সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিউ জার্সিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর যৌন সম্পর্কের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেফতার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৫, ২০২৬ ৪:৯
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের একটি উচ্চবিদ্যালয়ের এক শিক্ষক অপ্রাপ্তবয়স্ক এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগে একাধিক ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত শিক্ষক জেসি হিউবেল (৩৭) স্বেচ্ছায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।

 

মোনমাউথ কাউন্টি প্রসিকিউটরস অফিস মঙ্গলবার জানায়, হিউবেল ফ্রিহোল্ড টাউনশিপ হাই স্কুলের শিক্ষক। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে তার বিরুদ্ধে অভিযুক্ত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুরু হয় এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তখন ১৮ বছরের কম বয়সী ছিলেন।

 

তদন্তকারীরা জানান, অভিযোগে উল্লেখিত ঘটনাগুলো নিউ জার্সির ফ্রিহোল্ড টাউনশিপ, ইংলিশটাউন, ম্যানালাপান টাউনশিপ এবং রেড ব্যাংক—এই চারটি এলাকায় সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে প্রতিটি এলাকায় পৃথকভাবে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

হিউবেলের বিরুদ্ধে প্রতিটি এলাকায় একটি করে ‘শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করার’ অভিযোগ এবং দ্বিতীয়-ডিগ্রির যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের তদন্ত ও বিচার সংশ্লিষ্ট এলাকার আইনগত এখতিয়ার অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

 

মোনমাউথ কাউন্টি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান। অভিযুক্ত শিক্ষকের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কারও কাছে অতিরিক্ত তথ্য থাকলে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

এদিকে, সিবিএস নিউজ নিউইয়র্ক জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানতে জেসি হিউবেলের আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
নিউ ইয়র্কে ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন আরএসএস প্রধানের অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ মুসলিমদের

নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ করেছেন মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শনিবার অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে আরএসএসের আদর্শ এবং ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে সংগঠনটির ভূমিকার সমালোচনা করা হয়।   মোহন ভাগবত শনিবার ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের ইনফোসিস থিয়েটারে ‘সার্বজনীন একাত্মতা উদযাপন’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে আড়াই শতাধিক হিন্দু-আমেরিকান সংগঠন যুক্ত ছিল এবং কয়েক হাজার মানুষের অংশগ্রহণের কথা ছিল। আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়া জোরদার করা।   তবে অনুষ্ঠানের আগে থেকেই নিউইয়র্কে এর বিরোধিতা করে আসছিল বিভিন্ন আন্তধর্মীয়, মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার সংগঠন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আরএসএসের হিন্দু জাতীয়তাবাদী আদর্শ ভারতের মুসলিম ও খ্রিস্টানসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তারা মোহন ভাগবতের সফরকে আরএসএসের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও প্রভাব বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবেও দেখছেন।   নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করে আরএসএসের আদর্শকে বর্জনমূলক বলে সমালোচনা করেছেন। তবে অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি ভেন্যুতে হওয়ায় সিটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটি বাতিল করার এখতিয়ার নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন মোহন ভাগবতের ভিসা প্রত্যাহার এবং আরএসএসের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করেছে। তবে এই সুপারিশ বাধ্যতামূলক নয় এবং মার্কিন সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য নেই। আরএসএস এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের হিন্দু সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করে।   মোহন ভাগবতের নিউইয়র্ক সফর আরএসএসের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্য সফরের অংশ। তাঁর ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানকে ঘিরে ভারতীয়-আমেরিকান কমিউনিটির মধ্যেও আরএসএসের আদর্শ, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং সংগঠনটির আন্তর্জাতিক ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৯, ২০২৬ ২৩:২৮
চাকরি হারানো এইচ-১বি কর্মীদের জন্য ৬০ দিনের সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব এগিয়ে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত

চাকরি হারালেই দ্রুত ছাড়তে হবে যুক্তরাষ্ট্র, H-1B ভিসাধারীদের জন্য ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনা

লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ফোবানা আয়োজকেরা। ছবি: সংগৃহীত

ফোবানা কনভেনশনে যোগ দিতে লস অ্যাঞ্জেলেসে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

ইসরায়েলের সমালোচনা করার কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আর দেশ থেকে বের করে দিতে পারবে না ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের সমালোচনা করা শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করতে পারবেন না ট্রাম্প, মার্কিন আদালতের রায়

স্বাস্থ্যকর খাবার ও সঠিক ডায়েট নির্বাচনের ওপর লিভারের সুস্থতা অনেকটাই নির্ভর করে। ছবি: সংগৃহীত
লিভারের চর্বি কমাতে কিটো ডায়েট এগিয়ে, গবেষণায় চর্বি কমেছে ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত

ওজন কমানোর জন্য ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যাভ্যাস বা কম চর্বিযুক্ত উদ্ভিদনির্ভর খাবারকে দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে নতুন একটি ক্লিনিক্যাল গবেষণায় দেখা গেছে, একই পরিমাণ ওজন কমানোর পরও কিটোজেনিক বা কিটো ডায়েট লিভারের চর্বি কমানো এবং শরীরের বিপাকীয় স্বাস্থ্যের কয়েকটি সূচকে তুলনামূলকভাবে বেশি উন্নতি করতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের গবেষকদের পরিচালিত এই গবেষণাটি ২৭ আগস্ট ২০২৬ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘সেল মেটাবলিজম’-এ প্রকাশিত হয়। গবেষণায় স্থূলতা, প্রিডায়াবেটিস ও ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে তিন ধরনের খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব তুলনা করা হয়।   গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের কিটোজেনিক, ভূমধ্যসাগরীয় এবং কম চর্বিযুক্ত উদ্ভিদনির্ভর খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে একটি অনুসরণ করতে দেওয়া হয়। গবেষকরা প্রত্যেকের খাবারের ক্যালরি এমনভাবে নির্ধারণ করেন, যাতে চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে তাদের শরীরের ওজন প্রায় ১০ শতাংশ কমে আসে। অংশগ্রহণকারীদের খাবার গবেষকরাই সরবরাহ করেন এবং খাদ্যাভ্যাস ঠিকভাবে অনুসরণ করার জন্য প্রতি সপ্তাহে খাদ্যবিশেষজ্ঞের সঙ্গে তাদের দেখা করানো হয়।   তিনটি খাদ্যাভ্যাসেই অংশগ্রহণকারীদের শরীরের চর্বি কমেছে এবং ইনসুলিনের প্রতি সংবেদনশীলতা বেড়েছে। এর ফলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও উন্নতি দেখা যায়। অর্থাৎ শুধু ওজন কমানোর ক্ষেত্রেই নয়, তিনটি পদ্ধতিই বিপাকীয় স্বাস্থ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। তবে পার্থক্য দেখা গেছে লিভারের চর্বি কমানোর ক্ষেত্রে। গবেষণায় কিটো ডায়েট অনুসরণকারীদের লিভারে জমে থাকা চর্বির পরিমাণ গড়ে ৬৭ শতাংশ কমে যায়। অন্যদিকে ভূমধ্যসাগরীয় এবং কম চর্বিযুক্ত উদ্ভিদনির্ভর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণকারীদের ক্ষেত্রে এই হ্রাস ছিল প্রায় ৪৫ শতাংশ।   গবেষকদের মতে, কিটো ডায়েটের কারণে শরীরে এমন কিছু হরমোনগত পরিবর্তন ঘটে, যা লিভারের চর্বি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। এই খাদ্যাভ্যাসে রক্তে গ্লুকাগন নামের একটি হরমোনের মাত্রা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। গ্লুকাগন শরীরে সঞ্চিত চর্বি ব্যবহারে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে কিটো গ্রুপে রক্তের ইনসুলিনের মাত্রাও অন্য দুই গ্রুপের তুলনায় বেশি কমেছে। প্রিডায়াবেটিসের ক্ষেত্রেও কিটো ডায়েট গ্রুপে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া গেছে। ওজন কমানোর পর কিটো ডায়েট অনুসরণকারীদের প্রায় ৫০ শতাংশ আর প্রিডায়াবেটিসের মানদণ্ড পূরণ করেননি। ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ২৯ শতাংশ এবং কম চর্বিযুক্ত উদ্ভিদনির্ভর খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে মাত্র ৭ শতাংশ।   কিটো ডায়েটের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ খুব কম এবং চর্বির পরিমাণ বেশি। গবেষণায় কিটো খাদ্য থেকে মাত্র ৪ শতাংশ ক্যালরি কার্বোহাইড্রেট এবং প্রায় ৭৩ শতাংশ ক্যালরি চর্বি থেকে এসেছে। ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যাভ্যাসে কার্বোহাইড্রেট ছিল প্রায় ৫০ শতাংশ এবং চর্বি ৩৫ শতাংশ। অন্যদিকে কম চর্বিযুক্ত উদ্ভিদনির্ভর খাদ্যাভ্যাসে প্রায় ৭০ শতাংশ ক্যালরি এসেছে কার্বোহাইড্রেট থেকে এবং মাত্র ১৫ শতাংশ চর্বি থেকে।   গবেষণার প্রথম লেখক ম্যাক্স পিটারসেনের কাছে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় ছিল, বেশি চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া সত্ত্বেও কিটো গ্রুপের অংশগ্রহণকারীদের রক্তে চর্বি বা কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়নি। গবেষকদের মতে, এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে শুধু খাবারে চর্বির পরিমাণ বেশি হলেই রক্তে চর্বি বা কোলেস্টেরল বেড়ে যাবে, এমন সরল সম্পর্ক সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে।   তবে গবেষণার ফলকে কিটো ডায়েট সবার জন্য সবচেয়ে ভালো খাদ্যাভ্যাস হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। গবেষণাটি সীমিতসংখ্যক অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে করা হয়েছে এবং খাদ্যাভ্যাসটি অনুসরণ করা হয়েছে মাত্র চার থেকে পাঁচ মাস। দীর্ঘমেয়াদে কিটো ডায়েট কতটা নিরাপদ, কার্যকর এবং টেকসই, তা জানতে আরও বড় ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন।   কিটো ডায়েট দীর্ঘদিন অনুসরণ করাও অনেকের জন্য কঠিন হতে পারে। কার্বোহাইড্রেট ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়ার কারণে খাদ্যতালিকা বেশ সীমিত হয়ে যায়। এতে কিছু মানুষের ক্লান্তি, বিরক্তি বা মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং খাবারের বৈচিত্র্য কমে গেলে প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি উপাদানের ঘাটতির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।   গবেষকেরা বলছেন, বর্তমানে স্থূলতা কমাতে জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ ব্যবহার বাড়লেও খাবারের ধরন পরিবর্তন করেও ওজন কমানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিপাকীয় সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। তবে ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা, রোগের ইতিহাস এবং পুষ্টির প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   তাই কিটো, ভূমধ্যসাগরীয় বা অন্য কোনো কঠোর খাদ্যাভ্যাস শুরু করার আগে চিকিৎসক অথবা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস, লিভারের সমস্যা বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে নিজের সিদ্ধান্তে খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন না করাই ভালো।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৯, ২০২৬ ২০:৪১
ফ্লোরিডায় ১৭ বছরের ছাত্রের সঙ্গে একাধিকবার যৌ ন সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে শিক্ষিকার ৭ বছরের কারাদণ্ড

