অর্থনীতি শক্তিশালী, তবু চাপে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার; এআই বিনিয়োগে বাড়ছে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি শক্ত অবস্থানে থাকলেও দেশটির শেয়ারবাজারে চাপ বাড়ছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শক্তিশালী ভোক্তা ব্যয় এবং উন্নত ভোক্তা আস্থার মতো ইতিবাচক অর্থনৈতিক সূচক অর্থনীতিকে সহায়তা করলেও প্রযুক্তি খাতের শেয়ারদর পতন, সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগের ঝুঁকি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
জুন মাসে স্পেসএক্সের রেকর্ড গড়া প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ার (আইপিও) প্রস্তুতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নতুন প্রধান কেভিন ওয়ার্শের প্রথম নীতিনির্ধারণী বৈঠকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার মধ্যেও শেয়ারবাজারে বৈপরীত্য দেখা গেছে।
একদিকে ইতিবাচক অর্থনৈতিক তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা তুলে ধরেছে। অন্যদিকে একই সময়ে নাসডাক ও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক নিম্নমুখী ছিল। বাজারের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারও একটি সূচক অনুযায়ী ১০ শতাংশের বেশি কমেছে।
এদিকে তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো মূল্যস্ফীতি ৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলেও মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের দাম বেড়েছে এবং ফলন কমেছে।
ফিলাডেলফিয়াভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান জ্যানি মন্টগোমারি স্কটের প্রধান স্থির-আয় কৌশলবিদ গাই লে বাস বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লেও ভোক্তারা জ্বালানিবহির্ভূত পণ্য ও সেবায় ব্যয় অব্যাহত রেখেছেন। তার মতে, এটি প্রমাণ করে যে বছরের শুরুতে ধারণার তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি অনেক বেশি স্থিতিশীল, সহনশীল এবং শক্তিশালী। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আরও বাড়তে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিপুল বিনিয়োগের প্রভাবে মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করা প্রকৃত সুদের হার বাড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীরা নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। ফেডপ্রধান কেভিন ওয়ার্শের কঠোর অবস্থানের পর বাজারে সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। যদিও অনেক বিশ্লেষকের মতে, আর্থিক পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই কঠোর হয়ে যাওয়ায় বাস্তবে আর সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন নাও হতে পারে।
এদিকে স্বর্ণ, বিটকয়েন, মাইক্রোসফট ও মেটার মতো বিভিন্ন সম্পদের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ওয়াল স্ট্রিটে নতুন শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রি রেকর্ড গতিতে চলছে। এর বড় অংশই ব্যবহৃত হচ্ছে এআই খাতে বিনিয়োগে। যদিও অনেক বিনিয়োগকারী এ খাতে অতিমূল্যায়নের ঝুঁকির কথা বলছেন, তবুও বিনিয়োগের গতি এখনো কমেনি।
গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষক কামাক্ষ্য ত্রিবেদী বলেন, যুদ্ধের আশঙ্কা কমে যাওয়া এবং তেলের দাম হ্রাস পাওয়ায় বাজার আবার অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তির দিকে নজর দিচ্ছে। তবে এই ইতিবাচক পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই শেয়ারের উচ্চ মূল্যায়নে প্রতিফলিত হয়েছে। তার মতে, এআই খাতেই সবচেয়ে বেশি টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে এবং এটিই বর্তমানে বাজারের অস্থিরতার অন্যতম কারণ।
বাজারের অস্থিরতার বড় একটি কারণ হলো বিনিয়োগকারীদের দ্রুত এক খাত থেকে অন্য খাতে বিনিয়োগ স্থানান্তর। মার্চের শেষ দিকে যুদ্ধসংক্রান্ত উদ্বেগ কমে যাওয়ার পর থেকে সেমিকন্ডাক্টর সূচক ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। চলতি বছরে সূচকটির মূল্য বেড়েছে ৮৭ শতাংশ। একই সময়ে মাইক্রনের শেয়ার চার গুণ এবং ইন্টেল ও মার্ভেল টেকনোলজির শেয়ার প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।
অন্যদিকে এনভিডিয়া, অ্যাপল ও অ্যালফাবেটের নেতৃত্বাধীন ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ গ্রুপ চলতি বছরে নিম্নমুখী রয়েছে। অথচ ২০২৫ সালে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের মোট প্রবৃদ্ধির প্রায় ৪০ শতাংশ এসেছিল এই সাত প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বৃদ্ধি ও লভ্যাংশ থেকে। বিশ্লেষকদের মতে, এআই অবকাঠামো নির্মাণে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিপুল ব্যয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। গত বছরের শেষ দিকে ওরাকলসহ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান ব্যাপক ঋণ নেওয়া শুরু করার পর এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
