নিউইয়র্কে মেয়ে ও চার নাতি-নাতনিকে বিষপ্রয়োগে হত্যার অভিযোগ, দাদিকে পরিবারের দুই লাইনের শোকবার্তা
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে নিজের মেয়ে ও চার নাতি-নাতনিকে বিষপ্রয়োগে হত্যার পর আত্মহত্যার সন্দেহভাজন এক দাদিকে তার পরিবার মাত্র দুই লাইনের একটি শোকবার্তায় স্মরণ করেছে। বহুল আলোচিত এই ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ৬৪ বছর বয়সী অ্যামি জে. স্টেডম্যান, তার ৪৪ বছর বয়সী মেয়ে সারা মায়ার্স এবং চার নাতি-নাতনি, ১৩ বছর বয়সী হারপার হারমন, ১১ বছর বয়সী হাডসন হারমন এবং ১০ বছর বয়সী যমজ গ্যাভিন ও গ্রেসলিন হারমনকে নিউইয়র্কের মেকানিকভিলে স্টেডম্যানের বাড়ি থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নিতে গিয়ে পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
আলবেনিভিত্তিক একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত স্টেডম্যানের শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “অ্যামি জে. স্টেডম্যান, ৬৪, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ তারিখে মারা গেছেন। পরিবারের অনুরোধে ব্যক্তিগতভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।” সেখানে তার কোনো ছবিও প্রকাশ করা হয়নি।
মেকানিকভিল পুলিশ প্রধান বিল র্যাবিট জানান, স্টেডম্যানের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া একটি হাতে লেখা চিঠিতে জোরালোভাবে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, তিনি মেয়ে ও চার নাতি-নাতনিকে বিষপ্রয়োগে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন।
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রেসক্রিপশন ও ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এসব ওষুধ ইচ্ছাকৃত বিষপ্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে টক্সিকোলজি পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা হচ্ছে না।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নিহত শিশুদের একজনের শরীরে ছুরিকাঘাতের চিহ্নও পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুদের বাবার সাম্প্রতিক হেফাজতের অধিকার পাওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।
নিহত শিশুদের বাবা ব্র্যাডি হারমন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সন্তানদের হেফাজত নিয়ে আইনি লড়াই করছিলেন এবং গ্রীষ্মের ছুটিতে তাদের উটাহে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে জুন মাসে শেষবার কথা বলার সময় সাবেক স্ত্রী সারা মায়ার্স তাকে জানিয়েছিলেন, শিশুরা অসুস্থ।
হারমন বলেন, “ব্যবস্থাটি ভেঙে পড়েছে। সন্তানদের কাছে পৌঁছাতে আমাকে সাড়ে ছয় বছর লড়াই করতে হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এখন আমার একমাত্র চাওয়া, আমার সন্তানদের বাড়িতে ফিরিয়ে আনা এবং যারা তাদের সঙ্গে এমন নৃশংসতা করেছে, তাদের থেকে দূরে রাখা।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। টক্সিকোলজি পরীক্ষার ফল হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে আইনজীবী ছাড়াই অভিবাসন আদালতে হাজির হওয়া ১৩ বছরের হন্ডুরান শিশু অ্যাঞ্জেলের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ দিয়েছেন বিচারক। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর হারলিনজেনের আদালতে শুনানির সময় দেশে ফেরার বিষয়ে প্রশ্নের মুখে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে। সিএনএনের প্রতিবেদনে ঘটনাটি উঠে এসেছে। অ্যাঞ্জেল বিচারককে জানায়, তার মা ও পরিবারের প্রায় সবাই যুক্তরাষ্ট্রে আছেন এবং হন্ডুরাসে ফিরে যাওয়া বিপজ্জনক। বিচারক তাকে অ্যাসাইলামের যোগ্য নয় বলে জানিয়ে স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার আবেদন করবে কি না, জানতে চান। কী করবে বুঝতে না পেরে শিশুটি কাঁদতে শুরু করে। পরে বিচারক বহিষ্কারের আদেশ দিয়ে আপিলের সময় দেন। সিএনএন জানিয়েছে, দেশজুড়ে দুই বছর বয়সী শিশুরাও অভিবাসন আদালতে হাজির হচ্ছে, অনেকেই আইনজীবী ছাড়া। হারলিনজেনের