জেফ বেজোসের সাবেক স্ত্রীর দান করা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন ইলন মাস্ক
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ও আমাজন প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সাবেক স্ত্রী ম্যাককেঞ্জি স্কটের বিপুল পরিমাণ দানশীলতা নিয়ে এবার বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন প্রযুক্তি ব্যবসায়ী ইলন মাস্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একজন ব্যবহারকারীর পোস্টের সাথে একমত পোষণ করে মাস্ক দাবি করেছেন, ম্যাককেঞ্জির এই দান করার মানসিকতা বিশ্বকে আরও খারাপ করে তুলছে।
এক্স প্ল্যাটফর্মের ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছিল যে, ম্যাককেঞ্জি স্কটের ২৬.৩ বিলিয়ন ডলারের দাতব্য অনুদান মূলত পৃথিবীর জন্য নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি করছে। এই বক্তব্যের জবাবে টেসলা ও স্পেসএক্স-এর প্রধান ইলন মাস্ক সরাসরি মন্তব্য করেন, "দুর্ভাগ্যবশত, এটি সত্য।" মাস্কের এমন প্রকাশ্য অবস্থান সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
২০১৯ সালে জেফ বেজোসের সাথে বিবাহবিচ্ছেদের পর ম্যাককেঞ্জি স্কট মানব ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম ব্যক্তিগত দাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি তাঁর নিজস্ব দাতব্য সংস্থা ‘যিল্ড গিভিং’-এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত ২৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থ অনুদান হিসেবে বিলিয়ে দিয়েছেন। তাঁর এই উদারতা বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়ালেও মাস্কের কাছে তা ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে।
ম্যাককেঞ্জির এই বিশাল তহবিল মূলত বিনা শর্তে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ২,৭০০টিরও বেশি অলাভজনক সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষ্ণাঙ্গদের ঐতিহ্যবাহী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়, উপজাতীয় কলেজ, আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তি প্রোগ্রাম এবং স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য কাজ করা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক সংস্থা। সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে তাঁর এই অর্থ বড় ভূমিকা রাখছে।
ইলন মাস্ক মূলত ম্যাককেঞ্জির অনুদানের পরিমাণের বিরোধিতা করছেন না, বরং তিনি এর পেছনের আদর্শিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মাস্ক দীর্ঘদিন ধরেই ‘বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি’ (DEI) সংক্রান্ত বিভিন্ন সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করে আসছেন। তাঁর মতে, ম্যাককেঞ্জির এই দানশীলতা আসলে এমন একটি এজেন্ডাকে প্রসারিত করছে যা সমাজের জন্য শেষ পর্যন্ত ক্ষতিকর।
ইলন মাস্কের এই আক্রমণাত্মক ও সমালোচনামূলক মন্তব্যের বিপরীতে ম্যাককেঞ্জি স্কট এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে বড় বড় দাতব্য প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ এবং সমাজকর্মীরা ম্যাককেঞ্জির এই স্বাধীন ও মুক্তহস্তে দান করার মডেলের ভূয়সী প্রশংসা করে চলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলেতে ভর্তি হওয়া কিছু শিক্ষার্থীকে নতুন করে ভগ্নাংশ ও সূচকের মতো মৌলিক গণিত শেখাতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির গণিত বিভাগের অধ্যাপক আলেকজান্ডার পলিনের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক শিক্ষার্থী হাইস্কুলে প্রি ক্যালকুলাস বা ক্যালকুলাস শেষ করে ভালো ফল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এলেও কলেজ পর্যায়ের গণিতের জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তাদের নেই। বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে ক্যালিফোর্নিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের গণিতের প্রস্তুতি নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্কলের অধ্যাপকেরা এমন শিক্ষার্থীদের পাচ্ছেন, যাদের কলেজ পর্যায়ের ক্যালকুলাস শুরু করার আগে ভগ্নাংশ ও সূচকের মতো স্কুল পর্যায়ের বিষয়ও ঝালিয়ে নিতে হচ্ছে। বার্কলের নিজস্ব তথ্যও সমস্যাটির একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ম্যাথ ১এ বা প্রথম ক্যালকুলাস কোর্স শুরু করা শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে প্রায় অর্ধেককে কলেজ পর্যায়ের ক্যালকুলাসের জন্য প্রস্তুত নয় বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তাদের অধিকাংশ অবশ্য প্রি ক্যালকুলাস বা কলেজ অ্যালজেব্রার পর্যায়ে প্রস্তুত ছিল। তবে কিছু শিক্ষার্থীর ঘাটতি আরও মৌলিক জায়গায় ছিল। বার্কলে জানিয়েছে, তাদের মধ্যে এমন শিক্ষার্থীও ছিলেন যাদের ভগ্নাংশ ও সূচকের নিয়ম নতুন করে ঝালিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হয়েছে। অধ্যাপক