আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় কর্মীদের আয় মার্কিনিদের চেয়েও বেশি, নতুন বিশ্লেষণে উঠে এলো এইচ-১বি ভিসার বাস্তব চিত্র

Unknown প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ২০:২৪
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি কর্মভিসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। সমালোচকদের দাবি, বিদেশি কর্মীদের কম বেতনে নিয়োগ দিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান স্থানীয় কর্মীদের চাকরি ও মজুরির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তবে নতুন এক বিশ্লেষণ বলছে, বাস্তব চিত্র এতটা সরল নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের গড় আয় দেশটিতে জন্ম নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম Newsweek–এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টুডেন্টইবি৫ (StudentEB5) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের জুন ২০২৬ সালের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের বার্ষিক মধ্যম আয় প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ডলার। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কলেজ স্নাতকদের মধ্যম আয় প্রায় ৮৭ হাজার ডলার। অর্থাৎ ভারতীয় কর্মীদের আয় গড়ে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি বেশি।

 

বিশ্লেষণটি ইকোনমিক ইনোভেশন গ্রুপের (EIG) তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, যারা প্রথমে শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে পরে কর্মজীবনে যুক্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যম বার্ষিক আয় ১ লাখ ১৫ হাজার ডলার। এটি দেশীয় স্নাতকদের তুলনায় অনেক বেশি।

 

তবে একই সঙ্গে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এইচ-১বি ভিসাধারীরা একই ধরনের কাজে নিয়োজিত মার্কিন কর্মীদের তুলনায় কম বেতনও পেতে পারেন। ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গড়ে এইচ-১বি কর্মীদের আয় তুলনামূলক মার্কিন কর্মীদের চেয়ে প্রায় ১৬ শতাংশ কম হতে পারে।

 

এইচ-১বি কর্মসূচি মূলত প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য বিশেষায়িত পেশায় বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের সুযোগ দেয়। প্রতি বছর নতুন ৮৫ হাজার এইচ-১বি ভিসা অনুমোদনের সীমা রয়েছে, যার মধ্যে ২০ হাজার ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য সংরক্ষিত।

 

গবেষকদের মতে, ভারতীয় কর্মীদের উচ্চ আয়ের পেছনে বড় কারণ হলো তাদের একটি বড় অংশ প্রযুক্তি ও প্রকৌশলের মতো উচ্চ বেতনের খাতে কাজ করেন। ফলে সামগ্রিকভাবে তাদের আয় অনেক বেশি দেখা যায়।

 

ইকোনমিক ইনোভেশন গ্রুপের নীতিবিষয়ক ব্যবস্থাপক স্যাম পিক নিউজউইককে বলেন, একই পেশা ও দক্ষতার কর্মীদের তুলনা করলে বেতনের ব্যবধান অনেক কমে আসে। তাঁর মতে, এইচ-১বি লটারিতে নির্বাচিত কর্মীরা একই ধরনের মার্কিন কর্মীদের তুলনায় গড়ে মাত্র ৫ দশমিক ১ শতাংশ কম আয় করেন। তবে অধিকাংশ ভিসাধারীই বাস্তবে অনেক মার্কিন কর্মীর চেয়ে বেশি আয় করেন।

 

তিনি আরও বলেন, বয়সভেদেও পার্থক্য দেখা যায়। অপেক্ষাকৃত তরুণ এইচ-১বি কর্মীরা অনেক ক্ষেত্রে সমমানের মার্কিন কর্মীদের চেয়ে বেশি আয় করেন। অন্যদিকে বয়সে বড় কর্মীদের মধ্যে তুলনামূলক কম আয়ের প্রবণতা দেখা যায়। এর একটি কারণ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি আউটসোর্সিং খাতে মধ্য-পর্যায়ের কর্মী নিয়োগকে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এদিকে এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও নতুন মাত্রা পেয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump নতুন এইচ-১বি আবেদনগুলোর ওপর এক লাখ ডলারের ফি আরোপের উদ্যোগ নেন। প্রশাসনের দাবি ছিল, এর মাধ্যমে কর্মসূচির অপব্যবহার কমবে এবং বেশি দক্ষ ও উচ্চ বেতনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব হবে।

 