গত ১২ মাসে অ্যামাজন ও অ্যালফাবেট বিভিন্ন মুদ্রায় প্রায় ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বন্ড ইস্যু করেছে। এআই অবকাঠামো নির্মাণকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ-যোগ্য বন্ড বিক্রির পরিমাণ ইতোমধ্যেই ২০২৫ সালের মোট বিক্রির পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে। বিএনপি পারিবাসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর এই সংখ্যা ২৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
ওকলাহোমাভিত্তিক লংবো অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেক ডলারহাইড বলেন, এআই প্রযুক্তি চিপ নির্মাতাদের জন্য ইতিবাচক হলেও যেসব প্রতিষ্ঠান এই প্রযুক্তিতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করছে, তারা এখনো প্রত্যাশিত আর্থিক সুফল পাচ্ছে না। এ কারণেই চলতি বছরে ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেনের শেয়ারদর চাপে রয়েছে।
অনেক বিনিয়োগকারীর আশঙ্কা, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর আরও কমতে পারে। গত সপ্তাহে ইউবিএস তাদের এআইভিত্তিক বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে সেমিকন্ডাক্টর ও হার্ডওয়্যার খাতে বিনিয়োগ কমিয়েছে। তাদের ধারণা, শেয়ারদর কমে যাওয়ায় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতে এআই অবকাঠামোয় মূলধনি ব্যয় কমাতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমনটি হলে এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। কারণ, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের পরিমাণ অত্যন্ত বড়। গাই লে বাস বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি করপোরেট বিনিয়োগ। সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী কয়েক বছরে ৭০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি মূলধনি ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে। তাই এই বিনিয়োগ অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক মন্দার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম।
তবে তার মতে, মূলধনি ব্যয় কমে যাবে বলে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার একাধিকবার ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreপ্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যাঞ্চলে সৃষ্ট ক্রান্তীয় ঝড় ‘লালা’ ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের দিকে ধেয়ে আসছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার ভোরে হাওয়াইয়ের ‘বিগ আইল্যান্ড’-এর কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই এটি একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় বা হারিকেনে রূপ নিতে পারে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঝড়টি ঘণ্টায় ১২ মাইল বেগে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং এর কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ মাইল। বর্তমানে এটি হাওয়াইয়ের হিলো শহর থেকে প্রায় ৪২০ মাইল পূর্ব-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) মাউই কাউন্টির (মাউই, লানাই, মলোকাই এবং কাহুলাওয়ে দ্বীপসহ) জন্য জারি করা প্রাথমিক নজরদারি বা ‘ট্রপিক্যাল স্টর্ম ওয়াচ’-কে হালনাগাদ করে ‘ট্রপিক্যাল স্টর্ম ওয়ার্নিং’ বা চূড়ান্ত সতর্কতায় উন্নীত করেছে। এর পাশাপাশি ওআহু এবং কাউয়াই কাউন্টিতেও নতুন করে ঝড়ের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকা হাওয়াই কাউন্টি বা বিগ আইল্যান্ডে আগে থেকেই সর্বোচ্চ পর্যায়ের ‘হারিকেন ওয়ার্নিং’ বহাল রাখা হয়েছে। ঝড়টি ঠিক কখন এবং কতটা তীব্রতা নিয়ে আঘাত হানবে, তা এর চূড়ান্ত গতিপথের ওপর নির্ভর করলেও চলতি সপ্তাহান্তে হাওয়াই জুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুক্রবার থেকেই বিগ আইল্যান্ডে প্রবল বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়া শুরু হতে পারে, যার ফলে খাড়া পাহাড়ি এলাকাগুলোতে প্রাণঘাতী ভূমিধস ও কাদা ধসের তীব্র ঝুঁকি রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, মাউই এবং বিগ আইল্যান্ডে ৮ থেকে ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং বিগ আইল্যান্ডের উঁচু পাহাড়ি এলাকাগুলোতে এই মাত্রা ২৫ ইঞ্চি পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে। অন্যান্য দ্বীপগুলোতেও ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ভয়ংকর জলোচ্ছ্বাস ও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে বিগ আইল্যান্ডের উপকূলীয় এলাকায় আকস্মিক বন্যা এবং ব্যাপক ভাঙনের ব্যাপারেও সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা।
যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ রেট কমে ৬.৬৯ শতাংশে, তবে কি ফিরছে আবাসন বাজারের প্রাণ?
