নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিন এলাকায় এক সশস্ত্র ব্যক্তিকে ঘিরে পরিচালিত পুলিশ অভিযানের সময় একজন পুলিশ কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এবং এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ।
কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্রুকলিনের বেডফোর্ড-স্টাইভেস্যান্ট এলাকায় একটি বাসভবন থেকে গুলির খবর পেয়ে ভোরের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুলিশ সদস্যরা। সেখানে পৌঁছে তারা জানতে পারেন, বাড়ির ভেতরে একজন সশস্ত্র ব্যক্তি অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল নিরাপদ করার চেষ্টা শুরু করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের একপর্যায়ে গুলির ঘটনা ঘটে এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তা পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। আহত কর্মকর্তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকাটি ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কয়েক ঘণ্টা ধরে অভিযান ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার পর ভবনের ভেতর থেকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে তার মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সংবাদ সম্মেলনে মেয়র জোহরান মামদানি আহত পুলিশ কর্মকর্তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। অন্যদিকে এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ বলেন, কীভাবে ঘটনাটি শুরু হয়েছিল, সন্দেহভাজনের কাছে কী ধরনের অস্ত্র ছিল এবং গুলির ঘটনার সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি কী ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর স্থানীয় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের কয়েকটি সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল সীমিত রাখা হয়। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও গ্রহণ করছেন।
নিউইয়র্ক সিটিতে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে সহিংস ঘটনার সংখ্যা আগের তুলনায় কমলেও এ ধরনের ঘটনা এখনও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে সশস্ত্র ও অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের ঘিরে পরিচালিত অভিযানকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলে ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য, নিহত ব্যক্তির পরিচয় এবং গুলির ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্ত ইউনিট কাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা। উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল। চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মতাদর্শগত বিভাজন নতুন কিছু নয়। তবে রাজনৈতিক ভিন্নমতের মাঝেও ব্যক্তিগত সৌহার্দ্য ও মানবিক সম্পর্ক যে সম্ভব, তারই একটি প্রতীকী উদাহরণ আবারও সামনে আনলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ। সম্প্রতি শিকাগোতে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে বুশ সঙ্গে করে নিয়ে যান একটি মিন্টসের টিন। বিষয়টি প্রথমে সাধারণ মনে হলেও এর পেছনে ছিল কয়েক বছর আগের একটি বহুল আলোচিত স্মৃতি, যা একসময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছিল। ২০১৮ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশের রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে তৎকালীন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার পাশে বসেছিলেন জর্জ ডব্লিউ বুশ। অনুষ্ঠান চলাকালে তিনি মিশেল ওবামার হাতে একটি মিন্টস তুলে দেন। ক্যামেরায় ধরা পড়া সেই মুহূর্তটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক বিভক্তির সময়ে মানবিক সৌহার্দ্যের এক বিরল উদাহরণ হিসেবে প্রশংসা কুড়ায়। সাম্প্রতিক অনুষ্ঠানে সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বুশ বলেন, দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে থাকলে তিনি কিছুটা অস্থির বোধ করেন। মিশেল ওবামার পাশে বসে কথাবার্তার একপর্যায়ে তিনি মজা করে একটি মিন্টস তার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। বুশের মতে, অনেক আমেরিকান তখন বিস্মিত হয়েছিলেন যে রিপাবলিকান দলের একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং ডেমোক্র্যাট দলের সাবেক ফার্স্ট লেডির মধ্যে এত আন্তরিক সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষে মানুষে স্বাভাবিক সম্পর্ক দেখতে দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই আগ্রহী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক মেরুকরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এমন বাস্তবতায় ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের দুই পরিচিত ব্যক্তিত্বের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচক বার্তা বহন করে। অনেকেই মনে করেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও মানবিক সম্পর্ক গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিকাগোতে বুশের এই প্রতীকী উপহার সেই পুরোনো স্মৃতিকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে এটি