- প্রচ্ছদ
- Topic
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি
যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের বাড়তি দাম কমাতে বিদেশ থেকে মাংস আমদানির সুযোগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার, ২৬ আগস্ট নতুন এক ঘোষণায় গরুর মাংসের নির্দিষ্ট অংশ, বিশেষ করে কিমা তৈরিতে ব্যবহৃত চর্বিহীন মাংসের টুকরার জন্য শুল্ক-সুবিধাপ্রাপ্ত আমদানির পরিমাণ অতিরিক্ত ৩ লাখ মেট্রিক টন বাড়ানো হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গরুর মাংসের সরবরাহ বাড়ানো এবং সাধারণ ভোক্তাদের জন্য কিমা করা গরুর মাংসের দাম কমানো। নতুন এই সুবিধা ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে এবং তিন ধাপে মোট ৩ লাখ মেট্রিক টন মাংস আমদানির সুযোগ দেওয়া হবে। হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ মেট্রিক টন আমদানির সুযোগ থাকবে। দ্বিতীয় ধাপে ১ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত আরও ১ লাখ মেট্রিক টন এবং তৃতীয় ধাপে ৩১ অক্টোবর থেকে সর্বোচ্চ ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাকি ১ লাখ মেট্রিক টন আমদানি করা যাবে। বরাদ্দ পূর্ণ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট সময়সীমার আগেই আমদানি সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। এই অতিরিক্ত আমদানি সুবিধা মূলত ‘লিন বিফ ট্রিমিংস’ বা তুলনামূলক চর্বিহীন মাংসের টুকরার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এসব মাংস সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে অন্যান্য গরুর মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে কিমা করা গরুর মাংস তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। নতুন ৩ লাখ মেট্রিক টনের বরাদ্দটি নির্দিষ্ট কোনো একটি দেশের জন্য নয়, বরং ‘অন্যান্য দেশ বা অঞ্চল’-এর জন্য রাখা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের গরুর মাংসের সরবরাহ সংকটকে বড় কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে গরুর সংখ্যা ৭৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। যদিও জুলাইয়ে গবাদিপশুর সংখ্যা বাড়ার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা গেছে, খরা, দাবানল এবং খাদ্য ও চারণের সংকটের কারণে খামারিদের ওপর চাপ এখনো রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত দেশটির খামারগুলোতে গরু ও বাছুরের মোট সংখ্যা ছিল ৯ কোটি ৪২ লাখ। এর মধ্যে মাংস উৎপাদনকারী গাভীর সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৮৫ লাখ, যা এক বছর আগের তুলনায় ১ শতাংশ কম। ২০২৬ সালের বাছুর উৎপাদনের হিসাবও আগের বছরের তুলনায় ২ শতাংশ কমে ৩ কোটি ২৫ লাখে দাঁড়িয়েছে। এই সরবরাহ সংকটের মধ্যেই গরুর মাংসের চাহিদা বাড়ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্ধৃত কৃষি বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বাকি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের অভ্যন্তরীণ ব্যবহার আরও বাড়তে পারে। একই সময়ে চলতি বছর দেশটির গরুর মাংস উৎপাদন ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ কমতে পারে। ফলে সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধান মাংসের দামকে উঁচুতে রাখছে বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও গরুর মাংসের দাম কমাতে আমদানির সুযোগ বাড়িয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। সে সময় আর্জেন্টিনা থেকে চর্বিহীন গরুর মাংসের টুকরা আমদানির জন্য ২০২৬ সালের কোটা ৮০ হাজার মেট্রিক টন বাড়ানো হয়। তবে বুধবার ঘোষিত নতুন ৩ লাখ মেট্রিক টনের সুবিধা ওই আর্জেন্টিনা-নির্দিষ্ট বরাদ্দের বাইরে রাখা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তের সঙ্গে দাম কমানোর একটি শর্তও যুক্ত করেছে প্রশাসন। কৃষিমন্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি আমদানিকৃত চর্বিহীন মাংস বাজারদরের তুলনায় ২৫ শতাংশ কম দামে বিক্রি হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করবেন। যদি দেখা যায়, অতিরিক্ত কোটার আওতায় আসা মাংস ওই হারে কম দামে বিক্রি হচ্ছে না, তাহলে বিষয়টি ট্রাম্পকে জানাতে হবে। এরপর অবশিষ্ট আমদানি সুবিধা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন প্রেসিডেন্ট। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য, এই ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে আমদানির মাধ্যমে ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পান, আবার যুক্তরাষ্ট্রের গরু পালনকারীদের ওপর অতিরিক্ত চাপও না পড়ে। প্রশাসনের হিসাবে, নতুন আমদানি ব্যবস্থা সাময়িকভাবে গরুর মাংসের সরবরাহ বাড়াবে এবং দেশীয় খামারিরা নিজেদের গবাদিপশুর সংখ্যা পুনর্গঠনের সুযোগ পাবেন। তবে আমদানি বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি যুক্তরাষ্ট্রের গরু খামারিদের মধ্যে উদ্বেগও তৈরি করেছে। গবাদিপশু উৎপাদনকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বিদেশি মাংসের প্রবেশ বাড়লে দেশীয় খামারিরা দামের দিক থেকে চাপের মুখে পড়তে পারেন। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি হলো, বর্তমান সরবরাহ দিয়ে ভোক্তাদের চাহিদা ও যুক্তিসংগত দামের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। মেক্সিকো থেকেও জীবন্ত গরু আমদানির ওপর সাম্প্রতিক বিধিনিষেধ যুক্তরাষ্ট্রের গরুর মাংসের সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে। নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম নামে একটি পরজীবী রোগের বিস্তার ঠেকাতে মেক্সিকো থেকে জীবন্ত গবাদিপশু প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। একই সময়ে খরা ও দাবানলের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গবাদিপশু উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতেও পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপ তাই একদিকে মার্কিন ভোক্তাদের জন্য গরুর মাংসের দাম কমানোর চেষ্টা, অন্যদিকে দেশটির দীর্ঘদিনের গবাদিপশু সরবরাহ সংকট সাময়িকভাবে সামাল দেওয়ার উদ্যোগ। আগামী কয়েক মাসে আমদানি বাড়ার পর বাজারে কিমা করা গরুর মাংসের দাম কতটা কমে, সেটিই এখন এই নীতির সাফল্য পরিমাপের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে। সূত্র: হোয়াইট হাউস, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) ও ফক্স বিজনেস।
