আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় সামার ক্যাম্পের প্রথম দিনেই সাঁতার শিখতে গিয়ে ৯ বছরের শিশুর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ১৮:১২
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় একটি সামার ক্যাম্পে সাঁতার শেখার প্রথম দিনেই কিং ওভারটন নামের ৯ বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে চেম্বারলেইনের 'সুইম আরভিএ'-এর একটি পুল থেকে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। হেনরিকো কাউন্টি পুলিশ ও ক্যাম্পের কর্মীদের তথ্যমতে, উদ্ধারের পর তাকে সিপিআর দেওয়া হয় এবং দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। ছেলের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তার মা লাতাইশা জনসন, তিনি এই রহস্যজনক ট্র্যাজেডির সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাব দাবি করেছেন।

 

সংবাদমাধ্যম এনবিসি চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিহত শিশুর মা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, "আমি পুরোপুরি বিধ্বস্ত ও হতবাক। আমার ভেতরে এখন কেবলই রাগ আর ক্ষোভ কাজ করছে। একগাদা আবেগ যেন একসঙ্গে আমাকে ঘিরে ধরেছে।" ছেলেকে নিজের সেরা বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "ও দেখতে ছোটখাটো হলেও ওর ব্যক্তিত্ব ছিল অনেক বড়। সে দারুণ মজার ছিল। সে শুধু আমার ছেলেই ছিল না, ছিল আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু।" সোমবার সকালে ক্যাম্পে নামিয়ে দেওয়ার সময় সাঁতার শেখার জন্য কিং ভীষণ রোমাঞ্চিত ছিল বলেও জানান তিনি।

 

ডব্লিউআরআইসি ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদায়বেলায় ছেলের বলা শেষ কথাগুলো স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন লাতাইশা। তিনি বলেন, "আমার বাচ্চাটা ঘুরে দাঁড়িয়ে বলেছিল, 'ঠিক আছে মা, তোমাকে ভালোবাসি।' আমি বলেছিলাম, 'আমি তোমাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। তোমার দিনটি সুন্দর হোক।' এরপর আমি ঘুরে চলে আসি, আর সেটাই ছিল আমার ছেলেকে জীবিত দেখা শেষ মুহূর্ত।" শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও পরিষ্কার নয়। অসহায় এই মা বলেন, "আমি কিছুই জানি না। আমি শুধু জানি, তারা আমার বাচ্চাকে পুলের তলদেশে পেয়েছে।" এর আগে ফেসবুকে ছেলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি লেখেন, কিং ছিল তাদের জীবনের আনন্দ এবং সবকিছু; এই শোক কোনোভাবেই সহ্য করার মতো নয়।

 

মর্মান্তিক এই ঘটনার পর সামার ক্যাম্প কর্তৃপক্ষের একজন প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তারা পুরো ঘটনার তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সার্বিক সহযোগিতা করছেন। চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, "আমরা অত্যন্ত গভীর শোকের সাথে জানাচ্ছি যে, গত ১৫ জুন, সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে আমাদের সামার ক্যাম্পের এক অংশগ্রহণকারীকে পুল থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এই অপূরণীয় ক্ষতিতে আমাদের সমবেদনা শিশুটির পরিবার ও তার প্রিয়জনদের প্রতি। এই ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি আমরা গভীর শোক ও সহানুভূতি জ্ঞাপন করছি এবং তাদের আমাদের প্রার্থনায় রাখছি।"

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগল প্রধান সুন্দর পিচাইকে দেখে শিক্ষার্থীদের মঞ্চ বর্জন

যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়।   বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা।   উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল।   চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
নকশার ত্রুটি ও ওশেনগেটের অবহেলাতেই ধ্বংস হয়েছিল টাইটান সাবমেরিন, জানাল তদন্ত প্রতিবেদন

