আমেরিকা

নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ভরদুপুরে এলোপাথাড়ি গুলিতে আহত ৭৯ বছরের বৃদ্ধা, তদন্তে পুলিশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ১৮:৩৪
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কস এলাকায় ভরদুপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে দুই পক্ষের মধ্যে চলা বন্দুকযুদ্ধের মাঝে পড়ে এক বৃদ্ধা ও এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ওই এলাকায় ছিটকে আসা এলোপাথাড়ি বুলেটের (স্ট্রে বুলেট) আঘাতে ওই প্রবীণ নারী মারাত্মকভাবে জখম হন। এই আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ম্যাথিউ বনিলা নামের ২৬ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানায়, ধৃত যুবকের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, মারাত্মক শারীরিক আক্রমণ এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার মতো একাধিক গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্র মারফত জানা গেছে, গত বুধবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে ব্রঙ্কসের ওই রাস্তায় হঠাৎ করেই বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। দুই পক্ষের গোলাগুলির এই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝে ভুল সময়ে ভুল স্থানে উপস্থিত থাকায় ৭৯ বছর বয়সী এক নির্দোষ বৃদ্ধা ক্রসফায়ারের মুখে পড়েন। ড্রোনের মতো ছুটে আসা একটি গুলি ওই বৃদ্ধার বাম পায়ে গিয়ে আঘাত করে।

 

একই সময়ে সেখানে উপস্থিত ২৬ বছর বয়সী এক যুবকও বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ হন, যাকে পুলিশ এই হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু (ইনটেন্ডেড টার্গেট) বলে ধারণা করছে। সূত্র জানায়, ওই আহত যুবকটি সম্ভবত অন্য কোনো পক্ষের সাথে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত ছিল এবং একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছিল।

 

ভয়াবহ এই ঘটনার পরপরই রক্তাক্ত অবস্থায় দুই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে দ্রুত সেন্ট বার্নাবাস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের দুজনের শারীরিক অবস্থাই স্থিতিশীল রয়েছে। এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত ম্যাথিউ বনিলা ঘটনাস্থল থেকে মাত্র এক ব্লক দূরের একটি বাড়িতে বসবাস করেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এর আগে ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে ট্রাফিক আইন অমান্য করায় পুলিশ তাকে প্রথম আটকেছিল এবং পরে তল্লাশি চালিয়ে তার গাড়িতে একটি চুরি হওয়া লাইসেন্স প্লেট পাওয়া যায়।

 

এই ডবল-শুটিংয়ের ঘটনায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে আদালতের আনুষ্ঠানিক শুনানি প্রক্রিয়াধীন ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, দুপুরের এই রণক্ষেত্রে দুই পক্ষই গুলি চালিয়েছিল কি না তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে এবং এই সহিংসতার সাথে জড়িত আরও একজন সন্দেহভাজনকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। 

 