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানায় ভয়াবহ বন্যা, ১১৩ বছরের রেকর্ড ভেঙে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে
গ্রিন কার্ড, স্থায়ী চাকরি থাকার পরও কেন বাড়ি ভাড়া পাচ্ছেন না বাংলাদেশীরা!
যুক্তরাষ্ট্রে কাজ চালিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন তিনবার আটকে গিয়েছিল এইচ-১বি ভিসা লটারিতে। কিন্তু হাল ছাড়েননি ভারতীয় বংশোদ্ভূত ২৯ বছর বয়সী সোহান শেঠি। শেষ পর্যন্ত নিজের পেশাগত অর্জনের পক্ষে প্রায় ৭০০ পৃষ্ঠার নথি তৈরি এবং আইনজীবী ও অ্যাপ্লিকেশন প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ হাজার ডলার খরচ করে তিনি ও-১ ভিসা পেতে সক্ষম হয়েছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোহান যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা ও অ্যানালিটিকস খাতে নিজের ক্যারিয়ার চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু টানা তিনবার এইচ-১বি লটারিতে সুযোগ না পাওয়ায় একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত বিকল্প হিসেবে তিনি বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন পেশাজীবীদের জন্য থাকা ও-১ ভিসার পথে এগোন। ও-১ সাধারণ কোনো ওয়ার্ক ভিসা নয়। বিজ্ঞান, শিক্ষা, ব্যবসা, অ্যাথলেটিকস, শিল্পকলা, চলচ্চিত্র বা টেলিভিশনের মতো ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতা বা উল্লেখযোগ্য অর্জনের স্বীকৃতি রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য এই ভিসা ক্যাটাগরি রাখা হয়েছে। এইচ-১বির মতো ও-১ ভিসায় বার্ষিক লটারি নেই। তবে আবেদনকারীকে নিজের যোগ্যতা ও পেশাগত অর্জনের পক্ষে শক্ত প্রমাণ দেখাতে হয়। সোহানের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে বড় কাজ ছিল সেই প্রমাণ তৈরি করা। তাঁর আবেদনপত্রের সঙ্গে পেশাগত অর্জন, কাজের প্রভাব, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, স্বীকৃতি এবং নিজ ক্ষেত্রে অবস্থান প্রমাণে বিপুল পরিমাণ নথি যুক্ত করা হয়। পুরো আবেদন প্রায় ৭০০ পৃষ্ঠায় পৌঁছায়। আইনগত সহায়তা ও আবেদনসংক্রান্ত খরচ মিলিয়ে তাঁর প্রায় ১৩ হাজার ডলার ব্যয় হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সোহান নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ও-১ ভিসা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, এইচ-১বি লটারিতে তিনবার ব্যর্থ হওয়ার পর ও-১ ভিসা অনুমোদন পাওয়া তাঁর জন্য বড় অর্জন। তাঁর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ও-১ আবেদন তৈরির সময় তাঁর প্রমাণপত্রের দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো আরও শক্তভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। সোহানের ঘটনা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মভিত্তিক ভিসা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ২০২৭ অর্থবছরের এইচ-১বি নির্বাচনে আগের সম্পূর্ণ র্যান্ডম লটারির পরিবর্তে বেতনভিত্তিক ওজনযুক্ত নির্বাচন ব্যবস্থা কার্যকর করেছে ইউএসসিআইএস। এতে উচ্চ বেতন ও উচ্চ দক্ষতার পদের আবেদনকারীরা নির্বাচনে তুলনামূলক সুবিধা পাচ্ছেন। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, ২০২৭ অর্থবছরের জন্য কংগ্রেস নির্ধারিত ৬৫ হাজার সাধারণ এইচ-১বি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজারের কোটা পূরণের মতো আবেদন ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। ফলে এ অর্থবছরে আর দ্বিতীয় দফার লটারি হচ্ছে না। এইচ-১বি ব্যবস্থায় পরিবর্তন ও প্রতিযোগিতা বাড়ার মধ্যে যোগ্য বিদেশি পেশাজীবীদের একটি অংশ এখন ও-১ ভিসার দিকে নজর দিচ্ছেন। তবে এই ভিসা এইচ-১বির সরাসরি বিকল্প নয় এবং শুধু এইচ-১বি লটারিতে ব্যর্থ হলেই কেউ ও-১ ভিসার যোগ্য হয়ে যান না। আবেদনকারীকে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী নিজের অসাধারণ দক্ষতা বা উল্লেখযোগ্য পেশাগত অর্জনের প্রমাণ দিতে হয়। সোহানের ক্ষেত্রে তিনবারের এইচ-১বি ব্যর্থতা তাই যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ হয়ে দাঁড়ায়নি। দীর্ঘ প্রস্তুতি, শত শত পৃষ্ঠার প্রমাণ এবং বড় অঙ্কের খরচের পর ভিন্ন একটি ভিসা ক্যাটাগরিতে নিজের যোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করেছেন।
চিকিৎসা গবেষণার আশায় মায়ের দেহ দান, পরে জানলেন বিস্ফোরণ পরীক্ষায় ব্যবহার করেছে সেনাবাহিনী
অফিস সহকারী থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি, এবার সেখানেই ওষুধ তৈরির গবেষণাগারে তিনি
ঝুঁকির অভিযোগের পর যুক্তরাষ্ট্রে ৪১ হাজার বেবি জাম্পার-সুইং রিকল
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সীমিত সংস্করণের বিশেষ পাসপোর্ট চালু করেছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। ‘প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট’ নামে পরিচিত এই স্মারক পাসপোর্টে থাকছে বিশেষ আর্টওয়ার্ক ও ঐতিহাসিক নকশা। দেশজুড়ে মাত্র ২ লাখ ৫০ হাজার কপি ইস্যু করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, বিশেষ এই পাসপোর্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাধারণ মার্কিন পাসপোর্টের মতোই থাকবে। পার্থক্য মূলত এর নকশায়। সামনের ও পেছনের কভার এবং ভেতরের অংশে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ ছবি ও ডিজাইন যুক্ত করা হয়েছে। পাসপোর্টের ভেতরের সামনের কভারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের লেখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার নকশা রয়েছে। ভেতরের পেছনের কভারে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের ঐতিহাসিক দৃশ্যের চিত্র এবং ‘২৫০’ সংখ্যা রাখা হয়েছে। বাইরের পেছনের কভারে রয়েছে ‘ফ্রিডম ২৫০’ লোগো। বিশেষ পাসপোর্টটি নিয়ে আগ্রহ এত বেশি যে স্টেট ডিপার্টমেন্ট অতিরিক্ত ২ লাখ ৫০ হাজার কপি দেওয়ার সুযোগ ঘোষণা করেছে। তবে সাধারণভাবে অনলাইনে বা মেইলে আবেদন করলে এই সংস্করণ পাওয়া যাবে না। প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট পেতে আবেদনকারীকে নির্ধারিত পাসপোর্ট এজেন্সি বা বিশেষ ২৫০তম বার্ষিকী পাসপোর্ট ইভেন্টে সরাসরি উপস্থিত হয়ে আবেদন করতে হবে। ওয়াশিংটন ডিসির ওয়াশিংটন পাসপোর্ট এজেন্সিতেও এ জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া