ক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে থাকায় শুধু ছয় অঙ্কের বেতন পেলেই যে স্বচ্ছন্দে জীবনযাপন করা যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বাড়িভাড়া, খাবার, পরিবহন, জ্বালানি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের ওপর ভিত্তি করে ২০২৬ সালে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্বচ্ছন্দে থাকতে প্রয়োজনীয় আয়ের পরিমাণও বেড়েছে। আর্থিক তথ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্মার্টঅ্যাসেটের নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সন্তানহীন একক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অঙ্গরাজ্যে স্বচ্ছন্দে জীবনযাপনের জন্য বছরে অন্তত ৮০ হাজার ডলারের বেশি আয় প্রয়োজন। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক অঙ্গরাজ্যেই প্রয়োজনীয় আয় ১ লাখ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। চার সদস্যের একটি পরিবারের ক্ষেত্রে দুই কর্মজীবী প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই সন্তান ৪০টি অঙ্গরাজ্যে স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের জন্য বছরে অন্তত ২ লাখ ডলার আয় প্রয়োজন। গবেষণায় ‘স্বচ্ছন্দে জীবনযাপন’ হিসাব করতে ৫০/৩০/২০ বাজেট পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে আয়ের ৫০ শতাংশ মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে, ৩০ শতাংশ ইচ্ছাধীন খরচে এবং বাকি ২০ শতাংশ সঞ্চয় ও ঋণ পরিশোধে রাখার হিসাব করা হয়। মৌলিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের তথ্য নেওয়া হয়েছে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) ‘লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটর’ থেকে। গবেষণার হিসাবে, একক প্রাপ্তবয়স্কের জন্য সবচেয়ে বেশি আয় প্রয়োজন হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে। সেখানে স্বচ্ছন্দে থাকতে বছরে প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ২ ডলার আয় প্রয়োজন। এরপর রয়েছে ম্যাসাচুসেটস, যেখানে প্রয়োজন ১ লাখ ২৭ হাজার ২১৩ ডলার। ক্যালিফোর্নিয়ায় এই পরিমাণ ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৯৭ ডলার, আর নিউইয়র্কে ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৪২ ডলার। চার সদস্যের পরিবারের হিসাব অবশ্য আরও বেশি। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্য ম্যাসাচুসেটস। সেখানে দুই কর্মজীবী প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই সন্তানের একটি পরিবারের স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের জন্য বছরে প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৫৫ ডলার আয় প্রয়োজন। হাওয়াইয়ে একই পরিবারের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৩ লাখ ১৩ হাজার ১৬৫ ডলার। এই তালিকায় ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কও ওপরের দিকে রয়েছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের বড় ও ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্যগুলোতে বাড়ি, খাবার, পরিবহন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ সামলানোর পাশাপাশি সঞ্চয় এবং ইচ্ছাধীন খরচের জন্য অর্থ রাখতে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি আয় প্রয়োজন হচ্ছে। অন্যদিকে তুলনামূলক কম আয়েও স্বচ্ছন্দে থাকা সম্ভব এমন অঙ্গরাজ্যের তালিকায় রয়েছে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ও মিসিসিপি। একক প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় প্রয়োজনীয় আয় সবচেয়ে কম বছরে ৮১ হাজার ২৪৫ ডলার। চার সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম আয় প্রয়োজন মিসিসিপিতে প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৩৩ ডলার। ২০২৫ সালের তুলনায়ও অনেক অঙ্গরাজ্যে স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় আয় বেড়েছে। একক প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বার্ষিক বৃদ্ধি দেখা গেছে মন্টানায়। সেখানে প্রয়োজনীয় আয় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৭৯৭ ডলারে পৌঁছেছে। এরপর নিউইয়র্কে বেড়েছে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ এবং মেইনে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। ক্যালিফোর্নিয়ায় বৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ১ শতাংশ। তবে সব অঙ্গরাজ্যে পরিস্থিতি একই নয়। ২০২৫ সালের তুলনায় ছয়টি অঙ্গরাজ্যে একক প্রাপ্তবয়স্কের স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় আয় সামান্য কমেছে। এগুলো হলো টেনেসি, মেরিল্যান্ড, লুইজিয়ানা, নর্থ ক্যারোলাইনা, মিসিসিপি ও টেক্সাস। এর মধ্যে টেনেসিতে সবচেয়ে বেশি কমেছে, প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ। সেখানে প্রয়োজনীয় আয় নেমে হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৯৮ ডলার। স্মার্টঅ্যাসেটের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যেই একক প্রাপ্তবয়স্কের জন্য