তবে চলতি বছরের ৮ জুন ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালত সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। মার্কিন জেলা বিচারক Leo Sorokin রায় দেন, এমন ফি আরোপের ক্ষমতা নির্বাহী বিভাগের নেই এবং এটি কার্যত নতুন কর আরোপের সমতুল্য। পরে প্রশাসন রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দেয়।

 

এদিকে বিভিন্ন গবেষণায় এইচ-১বি কর্মীদের আয় নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল পাওয়া গেছে। বৈশ্বিক মানবসম্পদ প্রতিষ্ঠান ডিলের তথ্য অনুযায়ী, এইচ-১বি কর্মীদের মধ্যম বেতন প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যেখানে একই ধরনের মার্কিন কর্মীদের মধ্যম আয় প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। গবেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সফটওয়্যার প্রকৌশল ও বিশেষায়িত প্রযুক্তিখাতে দক্ষ জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয়তাও এই প্রবণতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

 

বিশ্লেষকদের ধারণা, আদালতের রায়, সম্ভাব্য আপিল এবং ভিসা সংস্কার নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে এইচ-১বি কর্মসূচি আগামী দিনগুলোতেও যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। সর্বশেষ তথ্যগুলো দেখাচ্ছে, অভিবাসন, কর্মসংস্থান ও মজুরির সম্পর্ক নিয়ে প্রচলিত অনেক ধারণার চেয়ে বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কে আইসিই এজেন্টদের মাস্ক নিষেধাজ্ঞায় মার্কিন আদালতের স্থগিতাদেশ
নিউইয়র্কে আইসিই এজেন্টদের মাস্ক নিষেধাজ্ঞায় মার্কিন আদালতের স্থগিতাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক রাজ্যে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টদের মাস্ক বা মুখাবরণ পরার ওপর রাজ্য সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশ দিয়েছেন একজন ফেডারেল বিচারক। তবে স্থানীয় পুলিশ বিভাগের সাথে আইসিই-এর যেকোনো ধরনের সহযোগিতামূলক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রণীত অপর একটি রাজ্য আইন বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। নিউইয়র্কের অ্যালবানিতে অবস্থিত ফেডারেল কোর্টের ডিস্ট্রিক্ট জজ মে ডি’অ্যাগোস্টিনো সম্প্রতি এই রায় প্রদান করেন। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়া, ভার্জিনিয়া এবং পেনসিলভানিয়াতেও ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টদের মুখ ঢাকা নিষিদ্ধ করার একই ধরনের আইন বাতিল করেছিল আদালত।   বিচারক ডি’অ্যাগোস্টিনো তার রায়ে উল্লেখ করেন, নিউইয়র্ক প্রশাসনের এই পদক্ষেপটি পুলিশের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সৎ উদ্দেশ্যে করা হলেও, সাংবিধানিক যুক্তিতে এটি টিকছে না। মার্কিন সংবিধানের 'সুপ্রিমেসি ক্লজ' বা সর্বোচ্চ ধারা অনুযায়ী, কোনো রাজ্য সরকার সরাসরি ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তবে রাজ্যটি আইসিই-এর সাথে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তা বৈধ বলে রায় দিয়েছেন বিচারক। তিনি জানান, রাজ্যের জনকল্যাণ রক্ষা এবং স্থানীয় সম্পদ কীভাবে ব্যয় হবে তা নির্ধারণ করার পূর্ণ অধিকার রাজ্য সরকারের রয়েছে। আগস্টের শেষের দিকে কার্যকর হতে যাওয়া এই আইনের ফলে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা আর আইসিই-এর কোনো অভিযানে সহায়তা করবেন না।   উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ার প্রেক্ষাপটে গত মে মাসের শেষের দিকে এই 'নিউইয়র্ক মাস্ক ল' স্বাক্ষর করেছিলেন রাজ্যের ডেমোক্র্যাট গভর্নর ক্যাথি হোকুল। আদালতের নতুন রায়ের পর ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) জেনারেল কাউন্সেল জেমস পার্সিভাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্তোষ প্রকাশ করে একে আইসিই-এর জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অন্যদিকে, আইসিই-এর সাথে অসহযোগিতার আইনটি বহাল থাকায় একে স্বাগত জানিয়েছেন গভর্নর হোকুল এবং নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস।   এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানান, স্থানীয় পুলিশকে কেবল স্থানীয় বিষয়েই নজর দেওয়া উচিত এবং আইসিই-এর সাথে কোনো সমন্বয়ের ব্যয়ভার নিউইয়র্কের সাধারণ করদাতাদের বহন করা উচিত নয়। মাস্ক নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়েও তারা পর্যালোচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে এই আইসিই ইস্যুটিই ক্যাথি হোকুলের পুনর্নির্বাচনের পথে একটি বড় প্রচারণার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৮:১৩
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮০% ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শেষ, সংকটে পেন্টাগন

