বিমানবন্দরে আইসিইর হাতে বাগদত্তা আটক, ট্রাম্পকে ভোট দিয়ে এখন অনুতপ্ত সমর্থক
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির সমালোচনা করলেন তারই এক সমর্থক। টেক্সাসের ৭৫ বছর বয়সী ব্যবসায়ী জন গ্যানন দাবি করেছেন, তার ভেনেজুয়েলীয় বাগদত্তা ইয়াসমিন সুয়ারেজ রেয়েসকে আইসিই (ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) আটক করার পর তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুতপ্ত।
নিউজউইক ও সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুলাইয়ের শেষ দিকে লাস ভেগাসে একটি আসবাবপণ্য শিল্প-সংক্রান্ত সম্মেলনে যাওয়ার পথে হিউস্টনের জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দরে আইসিই কর্মকর্তারা ৪৫ বছর বয়সী ইয়াসমিন সুয়ারেজ রেয়েসকে আটক করেন।
জন গ্যানন সিবিএস নিউজকে বলেন, বিমানবন্দরের ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের লাউঞ্জ থেকে বের হওয়ার পর আটজন আইসিই কর্মকর্তা তার বাগদত্তাকে ঘিরে ফেলেন। এরপর তাকে কারণ না জানিয়েই একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
আজীবন রিপাবলিকান সমর্থক গ্যানন বলেন, "অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন, এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আইন মেনে চলা সাধারণ মানুষ, পরিবার ও শিশুদের এভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো উচিত নয়। এতে পরিবার ভেঙে যাচ্ছে, মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, সুযোগ পেলে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করতেন, "আপনি আসলে কী করছেন?" ট্রাম্পকে আবার ভোট দেবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "এই ঘটনার পর আর কখনও নয়।"
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়াসমিন সুয়ারেজ রেয়েস স্পেন ও ভেনেজুয়েলার দ্বৈত নাগরিক। স্পেনের নাগরিক হওয়ায় তিনি ২০২৩ সালের ২৪ অক্টোবর ইএসটিএ বা ভিসা ছাড় কর্মসূচির আওতায় বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। এই কর্মসূচির অধীনে সর্বোচ্চ ৯০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সুযোগ রয়েছে।
তবে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যান এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। সিবিএস নিউজের তথ্যমতে, আবেদনটি বিচারাধীন থাকায় তিনি বৈধভাবে কাজের অনুমতিপত্র (ওয়ার্ক পারমিট) এবং টেক্সাসের ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েছিলেন। তার আশ্রয় আবেদন তখনও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস)-এর বিবেচনাধীন ছিল।
এদিকে নিউজউইকের প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানায়, সুয়ারেজ রেয়েস বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও তার অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ ২০২৪ সালের ১৯ জানুয়ারি শেষ হয়ে যায়। বিভাগটির ভাষ্য, বিচারাধীন অভিবাসন আবেদন নিজে থেকে কোনো বৈধ অভিবাসন মর্যাদা দেয় না। তার মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন একজন অভিবাসন বিচারক।
ডিএইচএস আরও জানায়, যাদের মূল ভিসা বা বৈধ অবস্থানের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তারা নতুন আবেদন করে থাকলেও আইনগতভাবে আটক হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।