স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় আয় ৮০ হাজার ডলারের নিচে নেই। এমনকি তুলনামূলক কম ব্যয়ের অঙ্গরাজ্যগুলোতেও বাড়তি সঞ্চয়, ঋণ পরিশোধ এবং ইচ্ছাধীন খরচের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে প্রয়োজনীয় আয় যথেষ্ট বেশি। গবেষণাটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলো আবাসন, মুদি পণ্য, পরিবহন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ের চাপ সামলাচ্ছে। স্মার্টঅ্যাসেটের বিশ্লেষণে তাই শুধু ‘কত টাকা আয় করলে বেঁচে থাকা সম্ভব’ তা নয়, বরং প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর পাশাপাশি কিছু অর্থ সঞ্চয় এবং জীবনযাত্রার অন্যান্য ব্যয় চালানোর সক্ষমতাকেও হিসাবের মধ্যে রাখা হয়েছে। তবে গবেষণাটি ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থার চূড়ান্ত হিসাব নয়। একই অঙ্গরাজ্যের মধ্যেও শহর, উপশহর ও গ্রামীণ এলাকার জীবনযাত্রার ব্যয় অনেকটা ভিন্ন হতে পারে। পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বাসস্থানের ধরন, পরিবহনব্যবস্থা ও ব্যক্তিগত খরচের অভ্যাসের ওপরও প্রকৃত প্রয়োজনীয় আয় নির্ভর করে। স্মার্টঅ্যাসেটের এই গবেষণায় এমআইটির ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের তথ্যও ব্যবহার করা হয়েছে বছরওয়ারি পরিবর্তন হিসাব করতে। সব মিলিয়ে গবেষণার চিত্র বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে ‘স্বচ্ছন্দ জীবন’ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আয়ের সীমা অঙ্গরাজ্যভেদে ব্যাপকভাবে বদলে যাচ্ছে। বিশেষ করে ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্যগুলোতে বাড়তি আয় ছাড়া সঞ্চয়, ঋণ পরিশোধ ও ব্যক্তিগত খরচের মধ্যে ভারসাম্য রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
ক্রেডিট কার্ডের ঋণের বোঝা বাড়ছে ফ্লোরিডাবাসীর ওপর। ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ফ্লোরিডায় ক্রেডিট রিপোর্ট থাকা একজন বাসিন্দার গড় ক্রেডিট কার্ড ব্যালেন্স দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫০ ডলারে, যা পুরো যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গড়ের চেয়ে ৭০০ ডলার বেশি। ডিজিটাল পার্সোনাল ফাইন্যান্স কোম্পানি অ্যাচিভ ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের কনজিউমার ক্রেডিট প্যানেলের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসাব প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গড় ক্রেডিট কার্ড ব্যালেন্সের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে ফ্লোরিডার অবস্থান ষষ্ঠ। ২০২৪ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের তুলনায় ২০২৫ সালের একই সময়ে ফ্লোরিডায় গড় ক্রেডিট কার্ড ব্যালেন্স বেড়েছে ২১০ ডলার, যা ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গড় ব্যালেন্স ৪ হাজার ১৮০ ডলার থেকে বেড়ে ৪ হাজার ৩৫০ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ জাতীয় পর্যায়ে এক বছরে গড় ব্যালেন্স বেড়েছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। ফ্লোরিডার চেয়ে বেশি গড় ক্রেডিট কার্ড ব্যালেন্স রয়েছে পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে। এগুলো হলো আলাস্কা, হাওয়াই, নিউ জার্সি, মেরিল্যান্ড ও নেভাদা। এর মধ্যে আলাস্কা শীর্ষে রয়েছে, যেখানে গড় ব্যালেন্স ৫ হাজার ২৫০ ডলার। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি অঙ্গরাজ্যে এখন গড় ক্রেডিট কার্ড ব্যালেন্স ৫ হাজার ডলার বা তার বেশি। ক্রেডিট কার্ডের ব্যালেন্স ২০২৫ সালে বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত সব অঙ্গরাজ্যেই বেড়েছে। জাতীয় পর্যায়েও ক্রেডিট কার্ড ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের তথ্য অনুযায়ী, বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে মোট ক্রেডিট কার্ড ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ২৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এক বছরের তুলনায় এটি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। তবে গড় ক্রেডিট কার্ড ব্যালেন্সের এই পরিসংখ্যানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। অ্যাচিভের হিসাব করা গড় ব্যালেন্স বলতে ক্রেডিট রিপোর্ট থাকা বাসিন্দাদের নামে থাকা ক্রেডিট কার্ডের মোট ব্যালেন্সের গড় বোঝানো হয়েছে। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি প্রতি মাসে তার পুরো ক্রেডিট কার্ড বিল পরিশোধ করেন কি না, তা জানা যায় না। অর্থাৎ, ৫ হাজার ৫০ ডলারের গড় ব্যালেন্স থাকা মানেই প্রত্যেক ফ্লোরিডাবাসী ওই পরিমাণ ঋণের ওপর সুদ দিচ্ছেন, এমন নয়। অনেক কার্ডধারী মাস শেষে পুরো ব্যালেন্স পরিশোধ করতে পারেন। অন্যদিকে যারা ব্যালেন্স বহন করেন, তাদের ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার বেশি হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে ঋণ পরিশোধের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের তথ্য আরও দেখায়, ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ক্রেডিট কার্ড ব্যালেন্স এক প্রান্তিকে ৪৪ বিলিয়ন ডলার বেড়েছিল। বছরের শেষে মোট ক্রেডিট কার্ড ঋণ ছিল ১ দশমিক ২৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে অবশ্য ক্রেডিট কার্ড ব্যালেন্স ২৫ বিলিয়ন ডলার কমে প্রায় ১ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক এটিকে বছরের প্রথম প্রান্তিকে সাধারণত দেখা যাওয়া মৌসুমি পরিবর্তনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ফ্লোরিডায় গড় ক্রেডিট কার্ড ব্যালেন্স জাতীয় গড়ের তুলনায় ৭০০ ডলার বেশি হওয়ার তথ্য তাই রাজ্যটির ভোক্তা ঋণের ওপর বাড়তে থাকা চাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অবসরকালীন