ওই শুনানিতে তিন বছরের মাতেও মাইক্রোফোন নিয়ে খেলছিল। তবে তার আইনজীবী দূর থেকে শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন। অভিবাসন আদালত পরিচালনাকারী এক্সিকিউটিভ অফিস ফর ইমিগ্রেশন রিভিউ বা ইওআইআরের তথ্য অনুযায়ী, এসব মামলায় আইনজীবী বা অনুমোদিত প্রতিনিধির সহায়তা নেওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে সেই প্রতিনিধিত্বের খরচ সরকারকে বহন করতে হয় না। ফলে আদালতে হাজির হলেই বিনা খরচে সরকারি আইনজীবী পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ে অ্যাকেশিয়া সেন্টার ফর জাস্টিসের সঙ্গে আইনি সেবার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা নবায়ন করেনি ট্রাম্প প্রশাসন। ওই ব্যবস্থায় প্রায় ১০০টি প্রতিষ্ঠান ২০ হাজারের বেশি অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুকে সহায়তা দিত। আগস্টে বিকল্প আইনি সেবার জন্য ইউএস কমিটি ফর রেফিউজিস অ্যান্ড ইমিগ্র্যান্টসকে সর্বোচ্চ দুই কোটি ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের বক্তব্য, শিশুদের আইনি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অন্যদিকে ইওআইআর শিশুদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য অস্বাভাবিকভাবে তাড়াহুড়া করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মার্কিন নাগরিকত্বের ৭ লাখ ৪২ হাজার আবেদন অপেক্ষমাণ, নিউইয়র্কেও চাপ
নিউইয়র্কে চাকরির সংখ্যা পতনে জানুয়ারির ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি স্থগিতের পথে
এবার মশার বিরুদ্ধে কামান দাগাচ্ছেন ট্রাম্প! লক্ষ্য ৯০ শতাংশ নিধন
আমেরিকানদের সঞ্চয় লু টতে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিশাল ‘স্ক্যাম সিটি’ বা প্র তা র ণার ঘাঁটি। এসব ঘাঁটি থেকে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের টার্গেট করে অনলাইন, ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্র তা র ণা চালানো হচ্ছে। এসব চক্রের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে অভিযান জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, ‘অপারেশন ব্ল্যাকআউট’-এর আওতায় বিদেশে থাকা বিশাল প্র তা র ণা কমপ্লেক্সগুলো শনাক্ত, অচল ও ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, এসব চক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। প্যাটেলের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘাঁটি কোনো ছোটখাটো অফিস নয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় এমন কমপ্লেক্স রয়েছে, যেগুলো দেখতে অনেকটা পুরো শহর বা গ্রামের মতো। সেখানে পা চা রের শিকার মানুষদের জো র করে কাজ করানো হয় এবং তাদের ব্যবহার করে হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা আমেরিকানদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। প্যাটেল বলেন, এসব প্র তা র ণার শিকারদের বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের বয়স্ক নাগরিক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ফোন কল, খুদে বার্তা এবং টেলিগ্রামের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রথমে বিশ্বাস তৈরি করা হয়। প্র তা র ণার একটি প্রচলিত কৌশল হলো অনলাইনে বন্ধুত্ব বা প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করা। পরে সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে ভুক্তভোগীকে ভুয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মে অর্থ দিতে উৎসাহিত করা হয়। শুরুতে সেখানে বড় অঙ্কের লাভ দেখানো হতে পারে। কিন্তু টাকা তুলতে গেলে দেখা যায়, অর্থ আর ফেরত নেওয়া যাচ্ছে না। প্যাটেল এসব ঘাঁটিকে ‘শহর’ ও ‘গ্রাম’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, সেখানে এমন অবকাঠামো রয়েছে যেখানে মানুষকে জো র করে শ্রম দিতে বাধ্য করা হয়। আগস্টে কম্বোডিয়ার প্রায় ২০০ একর আয়তনের ওসমাচ রিসোর্টে এমন একটি ঘাঁটিতে অভিযান চালানো হয়। এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিন দিন ধরে ২৮টি ভবনে