আমেরিকা

আমেরিকায় সুদবিহীন সরকারি তহবিলের জন্য মামলা করা মুসলিম আইনজীবীকে বিচারক বানালেন গভর্নর

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ১২:৯
লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মুসলিম আইনজীবী হ্যারিস এম সৈয়দ | ছবি: সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মুসলিম আইনজীবী হ্যারিস এম সৈয়দ | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক হিসেবে হ্যারিস এম সৈয়দ নামের এক মুসলিম আইনজীবীকে নিয়োগ দিয়েছেন গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। এই নিয়োগের পর দেশটির বিচারব্যবস্থায় শরিয়াহ আইনের প্রভাব এবং একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর এবং মুসলিম আমেরিকান অধিকার সংগঠন ‘কেয়ার’ (CAIR) এই নিয়োগকে স্বাগত জানালেও কট্টরপন্থীদের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা করা হচ্ছে।

 

বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে হ্যারিস এম সৈয়দ লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে আলোচনায় এসেছিলেন। কাউন্টির অবসরকালীন বা রিটায়ারমেন্ট তহবিলগুলোর বিনিয়োগ সুদ-ভিত্তিক হওয়ার কারণে তিনি এই আইনি পদক্ষেপ নেন, যা ইসলামিক শরিয়াহ অর্থায়নের নিয়মের (সুদ বা রিবা নিষিদ্ধকরণ) পরিপন্থী। তিনি সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাসের সুরক্ষায় শরিয়াহ-সম্মত বিনিয়োগের বিকল্প সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন এবং এটিকে তাঁর বিশ্বাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

 

এই নিয়োগের পর কলোরাডোভিত্তিক ডানপন্থী ও রক্ষণশীল বিভিন্ন ফোরাম এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টরা দাবি করছেন, এটি মার্কিন আদালত ব্যবস্থার ওপর একটি সুপরিকল্পিত প্রভাব বিস্তারের অংশ। তারা ২০২৪ সালে ‘কেয়ার’-এর নির্বাহী পরিচালক নিহাদ আওয়াদ-এর দেওয়া একটি বক্তব্যের সূত্র ধরে এই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। সে সময় আওয়াদ মুসলিম শিক্ষার্থীদের আইন, সাংবাদিকতা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং চলচ্চিত্র নির্মাণে স্কলারশিপ দিয়ে আগামী ১৫-২০ বছরের মধ্যে হাজার হাজার আইনজীবী ও নীতিনির্ধারক তৈরির একটি কৌশলগত পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন।

 

সমালোচকদের দাবি, এই ধরনের নিয়োগের মাধ্যমে আমেরিকার বিচারব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। উগ্রপন্থী ও বর্ণবাদবিরোধী গবেষক দল ‘রেয়ার ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান অ্যামি মেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, যিনি সরকারি সুযোগ-সুবিধাকে শরিয়াহ আর্থিক নিয়মের সাথে মেলাতে মামলা লড়েছেন, তিনি এখন আমেরিকার অন্যতম বড় আদালত ব্যবস্থার বিচারকের আসনে বসেছেন। টেক্সাস ও ফ্লোরিডার মতো রাজ্যের গভর্নরদের দ্বারা সমালোচিত সংগঠন ‘কেয়ার’ এই নিয়োগকে স্বাগত জানানোয় তারা একে বিচারব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ হিসেবে দেখছেন।

 

