চীনের মহাকাশ প্রযুক্তি দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে এবং জিপিএস-ধরনের নেভিগেশন ব্যবস্থা, আকাশ থেকে নজরদারি (রিকনেসান্স) ও স্যাটেলাইট বিধ্বংসী প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন ফাউন্ডেশন (আইটিআইএফ)। এ তথ্য প্রকাশ করেছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
সম্প্রতি প্রকাশিত আইটিআইএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শক্তিশালী সরকারি সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ফলে চীন দ্রুত একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক মহাকাশ খাত গড়ে তুলেছে। এর ফলে মহাকাশ প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উদ্ভাবনের ব্যবধানও দ্রুত কমছে।
প্রতিবেদনটি সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী দশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক মহাকাশ অর্থনীতিতে নেতৃত্ব চীনের হাতে চলে যেতে পারে।
প্রতিবেদনে মহাকাশ প্রযুক্তির ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ খাতের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সুস্পষ্ট আধিপত্য রয়েছে। স্পেসএক্সের স্টারলিংক এবং অ্যামাজনের প্রজেক্ট কুইপার চীনের কিয়ানফান ও গুয়াওয়াং প্রকল্পের তুলনায় এগিয়ে। পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে সীমাবদ্ধতা চীনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
নেভিগেশন, অবস্থান নির্ধারণ ও সময় সমন্বয় (পিএনটি):
চীনের বেইদু নেভিগেশন সিস্টেম আন্তর্জাতিকভাবে দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। বিপুল সংখ্যক স্যাটেলাইট ও বৈশ্বিক ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে এ ক্ষেত্রে চীনকে এগিয়ে রাখা হয়েছে।
রিমোট সেন্সিং ও স্যাটেলাইট চিত্রায়ন:
গাওফেন ও জিলিন-১সহ সরকারি ও বেসরকারি স্যাটেলাইটের সমন্বয়ে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে চীন। ফলে এই খাতেও দেশটিকে এগিয়ে বলা হয়েছে।
মহাকাশ স্টেশন:
এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে প্রায় সমানে সমান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) দীর্ঘ অভিজ্ঞতার বিপরীতে চীন দ্রুত তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।
স্যাটেলাইট বিধ্বংসী প্রযুক্তি (কাউন্টারস্পেস):
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাইনেটিক ইন্টারসেপ্টর, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং ডাইরেক্টেড এনার্জি অস্ত্রে চীন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এমনকি কক্ষপথে স্যাটেলাইট-টু-স্যাটেলাইট কৌশলগত সক্ষমতা উন্নয়নেও দেশটি অনেক দূর এগিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট:
এই খাতে এখনো যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে এগিয়ে। স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯-এর পুনঃব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির সমপর্যায়ের সক্ষমতা চীন এখনো পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্যের পেছনে রয়েছে নাসা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব। অন্যদিকে চীন সামরিক ও বেসামরিক খাতের সমন্বিত নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ, শিল্প ও গবেষণাকে একসঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে। ২০১৪ সালে মহাকাশ খাতের কিছু অংশ বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করার পর দেশটিতে ৫০০টির বেশি মহাকাশ কোম্পানি গড়ে উঠেছে। ল্যান্ডস্পেস, গ্যালাকটিক এনার্জি ও আইস্পেসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।
প্রতিবেদনের লেখক এলিস শেরার বলেন, উৎপাদন সক্ষমতায় চীন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকাতে এখনো সময় লাগবে। তবে আইটিআইএফ সতর্ক করে বলেছে, মহাকাশ প্রযুক্তিতে চীন যদি যুক্তরাষ্ট্রকে স্থায়ীভাবে ছাড়িয়ে যায়, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তিকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ভারতের পানি ব্যবহারের পরিকল্পনার জবাবে পাকিস্তানের এক মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত বাড়ালে সেই হাত কেটে দেওয়া হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদমন্ত্রী সি আর পাতিল সম্প্রতি জানিয়েছেন, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারতের অংশের সব পানি দেশটির ভেতরেই পুরোপুরি ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর পরই ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে। ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক অভিযোগ করেন, ভারত পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত পানিপ্রবাহ বন্ধ করতে চায়। তিনি বলেন, পাকিস্তানের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই অন্য কোনো দেশ তাদের খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি ও অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করবে—এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। মুসাদিক মালিক বলেন, “আমাদের পানির অধিকার খর্ব করার চেষ্টা হলে তার মূল্য দিতে হবে। কেউ আমাদের পানির ওপর হাত বাড়ালে সেই হাত কেটে দেওয়া হবে।” তিনি আরও দাবি করেন, আন্তর্জাতিক প্রথা অনুযায়ী উজানের কোনো দেশ ভাটির দেশের পানিপ্রবাহ একতরফাভাবে বন্ধ করতে পারে না। ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের কথাও জানান পাকিস্তানের এই মন্ত্রী। একই সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি আইনগতভাবে এখনো বহাল রয়েছে এবং কোনো দেশ একতরফাভাবে এটি বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না। তিনি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, সিন্ধু নদ পাকিস্তানের জন্য জীবনরেখা এবং এ বিষয়ে তাদের অবস্থান ‘রেড লাইন’। অন্যদিকে ভারতের অবস্থানও কঠোর। গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে হামলায় ২৫ জন পর্যটকসহ ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর নয়াদিল্লি সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। ভারতের দাবি, পাকিস্তান তার ভূখণ্ডে সন্ত্রাসী অবকাঠামোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দৃশ্যমান প্রমাণ না দেওয়া পর্যন্ত এই চুক্তি পুনরায় কার্যকর করা হবে না। সূত্র: এনডিটিভি
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় জরুরি চিকিৎসাসেবার সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তির আওতায় প্রায় ২১ হাজার মানুষের চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে যাওয়ার অনুমতি পাওয়ার কথা ছিল। তবে এখন পর্যন্ত অনুমতি পেয়েছেন ৭ হাজার ৫০০ জনেরও কম, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৩৬ শতাংশ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী গাজার বাইরে যাওয়ার কথা ছিল এমন ব্যক্তিদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ছিলেন জরুরি চিকিৎসাপ্রার্থী রোগী। প্রত্যেক রোগীর সঙ্গে দুইজন করে সহযাত্রীর অনুমতি থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। ফলে হাজারো গুরুতর অসুস্থ রোগী এখনও গাজায় আটকা রয়েছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, সময়মতো চিকিৎসা না পেলে তাদের অনেকের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও সীমিত সক্ষমতা নিয়ে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছে নাসের হাসপাতাল। তবে প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য চিকিৎসা উপকরণের তীব্র সংকটে হাসপাতালটির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে খান ইউনিসে সামরিক অভিযানের সময় ইসরায়েলি হামলায় একাধিক অ্যাম্বুলেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি নাসের হাসপাতালে দুই দফা অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাম্বুলেন্সগুলোর গায়ে গুলির অসংখ্য চিহ্ন রয়েছে। অধিকাংশ যানবাহনের জানালা ও ভেতরের আসন আগুনে পুড়ে গেছে। এছাড়া অতিরিক্ত ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশও ধ্বংস হয়েছে। এর ফলে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ এবং রোগীদের বাইরে পাঠানোর সুযোগ দ্রুত বাড়ানো না হলে মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।
ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সাইবার অঙ্গনেও সংঘাত দ্রুত তীব্র হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের জুন মাসে ইসরাইলের ওপর ইরানি সাইবার হামলার সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। সোমবার (২৯ জুন) জার্মান সংবাদপত্র ডাই ভেল্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টরেটের মহাপরিচালক ইয়োসি কারাদি এ তথ্য জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলি সামরিক অভিযানের সময় প্রায় ১ হাজার ৬০০টি শত্রুভাবাপন্ন সাইবার হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ঠিক এক বছর পর, ২০২৬ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৮০০-তে। কারাদি বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িত কিছু সাইবার গোষ্ঠী অত্যন্ত দক্ষ ও সুসংগঠিত। যদিও ইসরাইল এ ধরনের আক্রমণ প্রতিহত করার সক্ষমতা রাখে, তবুও পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের মতো সাইবার জগতে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই—এখানে হুমকি সবসময়ই সক্রিয় থাকে। তার দেওয়া তথ্যমতে, সাম্প্রতিক এসব সাইবার হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সরকারি সংস্থা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ নাগরিকদের ডিজিটাল ব্যবস্থা। বিশেষ করে আইনজীবী প্রতিষ্ঠান ও হিসাবরক্ষণ সংস্থাগুলোর মতো ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলক বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তবে আশাবাদ ব্যক্ত করে কারাদি জানান, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর পরিচালিত বড় ধরনের হামলাগুলো এখন পর্যন্ত সফলভাবে প্রতিহত করা গেছে। যদিও দুর্বল সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে কিছু প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেমে সংরক্ষিত তথ্য সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়নি। সাধারণত ইরান অন্য দেশের বিরুদ্ধে সাইবার হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে থাকে। তবে দেশটি প্রায়ই দাবি করে, তারা নিজেরাও নিয়মিত সাইবার হামলার শিকার হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে সাইবার হামলা, যেখানে সরাসরি সংঘর্ষ ছাড়াই প্রতিপক্ষকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলা সম্ভব। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরাইল উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই অদৃশ্য যুদ্ধও আরও জটিল ও বিস্তৃত হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স