বর্তমানে ইয়াসমিন সুয়ারেজ রেয়েস টেক্সাসের কনরো শহরের মন্টগোমারি প্রসেসিং সেন্টারে আইসিইর হেফাজতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপসারণ (রিমুভাল) সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দরে আইসিইর তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে যেসব অভিবাসীর নতুন আবেদন বিচারাধীন থাকলেও তাদের পূর্বের বৈধ অবস্থানের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান বাড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন অভিবাসন আইনজীবী ও অধিকারকর্মীরা। তাদের দাবি, সহজে আটক করা সম্ভব এমন ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তবে ডিএইচএস বলছে, তারা বিদ্যমান অভিবাসন আইন অনুযায়ীই ব্যবস্থা নিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে নিজের একটি বাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্ন সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এখনো এক কঠিন বাস্তবতা হয়ে রয়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছরের ধারাবাহিক পতনের পর দেশটির আবাসন খাতের সামর্থ্যের সূচক কিছুটা স্থিতিশীল হলেও, একটি বাড়ি কিনতে এখনো বছরে ৬ অঙ্কের বা কমপক্ষে এক লাখ মার্কিন ডলারের বেশি উপার্জনের প্রয়োজন পড়ছে। আবাসন খাতের স্বনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘রেডফিন’-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির উপাত্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে একটি গড়পরতার বাড়ি কেনা এবং তার বিপরীতে আয়ের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশের মধ্যে মাসিক ঋণের কিস্তি (মর্গেজ) সীমাবদ্ধ রাখার জন্য একটি পরিবারের বার্ষিক আয় প্রয়োজন অন্তত ১ লাখ ৯ হাজার ৭৯৬ ডলার। যদিও এক বছর আগে রেকর্ড ১ লাখ ১০ হাজার ৩৮২ ডলারের তুলনায় এই অঙ্ক মাত্র ০.৫ শতাংশ কমেছে, তবুও তা বেশিরভাগ মার্কিন নাগরিকের আয়ের সাধ্যের বাইরে। বাস্তবতার সঙ্গে এই প্রয়োজনীয় আয়ের বড় ফারাক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাধারণ পরিবারের গড় বার্ষিক আয় বর্তমানে ৮৭ হাজার ৫৯৯ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ বাড়লেও বাড়ি কেনার জন্য দরকারি অঙ্কের চেয়ে অনেক কম। হিসাব অনুযায়ী, একজন গড় আয়ের আমেরিকান পরিবার যদি একটি মাঝারি দামের বাড়ি কিনতে যায়, তবে তাদের মোট বার্ষিক আয়ের প্রায় ৩৮ শতাংশই চলে যাবে কেবল বাড়ির কিস্তি মেটাতে। পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে রেডফিনের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ইয়িংকি সু জানান, কয়েক বছর টানা অবস্থা খারাপ হওয়ার পর বাড়ি কেনার প্রয়োজনীয় আয়ের অঙ্কটি কিছুটা থমকে দাঁড়িয়েছে বা স্থিতিশীল হয়েছে। তবে এর মানে এই নয় যে সাধারণ আমেরিকানদের কাছে বাড়ি কেনা সহজ বা সাশ্রয়ী হয়ে গেছে। এখনো একজন সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় এবং স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি কেনার খরচের মধ্যে দুই অঙ্কের শতাংশের এক বিশাল ব্যবধান রয়ে গেছে। ফলে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে চাওয়া বহু প্রাক-ক্রেতা বাজারের বাইরে অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে এই সংকটের মধ্যেও অর্থনীতির খাতায় সামান্য কিছু স্বস্তির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় আয় ও প্রকৃত আয়ের মধ্যবর্তী ঘাটতি গত দুই বছরের তুলনায় কিছুটা সংকুচিত হয়েছে। দুই বছর আগে যেখানে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২৮ হাজার ৮৩৪ ডলার এবং গত বছর ছিল ২৬ হাজার ১২৫ ডলার, তা বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ১৯৭ ডলারে। পাশাপাশি বাজারে সক্রিয় বিক্রির জন্য থাকা মোট বাড়ির ৩৪.