বার্থরাইট সিটিজেনশিপ বাতিলের উদ্যোগ ট্রাম্পের, রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে থাকা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বা ‘বার্থরাইট সিটিজেনশিপ’ আইনটি বর্তমানে এক নতুন আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী অনুযায়ী, দেশটিতে জন্মগ্রহণকারী বা প্রাকৃতীকৃত যেকোনো ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে পরিগণিত হন।
কিন্তু ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারির মাধ্যমে এই নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন। ট্রাম্পের আদেশে বলা হয়, চতুর্দশ সংশোধনী কখনোই যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী সবার জন্য সর্বজনীনভাবে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলেনি। মূলত অবৈধ বা সাময়িকভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করাই এই আদেশের লক্ষ্য, যার ফলে দেশটিতে প্রতি বছর প্রায় আড়াই লাখ শিশু নাগরিকত্বহীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। বর্তমানে একটি নিম্ন আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে আদেশটি সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলেও বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চতুর্দশ সংশোধনীর পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ও তাৎপর্যপূর্ণ ঐতিহাসিক পটভূমি। ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক আমান্ডা ফ্রস্ট জানান, ১৮৫৭ সালের কুখ্যাত ‘ড্রেড স্কট বনাম স্যান্ডফোর্ড’ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল যে কোনো কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি কখনোই মার্কিন নাগরিক হতে পারবেন না। এই বৈষম্যমূলক ও কলঙ্কজনক রায়ের জবাব দিতেই ১৮৬৮ সালে গৃহযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে চতুর্দশ সংশোধনী পাস করা হয়, যার মাধ্যমে সাবেক দাস এবং ক্রমবর্ধমান অভিবাসীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ১৮৯৮ সালে ‘ওং কিম আর্ক’ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট চীনা বংশোদ্ভূত এক মার্কিনির পক্ষে রায় দিয়ে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকারকে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করে। তবে পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন জনগণ বর্তমানে প্রায় সমানভাবে বিভক্ত; ৫০ শতাংশ মানুষ এর পক্ষে এবং ৪৯ শতাংশ বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন তাদের এই পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করাতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রজার্স স্মিথের ১৯৮৫ সালের একটি গবেষণার কথা জোরালোভাবে উল্লেখ করেছে। স্মিথ বিশ্বাস করেন, অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব সীমিত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কংগ্রেসের থাকা উচিত, আদালতের নয়। তবে মজার বিষয় হলো, স্মিথ নিজেই ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান এই উদ্যোগের ঘোর বিরোধী। নিজের গবেষণাকে কট্টর অভিবাসীবিরোধী উদ্দেশ্যে এবং নেতিবাচকভাবে ব্যবহার করায় তিনি চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে দেখা যায়, আমেরিকার বাইরের বেশিরভাগ দেশই জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের এই নীতি থেকে ক্রমশ সরে আসছে। ইউরোপের সর্বশেষ দেশ হিসেবে আয়ারল্যান্ড ২০০৫ সালে এক গণভোটের মাধ্যমে (৭৯ শতাংশ ভোটে) জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার বাতিল করে।
এর ফলে দেশটিতে অনেক শিশু রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ার মতো জটিলতায় ভোগে, যেমনটি ঘটেছিল নাইজেরীয় অভিবাসীর সন্তান মরিয়ম সোবায়োর ক্ষেত্রে, যিনি আয়ারল্যান্ডে জন্মেও ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত নাগরিকত্বহীন ছিলেন। অধ্যাপক ফ্রস্ট মনে করেন, অভিবাসীদের আপন করে নেওয়ার এই দীর্ঘস্থায়ী নীতিই আমেরিকাকে অনন্য করে তুলেছে। ফরচুন ৫০০ কোম্পানিগুলোর প্রায় অর্ধেকই আজ অভিবাসী বা তাদের সন্তানদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবার সমতা নিশ্চিত করার এই সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করা কখনোই অভিবাসন সমস্যার সঠিক সমাধান হতে পারে না।