নিউইয়র্ক সিটি ও আশপাশের ট্রাই-স্টেট অঞ্চলে চলতি সপ্তাহজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার থেকে শহরে ‘এক্সট্রিম হিট ওয়ার্নিং’ (চরম তাপমাত্রার সতর্কতা) জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহের বেশিরভাগ সময় অনুভূত তাপমাত্রা ৯০ থেকে ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে থাকতে পারে। বিশেষ করে বুধবার ও বৃহস্পতিবার গরমের তীব্রতা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি সতর্ক করে বলেছেন, “এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি এবং শহরের প্রতিটি অংশ এর প্রভাব অনুভব করবে।” তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় শহরজুড়ে শতাধিক ‘কুলিং সেন্টার’ চালু করা হয়েছে। স্কুল, গ্রন্থাগার এবং জ্যাভিটস সেন্টারসহ বিভিন্ন স্থানে এসব কেন্দ্র খোলা থাকবে। পাশাপাশি নগরীর সুইমিং পুলগুলোর কার্যক্রমও বাড়তি সময় পর্যন্ত চালু রাখা হবে। এবার প্রথমবারের মতো নগর কর্তৃপক্ষ ১৫টি ‘কুলিং আউটরিচ ভ্যান’ মোতায়েন করছে। এসব ভ্যানে নার্স ও প্যারামেডিকরা থাকবেন এবং প্রয়োজনে বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের খোঁজখবর নেবেন। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য কমিশনার ডা. জেমস ম্যাকডোনাল্ড বলেছেন, তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ে এটি সবচেয়ে গুরুতর তাপজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকির ঘটনা হতে পারে। তিনি সবাইকে পর্যাপ্ত পানি পান, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে অবস্থান এবং হিট স্ট্রোক বা হিট ইনজুরির লক্ষণ সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর তাপজনিত কারণে ২১ জন নিউইয়র্কবাসীর মৃত্যু হয়েছিল। এর মধ্যে ১৯ জনই জুন মাসের তাপপ্রবাহের সময় মারা যান। অস্বাভাবিক গরমের কারণে নিউ জার্সির মনমাউথ কাউন্টিতে ৩ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ‘মনমাউথএনজে ২৫০: দ্য কনসার্ট অ্যাট পার্কস্টেজ’ অনুষ্ঠানও স্থগিত করা হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে অনুষ্ঠানটি আগামী ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং পোষা প্রাণীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার পাশাপাশি সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং অপ্রয়োজনীয় শারীরিক পরিশ্রম থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
নিউইয়র্ক সিটিতে সম্ভাব্য তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচ উপলক্ষে নগরবাসীর জন্য স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও ট্রাফিকসংক্রান্ত একাধিক নির্দেশনা দিয়েছেন মেয়র জোহরান কওয়ামে মামদানি। তাঁর নিয়মিত ভিডিও বার্তা ‘দ্য মর্নিং পিচ’-এ তিনি নাগরিকদের আগাম প্রস্তুতি নেওয়া এবং ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারের আহ্বান জানান। মেয়র বলেন, চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে অত্যন্ত বিপজ্জনক তাপপ্রবাহ আঘাত হানতে পারে। তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের শেষভাগ থেকে ১০০ ডিগ্রিরও বেশি হতে পারে। আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেশি হবে এবং শুক্রবার পরিস্থিতি সবচেয়ে গুরুতর হতে পারে। গত ৩০ জুন মেয়রের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবার সেন্ট্রাল পার্কে ২০১২ সালের ১৮ জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা রেকর্ড হতে পারে। সম্ভাব্য তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় শহরের হিট ইমার্জেন্সি প্ল্যান কার্যকর করার ঘোষণা দেন মেয়র। বুধবার থেকে নিউইয়র্কের পাঁচটি বরোতে শত শত কুলিং সেন্টার চালু করা হবে। এসব কেন্দ্রের তালিকা ও অবস্থান শহর কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। নিউইয়র্কবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই যেন আগেভাগেই নিজেদের তাপপ্রবাহ মোকাবিলার পরিকল্পনা তৈরি করেন। কর্মস্থল ও শিশু পরিচর্যার ব্যবস্থা আগে থেকেই নিশ্চিত করা, কোথায় গিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে থাকা যাবে তা ঠিক করা এবং বয়স্ক ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত কিংবা যাদের বাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই, এমন আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। মেয়র বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান এখনও কর্মীদের জন্য গরমজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ পরিকল্পনা তৈরি করেনি, তাদের এখনই তা করা উচিত। পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, বিশ্রামের জন্য শীতল স্থান, অতিরিক্ত বিরতি এবং ভারী কাজের সময়সূচিতে পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপ জীবন রক্ষা করতে পারে। তিনি আরও বলেন, কেউ অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হয়ে পড়লে অথবা রাস্তায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কাউকে দেখা গেলে ৩১১ নম্বরে ফোন করতে হবে। আর কারও শরীরে অতিরিক্ত গরম ও শুষ্ক ত্বক, শ্বাসকষ্ট, দ্রুত হৃদস্পন্দন, বিভ্রান্তি, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব কিংবা বমির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত ৯১১ নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে। জরুরি পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য পেতে NOTIFYNYC লিখে ৬৯২-৬৯২ নম্বরে বার্তা পাঠানোর পরামর্শও দেন তিনি। মেয়র জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ফ্রান্স ও সুইডেন মুখোমুখি হবে। এ ম্যাচকে কেন্দ্র করে ব্যাপক দর্শক সমাগম এবং তীব্র যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, সেদিন দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৮৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট থাকবে এবং সন্ধ্যায় প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দর্শকদের পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, স্টেডিয়ামে একটি ডিসপোজেবল প্লাস্টিক পানির বোতল নেওয়ার অনুমতি থাকবে। পাশাপাশি ব্যাগ অবশ্যই স্বচ্ছ এবং নির্ধারিত আকারের হতে হবে। স্টেডিয়ামে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারের আহ্বান জানান মেয়র মামদানি। তিনি বলেন, বাস শাটলের টিকিট শেষ হয়ে গেলেও নিউ জার্সি ট্রানজিট ব্যবহার করা যাবে। যাত্রীদের আগেই অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করে রাখার পরামর্শ দেন তিনি। বিশেষভাবে তিনি নিউইয়র্কবাসীকে ওই দিন মিডটাউনে ব্যক্তিগত গাড়ি না আনার অনুরোধ জানান। কারণ সেখানে তীব্র যানজট এবং দীর্ঘ সময়ের ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি সাবওয়ে, সাইকেল কিংবা হেঁটে চলাচলের পরামর্শ দেন। এ ছাড়া সকাল ১১টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মিডটাউনের বিভিন্ন সড়কে বাস ও শাটল চলাচলের জন্য বিশেষ লেন চালু থাকবে বলেও জানান মেয়র। বিশ্বকাপ উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও বারে খেলা উপভোগকারীদের জন্য ৯০০টিরও বেশি রেস্তোরাঁ ও বারে ২৬ ডলারের বিশেষ খাবার ও পানীয় অফার চালু রয়েছে বলে জানান মেয়র। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এনওয়াইসি ট্যুরিজমের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। বক্তব্যের শেষ অংশে ফরাসি ফুটবল কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান মেয়র মামদানি। তিনি বলেন, জিদান একজন অসাধারণ ফুটবলার হওয়ার পাশাপাশি অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে প্রতিভা, পরিশ্রম ও নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি জাতির গর্বে পরিণত হয়েছেন। মেয়র বলেন, জিদানের উত্তরাধিকার আজও ফরাসি জাতীয় দলে বিদ্যমান। বর্তমান দলের অনেক খেলোয়াড়ই অভিবাসী বা অভিবাসী পরিবারের সন্তান হলেও তারা সবাই ফ্রান্সের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের জন্য পথ তৈরি করে দিয়েছিলেন জিদানের মতো কিংবদন্তিরা। নিরাপদে বিশ্বকাপ উপভোগ করার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র।
ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহ ও চরম গরমের ঝুঁকি থেকে শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি একটি ঐতিহাসিক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো নিউইয়র্ক সিটিতে তাপজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় শ্রমিকদের জন্য ‘সমগ্র-সরকার’ ভিত্তিক সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলো। সিটি হলে শ্রমিক ইউনিয়ন, কমিউনিটি সংগঠন, বিভিন্ন সিটি এজেন্সির কমিশনার এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই আদেশে স্বাক্ষর করেন মেয়র। প্রশাসনের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে চরম গরমে কর্মরত শ্রমিকরা পর্যাপ্ত সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। নতুন এই উদ্যোগ সেই ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে। মেয়র মামদানি