২০২৩ সালে আটলান্টিকের তলদেশে পাঁচ যাত্রীর প্রাণ কেড়ে নেওয়া টাইটান সাবমেরিন বিপর্যয়ের পেছনে মূল কারণ ছিল কোম্পানির চরম অবহেলা, নকশার ত্রুটি এবং অপর্যাপ্ত নজরদারি। সম্প্রতি কানাডার ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (টিএসবি) কর্তৃক প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির পেছনের এই সত্য উঠে এসেছে।   ১৩৬ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টাইটানের কার্বন ফাইবার সিলিন্ডারের বৈশিষ্ট্যগুলো তাত্ত্বিক নকশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা কখনোই যাচাই করা হয়নি। এছাড়া এটি নির্মাণ ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে মানসম্মত প্রকৌশল বিদ্যাও অনুসরণ করেনি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওশেনগেট। সংস্থাটি জানায়, টাইটানিক জাহাজের ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শনের এই অভিযানে সাবমেরিনটি যাত্রীদের জন্য কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা পুরোপুরি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিল ওশেনগেট। এর বদলে পুরো প্রতিষ্ঠানটি অন্ধভাবে 'গ্রুপথিংক' ও 'কনফার্মেশন বায়াস'-এ আচ্ছন্ন ছিল।   তদন্তকারী দলের পরিদর্শকরা টাইটান তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদানের কিছু অব্যবহৃত অংশ পরীক্ষা করে মারাত্মক কাঠামোগত ত্রুটির সন্ধান পান। সাবমেরিনটিকে টাইটানিকের সমতুল্য গভীরতায় (প্রায় ১২,৫০০ ফুট) পরীক্ষা করা হলেও, বারবার এমন গভীর যাত্রার ফলে এর কাঠামোর ওপর যে বিপুল চাপের সৃষ্টি হয়, তা কখনোই যাচাই করে দেখা হয়নি। এর আগে গত অক্টোবরে মার্কিন ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের (এনটিএসবি) প্রতিবেদনেও প্রায় একই ধরনের তথ্য উঠে এসেছিল।   তারাও জানিয়েছিল যে, ত্রুটিপূর্ণ প্রকৌশল এবং কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে টাইটান প্রয়োজনীয় স্থায়িত্বের মানদণ্ড পূরণে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছিল এবং ওশেনগেট এর আসল সহ্যক্ষমতা সম্পর্কে একেবারেই অজ্ঞাত ছিল।   ২০২৩ সালের ১৮ জুন টাইটানের ৮৮তম ডুব দেওয়ার সময় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। যাত্রা শুরুর মাত্র দুই ঘণ্টার মাথায় সহায়তাকারী জাহাজের সঙ্গে এর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আটলান্টিকের তলদেশে ব্যাপক তল্লাশি অভিযানের পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ভয়াবহ ইমপ্লোশন বা অন্তর্মুখী বিস্ফোরণে সাবমেরিনটি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এতে থাকা কেউই আর বেঁচে নেই। এই ঘটনায় প্রাণ হারান ওশেনগেটের সিইও স্টকটন রাশ, 'মিস্টার টাইটানিক' খ্যাত ফরাসি ডুবো-অভিযাত্রী পল-অঁরি নারজলে, ব্রিটিশ অভিযাত্রী হামিশ হার্ডিং এবং পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ধনকুবের শাহজাদা দাউদ ও তাঁর ১৯ বছর বয়সী ছেলে সুলেমান দাউদ।   শাহজাদা দাউদের স্ত্রী ক্রিস্টিন দাউদ প্রাথমিকভাবে নিজের ও স্বামীর জন্য টিকিট কাটলেও ছেলে সুলেমানকে বাবার সঙ্গে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে নিজের টিকিটটি ছেড়ে দেন। এই দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ ও হৃদয়বিদারক শোকের মধ্য দিয়ে যাওয়া ক্রিস্টিন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, সমুদ্রের সাথে এখন তিনি এক অদ্ভুত আত্মিক টান অনুভব করেন। সমুদ্রের জল পায়ে লাগলে তাঁর মনে হয় স্বামী ও সন্তান এখন এই সমুদ্রেরই অংশ।   এদিকে, দুর্ঘটনার পরপরই ২০২৩ সালের জুলাই মাসে নিজেদের সব কার্যক্রম স্থায়ীভাবে গুটিয়ে নেয় ওশেনগেট। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি পুনরায় গভীর সমবেদনা জানিয়ে কোম্পানির একজন মুখপাত্র বলেছেন, তারা টিএসবি-সহ সকল সরকারি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছে এবং তদন্তের এই পেশাদারিত্বকে তারা সাধুবাদ জানায়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ১৯:১৭
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় সামার ক্যাম্পের প্রথম দিনেই সাঁতার শিখতে গিয়ে ৯ বছরের শিশুর মৃত্যু

