নিখোঁজ

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউ জার্সি থেকে নিখোঁজ তিন কিশোর, কানেটিকাটে নাটকীয় অভিযানে উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি ট্রেন স্টেশন থেকে নিখোঁজ হওয়া তিন কিশোরকে অবশেষে কানেটিকাটের স্ট্যামফোর্ড এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মন্টভিল টাউনশিপ পুলিশ বিভাগের প্রধান অ্যান্ড্রু ক্যাগিয়ানো জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে ব্র্যাডেন মরিসি (১৪), ডমিনিক ডিলিবার্তো (১৪) এবং উইলিয়াম কনোলি (১৭) নামের এই তিন কিশোর নিউ জার্সির মন্টভিল টাউনশিপের একটি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়।   নিখোঁজের পরপরই ড্রোন ও পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষিত কুকুর (কে-নাইন) ব্যবহার করে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তারা ওই এলাকা ছেড়ে চলে গেছে বুঝতে পেরে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজ তদন্ত শুরু করে।   তদন্তের এক পর্যায়ে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এই তিন কিশোরকে নিউ জার্সির ডেনভিল ট্রেন স্টেশনে দেখা যায়। এরপর মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটির (এমটিএ) কর্মকর্তারা তাদের কানেটিকাটের স্ট্যামফোর্ডের একটি ট্রেন স্টেশনে শনাক্ত করেন। এমটিএ কর্মকর্তারা সেখানে তাদের সাথে যোগাযোগ করলে ১৭ বছর বয়সী কনোলিকে তাৎক্ষণিকভাবে হেফাজতে নেওয়া সম্ভব হয়। তবে সুযোগ বুঝে ১৪ বছর বয়সী বাকি দুই কিশোর সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়।   পালিয়ে যাওয়া কিশোরদের উদ্ধারে পুলিশ তাদের তৎপরতা অব্যাহত রাখে। শনিবার রাত ৮টার পরপরই পুলিশ প্রধান ক্যাগিয়ানো নিশ্চিত করেন যে, ওই দুই কিশোরকেও স্ট্যামফোর্ড এলাকা থেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ধারণা করা হচ্ছে, এই তিন কিশোর সম্পূর্ণ নিজেদের ইচ্ছাতেই বাড়ি থেকে পালিয়েছিল। উদ্ধার হওয়া কিশোরদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও, ঠিক কবে নাগাদ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
সাত সন্তানসহ নিখোঁজ মার্কিন অন্তঃসত্ত্বা মায়ের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার মেক্সিকোতে