তল্লাশি চালিয়ে ১১৩টি হার্ডড্রাইভ, ১৫টি কম্পিউটার এবং ৩৫টি বাক্সভর্তি আলামত জব্দ করা হয়। শুধু অভিযান চালানো নয়, মানুষ যাতে প্র তা র ণার শিকারই না হন, সে বিষয়েও কাজ করছে এফবিআই। ‘অপারেশন লেভেল আপ’-এর মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগ প্র তা র ণার শিকারদের আগেভাগে শনাক্ত করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এফবিআই জানিয়েছে, এই উদ্যোগের আওতায় ১০ হাজার ৪০৬ জন সম্ভাব্য ভুক্তভোগীকে সতর্ক করা হয়েছে। এর ফলে আনুমানিক ৬৬০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে আরও ১২২ মিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ বা ফ্রিজ করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, যাদের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেছে, তাদের ৭৭ শতাংশই শুরুতে বুঝতে পারেননি যে তারা প্র তা র ণার শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া ৫৮৪টি প্র তা র ণামূলক ওয়েবসাইট জব্দ এবং ৭ হাজার ৬৭০টি সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টের তথ্য বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেপ্টেম্বরে মাদাগাস্কারে ১৩টি প্র তা র ণা কেন্দ্র বন্ধ করতেও মার্কিন বিচার বিভাগের একটি বিশেষ টাস্কফোর্স স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করে। অভিযানে ৩ হাজার ২০০টির বেশি ইলেকট্রনিক ডিভাইস প্রক্রিয়া করা হয়। এফবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কেন্দ্র চীনা সংগঠিত অ প রা ধ চক্র পরিচালনা করছিল। তবে এসব চক্রের অবস্থানও বদলে যাচ্ছে। প্যাটেল জানান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের পর এখন মধ্য ও সাব-সাহারান আফ্রিকার দিকে নিজেদের ঘাঁটি সরিয়ে নিচ্ছে কিছু প্র তা র ণা চক্র। নতুন এসব এলাকাতেও অভিযান চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে এফবিআইয়ের। এফবিআইয়ের সাম্প্রতিক তথ্যেও অনলাইন প্র তা র ণার বড় ঝুঁকি উঠে এসেছে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সাইবারভিত্তিক অ প রা ধে প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির অভিযোগ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। ফলে বিশ্বজুড়ে গড়ে ওঠা এসব ‘স্ক্যাম সিটি’ এখন শুধু অনলাইন প্র তা র ণার কেন্দ্র নয়, বরং সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত একটি বড় অ প রা ধ নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে এফবিআইয়ের নজরে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে কাঁচা দুধ নিয়ে নতুন উদ্বেগ, গুরুতর অসু স্থ হচ্ছে শিশুরা
ইরান নিয়ে ট্রাম্পের কড়া বার্তা, ‘ভালো-মন্দ যেকোনো উপায়ে’ শিগগিরই ইতি টানার ইঙ্গিত
ট্রাম্প প্রশাসনের বিজ্ঞাপনে সরকারি অর্থের ব্যবহার, প্রশ্নের মুখে ২ কোটি ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে আবারও গতি পাচ্ছে উৎপাদন খাত। ২০২৬ সালের আগস্টে দেশটির ম্যানুফ্যাকচারিং খাত সম্প্রসারণের অবস্থানেই ছিল। ইনস্টিটিউট ফর সাপ্লাই ম্যানেজমেন্টের ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই আগস্টে ৫৪ দশমিক ৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ে এই সূচক ছিল ৫৫ দশমিক ৬, যা ২০২২ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ। তবে এই ইতিবাচক চিত্রের আড়ালে রয়েছে বড় একটি সমস্যা। কারখানাগুলো বাড়লেও তাদের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক উপাদান, শ্রমিক, ইস্পাতসহ বিভিন্ন উপকরণের সরবরাহ এখনো চাপের মধ্যে রয়েছে। সরবরাহকারীদের পণ্য পৌঁছানোর গতিও টানা নবম মাসে ধীর হয়েছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ এগোলেও সেই উৎপাদন ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। শুধু কারখানা বানালেই হবে না যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন ফিরিয়ে আনার আলোচনা বা ‘রিশোরিং’ এখন মূলত নতুন কারখানা নির্মাণ ও বড় অঙ্কের বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে হচ্ছে। কিন্তু একটি বড় কারখানা কখনোই একা চলে না। এর পেছনে থাকে অসংখ্য ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান। কেউ প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ তৈরি করে, কেউ মেশিনের অংশ বানায়, কেউ বিশেষ ধরনের টুল তৈরি করে, আবার কেউ কারখানার যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ করে। তাই বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা তৈরিতে উৎসাহিত করাই যথেষ্ট নয়। সেই কারখানাগুলো চালু হওয়ার পর প্রয়োজনীয় উপকরণ ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ করার মতো দেশীয় সক্ষমতাও থাকতে হবে। ছোট প্রতিষ্ঠানই বড় ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ যুক্তরাষ্ট্রের ছোট মেশিন শপ ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকেরই দক্ষ কর্মী, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভালো ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু আধুনিক উৎপাদনের চাহিদা পূরণে তাদের অনেকেই যন্ত্রপাতি, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা ও উৎপাদন প্রক্রিয়া আধুনিক করার প্রয়োজন অনুভব করছে। সমস্যাটি সবসময় দক্ষতার অভাব নয়। অনেক সময় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় একটি ছোট প্রতিষ্ঠান তার সক্ষমতা বড় পরিসরে কাজে লাগাতে পারে না। আধুনিক উৎপাদনে শুধু ফোন বা ই-মেইলের মাধ্যমে অর্ডারের অবস্থা জানানো যথেষ্ট নয়। ক্রেতাদের জানতে হয় একটি অর্ডারের কতটুকু কাজ শেষ হয়েছে, কোথায় রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ করা সম্ভব হবে কি না। এই তথ্য দ্রুত দিতে না পারলে ভালো মানের পণ্য তৈরি করেও কোনো সরবরাহকারী বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য দুর্বল অংশ হয়ে উঠতে পারে। মান নিয়ন্ত্রণও বড় বিষয় যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়লে স্থানীয় সরবরাহকারীদের প্রতিযোগিতাও বাড়বে। তখন শুধু একটি যন্ত্রাংশ তৈরি করতে পারলেই হবে না; একই মানের পণ্য বারবার, নির্ভুলভাবে এবং নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ করতে হবে। মেশিন তৈরির ক্ষেত্রে অনেক সময় এক ইঞ্চির হাজার ভাগের এক ভাগের মতো অতি ক্ষুদ্র মাপের পার্থক্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। উৎপাদনের সময় আধুনিক পরিমাপ প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো অংশে ত্রুটি তৈরি হচ্ছে কি না তা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব। এ ধরনের আধুনিকায়ন হয়তো বিলিয়ন ডলারের নতুন কারখানার মতো আলোচনায় আসে না। কিন্তু নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এর গুরুত্ব অনেক। শুধু নতুন মেশিন কিনলেই সমাধান নয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হলেও শুধু দামি মেশিন কিনলেই সমস্যার সমাধান হবে না। একটি ছোট মেশিন শপে যদি প্রতিটি যন্ত্রাংশ তৈরিতে বারবার মেশিন সেটআপ করতে হয়, অতিরিক্ত হাতে কাজ করতে হয় বা দীর্ঘ সময় মেশিন বন্ধ রাখতে হয়, তাহলে বড় পরিসরে প্রতিযোগিতা করা কঠিন। আধুনিক মাল্টি-অপারেশন মেশিন একই যন্ত্রে একাধিক কাজ করার সুযোগ দিতে পারে। এতে পণ্য এক মেশিন থেকে অন্য মেশিনে নেওয়ার প্রয়োজন কমে, সময় বাঁচে এবং বেশি পরিমাণে উৎপাদন করা সহজ হয়। লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তি কেনা নয়। লক্ষ্য হলো এমন একটি উৎপাদন ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারীরা মান, সরবরাহের সময় এবং খরচ—তিন ক্ষেত্রেই প্রতিযোগিতা করতে পারে। দক্ষ কর্মীর ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, তা পরিচালনা করার মতো দক্ষ মানুষ না থাকলে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো কঠিন। আধুনিক ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে মেশিন প্রোগ্রাম করা, পরিচালনা করা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ত্রুটি শনাক্ত করার জন্য বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয়। দীর্ঘদিন ধরে