বলেন, কোনো শ্রমিককে তার আয় ও স্বাস্থ্যের মধ্যে একটি বেছে নিতে বাধ্য হওয়া উচিত নয়। যারা আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণ করছেন, প্যাকেজ সরবরাহ করছেন, রাস্তার পাশে খাবার বিক্রি করছেন কিংবা প্রতিদিন শহরকে সচল রাখছেন, তাদের প্রত্যেকেরই নিরাপদে বাড়ি ফেরার অধিকার রয়েছে। তিনি বলেন, এতদিন চরম গরমের পুরো বোঝা শ্রমিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এখন সেই বাস্তবতা বদলানো হচ্ছে, কারণ প্রতিটি শ্রমিকের জীবন সমান মূল্যবান। নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড মেন্টাল হাইজিন, নিউইয়র্ক সিটি ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এবং ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেস যৌথভাবে বহুভাষিক তাপ-নিরাপত্তা নির্দেশিকা তৈরি ও বিতরণ করবে। চলতি বছরের মধ্যেই বাইরে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য এই নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে। এছাড়া ২০২৭ সালের ১ মার্চের মধ্যে ভবনের অভ্যন্তরে কর্মরত শ্রমিকদের জন্যও পৃথক নিরাপত্তা নির্দেশিকা জারি করা হবে। আদেশে নিউইয়র্ক সিটির প্রতিটি মেয়রাল এজেন্সিকে তাদের কর্মচারী ও ঠিকাদারদের জন্য বাধ্যতামূলক ‘হিট ইলনেস প্রিভেনশন প্ল্যান’ বা তাপজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগকে চরম গরম এবং শ্রমিক ক্ষতিপূরণ দাবির মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা পরিচালনা এবং তাপজনিত অসুস্থতাকে বাধ্যতামূলক রিপোর্টযোগ্য স্বাস্থ্য পরিস্থিতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব বিল্ডিংসকে নির্মাণস্থলে বিদ্যমান তাপ-নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনা করে আরও কার্যকর সুপারিশ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন ২০২৭ সালের ১ মার্চের মধ্যে জমা দিতে হবে। তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় নতুন প্রযুক্তিও ব্যবহার করছে সিটি প্রশাসন। সম্প্রতি মেয়র মামদানি তাপজনিত অসুস্থতার লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে একটি জনসচেতনতামূলক ভিডিও প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২ হাজার ২০০-এর বেশি লিংকএনওয়াইসি কিয়স্কে নিকটবর্তী ‘কুলিং সেন্টার’-এর অবস্থান এবং সেখানে হেঁটে যাওয়ার দিকনির্দেশনা প্রদর্শন করা হবে। জরুরি তাপ পরিস্থিতিতে কুলিং সেন্টার খোলা বা বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হবে। সিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটির প্রায় ১৪ লাখ শ্রমিক, যা শহরের মোট কর্মশক্তির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, প্রতি গ্রীষ্মে দীর্ঘ সময় বাইরে কাজ করেন। এদের মধ্যে রয়েছেন নির্মাণশ্রমিক, দিনমজুর, রাস্তার হকার, ডেলিভারি কর্মী, ট্রাকচালক ও গুদাম শ্রমিক। প্রতিবছর নিউইয়র্ক সিটিতে চরম গরমজনিত কারণে প্রায় ৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়, যা এটিকে শহরের অন্যতম প্রাণঘাতী আবহাওয়াজনিত ঝুঁকিতে পরিণত করেছে। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিভিন্ন কর্মকর্তা ও শ্রমিক নেতারা। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেন, জীবিকা নির্বাহের জন্য কোনো শ্রমিককে নিজের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে হওয়া উচিত নয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই শ্রমিকদের জন্য শক্তিশালী তাপ-সুরক্ষা ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছিলেন এবং এ পদক্ষেপের জন্য মেয়র মামদানিকে ধন্যবাদ জানান। অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারবিষয়ক ডেপুটি মেয়র জুলি স্যু বলেন, শ্রমিক সুরক্ষা এই প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার। তাঁর ভাষায়, তাপপ্রবাহ সবার ওপর প্রভাব ফেললেও সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন বাইরে কাজ করা শ্রমিকরা। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক ডেপুটি মেয়র হেলেন আটিএগা জানান, কৃষ্ণাঙ্গ নিউইয়র্কবাসীরা শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় দ্বিগুণ হারে হিট স্ট্রোকে মারা যাচ্ছেন এবং লাতিনো শ্রমিকরা কর্মক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। অপারেশনস বিষয়ক ডেপুটি মেয়র জুলিয়া কারসন বলেন, চরম গরম প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। যারা প্রতিদিন শহরকে সচল রাখছেন, তাদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সিটি প্রশাসনের দায়িত্ব। শ্রমিক প্রতিনিধিরাও এই উদ্যোগকে দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছেন। লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরের র্যাম্প এজেন্ট জন মসকুয়েরা বলেন, গরমে কাজ করার অভিজ্ঞতা অনেক সময় ওভেনের ভেতরে থাকার মতো। তিনি নিজেও একাধিকবার অসুস্থ হয়েছেন এবং এতদিন শ্রমিকদের সমস্যার দিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন। শ্রমিক সংগঠন ৩২বিজে এসইআইইউ-এর সভাপতি ম্যানি পাস্টরিচ বলেন, অনেক নিয়োগকর্তা নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় শ্রমিকরা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। তাঁর মতে, এই নির্বাহী আদেশ শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। সিটি প্রশাসন জানিয়েছে, টেম্প কোয়ালিশন, নিউইয়র্ক কমিটি ফর অকুপেশনাল সেফটি অ্যান্ড হেলথ, ৩২বিজে এসইআইইউসহ কয়েক ডজন শ্রমিক ও কমিউনিটি সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে এই নির্বাহী আদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রশাসনের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম গরমের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। সেই বাস্তবতায় শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা রক্ষায় এই পদক্ষেপ নিউইয়র্ক সিটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্সে অতিরিক্ত অন্তত ১ হাজার মানুষের মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। রোববার দেশটির জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা স্যঁতে পাবলিক প্রকাশিত এক প্রাথমিক পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, তাপপ্রবাহজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় আরও অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের তথ্য এখনো পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। সংস্থাটি অতিরিক্ত মৃত্যুর প্রাথমিক হিসাব তুলে ধরে জানিয়েছে, নিহতদের বেশিরভাগই বয়স্ক মানুষ। কেয়ার হোম ও ব্যক্তিগত বাসাবাড়িতে ঘটে যাওয়া মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তথ্য হাতে এলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোটি কোটি মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে ইতোমধ্যে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে অতীতের বিভিন্ন তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে গেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বিভিন্ন অবকাঠামোও ক্ষতির মুখে পড়ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, গত ২০ জুন থেকে শুরু হওয়া এই তাপপ্রবাহ ইউরোপের ইতিহাসে রেকর্ড করা সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি। তারা বলছেন, বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় ইউরোপের জলবায়ু আরও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, যার ফলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমেই ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে। ফ্রান্সের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, তাপপ্রবাহ ধীরে ধীরে দেশটির পূর্বাঞ্চলের দিকে সরে যাচ্ছে। দেশের বেশিরভাগ এলাকায় চরম গরম কিছুটা কমলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি অঞ্চল এখনও তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তার আওতায় রয়েছে। ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্তেফানি রিস্ট বলেছেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও এই তাপপ্রবাহের স্বাস্থ্যগত প্রভাব প্রায় ১০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল বিএফএমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "এই দুর্যোগ এখনও শেষ হয়ে যায়নি।" স্যঁতে পাবলিক জানিয়েছে, মৃতদের অধিকাংশের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। তবে তীব্র গরমের স্বাস্থ্যঝুঁকি সব বয়সী মানুষের ওপরই প্রভাব ফেলেছে। সূত্র: এএফপি
ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্সের একটি দোকানে পোর্টেবল এয়ার কন্ডিশনার ও বৈদ্যুতিক পাখা কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে হুড়োহুড়ির ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দোকান খোলার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ ভেতরে ঢুকে শেষ কয়েকটি শীতলীকরণ যন্ত্র সংগ্রহের জন্য প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন। ঘटनাটি ফ্রান্সের শামব্রে-লে-তুর (Chambray-lès-Tours) এলাকার একটি দোকানে ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, দোকান খোলার আগেই বাইরে অপেক্ষা করছিলেন কয়েক ডজন ক্রেতা। নিরাপত্তা শাটার উঠতেই তারা দ্রুত ভেতরে প্রবেশ করেন এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পোর্টেবল এয়ার কন্ডিশনার ও পাখার তাক প্রায় খালি হয়ে যায়। এই কেনাকাটার চাপের পেছনে রয়েছে পশ্চিম ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ। ফ্রান্স, স্পেনসহ কয়েকটি দেশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। প্রচণ্ড গরমের কারণে জনজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি জানিয়েছেন, প্রচণ্ড গরম থেকে স্বস্তি পেতে নদী, হ্রদ ও অন্যান্য জলাশয়ে নামার সময় বিভিন্ন দুর্ঘটনায় দেশটিতে অন্তত ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে প্যারিসের উপকণ্ঠের সাঁ-গ্রাসিয়াঁ এলাকায় পরিবারের একটি গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় ৪৫ মিনিট পর শিশুটিকে উদ্ধার করা হলেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তাপপ্রবাহের কারণে হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্যারিসে সাময়িকভাবে জনসমক্ষে মদ্যপানের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ফ্রান্সের হাজারো স্কুল, বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ও দৈনন্দিন জনজীবন এই তীব্র গরমে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। অন্যদিকে, স্পেনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে তাপপ্রবাহজনিত কারণে অন্তত ২১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপজুড়ে এই অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
পশ্চিম ইউরোপে এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহ আঘাত হেনেছে। এই পরিস্থিতি নতুন করে সামনে এনেছে এক উদ্বেগজনক বাস্তবতা—গত তিন দশকে বিশ্বের অন্য যেকোনো মহাদেশের তুলনায় সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়েছে ইউরোপ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপারনিকাসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে ইউরোপের গড় তাপমাত্রা প্রতি দশকে প্রায় ০.৫৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে বেড়েছে। এই হার বৈশ্বিক গড় উষ্ণায়নের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবসৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমনই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ। তবে ইউরোপে তাপমাত্রা অন্য অঞ্চলের তুলনায় দ্রুত বাড়ার পেছনে আরও কয়েকটি আঞ্চলিক ও ভৌগোলিক কারণও কাজ করছে। ইউরোপের উত্তরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রের বরফে আচ্ছাদিত ছিল। কিন্তু তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সেই বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে। বরফ সরে যাওয়ায় উন্মুক্ত হয়ে পড়ছে সাগরের গাঢ় রঙের জলরাশি, যা বরফের তুলনায় অনেক বেশি সূর্যতাপ শোষণ করে। ফলে উত্তর ইউরোপ ও আর্কটিক সংলগ্ন অঞ্চলে উষ্ণায়ন আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এই প্রক্রিয়াকে ‘আর্কটিক অ্যামপ্লিফিকেশন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। ইউরোপে শিল্প দূষণ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এতে বাতাসে অ্যারোসল নামে পরিচিত সূক্ষ্ম কণার পরিমাণ কমেছে। অ্যারোসল সূর্যের কিছু তাপ মহাকাশে প্রতিফলিত করতে সাহায্য করে। ফলে এই কণার পরিমাণ কমে যাওয়ায় অপেক্ষাকৃত বেশি সৌর বিকিরণ পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছাচ্ছে এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপে তুষারপাতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কোপারনিকাসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সর্বোচ্চ তুষারপাতের মৌসুমেও তুষারের পরিমাণ গড়ের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কম ছিল। তুষারের সাদা আবরণ সাধারণত সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে। কিন্তু তুষার কমে যাওয়ায় উন্মুক্ত মাটি বেশি তাপ শোষণ করছে। বিশেষ করে স্ক্যান্ডিনেভিয়া এবং রাশিয়ার ইউরোপীয় অংশে এর প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। ইউরোপের দ্রুত উষ্ণায়নের সঙ্গে আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণকারী ‘জেট স্ট্রিম’-এর পরিবর্তনেরও সম্পর্ক রয়েছে। উত্তর গোলার্ধের আবহাওয়া অনেকাংশে নির্ভর করে উষ্ণ নিরক্ষীয় অঞ্চল এবং শীতল উত্তর মেরুর তাপমাত্রার পার্থক্যের ওপর। কিন্তু মেরু অঞ্চলে দ্রুত উষ্ণায়নের কারণে এই পার্থক্য কমে আসছে। ফলে জেট স্ট্রিমের স্বাভাবিক গতিপথ বদলে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ছে, যাকে বিজ্ঞানীরা ‘ডাবল জেট’ প্যাটার্ন বলে উল্লেখ করেন। এর ফলে উচ্চচাপের গরম বায়ু দীর্ঘ সময় ধরে একটি এলাকায় আটকে থাকতে পারে এবং কয়েক দিনের গরম রূপ নিতে পারে সপ্তাহব্যাপী তীব্র তাপপ্রবাহে। ২০২২ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পশ্চিম ইউরোপে সাম্প্রতিক বছরগুলোর তীব্র ও পুনরাবৃত্ত তাপপ্রবাহের অন্যতম কারণ এই ‘ডাবল জেট’ প্যাটার্ন। বিজ্ঞানীরা এখনও নিশ্চিত নন যে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন সরাসরি এই প্যাটার্নের ঘনঘন উপস্থিতির জন্য দায়ী কি না। তবে তারা একমত যে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০০৩ সালের ভয়াবহ তাপপ্রবাহে ইউরোপজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সে সময় ‘ডাবল জেট’ প্যাটার্ন প্রায় এক মাস স্থায়ী ছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, চলমান তাপপ্রবাহ হয়তো তত দীর্ঘস্থায়ী হবে না, কিন্তু ইতোমধ্যেই বহু অঞ্চলে তাপমাত্রার পুরোনো রেকর্ড বড় ব্যবধানে ভেঙে গেছে। ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু বিজ্ঞানী লিজি কেন্ডনের ভাষায়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড সৃষ্টি হওয়া এখন স্বাভাবিক ঘটনা। তবে চলতি তাপপ্রবাহে যে মাত্রায় পুরোনো রেকর্ড ভাঙছে, তা সত্যিই অভূতপূর্ব।
ইউরোপজুড়ে চলমান রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ৬৮ হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, চলমান দাবদাহের মধ্যে এটি সাম্প্রতিক সময়ের প্রথম বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়। ফ্রান্সের উপকূলীয় ফিনিস্তের বিভাগের প্রশাসন জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থার একটি ট্রান্সফরমারে ত্রুটির কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে এ ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার রাত প্রায় ৯টার দিকে ব্রিটানি অঞ্চলের কিম্পের শহরের কাছে এরগে-গাবেরিক কমিউনে ট্রান্সফরমারটির ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে এবং হাজারো পরিবার অন্ধকারে পড়ে। ফ্রান্সের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ সংস্থা আরটিই এবং এনেদিসের কর্মীরা রাতভর মেরামত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কারিগরি জটিলতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সব এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপন সম্ভব হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতের দিকে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিলেন। একই সময়ে ফ্রান্স চলতি বছরের সবচেয়ে উষ্ণ দিনের মুখোমুখি হয়। আরটিই জানিয়েছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে বুধবার দিনের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। মেরামত কাজ চলমান থাকলেও সব পরিবারকে একযোগে বিদ্যুতের আওতায় আনা সম্ভব হবে না। ফ্রান্সের ৫৮টি বিভাগের মধ্যে ফিনিস্তের অন্যতম, যেখানে চরম তাপপ্রবাহের কারণে সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ব্রিটানি থেকে প্যারিস অঞ্চল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বুধবার তাপমাত্রা ৩৯ থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, বায়ুমণ্ডলীয় চাপ ও বায়ুপ্রবাহের বিশেষ অবস্থানের কারণে গরম বাতাস কয়েক দিন ধরে একই এলাকায় আটকে রয়েছে। এর ফলে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে এ ধরনের চরম আবহাওয়া ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন ও তীব্র হতে পারে।
ফ্রান্সের ৫৩টি প্রশাসনিক এলাকাকে তাপপ্রবাহের সতর্কতার আওতায় এনেছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর মেটেও-ফ্রান্স। শুক্রবার দুপুর থেকে এসব এলাকায় কমলা সতর্কতা কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে ২৬টি এলাকায় কমলা সতর্কতা ঘোষণা করা হয়েছিল। একদিনের ব্যবধানে আরও ২৭টি এলাকা এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে। মেটেও-ফ্রান্স জানিয়েছে, চলতি বসন্ত মৌসুমে এটি দেশটির দ্বিতীয় তাপপ্রবাহ। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, এই তাপপ্রবাহ ব্যাপক এলাকা জুড়ে দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শুক্রবার ফ্রান্সের পশ্চিমাঞ্চলের মাসিফ সেন্ট্রাল থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। তবে ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরা ও কর্সিকা অঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে রাজধানী প্যারিস ও ইলে-দ্য-ফ্রান্স অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মেটেও-ফ্রান্স। প্রচণ্ড গরমে স্বস্তি খুঁজতে প্যারিসের বিভিন্ন খোলা স্থান ও জলাশয়ের আশপাশে মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে। ক্যানাল সেন্ট-মার্টিনের তীরেও অনেককে সময় কাটাতে দেখা গেছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মতো ফ্রান্সও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘন ঘন তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: ডয়চে ভেলে বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ, শক্তিশালী বজ্রঝড় এবং আকস্মিক বন্যার সম্মিলিত হুমকিতে চলতি সপ্তাহে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ চরম স্বাস্থ্য ও জীবনঝুঁকিতে রয়েছেন। গ্রীষ্মকাল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে এখনো কয়েকদিন বাকি থাকলেও দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল ইতোমধ্যে রেকর্ডভাঙা তাপমাত্রার কবলে পড়েছে। এদিকে নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগ ২০২৬ সালের “হিট-রিলেটেড মর্টালিটি রিপোর্ট” প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে শহরটিতে প্রতি বছর তাপজনিত কারণে প্রায় ৫০০ জনের মৃত্যু হচ্ছে। এটিকে নিউইয়র্কে অন্যতম প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মার্কিন আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের পশ্চিমাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল মিলিয়ে অন্তত ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষ এই তীব্র তাপপ্রবাহের সরাসরি প্রভাবে রয়েছে। কিছু এলাকায় অনুভূত তাপমাত্রা ১০৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা জুন মাসের স্বাভাবিক গড়ের তুলনায় ৫ থেকে ১০ ডিগ্রি বেশি। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে নর্থ ক্যারোলাইনার র্যালি ও উইলমিংটন, সাউথ ক্যারোলাইনার মার্টল বিচ, ফ্লোরিডার টালাহাসি, মিসিসিপির হ্যাটিসবার্গ এবং ওকলাহোমার টালসা। এসব এলাকায় তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরে থাকতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন এবং ওয়াশিংটনের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ থেকে ২৫ ডিগ্রি বেশি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শীতল আবহাওয়ার জন্য পরিচিত পোর্টল্যান্ড, সিয়াটল, বেকার্সফিল্ড ও রেডিংয়ে বিশেষ তাপ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, তাপপ্রবাহের পাশাপাশি উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাসের কারণে শক্তিশালী বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাপজনিত মৃত্যুর প্রায় ৮০ শতাংশ ঘটে তুলনামূলক কম তাপমাত্রার দিনগুলোতে, যখন পারদ ৮২ থেকে ৯৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে থাকে। স্বাস্থ্য বিভাগের কমিশনার ডা. অ্যালিস্টার এফ. মার্টিন বলেন, “গরম আবহাওয়া একটি নীরব কিন্তু প্রাণঘাতী ঘাতক। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শহর আরও উষ্ণ হয়ে উঠছে। এসব মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য।” প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে দীর্ঘস্থায়ী তীব্র তাপপ্রবাহে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিনো জনগোষ্ঠীর হার বেশি ছিল। নিম্নমানের আবাসন, শীতাতপনিয়ন্ত্রণের অভাব এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য এই ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে। বেশিরভাগ মৃত্যুই ঘটেছে ঘরে এসি না থাকা বা বিদ্যুতের উচ্চ খরচের কারণে তা ব্যবহার না করার ফলে। নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য বিনামূল্যে এয়ার কন্ডিশনার সরবরাহকারী ফেডারেল কর্মসূচি “হোম এনার্জি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম”-এর বরাদ্দ এ বছর চাহিদার তুলনায় কম ছিল। ফলে চলতি বছরের ৫ জুনেই এই সুবিধা বন্ধ হয়ে যায়, যা ইতিহাসের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বন্ধ হওয়া বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত গরমে থাকলে হিট এক্সহসশন এবং হিট স্ট্রোকের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে। প্রবীণ, শিশু, গর্ভবতী