সঞ্চয় ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন ৪০১(কে) পরিকল্পনার জনক হিসেবে পরিচিত টেড বেনা। তার নতুন ধারণা, কর্মীদের বেতন থেকে এক ডলারও না কেটেই নিয়োগকর্তার অর্থায়নে সঞ্চয় গড়ে তোলা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে এই অর্থ জরুরি প্রয়োজন কিংবা বাড়ি কেনার মতো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যেও ব্যবহার করা যেতে পারে। টেড বেনা প্রস্তাবিত এই নতুন পরিকল্পনার নাম দিয়েছেন রেডিশ। এটি প্রচলিত ৪০১(কে)-এর বিকল্প নয়, বরং একটি অতিরিক্ত সঞ্চয় সুবিধা হিসেবে ভাবা হয়েছে। বর্তমানে প্রস্তাবটি নীতিগত পর্যায়ে রয়েছে; এটি এখনো চালু হয়নি। বেনার ভাষ্য, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অনেক নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মী খাবার, বাসস্থান, হেলথ কেয়ার ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতেই হিমশিম খান। ফলে তাদের পক্ষে পেচেক থেকে নিয়মিত অর্থ কেটে ৪০১(কে)-তে জমা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই এমন একটি ব্যবস্থা দরকার, যেখানে কর্মীদের নিজস্ব আয় থেকে অর্থ কাটা ছাড়াই সঞ্চয় গড়ে উঠবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো কর্মী নির্ধারিত কর্মদক্ষতা, উপস্থিতি, নিরাপদে কাজ সম্পন্ন করা, বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা বা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত অন্যান্য লক্ষ্য পূরণ করলে নিয়োগকর্তা তার নামে একটি বিশেষ অবসর সঞ্চয় হিসাবে অর্থ জমা দেবেন। কোম্পানির নীতির ওপর নির্ভর করে এই অর্থ সাপ্তাহিক, মাসিক বা বার্ষিক ভিত্তিতে জমা হতে পারে। অর্থাৎ কর্মী ভালো পারফরম্যান্স করলে তার সঞ্চয়ও বাড়বে, কিন্তু সেই অর্থ তার বেতন থেকে কাটা হবে না। বেনা মনে করেন, শুধু অবসরের জন্য ২০ বা ৩০ বছর অপেক্ষা করার পরিবর্তে এই ধরনের সঞ্চয় জরুরি আর্থিক প্রয়োজন, চিকিৎসা ব্যয় কিংবা প্রথম বাড়ি কেনার ডাউন পেমেন্টের মতো স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য পূরণেও সহায়ক হতে পারে। তার মতে, এতে সঞ্চয়ের অভ্যাস যেমন বাড়বে, তেমনি কর্মীদের কর্মদক্ষতা বাড়াতেও এটি উৎসাহ হিসেবে কাজ করবে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় নিয়োগকর্তারও আর্থিক সুবিধা থাকতে পারে। কারণ এটি যোগ্য অবসর সঞ্চয় পরিকল্পনার কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হলে কিছু পেরোল-সংক্রান্ত কর ও ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে পরিকল্পনাটির উদ্যোক্তারা দাবি করছেন। মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি কর্মীর ৪০১(কে)-ধরনের অবসর সঞ্চয় পরিকল্পনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও, যোগ্য কর্মীদের মাত্র প্রায় অর্ধেক এতে অংশ নেন। টেড বেনার মতে, এটিই প্রমাণ করে যে বর্তমান ব্যবস্থা অনেক কর্মীর জন্য কার্যকরভাবে কাজ করছে না। তবে অনেক অর্থনীতিবিদদের মতে, অবসরকালীন সঞ্চয় ব্যবস্থায় যেকোনো পরিবর্তন বা নতুন পরিকল্পনা চালুর আগে এর করনীতি, অর্থ উত্তোলনের নিয়ম এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক প্রভাব ভালোভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি। কারণ ‘রেডিশ’ পরিকল্পনাটি এখনো প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি বাস্তবায়নের জন্য নিয়োগকর্তা, অবসর সঞ্চয় খাত এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের সমর্থন প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের অ্যালামেডা কাউন্টিতে শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি বাড়িয়ে ঘণ্টায় ৩০ ডলার করার একটি নজিরবিহীন প্রস্তাব বিবেচনা করছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হলে এটিই হবে পুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো কাউন্টি বা অঞ্চলের জন্য সর্বোচ্চ সর্বনিম্ন মজুরি। জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির কষাঘাত থেকে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতেই এমন ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অ্যালামেডা কাউন্টি বোর্ড অব সুপারভাইজারের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই প্রস্তাবটির ভবিষ্যৎ এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবটির বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য কর্মকর্তাদের সামনে বর্তমানে তিনটি পথ খোলা রয়েছে। প্রথমত, বোর্ড সরাসরি এই পরিপত্রটি গ্রহণ করে অবিলম্বে আইনে রূপান্তর করতে পারে। দ্বিতীয়ত, প্রস্তাবটি সরাসরি সাধারণ মানুষের ভোটের জন্য আগামী নভেম্বর মাসের ব্যালটে পাঠাতে পারে। অথবা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রস্তাবটির সম্ভাব্য সার্বিক অর্থনৈতিক প্রভাব পর্যালোচনা করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য কাউন্টির দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিতে পারে। "সবার জন্য সম্মানজনক মজুরি" বা 'লিভিং ওয়েজ ফর অল' শীর্ষক এই সামাজিক আন্দোলনের পক্ষে ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষের অভূতপূর্ব সমর্থন লক্ষ্য করা গেছে। কাউন্টির অন্তর্ভুক্ত অসংগঠিত বা অননুমোদিত অঞ্চলগুলো থেকে এই প্রস্তাবের পক্ষে ১ লাখেরও বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। বিপুল সংখ্যক নাগরিকের এই সমর্থন প্রশাসনকে প্রস্তাবটি গভীরভাবে বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে। শ্রমিক অধিকার বিষয়ক সংগঠন 'ওয়ান ফেয়ার ওয়েজ'-এর প্রেসিডেন্ট সারু জয়রামন এই প্রস্তাবের পক্ষে জনমতের শক্তি তুলে ধরে জানান, সাধারণত বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থ ঢেলে যেসব রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রস্তাব