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreসাইকেল চালাতে খুব ভালোবাসত ১৫ বছরের দারিয়া সারকভ। নিয়মিত সাইকেল চালানোর স্মৃতির মধ্যে সিটি বাইকে তোলা একটি ছবিও রয়েছে তার। কিন্তু এক বছর পর সেই সিটি বাইকেই চড়ে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল কিশোরীটি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ম্যানহাটনের ইস্ট ভিলেজ এলাকায় ১৪তম স্ট্রিটে ১৩ বছর বয়সী এক বন্ধুর সঙ্গে সিটি বাইকে যাচ্ছিল দারিয়া। এ সময় একটি ভারী নির্মাণকাজের ট্রাকের সঙ্গে তার সাইকেলের সংঘর্ষ হয়। গুরুতর আহত দারিয়াকে উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলেই প্রায় ১০ মিনিট ধরে বাঁচানোর চেষ্টা করেন জরুরি সেবাকর্মীরা। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনায় দারিয়া ও তার সাইকেল ভারী গাড়িটির নিচে আটকে যায় বলে জানা গেছে। তার সঙ্গে থাকা ১৩ বছর বয়সী বন্ধুটিও আহত হয়েছে এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক ঘটনাস্থলেই ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দারিয়ার পরিণতি বুঝতে পেরে চালক কান্নায় ভেঙে পড়েন। দারিয়ার পরিবারের এক বন্ধু ক্রিস জ্যানসেন জানিয়েছেন, পরিবারের জন্য এই কঠিন সময়ে সহায়তা করতে তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে। দারিয়ার শেষকৃত্যসহ অন্যান্য খরচ এবং পরিবারকে সহযোগিতার জন্য এই অর্থ ব্যবহার করা হবে। রোববার সকাল পর্যন্ত তহবিলে ৬২ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি জমা পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দারিয়ার সাইকেল চালানোর বেশ কিছু ছবি রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবরে তোলা একটি ছবিতে তাকে সিটি বাইকে দেখা যায়। দুর্ঘটনার প্রায় এক বছর আগে তোলা সেই ছবিটি এখন পরিবারের কাছে দারিয়ার আনন্দময় সময়ের একটি বেদনাদায়ক স্মৃতি হয়ে উঠেছে। দারিয়ার যমজ বোন গ্রেটার পাশেও দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন পরিবারের বন্ধুরা। পরিবারের বন্ধু জ্যানসেন দারিয়ার পরিবারকে এই কঠিন সময়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।
জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে নিউইয়র্কে মুখোমুখি ট্রাম্প-মামদানি, বৈঠক গ্রেসি ম্যানশনে
অবৈধ ভোট ও নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৬ জনকে অভিযুক্ত করল বিচার বিভাগ
গ্রিন কার্ডধারীর বিরুদ্ধে অবৈধ ভোটের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রে প্তার মেক্সিকান নাগরিক
যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষের ধারণা, স্বচ্ছন্দে অবসরজীবন কাটাতে প্রায় ১২ লাখ ডলার সঞ্চয় থাকা দরকার। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত শ্রোডার্সের এক জরিপেও এমন তথ্য উঠে এসেছে। তবে অবসরের পর এই অর্থ কতদিন চলবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে আপনি যুক্তরাষ্ট্রের কোন রাজ্যে বসবাস করছেন তার ওপর। ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান মানিলায়ন ১২ লাখ ডলার অবসর সঞ্চয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি রাজ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি কত বছর চলতে পারবেন, তার একটি হিসাব করেছে। এতে দুটি পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে—একটি ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রতি মাসে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা পাবেন, অন্য ক্ষেত্রে পাবেন না। হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে কম খরচের রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ওকলাহোমা। সেখানে ৬৭ বছর বয়সে অবসর নিলে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ৪৪ দশমিক ৬ বছর চলতে পারে। অর্থাৎ সঞ্চয় শেষ হতে পারে ১১১ বছর বয়সের কাছাকাছি গিয়ে। সোশ্যাল সিকিউরিটি না থাকলেও এই অর্থ সেখানে প্রায় ২৩ দশমিক ৪ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে। এরপর রয়েছে আলাবামা, মিসিসিপি, কানসাস ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। এসব রাজ্যে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলার যথাক্রমে প্রায় ৪৩ দশমিক ১, ৪২, ৪০ দশমিক ৮ ও ৪০ দশমিক ৫ বছর চলতে পারে। ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, মিসৌরি, টেনেসি ও আরকানসাসেও একই অর্থ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় চলার হিসাব পাওয়া গেছে। টেনেসিতে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ প্রায় ৩৯ দশমিক ৭ বছর এবং সুবিধা ছাড়া প্রায় ২২ বছর চলতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল রাজ্যগুলোতে একই পরিমাণ অর্থ অনেক দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মানিলায়নের বিশ্লেষণে হাওয়াইকে সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবস্থানগুলোর একটি হিসেবে পাওয়া গেছে। সেখানে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা থাকলেও ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ১৩ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে। হাওয়াইয়ের পর ম্যাসাচুসেটস, ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, আলাস্কা ও নিউইয়র্কেও অবসরের নির্দিষ্ট বাজেট তুলনামূলক দ্রুত শেষ হওয়ার হিসাব পাওয়া গেছে। তবে ১২ লাখ ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছানোও অনেক আমেরিকানের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। শ্রোডার্সের জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, অবসরের বয়সে পৌঁছানোর আগে তারা সাত অঙ্কের সঞ্চয় করতে পারবেন। সোশ্যাল সিকিউরিটি নিয়েও অনিশ্চয়তা এদিকে সোশ্যাল সিকিউরিটির ভবিষ্যৎ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা চলছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, ২০৩২ সালের দিকে কর্মসূচিটির তহবিল সংকটে পড়তে পারে এবং সংস্কার না হলে সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আইনপ্রণেতারা আলোচনা করছেন। সিনেটর ডিক ডারবিন ও বিল ক্যাসিডি এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছেন, যার লক্ষ্য হলো সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসর তহবিলকে অন্তত ৫০ বছর আর্থিকভাবে টেকসই রাখার জন্য নতুন আইন প্রণয়নের পথ তৈরি করা। ক্যাসিডি ও সিনেটর টিম কেইন-এর আরেকটি প্রস্তাবে ৭৫ বছরের জন্য শেয়ারবাজারসহ তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে প্রাথমিক অর্থ ট্রেজারি বিভাগের অতিরিক্ত ঋণের মাধ্যমে জোগানের কথা রয়েছে। অন্যদিকে, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও বার্নি মোরেনো সোশ্যাল সিকিউরিটির বেতনভিত্তিক করের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার আয় পর্যন্ত এই কর প্রযোজ্য। তাদের যুক্তি, উচ্চ আয়ের মানুষের ওপর করের আওতা বাড়ালে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত অর্থ পাওয়া যেতে পারে। তবে রক্ষণশীল কয়েকটি সংগঠন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, কর বাড়লে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে মজুরি ও কর্মসংস্থানে।
১২ লাখ ডলারে অবসরজীবন, কোনো স্টেটে ৪৪ বছর আবার কোথাও মাত্র ১৩ বছর
ভুয়া ফুটবলার সেজে ১৩ কোটি টাকার প্র তা র ণা, সামনে এল আরও ৩৫ নারী
স্মৃতিস্তম্ভের বদলে সামরিক কমপ্লেক্স! ট্রাম্পের আর্চে থাকবে ড্রোন-স্নাইপার
যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট মোকাবিলায় বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের হার বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে মাঝারি আয়ের একজন পূর্ণকালীন কর্মীর বছরে সর্বোচ্চ প্রায় ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত ট্যাক্স দিতে হতে পারে। নতুন এক হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত হার কতটা বাড়ানো হবে তার ওপর নির্ভর করে এই অতিরিক্ত খরচের পরিমাণ পরিবর্তিত হবে। সোশ্যাল সিকিউরিটির মাসিক সুবিধা পরিশোধে সহায়তা করা ট্রাস্ট তহবিল ২০৩২ সালের শেষ তিন মাসে শেষ হয়ে যেতে পারে বলে সর্বশেষ ট্রাস্টি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তহবিলের ঘাটতি পূরণে অন্য কোনো ব্যবস্থা না নিলে তখন সুবিধাভোগীদের জন্য একসঙ্গে ২২ শতাংশ পর্যন্ত সুবিধা কমানোর প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটির বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের হার ১২ দশমিক ৪ শতাংশ। এই ট্যাক্স কর্মী ও নিয়োগকর্তা সমানভাবে বহন করেন। ২০২৬ সালে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার আয় পর্যন্ত এই ট্যাক্স প্রযোজ্য। সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট সামাল দিতে এই হার বাড়ানোর বিষয়টি অর্থনীতিবিদ ও রাজনীতিকদের বিভিন্ন প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে। ক্যাটো ইনস্টিটিউটের এক হিসাব অনুযায়ী, বছরে ৬১ হাজার ৫৮৩ ডলার আয় করা একজন মাঝারি আয়ের পূর্ণকালীন কর্মীর অতিরিক্ত ট্যাক্স বছরে প্রায় ২ হাজার ৬১৭ থেকে ৩ হাজার ২৪ ডলারের মধ্যে হতে পারে। এই হিসাব নির্ভর করছে নতুন বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের হার কত নির্ধারণ করা হবে এবং সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট মোকাবিলায় অন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না তার ওপর। সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্রাস্টিরা