তবে এই সমস্ত সমালোচনার বিপরীতে ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন এবং নাগরিক অধিকার কর্মীরা এই নিয়োগকে মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। ‘কেয়ার-এলএ’ হ্যারিস সৈয়দকে একজন অত্যন্ত সৎ ও দক্ষ ‘আমেরিকান মুসলিম আইনজীবী’ হিসেবে প্রশংসা করেছে। মার্কিন নীতিনির্ধারকদের একাংশের মতে, বিচার বিভাগে বৈচিত্র্য আনা এবং সব ধর্মের নাগরিকদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাই এই নিয়োগের মূল লক্ষ্য, যা মার্কিন সংবিধানের ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারকে আরও সমুন্নত করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ফ্লোরিডায় দীর্ঘ নয় মাস অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকার পর মুক্তি পেয়ে পরিবারে ফিরেছেন কিউবান নাগরিক জোস অ্যালেন্দে | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ৯ মাস পর ইমিগ্রেশন হেফাজত থেকে মুক্তি পেলেন কিউবান বাবা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে দীর্ঘ নয় মাস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বা অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন জোস অ্যালেন্দে নামের এক কিউবান নাগরিক। গত সপ্তাহান্তে তিনি ফ্লোরিডায় নিজ পরিবারের সাথে পুনরায় মিলিত হন। দীর্ঘদিন পর বাবাকে ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর মেয়ে শীনা অ্যালেন্দে-স্মিথ।   বিগত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ব্রেভার্ড কাউন্টিতে আইসিই-এর আকস্মিক অভিযানের সময় জোস অ্যালেন্দেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁর মেয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়েশ ২ (WESH 2) কে জানিয়েছেন, তাঁর বাবা ঐতিহাসিক ‘ফ্রিডম ফ্লাইটস’-এর মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া মেনেই কিউবা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। তাঁর একটি সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর এবং বৈধ মার্কিন ড্রাইভিং লাইসেন্সও রয়েছে।   আইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা সত্ত্বেও কয়েক দশক আগের একটি অপরাধের রেকর্ড এবং মার্কিন নাগরিকত্ব না থাকার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে একটি পুরোনো ডিপোর্টেশন বা দেশছাড়া করার আদেশ কার্যকর করা হয়েছিল। এর ভিত্তিতেই গত বছর অভিবাসন বিভাগের একটি দল তাঁকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। দীর্ঘ ৯ মাস ধরে চলা আইনি লড়াই শেষে সম্প্রতি তিনি মুক্তি পান।   বাবার বাড়ি ফেরার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মেয়ে শীনা অ্যালেন্দে-স্মিথ আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “মনে হচ্ছে যেন আমার বুক থেকে একটি বিশাল পাথর নেমে গেল। গত নয়টা মাস আমি ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনি, খেতেও পারিনি। প্রতিদিন তাঁকে হারানোর শোকে ভুগতাম। এখন অন্তত সেই কষ্টটা আর পেতে হবে না। তিনি সুস্থ নেই, তবে বাড়ি ফিরে খুব খুশি।”   পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, জোস অ্যালেন্দে ইতিমধ্যে গ্রিন কার্ডের জন্য নতুন করে আবেদন করেছেন। একই সাথে ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের আইনি জটিলতায় আর পড়তে না হয়, সেজন্য একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তায় মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য কাজ শুরু করেছেন তিনি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ১২:১৬
লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মুসলিম আইনজীবী হ্যারিস এম সৈয়দ | ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকায় সুদবিহীন সরকারি তহবিলের জন্য মামলা করা মুসলিম আইনজীবীকে বিচারক বানালেন গভর্নর

স্বাধীনতা দিবসের নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা এনওয়াইপিডি সদস্যরা | ছবি: সংগৃহীত

ছুটির ভাতা বিলম্বে ক্ষুব্ধ নিউইয়র্কের পুলিশ সদস্যরা, মেয়র মামদানির প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মেকানিকভিলের নিজ বাড়িতে মেয়ে ও চার নাতি-নাতনিকে বিষপ্রয়োগে হত্যার পর আত্মহত্যাকারী দাদি অ্যামি জে. স্টেডম্যান | ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে মেয়ে ও চার নাতি-নাতনিকে বিষপ্রয়োগে হত্যার অভিযোগ, দাদিকে পরিবারের দুই লাইনের শোকবার্তা

নিরাপদ জীবনের আশায় পাকিস্তান ছেড়ে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নেওয়া মুহাম্মদ নাদিম ও তাঁর পরিবার | ছবি সংগৃহীত
চার সন্তান নিয়ে নতুন আশ্রয়ের খোঁজে যুক্তরাজ্যে, সেখানেও শান্তি মিলল না পাকিস্তানি পরিবারের