সূত্রঃ  নিউইয়র্ক পোস্ট

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউ জার্সিতে ভোটার নিবন্ধন ত্রুটি নিয়ে চলছে স্বাধীন তদন্ত। ছবি: সংগৃহীত
নিউ জার্সির ভোটার নিবন্ধন ত্রুটি ভোট জালিয়াতির নয়, অভিবাসীবিরোধী রাজনীতির প্রতিফলন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৬ হাজার ৬০০ জনের ভুল ভোটার নিবন্ধনের ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। তবে এ ঘটনাকে ভোট জালিয়াতির প্রমাণ হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেছেন শ্রমিক নেতা, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং অভিবাসন ও ভোটাধিকারবিষয়ক গবেষক প্যাট্রিসিয়া কাম্পোস-মেদিনা। তার মতে, এটি কোনো পরিকল্পিত ভোট জালিয়াতি নয়; বরং সরকারি সফটওয়্যারের ত্রুটির ফল, যা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।   নিজের মতামতমূলক নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, নিউ জার্সির মোটর ভেহিকেল কমিশনের (MVC) একটি পুরোনো সফটওয়্যার সমস্যার কারণে প্রায় ৬ হাজার ৬০০ জন ব্যক্তি ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হন, যদিও তারা আবেদন করার সময় স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন।   তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ব্যক্তি কোনো তথ্য গোপন করেননি কিংবা মিথ্যা তথ্য দেননি। বরং সরকারি ব্যবস্থার ত্রুটির কারণেই তাদের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়। পরে গভর্নর মিকি শেরিল বিষয়টি জানতে পেরে তা প্রকাশ করেন এবং সংশোধনের উদ্যোগ নেন।   প্যাট্রিসিয়া কাম্পোস-মেদিনা, যিনি নিজেও একজন স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন, লেখায় নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পেতে তার পরিবারকে বছরের পর বছর আইন মেনে চলতে হয়েছে, কর পরিশোধ করতে হয়েছে, নাগরিকত্ব পরীক্ষা ও ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। তাই নতুন অভিবাসীরা ভোটাধিকারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন এবং আইন ভঙ্গের ঝুঁকি নিতে চান না।   তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসীদের ভোট জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে। অথচ বর্তমান ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সেই দাবি সমর্থন করে না।   তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিউ জার্সিতে বর্তমানে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৬৭ লাখ। ভুলবশত নিবন্ধিত ৬ হাজার ৬০০ জন মোট ভোটারের ০.০১ শতাংশেরও কম। তাদের মধ্যে মাত্র ৪০০ জন ভোট দিয়েছেন, যা ২০২৪ সালের নির্বাচনে পড়া ৪৩ লাখ ভোটের ০.০০৯ শতাংশেরও কম।   কাম্পোস-মেদিনার মতে, এসব পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখায় যে ঘটনাটি ব্যাপক ভোট জালিয়াতির প্রমাণ নয়। বরং এটি একটি প্রশাসনিক ত্রুটি, যা দ্রুত শনাক্ত ও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   তিনি গভর্নর শেরিলের প্রশংসা করে বলেন, একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে তিনি বিষয়টি গোপন না করে প্রকাশ করেছেন, তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ভুলভাবে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছেন।   এ ঘটনায় একটি স্বাধীন তদন্ত শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তদন্তে কীভাবে সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সুপারিশ দেওয়া হবে।   প্রসঙ্গত, এই প্রতিবেদনটি প্যাট্রিসিয়া কাম্পোস-মেদিনার একটি মতামতমূলক নিবন্ধের ভিত্তিতে তৈরি। এতে প্রকাশিত রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও মতামত তার ব্যক্তিগত অবস্থান, যা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ২২:২০
ঘণ্টাপ্রতি সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাব বিবেচনা করছে আলামেডা কাউন্টি। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ার এক কাউন্টিতে ঘণ্টাপ্রতি ৩০ ডলার সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণের পথে, হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ

উইসকনসিনে বাবা ও দুই কন্যার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বিচ্ছেদ শুনানির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাবা ও দুই কন্যার মরদেহ উদ্ধার

১১ বছরের মেয়ের অভিযুক্ত ধর্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে ১১ বছরের মেয়ের অভিযুক্ত ধর্ষককে টিকটকে ফাঁদ পেতে বাড়িতে ডেকে গুলি করেন বাবা

