যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় কর্মীদের আয় মার্কিনিদের চেয়েও বেশি, নতুন বিশ্লেষণে উঠে এলো এইচ-১বি ভিসার বাস্তব চিত্র
যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি কর্মভিসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। সমালোচকদের দাবি, বিদেশি কর্মীদের কম বেতনে নিয়োগ দিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান স্থানীয় কর্মীদের চাকরি ও মজুরির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তবে নতুন এক বিশ্লেষণ বলছে, বাস্তব চিত্র এতটা সরল নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের গড় আয় দেশটিতে জন্ম নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম Newsweek–এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টুডেন্টইবি৫ (StudentEB5) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের জুন ২০২৬ সালের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের বার্ষিক মধ্যম আয় প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ডলার। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কলেজ স্নাতকদের মধ্যম আয় প্রায় ৮৭ হাজার ডলার। অর্থাৎ ভারতীয় কর্মীদের আয় গড়ে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি বেশি।
বিশ্লেষণটি ইকোনমিক ইনোভেশন গ্রুপের (EIG) তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, যারা প্রথমে শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে পরে কর্মজীবনে যুক্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যম বার্ষিক আয় ১ লাখ ১৫ হাজার ডলার। এটি দেশীয় স্নাতকদের তুলনায় অনেক বেশি।
তবে একই সঙ্গে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এইচ-১বি ভিসাধারীরা একই ধরনের কাজে নিয়োজিত মার্কিন কর্মীদের তুলনায় কম বেতনও পেতে পারেন। ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গড়ে এইচ-১বি কর্মীদের আয় তুলনামূলক মার্কিন কর্মীদের চেয়ে প্রায় ১৬ শতাংশ কম হতে পারে।
এইচ-১বি কর্মসূচি মূলত প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য বিশেষায়িত পেশায় বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের সুযোগ দেয়। প্রতি বছর নতুন ৮৫ হাজার এইচ-১বি ভিসা অনুমোদনের সীমা রয়েছে, যার মধ্যে ২০ হাজার ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য সংরক্ষিত।
গবেষকদের মতে, ভারতীয় কর্মীদের উচ্চ আয়ের পেছনে বড় কারণ হলো তাদের একটি বড় অংশ প্রযুক্তি ও প্রকৌশলের মতো উচ্চ বেতনের খাতে কাজ করেন। ফলে সামগ্রিকভাবে তাদের আয় অনেক বেশি দেখা যায়।
ইকোনমিক ইনোভেশন গ্রুপের নীতিবিষয়ক ব্যবস্থাপক স্যাম পিক নিউজউইককে বলেন, একই পেশা ও দক্ষতার কর্মীদের তুলনা করলে বেতনের ব্যবধান অনেক কমে আসে। তাঁর মতে, এইচ-১বি লটারিতে নির্বাচিত কর্মীরা একই ধরনের মার্কিন কর্মীদের তুলনায় গড়ে মাত্র ৫ দশমিক ১ শতাংশ কম আয় করেন। তবে অধিকাংশ ভিসাধারীই বাস্তবে অনেক মার্কিন কর্মীর চেয়ে বেশি আয় করেন।
তিনি আরও বলেন, বয়সভেদেও পার্থক্য দেখা যায়। অপেক্ষাকৃত তরুণ এইচ-১বি কর্মীরা অনেক ক্ষেত্রে সমমানের মার্কিন কর্মীদের চেয়ে বেশি আয় করেন। অন্যদিকে বয়সে বড় কর্মীদের মধ্যে তুলনামূলক কম আয়ের প্রবণতা দেখা যায়। এর একটি কারণ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি আউটসোর্সিং খাতে মধ্য-পর্যায়ের কর্মী নিয়োগকে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও নতুন মাত্রা পেয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump নতুন এইচ-১বি আবেদনগুলোর ওপর এক লাখ ডলারের ফি আরোপের উদ্যোগ নেন। প্রশাসনের দাবি ছিল, এর মাধ্যমে কর্মসূচির অপব্যবহার কমবে এবং বেশি দক্ষ ও উচ্চ বেতনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব হবে।
তবে চলতি বছরের ৮ জুন ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালত সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। মার্কিন জেলা বিচারক Leo Sorokin রায় দেন, এমন ফি আরোপের ক্ষমতা নির্বাহী বিভাগের নেই এবং এটি কার্যত নতুন কর আরোপের সমতুল্য। পরে প্রশাসন রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দেয়।