মনে করিয়ে দিয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় ভিন্ন হলেও ব্যক্তিগত সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক ভিন্নমতের মানুষের মধ্যে সংলাপ, পারস্পরিক সম্মান এবং সৌহার্দ্যের এমন উদাহরণ আরও বেশি প্রয়োজন। পর্যবেক্ষকদের মতে, ছোট্ট একটি মিন্টস হয়তো বড় কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে পারে না, কিন্তু এটি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সহমর্মিতার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়—যা আজকের বিভক্ত রাজনৈতিক পরিবেশে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দীর্ঘ প্রায় তিন মাসের মধ্যে এই প্রথম প্রতি গ্যালন পেট্রোলের খুচরা দাম ৪ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। মূলত ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছিল, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছিল আমেরিকার স্থানীয় বাজারগুলোতে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দেশটিতে প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় দাম কমে ৩ ডলার ৯৯ সেন্টে দাঁড়িয়েছে, যা গত ৩০ মার্চের পর সর্বনিম্ন। যদিও যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের তুলনায় তেলের দাম এখনো গ্যালনপ্রতি ১ ডলারের বেশি রয়েছে, তবে মার্কিন-ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তির আভাসের পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অপরিশোধিত তেলের দাম বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করেছে। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ থামানোর এই সমঝোতা স্মারকের ফলে বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ 'স্ট্রেইট অব হরমুজ' বা হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই নৌপথটি কার্যত বন্ধ ছিল, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি করে। গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে এই শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে এবং ইতিমধ্যে অন্তত ১০টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করেছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম (ব্রেন্ট ক্রুড) ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৭৮ দশমিক ৪৬ ডলারে নেমেছে এবং মার্কিন বেঞ্চমার্ক (ডব্লিউটিআই) ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৫ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্যাসবাডির তেল বিশেষজ্ঞ প্যাট্রিক ডি হান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি যদি আকস্মিক কোনো মোড় না নেয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক ইতিবাচক দিকে মোড়াতে থাকে, তবে তেলের দাম আরও কমবে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ বা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ৩ ডলারের নিচে নেমে আসতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অবস্থিত ল্যাকল্যান্ড বিমান বাহিনী ঘাঁটির বহু সেনা সদস্য মারাত্মক ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সৈন্যদের জন্য ফ্লু টিকার বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাথায় এই প্রাদুর্ভাবের ঘটনা ঘটল বলে নিশ্চিত করেছে সামরিক বাহিনীর একাধিক সূত্র। বিমান বাহিনীর একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, গত তিন সপ্তাহ ধরে ল্যাকল্যান্ডের ৩৭তম ট্রেনিং উইং এবং ৫৯তম মেডিকেল উইং যৌথভাবে মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ নেওয়া ট্রেইনিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া এই স্থানীয় ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করছে। আক্রান্ত ট্রেইনিদের আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং যাদের শরীরে লক্ষণ দেখা যাচ্ছে তাদের ‘ট্যামিফ্লু’-এর মতো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। গত এপ্রিল মাসে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ একটি মেমো জারির মাধ্যমে সৈন্যদের জন্য কয়েক দশক ধরে বাধ্যতামূলক থাকা ফ্লু টিকার নিয়মটি বাতিল করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে, যুদ্ধক্ষমতা দুর্বল করে এমন যেকোনো অযৌক্তিক এবং অতিরিক্ত বাধ্যবাধকতা থেকে পেন্টাগনকে মুক্ত করতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে টিকার বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার পর মাত্র ৪০ শতাংশ ট্রেইনি স্বেচ্ছায় এই ফ্লু টিকা নিয়েছেন। ল্যাকল্যান্ডের এই ৩৭তম ট্রেনিং উইংটি মার্কিন বিমান বাহিনীর সবচেয়ে বড় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। বিমান বাহিনী, স্পেস ফোর্স, এয়ার ফোর্স রিজার্ভ এবং এয়ার ন্যাশনাল গার্ডে যোগ দেওয়া সমস্ত নতুন রিক্রুটদের এই ঘাঁটিতেই প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই গত বুধবার ইউনিটটি জানায়, কিওন ম্যাকড্যানিয়েল নামে মৌলিক প্রশিক্ষণের ষষ্ঠ সপ্তাহে থাকা এক ট্রেইনি গত ১৬ জুন ব্রুক আর্মি মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তবে তার মৃত্যুর আসল কারণ এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।