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮০% ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শেষ, সংকটে পেন্টাগন

শেয়ারবাজারের চেয়ে খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়েই বেশি উদ্বিগ্ন ৬৬% মার্কিনি

শেয়ারবাজারের চেয়ে খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়েই বেশি উদ্বিগ্ন ৬৬% মার্কিনি

যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর ধরপাকড়ে নতুন রেকর্ড, জুলাইয়ে গ্রেপ্তার ৫১ হাজার

যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর ধরপাকড়ে নতুন রেকর্ড, জুলাইয়ে গ্রেপ্তার ৫১ হাজার

ফ্লোরিডায় খেলনা কিচেন সেটে মাথা আটকে মর্মান্তিক মৃত্যু ৩ বছরের শিশুর
ফ্লোরিডায় খেলনা কিচেন সেটে মাথা আটকে মর্মান্তিক মৃত্যু ৩ বছরের শিশুর

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বেবিসিটারের বাসায় খেলতে গিয়ে খেলনা কিচেন সেটে মাথা আটকে ব্রিয়েলা হোমস নামের তিন বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত ২৩ জুলাই পাম বিচ কাউন্টির বয়েটন বিচ এলাকার একটি বাসায় এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, হাসিখুশি স্বভাবের শিশুটি দুর্ঘটনার চার দিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।   বয়েটন বিচ পুলিশ ডিপার্টমেন্টের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঘটনার দিন বেবিসিটার কোনো কাজে বাসার বাইরে গেলে তার স্বামী শিশু দুটির দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। ওই ব্যক্তি দোতলায় অবস্থান করলেও মাঝে মাঝে নিচে নেমে এসে শিশুদের খোঁজ নিচ্ছিলেন এবং তাদের খাবার দিচ্ছিলেন।   এমনই এক পর্যায়ে নিচে এসে তিনি ব্রিয়েলার মাথা একটি খেলনা কিচেন সেটের ভেতর আটকে থাকতে দেখেন। তিনি দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে জরুরি সেবাকর্মীরা আসার আগ পর্যন্ত তার জীবন বাঁচানোর প্রাথমিক চেষ্টা বা সিপিআর চালান। ব্রিয়েলার ভাই পুলিশকে জানায়, কিচেন সেটের ভেতর কিছু খেলনা পড়ে গেলে সেটি বের করে আনতে গিয়েই তার বোন সেখানে আটকে পড়েছিল।   খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ওই বাসায় পৌঁছায় এবং শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া অচেতন শিশুটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ব্রিয়েলাকে শেষ পর্যন্ত মৃত ঘোষণা করা হয়। পাম বিচ কাউন্টির মেডিকেল এক্সামিনার শিশুটির এই মৃত্যুকে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। কর্তৃপক্ষের মতে, দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকায় অস্বাভাবিক শারীরিক অবস্থানের কারণে শ্বাসরোধ হয়ে (পজিশনাল অ্যাসফিক্সিয়া) শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৬:৫৯
যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থীর ১১ বিলিয়ন ডলারের শিক্ষাঋণ মওকুফ

যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থীর ১১ বিলিয়ন ডলারের শিক্ষাঋণ মওকুফ

ক্যালিফোর্নিয়ায় সাবেক প্রেমিকার গাড়িতে ট্র্যাকার লাগিয়ে নজরদারির অভিযোগে গ্রেপ্তার মার্কিন পুলিশ কর্মকর্তা

ক্যালিফোর্নিয়ায় সাবেক প্রেমিকার গাড়িতে ট্র্যাকার লাগিয়ে নজরদারির অভিযোগে গ্রেপ্তার মার্কিন পুলিশ কর্মকর্তা

