ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি সমঝোতার পর কমল মর্টগেজ সুদহার, স্বস্তিতে মার্কিন গৃহক্রেতারা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক শান্তি সমঝোতা স্বাক্ষরের পর দেশটির আবাসন বাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার প্রত্যাশা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সম্ভাবনায় যুক্তরাষ্ট্রে গৃহঋণের (মর্টগেজ) সুদহার সামান্য কমেছে। ফলে বাড়ি কিনতে আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মার্কিন আবাসন ঋণ সংস্থা ফ্রেডি ম্যাকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৮ জুন সমাপ্ত সপ্তাহে ৩০ বছরের মেয়াদি স্থায়ী সুদের গৃহঋণের গড় হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশে। আগের সপ্তাহে এ হার ছিল ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে সুদহার ৫ বেসিস পয়েন্ট কমেছে।
তুলনামূলকভাবে গত বছরের একই সময়ে এই হার ছিল ৬ দশমিক ৮১ শতাংশ, যা বর্তমান অবস্থানকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
ফ্রেডি ম্যাকের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্যাম খাতের বলেন, ভোক্তা ব্যয়, খুচরা বিক্রি এবং অপেক্ষমাণ আবাসন বিক্রির তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ক্রেতাদের আগ্রহ ধীরে ধীরে বাড়ছে। সুদহার কিছুটা কমায় বাজারে ক্রয়চাহিদাও ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে।
সুদহার কমার এই প্রবণতার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনা। বুধবার দুই দেশ একটি ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে সই করেছে, যার লক্ষ্য পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু করা এবং ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পথ তৈরি করা।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরে এলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ কমতে পারে। এতে মূল্যস্ফীতির ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে সুদের হার কমাতে সহায়ক হতে পারে।
রিয়েলটর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ অ্যান্থনি স্মিথ বলেন, সংঘাতের স্থায়ী সমাধান হলে মর্টগেজ হার আরও কমতে পারে, ভোক্তাদের আস্থা বাড়বে এবং গ্রীষ্মকালীন আবাসন বাজারে নতুন গতি আসবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পথ পুরোপুরি মসৃণ হবে না এবং ভবিষ্যতে নানা ধরনের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থাকতে পারে।
এদিকে একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ তাদের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে মূল সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের নেতৃত্বে ফেডের ১২ সদস্যই সর্বসম্মতভাবে ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যে সুদহার ধরে রাখার পক্ষে ভোট দেন।
যদিও বাজার আগে থেকেই এ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে প্রস্তুত ছিল, তবুও ফেডের নতুন বার্তা বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ফেড স্পষ্ট করেছে যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
এর প্রভাব পড়ে মার্কিন বন্ড বাজারেও। ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ফলন বেড়েছে এবং বছরের শেষ নাগাদ সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনাও কিছুটা জোরালো হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে ফেড ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদহার বাড়াতে পারে, এমন সম্ভাবনা প্রায় ৩৯ শতাংশ।
তবে আবাসন বাজারে এখনো আশাবাদের কিছু কারণ রয়েছে। মে মাসে বাড়ি কেনাবেচার চুক্তি আগের মাসের তুলনায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। অনেক বিক্রেতা দাম কমিয়ে ক্রেতা আকর্ষণের চেষ্টা করছেন, আর ক্রেতারাও সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন।
একই সঙ্গে টানা সাত মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রে তালিকাভুক্ত বাড়ির গড় মূল্য আগের বছরের তুলনায় কমেছে। বাজারে বাড়ির সরবরাহও গত বছরের তুলনায় বেশি রয়েছে, যা ক্রেতাদের জন্য তুলনামূলক অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে আগামী মাসগুলোতে মর্টগেজ সুদহার আরও কিছুটা কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মর্টগেজ সুদহার নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ফলনকে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া ঋণগ্রহীতার আয়, ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা, ডাউন পেমেন্ট, সম্পত্তির ধরন এবং বিশেষ করে ক্রেডিট স্কোরও সুদের হার নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের ক্রেডিট স্কোর ৭৪০ বা তার বেশি, তারা সাধারণত কম সুদে গৃহঋণ পাওয়ার সুযোগ পান। অন্যদিকে কম স্কোরধারীদের জন্য ঋণের খরচ তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সুদহার সামান্য কমলেও এটি মার্কিন আবাসন বাজারের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন উচ্চ সুদের চাপে থাকা গৃহক্রেতাদের জন্য এটি নতুন করে পরিকল্পনা করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি নাগরিকদের বাড়ি কেনার প্রবণতা আগের বছরের তুলনায় কমেছে। তবে এই ধীরগতির বাজারেও বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় অঙ্গরাজ্য হিসেবে রয়েছে ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, নিউ জার্সি এবং জর্জিয়া। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরস (এনএআর) এর ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক আবাসন লেনদেনবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে বিদেশি ক্রেতারা যুক্তরাষ্ট্রে ৬৭ হাজার ১০০টি বিদ্যমান বাড়ি কিনেছেন। এসব বাড়ির মোট মূল্য ছিল ৪৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের ১২ মাসের তুলনায় ১৪ শতাংশ কম। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে প্রায় ৪৭ শতাংশ নগদ অর্থে বাড়ি কিনেছেন। তুলনামূলকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের সব বিদ্যমান বাড়ির ক্রেতাদের মধ্যে এই হার ছিল ২৮ শতাংশ। বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে ৫৬ শতাংশ ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সাম্প্রতিক অভিবাসী বা বৈধ ভিসাধারী। তারা ৩৭ হাজার ৬০০টি বাড়ি কিনেছেন, যার মোট মূল্য ২১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাসকারী বিদেশিরা ২৯ হাজার ৫০০টি বাড়ি কিনেছেন, যার মূল্য ২৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। দেশভিত্তিক হিসাবে কানাডার নাগরিকরা সবচেয়ে বেশি বাড়ি কিনেছেন। মোট বিদেশি ক্রেতার ১৬ শতাংশই কানাডার। এরপর রয়েছে মেক্সিকো (১৪ শতাংশ), চীন (১১ শতাংশ), ভারত (৯ শতাংশ) এবং যুক্তরাজ্য (৪ শতাংশ)। যদিও চীনা ক্রেতার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম, তারা সবচেয়ে বেশি মূল্যের বাড়ি কিনেছেন। তাদের কেনা প্রতিটি বাড়ির গড় মূল্য ছিল প্রায় ১০ লাখ ২৭ হাজার ডলার। ভারতীয় ক্রেতাদের কেনা বাড়ির গড় মূল্য ছিল প্রায় ৬ লাখ ১৭ হাজার ডলার। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে ২০ শতাংশ ফ্লোরিডায়, ১৯ শতাংশ ক্যালিফোর্নিয়ায়, ১২ শতাংশ টেক্সাসে এবং ৪ শতাংশ করে নিউ জার্সি ও জর্জিয়ায় বাড়ি কিনেছেন। ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য হিসেবে জর্জিয়াও শীর্ষ পাঁচ অঙ্গরাজ্যের তালিকায় রয়েছে। এনএআরের প্রধান অর্থনীতিবিদ লরেন্স ইউন বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যটক ও দর্শনার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিদেশি ক্রেতাদের আবাসন কেনার প্রবণতাও কমেছে। গত বছরে মার্কিন ডলারের মূল্য কিছুটা কমলেও তা বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারেনি। আবাসন বিশেষজ্ঞরা বলেন, সামগ্রিকভাবে বিদেশিদের বাড়ি কেনা কমলেও ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, নিউ জার্সি এবং জর্জিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যগুলো এখনও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় আবাসন বাজার হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে।
একটি বার্তা, তারপর চিরবিদায় ১৮ বছরের চার্লির মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছে পরিবার
ক্যালিফোর্নিয়ায় দীর্ঘ তদন্তের পর তিনজন গ্রেপ্তার, উদ্ধার মাদক ও অস্ত্র
বিভিন্ন জরিপের পর ২০২৮ নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্তহীন কমলা হ্যারিস!
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার চীনো হিলসে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় জীবিত থাকা সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন প্রসিকিউটররা। মামলাটি গত সপ্তাহের আলোচিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে, যেখানে পুলিশের অভিযানের সময় আরেক সন্দেহভাজন গুলিতে নিহত হয়। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ৬৬ বছর বয়সী জিয়ানছুয়ান বো তাঁর ভাই ঝেংফেং বো-এর সঙ্গে মিলে ৬০ বছর বয়সী শুকুর আইকেবায়ারকে তাঁর চীনো হিলসের বাড়ি থেকে অপহরণ করেন। তদন্তকারীদের মতে, ভুক্তভোগীকে গুলি করার পর একটি গাড়ির ডিকিতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ গাড়িটিকে থামানোর চেষ্টা করলে সেটি কিছু দূর পালিয়ে যায়। পরে গাড়ি থামার পর ঝেংফেং বো ডিকির কাছে গিয়ে ভেতরে থাকা ভুক্তভোগীকে গুলি করেন বলে অভিযোগ। এরপর ঘটনাস্থলেই ডেপুটিদের গুলিতে ঝেংফেং বো নিহত হন। জিয়ানছুয়ান বো আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার প্রসিকিউটররা জিয়ানছুয়ান বোর বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ এবং অপহরণের সময় হত্যাকাণ্ড সংঘটনের বিশেষ অভিযোগসহ একাধিক অভিযোগ দায়ের করেন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে। তদন্তে উঠে এসেছে, নিহত শুকুর আইকেবায়ার ও অভিযুক্তদের মধ্যে আগে থেকে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি বড় রিয়েল এস্টেট প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক বিরোধ এই ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তদন্ত এখনো চলমান এবং কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত উদ্দেশ্য নিশ্চিত করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, আদালতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত জিয়ানছুয়ান বো আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
তিন সন্তান হত্যার মামলায় আদালতে পড়া হলো মায়ের হৃদয়বিদারক ডায়েরি
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার পর গুয়াতেমালায় দম্পতিকে হত্যা, এতিম হলো শিশুরা
লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি হলের ডাক কক্ষে রহস্যজনক সাদা গুঁড়া, ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থ তদন্ত শুরু
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে শিশুর প্রতি যৌন নির্যাতনের অভিযোগে চাওয়া হোসে কা'আল পপকে লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়েছে এবং নিউ জার্সিতে প্রত্যর্পণের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শিশুকে যৌন নির্যাতন এবং শিশু শ্লীলতাহানির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে নিউ জার্সির আদালত থেকে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযানে তাঁকে লুইজিয়ানায় শনাক্ত করে আটক করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে তাঁকে লুইজিয়ানার একটি আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাঁকে নিউ জার্সিতে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচার চলবে। তদন্তকারীরা মামলার বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশে সংযম দেখাচ্ছেন, যাতে ভুক্তভোগীর পরিচয় ও গোপনীয়তা সুরক্ষিত থাকে। একই সঙ্গে কেউ যদি এ ঘটনাসংক্রান্ত অতিরিক্ত তথ্য জানেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, আদালতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত হোসে কা'আল পপ আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
ফ্লোরিডার পথে বেরিয়ে আর ফেরেননি মেরিল, কোথায় হারালেন এই মেরিল?
নতুন কর্মস্থলেই প্রাণ গেল ২৩ বছরের অ্যাশলির, কাঁদছে আইডাহোর ইন-অ্যান্ড-আউট পরিবার