আলেকজান্ডার পলিনের মতে, সমস্যাটি শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র বোঝা যাবে না। অনেক শিক্ষার্থী হাইস্কুলে প্রি ক্যালকুলাস বা ক্যালকুলাস কোর্স শেষ করলেও বাস্তবে সেই বিষয়গুলোতে কলেজ পর্যায়ের পড়াশোনা চালানোর মতো দক্ষতা অর্জন করেননি। এর ফল অনেক সময় প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষাতেই সামনে আসে। শিক্ষার্থীরা হাইস্কুলে ভালো গ্রেড নিয়ে বার্কলের মতো প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছেন, কিন্তু কলেজের প্রথম গণিত পরীক্ষায় গিয়ে বুঝতে পারছেন তাদের ভিত্তিতে বড় ঘাটতি রয়েছে। সমস্যা মোকাবিলায় বার্কলে কয়েক বছর ধরেই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২০ সালে পলিন এবং তৎকালীন লেকচারার কেলি তালাস্কা নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন প্রি ক্যালকুলাস প্রস্তুতি কোর্স চালু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষ শুরু করার আগেই গণিতের দুর্বল জায়গাগুলো ঠিক করার সুযোগ দেওয়াই ছিল এর উদ্দেশ্য। শুরুতেই প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী এতে নাম লেখান। পরবর্তী সময়ে উদ্যোগটি আরও বিস্তৃত হয়ে ‘সলিড ফাউন্ডেশনস প্রোগ্রাম’-এ রূপ নেয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টি ‘ফাউন্ডেশনস অব লোয়ার ডিভিশন ম্যাথমেটিকস’ নামে একটি কোর্সও চালাচ্ছে। এর লক্ষ্য বিভিন্ন ধরনের গণিতের প্রস্তুতি নিয়ে বার্কলেতে আসা শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিচের স্তরের গণিত কোর্সের জন্য প্রয়োজনীয় মানে নিয়ে আসা। বার্কলের গণিত বিভাগ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ডায়াগনস্টিক টেস্টও রেখেছে। এর মাধ্যমে প্রথম গণিত কোর্স নেওয়ার আগে একজন শিক্ষার্থী নিজের প্রস্তুতির অবস্থা যাচাই করতে পারেন এবং কোন পর্যায় থেকে শুরু করা উচিত সে সম্পর্কে ধারণা পান। বিতর্কটি আরও বড় হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি প্রক্রিয়ায় এসএটি ও এসিটির মতো স্ট্যান্ডার্ডাইজড টেস্ট বাদ দেওয়ার পর। বার্কলের গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক মিনা আগানাজিক সম্প্রতি ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতি নির্ভরযোগ্যভাবে পরিমাপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে শিক্ষার্থীদের গণিতের দুর্বলতার জন্য শুধু টেস্ট অপশনাল বা টেস্ট ফ্রি ভর্তি নীতিকেই দায়ী করা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। স্কুলের মানের পার্থক্য, কোভিড মহামারির সময় শেখার ক্ষতি, গ্রেড ইনফ্লেশন এবং শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যসহ একাধিক কারণ কলেজ প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বার্কলের পরিস্থিতি অবশ্য ক্যালিফোর্নিয়ার সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব প্রতিবেদনে পলিন বলেছেন, ইউসি সান ডিয়েগোতে যে মাত্রার সমস্যা ধরা পড়েছে, বার্কলের পরিস্থিতি ততটা গুরুতর নয়। তবে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কলেজে প্রবেশকারী শিক্ষার্থীদের গণিত প্রস্তুতি কমে যাওয়ার বৃহত্তর সমস্যার অংশ হিসেবে দেখছেন তিনি। বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কারণ বার্কলের প্রায় ৮০ শতাংশ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের কোনো না কোনো সময়ে গণিতের কোর্স নেন। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মলিকিউলার ও সেল বায়োলজিসহ বহু জনপ্রিয় বিষয়ে গণিত বাধ্যতামূলক। ফলে আলোচনার কেন্দ্রে এখন শুধু একজন শিক্ষার্থী ভগ্নাংশ করতে পারেন কি না, সেই প্রশ্ন নেই। বরং হাইস্কুলের ভালো গ্রেড একজন শিক্ষার্থীর কলেজ প্রস্তুতির প্রকৃত চিত্র কতটা তুলে ধরছে এবং দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর কেন মৌলিক গণিতের ঘাটতি পূরণ করতে হচ্ছে, সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এসেছে।
নিউ জার্সির সৈকতে মিলল ৩৬ লাখ বছরের পুরোনো মেগালোডন হাঙরের বিশাল দাঁত
যুক্তরাষ্ট্রে সবার জন্য সরকারি স্বাস্থ্যবিমা চালুর প্রস্তাব থেকে সরে এলেন হাকিম জেফ্রিস
জর্জিয়ায় বাড়ির দেয়াল ভেঙে প্রতিবেশীর ঘরে ঢুকে কিশোরীর ওপর হামলা ও ধর্ষণের হুমকি, গ্রেপ্তার যুবক