সান ডিয়েগোতে হিংসার জেরে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও তার গৃহহীন প্রেমিককে হ ত্যা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শিশুধর্ষণের অভিযোগ
সান ডিয়েগোতে হিংসার জেরে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও তার গৃহহীন প্রেমিককে হ ত্যা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শিশুধর্ষণের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোতে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা প্রেমিকা ও তার প্রেমিককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার যুবকের বিরুদ্ধে এবার বেরিয়ে এসেছে আরও ভয়ংকর তথ্য। জোড়া খুনের অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই ৩৩ বছর বয়সী রায়ান ওয়েসলি প্রফিট নামের ওই যুবকের বিরুদ্ধে দুজন শিশুকে যৌন নির্যাতনের নতুন অভিযোগ গঠন করেছেন প্রসিকিউটররা।   আদালত সূত্রে জানা গেছে, রায়ানের বিরুদ্ধে শিশু নিগ্রহ ও যৌন নির্যাতনের মোট ১৬টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ বছরের কম বয়সী শিশুর সঙ্গে যৌন মিলন এবং ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুর ওপর জোরপূর্বক বিকৃত যৌনাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই জঘন্য অপরাধগুলো সংঘটিত হয়েছিল।   তবে এই শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলোর সাথে সাম্প্রতিক জোড়া খুনের কোনো সম্পর্ক নেই এবং দুটি মামলা সম্পূর্ণ আলাদাভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। রায়ানের বিরুদ্ধে আনা একটি অভিযোগে বলা হয়েছে যে, সে এক শিশুর ওপর মারাত্মক শারীরিক নির্যাতনও চালিয়েছিল। যদিও আদালতে নতুন করে যুক্ত হওয়া এই শিশু নির্যাতনের অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে রায়ান।   চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের ঘটনাটি ঘটে মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে। পুলিশ জানায়, একটি 'ওপেন রিলেশনশিপ' বা উন্মুক্ত সম্পর্কের চুক্তির অংশ হিসেবে ২৮ বছর বয়সী নৌবাহিনীর নাবিক কোর্টনি চ্যান্ডলার তার ২৭ বছর বয়সী গৃহহীন প্রেমিক নিকোলাস ম্যাকক্লুরকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন। নিকোলাস প্রায় দেড় সপ্তাহ ধরে তাদের সাথেই ওই বাড়িতে থাকছিলেন।   কিন্তু একপর্যায়ে রায়ান তাদের সম্পর্ক নিয়ে ঈর্ষান্বিত হয়ে ওঠে এবং পূর্বপরিকল্পিতভাবে বন্দুক নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হয়। প্রসিকিউটররা জানান, ম্যাকক্লুর বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে রায়ান তাকে লক্ষ্য করে তিনবার গুলি চালায় এবং এরপর প্রেমিকা চ্যান্ডলারকেও নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। চ্যান্ডলার আগেই বুঝতে পেরেছিলেন যে রায়ানের কাছে বন্দুক রয়েছে, যা তিনি টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে তার এক বন্ধুকে জানিয়েছিলেন।   হত্যার পর রায়ান নিজেই ৯১১ নম্বরে কল করে জরুরি সেবায় খবর দেয়। পুলিশ সামরিক ওই কমপ্লেক্সের ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিঁড়িতে বসে তাকে নির্লিপ্তভাবে বিয়ার পানরত অবস্থায় দেখতে পায়। গত বৃহস্পতিবার আদালতে প্রথম মাত্রার দুটি হত্যার অভিযোগেও রায়ান নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছে। বর্তমানে তাকে কোনো জামিন ছাড়াই কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। এদিকে নিহত চ্যান্ডলারের পরিবারের সহায়তায় 'গোফান্ডমি'-তে একটি তহবিল সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হয়েছে, যেখানে এই নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে একজন স্নেহময়ী বোন, কন্যা এবং নাতনি হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৯:৩৪
নিউইয়র্কে ফ্রি চাইল্ডকেয়ারে বছরে ৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে, তবুও পরিকল্পনায় অটল মামদানি

নিউইয়র্কে ফ্রি চাইল্ডকেয়ারে বছরে ৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে, তবুও পরিকল্পনায় অটল মামদানি

নিউইয়র্কে আইসিই এজেন্টদের মাস্ক নিষেধাজ্ঞায় মার্কিন আদালতের স্থগিতাদেশ

নিউইয়র্কে আইসিই এজেন্টদের মাস্ক নিষেধাজ্ঞায় মার্কিন আদালতের স্থগিতাদেশ

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮০% ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শেষ, সংকটে পেন্টাগন

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮০% ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শেষ, সংকটে পেন্টাগন

