গুদামকে অভিবাসী আটক কেন্দ্র বানানোর পরিকল্পনা থেকে সরে এলো আইস
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) বহুল আলোচিত অভিবাসী আটক কেন্দ্র সম্প্রসারণ প্রকল্প থেকে সরে আসছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কেনা ১১টি শিল্প গুদামের মধ্যে ৭টিই বিক্রি অথবা অন্য ফেডারেল সংস্থার কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
অভিবাসন আটক ব্যবস্থাকে বড় পরিসরে পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে ইতোমধ্যে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যমান ব্যবস্থার বাইরে নতুন বড় পরিসরের আটক কেন্দ্র গড়ে তোলা।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, তারা এখন স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত বিদ্যমান আটক কেন্দ্রগুলোকেই অগ্রাধিকার দেবে। সংস্থাটির ভাষ্য, আটক ব্যক্তিদের দ্রুত অপসারণই প্রধান লক্ষ্য, নতুন অবকাঠামো নির্মাণে অতিরিক্ত ব্যয় নয়।
এক বিবৃতিতে ডিএইচএস বলেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো উচিত। করদাতাদের অর্থ ব্যয় করে দীর্ঘ সময় তাদের আটক রাখার প্রয়োজন নেই।
এই সিদ্ধান্তের ফলে আইসের ‘ডিটেনশন রি-ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিশিয়েটিভ’ নামে পরিচিত ৩৮ বিলিয়ন ডলারের বৃহৎ পরিকল্পনা কার্যত স্থগিত হয়ে গেল। পরিকল্পনাটির লক্ষ্য ছিল ২০০টির বেশি আটক কেন্দ্রকে সংকুচিত করে ৩৪টি ফেডারেল নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্র গড়ে তোলা।
ট্রাম্প প্রশাসন আগে জানিয়েছিল, অভিবাসী আটক সক্ষমতা বৃদ্ধি তার গণ-নির্বাসন নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে নতুন গুদামগুলোকে আটক কেন্দ্রে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে পড়ে।
এ প্রকল্প স্থানীয় পর্যায়েও ব্যাপক বিরোধিতার মুখে পড়ে। মিশিগান, নিউ জার্সি, মেরিল্যান্ড, জর্জিয়া ও ইউটাহসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় প্রশাসন এবং অধিকারকর্মীরা পরিবেশগত ও অবকাঠামোগত ঝুঁকির বিষয় তুলে ধরে মামলা করেন। এর ফলে কয়েকটি আদালত নির্মাণকাজ স্থগিতের নির্দেশ দেয়।
সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয় মিশিগানের রোমুলাস শহরের একটি বড় গুদামকে ঘিরে। সেখানে প্রায় ৫০০ জনকে রাখার পরিকল্পনা ছিল। পরে মিশিগানের অ্যাটর্নি জেনারেল ডানা নেসেল এই সিদ্ধান্তকে জনচাপ ও আইনি লড়াইয়ের ফলাফল বলে মন্তব্য করেন।
বর্তমানে ডিএইচএস জানিয়েছে, মিশিগান, নিউ জার্সি, পেনসিলভানিয়া, জর্জিয়া এবং ইউটাহর কয়েকটি সম্পত্তি বিক্রি অথবা প্রকল্প বাতিল করা হবে। তবে টেক্সাস, অ্যারিজোনা এবং মেরিল্যান্ডে কিছু প্রকল্প এখনও চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে, আইস এখন বেসরকারি আটক কেন্দ্র পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে নতুন সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংস্থাটির আগে থেকেই চুক্তি রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় চলাচলকারী ১০ লাখেরও বেশি ক্রাইসলার (Chrysler) গাড়ি সম্প্রতি রিকল বা মেরামতের জন্য