এদিকে বিভিন্ন গবেষণায় এইচ-১বি কর্মীদের আয় নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল পাওয়া গেছে। বৈশ্বিক মানবসম্পদ প্রতিষ্ঠান ডিলের তথ্য অনুযায়ী, এইচ-১বি কর্মীদের মধ্যম বেতন প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যেখানে একই ধরনের মার্কিন কর্মীদের মধ্যম আয় প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। গবেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সফটওয়্যার প্রকৌশল ও বিশেষায়িত প্রযুক্তিখাতে দক্ষ জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয়তাও এই প্রবণতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, আদালতের রায়, সম্ভাব্য আপিল এবং ভিসা সংস্কার নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে এইচ-১বি কর্মসূচি আগামী দিনগুলোতেও যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। সর্বশেষ তথ্যগুলো দেখাচ্ছে, অভিবাসন, কর্মসংস্থান ও মজুরির সম্পর্ক নিয়ে প্রচলিত অনেক ধারণার চেয়ে বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreপপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর ১৭ বছর পরও তাঁর তিন সন্তানের জন্য গঠিত পারিবারিক ট্রাস্টে অর্থ জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বাবার সম্পত্তি থেকে ৬০ কোটি ডলার ট্রাস্টে স্থানান্তরের দাবি জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁর মেয়ে প্যারিস জ্যাকসন। তাঁর অভিযোগ, বাবার মৃত্যুর পর সম্পত্তি থেকে শত শত কোটি ডলার আয় হলেও তিন ভাইবোনের জন্য নির্ধারিত ট্রাস্ট এখনো অর্থশূন্য রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের ৩ নভেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৯ অক্টোবর লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে একটি আবেদন জমা দেন ২৮ বছর বয়সী প্যারিস জ্যাকসন। এতে তিনি বাবার সম্পত্তির একটি অংশ পারিবারিক ট্রাস্টে স্থানান্তরের নির্দেশ দিতে আদালতের প্রতি আহ্বান জানান। ২০০৯ সালে মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর পর তাঁর তিন সন্তান প্যারিস, প্রিন্স ও বিগির আর্থিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে একটি ট্রাস্ট গঠন করা হয়। আদালতে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, সন্তানদের ২১ বছর বয়স থেকে ট্রাস্টের আয় পাওয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি ৩০, ৩৫ ও ৪০ বছর বয়সে নির্ধারিত সম্পদের অংশ পাওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল। তবে প্যারিসের অভিযোগ, সম্পত্তির নির্বাহক জন ব্রাঙ্কা ও তাঁর সহনির্বাহক জন ম্যাকক্লেইন ট্রাস্টে পর্যাপ্ত অর্থ স্থানান্তর না করে সন্তানদের তুলনামূলক কম অর্থ দিয়েছেন। আদালতের আবেদনে দাবি করা হয়েছে, মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর পর বিপুল অর্থ জমা হলেও সন্তানদের জন্য গঠিত ট্রাস্টে কোনো অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। প্যারিসের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, মাইকেল জ্যাকসনের সম্পত্তি থেকে বিভিন্ন ব্যবসায়িক চুক্তি ও সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অর্থ এসেছে। এর মধ্যে ২০২০ সালে তাঁর বিখ্যাত নেভারল্যান্ড র্যাঞ্চ ২ কোটি ২০ লাখ ডলারে বিক্রি হয়। আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্পত্তির নির্বাহকেরা এর আগে মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেটের মূল্য ২০০ কোটি থেকে ৩০০ কোটি ডলারের মধ্যে নির্ধারণ করেছিলেন। তবে অভিযোগের জবাবে মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েকটি আইনি জটিলতার নিষ্পত্তি না হওয়ায় ট্রাস্টগুলোতে সম্পূর্ণ অর্থ স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের দাবি, প্যারিসসহ অন্যান্য সুবিধাভোগীর মধ্যে ইতোমধ্যে ২০ কোটি ডলারের বেশি বিতরণ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, মাইকেল জ্যাকসনের উইল অনুযায়ী সন্তানদের ত্রিশের কোঠায় পৌঁছানোর আগে নির্ধারিত সম্পদ বিতরণের বিধান নেই। অন্যদিকে প্যারিসের মুখপাত্র এস্টেট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সম্পত্তির একটি অংশ আগেই ট্রাস্টে স্থানান্তর করার সুযোগ ও দায়িত্ব নির্বাহকদের ছিল। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর প্যারিস আদালতের হস্তক্ষেপ চাইতে বাধ্য হয়েছেন। মাইকেল জ্যাকসনের সম্পত্তি পরিচালনা নিয়ে প্যারিসের সঙ্গে নির্বাহকদের বিরোধ নতুন নয়। এর আগেও তিনি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং নির্বাহকদের পারিশ্রমিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে জন ব্রাঙ্কা ও জন ম্যাকক্লেইন তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ২০০৯ সালে মাত্র ৫০ বছর বয়সে মারা যান বিশ্বসংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পী মাইকেল জ্যাকসন। মৃত্যুর পরও তাঁর গান, সংগীতস্বত্ব ও অন্যান্য বাণিজ্যিক সম্পদ থেকে বিপুল অর্থ আয় হয়েছে। সেই সম্পদের একটি অংশ সন্তানদের জন্য গঠিত ট্রাস্টে স্থানান্তর করা হবে কি না, তা নিয়ে এখন আদালতে আইনি বিরোধ চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মুখে রিপাবলিকানরা, এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা
ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হলেন কিশা ল্যান্স বটমস
মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে এল-সাইদ, রজার্সের চেয়ে বেশি ৯৮ হাজার ভোট!
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে উত্তর ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী রয় কুপার। রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট মাইকেল হোয়াটলিকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন তিনি। ৪ নভেম্বর বুধবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের নির্বাচনী পূর্বাভাসে কুপারকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এ জয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসনটি ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেল। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার লড়াইয়েও এটি দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনে কুপার পেয়েছেন ২১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৫৬ ভোট, যা মোট ভোটের ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে মাইকেল হোয়াটলি পেয়েছেন ১৪ লাখ ৩০ হাজার ১২৯ ভোট, অর্থাৎ ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ। সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাসে কুপারের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর আসনটি ডেমোক্র্যাটদের দখলে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তবে এসব ভোটের হিসাব নির্বাচনের সময়কার প্রকাশিত ফলাফলের ভিত্তিতে, চূড়ান্ত প্রত্যয়িত ফল নয়। ৬৯ বছর বয়সী রয় কুপার উত্তর ক্যারোলাইনার রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। তিনি ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে অঙ্গরাজ্যটির গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচনী প্রচারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানির উচ্চমূল্য কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যয় কমানোর বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগের সমালোচনা করেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলি আগে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর পক্ষে সরাসরি প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এই জয়ের ফলে অবসর নিতে যাওয়া রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসের স্থলাভিষিক্ত হবেন কুপার। উত্তর ক্যারোলাইনা দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ফলে অঙ্গরাজ্যটির সিনেট আসন ডেমোক্র্যাটদের দখলে যাওয়াকে দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম অঙ্গরাজ্যটির একটি সিনেট আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী নির্বাচিত হলেন বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে মোট আসন ১০০টি। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এর মধ্যে ৩৫টি আসনে ভোট হয়েছে। নির্বাচনের আগে সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ছিল ৫৩টি, আর ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি আসন বাড়ানো প্রয়োজন। উত্তর ক্যারোলাইনায় কুপারের জয় সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে দলটিকে এগিয়ে দিলেও সিনেটের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ নির্ভর করছে অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের ফলের ওপর। একই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনেও ভোট হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা ও সিবিএস নিউজ।
দাদির কবর দেখতে গিয়ে নেশাগ্রস্ত চালকের গাড়িচাপায় নিহত শিশু, হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বাবা
ডিএনএ গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রে সফল বাংলাদেশি তরুণী সামরিন মেহাক
নিউ ইয়র্কের গ্রিনপয়েন্টে সাশ্রয়ী আবাসন লটারি, ভাড়া শুরু ৭৫১ ডলার থেকে