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে ভারতীয় কিশোরের মৃত্যুর পর ঘোড়ার গাড়ি নিষিদ্ধের দাবিতে চাপে মেয়র মামদানি

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় ছয় শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে শিক্ষিকা গ্রেপ্তার

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ‘অল মাই চিলড্রেন’ খ্যাত অভিনেতা পল অ্যাভেরি ও স্ত্রীর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন জনপ্রিয় সোপ অপেরা ‘অল মাই চিলড্রেন’ খ্যাত প্রবীণ অভিনেতা পল অ্যাভেরি (৮৪) এবং তার স্ত্রী শিলা (৭৭)। গত মঙ্গলবার ভোরে ব্লেয়ারসটাউনে তাদের নিজ বাড়িতে লাগা ভয়াবহ আগুনে পুড়ে চল্লিশ বছরের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে এই যুগলের। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত তাদের দুই কন্যা কাইল অ্যাভেরি ও পার্কার সানচেজ পিতামাতার প্রতি আবেগঘন শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এবং এই দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যুকে তাদের ‘জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।   শুক্রবার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কন্যা কাইল অ্যাভেরি বলেন, তার পিতামাতা ছিলেন অসাধারণ মানুষ। তারা কত মানুষের জীবনকে ছুঁয়ে গেছেন এবং কতটা আনন্দময় ছিলেন, তা বলে শেষ করা যাবে না। অন্যদিকে, বোন পার্কার সানচেজ জানান, মূলত ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। পল অ্যাভেরি হিট সোপ অপেরাটিতে ‘হিউয়ি’ চরিত্রে এবং ১৯৭৮ সালের ‘সুপারম্যান’ চলচ্চিত্রে ছোট একটি অভিনয়ের জন্য পরিচিত ছিলেন। সানচেজের মতে, তার বাবা কখনোই খ্যাতির পেছনে ছোটেননি; বরং কেবল আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা থেকেই দুই দশকের বেশি সময় ধরে অভিনয়ের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত ছিলেন।   পল অ্যাভেরি পর্দায় পরিচিত মুখ হলেও তার স্ত্রী শিলাও ছিলেন এক অসাধারণ নারী। তিনি পেশায় একজন নিবন্ধিত সেবিকা (আরএন নার্স) ও শিল্পী ছিলেন। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে তিনি যৌন নিপীড়নের শিকার ও নির্যাতিত নারীদের কাউন্সেলিং এবং প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। সানচেজ জানান, অনেক নারী তাকে বার্তা পাঠিয়ে বলেছেন যে তার মায়ের কাছ থেকেই তারা অধিকার সচেতন হতে শিখেছেন। সানচেজ আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, যদি ক্যাটালগ থেকে পিতামাতা বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকত, তবে তারা তাদের দুজনকেই বেছে নিতেন। চল্লিশ বছরেরও বেশি সময়ের বিবাহিত জীবনে এই দম্পতি চমৎকার পার্টি আয়োজন করতে ভালোবাসতেন এবং তাদের রসবোধ সবাইকে মুগ্ধ করত।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ১টার কিছু আগে অ্যাভেরি পরিবারের বাড়িতে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস। তারা দম্পতিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে সিপিআর (CPR) প্রদান করলেও কিছুক্ষণ পরই দুজনের মৃত্যু হয়। শুক্রবার পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা না গেলেও, এটি কোনো ‘সন্দেহজনক’ ঘটনা নয় বলে নিশ্চিত করেছেন তাদের কন্যারা।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ১৬:১
মিশেল ওবামা ও জর্জ ডব্লিউ বুশ l ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক বিভাজনের মাঝেও বন্ধুত্বের বার্তা, মিশেল ওবামাকে উপহার দিয়ে আবারও আলোচনায় জর্জ ডব্লিউ বুশ