ডেকে পাঠিয়েছে ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NHTSA)। একটি তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আমেরিকান ব্র্যান্ডটি তাদের র্যাম ১৫০০ (Ram 1500) মডেলের গাড়িগুলোর সিটবেল্ট বাকল অ্যাঙ্কর সঠিকভাবে সংযুক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তৈরি করা এই মডেলের গাড়িগুলোর দ্বিতীয় সারির সিটবেল্ট অ্যাঙ্করগুলোতে ত্রুটি পাওয়া গেছে, যা কেন্দ্রীয় মোটরযান নিরাপত্তা মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে যে, গাড়ি চালানোর নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে বা দুর্ঘটনার সময় এই ত্রুটিপূর্ণ সিটবেল্টের কারণে যাত্রীরা মারাত্মকভাবে আহত হতে পারেন। তবে সামনের সারির সিটবেল্টগুলোতে কোনো সমস্যা নেই বলে নিশ্চিত করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। এই রিকল প্রক্রিয়ার আওতায় বিপুল সংখ্যক গাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ১২ লক্ষ ৭১ হাজার ২৯৪টি গাড়ি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এছাড়া কানাডায় ১ লক্ষ ৫৬ হাজার ১৩৮টি, মেক্সিকোতে ১৫ হাজার ৮৮টি এবং উত্তর আমেরিকার বাইরের দেশগুলোতে আরও ৭৪ হাজার ৮৪টি র্যাম গাড়ি এই ত্রুটির শিকার হয়েছে। র্যাম-এর মূল প্রতিষ্ঠান স্টেলান্টিস (Stellantis) জানিয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ সিটবেল্টের কারণে এখন পর্যন্ত একজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। গ্রাহকদের নিরাপত্তার স্বার্থে আগামী ১৮ আগস্ট, ২০২৬ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির মালিকদের কাছে চিঠির মাধ্যমে নোটিশ পাঠানো শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রিকলের আওতাভুক্ত গাড়ির চালকদের তাদের নিকটস্থ ডিলারের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেখানে বিনামূল্যে সিটবেল্ট বাকল অ্যাঙ্করটি পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী বডির সাথে সঠিকভাবে সংযুক্ত করে দেওয়া হবে। গ্রাহকরা চাইলে ক্রাইসলারের কাস্টমার সার্ভিস নম্বরে (১-৮০০-৮৫৩-১৪০৩) যোগাযোগ করে ‘৬৭ডি’ (67D) রিকল নম্বরটি উল্লেখ করে বিস্তারিত জানতে পারবেন। এছাড়া, ৬ আগস্ট, ২০২৬ থেকে NHTSA.gov ওয়েবসাইটে গিয়ে গাড়ির ইন্স্যুরেন্স কার্ড, রেজিস্ট্রেশন কাগজ বা ড্যাশবোর্ডে থাকা ১৭-ডিজিটের ভেহিকেল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (VIN) দিয়েও যাচাই করা যাবে গাড়িটি রিকলের অন্তর্ভুক্ত কি না। উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে ব্রেক লাইট ফেইলিউরের কারণেও প্রতিষ্ঠানটিকে সাড়ে ৪ লাখেরও বেশি গাড়ি এবং ২ হাজারেরও বেশি টো-ট্রেইলার মডিউল রিকল করতে হয়েছিল।
লস অ্যাঞ্জেলেসবাসীর জন্য সুখবর, ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবহারেই মিলবে ৬০০ ডলার পুরস্কার
ক্যালিফোর্নিয়ার হাসপাতালগুলোর জন্য দুঃসংবাদ, বাতিল হচ্ছে ঋণ মওকুফের গুরুত্বপূর্ণ বিল
মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক সেনেট প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হলেন মুসলিম নেতা আব্দুল এল-সায়েদ
ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র তার সাবেক বাগদত্তা কিম্বার্লি গিলফয়েলের সাথে যৌথ সম্পত্তির শেষ আইনি বাঁধনও আনুষ্ঠানিকভাবে ছিন্ন করেছেন। ফ্লোরিডার পাম বিচে অবস্থিত তাদের যৌথ মালিকানাধীন বিলাসবহুল ওয়াটারফ্রন্ট ম্যানশনে কিম্বার্লির অংশ কিনে নিতে তাকে ৭.৬ মিলিয়ন (৭৬ লাখ) মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছেন ট্রাম্প জুনিয়র। গত ৩ আগস্ট পাম বিচ কাউন্টিতে জমা দেওয়া অফিসিয়াল দলিলের ভিত্তিতে স্থানীয় গণমাধ্যম এই সম্পত্তি হাতবদলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ফ্লোরিডার ক্যালিফোর্নিয়া এলাকার অভিজাত 'অ্যাডমিরালস কোভ' ইন্টারকোস্টাল ওয়াটারওয়েতে অবস্থিত এই ম্যানশনটি ২০২১ সালে যৌথভাবে ৯.৭ মিলিয়ন ডলারে কিনেছিলেন এই প্রাক্তন যুগল। ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর নিউ ইয়র্ক ছেড়ে ট্রাম্প পরিবারের বেশিরভাগ সদস্য ফ্লোরিডায় স্থানান্তরিত হওয়ার সময় তারা এই সম্পত্তিটি নিজেদের আয়ত্তে নেন। প্রায় ১১,২৭০ বর্গফুটের বিশাল এই দোতলা প্রাসাদে রয়েছে ৬টি বেডরুম, ১১টি বাথরুম, নিজস্ব লিফট, সুইমিং পুল এবং ব্যক্তিগত বোট ডক। ৫৭ বছর বয়সী কিম্বার্লি গিলফয়েল বর্তমানে গ্রিসে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিম্বার্লির সাথে বিচ্ছেদের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র সম্প্রতি পাম বিচের সামাজিক ব্যক্তিত্ব বেটিনা অ্যান্ডারসনকে বিয়ে করেছেন। জানা গেছে, পাম বিচেই ট্রাম্পের নিজস্ব রিসোর্ট মার-এ-লাগোর কাছাকাছি এলাকায় প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যে একটি খালি জমি কিনেছেন এই নবদম্পতি, যেখানে তারা পরিবার নিয়ে নতুন বাড়ি তৈরির পরিকল্পনা করছেন। এই কেনাবেচার মাধ্যমে কিম্বার্লির সাথে যৌথ সম্পত্তির শতভাগ নিয়ন্ত্রণ ট্রাম্প জুনিয়রের হাতে এলো।
নিউ জার্সিতে ইসলাম গ্রহণের পর অঙ্গদাতার তালিকা থেকে নাম সরিয়েছিলেন কেইথ, কিন্তু মৃত্যুর পর অঙ্গ নিতে মরিয়া সংস্থা
নিউইয়র্কে ৫০০ ডলারেরও কম রেন্টে অ্যাপার্টমেন্ট! শুরু হলো নতুন হাউজিং লটারি
সাবেক বুয়েট শিক্ষার্থী ও এনভিডিয়া ডেটা সায়েন্টিস্ট ইরফানের মৃত্যু ঘিরে নতুন প্রশ্ন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদিবাসী সম্প্রদায়ের বহুমূল্যের ক্যাসিনো জয়ের স্বপ্ন মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বড়সড় হোঁচট খেয়েছে। 'স্কটস ভ্যালি ব্যান্ড অব পোমো ইন্ডিয়ানস' নামের ওই আদিবাসী গোষ্ঠী তাদের নবনির্মিত একটি প্রিভিউ ক্যাসিনোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। মার্কিন ফেডারেল সরকার হঠাৎ করেই ভ্যালেজোতে অবস্থিত তাদের ৭০০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল ক্যাসিনো রিসোর্ট প্রকল্পের অনুমোদন বাতিল করার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গত ২৫ জুলাই কলম্বাস পার্কওয়ের কাছে অস্থায়ী মডিউলার ভবনে আমন্ত্রণভিত্তিক এই ক্যাসিনোটির দরজা খোলা হয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তর (ডিপার্টমেন্ট অব দ্য ইন্টেরিয়র) আচমকা তাদের