যুদ্ধ, অনিশ্চয়তা কিংবা নিরাপত্তাহীনতার কারণে নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় নেওয়া মানুষের স্বপ্ন থাকে একটি নিরাপদ জীবনের। তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবে সব সময় পূরণ হয় না। এমনই এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী এক পাকিস্তানি পরিবার।   মুহাম্মদ নাদিম, তার স্ত্রী শামাইলা এবং তাদের চার সন্তান দুই বছর আগে পাকিস্তান ছেড়ে যুক্তরাজ্যে যান। প্রথমে তারা গ্রেটার ম্যানচেস্টারের স্টকপোর্টে বসবাস শুরু করেন। সেখানে নাদিম কর্মভিসার আওতায় উবার চালক হিসেবে কাজ করতেন। পরে তার ভিসার মেয়াদ শেষ হলে পরিবারটি আশ্রয়ের আবেদন করে। আবেদন প্রক্রিয়া চলাকালে তাদের আগের বাসা ছেড়ে একটি হোটেলে থাকতে হয়।   সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ তাদের প্রায় ৬০ মাইল দূরের শ্রপশায়ারের স্টোক হিথ গ্রামের একটি নতুন নির্মিত চার শয়নকক্ষের বাড়িতে স্থানান্তর করে। বাড়িটি এমন একটি আবাসন প্রকল্পের অংশ, যেখানে একাধিক আশ্রয়প্রার্থী পরিবারকে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।   কিন্তু নতুন বাড়িতে ওঠার পরও স্বস্তি মেলেনি নাদিমের পরিবারের। তাদের অভিযোগ, এলাকায় যাওয়ার পর থেকেই তারা নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন। কিছু ব্যক্তি তাদের প্রতি শত্রুতাপূর্ণ আচরণ করেছে বলেও দাবি করেছেন তারা। এ কারণে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগে রয়েছেন এই দম্পতি।   নাদিম জানান, পরিবারের সদস্যরা এখনো নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেননি। সন্তানরা বাইরে খেলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে না। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তিনি অনেক সময় রাতেও সতর্ক থাকেন। তার ইচ্ছা, পরিবারটিকে আবার স্টকপোর্ট এলাকায় ফিরিয়ে নেওয়া হোক, যেখানে তাদের পরিচিত পরিবেশ এবং কিছুটা সামাজিক যোগাযোগ ছিল।   পরিবারটির আরেকটি অভিযোগ, নতুন এলাকায় দোকান, স্বাস্থ্যসেবা ও যাতায়াতের সুযোগ সীমিত হওয়ায় দৈনন্দিন জীবনও কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকেও তারা এখন অনেক দূরে অবস্থান করছেন।   অন্যদিকে, স্টোক হিথের কিছু স্থানীয় বাসিন্দাও নতুন এই আবাসন পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন। তাদের দাবি, সামাজিক আবাসনের জন্য নির্মিত বাড়িগুলো আশ্রয়প্রার্থীদের দেওয়ায় স্থানীয় অবকাঠামো ও সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বিতর্কও তৈরি হয়েছে।   যুক্তরাজ্য সরকার বর্তমানে ব্যয়বহুল হোটেলে আশ্রয়প্রার্থীদের রাখার পরিবর্তে ধাপে ধাপে বিভিন্ন আবাসিক ভবন ও অন্যান্য স্থাপনায় স্থানান্তরের নীতি বাস্তবায়ন করছে। তবে এই নীতির বাস্তবায়নকে ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়দের উদ্বেগ এবং আশ্রয়প্রার্থীদের মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ—দুই বিষয়ই সামনে আসছে।   নাদিমের পরিবারের গল্প সেই বাস্তবতারই একটি উদাহরণ। নিরাপদ জীবনের আশায় হাজার মাইল দূরের দেশে এলেও, তাদের ভাষায়, এখনো তারা সেই কাঙ্ক্ষিত শান্তি ও নিশ্চিন্ত জীবন খুঁজে পাননি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ১১:১৯
ম্যাককেঞ্জি স্কটের বিপুল অনুদান নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন ইলন মাস্ক | ছবি: এএফপি/গেটি ইমেজেস

জেফ বেজোসের সাবেক স্ত্রীর দান করা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন ইলন মাস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তায় ঘোষিত ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’ কর্মসূচি | ছবি: মারিও তামা/গেটি ইমেজেস

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য কম খরচের ইনডেক্স ফান্ড চালু করল ট্রাম্প প্রশাসন

বোস্টন সেলটিকস থেকে ফিলাডেলফিয়া ৭৬ার্সে যোগ দেওয়া অল-স্টার বাস্কেটবল তারকা জেলেন ব্রাউন | ছবি: ইউপিআই/শাটারস্টক