ফ্লোরিডায় ১৭ বছরের ছাত্রের সঙ্গে একাধিকবার যৌ ন সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে শিক্ষিকার ৭ বছরের কারাদণ্ড

লস অ্যাঞ্জেলেসে অ্যাপার্টমেন্টের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে নারীর আত্মহ ত্যা, থামাতে পারেনি উদ্ধারকর্মীরা

লস অ্যাঞ্জেলেসে অ্যাপার্টমেন্টের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে নারীর আত্মহ ত্যা, থামাতে পারেনি উদ্ধারকর্মীরা

বেনিয়ার্ড, ৭৪ বছর বয়সী বৃদ্ধা গ্রেফতার

ফ্লোরিডায় তপ্ত গাড়িতে এক বছরের নাতনির মৃ ত্যু, শিশুকে গাড়িতে রেখে ঘুমানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার দাদি

ই স রায়েলের সমালোচনা করলেই ডিপোর্ট? ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগকে অসাংবিধানিক বলল ফেডারেল আদালত
ই স রায়েলের সমালোচনা করলেই ডিপোর্ট? ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগকে অসাংবিধানিক বলল ফেডারেল আদালত

যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের নীতির সমালোচনা ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানানোর কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীদের দেশে ফেরত (ডিপোর্ট) পাঠানোর যে উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসন নিয়েছিল, তা অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক ফেডারেল বিচারক।   শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে-তে মার্কিন জেলা জজ নোয়েল ওয়াইজ এই যুগান্তকারী রায় প্রদান করেন। রায়ে তিনি মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীনে বাকস্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং জানান যে, শান্তিপূর্ণভাবে মতামত প্রকাশের কারণে অ-নাগরিক শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চরম লঙ্ঘন।   স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিচালিত পত্রিকা ‘দ্য স্ট্যানফোর্ড ডেইলি’-এর দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে এই রায় দেওয়া হয়। পত্রিকাটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, ভিসা বাতিল ও ডিপোর্টেশনের হুমকির কারণে অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ও ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ বা নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছিলেন।   বিচারক ওয়াইজ তাঁর রায়ে উল্লেখ করেন, বাকস্বাধীনতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা আমেরিকার টেকসই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকার যদি শুধু তাদের অপছন্দের মতামতের কারণে কাউকে বিতাড়িত করে, তবে তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।   এই রায়টি প্রায় এক বছর আগে বোস্টনের এক মার্কিন জেলা জজের দেওয়া অনুরূপ একটি রায়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ, যেখানে ইসরায়েলকে সমালোচনার জেরে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছিল। বিচারক ওয়াইজ তাঁর রায়ে ২০২৫ সালের মার্চে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনকারী এবং পরবর্তীতে চার্লি কার্কের সমালোচনাকারীদের ওপর মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের দমন-পীড়নের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।   এই আইনি লড়াইয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষে লড়া সংস্থা ‘ফাউন্ডেশন ফর ইন্ডিভিজুয়াল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশন’-এর আইনজীবী কনর ফিটজপ্যাট্রিক এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, আমেরিকায় বাকস্বাধীনতা কেবল সরকারের সঙ্গে একমত পোষণকারীদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৭:১২
বিদেশে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে ২৪৬টি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, সবচেয়ে বেশি পোল্যান্ডে

বিদেশে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে ২৪৬টি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, সবচেয়ে বেশি পোল্যান্ডে

নিউইয়র্কে তরুণ-তরুণীদের বিনামূল্যে ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণ, সঙ্গে অর্থ উপার্জনের সুযোগ

নিউইয়র্কে তরুণ-তরুণীদের বিনামূল্যে ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণ, সঙ্গে অর্থ উপার্জনের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযানে ২০ লাখ ডলারের ‘রোবট কুকুর’ কিনছে আইস

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযানে ২০ লাখ ডলারের ‘রোবট কুকুর’ কিনছে আইস

0 Comments