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের দেশটিতে থাকার সুযোগ দেওয়া উচিত নয় বলে আবারও মন্তব্য করেছেন ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান র্যান্ডি ফাইন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কঠোর অভিবাসন প্রয়োগের পক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তার বক্তব্য, যারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন, তাদের দেশটিতে থাকার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। অভিবাসন বিষয়ে ফাইনের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর। তার সরকারি কংগ্রেসনাল ওয়েবসাইটে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, ব্যাপক বহিষ্কার এবং অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের জন্য সরকারি সুবিধা বন্ধের পক্ষে তার অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। (Randy Fine) চলতি বছরের এপ্রিলেও ফাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামর্থ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে আলোচনার সময় সব অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কারের পক্ষে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, এতে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও গাড়ির বীমাসহ বিভিন্ন খাতে খরচ কমতে পারে। (Fox News) তবে এসব দাবির সবগুলো অর্থনীতিবিদদের মধ্যে সর্বসম্মত নয়। চলতি মাসে ফ্লোরিডার অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে কথা বলার সময় ফাইন অবৈধ অভিবাসনকে ব্যয়বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও, অন্যান্য বিশ্লেষণে আবাসনের ঘাটতি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, বীমা ব্যয়, মজুরি ও সুদের হারকেও ফ্লোরিডার ব্যয়সংকটের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। (WKMG) ফাইনের অবস্থান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণ এবং ব্যাপক বহিষ্কারের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। (Randy Fine) বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসননীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের বহিষ্কার এবং তাদের জন্য সরকারি সুবিধার প্রশ্ন। র্যান্ডি ফাইনের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই বিতর্কে তার কঠোর অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মা হারিয়ে এতিম দুই মেয়ে, ক্ষতিপূরণ হিসেবে পেল ৩৩ মিলিয়ন ডলার
তিন-ছয় মাসের আইটি প্রশিক্ষণেই চাকরি, সেই পথ কি এখনো খোলা? এআই যুগে নতুনদের সামনে বড় প্রশ্ন
দীর্ঘ ডিউটিতে থাকা নিউইয়র্ক পুলিশের সদস্যদের পাশে সহকর্মীরা, ডাইকমানে খাবার নিয়ে পিবিএ ক্যান্টিন
'পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান' ফ্র্যাঞ্চাইজিতে আবারও দেখা যেতে পারে জনি ডেপকে। ব্লকবাস্টার এই সিরিজের ষষ্ঠ কিস্তিতে আইকনিক চরিত্র ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো হিসেবে তার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা হলিউডে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ডিজনির ডি২৩ (D23) এক্সপোতে ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রযোজক জেরি ব্রাকহেইমার সংবাদমাধ্যম ডেডলাইনকে জানিয়েছেন, জনি ডেপের সঙ্গে তাদের আলোচনা চলছে এবং একটি চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ এগোচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই এই চুক্তিটি সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদী। তবে নতুন এই কিস্তিতে একটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে। অভ্যন্তরীণ সূত্রমতে, ষষ্ঠ ছবিটিতে মূল চরিত্রে থাকবেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মার্গট রবি, আর জনি ডেপকে এবার দেখা যেতে পারে একটি পার্শ্ব চরিত্রে। ২০০৩ সালে 'দ্য কার্স অব দ্য ব্ল্যাক পার্ল' দিয়ে জ্যাক স্প্যারো হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন জনি ডেপ। এরপর ২০০৬, ২০০৭, ২০১১ এবং সবশেষ ২০১৭ সালে 'ডেড মেন টেল নো টেলস' ছবিতে তাকে এই চরিত্রে দেখা যায়। এখন পর্যন্ত এই পাঁচটি ছবি বিশ্বব্যাপী সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করেছে। ২০১৮ সালে চিত্রনাট্যকার স্টুয়ার্ট বিটি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ডেপ হয়তো এই আইকনিক চরিত্র থেকে অবসর নিতে যাচ্ছেন, তবে সাম্প্রতিক এই আলোচনা ভক্তদের মনে নতুন করে আশা জাগিয়েছে। সাবেক স্ত্রী অ্যাম্বার হার্ডের সঙ্গে ২০২২ সালের বহু আলোচিত মানহানির মামলায় জয়ের পর এটিই হতে পারে জনি ডেপের বড় কোনো প্রজেক্ট। ওই মামলায় হার্ডের বিরুদ্ধে একটি সংবাদমাধ্যমে লেখা নিবন্ধের জেরে মামলা করে ১ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ জিতেছিলেন ডেপ। এদিকে, আগামী ১৩ নভেম্বর মুক্তি পেতে যাচ্ছে জনি ডেপ অভিনীত নতুন সিনেমা ‘এবেনেজার: আ ক্রিসমাস ক্যারল’, যেখানে তিনি এবেনেজার স্ক্রুজ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। গত জুলাইয়ে সান দিয়েগো কমিক-কনে এই চরিত্রের সাজে সম্পূর্ণ অচেনা রূপে হাজির হয়ে ভক্তদের চমকে দিয়েছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে নতুন প্রজেক্টগুলোর মাধ্যমে হলিউডে জনি ডেপের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
কিমকে খুশি করতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমাচ্ছেন ট্রাম্প
এআই ডাটা সেন্টারের জন্য মেটার ২৬ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন কেনটাকির মা-মেয়ে