২ শতাংশ এখন সাধারণের কেনার সামর্থ্যের মধ্যে রয়েছে, যা এক বছর আগে ছিল ৩০.৫ শতাংশ। অন্যদিকে যারা জীবনে প্রথমবারের মতো প্রারম্ভিক স্তরের (এন্ট্রি-লেভেল) বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের ক্ষেত্রে খরচ সামান্য কমেছে। এ ধরনের বাড়ি কেনার জন্য বর্তমানে বার্ষিক ৭০ হাজার ৬৯৩ ডলার আয়ের প্রয়োজন, যা এক বছর আগের চেয়ে ১.৫ শতাংশ কম। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল এবং সান হোসে-এর মতো প্রধান প্রধান মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে আবাসন সাশ্রয়ের সূচকে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, আমেরিকার বড় বড় শহরগুলোর মধ্যে কেবল সেন্ট লুইস, ইন্ডিয়ানাপলিস এবং পিটসবার্গ এই তিনটি শহরেই সাধারণ পরিবারের বর্তমান গড় আয় দিয়ে একটি মাঝারি মানের বাড়ি কেনা সম্ভব হচ্ছে।
বিমানবন্দরে আইসিইর হাতে বাগদত্তা আটক, ট্রাম্পকে ভোট দিয়ে এখন অনুতপ্ত সমর্থক
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সৃষ্ট নতুন চাকরির প্রায় ৯০ শতাংশই পেয়েছেন নারীরা, কারণ জানালেন অর্থনীতিবিদ
শব্দদূষণ নিয়ে তুচ্ছ তর্ক: যুক্তরাষ্ট্রে মা ও ১৭ বছরের কিশোরীকে গুলি করে হত্যা প্রতিবেশীর
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ম্যাককিনি শহরে অবৈধ স্ট্রিট রেসিং বা রাস্তায় গাড়ির প্রতিযোগিতার এক মর্মান্তিক পরিণতি সামনে এসেছে। ড্যাশবোর্ড ক্যামেরায় ধরা পড়া ভয়ংকর এক ভিডিওর সূত্র ধরে জানা যায়, রাস্তায় নিজেদের ইগো বা অহংকার দেখাতে গিয়ে শুরু হওয়া এই গতির লড়াই শেষ হয়েছে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে, যেখানে প্রাণ হারিয়েছেন এক নিরীহ প্রবীণ দম্পতি। গত ১৭ জুলাই ঘটা এই ভয়ংকর দুর্ঘটনার পর সন্দেহভাজন এক চালকের গাড়ির ড্যাশকাম ফুটেজ ব্যবহার করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন স্থানীয় তদন্তকারীরা। ফক্স ৪ ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থের এক সাম্প্রতিক সম্প্রচারে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ট্র্যাজেডিটি ঘটে শহরের কাস্টার রোড এবং বেডফোর্ড লেনের সংযোগস্থলে। পুলিশের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থেকে জানা যায়, ৫১ বছর বয়সী জেমস আরমন্ট তার ২০২১ মডেলের বিএমডব্লিউ (BMW) গাড়ি নিয়ে ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়েছিলেন। তার ঠিক পাশেই ছিল ২২ বছর বয়সী ব্রেডেন মসের একটি গাঢ় রঙের টেসলা গাড়ি। সিগন্যাল ছাড়ার সাথে সাথেই টেসলা গাড়িটি তীব্র বেগে ছুটে গেলে আরমন্টের ড্যাশক্যামে তার ভয়ংকর প্রতিক্রিয়া ধরা পড়ে। ফুটেজে তাকে বলতে শোনা যায়, "তুমি কি আমার রেসিং টায়ারের সাথে রেস করার চেষ্টা করছ? মজা করছ নাকি!" তদন্তকারীরা জানান, ভিডিওতে আরমন্টকে পাগলের মতো হাসতে হাসতে টেসলাটিকে ধরার জন্য বেপরোয়াভাবে গাড়ির গতি বাড়াতে দেখা যায়। শহরের রাস্তার ওপর দিয়ে দুটি গাড়ি যখন উড়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই ৭৭ বছর বয়সী উইলিয়াম লাজারাস এবং তার স্ত্রী ৭৭ বছর বয়সী সান্দ্রা লাজারাসকে বহনকারী একটি রুপালি রঙের হুন্দাই এসইউভি (SUV) রাস্তায় প্রবেশ করে। টেসলা গাড়িটি কোনোমতে এসইউভিটিকে এড়িয়ে যেতে পারলেও, আরমন্টের বিএমডব্লিউ গাড়িটি সোজা গিয়ে হুন্দাইয়ের যাত্রীর দিকের অংশে সজোরে ধাক্কা মারে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ৫০ মাইল গতির ওই জোনে দুর্ঘটনার ঠিক আগ মুহূর্তে বিএমডব্লিউটির গতি ছিল ঘণ্টায় বিস্ময়কর ১১২ মাইল। ভয়াবহ এই দৃশ্য দেখে ছুটে