ব্যালটে তোলে, এটি সেভাবে তৈরি হয়নি। এটি সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের নিজেদের আন্দোলন, যারা ঘরে ঘরে গিয়ে প্রতিটি মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলে এই গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন। অ্যালামেডা কাউন্টিতে জীবনধারণের বাস্তব খরচ ঠিক কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে, তা এই ১ লাখেরও বেশি স্বাক্ষরকারী খুব ভালোভাবে অনুধাবন করতে পেরেছেন বলেই তারা এতে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। মূলত সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া অঞ্চলে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি এবং চড়া সুদের হারের কারণে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ জীবনযাপনে মারাত্মক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গবেষক ও অধিকারকর্মীরা তুলে ধরেন যে, বৈশ্বিক মহামারীর পর থেকে বিগত ছয় বছরে মূল্যস্ফীতির হার গত ৭৫ বছরের গড় হারকে দ্বিগুণেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে। ফলে আগের অর্জিত আয় দিয়ে বর্তমান বাজারদরে দৈনন্দিন মৌলিক চাহিদা মেটানো সাধারণ পরিবারের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বর্তমানে অ্যালামেডা কাউন্টির ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত রয়েছে ঘণ্টায় ১৬.৯০ ডলার। নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে এই হার এক লাফেই প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৩০ ডলারে গিয়ে পৌঁছাবে। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের ওপর যেন হঠাৎ অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে, সে জন্য প্রস্তাবটিতে একটি ধাপভিত্তিক বাস্তবায়ন পর্যায় রাখা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ১০০ জন বা তার বেশি কর্মচারী রয়েছে, তাদের আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই ৩০ ডলারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে। আর তুলনামূলক ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই নতুন মজুরি কাঠামোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য ১০ বছর পর্যন্ত দীর্ঘ সময়সীমা দেওয়া হবে। কেবল অ্যালামেডা কাউন্টিই নয়, পার্শ্ববর্তী ওকল্যান্ড শহরেও সমান্তরালভাবে একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওকল্যান্ডেও আগামী নভেম্বর মাসের ব্যালটে 'লিভিং ওয়েজ ফর অল' সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব উত্থাপনের জোর প্রস্তুতি চলছে। যদি ওকল্যান্ডের সাধারণ ভোটাররা এই প্রস্তাব সমর্থন করেন, তবে সেখানেও বর্তমানের ১৭.২৪ ডলারের ন্যূনতম মজুরি পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে ৩০ ডলারে উন্নীত করা হবে। এই আইন বাস্তবায়িত হলে তা সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বাজারে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দেবে বলে ধারণা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় ঘণ্টাপ্রতি সর্বনিম্ন মজুরি বেড়ে ১৭ দশমিক ৪০ ডলারে উন্নীত হবে। শুক্রবার এ ঘোষণা দিয়েছেন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউজম। ক্যালিফোর্নিয়ার বিদ্যমান আইন অনুযায়ী মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি বছর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সর্বনিম্ন মজুরি সমন্বয় করা হয়। সেই ব্যবস্থার আওতাতেই নতুন এই হার কার্যকর হবে। নতুন হার কার্যকর হলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অঙ্গরাজ্যের বর্তমান সর্বোচ্চ সর্বনিম্ন মজুরির মধ্যে থাকবে। একই সঙ্গে এটি ফেডারেল সরকারের নির্ধারিত ঘণ্টাপ্রতি ৭ দশমিক ২৫ ডলারের সর্বনিম্ন মজুরির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ঘোষণার সময় গভর্নর গ্যাভিন নিউজম কেন্দ্রীয় সরকারের মজুরি নীতির সমালোচনা করেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকানরা ফেডারেল সর্বনিম্ন মজুরি বাড়ানোর উদ্যোগে বাধা দিয়েছেন, অথচ বড় বড় করপোরেশন ও ধনীদের জন্য কর ছাড় অব্যাহত রেখেছেন। নিউজম বলেন, ক্যালিফোর্নিয়া ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। এখানে কঠোর পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তার ভাষায়, যারা পরিশ্রম করেন, তারা সম্মানজনক আয় পাওয়ার অধিকার রাখেন। তবে গভর্নরের এই ঘোষণাকে রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সমালোচকেরা। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী স্কট মেয়ার বলেন, ফেডারেল সর্বনিম্ন মজুরির সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনা বাস্তবসম্মত নয়, কারণ অঙ্গরাজ্যটিতে অনেক আগেই নিজস্ব মজুরি কাঠামো কার্যকর হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, সর্বনিম্ন মজুরি যত বাড়বে, তত বেশি প্রতিষ্ঠান স্বয়ংক্রিয় সেলফ-চেকআউট বা প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা ব্যবহার করবে। এতে নতুন ও স্বল্প অভিজ্ঞ কর্মীদের চাকরির সুযোগ কমে যেতে পারে। এর আগে গত ১ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার অনেক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্যও নির্ধারিত মজুরি বৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী তাদের সর্বনিম্ন ঘণ্টাপ্রতি মজুরি এখন ১৯ দশমিক ২৮ ডলার থেকে ২৫ ডলারের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। গভর্নর নিউজমের আমলে মজুরি বৃদ্ধির এটি প্রথম উদ্যোগ নয়। এর আগে তার প্রশাসন ফাস্টফুড খাতের কর্মীদের জন্য ঘণ্টাপ্রতি ২০ ডলার সর্বনিম্ন মজুরি কার্যকর করেছিল। তবে এ নীতির বিরোধীরা বলছেন, মজুরি বৃদ্ধির ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করেছে, কিছু ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে এবং বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দাম বেড়েছে। এমপ্লয়মেন্ট পলিসিজ ইনস্টিটিউটের গবেষণা পরিচালক রেবেকা প্যাক্সটন বলেন, সর্বোচ্চ মজুরি নির্ধারণকে সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হলেও এর বাস্তব প্রভাব ভিন্ন। তার দাবি, ফাস্টফুড খাতে ২০ ডলারের সর্বনিম্ন মজুরি চালুর পর হাজার হাজার চাকরি হারিয়েছে, অনেক ছোট ব্যবসা বন্ধ হয়েছে এবং ভোক্তাদের খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া অ্যাসেম্বলি রিপাবলিকান ককাস এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রতিটি বাসিন্দাই বেতন বৃদ্ধি চান। কিন্তু একই সঙ্গে যদি জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়তে থাকে, তাহলে সেই বাড়তি আয়ের সুফল অনেকটাই কমে যায়। তাদের মতে, নতুন মজুরি বৃদ্ধির ঘোষণা উদযাপনের বদলে অঙ্গরাজ্যে কেন জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। অঙ্গরাজ্যের সিনেটর টনি স্ট্রিকল্যান্ডও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যবসা পরিচালনা আগেই কঠিন হয়ে উঠেছে। নতুন করে সর্বনিম্ন মজুরি বাড়ানো হলে বিশেষ করে ছোট ও পারিবারিক মালিকানাধীন ফাস্টফুড ব্যবসাগুলো আরও বেশি চাপে পড়বে। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, সর্বনিম্ন মজুরি বৃদ্ধি কর্মীদের আয় বাড়াতে সহায়ক হলেও একই সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয়ও বাড়ায়। ফলে এর প্রভাব কর্মসংস্থান, পণ্যের দাম এবং ভোক্তা ব্যয়ের ওপর কীভাবে পড়বে, তা নির্ভর করবে বিভিন্ন খাতের ব্যবসা ও শ্রমবাজারের বাস্তব পরিস্থিতির ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কয়েক ডজন বাণিজ্য অংশীদারের পণ্যের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক কার্যকর করায় পোশাক, ইলেকট্রনিকস, খাদ্যপণ্য, নির্মাণসামগ্রী ও গাড়িসহ অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে ভোক্তাদের খরচ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকেরা। নতুন ব্যবস্থায় ৬০টি দেশের আমদানি পণ্যের ওপর সাধারণভাবে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য ঠেকানোর যুক্তি দেখিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, বিদেশি রপ্তানিকারকেরা নয়, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ ক্রেতাদেরই এই বাড়তি ব্যয়ের বড় অংশ বহন করতে হতে পারে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে পোশাক ও বস্ত্রপণ্যে। যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া বিপুল পরিমাণ জামাকাপড়, জুতা ও কাপড়জাত পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। যেসব উৎপাদনকারী দেশ নতুন শুল্কের আওতায় পড়েছে, সেসব দেশ থেকে পণ্য আনার খরচ বাড়লে খুচরা বিক্রেতারা দাম বাড়াতে পারেন। ইলেকট্রনিকস খাতেও একই ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্মার্টফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন এবং বিভিন্ন গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি তৈরিতে ব্যবহৃত পণ্য ও যন্ত্রাংশের বড় অংশ চীন, মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থার একাধিক ধাপে শুল্ক যুক্ত হলে নতুন ডিভাইস কেনা কিংবা পুরোনো যন্ত্র মেরামতের খরচও বাড়তে পারে। খাদ্য ও পানীয়ের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ব্রাজিল থেকে আমদানি করা কফি এবং কানাডাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রক্রিয়াজাত খাবার ও পানীয়ের দাম বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে জ্বালানি, সার এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য ও কৃষিপণ্য নতুন শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে সব পণ্যের দাম একই হারে বাড়বে না। বাড়িঘর নির্মাণ ও সংস্কারের ব্যয়ও আরও বেড়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত কাঠ, ধাতব সামগ্রী, আসবাব, বৈদ্যুতিক উপকরণ এবং অন্যান্য নির্মাণপণ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ বিদেশ থেকে আসে। এসব পণ্যের দাম বাড়লে নতুন বাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি রান্নাঘর, বাথরুম কিংবা পুরোনো বাড়ি সংস্কারের খরচও বাড়তে পারে। গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশের বাজারেও বাড়তি চাপের আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গাড়িশিল্প কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত। একটি গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সীমান্ত পেরিয়ে একাধিকবার যাতায়াত করতে পারে। প্রতিটি ধাপে বাড়তি ব্যয় যুক্ত হলে নতুন ও ব্যবহৃত গাড়ির দাম, যন্ত্রাংশ এবং মেরামতের খরচেও তার প্রভাব পড়তে পারে। এর পাশাপাশি কানাডার নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর আলাদাভাবে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার হওয়ায় দেশটি থেকে আসা পণ্যের দাম বাড়লে মার্কিন বাজারের বেশ কয়েকটি খাতে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, নতুন শুল্ক বিদেশি দেশগুলোকে জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে উৎসাহিত করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকে শক্তিশালী করবে। তবে ব্যবসায়ী সংগঠন ও অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, দেশীয় উৎপাদন বাড়তে সময় লাগে; এর আগেই আমদানিকারকেরা বাড়তি ব্যয় পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন। তবে শুল্ক কার্যকর হওয়া মানেই সব পণ্যের দাম তাৎক্ষণিকভাবে একই মাত্রায় বেড়ে যাবে, এমন নয়। কোনো প্রতিষ্ঠান বাড়তি খরচের কতটা নিজে বহন করবে, কতটা ক্রেতার ওপর চাপাবে এবং বিকল্প দেশ থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে পারবে কি না, তার ওপর প্রকৃত মূল্যবৃদ্ধি নির্ভর করবে। এরপরও এমন সময়ে নতুন শুল্ক কার্যকর হলো, যখন খাবার, জ্বালানি ও আবাসন ব্যয় নিয়ে আগে থেকেই চাপে রয়েছে বহু মার্কিন পরিবার।