পূর্বের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে গত ১ আগস্ট এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। মার্কিন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পেছনের মূল কারণ হলো ভূমির ওপর ঐতিহাসিক অধিকারের প্রমাণ। ইন্ডিয়ান অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম এইচ. কার্কল্যান্ড থ্রি এক সিদ্ধান্তে জানিয়েছেন যে, ভ্যালেজোর ওই জমিটি আদিবাসীদের ঐতিহাসিক ভূমির আওতায় ক্যাসিনো নির্মাণের আইনি শর্ত পূরণ করে না। ফলে, 'রিস্টোরড ল্যান্ডস' বা পুনরুদ্ধারকৃত ভূমি আইনের আওতায় ওই গোষ্ঠী সেখানে কোনো গেমিং বা জুয়া কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। এই রায়ের ফলে আন্তঃরাজ্য ৮০ এবং কলম্বাস পার্কওয়ের কাছে ১৬০ একর জায়গাজুড়ে একটি আটতলা ক্যাসিনো, রেস্তোরাঁ, বার, বলরুম, দুটি আবাসিক এলাকা এবং ৪৫ একরের জৈবিক সংরক্ষণাগার নির্মাণের যেই বিশাল পরিকল্পনা ছিল, তা বর্তমানে আইনি জটিলতার মুখে পড়েছে। এই রায়টি মূলত ক্যাসিনোবিরোধীদের জন্য একটি বড় জয়। 'ইয়োচা দেহে উইন্টুন নেশন'-এর মতো বিরোধী গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিল যে, ভ্যালেজোর ওই জায়গাটি মূলত প্যাটোইনদের পৈতৃক ভূখণ্ডের অংশ এবং স্কটস ভ্যালি গোষ্ঠীর এই জমির ওপর কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। তবে স্কটস ভ্যালি ব্যান্ড এখনো হাল ছাড়তে রাজি নয়। গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান শন ডেভিস জানিয়েছেন, তারা ফেডারেল আদালতে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে যাবেন। তার দাবি, প্রশাসনিক নথিপত্র প্রমাণ করে যে তারা ক্যাসিনো নির্মাণের সম্পূর্ণ যোগ্য এবং তারা দ্রুত এই অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে যাচ্ছেন। বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ায় আদিবাসী সম্প্রদায়ের ক্যাসিনো শিল্প যখন ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে, ঠিক তখনই জমি, সার্বভৌমত্ব এবং কোটি কোটি ডলারের রাজস্ব নিয়ে এই ধরনের আইনি লড়াই রাজ্যজুড়ে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম 'ফোর্ট মোহাভি ইন্ডিয়ান ট্রাইব'-এর সাথে ২৫ বছরের একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন, যা নিয়ে সমালোচকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ওই চুক্তির আওতায় সম্প্রদায়টি রাজ্য সরকারকে কোনো লভ্যাংশ না দিয়েই বড় পরিসরে ক্যাসিনো চালানোর সুযোগ পেয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া গেমিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাইল কার্কল্যান্ড মনে করেন, এ ধরনের চুক্তির ফলে রাজ্য প্রতি বছর শত শত কোটি ডলারের রাজস্ব হারাচ্ছে। এই বৃহত্তর বিতর্কের মধ্যেই স্কটস ভ্যালি ব্যান্ডের ৭০০ মিলিয়ন ডলারের মেগা রিসোর্টের ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি আদালতের রায়ের ওপর ঝুলে আছে।
নিউইয়র্কে আশ্রয়প্রার্থী ৫৯ বছর বয়সী রুশ নারীকে শিকল পরিয়ে বন্দিশিবিরে পাঠানোর অভিযোগ
আমেরিকানদের জন্য ২,০০০ ডলারের স্টিমুলাস চেক, গুজব নাকি সত্য?