শেয়ারবাজারের চেয়ে খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়েই বেশি উদ্বিগ্ন ৬৬% মার্কিনি
শেয়ারবাজারের চেয়ে খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়েই বেশি উদ্বিগ্ন ৬৬% মার্কিনি

যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকরা বর্তমানে শেয়ারবাজারের উত্থান-পতনের চেয়ে নিজেদের দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক চাহিদা—যেমন খাদ্য, চিকিৎসা এবং বাসস্থানের ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটানো নিয়ে অনেক বেশি উদ্বিগ্ন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের প্রকাশিত এক নতুন জরিপে মার্কিন জনজীবনের এই উদ্বেগজনক চিত্রটি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। জরিপের ফলাফল বলছে, জীবনযাত্রার আকাশছোঁয়া ব্যয় সাধারণ মানুষের জন্য শেয়ারবাজারের যেকোনো ঝুঁকির চেয়েও বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   গত জুলাই মাসে পরিচালিত এই জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ৬৯ শতাংশ উত্তরদাতা স্বাস্থ্যসেবার অস্বাভাবিক ব্যয় নিয়ে 'অত্যন্ত উদ্বিগ্ন' বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ৬৬ শতাংশ মানুষ খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং ৬৪ শতাংশ মানুষ বাসস্থানের খরচ নিয়ে তাদের চরম উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেছেন। এর বিপরীতে, দেশের শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত এমন মানুষের সংখ্যা মাত্র ১৮ শতাংশ। গ্যালাপের অপর এক জরিপের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬২ শতাংশ নাগরিকের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ থাকলেও, মৌলিক ব্যয়ের চাপই তাদের কাছে বর্তমানে প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।   অর্থনৈতিক এসব সংকট নিয়ে মার্কিন দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যেও ভিন্নধর্মী প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সার্বিকভাবে রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাটরা অর্থনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক এই মতপার্থক্য সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয়েছে বেকারত্ব ইস্যুতে। জরিপ বলছে, বেকারত্ব নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের ৫৭ শতাংশ মানুষ চিন্তিত হলেও রিপাবলিকানদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ২৯ শতাংশ। এছাড়া জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের দাম এবং দেশের অর্থনীতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাব নিয়েও ডেমোক্র্যাটরা তুলনামূলক সামান্য বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে শেয়ারবাজার নিয়ে অনাগ্রহের বিষয়টি উভয় দলের সমর্থকদের মধ্যেই প্রায় সমান।   দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য জরিপে অংশগ্রহণকারীদের একটি বড় অংশ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিকে দুষছেন। জরিপের ৬০ শতাংশ মানুষ মনে করেন, ট্রাম্পের নেওয়া নীতি দেশের অর্থনীতিকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এই ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটদের নেতিবাচক মনোভাবের হার ৮৯ শতাংশ। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, খোদ রিপাবলিকানদের মধ্যেও বর্তমান প্রশাসন নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। ইরানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় গত জানুয়ারি মাসে ট্রাম্পের অর্থনীতি পরিচালনার প্রতি যেখানে ৫৭ শতাংশ রিপাবলিকানের সমর্থন ছিল, তা বর্তমানে কমে মাত্র ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের এই বিস্তৃত জরিপটি গত ৬ থেকে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে ৩ হাজার ৫৫৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিনির মতামতের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৭:৩১
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর ধরপাকড়ে নতুন রেকর্ড, জুলাইয়ে গ্রেপ্তার ৫১ হাজার

যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর ধরপাকড়ে নতুন রেকর্ড, জুলাইয়ে গ্রেপ্তার ৫১ হাজার

ফ্লোরিডায় খেলনা কিচেন সেটে মাথা আটকে মর্মান্তিক মৃত্যু ৩ বছরের শিশুর

ফ্লোরিডায় খেলনা কিচেন সেটে মাথা আটকে মর্মান্তিক মৃত্যু ৩ বছরের শিশুর

যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থীর ১১ বিলিয়ন ডলারের শিক্ষাঋণ মওকুফ

যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থীর ১১ বিলিয়ন ডলারের শিক্ষাঋণ মওকুফ

0 Comments