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি শক্ত অবস্থানে থাকলেও দেশটির শেয়ারবাজারে চাপ বাড়ছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শক্তিশালী ভোক্তা ব্যয় এবং উন্নত ভোক্তা আস্থার মতো ইতিবাচক অর্থনৈতিক সূচক অর্থনীতিকে সহায়তা করলেও প্রযুক্তি খাতের শেয়ারদর পতন, সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগের ঝুঁকি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। জুন মাসে স্পেসএক্সের রেকর্ড গড়া প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ার (আইপিও) প্রস্তুতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নতুন প্রধান কেভিন ওয়ার্শের প্রথম নীতিনির্ধারণী বৈঠকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার মধ্যেও শেয়ারবাজারে বৈপরীত্য দেখা গেছে। একদিকে ইতিবাচক অর্থনৈতিক তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা তুলে ধরেছে। অন্যদিকে একই সময়ে নাসডাক ও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক নিম্নমুখী ছিল। বাজারের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারও একটি সূচক অনুযায়ী ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। এদিকে তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো মূল্যস্ফীতি ৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলেও মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের দাম বেড়েছে এবং ফলন কমেছে। ফিলাডেলফিয়াভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান জ্যানি মন্টগোমারি স্কটের প্রধান স্থির-আয় কৌশলবিদ গাই লে বাস বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লেও ভোক্তারা জ্বালানিবহির্ভূত পণ্য ও সেবায় ব্যয় অব্যাহত রেখেছেন। তার মতে, এটি প্রমাণ করে যে বছরের শুরুতে ধারণার তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি অনেক বেশি স্থিতিশীল, সহনশীল এবং শক্তিশালী। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আরও বাড়তে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিপুল বিনিয়োগের প্রভাবে মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করা প্রকৃত সুদের হার বাড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীরা নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। ফেডপ্রধান কেভিন ওয়ার্শের কঠোর অবস্থানের পর বাজারে সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। যদিও অনেক বিশ্লেষকের মতে, আর্থিক পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই কঠোর হয়ে যাওয়ায় বাস্তবে আর সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন নাও হতে পারে। এদিকে স্বর্ণ, বিটকয়েন, মাইক্রোসফট ও মেটার মতো বিভিন্ন সম্পদের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ওয়াল স্ট্রিটে নতুন শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রি রেকর্ড গতিতে চলছে। এর বড় অংশই ব্যবহৃত হচ্ছে এআই খাতে বিনিয়োগে। যদিও অনেক বিনিয়োগকারী এ খাতে অতিমূল্যায়নের ঝুঁকির কথা বলছেন, তবুও বিনিয়োগের গতি এখনো কমেনি। গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষক কামাক্ষ্য ত্রিবেদী বলেন, যুদ্ধের আশঙ্কা কমে যাওয়া এবং তেলের দাম হ্রাস পাওয়ায় বাজার আবার অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তির দিকে নজর দিচ্ছে। তবে এই ইতিবাচক পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই শেয়ারের উচ্চ মূল্যায়নে প্রতিফলিত হয়েছে। তার মতে, এআই খাতেই সবচেয়ে বেশি টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে এবং এটিই বর্তমানে বাজারের অস্থিরতার অন্যতম কারণ। বাজারের অস্থিরতার বড় একটি কারণ হলো বিনিয়োগকারীদের দ্রুত এক খাত থেকে অন্য খাতে বিনিয়োগ স্থানান্তর। মার্চের শেষ দিকে যুদ্ধসংক্রান্ত উদ্বেগ কমে যাওয়ার পর থেকে সেমিকন্ডাক্টর সূচক ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। চলতি বছরে সূচকটির মূল্য বেড়েছে ৮৭ শতাংশ। একই সময়ে মাইক্রনের শেয়ার চার গুণ এবং ইন্টেল ও মার্ভেল টেকনোলজির শেয়ার প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। অন্যদিকে এনভিডিয়া, অ্যাপল ও অ্যালফাবেটের নেতৃত্বাধীন ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ গ্রুপ চলতি বছরে নিম্নমুখী রয়েছে। অথচ ২০২৫ সালে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের মোট প্রবৃদ্ধির প্রায় ৪০ শতাংশ এসেছিল এই সাত প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বৃদ্ধি ও লভ্যাংশ থেকে। বিশ্লেষকদের মতে, এআই অবকাঠামো নির্মাণে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিপুল ব্যয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। গত বছরের শেষ দিকে ওরাকলসহ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান ব্যাপক ঋণ নেওয়া শুরু করার পর এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে। গত ১২ মাসে অ্যামাজন ও অ্যালফাবেট বিভিন্ন মুদ্রায় প্রায় ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বন্ড ইস্যু করেছে। এআই অবকাঠামো নির্মাণকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ-যোগ্য বন্ড বিক্রির পরিমাণ ইতোমধ্যেই ২০২৫ সালের মোট বিক্রির পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে। বিএনপি পারিবাসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর এই সংখ্যা ২৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ওকলাহোমাভিত্তিক লংবো অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেক ডলারহাইড বলেন, এআই প্রযুক্তি চিপ নির্মাতাদের জন্য ইতিবাচক হলেও যেসব প্রতিষ্ঠান এই প্রযুক্তিতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করছে, তারা এখনো প্রত্যাশিত আর্থিক সুফল পাচ্ছে না। এ কারণেই চলতি বছরে ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেনের শেয়ারদর চাপে রয়েছে। অনেক বিনিয়োগকারীর আশঙ্কা, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর আরও কমতে পারে। গত সপ্তাহে ইউবিএস তাদের এআইভিত্তিক বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে সেমিকন্ডাক্টর ও হার্ডওয়্যার খাতে বিনিয়োগ কমিয়েছে। তাদের ধারণা, শেয়ারদর কমে যাওয়ায় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতে এআই অবকাঠামোয় মূলধনি ব্যয় কমাতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এমনটি হলে এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। কারণ, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের পরিমাণ অত্যন্ত বড়। গাই লে বাস বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি করপোরেট বিনিয়োগ। সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী কয়েক বছরে ৭০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি মূলধনি ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে। তাই এই বিনিয়োগ অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক মন্দার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। তবে তার মতে, মূলধনি ব্যয় কমে যাবে বলে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার একাধিকবার ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করলেও দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অঙ্গরাজ্যগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন এক গবেষণায় অর্থনৈতিক শক্তি, কর্মসংস্থান, উদ্ভাবন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের সমন্বিত মূল্যায়নে ম্যাসাচুসেটসকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির অঙ্গরাজ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ব্যক্তিগত অর্থনীতি ও ভোক্তাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাবের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসিকে ২৮টি অর্থনৈতিক সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়। এই মূল্যায়নে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, বেকারত্বের হার, নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠার প্রবণতা, উচ্চপ্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থান এবং উদ্ভাবন সক্ষমতার মতো বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। গবেষণায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ম্যাসাচুসেটস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসরকারি খাত, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর ধারাবাহিক বিনিয়োগ রাজ্যটির অর্থনৈতিক সাফল্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ফলে রাজ্যটিতে উদ্ভাবনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাথাপিছু আবিষ্কার-সংক্রান্ত পেটেন্টের সংখ্যার বিচারে ম্যাসাচুসেটস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। দক্ষ জনশক্তির ক্ষেত্রেও রাজ্যটি এগিয়ে। উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পে কর্মরত মানুষের অনুপাত দেশটির মধ্যে সর্বোচ্চ। পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) খাতে কর্মরত জনশক্তির হারেও ম্যাসাচুসেটস তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দ্রুত বিকাশমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা ‘টেকনোলজি ফাস্ট ৫০০’-এ অন্তর্ভুক্ত কোম্পানির হারও ম্যাসাচুসেটসে সবচেয়ে বেশি। এর ফলে রাজ্যটি প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তালিকায় ম্যাসাচুসেটসের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্য এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে উটাহ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ, উদ্ভাবনমুখী পরিবেশ এবং দক্ষ কর্মশক্তির সমন্বয় এসব অঙ্গরাজ্যের অর্থনৈতিক সাফল্যের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপো বলেন, শক্তিশালী অর্থনীতি থাকলেই যে প্রতিটি নাগরিক আর্থিকভাবে সফল হবেন, এমন নয়। তবে একটি শক্তিশালী অর্থনীতি মানুষের জন্য আর্থিক সাফল্যের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। তার মতে, কম বেকারত্ব, বেশি গড় আয় এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নাগরিকদের বাড়ি কেনা, ঋণ পরিশোধ এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় গড়ে তুলতে সহায়তা করে। চিপ লুপো আরও বলেন, সফল অঙ্গরাজ্যগুলো বর্তমান অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি নতুন ব্যবসা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতাও তৈরি করে। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, নিউইয়র্ক এবং ফ্লোরিডার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোর অর্থনীতি এত বড় যে সেগুলোকে স্বাধীন দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হলে বিশ্বের শীর্ষ ২০ অর্থনীতির মধ্যেই স্থান পেত। তবে অর্থনীতির সামগ্রিক আকারের বাইরে গিয়ে প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যবসার পরিবেশ বিবেচনায় ম্যাসাচুসেটস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক অঙ্গরাজ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।