নিউইয়র্কে বিলাসবহুল ইয়টে ফ্যাশন ডিজাইনারের মৃত্যু

নিউইয়র্কে বিলাসবহুল ইয়টে ফ্যাশন ডিজাইনারের মৃত্যু, মালিকের বিরুদ্ধে ৫০ মিলিয়ন ডলারের মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ের সমুদ্রসৈকতে দাপট দেখাতে গিয়ে উল্টো ঘুষি খেয়ে কুপোকাত মার্কিন কংগ্রেস প্রার্থী
যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ের সমুদ্রসৈকতে দাপট দেখাতে গিয়ে উল্টো ঘুষি খেয়ে কুপোকাত মার্কিন কংগ্রেস প্রার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ের একটি সমুদ্রসৈকতে উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে অন্যদের বিরক্ত করা এবং উল্টো হুমকি দেওয়ার জেরে এক ব্যক্তির কড়া ঘুষি খেয়ে চরম শিক্ষা পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক দলের এক কংগ্রেস প্রার্থী। কিরিল বেসিন (৪০) নামের ওই প্রার্থীকে পরবর্তীতে প্রথম মাত্রার সন্ত্রাসী হুমকির দুটি অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বর্তমানে আদালত তার জামিনের পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন ১০ লাখ ডলার (১ মিলিয়ন)। হাওয়াইয়ের ২য় কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে বর্তমান প্রতিনিধি জিল টোকুডার বিরুদ্ধে নির্বাচনে লড়ছেন তিনি।   স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে সাউথ কিহেই এলাকার কেওয়াকাপু সমুদ্রসৈকতে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটে। সৈকতে বিশ্রাম নিতে আসা এক ৬১ বছর বয়সী ব্যক্তি তাকে গানের শব্দ কমাতে বললে বেসিন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অন্তর্বাস পরা অবস্থায় বেসিন পর্যটকদের সাথে চিৎকার ও তর্ক করছেন।   একপর্যায়ে তিনি দলবদ্ধ মানুষের দিকে এগিয়ে গিয়ে ঔদ্ধত্যের সাথে হুমকি দিয়ে বলেন, কেউ যদি হাসপাতালে যেতে চায়, তবে সে যেন তার কাছে আসে। এরপরই তিনি এক বিশালদেহী ও শরীরে উল্কি আঁকা ব্যক্তির সাথে বিবাদে জড়ান। বেসিন ওই ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে একটি বিচ চেয়ার ছুঁড়ে মারার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার আগেই ওই ব্যক্তি বেসিনের মুখে সজোরে এক শক্তিশালী ঘুষি বসিয়ে দেন, আর এতেই তার সমস্ত দম্ভ চূর্ণ হয়ে যায়।   পুলিশ জানিয়েছে, হাতাহাতির এক পর্যায়ে ওই কংগ্রেস প্রার্থী একটি ছুরিও বের করেছিলেন, যা পরে তিনি পানিতে ফেলে দেন। তবে পুলিশ সেটি উদ্ধার করেছে এবং তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে বেসিনের এমন উগ্র আচরণ এবারই প্রথম নয়। গত মে মাসে একটি সরকারি ভবনে ঢুকে কর্মকর্তাদের দিকে বন্দুক তাক করার অভিযোগে তাকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ওয়াইলুকু এলাকার ওই সরকারি ভবনে তিনি মায়ুই কাউন্টির দুই কর্মীকে ভয়ংকর হুমকি দিয়েছিলেন। এদিকে, গ্রেপ্তারের ঠিক আগের দিন বৃহস্পতিবার ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক অদ্ভুত পোস্টে বেসিন দাবি করেছিলেন যে, তিন জন পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ১৪ ঘণ্টা ধরে নির্যাতন করেছে এবং এ বিষয়ে তিনি একটি আইনি ব্যবস্থাও নিয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৫:৫২
জর্জিয়ায় আইস বন্দিশিবিরে চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ, প্রাণ গেল ২৯ বছরের তরুণের

জর্জিয়ায় আইস বন্দিশিবিরে চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ, প্রাণ গেল ২৯ বছরের তরুণের

যুক্তরাষ্ট্রের আইস বন্দিশিবিরের খাবার পানিতে কিলবিল করছে পোকা, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়

যুক্তরাষ্ট্রের আইস বন্দিশিবিরের খাবার পানিতে কিলবিল করছে পোকা, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে নিজ বাসা থেকে বাবা ও দুই মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার, শোকাহত কমিউনিটি

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে নিজ বাসা থেকে বাবা ও দুই মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার, শোকাহত কমিউনিটি

0 Comments