নারী, হৃদরোগী, ডায়াবেটিস রোগী এবং বহিরাঙ্গন শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে সাময়িক ব্ল্যাকআউটের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষিখাতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, গবাদিপশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সেচের পানির সংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ নাগরিকদের সুরক্ষায় নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগ এবং জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ তিনটি নতুন কুলিং সেন্টার চালু করেছে। এগুলো হলো- ব্রাউনসভিল নেবারহুড হেলথ অ্যাকশন সেন্টার, ২৫৯ ব্রিস্টল স্ট্রিট ব্রুকলিন ইস্ট হারলেম নেবারহুড হেলথ অ্যাকশন সেন্টার, ১৫৮ ইস্ট ১১৫তম স্ট্রিট ম্যানহাটন ট্রেমন্ট নেবারহুড হেলথ অ্যাকশন সেন্টার, ১৮২৬ আর্থার অ্যাভিনিউ ব্রঙ্কস তাপমাত্রা সূচক এক বা একাধিক দিনে ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হলে, অথবা টানা দুই বা তার বেশি দিন ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি থাকলে এসব কেন্দ্র খোলা থাকবে। নিউইয়র্ক সিটি ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট কমিশনার ক্রিস্টিনা ফারেল বাসিন্দাদের এসি না থাকলে কুলিং সেন্টার, লাইব্রেরি বা শীতল স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি “কুল অপশনস ফাইন্ডার” অ্যাপ এবং “নোটিফাই এনওয়াইসি” ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য জানার আহ্বান জানিয়েছেন।
ঢাকাসহ দেশের পাঁচটি বিভাগে তাপমাত্রা বাড়লেও দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে চলছে অস্বাভাবিক শীত। মার্চ মাসের শেষেও পঞ্চগড়ে ভোররাত থেকে ঘন কুয়াশা ও হালকা শীত অনুভূত হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, পঞ্চগড়ের আবহাওয়া বর্তমানে ভারতের দার্জিলিংয়ের সঙ্গে প্রায় অভিন্ন। ভোরে ঘন কুয়াশা ও শীতল হাওয়ায় পঞ্চগড়ে প্রকৃতি যেন অনিন্দ্য সুন্দর এক চিত্র呈 করছে। তবে স্থানীয়রা এই আবহাওয়ার বিচিত্রতায় বিস্মিত। শীতজনিত অসুস্থতা, সর্দি-কাশি ও নিমুনিয়ার রোগী হাসপাতালে প্রতিদিন বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা এর প্রভাবে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্র নাথ রায় জানান, বায়ুমণ্ডলে আদ্রতা বৃদ্ধি ও তাপমাত্রা কমার কারণে জলীয় বাষ্প দ্রুত ঘনীভূত হয়ে স্টিম ফগ বা বাস্পীয় কুয়াশা সৃষ্টি হচ্ছে। এটি মূলত দক্ষিণা বাতাস, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা ও হঠাৎ তাপমাত্রার পরিবর্তনের ফল। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মার্চের শুরুতে দিনের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছিল এবং শীতের প্রভাব কমে গিয়েছিল। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যে ঘন কুয়াশা ও শীত আবারো ফিরে এসেছে। ব্যবসায়ী ঈদীস আলী বলেন, “মার্চের শুরুতে তাপমাত্রা বেড়েছিল, এখন ভোরের শীত হঠাৎ ফিরে এসেছে।” মোবারক আলী ও শামাস্ রায়হান হৃদি সহ স্থানীয়রা এই শীতের অভিজ্ঞতা উল্লেখযোগ্য বলে জানিয়েছেন। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “ঠান্ডাজনিত রোগে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। আবহাওয়ার এই বৈরীতার কারণে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।” অন্যদিকে ঢাকাসহ বরিশাল, রংপুর, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া সংস্থা বিডব্লিউওটি জানিয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, পাবনা, গোপালগঞ্জ ও নড়াইলে তাপমাত্রা ৩৭–৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। নাটোর, নওগাঁ, দিনাজপুর, রংপুর, গাইবান্ধা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, ঢাকা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরে তাপমাত্রা ৩৬–৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে থাকতে পারে। চলমান তাপপ্রবাহ আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত থাকতে পারে। তবে কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্ত বজ্রবৃষ্টি সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, এপ্রিল মাসে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় এবং কয়েক দফা তীব্র তাপপ্রবাহ ও কালবৈশাখীর সম্ভাবনা রয়েছে। এই কারণে দিনের ১২টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে রোদে দীর্ঘ সময় না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।