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা থেকে সাত সন্তানসহ নিখোঁজ হওয়ার তিন মাসেরও বেশি সময় পর মেক্সিকোতে এক মার্কিন মায়ের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত মাকালা পেন্ডলি (৩০) ইন্ডিয়ানাপোলিসের বাসিন্দা ছিলেন। সোমবার মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলীয় চিয়াপাস রাজ্যের একটি গ্রামের খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স৫৯ জানিয়েছে, এই অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।   স্থানীয় কৌঁসুলি হোর্হে লুইস লাভেন আবরকা জানান, ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা মাকালা পেন্ডলির মৃতদেহ আট থেকে ১২ ঘণ্টা যাবত ওই খালে পড়ে ছিল। মাথায় ভারী বস্তুর প্রচণ্ড আঘাতে মস্তিষ্কে মারাত্মক ক্ষতের সৃষ্টি হওয়ায় তার মৃত্যু হয়। এদিকে, অনলাইনে একটি তহবিল সংগ্রহের পেজ (GoFundMe) খুলে নিহত মাকালার বোন জেনিফার ল্যাম্বার্ট দাবি করেছেন, তার বোনকে নগ্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং তাকে ধর্ষণ, ছুরিকাঘাত ও মাথা থেঁতলে হত্যা করা হয়েছে।   তবে স্বস্তির বিষয় হলো, মেক্সিকান রাজ্যটির সান ক্রিস্তোবাল দে লাস কাসাস এলাকা থেকে মাকালার সাত সন্তানকেই সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শিশুদের বাবা জোসেফ জুড বাটলার জুনিয়রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কৌঁসুলি লুইস লাভেন জানিয়েছেন, নারীহত্যার এই বর্বরোচিত ঘটনায় অপরাধীর সর্বোচ্চ ১০০ বছরের কারাদণ্ড দাবি করছেন তারা। এর আগেও বাটলার ডাকাতি, প্রতারণা ও ধর্ষণসহ একাধিক অপরাধে জড়িত ছিলেন এবং আলাস্কায় তার বিরুদ্ধে একটি সক্রিয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও ছিল।   গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ইন্ডিয়ানার শিশু সেবা বিভাগের একজন কেস ম্যানেজার মাকালা ও তার ১ থেকে ১২ বছর বয়সী ৭ সন্তানের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি প্রথম জানিয়েছিলেন। ইন্ডিয়ানাপোলিস পুলিশ জানায়, গত মাসে তাদের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল এবং মেক্সিকান কর্তৃপক্ষ শিশুদের হেফাজতে নিলেও পরে তাদের মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়। মাকালার আরেক বোন মৌরিকা ল্যাম্বার্ট জানান, সন্তানদের নিজের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হতে পারে—এমন আতঙ্কে বাটলারকে সঙ্গে নিয়ে চলতি বছরের শুরুতে মেক্সিকোতে পালিয়ে গিয়েছিলেন মাকালা।    ১৬ বছর বয়স থেকেই বাটলারের সঙ্গে তার একটি 'বিষাক্ত' সম্পর্ক ছিল বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মেক্সিকোর আদালতে জমা দেওয়া নথিতে দেখা যায়, গত ২০২৫ সালের আগস্টে মেরিডায় বাটলারের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন মাকালা। নিজের বোনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীরভাবে ভেঙে পড়েছেন জেনিফার। বাটলার এই জঘন্য কাজ করতে পারে তা কখনোই কল্পনা করেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই শূন্যতা আর কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।

বায়জিদ হাসান জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নিখোঁজ: রহস্য ঘনীভূত, উঠছে নতুন প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি ডক্টরাল শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নিখোঁজের ঘটনা দিন যত গড়াচ্ছে, ততই গভীর রহস্যের জন্ম দিচ্ছে। কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান না মেলায় পরিবার, সহপাঠী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।   পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, জামিল ও বৃষ্টি স্বেচ্ছায় কোথাও চলে যাওয়ার মানুষ নন। জামিলের ভাই জুবায়ের আহমেদ বলেন, “পাঁচ দিন হয়ে গেছে। আমরা চরম উৎকণ্ঠায় আছি। সে কাউকে কিছু না বলে চলে যাবে—এটা কল্পনাও করতে পারি না।” একইভাবে বৃষ্টির ভাই জাহেদ হাসান প্রান্ত বোনের নিরাপদ ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।   নিখোঁজের দিনের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে কিছু অস্বাভাবিক তথ্য। জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে জামিল তার বাসা থেকে ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে বের হন, কিন্তু পাসপোর্ট রেখে যান। সকাল ১১টার দিকে তার ফোন সর্বশেষ বাসার আশপাশেই শনাক্ত হয়। অন্যদিকে, একই দিন সকাল ১০টার দিকে বৃষ্টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত বিজ্ঞান ভবনে ছিলেন। তিনি ল্যাপটপ, ট্যাবলেট কম্পিউটার ও খাবারের বাক্স রেখে বের হন—সঙ্গে ছিল কেবল ফোন ও পার্স। বিকেল ৫টার দিকে তার ফোনের সর্বশেষ অবস্থান ক্যাম্পাস এলাকায় পাওয়া যায়।   পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে অপহরণের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে পরিবারকে গণমাধ্যমে কথা বলতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। পরে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বাংলাদেশ দূতাবাস ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাকে মামলায় সম্পৃক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছে এবং নিশ্চিত করেছে, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী কেউই অভিবাসন হেফাজতে নেই।   এই ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ের আরেকটি বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবেদনশীল গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু বা নিখোঁজের ঘটনাও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। বিষয়টি নিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।   তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এ ধরনের ঘটনাকে সরাসরি কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করা এখনই যৌক্তিক নয়। বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেও এগুলো ঘটতে পারে। তবুও একাধিক মিল—যেমন হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, পাসপোর্ট রেখে যাওয়া—তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর খোঁজে ব্যাপক প্রচারণা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—কেন তদন্তে অগ্রগতি নেই এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না।   তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে পরিবার ও স্বজনদের দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক নিখোঁজের ঘটনা নয় এবং দ্রুত উদ্ধারই এখন সবচেয়ে জরুরি। যে কেউ জামিল লিমন বা নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বিষয়ে তথ্য জানলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে নোবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী নিখোঁজ, চার দিনেও মেলেনি সন্ধান