আসা এক প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের জানান, সেখানে কোনো ব্রেক করার শব্দ বা গাড়ির চাকা পিছলে যাওয়ার (স্কিড) চিহ্ন ছিল না, কেবল পরপর কয়েকটি বিকট শব্দ শোনা গিয়েছিল। ঘটনাস্থলেই উইলিয়াম ও সান্দ্রা লাজারাসকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এই দম্পতি অ্যালেন ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের দীর্ঘদিনের কর্মী ছিলেন এবং স্থানীয় কমিউনিটিতে অত্যন্ত প্রিয় মুখ ছিলেন। ভয়াবহ এই সংঘর্ষের ফলে আরমন্ট তার নিজের গাড়ির ভেতরেই আটকা পড়েন। তার মুখের হাড়, লিভার ও প্লীহা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উরুর হাড় ভেঙে যায়। হাসপাতালে সংক্ষিপ্ত চিকিৎসার পর ২১ জুলাই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। কলিন কাউন্টির জেল রেকর্ড অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে সেকেন্ড-ডিগ্রি নরহত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে এবং প্রতিটি অভিযোগের জন্য ৭৫ হাজার ডলার করে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের জামিন নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, টেসলার চালক ব্রেডেন মস গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরপরই কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধেও সড়কে অবৈধ রেস করে মৃত্যু বা আঘাতের কারণ হওয়ার দুটি গুরুতর অভিযোগ (ফেলোনি) আনা হয়েছে। ড্যাশক্যামের এই ভয়ংকর ভিডিওটি একটি নির্মম সতর্কবার্তা যে, পাবলিক রাস্তায় নেওয়া একটি বেপরোয়া সিদ্ধান্ত কীভাবে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
নিউইয়র্কে কম খরচে থাকার সুযোগ, আবাসন লটারিতে ভাড়া মাত্র ৫০০ ডলার
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাওয়ারবলে ৭৮ কোটি ৬০ লাখ ডলারের জ্যাকপট, প্রকাশিত হলো লাকি নম্বর
ক্যালিফোর্নিয়ায় স্কুলছাত্র হ ত্যার পেছনে যৌন হেনস্থার অভিযোগ, আদালতে প্রসিকিউশনের দাবি
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার দীর্ঘদিনের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার তিনি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব অধিকারের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো মার্কিন প্রশাসনের ভাষায় কথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা। মূলত যেসব বিদেশি নাগরিক শুধুমাত্র তাদের অনাগত সন্তানকে মার্কিন নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে ভ্রমণ করেন, তাদের এই সুযোগ বাতিল করার লক্ষ্যেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের মতে, এই ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ব্যবস্থা দীর্ঘকাল ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির একটি বড় ফাঁকফোকর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নতুন এই আদেশের ফলে এখন থেকে বিদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার পথটি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। এই পদক্ষেপটি মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতিরই একটি অংশ, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও ভিসা প্রদান প্রক্রিয়ায় ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কসকোর সামনে নারী সহকর্মীকে অন্যের সঙ্গে জড়িয়ে ধরতে দেখে ক্ষেপে যান তরুণ, গাড়িচাপায় হত্যা সহকর্মীকে
নিউইয়র্কে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত করলেন মেয়র মামদানি, কার্যকর ১ অক্টোবর থেকে