এসএসএ কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
মেডিকেয়ার পার্ট ডি ভর্তুকি বন্ধের ঘোষণা, বাড়তে পারে মাসিক প্রিমিয়াম ও ওষুধের খরচ
নিউ জার্সিতে ১১ বছরের বোনকে বাঁচাতে গিয়ে নদীতে তলিয়ে গেল ১০ বছরের ভাই, দুই দিন পর মিলল মরদেহ
বাংলাদেশের গর্ব: যার উদ্ভাবনে বদলে গেছে আমেরিকা সহ বিশ্বের সুউচ্চ ভবন নির্মাণের ইতিহাস
সম্প্রতি বাতিল হওয়া একটি শুল্ক নীতি থেকে শতকোটি ডলার ফেরত পেয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। তবে কোম্পানিটি অপ্রত্যাশিতভাবে বিপুল এই অর্থ লাভ করলেও, এর কোনো সুবিধা সাধারণ গ্রাহকদের পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত অ্যাপলের তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কোম্পানিটি ওয়াল স্ট্রিটের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে। অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক একে তাদের ‘সর্বকালের সেরা জুন প্রান্তিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে শেষ হওয়া প্রান্তিকে অ্যাপলের নিট বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ১৫ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে এবং ত্রৈমাসিক নিট আয় বেড়ে ২৯.৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ২৯ শতাংশ বেড়ে ২.০২ ডলার হয়েছে, যার মধ্যে শুল্ক ফেরত বাবদ ০.১১ ডলারের ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে বলে কোম্পানিটি জানিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত বেশিরভাগ শুল্ক বাতিল করে দেয়। আদালত জানায়, ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’-এর অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক প্রয়োগের মাধ্যমে এই শুল্কগুলো আরোপ করা হয়েছিল। কাস্টমস কর্মকর্তাদের মতে, প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার আমদানিকারক এই বাতিল হওয়া শুল্ক বাবদ প্রায় ১৬৬ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিলেন, যা এখন সরকারকে ফেরত দিতে হচ্ছে। জুন মাসের শেষ নাগাদ ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি শুল্ক ফেরতের অনুমোদন দেওয়া হলেও আইনি জটিলতার কারণে এর একটি বড় অংশ এখনো আটকে আছে। সিএনবিসি-এর তথ্যমতে, ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক বাবদ অ্যাপল প্রায় ৩.৩ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিল। অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠানের মতো অ্যাপল সেসময় পণ্যের দাম বাড়ায়নি, বরং তারা লবিংয়ের মাধ্যমে ছাড় পাওয়া, সরবরাহ ব্যবস্থা বহুমুখী করা এবং খুচরা মূল্য না বাড়িয়ে নিজেদের মুনাফার হার কিছুটা কমানোর কৌশল নিয়েছিল। শুল্ক ফেরত পেতে অন্য অনেক বড় কোম্পানি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতে মামলা করলেও, অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী শুরু থেকেই প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলেছিলেন। তবে শুল্ক ফেরত পেলেও তারা পণ্যের দাম কমিয়ে গ্রাহকদের সুবিধা দেওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। গত এপ্রিলে এবং বৃহস্পতিবারের আয়ের হিসাবে টিম কুক পরিষ্কার জানিয়েছেন, ফেরত পাওয়া শুল্কের পুরো অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভাবন এবং উন্নত উৎপাদন খাতে পুনরায় বিনিয়োগ করা হবে। এটি মূলত তাদের চার বছর মেয়াদি ৬০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ কৌশলের একটি অংশ। অথচ কস্টকো, ইউপিএস এবং ফেডেক্স-এর মতো অন্যান্য কোম্পানিগুলো তাদের শুল্ক ফেরতের একটি অংশ গ্রাহকদের সাথে ভাগ করে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যারা মূলত পণ্যের বর্ধিত মূল্য হিসেবে এই শুল্কের বোঝা বহন করেছিলেন। ওয়ালমার্টও তাদের ফেরত পাওয়া অর্থ পণ্যের দাম কমানোর মাধ্যমে গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে ব্যবহার করার ঘোষণা দিয়েছে।
রেকর্ড-ব্রেকিং ইউএস অ্যারেনা ট্যুর শেষ করেই নতুন গান ‘আ হা’ প্রকাশ করলেন কার্ডি বি
জিরো প্রিমিয়ামের আড়ালে কমছে মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজের সুবিধা, বিপাকে মার্কিন প্রবীণরা