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের সুবিধা বাড়াতে কংগ্রেসনাল নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হলেও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসনেই জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে জ্যারেড মস্কোভিটজ, ক্যাথি ক্যাস্টর ও পিয়া দান্ডিয়া নিজ নিজ আসনে জয়ী হয়েছেন। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গভর্নর রন ডেস্যান্টিসের উদ্যোগে নতুন নির্বাচনী মানচিত্র তৈরি করা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার সম্ভাবনা বাড়ানো। তবে নতুন সীমানায় অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনেই গুরুত্বপূর্ণ তিনটি আসনে ডেমোক্র্যাটদের জয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। ফ্লোরিডার ২৫তম কংগ্রেসনাল আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জ্যারেড মস্কোভিটজ রিপাবলিকান স্কট সিঙ্গারকে পরাজিত করেছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের হিসাবে, মস্কোভিটজ পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট, আর সিঙ্গারের প্রাপ্ত ভোট ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ। স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৭ মিনিটে এ আসনে মস্কোভিটজকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। নতুন নির্বাচনী সীমানার কারণে আগের ২৩তম আসন ছেড়ে ২৫তম আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। রিপাবলিকানদের লক্ষ্য ছিল আসনটি নিজেদের দখলে নেওয়া, তবে শেষ পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। ফ্লোরিডার ১৪তম কংগ্রেসনাল আসনেও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্যাথি ক্যাস্টর। রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক বেলট্রানকে হারিয়ে তিনি প্রতিনিধি পরিষদে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, ক্যাস্টর পেয়েছেন ৫১ দশমিক ২ শতাংশ ভোট, আর বেলট্রান পেয়েছেন ৪৫ দশমিক ৯ শতাংশ। টাম্পা অঞ্চলের এই আসনটির সীমানাও নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছিল, যাতে রিপাবলিকানদের জয়ের সম্ভাবনা বাড়ে। কিন্তু নতুন নির্বাচনী এলাকায়ও ক্যাস্টরকে পরাজিত করতে পারেননি রিপাবলিকান প্রার্থী। অন্যদিকে, ফ্লোরিডার ২২তম কংগ্রেসনাল আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী পিয়া দান্ডিয়া রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী কেসি আসকারকে পরাজিত করেছেন। সিএনএনের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, দান্ডিয়া পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট, আর আসকার পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ। স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২৪ মিনিটে এ আসনে দান্ডিয়াকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। নতুন সীমানায় গঠিত এই আসনটি নির্বাচনের আগে দুই দলের জন্যই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। ফ্লোরিডার নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন গভর্নর রন ডেস্যান্টিস। চলতি বছরের ৪ মে নতুন কংগ্রেসনাল মানচিত্র আইনে পরিণত হয়। এর ফলে কয়েকটি ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত আসনের সীমানা পরিবর্তিত হয় এবং রিপাবলিকানদের জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে বলে ধারণা করা হয়েছিল। বিশেষ করে মস্কোভিটজ ও ক্যাস্টরের আসন নতুন সীমানার কারণে আগের তুলনায় বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু নির্বাচনের ফল সেই পরিকল্পনার প্রত্যাশিত সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তিনটি আসনে ডেমোক্র্যাটদের এই জয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ফ্লোরিডার নতুন নির্বাচনী মানচিত্র রিপাবলিকানদের প্রত্যাশিত সুবিধা কতটা দিতে পেরেছে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অঙ্গরাজ্যজুড়ে অন্যান্য আসনের ফল এবং প্রতিনিধি পরিষদের সামগ্রিক আসনসংখ্যা বিবেচনায় নিয়েই নির্বাচনের পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন করা যাবে। সূত্র: নিউজউইক, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, সিবিএস নিউজ ও ফ্লোরিডা ডিভিশন অব ইলেকশনস।
বেতন না কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টার বদলে ৩২ ঘণ্টা কাজের প্রস্তাব, কংগ্রেসে বিল উত্থাপন
ফ্লোরিডায় আছড়ে পড়ার আগেই মাঝ আকাশে ভেঙে পড়ছিল বিমান, ৪ মাইল দূরে মিলল লেজের অংশ