অভিজ্ঞ মেশিন অপারেটর ও কারিগরদের কাছ থেকে হাতে-কলমে কাজ শিখে নতুন প্রজন্মের কর্মীরা দক্ষতা অর্জন করেছে। কিন্তু অভিজ্ঞ কর্মীরা অবসরে গেলে তাদের বহু বছরের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের কর্মীদের এমন একটি শিল্পে প্রবেশ করতে হচ্ছে, যেখানে ঐতিহ্যবাহী কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি সফটওয়্যার, অটোমেশন, পরিমাপ প্রযুক্তি ও আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থার জ্ঞানও প্রয়োজন। তাই ভবিষ্যতের উৎপাদন খাতে দক্ষ কারিগরি কর্মী ও আধুনিক প্রযুক্তি—দুটিকেই একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। সরকারও ছোট উৎপাদন প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশাসন বা এসবিএও এই ঘাটতি মোকাবিলায় উদ্যোগ নিচ্ছে। ২০২৬ সালের মে মাসে সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও বিশেষায়িত উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে মতামত চেয়েছে। একই সঙ্গে ছোট সরবরাহকারীদের বড় পরিসরে কাজ করার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া বড় শিল্প ক্রেতা ও ছোট সরবরাহকারীদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করতে এসবিএ সরবরাহকারী ম্যাচমেকিং কর্মসূচিও আয়োজন করেছে। ছোট উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মী প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য এসবিএ ৫ কোটি ডলারের অনুদান কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে। রিশোরিংয়ের অর্থ শুধু কারখানা ফিরিয়ে আনা নয় যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন ফিরিয়ে আনার প্রকৃত সাফল্য শুধু কতগুলো কারখানা তৈরি হলো বা কত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হলো—তা দিয়ে মাপা যাবে না। এর সঙ্গে দেখতে হবে, ওই কারখানাগুলোকে সরবরাহ করার মতো ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্যাপ্ত মেশিন, দক্ষ কর্মী, অর্থায়ন এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা আছে কি না। ম্যাককিনসির গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের উৎপাদিত পণ্য আমদানি করেছে। এর প্রায় এক-চতুর্থাংশ পণ্য সরবরাহের ঘনত্ব, জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্ব এবং ভূরাজনৈতিক দূরত্বসহ বিভিন্ন কারণে বিশেষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এতে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুধু বড় কারখানা নয়, স্থিতিশীল দেশীয় সরবরাহ নেটওয়ার্কও গুরুত্বপূর্ণ। আসল পরীক্ষা হবে কারখানার ভেতরে যুক্তরাষ্ট্র যত ইচ্ছা বড় বড় কারখানা নির্মাণের ঘোষণা দিতে পারে। কিন্তু সেসব কারখানায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও উপকরণ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে না পারে, দক্ষ কর্মী তৈরি করতে না পারে এবং আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করতে না পারে, তাহলে উৎপাদন ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থেকে যেতে পারে। কারখানা উদ্বোধনের বড় আয়োজনের চেয়ে তাই তার পেছনে থাকা হাজারো ছোট ব্যবসার সক্ষমতার দিকে নজর দেওয়া জরুরি। একটি উৎপাদন অর্থনীতির শক্তি শুধু কতগুলো কারখানা তৈরি করা যায়, তার ওপর নির্ভর করে না। বরং সেই কারখানাগুলো সচল রাখতে প্রয়োজনীয় সরবরাহ ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী, দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য—তার ওপরও নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাতের পরবর্তী ধাপে তাই বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি মেশিন শপ, যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী, প্রযুক্তিবিদ এবং দক্ষ কর্মীদের সক্ষমতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রে মাটির নিচে বসবাস শুরু হতে পারে, তবে যেসব সমস্যা চিহ্নিত হলো গবেষণায়
ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের H-1B ভিসা ফি আবারও আটকে দিল আদালত