ছবি: সংগৃহীত

নিউ ইয়র্কে অভিযানের সময় গুলিবিদ্ধ নিউইয়র্ক পুলিশ কর্মকর্তা, নিহত সন্দেহভাজন

অনলাইনে শিশুদের প্রলুব্ধের অভিযোগে বিশেষ অভিযানে ২৯ জন গ্রেপ্তার  l ছবি: সংগৃহীত

অনলাইনে কিশোরী ভেবে ফাঁদে পা, ফ্লোরিডায় ৫ দিনের অভিযানে গ্রেপ্তার ২৯ জন

কাস্টম মিস ক্লেয়ার সুলিভান পোশাকে রামা দুয়াজি এবং পাশে নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানী। ছবি: পৃষ্ঠা ছয়
নকল জার্সি দিয়ে তৈরি পোশাকে নজর কাড়লেন নিউইয়র্কের ফার্স্ট লেডি রামা দুওয়াজি

নিউইয়র্ক নিক্সের বিজয় উদযাপন প্যারেডে বিশেষভাবে তৈরি ফ্যাশন পোশাকে নজর কাড়লেন শহরের ফার্স্ট লেডি রামা দুওয়াজি। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ওই প্যারেডে তিনি নকশা করা একটি পোশাক পরিধান করেন, যা এনবিএ ফাইনালের নকল মার্চেন্ডাইজ টি-শার্ট ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।   স্থানীয় ডিজাইনার মিস ক্লেয়ার সুলিভানের তৈরি ওই এক-কাঁধা পোশাকটি সাদা, কমলা ও নীল রঙের একাধিক টি-শার্ট কেটে, সেলাই ও বাঁধনের মাধ্যমে অসমমিত নকশায় প্রস্তুত করা হয়। বিভিন্ন অংশ জোড়া লাগিয়ে পোশাকটির বিশেষ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।   ২৮ বছর বয়সী রামা দুওয়াজি পোশাকটির সঙ্গে কালো মিডি স্কার্ট পরেন। তিনি গলায় স্তরবিন্যাস করা স্বর্ণালঙ্কার, কমলা রঙের ঝুলন্ত কানের দুল এবং কালো নাইকি এয়ার রিফট স্নিকার্স পরিধান করেন।   ডিজাইনার ক্লেয়ার সুলিভান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একই ধরনের আরেকটি সংস্করণ শেয়ার করেন, যেখানে স্কার্টের পরিবর্তে সাদা টিউল টিউটু ব্যবহার করা হয়। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, “Knicks in five LFG NYC।”   পোশাকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বিভিন্ন সেলিব্রিটি ও ফ্যাশন ব্যক্তিত্ব প্রশংসা জানিয়ে মন্তব্য করেন। অ্যাডিসন রে লেখেন, “R u kidding”, লিসা রিনা লেখেন, “So good!!!!”, এবং এলা এমহফ লেখেন, “Holy S—TTTTT।”   ডিজাইনারের ভাষ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের স্থানীয় সংযোগ এবং নিক্স সমর্থন থেকেই এই নকশার ধারণা তৈরি হয়। বিভিন্ন রঙের টি-শার্ট সংগ্রহ করে তিনি পোশাকটি প্রস্তুত করেন।   নিক্সের বিজয় উদযাপনের অংশ হিসেবে রামা দুওয়াজির এই উপস্থিতি তার সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত জনসম্মুখ উপস্থিতিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জানুয়ারিতে স্বামীর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি তুলনামূলকভাবে কম জনসম্মুখে এসেছেন।   হিউস্টনে জন্ম নেওয়া রামা দুওয়াজি একজন শিল্পী ও অ্যানিমেটর হিসেবে কাজ করেন। তিনি নিউইয়র্কের প্রথম জেন-জি এবং প্রথম মুসলিম ফার্স্ট লেডি হিসেবে পরিচিত। শহরের সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলেও তিনি সাধারণত তুলনামূলকভাবে ব্যক্তিগত জীবনধারা বজায় রাখেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ৮:২০
ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকায় ৩ মাসের মধ্যে প্রথমবার কমলো জ্বালানি তেলের দাম

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপলের চিপ বানাবে ইনটেল, ট্রাম্পের ঘোষণায় শেয়ার বাজারে ঝড়

ছবি: সংগৃহীত

রাস্তার সাইনবোর্ড চিনতে ভুল করায় হাজার হাজার রোবটট্যাক্সি ফিরিয়ে নিল কোম্পানি

0 Comments