জেলেন ব্রাউনের দলবদলে হতবাক জশ হার্ট, মাত্র ৫ শব্দেই বললেন মনের কথা

ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ আতশবাজির বিস্ফোরণে নিহত ৮ বছর বয়সী জেসমিন এনগুয়েন | ছবি: সংগৃহীত
অবৈধ আতশবাজির বিস্ফোরণে ৮ বছরের শিশুর মৃত্যু, এক বছর পর অভিযুক্ত পারিবারিক বন্ধুর বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনের সময় অবৈধ আতশবাজির বিস্ফোরণে ৮ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় প্রায় এক বছর পর অভিযুক্ত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।   অরেঞ্জ কাউন্টি প্রসিকিউটরস অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ৪৭ বছর বয়সী আর্ল ডিকাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার বুয়েনা পার্কে প্রতিবেশীদের নিয়ে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে তার ছোড়া অবৈধ আতশবাজির বিস্ফোরণেই মারা যায় ৮ বছর বয়সী জেসমিন এনগুয়েন।   তদন্তে জানা গেছে, জেসমিন, তার মা হ্যালি এনগুয়েন এবং ৭ বছর বয়সী বোন ডিকাস্ত্রোর বাড়ির ড্রাইভওয়েতে দাঁড়িয়ে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আতশবাজির প্রদর্শনী দেখছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ডিকাস্ত্রো প্রায় ৪০০ ডলারের একটি অবৈধ ‘কেক’ ধরনের আতশবাজি জ্বালান। পেশাদার মানের বিস্ফোরকযুক্ত এই আতশবাজি ব্যবহারের জন্য বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়। তবে সেটি বিকল হয়ে মর্টার শেল সরাসরি ড্রাইভওয়ের দিকে ছুটে আসে। এতে উপস্থিত লোকজন প্রাণ বাঁচাতে বাড়ির ভেতরে ছুটে যান।   জেসমিনের মা হ্যালি এনগুয়েন অরেঞ্জ কাউন্টি রেজিস্টারকে বলেন, “সবকিছু এত দ্রুত ঘটেছিল। বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দের দিন মুহূর্তেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। অনেকের জুতার ভেতর দিয়েও রক্ত বের হচ্ছিল।”   জেসমিন পরিবারের সঙ্গে এমন একটি টেবিলের পাশে বসেছিল, যেখানে আরও কিছু অব্যবহৃত আতশবাজি রাখা ছিল। বিস্ফোরণের ফলে সেগুলোতেও আগুন ধরে যায়। বাড়ির ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার আগেই গুরুতর আহত হয় শিশুটি। পরে তাকে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া আরভিন মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি।   হ্যালি এনগুয়েন নিজেও ওই বিস্ফোরণে আহত হন। তিনি বলেন, “আমি ভাবতেই পারিনি ও আর থাকবে না। আমি কিছুই করতে পারিনি। মাসের পর মাস শুধু বসে থেকেছি। এখন আমি তাকে জড়িয়ে ধরতে পারি না, তার কণ্ঠও শুনতে পাই না। সবকিছু অনেক বেশি নীরব।”   শোকের মধ্যেও হ্যালি এনগুয়েন আগে জানিয়েছিলেন, তিনি ডিকাস্ত্রোর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ চান না। তার ভাষায়, “আমি কোনো অভিযোগ আনার পক্ষে নই। এটা সত্যিই একটি দুর্ঘটনা ছিল।” তবে প্রসিকিউটররা ভিন্ন অবস্থান নেন। ডিকাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড, বেপরোয়াভাবে আগুন লাগিয়ে গুরুতর শারীরিক ক্ষতি এবং ১০০ পাউন্ডের বেশি অবৈধ আতশবাজি রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।   কেন ঘটনার প্রায় এক বছর পর অভিযোগ গঠন করা হলো, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। দোষী সাব্যস্ত হলে ডিকাস্ত্রোর সর্বোচ্চ ছয় বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।   অরেঞ্জ কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি টড স্পিটজার বলেন, “অবৈধ আতশবাজি কেনা ও ব্যবহার করার মধ্যে কোনো দুর্ঘটনা নেই। আট বছরের একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং যার কারণে এই মৃত্যু ঘটেছে, তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। কয়েক সেকেন্ডের আনন্দ কোনো শিশুর জীবন বা আজীবনের শোকের বিনিময়ে হতে পারে না।”

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ১০:৩৭
যুক্তরাষ্ট্রে ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন ব্যবস্থার নতুন নিয়ম | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট লোনে বড় পরিবর্তন, যা জানা জরুরি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের

নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে গাজীপুর সোসাইটি অব ইউএসএ ইনকের বর্ণাঢ্য বনভোজন ও মিলনমেলা | ছবি: সংগৃহীত

লং আইল্যান্ডে গাজীপুর সোসাইটির বর্ণাঢ্য বনভোজন, প্রবাসীদের প্রাণবন্ত মিলনমেলা

সন্ত্রাসী সংগঠন পিআইজে-কে অর্থায়নের অভিযোগে নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার ক্যাথরিন বেথ ওয়াশবার্ন | ছবি: ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্ক কোর্ট

প্যালেস্টাইন ইসলামিক জিহাদকে অর্থ পাঠানোর অভিযোগে নিউইয়র্কের নারী গ্রেপ্তার

0 Comments