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ হয়েছেন। গত চার দিন ধরে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে। জানা গেছে, তিনি বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা-এ স্নাতকোত্তর (এমএসসি) পর্যায়ে অধ্যয়নরত ছিলেন। সহপাঠী ও বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে এক সহপাঠীর সঙ্গে ক্যাম্পাসের বাইরে যাওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তার এবং সঙ্গে থাকা সহপাঠীর মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে। নিখোঁজের পরপরই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ও স্টেট পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সর্বশেষ তার অবস্থান ক্যাম্পাসের ভেতরে পাওয়া গেলেও এরপর আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে বিষয়টি মায়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলকে জানানো হয়েছে। কনস্যুলেট সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজন হলে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-কেও তদন্তে সম্পৃক্ত করা হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আশপাশের হাসপাতাল, বিমানবন্দর ও আটক কেন্দ্রগুলোতেও খোঁজ নিয়েছে, তবে এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবার জানায়, গত বৃহস্পতিবার বৃষ্টির সঙ্গে তাদের সর্বশেষ কথা হয়। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। তারা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে এবং সহযোগিতা চেয়েছে। এ ঘটনায় সহপাঠী, বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং বৃষ্টির নিরাপদ ফিরে আসার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন। একই সঙ্গে কেউ তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
দৌলতদিয়ায় পদ্মা থেকে বাস উদ্ধার, ভেতর থেকে একের পর এক লাশ উদ্ধার

দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটি বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাসটি তোলার পর ভেতর থেকে একের পর এক লাশ উদ্ধার করতে দেখা গেছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, ছয়জন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে।   উদ্ধারকারী সূত্র জানায়, বাসটির দরজা ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। ভেতর থেকে স্কুলব্যাগ, জুতা-স্যান্ডেল, ভ্যানিটি ব্যাগসহ বিভিন্ন সামগ্রী ভেসে উঠতে দেখা গেছে। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য তিনটি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।   নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে ঘাট এলাকায় ভিড় করছেন পরিবার-পরিজনের সদস্যরা। তাঁদের মধ্যে রোকন বলেন, তাঁর বন্ধুর ছোট বোন ও তার স্বামী ওই বাসে করে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর থেকে এখনো তাঁদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।   আরেক স্বজন শরিফুল ইসলাম জানান, তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য বাসে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে স্ত্রী, মেয়ে ও এক আত্মীয় সাঁতরে উঠতে পারলেও সাত বছরের ছেলে ও ১১ বছর বয়সী ভাগ্নে এখনও নিখোঁজ। তিনি বলেন, “আমার আর কিছু লাগবে না, শুধু আমার সন্তানের লাশটা আমাকে বুঝিয়ে দিন।”   নিখোঁজ দুই নাতির জন্য অপেক্ষা করছেন নবীজ উদ্দিন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার নাতি-নাতনি বাসে ছিল। তাদের জন্য অপেক্ষা করছি।” ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন জানান, প্রায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল। দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটে ফেরির জন্য অপেক্ষার সময় ‘হাসনা হেনা’ নামের একটি ছোট ফেরি পন্টুনে আঘাত করলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। উদ্ধারকারীরা আশঙ্কা করছেন, এখনও আরও যাত্রী বাসের ভেতরে আটকা থাকতে পারেন।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০