চলতি বছর হিসাব করে দেখেছেন, তহবিলের দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি পূরণে বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের হার ১৬ দশমিক ৬৫ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে, কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের আগের এক হিসাব অনুযায়ী, এই হার ১৭ দশমিক ৩১ শতাংশ হলে অর্থসংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হতে পারে। তবে অতিরিক্ত ট্যাক্সের পুরোটা কর্মীর বেতন থেকে কাটা হবে এমন নয়। কারণ বর্তমানে এই ট্যাক্স কর্মী ও নিয়োগকর্তার মধ্যে ভাগ করা থাকে। তবে যারা স্বনিযুক্ত, তাদের পুরো যৌথ হার নিজেরাই পরিশোধ করতে হয়। ফলে ট্যাক্সের হার বাড়লে এই শ্রেণির কর্মীদের ওপর সরাসরি বেশি আর্থিক চাপ পড়তে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ট্যাক্স বাড়ার প্রভাব শুধু বেতন থেকে কেটে নেওয়া অর্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ অ্যালেক্স ডুরান্তের মতে, অর্থনৈতিক তত্ত্ব অনুযায়ী নিয়োগকর্তার অংশের বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের বোঝাও দীর্ঘমেয়াদে কর্মীদের কম মজুরির মাধ্যমে বহন করতে হতে পারে। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের একটি বিশ্লেষণেও বেতনভিত্তিক ট্যাক্স বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে হিসাব দেওয়া হয়েছে। এতে দেখা যায়, এক শতাংশীয় পয়েন্ট ট্যাক্স বাড়ানো হলে স্বল্পমেয়াদে কর্মীরা এর প্রায় ৫৮ শতাংশ আর্থিক প্রভাব বহন করতে পারেন। দীর্ঘমেয়াদে এই চাপ আরও বাড়তে পারে। সামাজিক নিরাপত্তার মতো অর্থ স্থানান্তরমূলক ব্যয়ে রাজস্ব ব্যবহার করা হলে কর্মীদের ওপর মোট আর্থিক প্রভাব রাজস্ব বৃদ্ধির পরিমাণের চেয়েও বেশি হতে পারে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট মোকাবিলায় শুধু ট্যাক্সের হার বাড়ানোর প্রস্তাবই নেই। বর্তমানে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার আয় পর্যন্ত যে ট্যাক্স প্রযোজ্য, সেই সীমা বাড়ানোর দাবিও রয়েছে। সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও সিনেটর বার্নি মোরেনোসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা বেশি আয়ের মানুষের ওপর আরও বেশি ট্যাক্স আরোপের জন্য এই সীমা বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে এই পরিকল্পনা নিয়েও মতভেদ রয়েছে। সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, আয়সীমা তুলে দেওয়ার মতো একটি পরিকল্পনা তহবিলকে মাত্র চার বছর পর্যন্ত ঘাটতির বাইরে রাখতে পারে। এরপর আবার অর্থসংকট দেখা দিতে পারে। আরও কিছু প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে পূর্ণ অবসর বয়স ধীরে ধীরে বাড়ানো এবং বার্ষিক জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা কোলা সুবিধার পরিমাণ সীমিত করা। বর্তমানে পূর্ণ অবসর বয়স ৬৭ বছর। প্রতি বছর তিন মাস করে এটি বাড়ানোর একটি প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপকে কার্যত সুবিধা কমানোর পদ্ধতি হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এগুলোও বিরোধিতার মুখে পড়েছে। ২০২৪ সালের সেন্টার ফর আমেরিকান প্রগ্রেসের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পূর্ণ অবসর বয়স ৬৯ বছরে উন্নীত করা হলে তা পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর নতুন অবসরগ্রহণকারীদের সুবিধা সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। বিশ্লেষণে বলা হয়, বার্ষিক কোলা হিসাব করলে বয়স বাড়ার সঙ্গে এই আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এদিকে নির্দিষ্ট অঙ্কের কোলা নির্ধারণের একটি প্রস্তাব নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। এই প্রস্তাবে ২০তম শতাংশক স্তরের একজন সুবিধাভোগী যে কোলা পান, সেটিকেই সবার জন্য নির্ধারিত করার কথা বলা হয়েছে। এআরপির মতে, এমন ব্যবস্থা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ৮০ শতাংশ মানুষ তুলনামূলক কম সুবিধা পেতে পারেন। সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা বাড়ছে। সাবেক মার্কিন মিন্ট পরিচালক ফিলিপ ডাইলের মতে, এই সংকট সমাধানে সম্ভবত একটি মাত্র পদক্ষেপ যথেষ্ট হবে না। তার মতে, একাধিক পদক্ষেপ একসঙ্গে নিতে হতে পারে এবং এর ফলে বিভিন্ন পক্ষকেই আর্থিক চাপ বহন করতে হবে।
ইউক্রেনকে ২.৬৮ বিলিয়ন ডলারের আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেবে যুক্তরাষ্ট্র
"ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে চাই", হোয়াইট হাউসের ফুটপাথে তুলে দিলেন গাড়ি