যাচ্ছে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট অনলাইনে করা যাচ্ছে না। আবেদনকারীদের স্টেট ডিপার্টমেন্টের পাসপোর্ট কল সেন্টারে ফোন করে অপশন ৯ নির্বাচন করে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সুযোগ জানতে হবে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত হলে ইমেইলে কনফারমেশন পাঠানো হবে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট স্পষ্ট করেছে, অনলাইনে আবেদন, মেইলে আবেদন, সাধারণ পাসপোর্ট অ্যাকসেপটেন্স ফ্যাসিলিটিতে আবেদন কিংবা বিদেশে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে আবেদন করলে প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট পাওয়া যাবে না। দেশের বিভিন্ন শহরে বিশেষ আবেদন ইভেন্টও আয়োজন করা হচ্ছে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরজুড়ে বাফেলো, সান ফ্রান্সিসকো, সান ডিয়েগো, ফিলাডেলফিয়া, আটলান্টা, মায়ামি, হিউস্টন, সিয়াটলসহ বিভিন্ন শহরের পাসপোর্ট এজেন্সি ও সেন্টারে এসব ইভেন্টের সময়সূচি রাখা হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আগে থেকে ফোন করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। নিউইয়র্কের আবেদনকারীদের জন্যও সুযোগ রাখা হয়েছে। বাফেলো পাসপোর্ট এজেন্সিতে ১৮ আগস্ট বিশেষ আবেদন ইভেন্ট নির্ধারিত রয়েছে। সেখানে অংশ নিতেও আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রয়োজন। প্যাট্রিয়ট পাসপোর্টের জন্য আলাদা কোনো বিশেষ আবেদনপত্র নেই। আবেদনকারীর যোগ্যতার ভিত্তিতে সাধারণ ডিএস-১১ অথবা ডিএস-৮২ ফর্মই ব্যবহার করতে হবে। ফিও স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রচলিত পাসপোর্ট ফি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। বিশেষ সংস্করণটির পৃষ্ঠা সংখ্যাও সাধারণ পাসপোর্ট বুকের মতো ২৬টি। যারা ৫২ পৃষ্ঠার বড় পাসপোর্ট বুক চান, তারা এই বিশেষ ডিজাইন পাবেন না। বড় পাসপোর্ট বুক বর্তমান সাধারণ ডিজাইনেই ইস্যু করা হবে। প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট মূলত একটি স্মারক সংস্করণ হলেও এটি প্রকৃত মার্কিন পাসপোর্ট হিসেবেই ব্যবহারের জন্য তৈরি। অর্থাৎ এটি শুধু সংগ্রহে রাখার স্মারক বুক নয়, বরং সাধারণ পাসপোর্টের মতোই নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সরকারি ট্রাভেল ডকুমেন্ট। যুক্তরাষ্ট্র ১৭৭৬ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়। ২০২৬ সালে সেই ঘোষণার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে ‘আমেরিকা ২৫০’ উদযাপনের অংশ হিসেবেই বিশেষ এই পাসপোর্ট চালু করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট। সীমিত সংখ্যায় পাসপোর্টটি ইস্যু হওয়ায় আগ্রহীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্ধারিত পাসপোর্ট এজেন্সি বা বিশেষ ইভেন্টে সরাসরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া। সাধারণ অনলাইন রিনিউয়াল বা মেইল আবেদন করে এই বিশেষ সংস্করণ পাওয়ার সুযোগ নেই।
ম্যানহাটনে বাসা ভাড়ায় ৫ হাজার ডলারের রেকর্ড! এক বছরে লিস্টিং কমেছে ৩৯ শতাংশ
গর্ভপাতের জন্য সারোগেটকে চাপ, জন্মের পর শিশু গেল বাবা-মায়ের কাছে